যখন একটি পরিবারের সদস্যরা তাদের দৈনন্দিন ও ব্যক্তিগত কাজের জন্য সম্পূর্ণভাবে গৃহকর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তখন সেখানে ‘কাজের নান্দনিকতা’ বা কাজের প্রতি মমত্ববোধ কমে যাওয়ার কয়েকটি বিশেষ কারণ থাকে:
Md. Abdus Sabur
Saturday, January 24, 2026
গভীর এবং যৌক্তিক পর্যবেক্ষণ যে পরিবারে কর্তা, গিন্নী, ছেলে মেয়ে চাকরদের কাজের ওপর নিরভরশীল, সে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কাজের নান্দনিক সৌন্দর্য কম!
১. সৃজনশীলতার অভাব: নিজের ঘর গোছানো, রান্না করা বা বাগান করার মধ্যে এক ধরনের শিল্পবোধ থাকে। যখন কেউ নিজের কাজ নিজে করেন, তখন তাতে তার রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটে। অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা এই সৃজনশীল প্রকাশের সুযোগ কেড়ে নেয়।
২. শৃঙ্খলার অভাব: নিজে কাজ করলে সময়ের মূল্য এবং জিনিসের যত্ন বোঝা যায়। চাকরদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা পরিবারের সদস্যদের অলস করে তোলে, যা জীবনযাত্রার স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নান্দনিকতাকে নষ্ট করে।
৩. মমত্বহীন পরিবেশ: নিজের হাতে তৈরি জিনিসের প্রতি বা নিজের গোছানো ঘরের প্রতি যে মায়া থাকে, অন্যের করে দেওয়া কাজে তা পাওয়া যায় না। এর ফলে ঘরটি কেবল একটি থাকার জায়গা হয়ে ওঠে, সেখানে প্রাণের ছোঁয়া বা শিল্পের ছোঁয়া কম থাকে।
৪. পরনির্ভরশীল মানসিকতা: ছেলে-মেয়েরা যখন ছোটবেলা থেকেই দেখে যে তাদের সব কাজ অন্য কেউ করে দিচ্ছে, তখন তাদের মধ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছা বা কাজের নিখুঁত সৌন্দর্য বোঝার ক্ষমতা তৈরি হয় না।
উপসংহার:
পরিশ্রমের মাধ্যমেই কাজের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা মহাত্মা গান্ধীর মতো মনীষীরাও নিজের কাজ নিজে করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, কারণ এতে মানুষের মনের বিকাশ ঘটে এবং জীবন আরও সুন্দর ও সুসংহত হয়। যে পরিবারে সবাই মিলে কাজ ভাগ করে নেয়, সেই পরিবারেই কাজের নান্দনিক সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে।
Friday, January 23, 2026
প্রয়োজনের চেয়ে জীবনের উদ্দেশ্যই বেশী গুরুত্বপূর্ণ
Purpose of Life is more important than need
জীবন ও বেঁচে থাকার তাগিদে আমাদের মৌলিক প্রয়োজনগুলো (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান) মেটানো জরুরি, তবে জীবনের উদ্দেশ্য সেই বেঁচে থাকাকে অর্থবহ করে তোলে। প্রয়োজনীয়তা আমাদের দেহকে বাঁচিয়ে রাখে, কিন্তু উদ্দেশ্য বাঁচিয়ে রাখে আমাদের সত্তাকে।
জীবনের উদ্দেশ্য কেন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তার কিছু কারণ নিচে দেওয়া হলো:
দিকনির্দেশনা প্রদান: প্রয়োজন মেটানো অনেকটা পথ চলার মতো, আর উদ্দেশ্য হলো সেই পথের গন্তব্য। গন্তব্য জানা থাকলে প্রতিকূলতা জয় করা সহজ হয়।
সহনশীলতা বৃদ্ধি: ভিক্টর ফ্রাঙ্কলের মতে, যার জীবনে একটি 'কেন' (উদ্দেশ্য) আছে, সে যেকোনো 'কিভাবে' (কষ্ট) সহ্য করতে পারে। উদ্দেশ্য মানুষকে কঠিন সময়েও ভেঙে পড়তে দেয় না।
মানসিক তৃপ্তি: সব প্রয়োজন মিটে যাওয়ার পরও মানুষ অনেক সময় বিষণ্নতায় ভোগে যদি তার জীবনের কোনো বৃহত্তর লক্ষ্য না থাকে। উদ্দেশ্য মানুষকে আত্মিক শান্তি দেয়।
উত্তরাধিকার সৃষ্টি: মানুষের শারীরিক প্রয়োজনগুলো তার মৃত্যুর সাথেই শেষ হয়ে যায়, কিন্তু মহান কোনো উদ্দেশ্য বা কর্ম তাকে মৃত্যুর পরেও বাঁচিয়ে রাখে।
কিছু মানুষ তাদের সুবিধামত তোমাকে ভালোবাসবে, তোমার স্তুতি গাইবে।
কিছু মানুষ তাদের সুবিধামত তোমাকে ভালোবাসবে, তোমার স্তুতি গাইবে। এদের প্রশ্রয় দিওনা কোনোমতেই।
যারা কেবল প্রয়োজনে বা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভালোবাসা বা প্রশংসা প্রদর্শন করে, তারা মূলত সুযোগসন্ধানী। এদের চিনে রাখা এবং সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
এই ধরনের মানুষদের প্রশ্রয় না দেওয়ার কিছু কারণ:
মানসিক শান্তি: স্বার্থপর মানুষদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দিলে ভবিষ্যতে তাদের আচরণ আপনাকে মানসিকভাবে কষ্ট দিতে পারে।
ব্যক্তিত্ব রক্ষা: যারা কেবল তোষামোদ করে, তারা আপনার ভুলগুলো কখনো ধরিয়ে দেবে না। এতে আপনার ব্যক্তিগত উন্নতির পথ বাধাগ্রস্ত হয়।
প্রকৃত বন্ধু চেনা: তোষামোদকারীদের ভিড়ে আসল শুভাকাঙ্ক্ষীদের চেনা কঠিন হয়ে পড়ে।
"ইন্টেলিজেন্ট ইগনোরেন্স"
স্মার্ট হওয়ার চূড়ান্ত স্তর হলো এমন ভান করা যে “আমি কিছুই জানি না।” এতে জীবন সহজ হয়!
এই উপলব্ধিতে গভীর প্রজ্ঞা লুকিয়ে আছে। একে প্রায়ই "ইন্টেলিজেন্ট ইগনোরেন্স" (Intelligent Ignorance) বলা হয়। স্মার্ট হওয়ার এই স্তরে পৌঁছানোর কিছু বিশেষ সুবিধা নিচে দেওয়া হলো:
১. অহেতুক তৰ্ক থেকে মুক্তি: আপনি যখন ভান করেন যে আপনি কিছু জানেন না, তখন মানুষ আপনাকে নিয়ে তর্কে জড়াতে পারে না। এতে আপনার মানসিক শান্তি বজায় থাকে এবং মূল্যবান সময় বাঁচে।
২. শেখার সুযোগ বৃদ্ধি: "আমি সব জানি" ভাবলে শেখার পথ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু "আমি জানি না" বললে অন্যরা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে, ফলে অনেক নতুন তথ্য বা দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায় যা হয়তো আগে জানা ছিল না। সক্রেটিসের এই দর্শনটি আজও প্রাসঙ্গিক।
৩. মানুষের আসল রূপ চেনা: আপনি যখন চুপ থাকেন বা কম জানেন বলে ভান করেন, তখন চারপাশের মানুষরা নিজেদের পাণ্ডিত্য জাহির করতে গিয়ে তাদের আসল স্বভাব ও চিন্তাধারা প্রকাশ করে ফেলে।
৪. অপ্রয়োজনীয় দায়িত্ব এড়ানো: অনেক সময় সবজান্তা ভাব ধরলে মানুষ বাড়তি কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়। "জানি না" বললে জীবন অনেক বেশি ভারমুক্ত থাকে।
"ইভিল আই" (Evil Eye) মুখে লাগুক তালা, অনেক সময় নিজের জন্য ভালো খবর নিজের মধ্যেই সীমিত রাখা উচিত।
অনেক সময় নিজের জন্য ভালো খবর নিজের মধ্যেই সীমিত রাখা উচিত। কেননা, অনেকেই এই ভালো খবর ইতিবাচক হিবেসে নেয়ার মানসিকতা তৈরী করতে পারে না।
কথাটি একদম বাস্তবসম্মত। একে সাধারণত "ইভিল আই" (Evil Eye) বা মানুষের নেতিবাচক নজর থেকে বাঁচার একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়। নিজের ভালো খবর সীমিত রাখার পেছনে কয়েকটি জোরালো কারণ রয়েছে:
১. অপ্রয়োজনীয় প্রত্যাশা: ভালো খবর জানাজানি হলে অনেক সময় আশেপাশের মানুষের আপনার প্রতি প্রত্যাশা বেড়ে যায়, যা অনেক সময় চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২. কাজের মনোযোগ বজায় রাখা: কোনো লক্ষ্য অর্জনের আগেই তা প্রকাশ করে দিলে এক ধরণের মানসিক তৃপ্তি চলে আসে, যা পরবর্তী পরিশ্রম করার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।
৩. গোপনীয়তা রক্ষা: কিছু বিষয় ব্যক্তিগত রাখা মানসিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তাই সাফল্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত বা বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা নিজের মধ্যেই রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
গুজব Rumor সত্য যখন মোজা পরে জুতো পরায় ব্যস্ত, মিথ্যে ততক্ষণে সারা দুনিয়া ঘুরে এসেছে!
এই উক্তিটি মার্ক টোয়েন (Mark Twain)-এর বলে ব্যাপকভাবে পরিচিত, যদিও অনেকে এটি জোনাথন সুইফট বা উইনস্টন চার্চিলের সাথেও যুক্ত করেন।
এই কথাটির গভীর অর্থ হলো, গুজব বা মিথ্যে খুব দ্রুত ছড়ায়, কারণ এটি মুখরোচক হয় এবং মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে। অন্যদিকে, সত্যকে প্রমাণ করতে সময় লাগে, তথ্য যাচাই করতে হয় এবং এটি সবসময় মানুষের কাছে আকর্ষণীয় নাও হতে পারে।
ওয়া ‘ইবা-দুররাহমা-নিল্লাযীনা ইয়ামশূনা ‘আলাল আরদি হাওনাওঁ ওয়া ইযা খাতাবাহুমুল জা-হিলূনা কা-লূছালা-মা
And the servants of the Most Merciful are those who walk upon the earth easily, and when the ignorant address them [harshly], they say [words of] peace
আর রাহমান-এর বান্দা তারাই, যারা যমীনে অত্যন্ত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে(১) এবং যখন জাহেল ব্যক্তিরা তাদেরকে (অশালীন ভাষায়) সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, সালাম। (আমরা বিতর্কে লিপ্ত হতে চাই না)
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
নম্রভাবে চলাফেরা: এই আয়াতটি মুমিনদের বিনয়ী ও শান্ত স্বভাবের কথা বলে। তারা পৃথিবীতে অহংকার বা উদ্ধতভাবে চলাফেরা করে না, বরং ধীরস্থির ও বিনয়ী থাকে।
অজ্ঞদের সাথে আচরণ: যখন কোনো মূর্খ বা অজ্ঞ ব্যক্তি তাদের সাথে খারাপ, অপ্রীতিকর বা অভদ্র আচরণ করে, তখন তারা পাল্টা খারাপ কথা বলে না, বরং "সালাম" বা "শান্তি" বলে উত্তর দেয়। এর অর্থ হলো, তারা নিজেদের সম্মান রক্ষা করে এবং পরিস্থিতিকে খারাপ দিকে যেতে না দিয়ে শান্তি বজায় রাখে।
Subscribe to:
Comments (Atom)