Saturday, September 12, 2026

ঋণ খেলাপী ও দায় মুক্তি

 অনেকের অভিজ্ঞতার সাথে খুব মিল আমারও অভিজ্ঞতা এমন।

একটা সত্য ঘটনা
ছোট উদ্যোক্তা। কভিডের সময় যে ধাক্কা খেয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছিল প্রাণপণে। এর মধ্যে বড় ব্যাবসা প্রতিসঠানগুলো তার পন্যগুলো বানিয়ে ফেলতে শুরু করল। সেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আরো মুখ থুবড়ে পড়ল। এর মধ্যে ব্যাংকের নেয়া ঋণ ছয় কোটি টাকা। ব্যাংকের চাপ সহ্য না করতে পেরে দিয়ে দিল নিজের বাবার করা একমাত্র বাড়িটি যেটা জামানত ছিল। বৃদ্ধা মা কে নিয়ে উঠল ভাড়া বাড়িতে। মামলা মোকদ্দমায় যাবার ইচ্ছে ছিল না। বাড়ি দিয়ে দিল ৩.৫ কোটি টাকায়। তা শোধ করেও নিস্তার নেই। কোনোভাবে ফ্যাক্টরি ছোট করে দিল আরো এক কোটি টাকা। ৪.৫ কোটি টাকা শোধ। ব্যাংক নাকি আরো তিন কোটি টাকা পায় জানালো।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা সার্কুলার এক কালীণ দায়মুক্তি দেখে কিছুটা স্বস্তি পেলো। যেদিন সার্কুলার দেয়া হল ঠিক তার পর দিনই আবেদন জমা দিল ব্যাংকে। এককালীন টাকা দিয়ে দায়মুক্তি। আরোপিত ও অনারোপিত সুদ সব মাফ করে দিতে পারে ব্যাংক। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংক নানা ধানাইপানাই শুরু করল। কেনো করল সেটা সকলেরই বোধগম্য। দুই তিন বার মিটিং, আবেদন জমা দেবার পর ও একদিন দেখা গেলো অর্থ ঋণ আদালতে ব্যাংক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। নিলাম নোটিশ দিয়েছে তার শেষ সম্বল ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। যেই মামলার ভয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে দিল সেই মামলায় তাকে পড়তেই হলো।
বড় ঋণ খেলাপিরা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিদেশে লাক্সারি টুরে নিয়ে যায়। বিশাল বড় গিফট দেয়। সুতরাং তাদের কে ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ দেয় না তারা। এর মধ্যে অনেকে বড় ব্যাংকের মালিক। সেই ব্যাংক অফিসার বা তার নিকটজনের চাকুরীদাতা।
এ দেশে ভালো মানুষ কে চরম ভোগান্তিতে পড়তে ভয় এটা একটা উতকৃস্ট উদাহরণ।


একটি শক্তিশালী অনুস্মারক

 অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের স্ত্রী প্রায়শই তাকে কাজে যাওয়ার সময় আরও পেশাদার পোশাক পরার পরামর্শ দিতেন। আইনস্টাইন সবসময় বলতেন, "আমি এটা কেন পরবো? ওখানে সবাই আমাকে চেনে।" কিন্তু যখন তাকে প্রথমবারের মতো একটি বড় সম্মেলনে যোগ দিতে হলো, তখন তার স্ত্রী তাকে একটু সাজতে অনুরোধ করলেন। এর উত্তরে আইনস্টাইন বললেন, "আমি এটা কেন পরবো? ওখানে কেউ আমাকে চেনে না!"

একবার, যখন একজন কোটিপতি, হেনরি ফোর্ড ব্যবসায়িক সফরে ইংল্যান্ডে আসেন, তখন তিনি বিমানবন্দরের তথ্য ডেস্কে গিয়ে শহরের সবচেয়ে সস্তা হোটেল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন।
কেরানি তার জীর্ণ কোট এবং সামান্য জিনিসপত্রের দিকে তাকিয়ে ইতস্তত করলেন।
তারপর, সংবাদপত্রে অসংখ্যবার দেখা মুখটি চিনতে পেরে সে জিজ্ঞাসা করল:
"মাফ করবেন, স্যার... আপনি কি মিঃ হেনরি ফোর্ড?"
"হ্যাঁ," ফোর্ড শান্তভাবে উত্তর দিল।
বিভ্রান্ত হয়ে কেরানি বললেন:
"আমি খবরটা লক্ষ্য করি। আমি জানি তোমার ছেলে সবসময় সেরা হোটেলে থাকে, ডিজাইনার পোশাক পরে। তবুও তুমি থাকার জন্য সবচেয়ে সস্তা জায়গা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছো এবং এমন একটি কোট পরছো যা তোমার চেয়ে বয়স্ক দেখায়। কেন একজন কোটিপতি এভাবে টাকা বাঁচাবে?"
ফোর্ড হেসে উত্তর দিল:
“কারণ আমার যে জিনিসগুলির প্রয়োজন নেই তার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার কোনও মানে আমি দেখতে পাচ্ছি না।
আমি যেখানেই ঘুমাই না কেন, আমি হেনরি ফোর্ড। আর এই কোটটা? এটা আমার বাবার ছিল কিন্তু তাতে আমার পরিচয় বদলায় না।”
তিনি বললেন, "আমার ছেলে এখনও ছোট। সে চিন্তিত যে সে যদি একটি সাধারণ জায়গায় থাকে তাহলে লোকেরা কী ভাববে। কিন্তু আমি তা জানি না। আমি আমার মূল্য জানি। আমি খরচ করে নয়, বরং জীবনে আসলে কী গুরুত্বপূর্ণ এবং কী গুরুত্বপূর্ণ নয় তা জেনে কোটিপতি হয়েছি।"
একটি শক্তিশালী অনুস্মারক:
"প্রকৃত সম্পদ মানে লোক দেখানো নয়, বরং নিজের মূল্য জানা এবং কখনোই তোমার পোশাক, গাড়ি বা হোটেলের ঘর দিয়ে বিশ্বকে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করতে না দেওয়া।

শরীরের সদকা করছেন তো?

 রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে, মানুষের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য সদকা রয়েছে। এটি কেবল দান বা অর্থসম্পর্কিত নয়, বরং বিভিন্ন সৎ কাজও সদকার অন্তর্ভুক্ত। নীচে শরীরের সদকার কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো:

১. সালাম দেওয়া:
সালাম বিনিময় করা সদকার একটি রূপ। এটি সমাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব তৈরি করে।
রেফারেন্স: (সহিহ বুখারি: 2989)
২. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে বারণ করা:
অন্যকে ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করাও সদকা।
রেফারেন্স: (সহিহ মুসলিম: 1009)
৩. কোনো কষ্টদায়ক জিনিস পথ থেকে সরিয়ে ফেলা:
রাস্তা থেকে কোনো কাঁটা, পাথর বা অন্য কোনো বিপদজনক বস্তু সরিয়ে দিলে তা সদকা হিসেবে গণ্য হয়।
রেফারেন্স: (সহিহ মুসলিম: 1009)
৪. ভালো কথা বলা:
মিষ্টি কথা বা কারও প্রতি সদয় হওয়া, ভালো পরামর্শ দেওয়া, এবং কাউকে উৎসাহিত করা — এসব কাজও সদকা।
রেফারেন্স: (সহিহ বুখারি: 2989)
৫. মুসকান বা হাসি:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমার ভাইয়ের প্রতি হাসি হলো সদকা।"
রেফারেন্স: (তিরমিজি: 1956)
৬. কেউকে পথ দেখানো:
যদি কেউ পথ হারিয়ে ফেলে বা দিকনির্দেশনা চায়, তাকে পথ দেখানোও সদকা।
রেফারেন্স: (তিরমিজি: 1956)
৭. পানির ব্যবস্থা করা:
কাউকে পানি পান করানো বা পানি পাওয়ার ব্যবস্থা করাও সদকার মধ্যে গণ্য।
রেফারেন্স: (আবু দাউদ: 1677)
৮. নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য খরচ করা:
আপনি যদি আপনার পরিবারের জন্য খরচ করেন, তা-ও সদকা হিসেবে গণ্য হবে।
রেফারেন্স: (সহিহ বুখারি: 4006)
৯. নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা:
খারাপ অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করা এবং নিজের আবেগ বা রাগ নিয়ন্ত্রণ করাও সদকা।
রেফারেন্স: (তিরমিজি: 2024)
এই কাজগুলো সহজে করা যায় এবং এগুলোর প্রতিটি মানুষের দেহের সদকার অন্তর্ভুক্ত।এসবের বিপরীতে ফজর নামাজের পর সূর্য উঠা পর্যন্ত জিকির আজকারে সময় দিয়ে পরবর্তীতে দুই রাকআত সালাতুল এশরাক পড়লেও শরীরের সমস্ত জোড়ার সদকা আদায় হয়ে যায়।
অনেকের প্রশ্ন এশরাক ও দুহা'র নামাজ কি একই? তাদের জন্য বলা যেতে পারে
হ্যাঁ, এশরাকের নামাজ এবং সালাতুত দুহা (দুহার নামাজ) মূলত একই ধরনের নামাজ, তবে এর সময়ের উপর ভিত্তি করে ভিন্ন নামে পরিচিত হয়।
১. এশরাকের নামাজ:
এশরাকের নামাজ সূর্যোদয়ের পর কিছুটা সময় (প্রায় ১৫-২০ মিনিট) অপেক্ষা করে আদায় করা হয়। এটি নফল নামাজ এবং দুটি বা চার রাকাত পড়া যায়।
এশরাকের নামাজের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, এবং এই নামাজের অনেক ফজিলত রয়েছে।
২. সালাতুত দুহা (দুহার নামাজ):
দুহার নামাজ দিনের প্রায় মধ্যভাগের কাছাকাছি সময়ে (সূর্যোদয়ের প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর থেকে শুরু করে জোহরের আজানের আগে পর্যন্ত) আদায় করা হয়। এটি ২, ৪, ৬ বা ৮ রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়।
এই নামাজেরও অনেক ফজিলত রয়েছে এবং এটাকে "আওয়াবিনদের নামাজ" (আল্লাহর দিকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নামাজ) বলা হয়।
মূল পার্থক্য:
এশরাক: সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পর (প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর)।
সালাতুত দুহা: সূর্যোদয়ের ১-১.৫ ঘণ্টা পর থেকে জোহরের সময়ের আগ পর্যন্ত।
ফজিলত:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"মানুষের দেহের ৩৬০টি অস্থির প্রত্যেকটির উপর সদকা রয়েছে। এবং দুহা সময়ে ২ রাকাত নামাজ পড়া সমস্ত অস্থির জন্য সদকা হিসেবে পরিগণিত হয়।"
— (সহিহ মুসলিম: 720)
তাহলে, এশরাক এবং সালাতুত দুহা একই ধরনের নামাজ, তবে সময়ের ভিত্তিতে তাদের ভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছে।

Pyar Ki Jeet 1948 ছবির ছোট্ট কয়েকটি হৃদয় ছোঁয়া কথা

 jeewan ke safar mein ham jinko samjhe the hamaare saathi hai,

do qadam chale phir bichhad gaye,
koyi yahaan giraa koyi wahaan giraa
"জীবনের সফরে আমি যাকে ভেবেছিলাম আমাদের সঙ্গী,
দু কদম চলেই সে হারিয়ে গেল,
কোথায় গেলো জানলাম না।"
এই পংক্তিগুলো মাধ্যমে জীবনের একটি কঠিন সত্যকে তুলে ধরা হয়েছে:
জীবনের সফর (Jeewan ke safar): জীবনকে একটি দীর্ঘ যাত্রার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
ভুল সঙ্গী (Ham jinko samjhe the hamaare saathi): যাত্রার শুরুতে আমরা যাদের ভাবি যে তারা চিরকাল আমাদের পাশে থাকবে (যেমন বন্ধু, ভালোবাসার মানুষ বা কাছের কেউ)।
পরিস্থিতির শিকার (Koyi yahaan giraa koyi wahaan giraa): জীবনের লড়াই, ব্যস্ততা বা ভাগ্যের ফেরে যে যার মতো আলাদা হয়ে যায়। কেউ পরিস্থিতির চাপে এক জায়গায় থমকে যায়, কেউ অন্য কোথাও হারিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মানুষকে তার জীবনের পথ একাই চলতে হয়।
রাফি সাহেব অত্যন্ত চমতকার গেয়ে ভাবনাতে আঘাত হেনেছেন।


The Apple Cider Vinegar Miracle

If you take 1 tablespoon of raw Apple Cider Vinegar, mix it in 8oz of warm water, and drink it first thing in the morning on an empty stomach…

Here is what happens to your body within 15 minutes:
Your stomach acid levels balance out—instantly shutting off post-meal gas and bloating.
Your liver gets a surge of acetic acid, which fires up fat metabolism before breakfast.
It acts like an internal "sponge" for blood sugar spikes later in the day.
Most people have a bottle of ACV sitting in their pantry, but they have no idea how to actually use it correctly to replace expensive drugstore tonics.


"তোমরা কি ভেবে দেখেছো, তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে?" ‎— (সূরা আল-ওয়াকিয়া, আয়াত ৫৮)

 أَفَرَأَيْتُم مَّا تُمْنُونَ

একটু চিন্তা করি :
‎আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে মানুষকে তাদের সৃষ্টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে বলছেন। মানুষ যখন সন্তান জন্ম দেয়, তখন সে মনে করে, তার বীর্যপাতই সবকিছু। অনেকেই তো আবার সন্তান হওয়ানোকেই নিজের ক্রেডিটও দিতে চায়! কিন্তু আল্লাহ জিজ্ঞাসা করছেন:
‎> "তোমরা কি সত্যিই ভেবে দেখেছো যে, তোমাদের বীর্য—যা দিয়ে সন্তান জন্ম নেয়—এর পেছনে কার ক্ষমতা কাজ করছে?"
‎মানুষ কেবল মাধ্যম; মূল সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন আল্লাহ। তুমি বীর্যপাত করলে, কিন্তু তা থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু সৃষ্টি হওয়া, তার জীবন থাকা, আত্মা প্রদান, রূপ-রং, বুদ্ধি, স্বাস্থ্য — সবই আল্লাহর ইচ্ছা ও পরিকল্পনায়।
📖 এরপরের আয়াতগুলিতে আরও বলা হয়:
‎> “তোমরা কি এটা সৃষ্টি করো, না আমি সৃষ্টি করি?”
‎— (সূরা আল-ওয়াকিয়া, আয়াত ৫৯)
‎আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, আমরা যেন অহংকারী না হই। সন্তান জন্ম নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াই এক বিস্ময়কর, নিখুঁত ব্যবস্থা — যা একমাত্র আল্লাহর কুদরতেই সম্ভব।
📌 শিক্ষণীয় বিষয়:
‎১. 🧠 মানুষ যেন নিজের ক্ষমতায় গর্ব না করে, বরং স্রষ্টাকে চিনে নেয়।
‎২. 👶 সন্তানের জন্ম একটি অলৌকিক ব্যাপার যদিও তা মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সহজ।
‎৩. 🕋 এই আয়াত মানুষকে আত্ম-পর্যালোচনার দিকে আহ্বান জানায়—আরো জানায় আমাদের সৃষ্টি কেমন দুর্বল ও নির্ভরশীল!
‎৪. 💭 এই আয়াত থেকে তাওহিদের শিক্ষা মেলে—সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে।
‎আল্লাহ তাআলা এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদের আত্মতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব এবং তাঁর অসীম কুদরতের প্রতি মনোযোগ দিতে আহ্বান করছেন।
‎উৎস:
📘 আল-কুরআন, সূরা আল-ওয়াকিয়া (৫৬), আয়াত ৫৮-৫৯
📚 তাফসির ইবনে কাসীর, তাফসির আস-সা'দী


ভোর হওয়া ও মোরগের ডাক

 আমরা সূর্য ওঠার আগেই মোরগের ডাক শুনে অভ্যস্ত। অনেকেই মনে করেন, মোরগ হয়তো মানুষের চেয়ে ৪৫ মিনিট আগে ভোরের আলো দেখতে পায়। তথ্যটি কিছুটা অতিরঞ্জিত হলেও এর পেছনে দারুণ কিছু সত্য লুকিয়ে আছে!


১.

মানুষের তুলনায় মোরগ-মুরগির দৃষ্টিশক্তি অনেক বেশি জটিল ও উন্নত। মানুষের চোখে যেখানে তিনটি রঙের সেন্সর বা 'কোন' (Cone) থাকে, এদের চোখে থাকে চারটি (যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় Tetrachromatic Vision বলে)। এর ফলে এরা অতিবেগুনি রশ্মি (UV light) দেখতে পারে। চোখের এই তীব্র সংবেদনশীলতার কারণে ভোরের দিগন্তে আলোর সামান্যতম পরিবর্তনও এরা মানুষের অনেক আগেই ধরে ফেলতে পারে।

২.

মোরগ যে শুধু আলো দেখেই ডাকে, তা কিন্তু নয়! জাপানের নাগোয়া ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে দারুণ এক তথ্য। মোরগের ভেতরে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী 'বায়োলজিক্যাল ক্লক' বা 'সার্কাডিয়ান রিদম' (Circadian Rhythm) কাজ করে। এর মানে হলো, তারা শুধু আলোর ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তারা আগে থেকেই অনুমান করতে পারে কখন ভোর হবে।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যদি একটি মোরগকে পুরোপুরি অন্ধকার ঘরেও রাখা হয়, যেখানে বাইরের আলো মোটেও পৌঁছায় না, তবুও সেই মোরগটি ঠিক ভোরের নির্দিষ্ট সময়েই ডেকে ওঠে!

৩.

তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি এবং বায়োলজিক্যাল ক্লক—এই দুইয়ের চমৎকার সমন্বয়ের কারণেই মোরগ এত আগে দিন শুরু করতে পারে। আর এ কারণেই আধুনিক ঘড়ি আবিষ্কারের অনেক আগে থেকেই পৃথিবীর সব প্রান্তের মানুষ মোরগকে সবচেয়ে বিশ্বস্ত অ্যালার্ম ঘড়ি হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে।
https://bn.quora.com/profile/Md-Mehedi-Hasan-983