Saturday, June 20, 2026

'চিনাবাদাম' Arachis hypogaea

 খাদ্য রসিকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী একটি খাবার হলো 'চিনাবাদাম' বা পিনাট (Peanut)। বিকেল বেলার আড্ডা থেকে শুরু করে শীতের আমেজ—সবখানেই এর জুড়ি মেলা ভার। ইংরেজিতে নামের শেষে 'নাট' (Nut) এবং বাংলায় 'বাদাম' শব্দটির কারণে আমরা সবাই এটিকে কাঠবাদাম বা কাজুবাদামের মতো একই গোত্রের মনে করি। তবে উদ্ভিদবিজ্ঞানের (Botany) প্রকৃত তথ্য বলছে, চিনাবাদাম আসলে কোনো বাদামই নয়! এই তথ্যটি বৈজ্ঞানিকভাবে শতভাগ সত্য।

উদ্ভিদবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, প্রকৃত বাদাম বা 'ট্রু নাট' (True Nut) বা Arachis hypogaea হলো গাছের শক্ত খোসাযুক্ত ফল, যার ভেতরে একটিমাত্র বীজ থাকে এবং খোসাটি নিজে থেকেই ফেটে যায় না। যেমন—কাঠবাদাম (Almond), আখরোট (Walnut) বা হ্যাজেলনাট। এগুলো গাছের ডালে শক্ত আবরণ নিয়ে বড় হয়।

অন্যদিকে, চিনাবাদাম মূলত 'লেগিউম' (Legume) বা শিম-মটরশুঁটি গোত্রের একটি উদ্ভিদ। সহজ কথায়, এটি মটরশুঁটি এবং ডাল জাতীয় শস্যের খুব কাছের আত্মীয়।

চিনাবাদামের বড় হওয়ার প্রক্রিয়াটি অন্য সব বাদামের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও চমৎকার। এর গাছ যখন বড় হয়, তখন মাটির ওপরে চমৎকার হলুদ রঙের ফুল ফোটে। পরাগায়ন শেষে সেই ফুলের পাপড়ি ঝরে যায় এবং এর কান্ড বা ডাঁটাটি নিচের দিকে বেঁকে মাটির ভেতরে ঢুকে পড়ে। মাটির অন্ধকারের ভেতরে গিয়ে এই ডাঁটার অগ্রভাগটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে আমাদের চেনা চিনাবাদামের পড বা খোসায় রূপান্তরিত হয়। মাটির নিচে জন্মায় বলেই ইংরেজিতে একে অনেক সময় 'গ্রাউন্ডনাট' (Groundnut) বা 'আর্থনাট'-ও বলা হয়।

পুষ্টিগুণের দিক থেকে চিনাবাদামে বাদামের মতোই প্রচুর পরিমাণে চর্বি এবং প্রোটিন থাকলেও, গাঠনিক দিক থেকে এটি ডাল ও মটরশুঁটির অংশ। তাই পরবর্তী সময়ে যখনই এক মুঠো মুচমুচে চিনাবাদাম মুখে পুরবেন, মনে রাখবেন—আপনি আসলে কোনো গাছের ফল চিবোচ্ছেন না, মাটির নিচের এক অদ্ভুত মটরশুঁটি খাচ্ছেন!

https://bn.quora.com/?qv_src=email


In botany, the peanut (Arachis hypogaea) is a legume, placing it in the same family (Fabaceae) as beans, peas, and lentils. Despite its culinary classification as a "nut," it does not meet the botanical criteria of a true nut (like acorns or chestnuts) because its ovary wall does not harden into a woody shell. 


Key Botanical Characteristics
  • Geocarpy: This is the plant's defining botanical feature. It flowers above ground, but immediately after pollination, the flower stem elongates to form a structure called a peg. This peg bends downward, buries itself into the soil, and matures into the underground pod (fruit) we know as the peanut. 
  • Family Tree: The peanut belongs to the subfamily Faboideae. Like many other legumes, its roots harbor symbiotic bacteria that fix nitrogen in the soil, boosting overall soil fertility. 
  • Etymology: The specific scientific species name, hypogaea, comes from the Greek word meaning "under the earth"
  • Fruit Type: Botanically, the pod is classified as an indehiscent legume. It typically contains one to four seeds (the peanuts themselves) inside a fibrous shell.
  • http://peanutgr.fafu.edu.cn/Species.php


কুরআন পাঠ

 আর কে তার চেয়ে বড় জালেম, যাকে তার রবের আয়াত শুনিয়ে উপদেশ দেয়ার পর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং সেই খারাপ পরিণতির কথা ভুলে যায় যার সাজ-সরঞ্জাম সে নিজের জন্য নিজের হাতে তৈরি করেছে? (যারা এ কর্মনীতি অবলম্বন করেছে) তাদের অন্তরের ওপর আমি আবরণ টেনে দিয়েছি, যা তাদেরকে কুরআনের কথা বুঝতে দেয় না এবং তাদের কানে বধিরতা সৃষ্টি করে দিয়েছি। তুমি তাদেরকে সৎপথের দিকে যতই আহ্বান কর না কেন তারা এ অবস্থায় কখনো সৎপথে আসবে না। সূরাতুল কাহফ আয়াত ৫৭

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن ذُكِّرَ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِۦ فَأَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِىَ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ إِنَّا جَعَلْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَن يَفْقَهُوهُ وَفِىٓ ءَاذَانِهِمْ وَقْرًا وَإِن تَدْعُهُمْ إِلَى ٱلْهُدَىٰ فَلَن يَهْتَدُوٓا۟ إِذًا أَبَدًا 

যখন কোন ব্যক্তি বা দল যুক্তি, প্রমাণ ও শুভেচ্ছামূলক উপদেশের মোকাবিলায় বিতর্ক প্রিয়তায় নেমে আসে, মিথ্যা ও প্রতারণার অস্ত্র দিয়ে সত্যের মোকাবিলা করতে থাকে এবং নিজের কৃতকর্মের খারাপ পরিণতি দেখার আগে কারোর বুঝাবার পর নিজের ভুল মেনে নিতে প্রস্তুত হয় না তখন আল্লাহ তার অন্তরকে তালাবদ্ধ করেন, সত্যের প্রত্যেকটি ধ্বনির জন্য তার কানকে বধির করে দেন। এ ধরনের লোকেরা উপদেশবাণীর মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে না বরং ধ্বংসের গর্তে পড়ে যাবার পরই এদের নিশ্চিত বিশ্বাস জন্মে যে, এরা যে পথে এগিয়ে চলছিল সেটিই ছিল ধ্বংসের পথ।

https://amartafheem.com/surah/18/translation


Sunday, May 31, 2026

মনটাকে কাজ দাওঃ ওকে ট্রেইন্ড আপ করোঃ

 1. Waking up at the same time every day, no matter when you sleep: You are training your mind to hold control over things from the start.

2. Making your bed every single day: After you wake up and before you go to sleep, if you do this - you are training your mind discipline
3. Eat a protein rich breakfast, never compromise on it. Fill the plate, if you like. Everything circles down to how you start your day.
If you stick to these 3 rules, you will see a domino effect being followed and how your life changes drastically.

শশী থারুরের ডিকশনারী

 শশী থারুর — নামটা শুনলেই দুটো জিনিস মাথায় আসে: এক, জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল ও ভারতের প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ। দুই, এমন সব ইংরেজি শব্দ যা পড়লে মনে হয় কেউ কীবোর্ডের উপর হোঁচট খেয়ে পড়ে গেছেন!

তিরুবনন্তপুরমের এই লোকসভা সদস্য একাধারে কূটনীতিবিদ, ৩০টিরও বেশি বইয়ের লেখক এবং অক্সফোর্ড ডিকশনারীর অঘোষিত ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর!
থারুরিজম — যখন ইংরেজি ভয় পায়!
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রোল করতে করতে হঠাৎ যদি এমন কোনো শব্দ চোখে পড়ে যা উচ্চারণ করতে গিয়ে জিভ ত্রিভুজ হয়ে যায়, নিশ্চিত থাকুন — আপনি “থারুরিয়ান ঝড়ের” কবলে পড়েছেন!
রসিকরা বলেন,
“থারুরের টুইট পড়তে বসলে এক কাপ কড়া চা আর অক্সফোর্ড ডিকশনারী — দুটোই বাধ্যতামূলক!”
থারুরের ডিকশনারী থেকে দুর্লভ কিছু “রত্ন”:
Floccinaucinihilipilification ( ফ্লক্সি নউসি নি হিলি পিলি ফিকেশন) উচ্চারণ সহজ করতে আমি একটু ভেঙে ভেঙে দিলাম।
অর্থ: কোনো কিছুকে সম্পূর্ণ মূল্যহীন বা অর্থহীন মনে করার অভ্যাস। ২০১৮ সালে এই একটা শব্দ দিয়ে তিনি পুরো ইন্টারনেট স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন!
Farrago (ফ্যারাগো)
অর্থ: বিভ্রান্তিকর জগাখিচুড়ি মিশ্রণ। টিভি বিতর্কের পর তার বিখ্যাত লাইন — *“A farrago of distortions, misrepresentations, and outright lies”* — রাতারাতি ভাইরাল!
Rodomontade (রোডমন্টেড)
অর্থ: ফাঁকা বড়াই বা অর্থহীন বীরত্বের গল্প। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে এর চেয়ে মার্জিত গালি আর কী হতে পারে!
Troglodyte (ট্রগলোডাইট)
অর্থ: গুহাবাসী বা অত্যন্ত প্রাচীনপন্থী মানসিকতার মানুষ।আধুনিক যুগেও যারা পাথরযুগের চিন্তা করেন, তাদের জন্য থারুরের বিশেষ উপহার!
Kakistocracy (ক্যাকিস্টোক্রসি) অর্থ: সবচেয়ে অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষদের দ্বারা পরিচালিত সরকার। রাজনৈতিক সমালোচনার এত পরিশীলিত অস্ত্র থারুর ছাড়া কে রাখে!
Logomachy (লোগোম্যাকি)
অর্থ: শব্দ বা ভাষা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক। থারুরের টুইটের পরের কমেন্ট সেকশনটাই আসলে একটা জ্যান্ত লোগোম্যাকি!
Tergiversation (টার্জিভার্সেশন) অর্থ: নিজের অবস্থান বা মত থেকে সরে যাওয়া, দল পরিবর্তন করা। রাজনীতির ময়দানে এই শব্দটা থারুর বেশ কাজে লাগান!
Hippopotomonstrosesquippedaliophobia (হিপ্পোপটমনস্ট্রোসেসকুইপেডালিওফোবিয়া) সহজে উচ্চারণ করার জন্য শব্দটিকে ৫টি প্রধান অংশে ভাগ করে এভাবে পড়তে পারেন- হিপো-পটো মন্‌স-ট্রোস্ এস্‌-কুইপ-পেড-আ লি-ও ফো-বি-য়া। অর্থ: দীর্ঘ শব্দ ব্যবহারের ভয়। এত বড় শব্দ দিয়ে “বড় শব্দের ভয়” বোঝানো — এটাই থারুরের আসল মজা!
Lalochezia (ল্যালোকেজিয়া) অর্থ: মানসিক চাপ কমাতে কটু বা অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা। আমরা সাধারণ মানুষ যা করি প্রতিদিন — থারুর তার জন্যও ডিকশনারী খুঁজে শব্দ বের করে রেখেছেন!
Nugatory** (নিউগেটরি) অর্থ: অকেজো, তুচ্ছ, কোনো কাজের না। সাধারণ “useless” বললে কি আর থারুরীয় মর্যাদা থাকে?
থারুর কি সত্যিই জেনে-বুঝে কঠিন শব্দ ব্যবহার করেন?
তিনি নিজেই বলেছেন — না। তিনি শুধু সেই সঠিক শব্দটি খোঁজেন যেটি তার মনের ভাবটিকে সবচেয়ে নিখুঁতভাবে প্রকাশ করে। তার মতে, ভাষার সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে তার বৈচিত্র্যে। শব্দেরও নিজস্ব ওজন, আভিজাত্য আর জাদু আছে।
ডিজিটাল যুগে যেখানে ভাষা দিনকে দিন BRB, LOL, IDK-তে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, সেখানে শশী থারুর একাই ইংরেজি ভাষার রাজকীয় রূপটিকে বুক আগলে টিকিয়ে রেখেছেন।
তার ডিকশনারী শুধু শব্দের সংকলন নয় — এটি ভাষার এক অনন্ত উদযাপন!
© কাজি মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ


ডিমের সাথে যা যা খাবে না

 অনেকেই ডিম খেতে খুব ভালোবাসেন। ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

একটি ডিম থেকে প্রায় ৭৮ ক্যালোরি পাওয়া যায়, প্রোটিন মেলে ৬ গ্রামের বেশি। কাজেই সকালের নাশতায় ডিম খাওয়াও খুব স্বাস্থ্যকর।
তবে জেনে নিন ডিম খাওয়ার পর কোন কোন খাবার খাবেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের সঙ্গে এমন অনেক খাবার একসঙ্গে খেলেই হতে পারে বিপদ।
কলা
প্রথমেই আসে কলা। সকালের নাশতায় ডিম, কলা, পাউরুটিই অধিকাংশ মানুষ খান।
কিন্তু ডিমের সঙ্গে কলা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। এমনটাই মত দিয়েছেন পুষ্টিবিদদের। ডিম ও কলা দুটিই পুষ্টিকর, কিন্তু একসঙ্গে খেলে উপকার হবে না। কারণ ডিমের প্রোটিন ও কলার পটাশিয়াম একসঙ্গে হজম করতে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হয় পাকস্থলীকে। যদি সকালে ডিম খান, তা হলে কলা দুপুরে খাওয়ার আগে হিসেবে খেতে পারেন।
পনির
ডিমের সঙ্গে পনিরেরও ঠিক মিলমিশ হয় না। পনিরে উচ্চ প্রোটিন রয়েছে, ফ্যাটের মাত্রাও বেশি। ডিমও প্রোটিন সমৃদ্ধ। কাজেই ডিমের সঙ্গে পনির খেলে শরীরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন ও ফ্যাট ঢুকবে। এতে হজমের গোলমাল তো হবেই, ক্যালোরিও বেড়ে যাবে।
সয়া দুধ
ডিমের সঙ্গে দুধ না খাওয়াই ভাল। সে গরুর দুধ হোক বা উদ্ভিজ্জ। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, সয়া দুধ আর ডিম একসঙ্গে খেলে এই দুই প্রোটিন হজম হতে অনেক সময় লাগবে। এতে গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যা বেড়ে যাবে। তা ছাড়া সয়া দুধে এমন কিছু যৌগ থাকে, যা ডিমের মধ্যে থাকা জিঙ্ক ও আয়রনের মতো খনিজের শোষণে বাধা দেয়।
মাংস
ডিমের সঙ্গে ভুলেও মাংস খাবেন না। এই ভুলটিও অনেকে করে থাকেন। ডিম এবং মাংস উভয়েই উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার। ফলে হজমে গোলমাল হবেই। আর একসঙ্গে এত প্রোটিন খেলে তাতে ওজনও বাড়বে। অনেকেই ডিম, মাছ, মাংস একসঙ্গে খান। এই অভ্যাস একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়।
চা
চায়ের সঙ্গে ডিমভাজা অনেকেরই প্রিয় খাবার। সকালের নাশতাতেও চা, ডিম রাখেন অনেকেই। ‘জার্নাল অফ নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ডিম খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চা পান করলে, চায়ের ট্যানিন ডিমের প্রোটিন শোষণকে বাধা দিতে পারে। এটি আয়রন শোষণকেও প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যাদের আয়রনের ঘাটতি আছে। চা আর ডিম খাওয়ার মধ্যে অন্তত ঘণ্টা দেড়েকের ব্যবধান দিলে ভালো হয়।
আয়রন সাপ্লিমেন্ট
ডিম খাওয়ার পরেই ওষুধ খাবেন না। বিশেষ করে আয়রন বা কোনো ধরনের সাপ্লিমেন্ট খেলে, ডিমের ক্যালশিয়াম সেগুলো শোষণে বাধা দেবে। এতে কোনো উপকারই হবে না, উল্টে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

'মাংস' শব্দটির উতপত্তি কি?

 মাংস শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে প্রাচীন সংস্কৃত ভাষা থেকে.

সংস্কৃত মূল ধাতু (মন + স) থেকে এই শব্দটির জন্ম হয়েছে। অভিধান অনুযায়ী, এর আসল অর্থ হলো— জীবদেহের চামড়া এবং হাড়ের মাঝখানে থাকা নরম অংশ।
এই শব্দের উৎপত্তি নিয়ে নিচে কিছু জরুরি তথ্য দেওয়া হলো:
ভুল ধারণা ও আসল সত্যি
মায়ের অংশ নয়: অনেকে মনে করেন 'মাংস' মানে 'মায়ের অংশ'। এটি একদম ভুল ধারণা। বাংলা ব্যাকরণের কোনো নিয়মেই এটি 'মায়ের অংশ' বোঝায় না।
বানানের তফাত: মায়ের অংশ বোঝাতে হলে বানান হতো 'মাংশ' (মা + অংশ)। কিন্তু শুদ্ধ বানানটি হলো 'মাংস'। তাই এর সাথে মায়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
গোশত ও মাংসের সম্পর্ক
উৎস আলাদা: 'মাংস' শব্দটি এসেছে সংস্কৃত থেকে। আর 'গোশত' শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে।
অর্থ এক: ভাষা আলাদা হলেও দুটি শব্দের অর্থ কিন্তু একই। যেকোনো হালাল পশুর মাংসকে নির্দ্বিধায় 'মাংস' বা 'গোশত' বলা যায়। এ নিয়ে বিস্তারিত জানতে আপনি বাংলা একাডেমি এর অভিধান দেখতে পারেন।
মাংস শব্দটির বানান ‘মাংশ’ লেখা সঠিক নয়। সঠিক বানান হল ‘মাংস’। আমাদের জানামতে বাংলা ভাষার কোন অভিধানেই বানানটি ‘মাংশ’ লেখা হয়নি। ‘মাংস’ লেখা হয়েছে।
আসলে বানানের এ ধুম্রজালের মাধ্যমেই বিতর্কটি উসকে দেয়া হয়েছে, মাংশ মানে হল, মায়ের অংশ। যেহেতু হিন্দুরা গরুকে মা বলে থাকে। তাই গরুর গোস্তকে তারা ‘মাংশ’ তথা মায়ের অংশ বলে পরিচয় দেয়।
এটি একটি প্রচলিত কথা। বাস্তবে এর কোনও প্রমাণ আছে বলে আমাদের জানা নেই। যদি উপর্যুক্ত বিশ্বাসেই গরুর গোস্তকে মাংস বলা হয়ে থাকে, তাহলে খাসি ও মহিষের গোস্তকে কেন মাংস বলা হয়?
বকরি মহিষকে তো হিন্দুরা মা মনে করে না। তাহলে বোঝা গেল, এখানে ধর্মীয় আবেগের নামে একটি অহেতুক বিষয়কে উসকে দেয়া হয়েছে। মূলত বিষয়টি এমন নয়।
তাই গরু ও অন্য হালাল পশুর গোস্তকে ‘মাংস’ বলাতে কোনও সমস্যা নেই। তবে, যদি গরুকে মা বলে বিশ্বাস করে মায়ের অংশ মনে করেই গরুর গোস্তকে ‘মাংস’ বলা প্রমাণিত হয়, তাহলে এ শব্দটি অবশ্যই বর্জনীয় হবে। কিন্তু প্রমাণিত বলে এখনো সঠিক তথ্য উপাত্ত আমরা পাইনি। তবে সতর্কতা স্বরূপ শব্দটি বর্জন করা যেতে পারে।
তাছাড়া ‘মাংস’কে ‘মাংশ’ মনে করে ‘মায়ের (গরুর) অংশ’ ব্যাসবাক্যে সন্ধিবিচ্ছেদ (!) করা বাংলা ব্যকরণের কোনো নিয়মে পড়ে না বিধায় এ ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাছাড়া বাংলা ভাষার কোনো বিশেষজ্ঞ ( মুসলিম কিংবা হিন্দু) ‘মাংস’কে ‘মাংশ’ শব্দের পরিবর্তিত রূপ বলে আখ্যায়িত করে তাকে হিন্দুদের বিশ্বাসজাত কোনো শব্দ বলে উল্লেখ করেননি, যেমনটা করেছেন কীর্তন বেদী, স্নাতক, আচার্য, উপাচার্য, বিশ্বব্রম্মাণ্ড ইত্যাদি শব্দের ক্ষেত্রে।
তাই ‘মাংস’কে ‘মাংশ’ ভেবে একে হিন্দুদের বিশ্বাসজাত শব্দ মনে করা, মুসলিমদের জন্য শব্দটির ব্যবহার না-জায়েয বলে দেয়া কোনোক্রমেই ঠিক হবে না। তবে হ্যাঁ, ‘মাংস’ ও ‘মাংশ’ উচ্চারণে এককরম বিধায় এর ব্যবহার বড়জোর অনুচিত বলা যেতে পারে। কিন্তু যদিও মজার ব্যাপার হল, ‘মাংস’ শব্দ অভিধানে থাকলেও ‘মাংশ’ বলে কোনো শব্দই বাংলা ভাষার কোনো অভিধানেই নেই।

প্রাকৃতিক গন্ধনাশক নুন ও লেবুর সমন্বয়ে

 ২টি লেবুর উপরের অংশ একটু কেটে নিন, তারপর তার মধ্যে লবণ ভরে ঘরের মধ্যে রেখে দিন।

লেবুর সুগন্ধ খুবই সতেজ। যখন এর ওপর লবণ দেওয়া হয়, তখন লবণ লেবুর আর্দ্রতাকে উপরে টেনে আনে, ফলে এর মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ ঘরে আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এটি যে কোনো কেমিক্যালযুক্ত রুম ফ্রেশনারের তুলনায় অনেক ভালো ও প্রাকৃতিক বিকল্প।
লেবুর গন্ধ (সাইট্রাস সুগন্ধ) নিয়ে হওয়া কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এর সুবাস মানসিক চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। একটি শান্ত ও সুগন্ধময় পরিবেশ আপনাকে ভালো ঘুমাতে এবং সকালে সতেজ অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে।
যদি আপনার হালকা সর্দি-কাশি থাকে, তাহলে লেবুর তীব্র ও সতেজ গন্ধ শ্বাস নিতে কিছুটা আরাম দিতে পারে, ঠিক যেমন পুদিনা বা ইউক্যালিপটাসের গন্ধে হয়।
লেবুর তীব্র সাইট্রাস (টক) গন্ধ মাছি, মশা এবং কিছু ছোট পোকামাকড় একদমই পছন্দ করে না। লবণ মেশানোর ফলে লেবুর রস ও গন্ধ বাতাসে আরও সক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যার কারণে এসব ছোট পোকামাকড় আপনার বিছানা বা ঘর থেকে দূরে থাকে।
ফ্রিজ একটি বন্ধ জায়গা, যেখানে নানা ধরনের খাবার (যেমন কাটা সবজি, পেঁয়াজ, রসুন বা বেঁচে যাওয়া খাবার) রাখার কারণে এক ধরনের মিশ্র দুর্গন্ধ তৈরি হয়। লেবু ও লবণের এই উপায় খুব সহজেই সেই সমস্যা দূর করতে পারে।
আপনি যদি ঘরে বসে পড়াশোনা বা কাজ করেন, তাহলে লেবুর সতেজ গন্ধ আপনার মস্তিষ্ককে সজাগ রাখতে সাহায্য করে। এটি অলসতা কমায় এবং মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে।
যদি আপনার ঘরে স্যাঁতসেঁতে, বন্ধ ঘরের মতো বা সিগারেটের ধোঁয়ার দুর্গন্ধ থাকে, তাহলে এই উপায়টি সেই গন্ধ কমাতে ও শোষণ করতে একটি প্রাকৃতিক ডিওডোরাইজারের মতো কাজ করে।
এই সব উপকারিতা সম্পূর্ণভাবে লেবু ও লবণের প্রাকৃতিক গুণের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়।