Thursday, November 5, 2026

শিশুদের ঘন ঘন জড়িয়ে ধরলে তথা 'হাগ' করলে বাড়ে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা।

 শিশুদের জড়িয়ে ধরলে তাদের দেহে ৩টি (মূলত) হরমোন নিসৃত হয়। অক্সিটোসিন, সেরাটোনিন এবং ডোপামিন। এগুলোর সাথে দা-কুমড়া সম্পর্ক কর্টিসল হরমোনের। কর্টিসল হরমোনের নানা কাজ। একটি কাজ— শ্বেত রক্ত কণিকার উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া। সে থানোসের মতো ভালো কার্য হাসিলের উদ্দেশ্যেই শ্বেত কণা কমিয়ে দেয়।

শিশুকে যত হাগ করা হবে, তত অক্সিটোসিন, সেরাটোনিন নিসৃত হবে। ততই কর্টিসল কমতে থাকবে। কর্টিসল আবার 'স্ট্রেস হরমোন' গ্রুপের। ফলে হাগ করলে স্ট্রেস তো কমেই, সেইসাথে শ্বেত কণিকার উৎপাদন বেড়ে যায়। যত হাগ করা হবে, একটা শিশুর বাড়ন্ত শরীর ধরে নেবে তাকে আরও শ্বেত কণা তৈরি করতে হবে। এভাবে ঘন ঘন 'হাগ' করা আপনার শিশুর অসুখ-বিসুখের হার কমিয়ে দিতে পারে। 

ব্যাখ্যা: বিজ্ঞানপ্রিয়।

https://bn.quora.com/

Wednesday, November 4, 2026

কেন ব্যস্ত থাকা আর প্রোডাক্টিভ থাকা এক জিনিস নয়?

 ১. ব্যস্ত থাকা মানে সারাদিন অগুনতি কাজে হাত দিয়ে সময় পার করা, আর প্রোডাক্টিভ হওয়া মানে সুনির্দিষ্ট কোনো বড় ফলাফল অর্জন করা।

২. অলস ব্যস্ততা মানুষকে গুরুত্বহীন ছোটখাটো কাজে আটকে রাখে, যার ফলে দিনশেষে আসল বা কঠিন কাজের কোনো অগ্রগতি হয় না।

৩. যে মানুষ শুধু ব্যস্ত থাকে সে সবসময় মানসিক চাপে ক্লান্ত থাকে, কিন্তু প্রোডাক্টিভ মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে নিজের কাজ শেষ করে পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায়।

৪. ব্যস্ত মানুষ যেকোনো কাজে ‘হ্যাঁ’ বলে নিজের রুটিন এলোমেলো করে ফেলে, আর প্রোডাক্টিভ মানুষ নিজের প্রধান লক্ষ্য ছাড়া বাকি সব অনুরোধে ‘না’ বলতে পারে।

৫. ব্যস্ততা মানুষকে প্রতিক্রিয়ামূলক বানিয়ে রাখে যেখানে সে শুধুই অন্যের চাহিদা পূরণ করে, আর প্রোডাক্টিভিটি মানুষকে নিজস্ব পরিকল্পনায় পরিচালনা করতে শেখায়।

৬. দিনশেষে ব্যস্ত থাকা কেবল সময়ের অপচয় ঢেকে রাখার এক মিথ্যা সান্ত্বনা, যা দীর্ঘমেয়াদে কোনো বাস্তব সাফল্য বয়ে আনে না।

https://bn.quora.com/

Monday, November 2, 2026

ভুল স্বীকার করা সম্মানের

 ১. ভুল স্বীকার করা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং নিজের অহংকারকে পাশে সরিয়ে সত্যকে মেনে নেওয়ার মতো অসাধারণ মানসিক সাহসের প্রমাণ।

২. যে ব্যক্তি কোনো বাহানা ছাড়া নিজের ভুলের দায় নেয়, পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবনে মানুষ তাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য মনে করে।

৩. ভুল ঢাকতে গিয়ে অজুহাত তৈরি করলে মানুষের কাছে নিজেকে সস্তা ও ভণ্ড মনে হয়, কিন্তু শান্ত মুখে ক্ষমা চাইলে তর্কের সুযোগই বন্ধ হয়ে যায়।

৪. নিজের ত্রুটি খোলাখুলি মেনে নেওয়া প্রমাণ করে যে আপনি নিজের মেকি ইমেজ রক্ষার চেয়ে কাজের সঠিক মান ও সত্যের প্রতি বেশি অনুগত।

৫. যে নিজের ভুল দেখতে পায় এবং তা স্বীকার করে, কেবল সেই মানুষটিই নিজেকে পরবর্তী সময়ে আরও দক্ষ ও পরিণত করে গড়ে তুলতে পারে।

৬. আপনার সরল স্বীকারোক্তি সামনের মানুষটির ভেতরের ক্ষোভ তাৎক্ষণিকভাবে কমিয়ে দেয় এবং সম্পর্কের জটিলতা খুব দ্রুত মিটিয়ে ফেলে।

bn.quora.com

ইতিহাস কখনো চাপা থাকে না

 

  • ভারতের প্রখ্যাত সাংবাদিক অশোক রায়নার `Inside RAW: The Story of India’s Secret Service` বই এবং সাবেক কূটনীতিক শশাঙ্ক ব্যানার্জীর স্মৃতিচারণা থেকে যে সত্য বেরিয়ে আসছে, তা বাংলাদেশের প্রচলিত ইতিহাসকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

১৯৬১ সালেই শেখ মুজিবুর রহমান ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB)-তে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তাকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং কোডের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। ভারত তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাকে সমগ্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বানানো হবে। পাকিস্তানের ক্ষমতায় বসিয়ে তাকে ব্যবহার করা হবে।

কিন্তু ভারতের আসল উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন ও সুদূরপ্রসারী। তাদের উদ্দেশ্য মুজিবকে প্রধানমন্ত্রী বানানো ছিল না, উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানকে আলাদা করে দুটো দেশকেই দুর্বল করে দেওয়া। একটি শক্তিশালী পাকিস্তান ভারতের জন্য হুমকি ছিল। তাই পাকিস্তানকে ভাঙাই ছিল দিল্লির প্রধান লক্ষ্য।

এই ষড়যন্ত্রের সূত্র ধরেই ২৪/২৫ ডিসেম্বর ১৯৬২ সালের গভীর রাতে পুরান ঢাকার চক্রবর্তী ভিলায় শেখ মুজিবের সাথে ভারতীয় কূটনীতিক শশাঙ্ক ব্যানার্জীর গোপন বৈঠক হয়। এরপর ১৯৬৩ সালে তিনি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গোপনে আশ্রয় নেন।

পাকিস্তান সরকার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশ্বাসঘাতকতা ধরে ফেলে। তারই ফল হলো ১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। পাকিস্তান সরকার সঠিকভাবেই অভিযোগ করেছিল যে মুজিব আগরতলায় ভারতীয় অফিসারদের সাথে বৈঠক করে সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিকল্পনা করছেন।

আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন এই মামলাকে সাজানো মামলা বলে প্রচার করেছে। কিন্তু সত্য গোপন থাকেনি। ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি কর্নেল (অব.) শওকত আলী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেন যে আগরতলা মামলা মিথ্যা ছিল না। তারা সত্যিই ভারতের আগরতলায় গোপন বৈঠক করতে গিয়েছিলেন। শশাঙ্ক ব্যানার্জীও তার বইতে ১৯৬৩ সালের গোপন বৈঠকের কথা বিস্তারিত লিখেছেন।

১১ মে ২০২৪

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, "মোদীজি, ইন্দিরাজীর কাছ থেকে কিছু শিখুন, যিনি পাকিস্তানকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছিলেন। তার সাহস, দৃঢ়তা থেকে শিখুন।

তাহলে প্রশ্ন হলো, একজন ব্যক্তি যিনি ১৯৬১ সালে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থায় যোগ দিয়ে নিজের দেশকে ভাঙার চুক্তি করেন, তাকে আমরা কীভাবে মূল্যায়ন করব? ভারতের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। পাকিস্তান দুই টুকরা হয়েছে, দুর্বল হয়েছে। আর সেই দুর্বলতার সুযোগে ভারত আমাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছে।

bn.quora.com

Saturday, October 31, 2026

"দাস এক্সপেরিমেন্ট"

"দাস এক্সপেরিমেন্ট" নামে একটা জার্মান সিনেমা আছে। বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সিনেমার গল্প শুরু হয় কয়েকজন লোক দিয়ে, যারা স্বেচ্ছায় টাকার লোভে সাইকোলজিক্যাল একটা এক্সপেরিমেন্টের জন্য রাজি হয়। তাদের মধ্য থেকে চৌদ্দজন বাছাই করে নেওয়া হয়। চৌদ্দজনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ওদের সময় হচ্ছে পনেরদিন। এই পনেরদিন ওদের একভাগ কারাগারের কয়েদি হিসেবে অভিনয় করবে, বাকিরা থাকবে কারাগারের গার্ড এবং ওদের সবসময় সিসিটিভির মাধ্যমে মনিটর করা হবে। শর্ত ছিল, কোনো গার্ড কোনো কয়েদিকে শারীরিক আঘাত করতে পারবে না। কোনোরকম ভায়োলেন্স এলাউড না। প্রথম প্রথম ঠিকঠাক থাকলেও কিছুটা সময় যাওয়ার পর গার্ডরা কয়েদিদের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করা শুরু করে। সিনেমার শেষদিকে পুরো এক্সপেরিমেন্টেরই বারোটা বেজে যায়।

লক্ষ করুন, ওরা জানে ওরা আসল গার্ড নয়। যারা কারাগারে বন্দি, ওরাও প্রকৃত বন্দি নয়। ওদের শুধু অভিনয় করতে বলা হয়েছে। কয়েকটা দিন। অথচ বাহাত্তর ঘন্টা পার হওয়ার আগে শুধুমাত্র বন্দিদের ওপর নিজেদের ক্ষমতা জাহির করার জন্য ওরা কারাগারের লাইট অফ করে, গ্যাস ছেড়ে, কয়েদিদের জামা কাপড় খুলে ন্যাংটো করে, শোয়ার একমাত্র বিছানাটাও বের করে নেয় যাতে কেউ ঘুমাতে না পারে। শুধু তাই না, সময় গড়ানোর সাথে সাথে কয়েদি একজনকে গোপনে হাত পা বেঁধে অত্যাচার করে, মুখের ওপর প্রস্রাব করে, এক তরুণীকে ধ র্ষ ণে র চেষ্টা করে এবং একজনকে হ ত্যাও করে।

মারিয়া আব্রামোভিচ উনিশশো চুয়াত্তর সালে তর্কসাপেক্ষে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলেন মানুষকে, একটা এক্সপেরিমেন্ট দিয়ে। ঐ এক্সপেরিমেন্টের নাম ছিল, রিদম জিরো। লোকজনে ভর্তি একটা রুমের ভেতর মারিয়া স্ট্যাচুর মতোন দাঁড়িয়েছিলেন। সামনে টেবিলে রাখা ছিল বাহাত্তরটা অপ্রাসঙ্গিক অগুরুত্বপূর্ণ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু জিনিসপত্র। লিপস্টিক, রুটি, ছুরি, কেঁচি, পিস্তল, গোলাপ সহ অনেক কিছু। বলা হয়েছিল, রাত আট’টা থেকে দু’টো পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা মানুষ যা ইচ্ছে তা করতে পারবে তাঁর সঙ্গে। অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর ছিল মারিয়ার। প্রথম আড়াই-তিন ঘণ্টা মারিয়াকে ফুল দিয়েছিল মানুষ। চুল আঁচড়ে দিয়েছিল। ভালোবেসেছিল। যতই সময় গড়ালো, ততই ওরা হিংস্র হয়ে উঠল। শেষ দুই ঘণ্টায় মারিয়াকে থাপ্পড় মারা হয়, পরনের জামা ছিঁড়ে নগ্ন করে দেওয়া হয়, ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়, এমনকি শেষদিকে একজন পিস্তল নিয়ে মারিয়ার গলায় ঠেসে ধরে ট্রিগার টানতে যাচ্ছিল প্রায়।

মারিয়া ওদের কোনো ক্ষতি করেছিল? ওদের কারোর জায়গা জমি নিজের বলে দাবী করেছিল? ওদের কাউকে থুথু মেরেছিল? লাথি দিয়েছিল? প্রতারণা করেছিল? মারিয়া ওদের কাউকে চেনেও না। কিন্তু ওরা মারিয়াকে থাপ্পড় মে রে ছি ল, থুথু ছিটিয়েছিল গায়ে, জামা কাপড় ছিঁড়ে নিয়েছিল, আঘাত করেছিল অনর্গল। এক্সপেরিমেন্ট শেষে মারিয়া যখন হেঁটে সামনে যাচ্ছিল, তখন তাকে আঘাত করা একটা মানুষও চোখের দিকে তাকাতে পারেনি তাঁর। লজ্জায়।

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী পৃথিবীর প্রথম হত্যা কারীর নাম কাবিল। তিনি হত্যা করেছিলেন নিজ ভাই হাবিলকে। কারণ, হাবিলের কোরবানী আল্লাহ কবুল করেছিলেন, তার কোরবানী কবুল করেননি। মানুষ সম্পর্কে একটু পড়াশোনা করলে আপনি জানবেন, মানুষ অন্যকে ঘৃণা করে, অপছন্দ করে, হত্যা করে নানান কারণে। তার মগজ বেশী, আমার কম কেন? তার বুদ্ধি বেশী, আমার কম কেন? তার অর্থ বেশী, আমার কম কেন? তার সম্মান বেশী, আমার কম কেন?

দাস এক্সপেরিমেন্ট কিংবা রিদম জিরো আপনাকে জানাবে, একটা মানুষের আরেকটা মানুষকে ঘৃণা, অপছন্দ, হ ত্যা করতে আসলে কোনো কারণই লাগে না। মানুষ কোনোরকম কারণ ছাড়াই আরেকটা মানুষকে অপছন্দ করে, ঘৃণা করে, হ ত্যা করে। কেননা মানুষের স্বভাবই অমন। মানুষ কোনোদিনই শান্তিকামী ছিল না, নয় এবং থাকবেও না। এরা সবসময়ই হিংস্র, লোভী, বর্বর, অমানবিক ও ভণ্ড। সুযোগের অভাবে সবাই মানুষ।

https://bn.quora.com/



Friday, October 23, 2026

গল্প, কণ্যা সন্তান নিয়ে

 কথিত আছে, এক বেদুইন ব্যক্তি তাঁর চাচাতো বোনকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁদের ঘরে নয়টি পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছিল। কিন্তু দশম গর্ভাবস্থায় তিনি এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কন্যার জন্মের খবর শুনে সেই ব্যক্তি গভীর শোক ও অপমানে ভেঙে পড়েন এবং আর্তনাদ করে ওঠেন, "হায়, আমার কালো রাত... হায়, আমার কালো রাত!" এরপর তিনি তাঁর স্ত্রীর প্রতি বিরূপ ও অকৃতজ্ঞ আচরণ করতে শুরু করেন—যেন কন্যাটির জন্ম বা তাকে সৃষ্টি করার জন্য স্ত্রী-ই দায়ী ছিলেন।

বহু বছর কেটে গেল; পিতা বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে পড়লেন এবং একসময় দৃষ্টিশক্তি হারালেন। তাঁর ছেলেরা বিয়ে করে নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল এবং অন্ধ পিতাকে ভুলে গেল।

তাঁর কন্যারও বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু বাবার দুর্দশার কথা শুনে সে দ্রুত তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। সেখানে পৌঁছে সে বাবাকে গোসল করাল, তাঁবু পরিষ্কার করল এবং তাঁর জন্য খাবার তৈরি করল। পিতা এমন এক প্রশান্তি অনুভব করলেন যা তিনি আগে কখনো পাননি। মেয়েটি যখন ওষুধ দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে এল, তিনি তার হাত ধরে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কে, মহীয়সী কন্যা?"

চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লে সে উত্তর দিল, "আমিই আপনার সেই 'কালো রাত', বাবা।" তিনি বুঝতে পারলেন যে সে-ই তাঁর মেয়ে এবং অঝোরে কাঁদতে লাগলেন; গভীর অনুশোচনা ও গ্লানি নিয়ে বললেন: "আমাকে ক্ষমা করো, মা; আহা, যদি সব রাতই এমন অন্ধকার হতো."

এরপর তিনি এই পঙক্তিগুলো আবৃত্তি করলেন:

"আহা, যদি সব রাতই অন্ধকার হতো—কারণ রাতের অন্ধকারেই তো লুকিয়ে থাকে সুখ।

সময় যদি ফিরে আসত—তবে আমি তাকেই সবার চেয়ে বেশি আগলে রাখতাম।

সে ছাড়া আর কেউ আমাকে সম্মান জানায় না বা আমার খোঁজখবর নিতে ফিরে আসে না।

নয়টি পুত্র—সবাই অকৃতজ্ঞ—তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং আমার কোনো খোঁজ নেয় না।

অথচ, কস্তুরী ও উদের সুবাসের মতোই, আমার মেয়েটি প্রতিদিন আমার সামনে এসে দাঁড়ায়।"

Wednesday, October 7, 2026

সকল নবী-রাসূলদের প্রতি সাধারণ সালামঃ

 

سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
সুব‘হা-না রাব্বিকা রাব্বিল ইযযাতি ‘আম্মা ইয়াসিফুন; ওয়া সালামুন ‘আলাল মুরসালিন; ওয়াল ‘হামদু লিল্লাহি রাব্বিল ‘আলামিন।
বাংলা অর্থ:"পবিত্রতা আপনার রবের, যিনি পরাক্রম ও সম্মানের মালিক; তারা (আল্লাহর শানে) যা বলে
"এবং শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের ওপর।।"
"আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।"
গুরুত্ব ও আমল:সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, কোনো মজলিস, আলোচনা বা বৈঠক শেষ করার সময় এই দোয়াটি পাঠ করলে সেখানের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা হয়ে যায়। সুনানে আবু দাউদসহ বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে এটি পাঠ করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এই আয়াতগুলো কি দরুদ হিসেবে পাঠ করা যায়?
না, এই আয়াতগুলো সরাসরি 'দরুদ' (দরুদ শরীফ) হিসেবে গণ্য হয় না এবং দুরুদ হিসেবে পাঠ করা যায় না। তবে এই আয়াতগুলোর সাথে নবী-রাসূলদের প্রতি সালাম ও আল্লাহর প্রশংসার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
দরুদ এবং এই আয়াতগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. দরুদ এবং এই আয়াতের মূল পার্থক্যদুরুদ কী: দরুদ হলো সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি আল্লাহর রহমত, বরকত ও শান্তি কামনার দোয়া (যেমন: দরুদে ইব্রাহিম বা সংক্ষেপে 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম')।
এই আয়াতগুলো কী: এগুলো পবিত্র কুরআনের সূরা আস-সাফফাত-এর শেষ তিনটি আয়াত (১৮০-১৮২)। এখানে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা হয়েছে, সকল নবী-রাসূলদের প্রতি সাধারণ সালাম জানানো হয়েছে এবং আল্লাহর প্রশংসা করা হয়েছে।
২. সালামের অংশ হিসেবে এর মর্যাদাএই আয়াতের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে: "ওয়া সালামুন আলাল মুরসালিন" (এবং শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের ওপর)। এখানে সুনির্দিষ্টভাবে শুধু আমাদের নবী (সা.) নন, বরং ইতিহাস জুড়ে প্রেরিত সকল নবী ও রাসূলদের প্রতি সালাম পাঠানো হয়েছে। তাই এটি সব রাসূলের প্রতি সালাম হিসেবে অত্যন্ত চমৎকার একটি আমল।
৩. আমলের সঠিক নিয়ম
রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো বৈঠক, মজলিস বা দোয়ার শেষে এই আয়াতগুলো পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদীসে এসেছে, কোনো মজলিস শেষ করার সময় এই আয়াতগুলো পাঠ করলে মজলিসের সওয়াব পরিপূর্ণ হয় এবং কোনো ত্রুটি থাকলে তা ক্ষমা হয়ে যায়।তাই নিয়ম হলো—আপনি প্রথমে নবী করীম (সা.)-এর প্রতি প্রচলিত কোনো দুরুদ শরীফ পাঠ করবেন, এবং এরপর দোয়ার শেষে বা মজলিস শেষ করার সময় এই আয়াতগুলো পাঠ করবেন।