Friday, October 2, 2026

সকল নবী-রাসূলদের প্রতি সাধারণ সালামঃ

 

سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
সুব‘হা-না রাব্বিকা রাব্বিল ইযযাতি ‘আম্মা ইয়াসিফুন; ওয়া সালামুন ‘আলাল মুরসালিন; ওয়াল ‘হামদু লিল্লাহি রাব্বিল ‘আলামিন।
বাংলা অর্থ:"পবিত্রতা আপনার রবের, যিনি পরাক্রম ও সম্মানের মালিক; তারা (আল্লাহর শানে) যা বলে
"এবং শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের ওপর।।"
"আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।"
গুরুত্ব ও আমল:সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, কোনো মজলিস, আলোচনা বা বৈঠক শেষ করার সময় এই দোয়াটি পাঠ করলে সেখানের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা হয়ে যায়। সুনানে আবু দাউদসহ বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে এটি পাঠ করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এই আয়াতগুলো কি দরুদ হিসেবে পাঠ করা যায়?
না, এই আয়াতগুলো সরাসরি 'দরুদ' (দরুদ শরীফ) হিসেবে গণ্য হয় না এবং দুরুদ হিসেবে পাঠ করা যায় না। তবে এই আয়াতগুলোর সাথে নবী-রাসূলদের প্রতি সালাম ও আল্লাহর প্রশংসার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
দরুদ এবং এই আয়াতগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. দরুদ এবং এই আয়াতের মূল পার্থক্যদুরুদ কী: দরুদ হলো সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি আল্লাহর রহমত, বরকত ও শান্তি কামনার দোয়া (যেমন: দরুদে ইব্রাহিম বা সংক্ষেপে 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম')।
এই আয়াতগুলো কী: এগুলো পবিত্র কুরআনের সূরা আস-সাফফাত-এর শেষ তিনটি আয়াত (১৮০-১৮২)। এখানে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা হয়েছে, সকল নবী-রাসূলদের প্রতি সাধারণ সালাম জানানো হয়েছে এবং আল্লাহর প্রশংসা করা হয়েছে।
২. সালামের অংশ হিসেবে এর মর্যাদাএই আয়াতের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে: "ওয়া সালামুন আলাল মুরসালিন" (এবং শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের ওপর)। এখানে সুনির্দিষ্টভাবে শুধু আমাদের নবী (সা.) নন, বরং ইতিহাস জুড়ে প্রেরিত সকল নবী ও রাসূলদের প্রতি সালাম পাঠানো হয়েছে। তাই এটি সব রাসূলের প্রতি সালাম হিসেবে অত্যন্ত চমৎকার একটি আমল।
৩. আমলের সঠিক নিয়মরাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো বৈঠক, মজলিস বা দোয়ার শেষে এই আয়াতগুলো পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদীসে এসেছে, কোনো মজলিস শেষ করার সময় এই আয়াতগুলো পাঠ করলে মজলিসের সওয়াব পরিপূর্ণ হয় এবং কোনো ত্রুটি থাকলে তা ক্ষমা হয়ে যায়।তাই নিয়ম হলো—আপনি প্রথমে নবী করীম (সা.)-এর প্রতি প্রচলিত কোনো দুরুদ শরীফ পাঠ করবেন, এবং এরপর দোয়ার শেষে বা মজলিস শেষ করার সময় এই আয়াতগুলো পাঠ করবেন।

ছেঁড়া মোজা সেলাই করার পরে আর কোনো ছেঁড়া অবশিষ্ট না থাকলে সেই মোজার ওপরে মাসেহ করলে ওযু শুদ্ধ হবে কি না?

 উত্তরঃ

হ্যাঁ, ছেঁড়া মোজা সুন্দরভাবে সেলাই করার পর যদি কোনো ছেঁড়া বা ছিদ্র অবশিষ্ট না থাকে, তবে তার ওপর মাসেহ করলে ওযু শুদ্ধ হবে। ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, মোজা ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে যে মাসেহ্ করার অযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল, তা সেলাই করে ত্রুটিমুক্ত করার মাধ্যমে দূর হয়ে যায়।
তবে এই মোজার ওপর মাসেহ করার ক্ষেত্রে ইসলামি ফেকাহ অনুযায়ী সাধারণ কিছু শর্ত প্রযোজ্য থাকবে:
পবিত্র অবস্থায় পরিধান: মোজাটি অবশ্যই পূর্বে পূর্ণ ওযু থাকা অবস্থায় পরিধান করতে হবে।
উপযুক্ত উপাদান (হানাফি মাযহাব মতে): হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, মোজাটি যদি কাপড়ের বা সুতার হয়, তবে সেটি যথেষ্ট মোটা ও পুরু হতে হবে। অর্থাৎ, মোজাটি এতটুকু মজবুত হতে হবে যা বেঁধে রাখা ছাড়াই পায়ে টিকে থাকে এবং তা পরে তিন মাইল বা তার চেয়ে বেশি হাঁটা যায়। একেবারে পাতলা সুতা বা নাইলনের মোজা হলে (যা সেলাই করলেও পাতলাই থাকে এবং পানি চুইয়ে ভেতরে যায়) তার ওপর মাসেহ জায়েজ হবে না। তবে অন্যান্য কিছু ফকিহ ও মাযহাবের মতে সাধারণ কাপড়ের মোজার ওপরও মাসেহ করা জায়েজ।
ছেঁড়ার পরিমাপ: সেলাই করার পূর্বে বা পরে যদি মোজায় পায়ের ছোট আঙুলের তিন আঙুল পরিমাণ বা তার বেশি ছেঁড়া অংশ উন্মুক্ত থাকে, তবেই কেবল মাসেহ বাতিল হয়। যেহেতু এটি সেলাই করে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তাই এতে মাসেহ করতে কোনো বাধা নেই।
সুতরাং, মোজাটি যদি শরিয়তের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে (মোটা ও টাখনু পর্যন্ত ঢাকা থাকে) এবং ওযু করে পরা হয়ে থাকে, তবে সেলাইকৃত মোজার ওপর নির্দ্বিধায় মাসেহ করতে পারবেন।

আদা সম্পর্কে ৫টি আশ্চর্যজনক তথ্য:

১. আদা ছিল এক সময় ‘সোনার দামের সমান’!
মধ্যযুগে ইউরোপে আদা এতটাই দামী ছিল যে, এক পাউন্ড আদার দাম ছিল এক ভেড়ার সমান!
২. রান্না করা আদা ও কাঁচা আদার উপকার আলাদা!
কাঁচা আদা প্রদাহ কমাতে বেশি কার্যকর, আর রান্না করা আদা হজমে বেশি সহায়ক। মানে কোনটা কীভাবে খাবেন, তাও গুরুত্বপূর্ণ।
৩. জার্মানিতে আদা দিয়ে বিয়ার বানানো হয়!
বিশ্বের অনেক দেশে আদা দিয়ে বানানো হয় Ginger Beer বা Ginger Ale, যা কোমল পানীয় হলেও হজমে সাহায্য করে।
৪. আদা ত্বকের বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে!
আদার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের বয়সের ছাপ ও বলিরেখা কমিয়ে স্কিন টোন উজ্জ্বল রাখতে পারে।
৫. গাড়িতে উঠলে বমি বোধ হলে আদা জাদুর মতো কাজ করে!
Adacapsule বা আদা চিবিয়ে খেলে গাড়ির যাত্রায় বমি ভাব বা মাথা ঘোরানো অনেক কমে যায়। একে বলে motion sickness relief.

Saturday, September 12, 2026

ঋণ খেলাপী ও দায় মুক্তি

 অনেকের অভিজ্ঞতার সাথে খুব মিল আমারও অভিজ্ঞতা এমন।

একটা সত্য ঘটনা
ছোট উদ্যোক্তা। কভিডের সময় যে ধাক্কা খেয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছিল প্রাণপণে। এর মধ্যে বড় ব্যাবসা প্রতিসঠানগুলো তার পন্যগুলো বানিয়ে ফেলতে শুরু করল। সেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আরো মুখ থুবড়ে পড়ল। এর মধ্যে ব্যাংকের নেয়া ঋণ ছয় কোটি টাকা। ব্যাংকের চাপ সহ্য না করতে পেরে দিয়ে দিল নিজের বাবার করা একমাত্র বাড়িটি যেটা জামানত ছিল। বৃদ্ধা মা কে নিয়ে উঠল ভাড়া বাড়িতে। মামলা মোকদ্দমায় যাবার ইচ্ছে ছিল না। বাড়ি দিয়ে দিল ৩.৫ কোটি টাকায়। তা শোধ করেও নিস্তার নেই। কোনোভাবে ফ্যাক্টরি ছোট করে দিল আরো এক কোটি টাকা। ৪.৫ কোটি টাকা শোধ। ব্যাংক নাকি আরো তিন কোটি টাকা পায় জানালো।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা সার্কুলার এক কালীণ দায়মুক্তি দেখে কিছুটা স্বস্তি পেলো। যেদিন সার্কুলার দেয়া হল ঠিক তার পর দিনই আবেদন জমা দিল ব্যাংকে। এককালীন টাকা দিয়ে দায়মুক্তি। আরোপিত ও অনারোপিত সুদ সব মাফ করে দিতে পারে ব্যাংক। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংক নানা ধানাইপানাই শুরু করল। কেনো করল সেটা সকলেরই বোধগম্য। দুই তিন বার মিটিং, আবেদন জমা দেবার পর ও একদিন দেখা গেলো অর্থ ঋণ আদালতে ব্যাংক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। নিলাম নোটিশ দিয়েছে তার শেষ সম্বল ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। যেই মামলার ভয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে দিল সেই মামলায় তাকে পড়তেই হলো।
বড় ঋণ খেলাপিরা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিদেশে লাক্সারি টুরে নিয়ে যায়। বিশাল বড় গিফট দেয়। সুতরাং তাদের কে ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ দেয় না তারা। এর মধ্যে অনেকে বড় ব্যাংকের মালিক। সেই ব্যাংক অফিসার বা তার নিকটজনের চাকুরীদাতা।
এ দেশে ভালো মানুষ কে চরম ভোগান্তিতে পড়তে ভয় এটা একটা উতকৃস্ট উদাহরণ।


একটি শক্তিশালী অনুস্মারক

 অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের স্ত্রী প্রায়শই তাকে কাজে যাওয়ার সময় আরও পেশাদার পোশাক পরার পরামর্শ দিতেন। আইনস্টাইন সবসময় বলতেন, "আমি এটা কেন পরবো? ওখানে সবাই আমাকে চেনে।" কিন্তু যখন তাকে প্রথমবারের মতো একটি বড় সম্মেলনে যোগ দিতে হলো, তখন তার স্ত্রী তাকে একটু সাজতে অনুরোধ করলেন। এর উত্তরে আইনস্টাইন বললেন, "আমি এটা কেন পরবো? ওখানে কেউ আমাকে চেনে না!"

একবার, যখন একজন কোটিপতি, হেনরি ফোর্ড ব্যবসায়িক সফরে ইংল্যান্ডে আসেন, তখন তিনি বিমানবন্দরের তথ্য ডেস্কে গিয়ে শহরের সবচেয়ে সস্তা হোটেল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন।
কেরানি তার জীর্ণ কোট এবং সামান্য জিনিসপত্রের দিকে তাকিয়ে ইতস্তত করলেন।
তারপর, সংবাদপত্রে অসংখ্যবার দেখা মুখটি চিনতে পেরে সে জিজ্ঞাসা করল:
"মাফ করবেন, স্যার... আপনি কি মিঃ হেনরি ফোর্ড?"
"হ্যাঁ," ফোর্ড শান্তভাবে উত্তর দিল।
বিভ্রান্ত হয়ে কেরানি বললেন:
"আমি খবরটা লক্ষ্য করি। আমি জানি তোমার ছেলে সবসময় সেরা হোটেলে থাকে, ডিজাইনার পোশাক পরে। তবুও তুমি থাকার জন্য সবচেয়ে সস্তা জায়গা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছো এবং এমন একটি কোট পরছো যা তোমার চেয়ে বয়স্ক দেখায়। কেন একজন কোটিপতি এভাবে টাকা বাঁচাবে?"
ফোর্ড হেসে উত্তর দিল:
“কারণ আমার যে জিনিসগুলির প্রয়োজন নেই তার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার কোনও মানে আমি দেখতে পাচ্ছি না।
আমি যেখানেই ঘুমাই না কেন, আমি হেনরি ফোর্ড। আর এই কোটটা? এটা আমার বাবার ছিল কিন্তু তাতে আমার পরিচয় বদলায় না।”
তিনি বললেন, "আমার ছেলে এখনও ছোট। সে চিন্তিত যে সে যদি একটি সাধারণ জায়গায় থাকে তাহলে লোকেরা কী ভাববে। কিন্তু আমি তা জানি না। আমি আমার মূল্য জানি। আমি খরচ করে নয়, বরং জীবনে আসলে কী গুরুত্বপূর্ণ এবং কী গুরুত্বপূর্ণ নয় তা জেনে কোটিপতি হয়েছি।"
একটি শক্তিশালী অনুস্মারক:
"প্রকৃত সম্পদ মানে লোক দেখানো নয়, বরং নিজের মূল্য জানা এবং কখনোই তোমার পোশাক, গাড়ি বা হোটেলের ঘর দিয়ে বিশ্বকে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করতে না দেওয়া।

শরীরের সদকা করছেন তো?

 রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে, মানুষের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য সদকা রয়েছে। এটি কেবল দান বা অর্থসম্পর্কিত নয়, বরং বিভিন্ন সৎ কাজও সদকার অন্তর্ভুক্ত। নীচে শরীরের সদকার কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো:

১. সালাম দেওয়া:
সালাম বিনিময় করা সদকার একটি রূপ। এটি সমাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব তৈরি করে।
রেফারেন্স: (সহিহ বুখারি: 2989)
২. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে বারণ করা:
অন্যকে ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করাও সদকা।
রেফারেন্স: (সহিহ মুসলিম: 1009)
৩. কোনো কষ্টদায়ক জিনিস পথ থেকে সরিয়ে ফেলা:
রাস্তা থেকে কোনো কাঁটা, পাথর বা অন্য কোনো বিপদজনক বস্তু সরিয়ে দিলে তা সদকা হিসেবে গণ্য হয়।
রেফারেন্স: (সহিহ মুসলিম: 1009)
৪. ভালো কথা বলা:
মিষ্টি কথা বা কারও প্রতি সদয় হওয়া, ভালো পরামর্শ দেওয়া, এবং কাউকে উৎসাহিত করা — এসব কাজও সদকা।
রেফারেন্স: (সহিহ বুখারি: 2989)
৫. মুসকান বা হাসি:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমার ভাইয়ের প্রতি হাসি হলো সদকা।"
রেফারেন্স: (তিরমিজি: 1956)
৬. কেউকে পথ দেখানো:
যদি কেউ পথ হারিয়ে ফেলে বা দিকনির্দেশনা চায়, তাকে পথ দেখানোও সদকা।
রেফারেন্স: (তিরমিজি: 1956)
৭. পানির ব্যবস্থা করা:
কাউকে পানি পান করানো বা পানি পাওয়ার ব্যবস্থা করাও সদকার মধ্যে গণ্য।
রেফারেন্স: (আবু দাউদ: 1677)
৮. নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য খরচ করা:
আপনি যদি আপনার পরিবারের জন্য খরচ করেন, তা-ও সদকা হিসেবে গণ্য হবে।
রেফারেন্স: (সহিহ বুখারি: 4006)
৯. নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা:
খারাপ অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করা এবং নিজের আবেগ বা রাগ নিয়ন্ত্রণ করাও সদকা।
রেফারেন্স: (তিরমিজি: 2024)
এই কাজগুলো সহজে করা যায় এবং এগুলোর প্রতিটি মানুষের দেহের সদকার অন্তর্ভুক্ত।এসবের বিপরীতে ফজর নামাজের পর সূর্য উঠা পর্যন্ত জিকির আজকারে সময় দিয়ে পরবর্তীতে দুই রাকআত সালাতুল এশরাক পড়লেও শরীরের সমস্ত জোড়ার সদকা আদায় হয়ে যায়।
অনেকের প্রশ্ন এশরাক ও দুহা'র নামাজ কি একই? তাদের জন্য বলা যেতে পারে
হ্যাঁ, এশরাকের নামাজ এবং সালাতুত দুহা (দুহার নামাজ) মূলত একই ধরনের নামাজ, তবে এর সময়ের উপর ভিত্তি করে ভিন্ন নামে পরিচিত হয়।
১. এশরাকের নামাজ:
এশরাকের নামাজ সূর্যোদয়ের পর কিছুটা সময় (প্রায় ১৫-২০ মিনিট) অপেক্ষা করে আদায় করা হয়। এটি নফল নামাজ এবং দুটি বা চার রাকাত পড়া যায়।
এশরাকের নামাজের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, এবং এই নামাজের অনেক ফজিলত রয়েছে।
২. সালাতুত দুহা (দুহার নামাজ):
দুহার নামাজ দিনের প্রায় মধ্যভাগের কাছাকাছি সময়ে (সূর্যোদয়ের প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর থেকে শুরু করে জোহরের আজানের আগে পর্যন্ত) আদায় করা হয়। এটি ২, ৪, ৬ বা ৮ রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়।
এই নামাজেরও অনেক ফজিলত রয়েছে এবং এটাকে "আওয়াবিনদের নামাজ" (আল্লাহর দিকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নামাজ) বলা হয়।
মূল পার্থক্য:
এশরাক: সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পর (প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর)।
সালাতুত দুহা: সূর্যোদয়ের ১-১.৫ ঘণ্টা পর থেকে জোহরের সময়ের আগ পর্যন্ত।
ফজিলত:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"মানুষের দেহের ৩৬০টি অস্থির প্রত্যেকটির উপর সদকা রয়েছে। এবং দুহা সময়ে ২ রাকাত নামাজ পড়া সমস্ত অস্থির জন্য সদকা হিসেবে পরিগণিত হয়।"
— (সহিহ মুসলিম: 720)
তাহলে, এশরাক এবং সালাতুত দুহা একই ধরনের নামাজ, তবে সময়ের ভিত্তিতে তাদের ভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছে।

Pyar Ki Jeet 1948 ছবির ছোট্ট কয়েকটি হৃদয় ছোঁয়া কথা

 jeewan ke safar mein ham jinko samjhe the hamaare saathi hai,

do qadam chale phir bichhad gaye,
koyi yahaan giraa koyi wahaan giraa
"জীবনের সফরে আমি যাকে ভেবেছিলাম আমাদের সঙ্গী,
দু কদম চলেই সে হারিয়ে গেল,
কোথায় গেলো জানলাম না।"
এই পংক্তিগুলো মাধ্যমে জীবনের একটি কঠিন সত্যকে তুলে ধরা হয়েছে:
জীবনের সফর (Jeewan ke safar): জীবনকে একটি দীর্ঘ যাত্রার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
ভুল সঙ্গী (Ham jinko samjhe the hamaare saathi): যাত্রার শুরুতে আমরা যাদের ভাবি যে তারা চিরকাল আমাদের পাশে থাকবে (যেমন বন্ধু, ভালোবাসার মানুষ বা কাছের কেউ)।
পরিস্থিতির শিকার (Koyi yahaan giraa koyi wahaan giraa): জীবনের লড়াই, ব্যস্ততা বা ভাগ্যের ফেরে যে যার মতো আলাদা হয়ে যায়। কেউ পরিস্থিতির চাপে এক জায়গায় থমকে যায়, কেউ অন্য কোথাও হারিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মানুষকে তার জীবনের পথ একাই চলতে হয়।
রাফি সাহেব অত্যন্ত চমতকার গেয়ে ভাবনাতে আঘাত হেনেছেন।