Friday, April 24, 2026

শরীরের ভাষা যখন পায়ে ধরা পড়ে!!

 পা বলছে শরীরের গোপন রোগের কথা !

পায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ ও তার ইঙ্গিত—
🔹 ঝিনঝিনি → ডায়াবেটিস
🔹 ব্যথা ও ফোলা → আর্থ্রাইটিস
🔹 ঠান্ডা, ফ্যাকাশে পা → রক্তস্বল্পতা
🔹 লালচে ও গরম → ইনফেকশন
🔹 ফোলা গোড়ালি → কিডনি সমস্যা
🔹 তীব্র আঙুলের ব্যথা → গাউট
🔹 নীলচে পা → হার্ট সমস্যা
🔹 জ্বালাপোড়া → স্নায়ুর ক্ষতি
🔹 চুলকানি ও খোসা ওঠা → ফাঙ্গাল ইনফেকশন
🔹 ফাটা গোড়ালি → ভিটামিনের ঘাটতি
মনে রাখবেন:
আপনার পা আপনার শরীরের “Warning System”, তাই একে অবহেলা করবেন না!
আজই নিজের পা পরীক্ষা করুন এবং সমস্যা দেখলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।


লবঙ্গ খাওয়ার আগে জানুন

 লবঙ্গ খাওয়ার আগে দেখুন, নয়তো সারাজী"বন আফ"সোস করতে হবে!

​সর্দি-কাশি কমানো থেকে শুরু করে দাঁতের ব্য"থায় ম্যা"জিকের মতো কাজ করে রান্নাঘরের অতি পরিচিত এই মশলা 'লবঙ্গ'। এর ওষুধি গুণাগুণ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, হা"জার বছর ধরে এটি ব্য"বহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, সবার শরীরের জন্য লবঙ্গ স"মান উপকারী ন"য়? না জেনে ভু"ল নিয়"মে বা ভুল সময়ে লবঙ্গ খেলে উপকারের বদলে মা"রাত্মক ক্ষ"তি হতে পারে। আপনার যদি নির্দিষ্ট কিছু শারী"রিক সম"স্যা থাকে, তবে এই উপকারী লবঙ্গই আপনার জন্য বিপ"দের কারণ হয়ে দাঁ"ড়াবে!
​চলুন জেনে নিই কাদের লবঙ্গ খাওয়া থেকে বি"রত থাকা উচিত এবং এটি খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী।
🔴যেসব রোগে লবঙ্গ খাওয়া মা"রাত্মক ক্ষ"তিকর (যারা ভু"লেও খাবেন না)
​লবঙ্গে প্রচুর পরিমাণে 'ইউ"জেনল' (Eugenol) নামক একটি উপাদান থাকে, যা এর মূল ওষু"ধি গুণের কারণ। কিন্তু অ"তিরিক্ত মাত্রায় বা নির্দিষ্ট কিছু রোগে এই উপাদানটিই ক্ষ"তিকর প্রভাব ফেলতে পারে:
​র"ক্তপাতজনিত সমস্যা (Bleeding Disorders): লবঙ্গে থাকা ইউজেনল র"ক্ত জ"মাট বাঁ"ধার প্রক্রি"য়াকে ধীর করে দেয়। যাদের হি"মোফিলিয়া বা র"ক্ত পাত"লা হওয়ার সমস্যা আছে, অথবা যারা র"ক্ত পাত'লা করার ওষু"ধ (যেমন- অ্যাস"পিরিন) খাচ্ছেন, তাদের লবঙ্গ এড়ি"য়ে চলা উচিত। এতে অতি"রিক্ত র"ক্তপাতের ঝুঁ"কি বেড়ে যায়।
​সা"র্জারি বা অপারে"শনের আগে-পরে: যেহেতু লবঙ্গ রক্ত জমা"ট বাঁধতে বাধা দেয়, তাই যেকোনো ধরনের সা"র্জারির অন্তত ২ সপ্তাহ আগে থেকে লবঙ্গ খাওয়া স"ম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। নয়তো অপারেশনের সময় বা পরে অ"তিরিক্ত র"ক্তক্ষরণের ঝুঁ"কি থাকে।
​লো-ব্লা"ড সুগার বা হাইপো"গ্লাইসেমিয়া (Hypoglycemia): লবঙ্গ রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। যাদের ব্লাড সুগার এমনিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে, তারা লবঙ্গ খেলে সুগার লেভেল বিপ"জ্জনক মাত্রায় কমে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রো"গীরাও যদি ওষুধের পাশাপাশি অ"তিরিক্ত লবঙ্গ খান, তবে সুগার ফল করার ভয় থাকে।
​লি'ভার বা য'কৃতের গু"রুতর সমস্যা: অতি"রিক্ত মাত্রায় লবঙ্গ বা লবঙ্গের তেল খেলে তা লি"ভারের ওপর চাপ ফেলে এবং লি'ভার ড্যা"মেজের কারণ হতে পারে। যাদের আগে থেকেই লি'ভারের ব"ড় কোনো সম"স্যা আছে, তাদের চিকিৎসকের পরা"মর্শ ছাড়া লবঙ্গ বা লবঙ্গের তেল ব্যবহার করা উ"চিত নয়।
​পেটে আল"সার বা অতিরিক্ত গ্যা"স্ট্রিক: লবঙ্গ বেশ কড়া এবং ঝাঁ"ঝালো একটি মশলা। খালি পেটে অ"তিরিক্ত লবঙ্গ খেলে পাক"স্থলীর ভেতরের স্ত"রে জ্বা"লাপোড়া সৃষ্টি হতে পারে। যাদের পেটে আ"লসারের সমস্যা আছে, লবঙ্গ তাদের ব্যথা ও অস্ব"স্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।
​গর্ভ"বতী ও স্ত"ন্যদানকারী মা: রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর জন্য সামান্য পরিমাণে লবঙ্গ খাওয়া নিরা"পদ হলেও, ওষুধি হিসেবে বা অতিরিক্ত পরিমাণে লবঙ্গ খাওয়া গ"র্ভবতী না"রীদের জন্য নিরা"পদ নাও হতে পারে।
🔴লবঙ্গ খাওয়ার সঠিক নিয়ম
​লবঙ্গ থেকে পুরো উপকার পেতে হলে এটি সঠিক উপায়ে এবং সঠিক মাত্রায় খাওয়া জরুরি:
​সঠিক পরিমাণ: একজন সুস্থ প্রা"প্তবয়স্ক মানুষের দিনে ১ থেকে ২টি লবঙ্গ খাওয়াই য"থেষ্ট। এর বেশি খাওয়া মো"টেও উচিত নয়।
​দাঁতের ব্যথা"য়: দাঁতে ব্যথা হলে একটি লবঙ্গ ব্যথার জায়গায় দাঁতের ফাঁ"কে চে"পে রাখুন। এর র'স ধী"রে ধী"রে বের হয়ে ব্যথা কমিয়ে দে'বে। লবঙ্গের তেলও তুলোয় ভিজিয়ে ব্যবহার করতে পারেন, তবে তা সরা"সরি মাড়িতে না লাগিয়ে শুধু দাঁতে লাগাবেন।
​সর্দি-কা"শি ও গলা ব্যথায়: রাতে ঘুমানোর আগে ১-২টি লবঙ্গ মুখে নিয়ে খুব ধী"রে ধীরে চি"বিয়ে এর র'স গিলে খান। এরপর এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করে ঘুমিয়ে পড়ুন। এটি গলা ব্যথা, কফ ও সর্দি সারাতে জা"দুর মতো কাজ করে।
​লবঙ্গের চা: রোগ প্রতি"রোধ ক্ষম"তা বাড়াতে এবং হজ"মশক্তি উন্নত করতে লবঙ্গের চা খেতে পারেন। ১ কাপ পানিতে ১-২টি লবঙ্গ, সামান্য আদা দিয়ে ফুটি"য়ে নিন। নামিয়ে হালকা ঠান্ডা হলে তাতে মধু মিশিয়ে পা"ন করুন।
​রান্নায় ব্যবহার: মাং"স বা ভা"রী খাবারে ২-৩টি লবঙ্গ ফোঁ"ড়ন হিসেবে ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি খাবার সহজে হজম হতে সাহায্য করে।
​সতর্ক"তা: শিশু"দের ক্ষেত্রে লবঙ্গের তেল বা অতিরিক্ত লবঙ্গ ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বি"রত থাকবেন, কারণ শিশুদের শরীর এর তী"ব্রতা স"হ্য করতে পারে না। যেকোনো শা"রীরিক সম"স্যায় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের আগে আপনার বর্তমান ওষু"ধের সাথে এর কোনো ক্ষ"তিকর প্রতি"ক্রিয়া হবে কি না, তা একজন চিকি"ৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া সব"চেয়ে বু"দ্ধিমানের কাজ।
সূত্রঃ হেলদি লাইফস্টাইল



Saturday, April 4, 2026

4 Promises of Allah

 


Beauty of the Sky … একটু চোখ রাখো-

 রাতের আঁধারে আকাশের গায়ে। দেখ, তার কালো বেনারসীতে জড়োয়া নক্ষত্রের অপরূপ কারুকাজ। তোমার কাছে আকাশের বিশালতা ভাবতে অবাক লাগবে। ভাবনায় আরো আসবে আমিতো আকাশের মতই উদার হতে চাই! পেরেছি কি?

আরো চোখ রাখো ভোরের সমীরণে ফুলের আনন্দ ছন্দে। বুকে খেলে যাবে আনন্দের ফোয়ারা সাগরের উর্মির মতন। মনে হবে ফুলেরা তো নিজের জন্য ফোটেনি। ওদের মত আমিও নিজের জন্য ফুটিনি। এসেছি পরহিতে। কাজে লাগাই সেটা।
শুনেছি বাতাসের কোন হাহাকার নেই। নেই চলার পথে কোন বিরাম। ছুটে চলাটাই যেনো ওর স্বভাব। আমিও তো বাতাসের মতো হাহাকার শূণ্য হতে পারি! তবে তা হইনা কেন?
আরো চোখ রাখো ভোরের রবির দিকে। কি বিশাল রবি, কত যুগ যুগ ধরে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে রয়েছে আকাশের গায়ে। গ্রহ, নক্ষত্র, আকাশ, বাতাস, সাগর, নদী, পশু, পাখী, মানুষ, তরু-লতা ইতর ভদ্র সবাইকে আপন জন ভেবে কি নিঃস্বার্থ সেবাটা দিয়ে চলেছে ক্লান্তিহীন নিদ্রাহীনভাবে! নিঃস্বার্থ সেবাটা আমি কি আমার আপনজনদের দিয়েছি?
আকাশ, বাতাস, ফুল, রবি -আমাদের যে সেবা দিয়ে চলেছে তাদের কি আমরা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি? না জানালে আমরা তো আকিঞ্চনদের(তুচ্ছদের) দলে। এমনটা না হই আমরা।
আল্লাহ ওদের তৈরী করেছেন আমাদের জন্য। তাঁকেও আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি তো মালিক। তাঁর কাছে আমাদের সঁপে দিয়ে হই সব রকমের দুশ্চিন্তা মুক্ত।
Leave worries aside and you will be surprised by the beauty of the sky and the colour of flowers, of the freshness of the breeze and the generosity of the sun. You will feel you are part of creation, and life will start to make sense.
The greatest wealth is to appreciate what we have and what we are.
-নিজ চিন্তার সূত্র

Wednesday, April 1, 2026

Hard truths

 1. Stay away from those who stay close to everyone.

2. Being alone is better than being used.
3. Money gives you the ability to walk away from people & situations you don't like.
4. I don't care if it's lonely at the top; It was lonely at the bottom.
5. Loyalty is rare. If you find it, keep it.
6. Rule number 1: Believe in yourself.
7. Jealousy is a lack of confidence.
8. Stop thinking everyone is your friend.
9. Don't forget how badly you wanted what you have now. Blessings are always coming to us.
10. Don't regret having a good heart; All good things come back and multiply.

Monday, March 30, 2026

হাঁড়িচাচা পাখি, গাঁয়ের পাখী

 বাঁজখাই গলায় ডাকতে ওস্তাদ।

বৈজ্ঞানিক নাম: Dendrocitta vagabunda) বা শুধু হাঁড়িচাচা Corvidae (কর্ভিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Dendrocitta (ডেন্ড্রোসিট্টা) গণের এক প্রজাতির লম্বা লেজের পাখি।
খয়েরি হাঁড়িচাচা লালচে চোখ ও লম্বা লেজবিশিষ্ট সর্বভূক পাখি। এদের দৈর্ঘ্য কমবেশি ৫০ সেন্টিমিটার, ডানা ১৫ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ৩.২ সেন্টিমিটার, পা ৩.৩ সেন্টিমিটার ও লেজ ২৩ সেন্টিমিটার। ওজন ১১৫ গ্রাম। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠের দিক লালচে-বাদামি। দেহের নিচের দিক খয়েরি রঙের। মাথা, ঘাড়ের পিছনের অংশ এবং বুক কালচে-স্লেট ধূসর। দেহের পিছনের ভাগ লালচে। পেট ও অবসারণী ঈষৎ পীত বর্ণের। ডানার পালক-ঢাকনি কালো। ডানার গোড়া থেকে শেষ পর্যন্ত খোপ খোপ সাদা বা ফিকে ধূসর পালক থাকে। এর সাদা পট্টি ওড়ার সময় স্পষ্ট চোখে পড়ে। লম্বা ধূসর লেজের আগায় কালো ফিতা থাকে। চোখ কমলা-বাদামি থেকে সামান্য বাদামি লাল। ঠোঁট বলিষ্ঠ। ঠোঁটের রঙ কালচে-ধূসর। ঠোঁটের গোড়ার নিচের অংশ অপেক্ষাকৃত হালকা। পা ও পায়ের পাতা কালচে-বাদামি। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির চেহারা অভিন্ন। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা তুলনামূলক বাদামি। এছাড়া ডানার পালক-ঢাকনিতে পীতাভ আভা থাকে। লেজের আগা ফিকে পীতাভ এবং মুখের রঙ মেটে হয়।
খয়েরি হাঁড়িচাচা সাধারণত খোলা বন, বনের ধার, বৃক্ষবহুল অঞ্চল, বাগান, গ্রাম, রাস্তার ধারের গাছ এমনকি শহুরে পার্কেও বিচরণ করে। সাধারণত একা, জোড়ায় জোড়ায় কিংবা পারিবারিক দলে ঘুরে বেড়ায়। এদের জোড়ার বন্ধন বেশ শক্ত থাকে। এরা বছরের পর বছর একসাথে থাকে ও বংশবৃদ্ধি করে যায়। পত্রবহুল গাছে কিংবা মাটিতে ঝরাপাতা উল্টে এরা খাবার খোঁজে। মাটিতে এদের খুব কম নামতে দেখা যায়। এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে বিভিন্ন পোকামাকড়, পাকা ফল, ফুলের মধু, অমেরুদণ্ডী প্রাণী, ব্যাঙ (গেছোব্যাঙ বেশি প্রিয়), ছোট সরীসৃপ, ছোট সাপ, বাদুড়, ইঁদুর, ছুঁচো, কাঠবিড়ালী, পাখির ছানা ও ডিম এবং পচা মাংস। বিপদে পড়লে এরা কেঁচো, বিছে, মাকড়সা, শামুক ও চামচিকা খায়। এরা খুব একটা ভাল শিকারী নয়। মাঝে মাঝে দুই সদস্যের ছোট দলের মাধ্যমে একযোগে শিকার করে। পাখির জগতে এরা ডাকাত পাখি হিসেবে পরিচিত। কারণ এরা অন্য পাখির ডিম ও বাচ্চা খায়। কোন কোন ক্ষেত্রে সাধারণ এদের পাখিদের তাড়া খেতে হয়। মাঝে মাঝে এরা উঁচু কণ্ঠে ডাকে: কিটার-কিটার-কিটার...., চাটুক্-চুক্-চ্যাক্-চ্যাক্...., মী-আউ....। এরা কর্কশ স্বরে ক্যাঁচ্ ক্যাঁচ্ করে ডাকে। সে জন্য বাংলাদেশের কোথাও কোথাও একে ক্যাঁচ ক্যাঁইচ্চা নামে ডাকা হয়। এরা আবার চাপা অট্টহাসির মত ডাক ছাড়তে পারে।
মার্চ থেকে জুলাই এদের প্রধান প্রজনন মৌসুম। বাসা বাঁধার জায়গা নির্বাচন করতে এক থেকে তিনদিন সময় লাগে। বাসা বানাতে ৪-৭ দিন সময় লাগে। স্ত্রী ও পুরুষ হাঁড়িচাচা উভয়ে মিলে বাসা বানায়। বনের ধারে লতা, ডালপালা, বাঁশের কঞ্চি, পাতা ও মূল দিয়ে বাসা করে। বাসা গোলাকার ও কাকের বাসার মত আগোছালো। ভূমি থেকে বাসার উচ্চতা ৬ থেকে ৮ মিটার উঁচুতে হয়। বাসা বানানো হলে ৪-৫টি ডিম পাড়ে। ডিম রঙে ব্যাপক বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত ডিমের বর্ণ স্যামন-সাদা রঙের হয়। এছাড়া সবুজাভ, পাটকিলে, লালচে ও গোলাপি ডিমও দেখা যায়। ডিমের উপর অনেক সময় লালচে বাদামি ছিট ছিট থাকে। ডিম আকারে কিঞ্চিৎ গোলাকার হয়। ডিমের মাপ ২.৯ × ২.১ সেন্টিমিটার। ১৭-১৯ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। বাবা-মা উভয়ে ছানাদের খাওয়ানোর ভার নেয়। ২৯-৩০ দিনে ছানারা বাসা ছাড়ে।
শরীরে সাদা কালো রঙ্গের সমাবেশের জন্য এবং এরা বৃক্ষবিহারী বলে ইংরেজ নাম দিয়েছে “দি ট্রিপাই”। এদের বাংলা সংজ্ঞাটি, গলার স্বরের জন্য লাভ করেছে। মাটির হাঁড়ি একখানি খোলা দিয়া ঘর্ষণ করলে যে শ্রুতিকটু শব্দ উৎপন্ন হয়, তার সহিত এদের স্বরের সাদৃশ্য বশতঃই বোধহয় এই নাম, বা বদনাম, লাভ করেছে। তবে সব সময়েই যে ঐরূপ কর্কশ স্বর ইহার কণ্ঠ হতে বের হয়, তা নয়। প্রজনন ঋতুতে এদের যে স্বরকে কে শ্রুতিকটু বলা যাবে না। বায়সের জ্ঞাতিভ্রাতা হলেও তাদের মত অশ্রাব্য কর্কশ স্বর নয়। সাধারণতঃ যে স্বরটা নিঃসৃত হয় ইংরেজ লেখকরা তার পরিভাষা করেছেন—“কক্‌-লী”। পূৰ্ব্ববঙ্গের গ্রাম্য অঞ্চলের পরিভাষা “কুটুম-আলি” অর্থাৎ কুটুম্ব আসিলি। তাই “কুটুম” পাখীও বলে। এই পাখী বাড়িতে এসে ঘন ঘন ডাকলে বাড়ীতে কুটুম্ব আসে, এই প্রবাদ পূর্ব্ববঙ্গে প্রচলিত আছে। এদের কণ্ঠস্বর একটু উচ্চগ্রামের হলেও বর্ষাকালে তা বেশ মিষ্টি।
তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া, বাঙ্গলার পরিচিত পাখী/হাঁড়িচাচা।

বাঁধাকপি

 বাঁধাকপি একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর, কম ক্যালোরিযুক্ত এবং ফাইবার ও ভিটামিন সি, কে-সমৃদ্ধ শীতকালীন সবজি । এটি নিয়মিত খেলে হজমশক্তি বাড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে । এছাড়া, এটি হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষা, আলসার নিরাময়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর এবং হাড় মজবুত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বাঁধাকপি খাওয়ার প্রধান উপকারিতাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর: প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও সেলুলোজ থাকায় বাঁধাকপি হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: এতে ক্যালোরি খুব কম এবং উচ্চ ফাইবার থাকায়, এটি পেট ভরা রাখে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ত্বক: উচ্চ ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে ।
হার্ট সুস্থ রাখা: বাঁধাকপিতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রে চর্বি শোষণ কমায় এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে।
হাড়ের স্বাস্থ্য: ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো উপাদান হাড় মজবুত রাখে এবং বার্ধক্যজনিত হাড়ের সমস্যা প্রতিরোধ করে।

Real Love Vs. Fake Love The Difference!

 Real Love Vs. Fake Love

The Difference!

পুরুষের পতন তার লালসায় নারীর পতন তার লোভে।

 লোভ (Greed): কোনো কিছু পাওয়ার অতিশয় আকাঙ্ক্ষাকে লোভ বলে। এটি সাধারণত ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা পার্থিব জিনিসের প্রতি আসক্তি বোঝায়। যখন মানুষের চাহিদা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যায় এবং সে যেকোনো উপায়ে তা পেতে চায়, তখন তাকে লোভ বলা হয়।

লালসা (Lust): লালসা মূলত তীব্র শারীরিক বা ইন্দ্রিয়জ কামনার সাথে সম্পর্কিত। এটি শরীরের আনন্দ বা কোনো কিছুর প্রতি প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ আকাঙ্ক্ষাকে নির্দেশ করে। অনেক ক্ষেত্রে 'লালসা' শব্দটি যৌন আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে অধিক ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি ক্ষমতা বা অন্য কোনো বিষয়েও অতি-আসক্তি বোঝাতে পারে।
সহজ কথায়, লোভ হলো কোনো কিছু নিজের করার আকাঙ্ক্ষা, আর লালসা হলো কোনো কিছু উপভোগ করার উগ্র বাসনা। ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উভয়ই মানুষের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়।

রাগের বশে “বা’ল” শব্দটা বলে ফেলি, হিসেব কষিনা পাপ বা পূণ‍্যের!!

 আজকাল আমরা অনেকেই হালকাভাবে, কখনো মজা করে আবার কখনো রাগের বশে “বা’ল” শব্দটা বলে ফেলি।কিন্তু একবারও কি মনে প্রশ্ন জাগে—এই শব্দটার আসল পরিচয় কী?

তবে শুনুন!
বা'ল ছিল একটি বিশালাকার মূর্তি, যা বিশুদ্ধ সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। এটি প্রায় ২০ কিউবিট (প্রায় ১০-১৫ মিটার) উঁচু ছিল এবং মূর্তিটির চারটি মুখ ছিল।
প্রাচীনকালে সিরিয়া এবং আরবের কিছু অংশে বা'ল মূর্তিটি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে পূজা করা হতো। ফিনিশীয়, কেনানীয়, মোয়াবীয় এবং মিদিয়ানীয় উপজাতিদের মধ্যে এই মূর্তির পূজা খুব প্রচলিত ছিল। ইসলামের পূর্বে আরবের হুবল (Hubal) মূর্তিও বা'ল এর একটি নামান্তর বলে ধারণা করা হয়।
সেমিটিক ও হিব্রু ভাষায় বা'ল শব্দের অর্থ হলো প্রভু, মালিক বা প্রতিপালক। পরবর্তীতে এটি মূর্তির একটি বিশেষ নাম হিসেবে পরিচিতি পায়।
বা'ল এর সম্মানে বিশাল উৎসব আয়োজন করা হতো। ৪শ জন পুরোহিত এই মূর্তির সেবায় নিযুক্ত ছিল। তারা এই বা'ল-এর সন্তুষ্টির জন্য বড় বড় উৎসব করতো, ধূপ জ্বালাতো, পশু কোরবানি দিতো। ইতিহাসে এমন কথাও পাওয়া যায়, কিছু ক্ষেত্রে মানুষও কোরবানি দেওয়া হতো—যা ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর ও বিভ্রান্তিকর বিশ্বাসের ফল।
হযরত ইলিয়াস (আঃ) তাঁর জাতিকে সতর্ক করেছিলেন, যখন তারা আল্লাহকে ছেড়ে বা'ল এর পূজায় লিপ্ত হয়েছিল। তিনি তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানান। কিন্তু তারা অমান্য করলে তাদের ওপর শাস্তি নেমে আসে। হযরত ইলিয়াস (আঃ) সিরিয়ার বালবেক (Baalbek) শহরে এই মূর্তিপূজা বন্ধ করার জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। সেখানকার লোকেরা আল্লাহকে ছেড়ে বা'ল এর পূজা করতো।
বা'ল পূজা করার কারণে আল্লাহ তায়ালা সেই জাতির ওপর তিন বছরের দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টির শাস্তি নাজিল করেছিলেন।
আমরা যে শব্দগুলো সহজে ব্যবহার করি, সেগুলোর পেছনে কী ইতিহাস আছে—তা কি কখনো ভেবে দেখি?
হে আল্লাহ, আমরা অজান্তে যে ভুলগুলো করে ফেলি—আপনি সেগুলো ক্ষমা করে দিন।আমাদের জিহ্বা ও অন্তরকে পবিত্র রাখুন, যাতে আমরা আর এমন ভুল না করি।সত্য বুঝে তা মেনে চলার তৌফিক দিন, এবং শিরক থেকে হেফাজত করুন।আমরা প্রতিজ্ঞা করছি—জেনে-বুঝে আর এমন শব্দব্যবহার করবো না।আপনি আমাদেরকে সঠিক পথে রাখুন। আমীন।

জীবন ও বাস্তবতা বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু অংশ হতে পরামর্শঃ

 অনলাইনের পরিচিত কারো সাথে বেশি ক্লোজ হওয়ার চেষ্টা করবেন না। কারণ অনলাইনে পরিচিত মানুষের জন্য আপনি একসময় কষ্ট, মনঃখুন্ন হতে পারেন।কারণ অনলাইনে পরিচিত কেউ বেশি দিন থাকে না। বরং আগের চেনা মানুষেরা সবসময় পাশে থাকে।

কোনো মানুষ জীবন থেকে চলে গেলে বেশি কষ্ট পাবেন না। কারণ মানুষ শুধু চলে যায় না। আপনাকে নতুন এক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যায়। আপনি তার থেকে কিছু শিখতে পারেন,ভিন্ন কিছু পেতে পারেন। আফসোস করবেন না।
আমরা এই দুনিয়ায় শুধু দেহটা নিয়ে এসেছিলাম। পৃথিবী আমাদের সব দিয়েছে। তাই হারানোর কিছু নাই। সবই ভ্রম, কেউ কিছুর মালিক নয়।
নিজেকে সহজলভ্য করবেন না। নিজের আত্মসম্মান, ব্যক্তিত্ব ধরে রাখুন। নিজেকে বিলিয়ে দিবেন না যারতার কাছে। আপনি দুনিয়ায় একজন এবং ইউনিক।
স্রষ্টা কে আর বই ভালোবাসুন। কারণ দুনিয়ায় ২টা বস্তু আপনাকে কখনোই ঠকাবে না। এক স্রষ্টা এবং দুই বই। তারা আপনার নির্বাক বন্ধু। দিন শেষে কথা বলার একজন চাই। কিন্তু এই দুইজন দিন শেষে নয় সারাদিন, দুনিয়ার সব বিপদ, সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম। তাই এই দুইটা আঁকড়ে ধরুন। এই ২ মাধ্যম আপনাকে কখনোই ঠকাবে না।
লোকে কী বলবে? এই চিন্তা মাথা থেকে বের করুন। কারণ জীবন আপনার, লোকের কথায় আপনার পেট চলে না।আপনার জীবন চলে না।
যেখানে যেভাবে থাকেন,যখন যে পরিস্থিতি তে পড়েন তার সাথে মানিয়ে নিবেন। সব জায়গায় সব সুযোগ বা মন মতো হওয়ার চিন্তা করবেন না।
আজকের দিনটার পুরো অংশ আপনার জীবনের প্রথম এবং শেষ দিন মনে করুন। এতে করে আপনি আপনার সমস্ত ভালো কাজ গুলো করতে পারবেন। নিজেকে ভালোবাসুন,ভালো কিছু করুন।
Source: mh chowdhury

অনেক নারী-পুরুষকে দেখি তারা টিভির সিরিয়্যালে বা ফোনের রিলে ঝগড়া-ঝাটির অনুষ্ঠানগুলো দেখতে খুব পছন্দ করে। এদেরকে বলেও কোন কাজ হয় না। এরা কি OCD’র রোগী?

 টিভি সিরিয়াল বা রিলের ঝগড়া দেখার প্রতি ঝোঁক থাকলেই তাকে OCD (Obsessive-Compulsive Disorder) বলা যাবে না। বিষয়টিকে এভাবে দেখা যেতে পারে:

কেন এটা OCD নয়?
OCD হলো একটি মানসিক সমস্যা যেখানে মানুষ কোনো নির্দিষ্ট চিন্তা (Obsession) থেকে মুক্তি পেতে বাধ্য হয়ে বারবার কোনো কাজ (Compulsion) করে, যা তাকে কষ্ট দেয়। ঝগড়া দেখার বিষয়টি সাধারণত বিনোদন বা অভ্যাসের অংশ, কোনো অনিচ্ছাকৃত বাধ্যতামূলক আচরণ নয়।
তবে কেন মানুষ এগুলো দেখতে পছন্দ করে?
মনস্তাত্ত্বিক ভাষায় এর কিছু অন্য কারণ থাকতে পারে:
ভিকারিয়াস থ্রিল (Vicarious Thrill): নিজের জীবনে সরাসরি ঝামেলা না জড়িয়ে অন্যের ঝগড়া দেখে এক ধরনের পরোক্ষ উত্তেজনা অনুভব করা।
ডোপামিন রিলিজ: এই ধরনের নাটকীয় দৃশ্য মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা সাময়িক আনন্দ বা উত্তেজনা দেয়।
সামাজিক তুলনা: অন্যের খারাপ অবস্থা বা ঝগড়া দেখে অবচেতনভাবে নিজের জীবনকে 'ভালো' মনে করে শান্ত থাকা।
এসক্যাপিজম (Escapism): নিজের জীবনের একঘেয়েমি বা মানসিক চাপ থেকে বাঁচতে এই সস্তা বিনোদনে ডুবে থাকা
কখন চিন্তার বিষয়?
যদি কেউ এই ঝগড়া দেখার চক্করে পড়ে নিজের কাজ, ঘুম বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষতি করে ফেলে, তবে সেটা আচরণগত আসক্তি (Behavioral Addiction) হতে পারে ।
তাদের এই অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য সরাসরি বকাঝকা না করে তাদের সাথে নিয়ে অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে সময় কাটানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।
সূত্রঃ Google’s AI
নিজ পাঠ


নিঃস্বার্থ সেবার খেসারত!!

 যে মানুষ এখন যত্ন নিতে ভুলে গেছে

সে মানুষ এক সময় সবার যত্ন নিতো, আমরা সেটা বুঝিনা।

আসলে যারা একসময় সবার নিঃস্বার্থ যত্ন নেয়, তারা অনেক সময় নিজের অবহেলার শিকার হতে হতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যখন কেউ বারবার সবার খেয়াল রেখেও বিনিময়ে সামান্য গুরুত্ব বা সম্মান পায় না, তখন সে একসময় নিজেকে গুটিয়ে নেয়।

একে 'যত্ন নিতে ভুলে যাওয়া' না বলে বরং 'মানসিক ক্লান্তি' বলা বেশি সঠিক। মানুষটা আসলে বদলায়নি, সে শুধু বুঝতে পেরেছে যে অন্যের যত্ন নিতে গিয়ে সে নিজেকেই হারিয়ে ফেলছে । আমরা তখন তার বর্তমান উদাসীনতা দেখি, কিন্তু তার পেছনের দীর্ঘদিনের একাকীত্ব বা ত্যাগ দেখার চেষ্টা করি না।


পাকা ও কাঁচায় তফাত কতটা?

 পাকা ও কাঁচায় তফাত কতটা?


ইউক্যালিপটাস গাছ ও আমরা

 বাগানের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ১৯২১ সালে সিলেটে প্রথম ইউক্যালিপটাস গাছ নিয়ে আসা হয় অস্ট্রেলিয়া থেকে। ৭০ এর দশকের শেষ দিকে আসে আকাশমণিও। তখন বাংলাদেশ ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, হাটহাজারী, মধুপুর ও দিনাজপুরের বিভিন্ন জায়গায় এর উপযোগিতা পরীক্ষা করে। দেশের উত্তরাঞ্চলে এই গাছ ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হওয়ার কারণ এক সময় বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি - বিশেষ করে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ইউক্যালিপটাস গাছ ঐ অঞ্চলে রোপণ করা হয়েছে। ইউক্যালিপটাসের প্রায় ৭০০ টি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত ক্যামালডোলেনসিস, সাইট্রিওডোরা ও টেরেটিকরনিস — এই তিন ধরনের ইউক্যালিপটাস দেখা যায়।‌

গ্রোথ বেশি হওয়ার কারণে প্রতিদিন একটি ইউক্যালিপটাস গাছ প্রাপ্যতা অনুযায়ী দৈনিক ৫০-৯০ লিটার পানি শোষণ করে মাটিকে নিরস ও শুষ্ক করে ফেলে, যা উত্তরাঞ্চলের খরাপ্রবণ অঞ্চলের মাটির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এরা খনিজ লবণ শোষণ ছাড়াও মাটির গভীর থেকে অতিরিক্ত পানি শোষণ করে ডালে জমা রাখে বলে এর আশেপাশে অন্যান্য ফলদ গাছের ফলন ভালো হয় না।
ইউক্যালিপটাস যেখানে লাগানো হয়, সেখানে প্রচুর বীজ ছড়ায় বলে অন্যান্য প্রজাতির গাছ জন্ম নেওয়ার সুযোগ পায় না। এই গাছের পাতা যেখানে পড়ে, সেখানকার মাটি কালো হয়ে যায় এবং ছয় ইঞ্চি পর্যন্ত মাটির স্তর বিষাক্ত করে ফেলে। এতে ঐ স্থানে ঘাস ও লতাপাতা জন্মাতে পারে না। এছাড়া এদের পাতা ও তেলে থাকা ইউক্যালিপটোল নামক টক্সিন মাটির উর্বরতা নষ্ট করে ফেলে। গাছের আশেপাশে মধ্যস্তর ও নিম্নস্তরে কোনো গাছপালা বা ঘাস না থাকায় মাটি সহজে আলগা হয়ে যায় এবং বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যায়, ফলে ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পায়। এর মূলতন্ত্র অগভীর হওয়ায় আলগা মাটিযুক্ত অঞ্চলে বা প্রবল ঝড়-বাতাসে গাছ উপড়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
পোকামাকড় ও পাখি এই গাছ থেকে খাদ্য-বাসস্থানের মতো তেমন কোনো উপকার পায় না বলে জীববৈচিত্র্যের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে। ইউক্যালিপটাসের রেণু নিঃশ্বাসের সঙ্গে দেহে প্রবেশ করলে অ্যাজমার মত শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ হয়। এর পাতায় পেট্রলিয়াম জাতীয় পদার্থ আছে। দাবানলের সময় ইউক্যালিপটাস প্রচুর দাহ্য গ্যাস নির্গত করে, যা বাতাসের সাথে মিশে বিস্ফোরিত হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় ২০২০ সালের দাবানলটি এত ভয়াবহ হওয়ার পেছনে এই গাছের ভূমিকা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।
উত্তরবঙ্গে কৃষি জমির আইল বরাবর প্রচুর ইউক্যালিপটাস গাছ দেখা যায়। সেখানকার মানুষের যুক্তিতে ইউক্যালিপটাসের বেশি যত্ন লাগে না আর ছাগলেও খায় না — তাই তারা এভাবে গাছ লাগান। মূলত দরিদ্র কৃষক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী গাছ চাষ করে নগদ টাকার জন্য, ফলে তাদের সবচেয়ে পছন্দের তালিকায় থাকে ইউক্যালিপটাস। এর চারার দাম কম, দ্রুত বর্ধনশীল, কাঠের মান ভালো এবং ডালপালা কম থাকায় অন্যান্য ফসলে ছায়াজনীত সমস্যার সৃষ্টি করে না। আবার সেগুন, মেহগনি সহ অন্যান্য কাষ্ঠল গাছ থেকে ভালো মানের কাঠ পেতে ন্যূনতম ১৫-২০ বছর অপেক্ষা করা লাগে, যেখানে ইউক্যালিপটাস থেকে কাঠ পেতে প্রয়োজন মাত্র ৫-৮ বছর। ইউক্যালিপটাস গাছ থেকে দ্রুত নগদ টাকা পেয়ে পুনরায় ওই জমিতে অন্যান্য ফসল অথবা ইউক্যালিপটাস চাষ করেন তারা।‌
২০০৮ সালের এক প্রজ্ঞাপনে ইউক্যালিপটাসের চারা উৎপাদন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। কিন্তু, অল্প সময়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ার কারণে শুরু হয় ব্যক্তি উদ্যোগে ব্যাপক হারে ইউক্যালিপটাস রোপন। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নিষিদ্ধ করা হলেও উত্তরবঙ্গের নার্সারিগুলোতে কোনো রকম বাধা-বিপত্তি ছাড়াই বিভিন্ন দেশীয় ফলজ গাছের চেয়েও কম দামে বিক্রি হয়েছে ইউক্যালিপটাস, এমনকি বন কর্মকর্তারাও জানতেন না এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে এই গাছের ব্যাপারে নানান শর্ত আরোপিত হলেও গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে আগ্রাসী ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা তৈরি, রোপণ এবং বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এদের পরিবর্তে দেশীয় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।‌তবে ইউক্যালিপটাস কেবল ক্ষতিকর নয়, এর কিছু উপকারী দিকও আছে। এর পাতার নির্যাস থেকে একটি অ্যান্টিসেপটিক তেল পাওয়া যায়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে সিনেওল (Cineole) নামে পরিচিত এবং এর বাজার মূল্য যথেষ্ট বেশি। এই তেল হাঁটু এবং অন্যান্য অস্থিসন্ধির ব্যথা উপশমে সহায়ক। ভারতের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ইউক্যালিপটাস তেল ব্যবহার করা হয়। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই তেল সামান্য গরম করলে যে বাষ্প উৎপন্ন হয়, তা শ্বাসনালী পরিষ্কার করতে এবং শ্লেষ্মা (mucus) কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এটি শুষ্ক ত্বককে সতেজ করে এবং মশা ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ তাড়ানোর একটি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। তবে বিশুদ্ধ ও কাঁচা ইউক্যালিপটাস তেল (ইউক্যালিপটোল) অত্যন্ত বিষাক্ত, বিশেষ করে শিশুদের জন্য।
ইউক্যালিপটাসের চা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে, তবে এ বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এটি শক্তিশালী anti-inflammatory গুণসম্পন্ন। যা শরীরের প্রদাহ কমাতে, ব্যথা উপশম করতে এবং হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি Escherichia coli এবং Candida albicans-এর মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকেও রক্ষা করতে পারে।
ইউক্যালিপটাসকে নাইট্রোজেন ফিক্সিং আকাশমনি অথবা সাদা/কালো কড়ই গাছের সঙ্গে পরিকল্পিত ভাবে লাগালে মাটির উর্বরতা ও ফলন বাড়তে পারে — ২০১৮ সালে এমনটা উঠে এসেছে গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনসারভেশন জার্নালে। তবে, ইউক্যালিপটাস গাছ থেকে যে উপকারি পণ্যগুলো পাওয়া যায় তা যথেষ্ট বিষাক্ত এবং এর যথাযথ ব্যবহার বা বাণিজ্যিকীকরণ আমরা এখনো রপ্ত করতে পারি নি। ফলে, আপাত দৃষ্টিতে ইউক্যালিপটাস চাষে লাভের চেয়ে ক্ষতিই অনেক বেশি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক কামাল হোসেন বলেন, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণির অবক্ষয়িত ও অনুর্বর মাটিতে টিকে থাকার ক্ষমতা বেশ ভালো এবং সেরকম জায়গায় এদের লাগানো যায় কি না, তা নিয়ে সরকার ভাবতে পারে।‌
Nazir Tiham
Team Science Bee

প্রতারণা Cheating

 প্রতারণা

Cheating

সমর্পণ আল্লাহ যা চান তাই হয়।

 তোমরা আল্লাহর অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পারো না। সূরা আত তাকভীর, শেষ আয়াত।

সব সময় তুমি যা চাইবে তা-ই ঘটবে, এমনটা আশা কোরো না। তোমার চাওয়ার বিরুদ্ধেও অনেক কিছু ঘটবে। এমন অনেক পরিস্থিতিই তোমার সামনে আসবে, যা চাওনি তুমি। যার জন্যে কোনো প্রস্তুতি ছিল না তোমার। হঠাৎ করেই হয়তো ঝড় আঘাত হানবে তোমার মনের উঠোনে। সে ঝড় কালবোশেখীর রূপ নিয়ে তছনছ করে দেবে তিলে তিলে গড়ে তোলা স্বপ্নকে। যত্নে আগলে রাখা হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষাগুলো মুহূর্তের মধ্যেই ভাঙা কাচের মতো টুকরো টুকরো হয়ে ঝরে পড়বে। ঝড়ো হাওয়া হয়তো উড়িয়ে নিয়ে যাবে সবকিছু তোমার সামনেই।
তুমি ভয় পেয়ো না যেন!
এই তো, আর মাত্র কটা দিন। এরপর সব ঠিক হয়ে যাবে। ফুরিয়ে যাবে মনের কষ্টগুলো। লুকিয়ে-রাখা বেদনাগুলো হারিয়ে যাবে সুদূর দূরে। আবারও পাখিরা গাইবে নীপবনে। কেতকী সুরভি ছড়াবে উঠোনে। ফুলে-ফলে পূর্ণযৌবনা হয়ে যাবে তোমার বাগান। সুমিষ্ট ঝরনা বইবে প্রাসাদের পাশ দিয়ে। তরুছায়ার বসে মনের সুখে তুমি পাপিয়ার গান শুনবে, পাতার তাসবীহ শুনবে। ওখানে তোমার কখনো মন খারাপ হবে না। না-পাওয়ার বেদনা কখনোই তাড়া করবে না। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে না তোমার উঠোনে।
ওখানে কেবল তা-ই ঘটবে, যা তুমি চাইবে। তোমার ইচ্ছের বাইরে কোনো কিছুই হবে না। মনে কোণে যা-কিছু উঁকি দিয়ে যাবে ক্ষণে ক্ষণে, তার সবটাই তুমি পাবে। কোনো কিছুর প্রতি ইচ্ছে জাগার সাথে সাথেই সেইটা হাজির করা হবে তোমার সামনে। যত আকাঙ্ক্ষা যত বাসনা, সব পূর্ণ করা হবে।
ভাই আমার!
সে পর্যন্ত নাহয় একটু ধৈর্য ধরো। কষ্টগুলো নাহয় একটু সয়ে নাও নীরবে। দুঃখগুলো রাখো-না চেপে হৃদয়ে। তোমার মনোবেদনাগুলো দয়াময়ের পরশে একদিন ঠিক হালকা হয়ে যাবে।
FEAR ALLAH@facebook


আল্লাহর কাছে তোমার সম্মান কতটকু?

 তুমি কি জানতে চাও, আল্লাহর কাছে তোমার সম্মান কতটকু? তাহলে দেখ, তিনি তোমাকে কোন অবস্থায় রেখেছেন,,।

- যদি দেখ তিনি তোমাকে তার যিকিরে মশগুল রেখেছেন, তাহলে জেনে রেখ, তিনি তোমাকে স্মরণ করতে চান।
- যদি দেখ তিনি তোমাকে কুরআন দ্বারা মশগুল রেখেছেন, তাহলে জেনে রেখ, তিনি তোমার সাথে কথা বলতে চান।
-যদি দেখ, তিনি তোমাকে ইবাদাত/আনুগত্যে ব্যস্ত রেখেছেন, তাহলে জেনে রেখ, তিনি তেমাকে তার সান্নিধ্যে টেনে নিয়েছেন।
- যদি দেখ, তিনি তোমাকে দুনিয়া দিয়ে ব্যস্ত করে দিয়েছেন, তাহলে জেনে নাও, তিনি তোমাকে দূরে ঠেলে দিয়েছেন।
-যদি দেখ, তিনি তোমাকে লোকজনের সাথে মশগুল বানিয়ে দিয়েছেন, তাহলে জেনে নাও, তিনি তোমাকে অপমানিত করেছেন।
- যদি দেখ, তিনি তোমাকে দুআর দ্বারা ব্যস্ত রেখেছেন, তাহলে জেনে নাও, তিনি তোমাকে কিছু দিতে চান।
অতএব, সবসময় নিজের অবস্থা দেখ। তুমি কোন কাজে মশগুল? আল্লাহ তোমাকে যে কাজে ব্যস্ত রেখেছেন, সেটাই তোমার অবস্থান তাঁর কাছে।
🎬মূল: ড. রাতিব আন-নাবলুসি।
📝অনুবাদ: ড.বি. মফিজুর রহমান আল-আযহারী।