Monday, March 30, 2026

রাগের বশে “বা’ল” শব্দটা বলে ফেলি, হিসেব কষিনা পাপ বা পূণ‍্যের!!

 আজকাল আমরা অনেকেই হালকাভাবে, কখনো মজা করে আবার কখনো রাগের বশে “বা’ল” শব্দটা বলে ফেলি।কিন্তু একবারও কি মনে প্রশ্ন জাগে—এই শব্দটার আসল পরিচয় কী?

তবে শুনুন!
বা'ল ছিল একটি বিশালাকার মূর্তি, যা বিশুদ্ধ সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। এটি প্রায় ২০ কিউবিট (প্রায় ১০-১৫ মিটার) উঁচু ছিল এবং মূর্তিটির চারটি মুখ ছিল।
প্রাচীনকালে সিরিয়া এবং আরবের কিছু অংশে বা'ল মূর্তিটি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে পূজা করা হতো। ফিনিশীয়, কেনানীয়, মোয়াবীয় এবং মিদিয়ানীয় উপজাতিদের মধ্যে এই মূর্তির পূজা খুব প্রচলিত ছিল। ইসলামের পূর্বে আরবের হুবল (Hubal) মূর্তিও বা'ল এর একটি নামান্তর বলে ধারণা করা হয়।
সেমিটিক ও হিব্রু ভাষায় বা'ল শব্দের অর্থ হলো প্রভু, মালিক বা প্রতিপালক। পরবর্তীতে এটি মূর্তির একটি বিশেষ নাম হিসেবে পরিচিতি পায়।
বা'ল এর সম্মানে বিশাল উৎসব আয়োজন করা হতো। ৪শ জন পুরোহিত এই মূর্তির সেবায় নিযুক্ত ছিল। তারা এই বা'ল-এর সন্তুষ্টির জন্য বড় বড় উৎসব করতো, ধূপ জ্বালাতো, পশু কোরবানি দিতো। ইতিহাসে এমন কথাও পাওয়া যায়, কিছু ক্ষেত্রে মানুষও কোরবানি দেওয়া হতো—যা ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর ও বিভ্রান্তিকর বিশ্বাসের ফল।
হযরত ইলিয়াস (আঃ) তাঁর জাতিকে সতর্ক করেছিলেন, যখন তারা আল্লাহকে ছেড়ে বা'ল এর পূজায় লিপ্ত হয়েছিল। তিনি তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানান। কিন্তু তারা অমান্য করলে তাদের ওপর শাস্তি নেমে আসে। হযরত ইলিয়াস (আঃ) সিরিয়ার বালবেক (Baalbek) শহরে এই মূর্তিপূজা বন্ধ করার জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। সেখানকার লোকেরা আল্লাহকে ছেড়ে বা'ল এর পূজা করতো।
বা'ল পূজা করার কারণে আল্লাহ তায়ালা সেই জাতির ওপর তিন বছরের দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টির শাস্তি নাজিল করেছিলেন।
আমরা যে শব্দগুলো সহজে ব্যবহার করি, সেগুলোর পেছনে কী ইতিহাস আছে—তা কি কখনো ভেবে দেখি?
হে আল্লাহ, আমরা অজান্তে যে ভুলগুলো করে ফেলি—আপনি সেগুলো ক্ষমা করে দিন।আমাদের জিহ্বা ও অন্তরকে পবিত্র রাখুন, যাতে আমরা আর এমন ভুল না করি।সত্য বুঝে তা মেনে চলার তৌফিক দিন, এবং শিরক থেকে হেফাজত করুন।আমরা প্রতিজ্ঞা করছি—জেনে-বুঝে আর এমন শব্দব্যবহার করবো না।আপনি আমাদেরকে সঠিক পথে রাখুন। আমীন।

No comments:

Post a Comment