Monday, November 11, 2024

সালাম দেয়া কি সুন্নত নাকি ওয়াজিব?

 আস-সালামু আলাইকুম অর্থ আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আরবি সালাম শব্দের অর্থ শান্তি ও দোয়া, কল্যাণ ইত্যাদি। ইসলামে সালামের গুরুত্ব অনেক। সালাম দিয়ে ইসলামে অভিবাদন জানানো হয়। পাশাপাশি এটি একটি দোয়াও। এর মাধ্যমে মুসলিম পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তৈরি হয়।

অনেকে জানতে চান-- সালাম দেয়া কি সুন্নত নাকি ওয়াজিব?
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, সালাম দেয়া সুন্নাত এ কথা হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে। আর সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে মহান আল্লাহর নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে। বলা বাহুল্য সালাম না দিলে সুন্নাত তরক হবে। কিন্তু সালামের উত্তর না দিলে ওয়াজেব তরক তথা তার জন্য কাবিরা গুনাহ হবে।
অবশ্য একটি দল যদি অন্য দলকে সালাম দেয়, তাহলে তাদের মধ্যে একটি লোক সালাম দিলেই যথেষ্ট। অনুরূপ দলের মধ্যে যদি একটি লোক তার উত্তর দেয়, তাহলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। (আবু দাউদ ৫২১০) অবশ্য প্রত্যেকের উত্তর দেয়াটাই উত্তম।
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, সুতরাং তোমরা যখন গৃহে প্রবেশ করবে, তখন তোমরা তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম করবে অভিবাদন স্বরূপ যা আল্লাহর নিকট হতে কল্যাণময় ও পবিত্র। (সুরা নুর-২৪:৬১)
সালামের জবাবে সালাম প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন,
رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا অর্থ: আর যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয়, তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন করবে অথবা অনুরূপই করবে। (সুরা নিসা: ৮৬)
মহান আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের ৬টি হক রয়েছে। জিজ্ঞাসা করা হল, তা কী কী হে আল্লাহর রসুল? তিনি বল্লেন,
১. কারও সঙ্গে দেখা হলে সালাম দেবে;
২. আমন্ত্রণ করলে তা কবুল করবে;
৩. পরামর্শ চাইলে সৎ পরামর্শ দেবে;
৪. হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ পড়লে তার জবাব দেবে (অর্থাৎ, ইয়ারহামুকাল্লাহ বলবে);
৫. পীড়িত হলে তার কাছে গিয়ে খবরাখবর নেবে;
৬. ইন্তেকাল করলে তার জানাজায় অংশগ্রহণ করবে।
মুসলিম, হাদিস: ২,১৬২

No comments:

Post a Comment