Sunday, July 26, 2026

জীবনের হিসেব নিকেশ এক সাথে হলো লীন

 নারীর স্তন দেখতে ভালো লাগে? আমারো লাগতো, কিন্তু একদিন .......

ছেলেবেলায়, আমি ভাবতাম—নারীর সৌন্দর্যের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ নাকি তার বুক।
পুরুষ হয়ে জন্মেছিলাম, কিন্তু মানুষ হতে শিখেছি এক মায়ের শুকনো বুকের দিকে তাকিয়ে...
(লেখাটি একজন পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। দেখুন তো আপনি এর সাথে নিজেকে মিলাতে পারেন কিনা)
সত্যিটা স্বীকার করতে আজ আর কোনো লজ্জা নেই—
বয়স যখন কম ছিল, আর দশটা ছেলের মতো আমার চোখও পাপমুক্ত ছিল না। নারীর সৌন্দর্যের কথা ভাবলেই চোখ আটকে যেত তার শরীরের ভাঁজে, বিশেষ করে বুকের দিকে।
বন্ধুমহলে আড্ডায় বলতাম, "নারীর আসল সৌন্দর্য নাকি ওখানেই!"
ছিঃ! আজ ভাবতেই ঘৃণায় শরীর শিউরে ওঠে। তখন বুঝতাম না, মাংসপিণ্ডের ওই আকার বা আকৃতির নিচে কী বিশাল এক মহাসমুদ্র লুকিয়ে থাকে। আমার দৃষ্টি তখন চামড়া ভেদ করে আত্মার নাগাল পেত না।
কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হয়তো চেয়েছিলেন আমার এই "পুরুষত্ব"র অহংকার ভেঙে চুরমার করে দিতে। তাই আমাকে মুখোমুখি করেছিলেন এমন এক দৃশ্যের—যা দেখার পর আমি আর আগের আমি থাকিনি।
সময়টা চৈত্র মাসের কাঠফাটা দুপুর। গ্রামবাংলার আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। মাটি ফেটে চৌচির। ধুলোবালি ওড়া এক মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। তৃষ্ণায় আমার নিজেরই গলা শুকিয়ে কাঠ।
হঠাৎ পথের ধারে এক জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরের দিকে চোখ গেল। চালের খড় উবে গেছে, বেড়া নড়বড় করছে। সেই ঘরের দাওয়ায় বসে ছিলেন এক মা।
বয়স কত হবে? পঁচিশ? ছাব্বিশ? কিন্তু অভাব আর দারিদ্র্য তার যৌবন শুষে নিয়ে মুখে এঁকে দিয়েছে পঞ্চাশ বছরের বার্ধক্য। গায়ের ব্লাউজটা শতছিন্ন, শাড়ির আঁচলটা খসে পড়েছে—কিন্তু সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।
কারণ, তার কোলে শুয়ে আছে এক হাড়জিরজিরে শিশু।
আমি থমকে দাঁড়ালাম। দৃশ্যটা আমাকে নড়তে দিল না।
বাচ্চাটা কাঁদছে না। কান্নার শক্তিও হয়তো তার নেই। সে শুধু প্রাণপণ শক্তিতে মায়ের বুকটা কামড়ে ধরে চুষছে।
কিন্তু হায়! সেই বুকে কি এক ফোঁটা দুধ আছে?
মায়ের শরীর নিজেই তো এক কঙ্কাল। বুকের হাড়গুলো গোনা যাচ্ছে। চামড়ার নিচে শুধুই হাহাকার।
তবুও অবুঝ শিশুটি চুষেই যাচ্ছে... *চোঁক... চোঁক...*
এক অদ্ভুত করুণ শব্দ। যেন শুকনো নদী থেকে শেষ বিন্দু জলটুকু নিংড়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা।
আমি স্পষ্ট দেখছিলাম—দুধ নয়, শিশুটি চুষছে মায়ের বুকের রক্ত, মায়ের কলিজার রস।
মায়ের চোখ দুটো একদম স্থির, পাথরের মতো। কিন্তু সেই পাথর চুইয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে।
ফোটা ফোটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে বাচ্চাটার কপালে, গালে, ঠোঁটে।
বাচ্চাটা হয়তো সেই নোনা জলই চেটে খাচ্ছে।
হয়তো ভাবছে, এটাই দুধ। এটাই মায়ের ভালোবাসা।
আমার বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে গেল। মনে হলো কেউ যেন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আমার এতদিনের সব নোংরা চিন্তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।
মায়ের ওই নীরব চাহনি যেন আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করে বলছিল—
"ওরে খোদা! আমার বুকের মাংস গলে রক্ত দে, তবুও আমার বাচ্চার পেটে দু’ফোটা আহার দে... আমি যে মা! আমি যে আর সহ্য করতে পারছি না!"
আমি সেদিন পালিয়ে এসেছিলাম। হ্যাঁ, আমি পালিয়েছিলাম কারণ সেই দৃশ্য সহ্য করার ক্ষমতা আমার ছিল না।
কিন্তু সেই রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। কানে শুধু বাজছিল সেই চোঁক চোঁক শব্দ আর চোখে ভাসছিল মায়ের সেই শুকনো বুক।
সেদিন বুঝেছিলাম, নারীর বুক কোনো ভোগের বস্তু নয়।
এটি কোনো কামনার উদ্যান নয়—এটি এক যুদ্ধক্ষেত্র।
যেখানে একজন নারী নিজের শরীরের সবটুকু নির্যাস দিয়ে তিলে তিলে বড় করে তোলে আগামীর পৃথিবী।
যেখানে ভালোবাসা মানে শুধু দেওয়া, বিনিময়ে কিছুই না চাওয়া।
আজ আমি বাবা হয়েছি।
যখন দেখি আমার সন্তান তার মায়ের বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমায়, যখন দেখি ক্ষুধা পেলেই সে হামাগুড়ি দিয়ে মায়ের বুকের কাছে আশ্রয় খোঁজে—তখন আমার চোখে জল আসে।
মনে হয়, এই বুকের নামই "নিরাপত্তা"। এই বুকের নামই "পৃথিবীর শেষ আশ্রয়স্থল"।
হে পুরুষ!
আজ তোমাকে একটা অনুরোধ করি।
রাস্তায় ঘাটে কোনো নারীর দিকে তাকানোর আগে, তার শরীরের ভাঁজ খোঁজার আগে—একবার নিজের মায়ের কথা ভেবো।
মনে রেখো, তুমিও একদিন ওই বুকের রস খেয়েই মানুষ হয়েছ। ওই বুকটা শুধু মাংসের দলা নয়, ওটা তোমার প্রথম জান্নাত।
নারীর বুক দেখে উত্তেজনা নয়, বরং শ্রদ্ধায় মাথা নত করতে শেখো।
কারণ, কোনো কোনো নারী তার শুকনো বুক দিয়েও সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার যুদ্ধ করে যায়। তাদের শরীরের প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে থাকে একেকটি ত্যাগের মহাকাব্য।
নারীর সৌন্দর্য তার কামনাসিক্ত শরীরে নয়,
নারীর সৌন্দর্য তার মমতায়, তার ত্যাগে, তার আঁচলের মায়ায়।
যেদিন এটা বুঝবে, সেদিন দেখবে—পৃথিবীর সব নারীকেই মায়ের মতো পবিত্র মনে হচ্ছে।
সেই অচেনা মায়ের শুকনো বুক আমাকে মানুষ বানিয়েছে।
দোয়া করি, পৃথিবীর কোনো মায়ের বুক যেন আর খালি না থাকে। সব শিশু যেন দুধের স্বাদ পায়, চোখের জলের স্বাদ নয়।
সূত্র: সংগৃহীত

Communication

 Communication is good but the line of Communication should be short and meaningful so that others can understand and effectively and efficiently follow to produce the desired results.

Talking all the time doesn't make useful sense. It only detracts and derails it's effectiveness of communication.
Precisely, it should be acted upon wholly in good faith and spirit. Many a times, more problems arise out of miscommunication. So, speak little and listen more attentively.

Red Flags in your own behaviour

 ‎The problem is dependence on instant stimulation.

‎Anything meaningful requires sustained discomfort: fitness, business, relationships, mastery, healing.
‎7. You Tolerate Disrespect
‎You laugh off behavior that hurts you.
‎You accept less than you deserve.
‎You stay quiet to “keep the peace.”
‎Every tolerated disrespect teaches people how to treat you.
‎Boundaries are not aggression.
‎They are self-respect in action.
‎8. You Overpromise and Underdeliver
‎You say yes too quickly.
‎You commit emotionally in the moment — then disappear when consistency is required.
‎Over time, this damages:
‎trust
‎reputation
‎self-confidence
‎Because every broken promise to others becomes evidence against yourself too.
‎Small reliable actions will always outperform dramatic intentions.
‎9. You Fear Being Alone
‎You stay busy to avoid yourself.
‎Constant noise, constant texting, constant company.
‎But solitude reveals things distraction hides:
‎insecurity
‎unresolved emotions
‎identity confusion
‎If you cannot sit peacefully with yourself, no relationship will fully satisfy you.
‎Learning to enjoy your own company is emotional maturity.
‎10. You Compare Downward
‎You feel better only when someone else is doing worse.
‎That is not confidence.
‎That is insecurity disguised as superiority.
‎Healthy comparison inspires growth.
‎Toxic comparison feeds ego.
‎The goal is not to be better than people.
‎The goal is to become better than your previous self.
Ref: Psychopath level

বই পড়ি আবার ভুলে যাই, লাভটা কি?

 A philosopher said:

“I have read many books in my life, but I no longer remember most of the information I got from them. So what is the point of reading so many books?” This was exactly the question a student asked his teacher one day.
The teacher remained silent about this; he gave no answer on the first day.
After a few days, the student and the teacher met one day by the river. The teacher showed the student a pot with a hole in it and said, “Go, take the pot, go to the river, and bring me a pot of water.” The pot then fell to the ground in the dirt.
The pupil felt a bit confused; it was an absurd request. It was impossible to fetch water with a pot with holes, but the teacher's request could not be ignored, so he picked up the pot from the ground and ran to the river to fetch water.
He filled the pot with water, but could not get very far; after a few steps, the water had run out of all the holes.
He tried it a few more times, but he failed and became frustrated.
After a few more of these attempts, he got tired of it.
He went back to the teacher and said—“I have failed, I cannot bring water to You with this vessel, it is not possible for me, forgive me.”
The teacher smiled, turned to the student, and said: “No, you have not failed. Look at the pot; it is clean now, it looks brand new. Every time the water runs through the holes, the dirt in the pot is removed.”
The same thing happens to you when you read a book; your brain is like a barrel with holes, and the information in the book is like the water. So when you read a book, you cannot remember everything.
But that is not so important. The ideas, knowledge, emotions, feelings, realizations, and truths you find there will enlighten your mind. Every time you read a book, you undergo a transformation, become a little reborn, and thus a purer person.
That is the most important effect of reading books.”
Happy reading....
Good Morning to All Friends.

FACTS OF LIFE

 1. If you speak too much, you will lie

2. If you think too much, you will be depressed.
3. If you cry too much, you will lose sight.
4. If you love too much, you will be lost.
5. If you care too much, you will be taken for granted.
6. If you play too much, you will not be taken seriously often.
7. If you trust too much, you will be betrayed.
8. If you work too much, you will die of stress.
9. If you eat too much, you will be obessed
10. If you sleep too much, you will be idle.
11. If you spend too much, you will have no future.
12. If you wear make up too much, you will lose your beauty.
13. If you look too much, you will lose your focus.
14. If you pursue life too much, you will lose everything.
And lastly...
15. If you expect too much, you will be disappointed. Don't be too much because that too much can hurt you so much.

তোমরা কখনোই একা নও

 আরবি: وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَمَا كُنْتُمْ

উচ্চারণ: ওয়া হুওয়া মা‘আকুম আইনামা কুনতুম।
অর্থ: "আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি (আল্লাহ) তোমাদের সাথেই আছেন।" (সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ৪)
এই আয়াতটি আল্লাহর সর্বব্যাপী জ্ঞান এবং তাঁর অসীম কুদরতের একটি চমৎকার প্রমাণ।
তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমরা কখনই একা নও। আল্লাহ তোমাদের সাথে থাকেন। তিনি তোমাদের দেখছেন। তিনি তোমাদের রক্ষা করছেন। তিনি তোমাদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করছেন। তিনি তোমাদের পরীক্ষা করছেন। প্রতিনিয়ত।
আমি কখনই একা নই। আমি আমার রুমের ভেতরে একা নই। আমি ক্যাম্পাসে একা নই। আমি আমার গাড়ির ভেতরেও একাকী নই। আমরা কখনই নি:সঙ্গ নই।
আল্লাহর শপথ করে বলছি। যদি আমরা শুধু এই একটি আয়াত অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতে পারতাম...এটি এমনকি পূর্ণাঙ্গ একটি আয়াতও নয়। এক আয়াতের অংশবিশেষ মাত্র। "ওয়া হুয়া মা'আকুম আইনামা কুনতুম।" তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন। যদি এটা হৃদয়ঙ্গম করতে পারতাম তাহলে যে ওয়েব সাইটগুলো আমি ভিজিট করি তাতে পরিবর্তন আসতো, যে নাম্বারগুলোতে আমি কল করি তাতেও পরিবর্তন আসতো। সবকিছুতে পরিবর্তন আসতো।
বস রুমে থাকলে কর্মচারীরা কি সাবধানতামূলক আচরণ করে? তারা সতর্ক হয়ে যায়, তাই না? পুলিশের গাড়ি দেখলে কি মানুষ সাবধানে গাড়ি চালায়? তারা সাবধান হয়ে যায়। অটোমেটিক তাক্বওয়া চলে আসে। উচ্চতর কোনো ক্ষমতার উপস্থিতি বুঝতে পারা মাত্র আপনি আচরণ পরিবর্তন করে ফেলেন।
যদি আমি "ওয়া হুয়া মা'আকুম আইনামা কুনতুম" অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করি, অবশ্যম্ভাবীরূপে আমার আচরণে একটি পরিবর্তন এসে পড়বে। কিন্তু, যদি এটা না আসে তাহলে সম্ভবত আমি এখনো উপলব্ধি করতে পারি নি এখানে কী বলা হচ্ছে। সম্ভবত ব্যাপারটা শুধু আমার মাথাতেই আছে, এখনো অন্তরে প্রবেশ করেনি।
আয়াতে 'মাআ'র ব্যবহারটাও অসাধারণ সুন্দর। অন্য শব্দ ব্যবহার করেও সাথে থাকার অর্থ প্রকাশ করা যেত। কিন্তু 'মাআ' ব্যবহার করা হয় কেউ যখন আপনাকে সাহায্য করার জন্য এবং সমর্থন দেওয়ার জন্যে আপনার সঙ্গে থাকেন।
মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সময় রাসূলুল্লাহ (স) সাওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। গুহার মুখের কাছে শত্রুরা এসে পড়লে আবু বকর (রা) উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) কী বলে আবু বকরকে স্বান্তনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন- "লা তাহজান, ইন্নাল্লাহ মাআনা।" চিন্তা করো না আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।
আল্লাহ তো সবার সাথেই আছেন। কিন্তু "ইন্নাল্লাহ মাআনা" বলার মাধমে কিসের প্রতি নির্দেশ করা হচ্ছে? আল্লাহ আমাদের সমর্থনে আছেন। আল্লাহ আমাদের সাহায্যে আছেন। এখানে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করছেন।
তিনি সর্বদা আমাদের যত্ন নিচ্ছেন। وَ هُوَ مَعَکُمۡ اَیۡنَ مَا کُنۡتُمۡ - "আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন।"
সূত্র: উস্তাদ নোমান আলী খান

মুমিনের জীবনের প্রতিটি কাজ কেন ইবাদত!

 আমরা অনেকেই ইবাদত বলতে শুধু নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত কিংবা কিছু নির্দিষ্ট ধর্মীয় আমলকেই বুঝি। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে ইবাদতের পরিধি এর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।

একজন মুমিনের পুরো জীবন—তার কথা, চিন্তা, অনুভূতি, কাজ, পরিবার, উপার্জন, এমনকি বিশ্রামও—সঠিক নিয়ত ও আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে ইবাদতে পরিণত হতে পারে।
ইসলাম মানুষের জীবনকে এভাবে ভাগ করেনি যে এক ভাগ দুনিয়া আর আরেক ভাগে ইবাদত। ইসলাম শিখিয়েছে, মানুষের পুরো জীবনই ইবাদত বা আল্লাহর জন্য নিবেদিত হতে পারে এবং সেটাই হওয়া উচিত।
ইবাদতের স্বরূপ ও মূল ভিত্তি
আরবি ‘আল-ইবাদাহ’ শব্দের অর্থ হলো দাসত্ব, আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশ করা। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ইবাদতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, “ইবাদত হলো এমন সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজের সমষ্টি, যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।” (ইবনে তাইমিয়া, আল-উবুদিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৪৩, আল–মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত, ১৪০৫ হিজরি)
এই সংজ্ঞাটি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যকে উন্মোচন করে। ইবাদত শুধু কিছু যান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়; বরং এমন একটি সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের অন্তর, মুখ, শরীর, সম্পদ এবং আচরণ—সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে পরিচালিত হয়।
আল্লাহর দরবারে ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত দুটি—চরম বিনয় এবং নিঃশর্ত আনুগত্য। বিনয় মানে মনের সব অহংকার দূর করে আল্লাহর সামনে নিজেকে পুরোপুরি ছোট ও অসহায় মনে করা। আর আনুগত্য হলো নিজের খেয়ালখুশিমতো না চলে, আল্লাহর প্রতিটি আদেশ-নিষেধ নিখুঁতভাবে মেনে চলা।
সহজ কথায়—অহংকার ও অবাধ্যতা পরিহার করে, নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে আল্লাহর কাছে পুরোপুরি সমর্পণ করার নামই হলো প্রকৃত ইবাদত। কোনো কথা বা কাজ আল্লাহ পছন্দ করেন, তা জানার একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো পবিত্র কোরআন এবং নবীজির বিশুদ্ধ সুন্নাহ।
ওহির প্রমাণ ছাড়া কোনো মনগড়া আমলকে শরিয়তে ইবাদত বলা যায় না।
ইবাদতের নানামুখী রূপ
ইসলামে ইবাদতকে তার প্রকাশ ও মাধ্যমের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি ভাগে বিন্যস্ত করা যায়:
১. অন্তরের ইবাদত: যা কেবল মনের গভীরের বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন—ইমান, ইখলাস (একনিষ্ঠতা), আল্লাহর রহমতের আশা, তাঁর শাস্তির ভয়, ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন এবং আল্লাহর জন্য ভালোবাসা।
২. মৌখিক ইবাদত: যে ইবাদত করতে অন্তর ও জিহ্বা উভয়ের প্রয়োজন হয়। যেমন—কালিমা শাহাদাত পাঠ করা, দোয়া, জিকির-তাসবিহ, কোরআন তিলাওয়াত, আজান-ইকামত এবং ভালো কথার মাধ্যমে মানুষকে সত্যের পথে দাওয়াত দেওয়া।
৩. শারীরিক ইবাদত: যা সম্পন্ন করতে অন্তরের একাগ্রতার পাশাপাশি দৈহিক শ্রমের প্রয়োজন হয়। যেমন—নামাজ পড়া (রুকু, সিজদা, কিয়াম), কাবা শরিফ তাওয়াফ করা এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সায়ি করা।
৪. আর্থিক ইবাদত: এর জন্য অন্তরের সদিচ্ছার সঙ্গে সম্পদের প্রয়োজন পড়ে। যেমন—জাকাত, ফিতরা, কোরবানি ও দান-সদকা।
৫. সমন্বিত ইবাদত: যাতে শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক একাগ্রতা এবং আর্থিক সামর্থ্য—সবকিছুরই প্রয়োজন হয়। যেমন—পবিত্র হজ পালন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জিহাদ করা।
হারাম থেকে বেঁচে থাকা একটি ইবাদত
আমরা সাধারণত ইবাদত বলতে কিছু ‘করা’কে বুঝি। কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায়, অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু ‘না করাটাও’ অনেক বড় ইবাদত হতে পারে।
মানুষ মনে করে শুধু বেশি বেশি নফল আমল করলেই বড় ইবাদতকারী হওয়া যায়। অথচ আসল বিষয় হলো, আল্লাহর ভয়ে হারাম কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখাও অনেক বড় একটি ইবাদত।
যখন একজন মানুষ গোপনে হারাম কাজ করার পূর্ণ সুযোগ পায়, অথচ শুধুমাত্র আল্লাহর ভয়ে নিজেকে সে কাজ থেকে বিরত রাখে—সেটি তখন আল্লাহর কাছে মূল্যবান আমল হয়ে যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, “তুমি হারাম বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক ইবাদতকারী হবে।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩০৫)
সহিহ হাদিসে এসেছে, কেয়ামতের দিন সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়া লাভ করবে। তাদের একজন সেই ব্যক্তি, যাকে কোনো সুন্দরী ও সম্ভ্রান্ত নারী অবৈধ সম্পর্কের আহ্বান জানিয়েছিল, কিন্তু সে দৃঢ়ভাবে বলেছিল, “আমি আল্লাহকে ভয় করি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৬০)
আবার বনি ইসরাইলের সেই তিন ব্যক্তির ঘটনাতেও দেখা যায়, একজন ব্যক্তি সব ধরনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আল্লাহর ভয়ে হারাম সম্পর্ক থেকে ফিরে এসেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই আন্তরিক আমলের অসিলাতেই আল্লাহ তাঁদের পাহাড়ের গুহায় আটকে পড়া অবস্থা থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি দান করেছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২১৫)
আজকের যুগে যেখানে বিভিন্ন ধরনের গুনাহ মানুষের হাতের মুঠোয়—মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিন বেয়ে মানুষের একদম ব্যক্তিগত সময়ে পৌঁছে গেছে, সেখানে এই হাদিসের শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। প্রকৃত তাকওয়া তখনই প্রকাশ পায়, যখন কেউ মানুষের চোখের আড়ালে থেকেও আল্লাহকে স্মরণ করে ও ভয় করে।
কজন মুমিনের পুরো জীবন—তার কথা, চিন্তা, অনুভূতি, কাজ, পরিবার, উপার্জন, এমনকি বিশ্রামও—সঠিক নিয়ত ও আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে ইবাদতে পরিণত হতে পারে।
ইসলাম মানুষের জীবনকে এভাবে ভাগ করেনি যে এক ভাগ দুনিয়া আর আরেক ভাগে ইবাদত। ইসলাম শিখিয়েছে, মানুষের পুরো জীবনই ইবাদত বা আল্লাহর জন্য নিবেদিত হতে পারে এবং সেটাই হওয়া উচিত।
ইবাদতের স্বরূপ ও মূল ভিত্তি
আরবি ‘আল-ইবাদাহ’ শব্দের অর্থ হলো দাসত্ব, আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশ করা। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ইবাদতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, “ইবাদত হলো এমন সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ওকাজের সমষ্টি, যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।” (ইবনে তাইমিয়া, আল-উবুদিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৪৩, আল–মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত, ১৪০৫ হিজরি)
এই সংজ্ঞাটি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যকে উন্মোচন করে। ইবাদত শুধু কিছু যান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়; বরং এমন একটি সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের অন্তর, মুখ, শরীর, সম্পদ এবং আচরণ—সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে পরিচালিত হয়।
আল্লাহর দরবারে ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত দুটি—চরম বিনয় এবং নিঃশর্ত আনুগত্য। বিনয় মানে মনের সব অহংকার দূর করে আল্লাহর সামনে নিজেকে পুরোপুরি ছোট ও অসহায় মনে করা। আর আনুগত্য হলো নিজের খেয়ালখুশিমতো না চলে, আল্লাহর প্রতিটি আদেশ-নিষেধ নিখুঁতভাবে মেনে চলা।
সহজ কথায়—অহংকার ও অবাধ্যতা পরিহার করে, নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে আল্লাহর কাছে পুরোপুরি সমর্পণ করার নামই হলো প্রকৃত ইবাদত। কোনো কথা বা কাজ আল্লাহ পছন্দ করেন, তা জানার একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো পবিত্র কোরআন এবং নবীজির বিশুদ্ধ সুন্নাহ।
সাধারণ কাজের ইবাদতে রূপান্তর
ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো একজন মুমিন তার দৈনন্দিন বৈধ ও প্রাত্যহিক কাজগুলোকেও সৎ নিয়তের মাধ্যমে ইবাদতে পরিণত করতে পারেন। ঘুমানো, খাওয়া, হালাল উপার্জন, ব্যবসা, বিয়ে, সন্তান লালন-পালন, লেখাপড়া, রান্নাবান্না কিংবা কৃষিকাজ—সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত।
এমনকি প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও উত্তম নিয়তের মাধ্যমে ব্যবহার করা ইবাদত হয়ে যেতে পারে; যদি আমাদের উদ্দেশ্য হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, নিজেকে হারাম থেকে রক্ষা করা এবং ভালো কাজে অন্যকে সাহায্য করা।
হালাল উপার্জনের জন্য পরিশ্রম করাও ইসলামের দৃষ্টিতে একটি বড় ইবাদত। এক ব্যক্তি নবীজির সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে সাহাবিরা তার কর্মশক্তি দেখে আফসোস করে বললেন, “সে যদি আল্লাহর পথে (জিহাদে) থাকত!”
তখন রাসুল (সা.) বললেন, “যদি সে তার ছোট সন্তানদের ভরণ-পোষণের জন্য বের হয়ে থাকে, তবে সে আল্লাহর পথেই আছে। যদি সে নিজেকে মানুষের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য উপার্জন করে, তবুও সে আল্লাহর পথেই আছে। আর যদি সে অহংকার ও লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে বের হয়ে থাকে, তবে সে শয়তানের পথে রয়েছে।” (তাবারানি, আল-মু’জামুল কাবির, ১৯/১২৯)
ইবাদতের শুধু মসজিদে নয়
ইসলামে ইবাদত শুধু মসজিদের চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না। একজন মুমিনের জন্য তার রান্নাঘর, কর্মক্ষেত্র, বাজার, বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংসার পরিচালনা—সবই ইবাদতের স্থান হতে পারে।
বাজার থেকে অফিস পর্যন্ত, কৃষিক্ষেত্র থেকে গবেষণাগার পর্যন্ত—পৃথিবীর প্রতিটি বৈধ ক্ষেত্রই একজন মুমিনের জন্য ইবাদতের ময়দান, যদি সে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সামনে রেখে জীবন পরিচালনা করে। তেমনি একজন নারীর জন্যও মা-বাবা, স্বামী-সন্তান ও পরিবারের মানুষের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করা স্রেফ নিয়তের কারণে ইবাদতে রূপান্তরিত হতে পারে।
একজন মুমিন যখন অন্তরে ইমান, ইখলাস আর আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত নিয়ে চলে, তখন তার জীবনের প্রতিটি সাধারণ কাজও অসাধারণ হয়ে ওঠে। তার পুরো জীবনটাই হয়ে ওঠে আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অবিরাম ও পবিত্র যাত্রা।
সূত্র: ইসমত আরা : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক
writerismat@gmail.com

Human Body "Obscura textura, obscuriores morbi, et functiones obscurissime"

 I read above sentence when I was student of Zoology Honors Class(1st year) in the year 1973 in Rajshahi University Bangladesh

কথাগুলো ডাচ অ্যানাটমিস্ট নিকোলাস টুলপ (Nicolaes Tulp)-এর বিখ্যাত অ্যানাটমি বই "অবজারভেশনস মেডিসা" (Observationes Medicae) বা সপ্তদশ শতকের কোনো চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকীর বর্ণনা।
অর্থ (অস্পষ্ট গঠনতন্ত্র, আরও অস্পষ্ট রোগ এবং সবচেয়ে দুর্বোধ্য কার্যপ্রণালী)
Analyses:
textura: মানবদেহের গঠন বা টিস্যু (যাকে খালি চোখে বোঝা যায় না) অনেক জটিল ও অস্পষ্ট।
obscuriores morbi: এর ফলে সৃষ্ট রোগগুলো আরও বেশি জটিল এবং রহস্যাবৃত।
et functiones obscurissime: আর এই রোগগুলোর ক্ষেত্রে মানবদেহের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী বা মেকানিজম মানুষের বোধগম্যতার একদম বাইরে চলে যায়।
ঐতিহাসিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের শুরুতে যখন ব্যবচ্ছেদ বা মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কার হয়নি, তখন চিকিৎসকরা মানুষের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ, কোষ ও রোগের উৎস খুঁজতে গিয়ে এই দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক সত্যের সম্মুখীন হতেন।
Source: Rumination of memory

বিশেষ দরকারী কথাগুলো

 


আচ্ছা বুরা সাবিত কারনা, দুনিয়াকি পুরানি আদাত হ্যায়!

 কথা একদম সত্যি।

কাউকে দোষী বা খারাপ প্রমাণ করা এই পৃথিবীর খুব পুরোনো একটা অভ্যাস। মানুষ যুগ যুগ ধরে নিজের খামতি ঢাকতে বা নিজেকে সেরা দেখাতে অন্যের ওপর আঙুল তুলে আসছে।
মানুষ কেন এমন করে?
নিজেকে শ্রেষ্ঠ দেখানো: অন্যকে ছোট বা ভুল প্রমাণ করে অনেকেই নিজেদের মনে এক ধরণের তৃপ্তি পায়।
ঈর্ষা ও হিংসা: কেউ যখন অন্যের সাফল্য বা ভালো গুণগুলো সহ্য করতে পারে না, তখন সে তার খুঁত খুঁজতে শুরু করে।
নিজের ভুল আড়াল করা: নিজের খামতি বা অপরাধ ঢাকবার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো অন্যের দিকে আঙুল তোলা।
এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবেন?
গুরুত্ব না দেওয়া: লোকে কী বলল তা নিয়ে ভেবে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট করবেন না।
নিজের ওপর বিশ্বাস: আপনি নিজে কেমন মানুষ, সেটা আপনার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। তাই অন্যের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নেই।
কাজের মাধ্যমে জবাব: তর্ক করে শক্তি নষ্ট না করে, নিজের কাজ এবং সাফল্যের মাধ্যমে তাদের ভুল প্রমাণ করুন।