"তোমরা কি ভেবে দেখেছো, তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে?"
— (সূরা আল-ওয়াকিয়া, আয়াত ৫৮)
একটু চিন্তা করি :
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে মানুষকে তাদের সৃষ্টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে বলছেন। মানুষ যখন সন্তান জন্ম দেয়, তখন সে মনে করে, তার বীর্যপাতই সবকিছু। অনেকেই তো আবার সন্তান হওয়ানোকেই নিজের ক্রেডিটও দিতে চায়! কিন্তু আল্লাহ জিজ্ঞাসা করছেন:
> "তোমরা কি সত্যিই ভেবে দেখেছো যে, তোমাদের বীর্য—যা দিয়ে সন্তান জন্ম নেয়—এর পেছনে কার ক্ষমতা কাজ করছে?"
মানুষ কেবল মাধ্যম; মূল সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন আল্লাহ। তুমি বীর্যপাত করলে, কিন্তু তা থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু সৃষ্টি হওয়া, তার জীবন থাকা, আত্মা প্রদান, রূপ-রং, বুদ্ধি, স্বাস্থ্য — সবই আল্লাহর ইচ্ছা ও পরিকল্পনায়।
এরপরের আয়াতগুলিতে আরও বলা হয়:
> “তোমরা কি এটা সৃষ্টি করো, না আমি সৃষ্টি করি?”
— (সূরা আল-ওয়াকিয়া, আয়াত ৫৯)
আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, আমরা যেন অহংকারী না হই। সন্তান জন্ম নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াই এক বিস্ময়কর, নিখুঁত ব্যবস্থা — যা একমাত্র আল্লাহর কুদরতেই সম্ভব।
শিক্ষণীয় বিষয়:
১.
মানুষ যেন নিজের ক্ষমতায় গর্ব না করে, বরং স্রষ্টাকে চিনে নেয়।
২.
সন্তানের জন্ম একটি অলৌকিক ব্যাপার যদিও তা মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সহজ।
৩.
এই আয়াত মানুষকে আত্ম-পর্যালোচনার দিকে আহ্বান জানায়—আরো জানায় আমাদের সৃষ্টি কেমন দুর্বল ও নির্ভরশীল!
৪.
এই আয়াত থেকে তাওহিদের শিক্ষা মেলে—সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে।
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদের আত্মতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব এবং তাঁর অসীম কুদরতের প্রতি মনোযোগ দিতে আহ্বান করছেন।
উৎস:
আল-কুরআন, সূরা আল-ওয়াকিয়া (৫৬), আয়াত ৫৮-৫৯
No comments:
Post a Comment