Monday, September 2, 2019

Depth of some divine despair, tears arise

সে দিনটির কথা আমি কখনোই ভুলবো না, যেদিন কোর্টে বাবা মায়ের সেপারেশনের সময় মা'কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, "আপনি কাকে চান, ছেলেকে না মেয়েকে?"
মা তখন ছেলেকে চেয়েছিল, আমাকে চায়নি। বাবাও তখন আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কারণ তিনি আবার বিয়ে করে নতুন সংসার করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, অযথা আমাকে নিয়ে নতুন সংসারে বোঝা বাড়াতে চাননি।
কাঠের বেঞ্চে বসে যখন অঝোরে কাঁদছিলাম তখন বুকে আগলে ধরেছিলেন এক লেডি কনস্টেবল। আশ্রয় দিয়েছিলেন তার বাড়িতে। কিন্তু তার মাতাল স্বামীর লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল আমার উপর। শিশু বয়সে অত কিছু না বুঝলে ও কেমন যেন খারাপ লাগতো। রাতে যখন আন্টি বাসায় ফিরতেন, আমি তাকে সব বলে দিতাম। মহিলা দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। অতঃপর আমার নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি আমাকে একটা এতিমখানায় রেখে আসলেন। যাবার সময় আমাকে দু হাতে জড়িয়ে ধরে যেমন করে কাঁদলেন, আমার মাও আমাকে রেখে যাওয়ার সময় ওভাবে কাঁদেনি।
দিন যায়-মাস যায়, এতিমখানাতেই জীবন কাটতে থাকে আমার। খুব অসহায় লাগতো নিজেকে। বাবা মা বেঁচে থাকতে ও যে শিশুকে এতিমখানায় থাকতে হয় তার থেকে অসহায় বুঝি আর কেউ নেই!!
বছর দু'য়েক পরের কথা। এক নিঃসন্তান ডাক্তার দম্পতি আমাকে দত্তক নেন। জীবনটাই পাল্টে গেল আমার। হেসে খেলে রাজকীয় ভাবে বড় হতে লাগলাম আমি। আমার নতুন বাবা মা আমাকে তাঁদের মতই ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার একগুঁয়ে ইচ্ছে ছিল একটাই, আমি ল'ইয়ার হবো। আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আজ আমি একজন ডিভোর্স ল' ইয়ার। যারাই আমার কাছে তালাকের জন্য আসে, আগেই আমি বাচ্চার কাস্টোডির জন্য তাদের রাজি করাই। কারণ বাবা মা ছাড়া একটা শিশু যে কতটা অসহায়, তা আমি ছাড়া কেউ জানে না!!
চেম্বারে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলাম। হঠাত একটা নিউজে চোখ আটকে গেল। এক বৃদ্ধা মহিলাকে তার ছেলে আর বউ মিলে বস্তায় ভরে রেলস্টেশনে ফেলে রেখে গেছে। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। নিচে বৃদ্ধা মহিলার ছবি দেয়া। মুখটা খুব চেনা চেনা লাগছিল। কাছে এনে ভালো করে ছবিটা দেখলাম। বুকের মাঝে ধক করে উঠলো। এ তো সেই মহিলা যে আমাকে অনেক বছর আগে আদালতে ছেড়ে গিয়েছিল, আমার মা। নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে ছুটে গেলাম হাসপাতালে।
সেই মুখটা কিন্তু চেনার উপায় নেই। চামড়াটা কুঁচকে আছে, শরীরটা রোগে শোকে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে খুব মায়া লাগছে, ভেতরটা ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। আচ্ছা, সেদিন কি তার একটু ও কষ্ট লাগেনি, যেদিন তার ১০ বছরের শিশু কন্যাটি মা-মা করে পিছু পিছু কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াচ্ছিল?? হয়তো লাগেনি। নয়তো এভাবে ফেলে যেতে পারতো না।
একবার ভেবেছিলাম চলে যাবো। হঠাত দেখি তিনি ঘুম ভেঙে চোখ পিটপিট করে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। বুঝলাম চিনতে পারেন নি, চেনার কথা ও নয়!! আমি আমার পরিচয় দিলাম। কয়েক সেকেন্ড নিষ্পলক তাকিয়ে থেকে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। নিজের কৃতকর্মের জন্য বারবার ক্ষমা চাইতে থাকে। নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরি মাকে।
মাকে পাওয়ার পর বাবার জন্য ও মনটা উতলা হয়ে উঠে। মায়ের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বাবার অফিসে যোগাযোগ করি। জানতে পারি, কয়েক বছর আগেই রিটায়ার্ড করেছেন তিনি। বাসার ঠিকানায় গিয়ে দেখি উনি নেই। উনার দ্বিতীয় পক্ষের ছেলেমেয়েদের জিজ্ঞেস করে জানলাম, রিটায়ার্ড করার কিছু দিনের মধ্যেই তিনি প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়েন। অযথা একটা রুম দখল করে নোংরা করত, তাই বিরক্ত হয়ে ছেলেমেয়েরা তাকে একটা সরকারি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, অযথা ঘরে বোঝা বাড়িয়ে কি লাভ!!!
ওদের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বৃদ্ধাশ্রম গেলাম। চিনতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো, মনে হলো একটা জীবিত লাশ পড়ে আছে বিছানায়। পাশে বসে হাতটা ধরলাম, পরিচয় দিতেই মুখ ফিরিয়ে কাঁদতে লাগলেন।
বাবা মা এখন আমার সাথে একই বাড়িতে আছেন। একসময় তারা আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু আমি পারিনি ছাড়তে। হাজার হোক আমার বাবা মা তো।
জড়ায়ে মায়ের গলা শিশু কহে আসি,-
“মা, তোমারে কত ভালোবাসি!”
“কত ভালবাস ধন?” জননী শুধায়।
“এ-ত।” বলি দুই হাত প্রসারি’ দেখায়।
“তুমি মা আমারে ভালবাস কতখানি?”
মা বলেন “মাপ তার আমি নাহি জানি।”
“তবু কতখানি, বল।”
“যতখানি ধরে
তোমার মায়ের বুকে।”
“নহে তার পরে?”
“তার বাড়া ভালবাসা পারি না বাসিতে।”
“আমি পারি।” বলে শিশু হাসিতে হাসিতে!
কৃতজ্ঞতা: বন্ধুর পোষ্ট থেকে মোডিফাই করা।

5 People - Whom to Follow

A person who knows not,
And knows not that he knows not,
Is foolish…
Leave Him

A person who knows not,
And knows that he knows not.
Is simple… Teach him.
A person who knows not,
but believes that he knows
Is dangerous… Avoid him
A person who knows,
But does not know that he knows,
Is asleep… Awake him.
A person who knows,
And knows that he knows'
Is wise… Follow him
ডেইলীটেনমিনিটস.কম

সময়টাই এমন, এটা শুধুই অযুহাতঃ ইসলাম এটা মানেনা।

মানুষ সাধারণত নিজেদের অধঃপতনের জন্য যুগকে গালি দেয়। যে যুগের প্রভাবে মানুষ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ এমনটি করা উচিত নয়। এটি অবিশ্বাসীদের ধ্যান-ধারণা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর তারা বলে, দুনিয়ার জীবনই আমাদের একমাত্র জীবন। আমরা মরি ও বাঁচি এখানেই। আর (দাহার) কালই কেবল আমাদেরকে ধ্বংস করে। বস্তুত: এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। তারা শুধু ধারণাই করে।’ (সুরা: জাসিয়া, আয়াত: ২৪)
মূলত কাফির ও মুশরিকরা মহাকালের চক্রকেই সৃষ্টিজগত ও তার সমস্ত অবস্থার কারণ সাব্যস্ত করত এবং সব কিছুকে তারই কর্ম বলে অভিহিত করত। অথচ এগুলো সব প্রকৃতপক্ষে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কুদরত ও ইচ্ছায় সম্পন্ন হয়ে থাকে। পবিত্র কোরআনের উপরোক্ত আয়াতের ‘দাহার’ শব্দ দ্বারা মহাকালকে বোঝানো হয়েছে। তাই বিভিন্ন হাদিসে ‘দাহার’ তথা মহাকালকে মন্দ বলতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা কাফিররা যে শক্তিকে ‘দাহার’ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করে, প্রকৃতপক্ষে সেই কুদরত ও শক্তি আল্লাহ তাআলারই। তাই ‘দাহার’কে মন্দ বলার ফল প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, বনি আদম ‘দাহার’ তথা মহাকালকে গালি দেয়, অথচ আল্লাহ বলেন, আমিই প্রকৃতপক্ষে মহাকাল, আমিই রাত-দিনের পরিবর্তন ঘটাই। (বুখারি, হাদিস: ৫৭১৩)
আমরা সাধারণত সামান্য কিছুতেই সময়কে গালি দিয়ে বসি। এটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। যা হয়তো আমরা জানিই না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আমি বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেন, আদমসন্তান সময় ও কালকে গালিগালাজ করে, অথচ আমিই সময়, আমার হাতেই রাত্রি ও দিবস (এর পরিবর্তন সাধিত হয়)। (মুসলিম, হাদিস: ৫৭৫৫)
তাই আমাদের উচিত, আমাদের সামাজিক স্খলনগুলোকে যুগের প্রভাব বলে চালিয়ে না দিয়ে নিজেদের পাপের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে তওবা করা। মানুষের জীবনে সময়ের দুর্ভাগ্য বলতে কিছু নেই। তাই এ ধরনের উক্তি করে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, পবিত্র ও মহান আল্লাহ বলেন, আদমসন্তান আমাকে দুঃখ দেয়, সে বলে, ‘হায় সময়ের দুর্ভাগ্য! (আমার সময় মন্দ)! তোমাদের কেউ যেন ‘হায় সময়ের দুর্ভাগ্য’ না বলে। কারণ আমিই তো সময়, আর রাত্রি ও দিবস পরিবর্তিত করে থাকি; আমি যখন ইচ্ছা করি তখন তাদের দুটিকে সংকুচিত করে দিই। (মুসলিম, হাদিস: ৫৭৫৭)
মানুষের চারিত্রিক স্খলনেই সমাজে অশান্তি নেমে আসে। সময় কিংবা যুগের প্রভাবে নয়। তাই সমাজকে সুশৃঙ্খল ও শান্তিময় করতে আমাদের নিজেদের বদলাতে হবে, যুগ কিংবা সময়কে নয়। আল্লাহকে ভয় করতে হবে। কারণ মানুষের মাঝে যত দিন প্রকৃত আল্লাহভীতি আসবে না, তত দিন মানুষ অপরাধ থেকে ফিরে আসবে না। আর তা না হলে সমাজেও শান্তি ফিরবে না।
সময়ের প্রতিশোধ অত্যন্ত নির্মম। কারণ, আল্লাহই এর একক নিয়ন্ত্রক। সূরা আল ‘আসর এর প্রকৃ্ষ্ট প্রমাণ। তাই যারা সময়কে গালি দেয় তারা অত্যন্ত বোকা। সময় সবার জন্য একই ভাবে বরাদ্দ করা। কারো ২৪ ঘন্টা, কারো ২৫ ঘন্টা আবার কারো ২০ ঘন্টা এমন নয়। ২৪ ঘন্ট নিয়ম মেনে কাজ করেই বহু মানুষ সাফল্যের চূড়ায় গিয়েছেন। আবার ২৪ ঘন্টাকে কাজে না লাগিয়ে অনেকেই সারা জীবন নষ্ট করেছে।
Time Management means self management.
-ইসলামিক লাইফ/কালেরকন্ঠ

১০ ধরনের বন্ধু

১. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধু
ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বহু বন্ধুকে একত্রিত করে তেমন কোনো বন্ধু আপনার নিশ্চয়ই আছে। সে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে, সবাইকে এসএমএস বা মেইল করে এবং সবার খবর নেয়। এমন বন্ধু সব ধরনের একাকিত্ব ও একঘেয়েমি থেকে আপনাকে রক্ষা করে।
২. মজার বন্ধু
এ ধরনের বন্ধদের রসবোধ অতি তীব্র। তাদের মুখে সব সময়েই মজার মজার কথা শোনা যায়। তাদের মজা করার প্রতিভা দেখে অনেক সময় অবাক হতে হয়। তারা আপনাকে শেখায় কিভাবে মজা করতে হয়। কখনো আপনার জীবনে হাসির ঘাটতি পড়লে এ ধরনের বন্ধুকে ফোন করলেই হবে। বাকি দায়িত্ব তিনিই পালন করবেন।
৩. অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়
বন্ধুমহলে এমন কেউ রয়েছে যে কিনা সব সময় অ্যাডভেঞ্চারের জন্য প্রস্তুত থাকে। পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র, মরুভূমি ইত্যাদি সব স্থানের কঠিন পরিস্থিতিতে তারা ঘোরাঘুরি করতে পছন্দ করে। তাদের ধ্যান জ্ঞান হলো কিভাবে নতুন কোনো স্থানে অ্যাডভেঞ্চারে যাওয়া যায়। আর তাদের আশপাশে থাকলেও শরীরে একটা টগবগে উত্তেজনা অনুভব করা যায়।
৪. গুরু
বন্ধুমহলে এমন একজনকে পাওয়া যায়, যার কাজ হলো গুরুর ভূমিকা নেওয়া। এ ধরনের বন্ধুর কাজ হলো অন্যকে পরামর্শ দেওয়া। নানা কাজের সমালোচনার মাধ্যমে এরা আপনাকে পথনির্দেশ করতে পারে।
৫. ক্রেজি
গুরুগম্ভীর কোনো বিষয় এ ধরনের বন্ধুদের অভিধানে নেই। পাগলপ্রায় এ ধরনের বন্ধুরা যা ভালো লাগে তাই করে। আর নিজেদের মতো করে থাকার জন্য এদের জুড়ি নেই। এরা ভালো লাগার বিষয়ের জন্য নিজের জীবন দিতেও দ্বীধা করে না।
৬. নরম মনের বন্ধু
এ ধরনের বন্ধুর মন খুবই নরম হয়। অতিরিক্ত আনন্দের বিষয়ে এ ধরনের বন্ধুরা নিজের কান্না আটকে রাখতে পারে না। আর যদি দুঃখের বিষয় হয়, তাহলে তো কথাই নেই। আবেগের আধিক্য থাকার জন্য কারও সামান্য কটুবাক্যতেও এরা অত্যন্ত দুঃখ পায়।
৭. মাতৃসুলভ বন্ধু
আপনার বাড়ি থেকে দূরে যাওয়া উচিত না। সাবধানে পথ চলতে হবে। গাড়িতে ওঠার সময় সাবধান। টাকা পয়সা সাবধানে রাখতে হবে। পড়াশোনা ভালোভাবে করতে হবে। খাওয়া-দাওয়া ছাড়া একবেলাও থাকা যাবে না -এমন নানা কথাই ক্রমাগত স্মরণ করিয়ে দেবে মাতৃসুলভ বন্ধু। এরা সব সময় আপনার খেয়াল রাখবে। অনেকটা আপনার মায়ের মতোই।
৮. সব সময় অনিশ্চিত
এ ধরনের বন্ধু পরমুহূর্তে কি করবে সে বিষয়ে কোনো অনুমান করা সম্ভব নয়। তাকে কখনো দেখা যাবে হাসাহাসি করতে, পরমুহূর্তেই আবার কান্নাকাটি করতে। তার কার্যক্রম দেখে আপনার কোনোভাবেই বোঝা সম্ভব হবে না যে, এরপর সে কী করবে। তার কথাবার্তাও একইভাবে অনিশ্চিত হবে। সে কাকে কোন প্রসঙ্গে সমর্থন করবে আর কোনটি পছন্দ করবে, তার কোনো সূত্র খুঁজে পাবেনা কেউ।
৯. ধার্মিক বন্ধু
বন্ধুমহলে একজন থাকে যে সব বিষয়ে ধর্মকে টেনে আনে। কোনো বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করলেই সে অত্যন্ত সিরিয়াস হয়ে যায় এবং সব আলোচনারই গন্তব্য একদিকে গিয়ে পৌঁছায়।
১০. সততার চূড়ান্ত সমর্থক
কোন জিনিসটি করা উচিত আর কোন জিনিসটি করা উচিত নয়, এ ধরনের কথা সব সময় এমন বন্ধুদের কাছে জানা যায়। আপনি জিজ্ঞাসা না করলেও তারা এমন বিষয় অবতারণা করবে যা থেকে তাদের সততা নিয়ে চিন্তাভাবনা ফুটে উঠবে। আর অন্যের অসততা নিয়েও এরা সব সময় আলোচনা করবে। আশপাশে যা যা ঘটবে তা অনেকটা আয়নার মতোই এদের কাছে প্রতিফলিত হবে।
সূত্রঃ আই.ই

মানুষ কখনই তার প্রিয় জিনিসের পরাজয় দেখতে চায় না! যেমন আমরা চাইনা সন্তানদের পরাজয় দেখতে।

আরব দেশে কায়েস নামক এক বেদুঈনের মুলকি ও দুলকি নামে দুটি তেজী ও সুন্দর ঘোড়া ছিল। ঐ অঞ্চলের কোন ঘোড়াই তাদের সাথে দৌড়ে পারতো না। মুলকি এক নম্বরে এবং দুলকি ছিল দুই নম্বরে।
অত্র অঞ্চলের বড় বড় শাসক ও ব্যবসায়ীরা এই বেদুঈনের কাছ থেকে ঘোড়া দুটি কেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অর্থের প্রতি যাদের কোনো মোহ বা লোভ নেই তাদের কাছে বহু বহু টাকা অর্থহীন হয়ে পড়ে।
কোনো অবস্থাতেই ঘোড়া দুটির একটিও বিক্রি করতে রাজি ছিল না কায়েস।
এই ঘোড়া দুটি পেতে মরিয়া একজন এক দুর্ধর্ষ চোরকে পাঠায় সেই ঘোড়া দুটির একটি চুরি করতে। চোর যখন মুলকির পিঠে চড়ে রওনা হয়ে গেছে তখন ঘোড়ার খুঁরের শব্দে মালিকের ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম ভেঙ্গে বিষয়টা বুঝতে পেরে কায়েস দুলকির পিঠে চড়ে চোরকে পিছু ধাওয়া করে।
কিন্তু মুলকিকে দ্রুত চালানোর কায়দা কায়েস ভিন্ন অন্য কারো জানা ছিলো না। তাই দুলকি মুলকিকে প্রায় ধরে ফেলার অবস্থা। কারণ মুলকি জানে তার পিঠে মালিক নয় সে অন্য কেউ।
এমন সময়ে হঠাত কায়াসের মনে চিন্তার উদ্রেক হল, আমার মুলকি আজ পর্যন্ত কোনো দৌড়ে হারে নাই। আজ দুলকি মুলকিকে ধরে ফেললে সেটা মুলকির পরাজয়। মুলকির এমন পরাজয় তার কাছে তাকে চিরতরে হারানোর চেয়েও বেদনাদায়ক।
তখন কায়েস পিছন থেকে চিতকার করে বলতে থাকে, ওহে হতভাগা! তুই মুলকির বাম কান ধরে মোচড় দে। চোর কথামত তাই করল। এতে মুলকির গতি বহুগুণ বেড়ে যায় এবং দেখতে দেখতে কায়েসের সামনে থেকে মুলকি অদৃশ্য হয়ে যায়। দুলকির তখন সাধ্য ছিলনা মুলকিকে ধরা।
মুলকিকে হারালেও কায়েসকে সেই প্রিয় ঘোড়ার পরাজয়টি দেখতে হল না। এটাই কায়েসের সান্ত্বনা। মনের গভীর দুঃখে বলতে লাগলো কায়েস, “না, আমার মুলকি হারেনি, মুলকি হারতে পারেনা, ওকে আমি হারতে শিখাইনি।”
-১৯৬৭র স্মৃতির পাতা থেকে লেখা

ভালবাসা, ঘৃনা, উপকার আর উপেক্ষা

কোন দেশে এক যুবতী মেয়ে বাস করতো। সে নিজেকে খুবই ঘৃনা করতো কারণ, সে ছিল অন্ধ। কিন্ত মেয়েটি তার ছেলে বন্ধুকে অসম্ভব ভালবাসতো। সে প্রায়ই বলতো আমি আমার দৃষ্টিশক্তিটা ফিরে পেলে আমার ছেলে বন্ধুটিকেই বিয়ে করবো।
একবার মজার এক ঘটনা ঘটে গেল তার জীবনে। কেউ একজন তাকে চোখ দান করলে সে তার দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি ফিরে পায়। সে এখন চক্ষুষ্মান আর সে সবকিছুই দেখতে পাচ্ছে। দেখতে পাচ্ছে তার ছেলে বন্ধুটিকেও। তার ভালবাসার মেয়েটিকে ছেলে বন্ধুটি বল্লো, শোন, তুমিতো এখন সবকিছুই দেখো, এখন আমাকে বিয়ে করবে কি?
মেয়েটি ভালো করে দেখলো যে তার ছেলে বন্ধুটি পুরোপুরি অন্ধ। তাই সে তার প্রিয় ছেলে বন্ধুটিকে বিয়ে করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলো।
ছেলে বন্ধুটি মেয়েটির এই সিদ্ধান্তে শোকে পাথর হয়ে গেল। কান্না জড়িত কন্ঠে ফিরে চলে যাবার সময় সে তার ভালবাসার মেয়েটিকে বলে গেলো, “প্রিয় বান্ধবী আমার, তুমি আমার চোখ দু’টির যত্ন নিও।”
উপদেশঃ অবস্থা বদলে যায়, সাথে মনটাও। আগে কোন অবস্থায় ছিল সেটা মানুষ জেনেও না জানার ভান করে। নোতুন অবস্থায় সে কি করে এলো সেটাও সে বোঝার চেষ্টা করে না। আর এধরনের মানুষেরা পরে একেবারে নিঃসঙ্গ হয়ে যায়।

আল্লাহ অপেক্ষায় থাকেন বান্দা কখন তাঁর কাছে কিছু চাইবে

বর্তমান পৃথিবীর সর্বত্রই যেন ফেতনা-ফ্যাসাদ, নৈরাজ্য আর বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। কেউ আজ নিরাপদ নয়, ঘরে-বাইরে কেউ বলতে পারবে না যে, আমি নিরাপদে আছি। সবাই যেন এক মহা-আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই মুহূর্তে আমাদের সবাইকে মহান আল্লাহতায়ালার কাছে অনেক বেশি প্রার্থনা করতে হবে। একমাত্র তিনিই যদি করুণা করেন তাহলে এই বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারি, আর না হয় অন্য কোনও মাধ্যম আজ অবশিষ্ট নেই।
যে ব্যক্তি প্রকৃত প্রেরণা নিয়ে মহান খোদার কাছে প্রার্থনা করে তাকে আল্লাহতায়ালা কখনও ব্যর্থ হতে দেন না। যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। কিন্তু যারা আমার ইবাদত সম্বন্ধে অহংকার করে, তারা নিশ্চয়ই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে’ Rabbukumud 'ooneee astajib lakum; innal lazeena yastakbiroona an 'ibaadatee sa yadkhuloona jahannama daakhireen (সুরা মু’মিন: ৬০)। ‘আর যা কিছু তোমরা তাঁর কাছে চেয়েছ তিনি তোমাদের সব দিয়েছেন এবং যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামতগুলো গণনা করতে চাও তাহলে তোমরা সেগুলোর সংখ্যা নিরূপণ করতে পারবে না’ Wa aataakum min kulli maa sa altumooh; wa in ta'uddoo ni'matal laahi laa tuhsoohaa; innal insaana lazaloo mun kaffaar(সুরা ইব্রাহিম: ৩৪)। ‘অথবা কে উদ্বিগ্নচিত্ত ব্যক্তির দোয়া শুনেন যখন সে তার নিকট দোয়া করে এবং তার কষ্ট দূর করে দেন এবং তোমাদের পৃথিবীর উত্তরাধিকারী করে দেন আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনও উপাস্য আছে তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ কর’ Ammany-yujeebul mud tarra izaa da'aahu wa yakshifussooo'a wa yaj'alukum khula faaa'al ardi 'a-ilaahum ma'al laahi qaleelam maa tazak karoon (সুরা নামল: ৬২)। মহান খোদাতায়ালা তার বান্দার দোয়া গ্রহণ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন, কখন তার বান্দা তাকে ডাকবে আর তিনি তা গ্রহণ করবেন এবং তার দুঃখ-কষ্ট দূর করবেন। তিনি সবার খুবই নিকটে রয়েছেন, যেভাবে কোরআনে উল্লেখ রয়েছে ‘আর যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞেস করে, তখন বল, আমি নিকটে আছি। আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনার উত্তর দেই যখন সে আমার নিকট প্রর্থনা করে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার ওপর ঈমান আনে যাতে তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়’ Wa izaa sa alaka 'ibaadee 'annnee fa innee qareebun ujeebu da'wataddaa'i izaa da'aani falyastajeeboo lee walyu minoo beela 'allahum yarshudoon (সুরা বাকারা: ১৮৬)। এ আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, তিনি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনার উত্তর দিয়ে থাকেন। আমরা যদি প্রকৃতভাবে তাকে ডাকি তাহলে অবশ্যই তিনি আমাদের ডাকে সাড়া দেবেন। তিনি তো সেই জীবিত খোদা যে খোদা পূর্বে কথা বলতেন আর এখনও বলেন, তার সঙ্গে কথা বলার জন্য শুধু প্রয়োজন পবিত্রাত্মার।
দোয়ার মধ্যে অনেক শক্তি নিহিত রয়েছে। দোয়া এমন একটি জিনিস যা অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। দোয়ার মাধ্যমে ও এর কবুলিয়তের মাধ্যমে বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে থাকে। আমরা জানি, নবী করিম (সা.)-এর দিনের আরম্ভ থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত— প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখি দোয়ায় পরিপূর্ণ। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে আমাদের প্রতি মহানবী (সা.)-এর অনুগ্রহ ও রহমতের একটি উজ্জ্বল দিক হল তাঁর দোয়া। জীবন্ত খোদার সঙ্গে সম্পর্ক ও সদা জীবন্ত রাসূল (সা.)-এর দোয়ার মাঝেই যে জীবন ও জীবনের আনন্দ নিহিত এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যেভাবে পবিত্র কোরআনে তার ইবাদত সম্পর্কে উল্লেখ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমার নামাজ এবং আমার কোরবানি এবং আমার জীবন এবং আমার মরণ সব আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রভু-প্রতিপালক’ inna Salaatee wa nusukee wa mahyaaya wa mamaatee lillaahi Rabbil 'aalameen(সুরা আনআম: ১৬২) । মহানবী (সা.)-এর সবকিছুই ছিল আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য। তাই তো তিনি (সা.) সব সময় আল্লাহর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতেন। তাঁর (সা.) দোয়ার বরকতে লাখ লাখ আধ্যাত্মিকভাবে মৃত জীবন ফিরে পেয়েছে, আধ্যাত্মিক অন্ধরা দৃষ্টি ফিরে পেয়েছে, বোবাদের মুখে ঐশী তত্ত্ব-জ্ঞান ফুটেছে এবং বংশ পরম্পরায় পথভ্রষ্টরা ঐশী রঙ ধারণ করার যোগ্য হয়েছে। যেই আল্লাহ মহানবী (সা.)-এর সময় ছিলেন সেই আল্লাহই তো আজও আছেন। আমরা যদি প্রকৃতভাবে আল্লাহর বান্দা হই তাহলে তিনি অবশ্যই আমাদর ডাকে সাড়া দেবেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সবাইকে পবিত্র কোরআনের এই দুটি দোয়া বেশি বেশি পাঠ করা উচিত, ‘রাব্বি নাজ্জেনি মিনাল কাউমিজ জালেমিন’ Rabbi najjinee minal qawmiz zaalimeen অর্থাত হে আমার প্রভু-প্রতিপালক! তুমি আমাকে অত্যাচারী জাতি থেকে উদ্ধার কর।-(সুরা কাসাস: ২১) ‘রাব্বিন ছুরনি আলাল কাউমিল মুফসেদিন’ Rabbin surnee 'alal qawmil mufsideen অর্থাত হে আমার প্রভু-প্রতিপালক! তুমি আমাকে এ বিপর্যয় সৃষ্টিকারী জাতির বিরুদ্ধে সাহায্য কর।-(সুরা আনকাবুত: ৩০)
আল্লাহতায়ালা পবিত্র, তিনি পবিত্রতা পছন্দ করেন। আজকে আমাদের হৃদয় যদি পবিত্র হতো তাহলে আমাদের দোয়া তিনি গ্রহণ করে সব বিপদাপদ থেকে আমাদের রক্ষা করতেন কিন্তু আমরা যেহেতু তার আদেশ অনুযায়ী নিজেদের জীবন পরিচালনা করি না, তাই তিনিও আমাদের কোনও পরওয়া করেন না। তাই খোদার কাছে দোয়া কবুল হওয়ার জন্য প্রথমে নিজেকে পবিত্র করতে হবে। আর দোয়া কেবল নিজের জন্য নয়, সবার জন্য করতে হবে। শুধু বিপদে পড়লেই যে দোয়া করতে হবে তা নয়, বরং সব সময় খোদার সন্তুষ্টির জন্য দোয়া করতে হবে, যেভাবে মহানবী (সা.) সব সময় দোয়ায় রত থাকতেন। ইসলামের বিজয়ের জন্য প্রয়োজন শান্তিময় পরিবেশ তৈরি করা, সব মানুষকে সে যে ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন, তার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং মহান আল্লাহর দরবারে বিনত হয়ে সবার কল্যাণের জন্য দোয়া করা। এখন সবার আন্দোলন একটাই হওয়া উচিত, আর তা হলো দোয়ার আন্দোলন। তাই আসুন, আমরা সবাই সবার নিরাপত্তা ও মঙ্গলের জন্য সেই আল্লাহর দরবারে মাথা নোয়াই, যিনি আমাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন।
নামাযী তোর নামায হলো যে ভুল
নামাজী, তোর নামাজ হলো রে ভুল।
মসজিদে তুই রাখিরি সিজ্দা, ছাড়ি ইমানের মূল॥
নামাজে সামিল হয়ে জামাতের,
আউড়ালি মুখে সুরা কোরানের,
ভাব্লি কি তুই পার হয়ে গেলি, পুলসেরাতের পুল॥
আজ মিলন তীর্থে বাঁধ রে কাতার মনের জায়নামাজে,
সেই আরফাতে তোর নুইয়ে দে দিল না ফরমানি লাজে,
ওজু করে ফের তৌবার নীরে,
তহরিমা বাঁধ ভীতু নত শিরে,
বন্দেগী তোর কবুল হবে রে, কিয়ামতে পাবি কূল॥