Tuesday, April 14, 2020

জান্নাতের আনত নয়না সুলোচনা নারীগণ

১. এমন নাজুক যেমন হয় ডিমের খোসার নিচে লুকানো ঝিল্লি৷
Ka annahunna baidum maknoon-আস সাফফাত ৪৯
২. এমন সুদর্শনা, যেমন হীরা এবং মুক্তা
Ka annahunnal yaaqootu wal marjaan-আর রাহমান ৫৮
৩. এমন অনুপম সুন্দরী যেন লুকিয়ে রাখা মুক্তা
Ka amsaalil lu'lu'il maknoon-আল ওয়াক্কিয়াহ ২৩
৪. তারা হবে নিজের স্বামীর প্রতি আসক্ত ও তাদের সময়বস্কা৷
'Uruban atraabaa আল ওয়াক্কিয়াহ ৩৭
অসম্ভব সুন্দর বর্ণনা আল্লাহ পাকের।

ভয়কে জয় করতে দরকার আত্মবিশ্বাস এবং সাহস

ভয় একটি শারীরিক প্রক্রিয়া নাকি পুরোটাই মনস্তাত্ত্বিক, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু মানুষ আসলে ভয় পায় কেন? ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের মনোবিজ্ঞানী এবং ভীতি সংক্রান্ত এক বইয়ের লেখক ড. ওয়ারেন ম্যানসেল বলছেন, এটা অভিব্যক্তিমূলক, এটা জীববিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত এবং এর মূল ব্যাপার হচ্ছে টিকে থাকা। যেকোনো ধরণের ভীতি বা ঝুঁকির মুখে পালানো বা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের শরীরের একটা প্রস্তুতি থাকা দরকার।
সমাজবিজ্ঞানী ড. মারগী কের বলেছেন, ভয়ের কারণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং পরিত্রাণের উপায় বের করা জরুরি। এটাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।
ড. ম্যানসেল বলছেন, আপনি যদি খুব সহজেই চমকে যান, কিংবা বিশেষ কোন ভীতি বা ফোবিয়া থাকে আপনার, তাহলে তা থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনি নিজে কিছু জিনিস চর্চা করতে পারেন, আবার প্রয়োজনে একজন থেরাপিস্টের সাহায্য নিতে পারেন। এর প্রথম ধাপ হচ্ছে, নিজের মনকে প্রস্তুত করা, মানে আপনি জানেন বিশেষ কোন পরিস্থিতি আপনাকে বিব্রত করে, সুতরাং এখনই তার মুখোমুখি না হয়ে, আপনার মন পুরোপুরি তৈরি হবার পরই আপনি তার মোকাবেলা করুন।
সাহসী হতে হলে যদি ভয়কে জয় করতে হয়, তবে প্রথমেই জানতে হয় মানুষ সাধারণত কীসের ভয় পায়? এ প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্ন হলেও তা মোটামুটি দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—
১. জানা জিনিসের ভয় (সাপ, তেলাপোকা, বাঘ, নদীর স্রোত ইত্যাদি)
২. অজানা জিনিসের ভয় (অন্ধকার, অশরীরী আত্মা ইত্যাদি)
তবে ডেল কার্নেগি ফাউন্ডেশনের গবেষণা মতে, জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে হলে আমাদের যেসব ভয়কে জয় করে সাহসী হতে হয় তা হলো—
১. তিরস্কার বা সমালোচনার ভয়
২. ব্যর্থতা বা অকৃতকার্যের ভয়
কীভাবে সেসব ভয় জয় করে সাহসী হতে হয়? সে জন্য যে সব কাজ করতে হবে তা হলো—
১. থেমে না গিয়ে কাজ করে যান। কারণ কাজ করা অবস্থায় ভয় কম আসে।
২. সাধারণত মানুষ ভয় জয়ের ঠিক আগ মুহূর্তেই চেষ্টা ছেড়ে দেয়। তাই চেষ্টা ছাড়বেন না।
৩. চেষ্টা করে কাজ না হলে সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্য পন্থা অবলম্বন করুন।
৪. কিছু না করে চুপ থাকলেই তিরস্কার ও সমালোচনার ভয় জয় করে সাহসী হওয়া যায়।
৫. নিয়মিত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম মানুষকে সাহসী করে।
৬. ক্ষুধার্ত বা দুর্বল থাকলে ভয় আসে। তাই, ভয় আসলে ক্ষুধার্ত থাকলে কিছু খান।
৭. ভয়ের কারণ সরালেই সাহস বাড়ে। অন্ধকারে ভিতু থাকলে অন্ধকার দূর করলেই সাহসী হওয়া যায়।
৮. নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন।
৯. নিজের ভুল স্বীকার করুন।
১০. না বলতে শিখুন। (যৌক্তিক হলেও অনেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে না বলতে পারেন না)
তবে যাঁরা মনে করেন, এসব সাহস বাড়িয়ে ভয়কে জয় করে কী হবে? কপালে (ভাগ্যে) থাকলে তা এমনিতেই আসবে। তাঁদের উদ্দেশ্যে একটি ল্যাটিন প্রবাদ মনে করিয়ে দিতে চাই। এই প্রবাদটি যে শুধু আমেরিকান আর্মি মেনে চলে তা কিন্তু নয়, সারা পৃথিবীতেই প্রবাদটি মোটামুটি প্রচলিত। তা হলো- Fortune favors the brave. অর্থাৎ ভাগ্য সাহসীদের পক্ষে থাকে।
মনে রাখবেন, এই সাহস আর ভয় হলো একটি মুদ্রার দুটি পিঠ। তবে কোনটি আপনি নেবেন, সেটা মুদ্রাটি ছুড়ে আপনার ভাগ্যের ওপর ফেলে দেওয়া হয় না। এটা আপনাকেই নির্বাচন করতে হয়। সাহসীরা মুদ্রার সাহসের পৃষ্ঠাটি পছন্দ করেন। সে জন্য ভয় তাঁদের মুদ্রার মতোই নিচে পড়ে থাকে।
ভালবাসার জয়
যতীন্দ্র মোহন বাগচী
ও ভাই, ভয়কে মোরা জয় করিব হেসে-
গোলাগুলির গোলাতে নয়, গভীর ভালবেসে।
খড়ুগ, সায়ক, শাণিত তরবার,
কতটুকুন সাধ্য তাহার, কি বা তাহার ধার?
শত্রুকে সে জিনতে পারে, কিনতে নারে যে সে-
ও তার স্বভাব সর্বনেশে।
ভালবাসায় ভুবন করে জয়,
সখ্যে তাহার অশ্রুজলে শত্রু মিত্র হয়-
সে যে সৃজন পরিচয়।
শত আঘাত-ব্যথা-অপমানে লয় সে কোলে এসে,
মৃত্যুরে সে বন্ধু বলে ধরে শেষে।
সূত্র: বিভিন্ন

চাই প্রশান্ত মন

সৌন্দর্যকে গভীরভাবে দেখতে পারলে মন প্রশান্ত হয়।
মনের ভেতরে বিরক্তিকে কখনোই প্রশ্রয় দিতে নেই্। কারণ বিরক্তি সেখানে আসন পেতে বসলে মনের ওপর সেটা প্রভাব বিস্তার করে সহজেই। তখন শান্তি পুরোপুরি বিঘ্নিত হয়। নিজের মনের শান্তির জন্য অন্য কোন নেতিবাচক জিনিসের সাথে কোনভাবেই সংযোগ ঘটানো যাবেনা। নিজের সাথে অন্য কারো তূলনাও করা যাবে না। অন্যের সাথে নিজের তূলনা করলে মনের গভীর যাওয়া অসম্ভব। তাই শান্তভাবে মনের কন্দরে গভীর দৃষ্টি দিতে হবে এতে মন সম্প্রসারিত হবে, হবে মহানুভবতার দিকে অগ্রসর। মানুষকে ভেবে নিতে হবে সৃষ্টিগতভাবে সে কি? তাই তাকে প্রাকৃতিক হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। আর প্রকৃতিক হওয়ার সাথে সাথে আত্মিক যোগাযোগটাও নিবিড়ভাবে থাকতে হবে। শান্ত মন শুধূ শান্তি পূর্ণই নয়-এই মন মানুষকে নিয়ে যায় স্রষ্ঠার কাছকাছি।

পবিত্র কোরান শরিফ নিয়ে কবিতা

মহাগ্রন্থ আল কুরআন
আমল কি কিতাব থি,
দুয়া কি কিতাব বানা দিয়া।
বাংলা:
আমল করার কিতাব ছিলো,
দোয়ার কিতাব বানিয়ে দিয়েছো।
সমঝেনে কি কিতাব থি,
পাড়নে কা কিতাব বানা দিয়া।
বাংলা:
অনুধাবন করার কিতাব ছিলো,
পাঠের কিতাব বানিয়ে দিয়েছো।
জিন্দাওঁ কা দস্তুর থা,
মুর্দাওঁ কা মানশুর বানা দিয়া।
বাংলা:
জীবিতদের জীবনবিধান ছিলো,
মৃতদের ইশতাহার বানিয়ে দিয়েছো।
জো ইলম্ কি কিতাব থি
উসে লা-ইলমোঁ কে হাথ মে দিয়া।
বাংলা:
যেটা ছিলো জ্ঞানের কিতাব,
মূর্খদের হাতে ছেড়ে দিয়েছো।
তাশখীর-এ-কায়েনাত কা দার্স দেনে আয়ি থি,
সির্ফ মাদ্রাসোঁ কা নিসাব বানা দিয়া।
বাংলা:
সৃষ্টির জ্ঞান দিতে এসেছিলো এটা,
স্রেফ মাদ্রাসার পাঠ্য বানিয়ে দিয়েছো।
মুর্দা কওমোঁ কো জিন্দা কারনে আয়ি থি,
মুর্দোঁ কো বখশ্ওয়ানে পার লাগা দিয়া।
বাংলা:
মৃত জাতিদের বাঁচিয়ে তুলতে এসেছিলো এটা,
মৃতের জন্যে দোয়ার কাজে লাগিয়ে দিয়েছো।
আয় মুসালমানোঁ, ইয়ে তুম নে ক্যা কিয়া?
বাংলা:
হে মুসলমানেরা, এ তোমরা কী করেছো?
(Collected)
কবিতাটি লিখেছিলেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও হিন্দি ভাষার খ্যাতিমান কবি শঙ্কর দয়াল শর্মা।
আল কুরআন ১৫শ বছরের কাছাকাছি সময় পেরোচ্ছে। এই মহাগ্রন্থ ভাইরাল হয়েছে তখন থেকেই যখন শুরু হয়েছিল। আমরা মুসলমানরা বুঝিনি। এখনো সেই তিমিরেই রয়েছি।
লেখাটি ছড়িয়ে দিন।
শঙ্কর দয়াল শর্মা বাবু যদি বিষয়টি বুঝে থাকেন-আমরা তাহলে কোথায়!
আফসোস, বড়ই আফসোস!!
The Book, The Message
(The Quran)
Amal ki kitab thi.
Dua ki kitab bana dia
It was a command for action.
You turned it into a book of prayer.
Samajhne ki kitab thi.
Parhne ki kitab bana dia.
It was a Book to understand.
You read it without understanding.
Zindaon ka dastoor tha.
Murdon ka manshoor bana dia.
It was a code for the living.
You turned it into a manifesto of the dead.
Jo ilm ki kitab thi.
Usay la ilmon ke hath thama dia.
That which was a book of knowledge;
You abdicated to the ignoramus.
Taskheer-e-kayenaat ka dars denay aayi thi.
Sirf madrason ka nisaab bana dia.
It came to give knowledge of Creation.
You abandoned it to the madrassah.
Murda qaumon ko zinda karne aayi thi.
Murdon ko bakhshwane per laga dia.
It came to give life to dead nations.
You used it for seeking mercy for the dead.
Aye Musalmano ye tum nay kia kiya?
O’ Muslims! What have you done?

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত এবং অবশ্যপালনীয় বিধান

পবিত্র থাকার ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় বারংবার উৎসাহিত করা হয়েছে এবং যারা পূতপবিত্র থাকবে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে প্রভূত কল্যাণ ও সওয়াবের।
মদিনার নিকটবর্তী কুবা এলাকার লোকজন পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করত। তাদের ভূয়সী প্রশংসা করে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সেখানে এমন লোকেরা রয়েছে, যারা ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করতে পছন্দ করে । আর আল্লাহ তায়ালা পবিত্রতা অর্জনকারীদের পছন্দ করেন ।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ১০৮)
আরও বর্ণিত আছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)
প্রিয়নবী (সা.) বলেন, তোমরা তোমাদের উঠান ও আঙিনা পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে রাখো।
ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হল নামাজ, এই নামাজের জন্য পূর্বশর্ত আরোপ করা হয়েছে পবিত্রতা(অজু) অর্জনকে। আরেক হাদিসের মধ্যে পবিত্রতাকে ঈমানের অর্ধেক বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
হযরত আবু মালেক আশআরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম, হাদিস : ২২৩)
আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনগণ, তোমরা যখন নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন নিজেদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে, মাথা মাসেহ করবে এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করবে; যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হবে। তোমরা যদি পীড়িত হও, কিংবা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নিবে। (সূরা: মায়িদাহ, আয়াত: ৬)
নবী (সা.) বলেন, নামাজ বেহেশতের চাবি; অজু (পবিত্রতা) নামাজের চাবি। (মিশকাত)
আল্লাহ তায়ালা পবিত্রতা অর্জনের সরাসরি নির্দেশনা দিতে গিয়ে বলেন, হে বস্ত্রাচ্ছাদিত, উঠুন, সতর্ক করুন; এবং আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার কাপড় পবিত্র রাখুন, অপবিত্রতা পরিহার করে চলুন। (সূরা: মুদ্দাছছির, আয়াত: ১-৪)
পশ্চিমা দেশগুলোতে মানসিক রোগী ও হতাশাগ্রস্ত লোকদের সংখ্যা করে বেড়েই চলেছে। পাগলাগারদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মানসিক রোগ ও হতাশাগ্রস্ত লোকদের নিয়ে গবেষণাও হচ্ছে অধিক পরিমাণে।
এক মার্কিন গবেষক তার প্রবন্ধে লিখেছেন, আমি ডিপ্রেশন (মানসিক রোগে) আক্রান্ত কয়েকজন রোগীকে প্রতিদিন পাঁচবার মুখ ধৌত করিয়েছি। কিছুদিন পরে তাদের রোগ কমে যায়। অতপর, আরও কিছু রোগীদের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করলাম এবং সেই সঙ্গে দিনে পাঁচবার হাত, মুখ ও পা ধোয়ার ব্যবস্থা করলাম। এবার তারা অনেকটাই সুস্থ হয়ে গেলেন। এই গবেষক তার প্রবন্ধের উপসংহারে অকপটে স্বীকার করেছেন, মুসলমানদের মধ্যে মানসিক রোগ কম দেখা যায়। কারণ, তারা দিনে কয়েকবার হাত, মুখ ও পা ধুয়ে থাকে। উচ্চ রক্তচাপের সহজ ওষুধ হল অজু।
এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অত্যন্ত আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন; উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীকে প্রথমে অজু করিয়ে দিন, তারপর ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করুন, দেখবেন প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
এক মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ মুসলিম গবেষক বলেন, মানসিক রোগের কার্যকরি চিকিৎসা হলো অজু।
পশ্চিমা দেশের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা রোগীদের শরীরে অজুর মত করে দিনে কয়েকবার পানি ঢেলে দেন। এতে রোগের উপশম হয় দ্রুত ।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার আরেকটি উপায় হল গোসল। এটিও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশিকা ও ইবাদত। সপ্তাহে ন্যূনতম একবার হলেও গোসল করাকে আবশ্যক করে দেয়া হয়েছে ইসলামে।
হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমুআর দিন (শুক্রবার) গোসল করা প্রতিটি সাবালক ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস: ৪৭৯)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালার জন্য প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য হলো (অন্তত) প্রতি সাত দিনের মাথায় নিজের মাথা ও শরীর ধৌত করা। (বুখারি, হাদিস : ৮৯৭; মুসলিম, হাদিস : ৮৪৯)
মুখের যত্ন নেয়া ও দাঁত পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে প্রিয় নবী (সা.) বলেন, মিসওয়াক করলে যেমন মুখ (গাছের ছোট ডাল যা দাঁত মাজতে ব্যবহৃত হয়) পরিষ্কার ও পবিত্র হয়, তেমন আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনেরও কারণ হয়। (আন- নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
হযরত আবু হুরায়রা ( রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যদি আমার উম্মতদের ওপরে বেশি কষ্টসাধ্য না হয়ে যেত, তাহলে আমি তাদেরকে প্রত্যেক নামাযের পূর্বে মিসয়াক করার নির্দেশ দিতাম। ( বুখারি এবং মুসলিম )
নিয়মিত মিসওয়াক করলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়, মাথা ব্যথা দূর হয় এবং মাথার রগগুলোতে প্রশান্তি আসে। এতে শ্লেষ্মা (কফ, সর্দি) দূর হয়, দৃষ্টি শক্তি তীক্ষ্ম হয়, পাকস্থলী ঠিক থাকে এবং খাবার সহজে হজম হয়ে যায়, বিবেক বৃদ্ধি পায়। সন্তান প্রজননে বৃদ্ধি ঘটায়। বার্ধক্য দেরীতে আসে এবং পিঠ মজবুত থাকে। (হাশিয়াতুত তাহতাভী, আল মারাকিল ফালাহ, ৬৮ পৃষ্ঠা)
রাসুল (সা.) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন। (সহীহমুসলিম শরীফ, ১৫২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৫৩)
তিনি যখন ঘুম থেকে জেগে যেতেন, তখনও মিসওয়াক করতেন। (আবু দাউদ, ১ম খন্ড, ৫৪ পৃষ্ঠা, হাদীস-৫৭)
বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার বিকল্প নেই। নিজে এবং নিজের আশপাশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে সবসময়।
গবেষকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে করোনা Virus রোধে সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ হল নিজেকে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বারবার হাত ধোয়া।
সূত্রঃ যুগান্তর পত্রিকা

সাম্প্রতিক ছড়া

কিল চড় ঘুসি গরম পন্থী
মায়ের আদর নরম পন্থি
রেগে গেলে দাদু খড়ম পন্থি
করোনার হানা চরম পন্থী
জুতো চপ্পল পালিশ পন্থী
কোট কাছারী নালিশ পন্থী
গ্রামের মোড়ল সালিশ পন্থী
রাত্তিরে মাথা বালিশ পন্থী
করোনা ভাইরাস pneum(ফুসফুস)পন্থী
গ্রহগুলো সব অরুণ পন্থী
নদী নালাসব বরুণ পন্থী
নখ কান সব নরুন পন্থী
মানুষ এখন করুন পন্থী
খোস পাঁচড়া মলম পন্থী
দে’শলাই কাঠি অনল পন্থী
বক্তার সব বলন পন্থী
মিলিটারী Rule দলন পন্থী
করোনা ভাইরাস শ্বসন পন্থী
মুরগী হাঁস সব আন্ডা পন্থী
মঠ মন্দির পান্ডা পন্থী
মিটিঙ মিছিল ঝান্ডা পন্থী
এসময় পুলিশ ডান্ডা পন্থী
সাধূ সন্যাসী শিষ্য পন্থী
যাত্রা নাটক দৃশ্য পন্থী
বাঙ্গী আম লিচু গ্রীষ্ম পন্থী
মাসের শেষেতে নিঃস্ব পন্থী
করোনার রোগী অন্তিম দৃশ্য পন্থী
সিএনজি গ্যাস লাইন পন্থী
সাংসদরা আইন পন্থী
ট্রাফিক আইন ফাইন পন্থী
করোনার রোগী কোয়ারেন্টিন পন্থী
পত্রিকাগুলো হকার পন্থী
গয়নাগাটি লকার পন্থী
আসবাবের রঙ ল্যাকার পন্থী
এ সময় আমরা বেকার পন্থী
মঞ্চে নেতারা মাইক পন্থী
ফেসবুকে মোরা লাইক পন্থী
এখন সবাই বাইক পন্থী
করোনার বডি স্পাইক পন্থী

মুসলমানের ৮৬৪০০সেকেন্ডের (২৪ ঘণ্টার) রুটিন

মানুষের জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। সবার আয়ু নির্ধারিত। দুনিয়ার ছোট্ট জীবন শেষে রয়েছে পরকালের সীমাহীন জীবন। এ দুনিয়ায় কেউ চিরকাল থাকবে না। সবাই মৃত্যুবরণ করবে। মানুষ এক একটি দিন অতিবাহিত করেই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই জীবনের মূল্যবান সময়কে শ্রেষ্ঠ সম্পদ মনে করতে হবে। তা হিসাব করে ব্যয় করতে হবে। ২৪ ঘণ্টা সময়ের রুটিন করে নিতে হবে। নিম্নে একটি রুটিন দেওয়া হলো—
ফজরের আজান হলে করণীয়
ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া। এরপর এ দোয়াটি পড়া—‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর’।
অর্থ : সেই আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তাঁরই দিকে আমাদের পুনরুত্থান।
হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে বিছানায় শোয়ার সময় নিজ হাত গালের নিচে রাখতেন, এরপর বলতেন : হে আল্লাহ! আপনার নামেই মরি, আপনার নামেই জীবিত হই। আর যখন ঘুম থেকে জাগতেন তখন বলতেন, সেই আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তাঁরই দিকে আমাদের পুনরুত্থান। (বুখারি, হাদিস : ৬৩১৪)
ইস্তিঞ্জা করা : পেশাব-পায়খানার পর পবিত্রতা অর্জনকে ‘ইস্তিঞ্জা’ বলা হয়। শরিয়তে ইস্তিঞ্জার ওপর বিশেষ তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। ইস্তিঞ্জায় অবহেলা করাকে বড় গুনাহ এবং কবরে আজাবের কারণ বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীজি (সা.) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় বলেন, এ দুজন মুর্দার ওপর আজাব হচ্ছে, (এ আজাব) কোনো কঠিন কারণে নয়। এদের মধ্যে একজন পেশাবের পর ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করত না... (বুখারি, হাদিস : ২১৮)
পেশাব-পায়খানার জন্য নির্ধারিত স্থানে যাওয়ার আগে নিম্নের দোয়াটি পড়া উত্তম : ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস’।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি মন্দ কাজ ও শয়তান থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
পায়খানা/প্রস্রাব বা ইস্তিঞ্জার পর ডান পা আগে দিয়ে বের হয়ে নিম্নের দোয়াটি পড়া উত্তম: ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আজহাবা আন্নিল আজা ওয়া ফানি’।
অর্থ : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্ট দূর করেছেন এবং স্বস্তি দান করেছেন।
মুখ পরিষ্কার করা : ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে, নামাজের আগে, কোনো মজলিসে যাওয়ার আগে এবং কোরআন-হাদিস পাঠ করার আগে মিসওয়াক/ব্রাশ করে মুখ পরিষ্কার করা মুস্তাহাব। (মারাকিল ফালাহ : ৫৩)
তবে ব্রাশ দিয়ে মিসওয়াকের সমান সওয়াব পাওয়া যাবে না। কেননা মিসওয়াকের মাঝে দুটি সুন্নত রয়েছে—(ক) দাঁত পরিষ্কার করা। (খ) গাছের ডাল দিয়ে পরিষ্কার করা। তবে হ্যাঁ, ব্রাশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে শুধু দাঁত পরিষ্কারের সুন্নত আদায় হবে। গাছের ডাল দিয়ে পরিষ্কারের সুন্নত আদায় হবে না। (দুররুল মুখতার : ১/২৩৬)
অজু করা : অজুকে নামাজের চাবি বলা হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নামাজের চাবি পবিত্রতা।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৬১)
তাই অজুর ফরজ, সুন্নত, মুস্তাহাব ইত্যাদির প্রতি ভালোভাবে খেয়াল করে অজু সম্পন্ন করা চাই।
ফজরের নামাজ পড়া : প্রথমে দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা আদায় করা। অতঃপর ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করা। কোনো কারণে ফরজের আগে সুন্নত পড়তে না পারলে, সূর্য উদিত হওয়ার পর পড়ে নেবে। ফরজ নামাজ বা জামাতের পরপর এ সুন্নতের জন্য দাঁড়ানো যাবে না। (দুররুল মুখতার : ২/৫৭)
আর সূর্যোদয় অবস্থায় নামাজের জন্য দাঁড়ানো যাবে না। বরং সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পর নামাজে দাঁড়াতে হবে। ফজর নামাজ পড়া অবস্থায় সূর্য উঠে গেলে সেই নামাজ সূর্যোদয়ের পর কাজা পড়ে নিতে হবে। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩২-৩৩)
ফজরের পর করণীয়
ফজরের পর পড়ার মতো ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল রয়েছে। যেগুলো পড়ে মুমিন বান্দা নানাবিধ উপকার লাভ করতে পারে। নিম্নে কতিপয় আমল উল্লেখ করা হলো—
আয়াতুল কুরসি পড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ২৩৯৫)
সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াতটিই আয়াতুল কুরসি। তা হলো—‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কায়্যূম, লা তা’খুযুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল্ আরদি, মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজিনহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খলফাহুম, ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়িম্ মিন ইলিমহি ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসিআ কুরসিয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদা, ওয়ালা ইয়াঊদুহু হিফজুুহুমা,ওয়াহুওয়াল আলিয়্যুল আজিম।’
এ আয়াতটি পড়তে বেশি হলে এক মিনিট সময় লাগতে পারে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে পাঁচ মিনিট। দৈনিক ২৪ ঘণ্টা সময় থেকে পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় করলে এ মহাপুরস্কার লাভ করা সম্ভব।
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের দোয়া : যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার নিম্নের দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮৯)
দোয়াটি হলো, ‘রাজিতু বিল্লাহি রব্বাওঁ ওয়াবিল ইসলামী দ্বিনাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা।’
অর্থ : আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বিন হিসেবে ও মুহাম্মাদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।
সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার : যদি কেউ দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা নিম্নের ইস্তিগফারটি পড়ে এবং ওই দিনে বা রাতে ইন্তেকাল করে, তবে সে জান্নাতি হবে। (বুখারি, হাদিস : ৬৩০৬)
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, খালাকতানি, ওয়া আনা আব্দুকা, ওয়া আনা আলা আহিদকা ওয়া ওয়া’দিকা মাস্তাতা’তু, আউজু বিকা মিন শাররি মা সানা’তু, আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিজাম্বি ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা ইয়াগিফরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি আপনার গোলাম। আমি আপনার ওয়াদা-প্রতিশ্রুতির ওপর যথাসাধ্য আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আমার ওপর আপনার অনুগ্রহ স্বীকার করছি। আবার আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। কেননা আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারবে না।
জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া : যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর সাতবার নিম্নের দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয় তাহলে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭৯)
দোয়া : ‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্ নার’। অর্থ—হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।
রোগব্যাধি থেকে হেফাজতের দোয়া : রোগব্যাধি থেকে হেফাজতের জন্য নবীজি (সা.) নিম্নের দোয়াটি পড়তেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৫৪)
দোয়া : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুজামি, ওয়া মিন সাইয়্যিল আসকাম।’ অর্থ—হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শ্বেত, উন্মাদনা, কুষ্ঠ এবং সব দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে।
সুরা ইয়াসিন পড়া : হাদিসে সুরা ইয়াসিন পড়ার অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে। প্রতিদিন সকালে আমরা সুরা ইয়াসিন পড়তে পারি।
সূর্যোদয়ের পর করণীয়
সূর্যোদয়ের ২৩/২৪ মিনিট অতিবাহিত হলে ইশরাকের নামাজ পড়া সুন্নত। ইশরাকের নামাজ দুই বা চার রাকাত। এর নিয়ম সাধারণ নফল নামাজের মতোই। এ নামাজ পড়ার দ্বারা পূর্ণ একটি হজ ও ওমরাহ পালনের সওয়াব পাওয়া যায়। সব সগিরা গুনাহ মাফ হয়ে যায়। এর নিয়ত এমন : নবীর সুন্নত দুই রাকাত ইশরাকের নামাজ পড়ছি, আল্লাহু আকবার।
ইশরাকের পর করণীয়
ইশরাক নামাজ পড়ে নাশতা করা। জীবন জীবিকার তাগিদে যার যার দুনিয়াবি কাজে নেমে পড়া। দায়িত্ব পালনে যত্নবান হওয়া। কাজে ফাঁকি না দেওয়া। যার যার কাজে ইসলামী বিধান খেয়াল রাখা। হতে পারে তা ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি কিংবা অন্য যেকোনো পেশার কাজ। তবেই সবার কাজ ইবাদতে পরিণত হবে।
ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া পড়া : যদি কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় নিম্নের দোয়াটি পড়ে, তবে সে যাবতীয় অনিষ্ট থেকে হেফাজতে থাকে, শয়তানের ধোঁকা থেকে দূরে থাকে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪২৬)
দোয়া : ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।’
অর্থ : আল্লাহর নামে, আল্লাহ তাআলার ওপরই নির্ভর করলাম, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই, শক্তিও নেই।
ঘরে প্রবেশকালে সালাম দেওয়া ও বিসমিল্লাহ বলা : ঘরে প্রবেশকালে প্রবেশকারী সালাম দেবে ও বিসমিল্লাহ বলবে। এটি প্রিয় নবীর সুন্নত। যদিও প্রবেশকারী ছাড়া অন্য কেউ ওই ঘরে বসবাস না করে। আল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ করবে, তখন সশব্দে সালাম দেবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বরকতময় ও পবিত্র অভিবাদন।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৬১)
নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশকালে ও খাবার গ্রহণকালে আল্লাহর নাম স্মরণ করলে শয়তান (তার সঙ্গীদের) বলে, তোমাদের রাত্রিযাপন ও রাতের আহারের কোনো ব্যবস্থা (এ ঘরে) হলো না; কিন্তু কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশকালে আল্লাহকে স্মরণ না করলে শয়তান বলে, তোমরা রাত্রিযাপনের জায়গা পেয়ে গেলে। আহারের সময় আল্লাহকে স্মরণ না করলে শয়তান বলে, তোমাদের রাতের আহার ও শয্যা গ্রহণের ব্যবস্থা হয়ে গেল।’ (মুসলিম, হাদিস ২০১৮, আবু দাউদ, হাদিস : ৩৭৬৫)
চাশতের নামাজ পড়া
কাজের কোনো ফাঁকে সম্ভব হলে চাশতের নামাজ পড়ে নেওয়া। চাশতের নামাজ দুই বা চার রাকাত, চার রাকাত পড়াই উত্তম। এর নিয়মও সাধারণ নফল নামাজের মতো। সূর্য এক-চতুর্থাংশ ওপরে উঠলে, গ্রীষ্মকালে ৯টা-১০টা, আর শীতকালে ১০টা-১১টার সময় সাধারণত তা আদায় করা হয়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন, যা আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কখনো ছাড়ব না। তার একটি হলো চাশতের নামাজ। (বুখারি, হাদিস : ১১৭৮)
এর নিয়ত হলো, নবীর সুন্নত দুই রাকাত চাশতের নামাজ পড়ছি, আল্লাহু আকবার।
জোহরের ওয়াক্ত হলে করণীয়
জোহরের নামাজের ওয়াক্ত হলে উত্তম সময়ে জামাতের সঙ্গে (বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে সম্ভব) নামাজ আদায় করা। ফরজ নামাজের আগে-পরের সুন্নত গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করা। সময় থাকলে দুপুরের খাবারের পর কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া। এটাকে কাইলুলা বলা হয়। কাইলুলা করা সুন্নত।
আসর ওয়াক্ত হলে করণীয়
আসরের ওয়াক্ত হলে চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করা। সম্ভব হলে ফরজের পূর্বের চার রাকাত সুন্নতও আদায় করা। উত্তম সময়ে আসরের নামাজ আদায় করা। কোনো কারণে আসরের নামাজ পড়া অবস্থায় সূর্য ডুবে গেলে আসরের নামাজ মাকরুহের সঙ্গে আদায় হয়ে যাবে।
প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও দ্বিনি দাওয়াতি কাজ করা। সরাসরি বা ফোনে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের খোঁজখবর নেওয়া। রোজাদার হলে ইফতার সামনে নিয়ে বসে দোয়া করা, সময় হলে ইফতার করা।
মাগরিবের ওয়াক্ত হলে করণীয়
মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া। আজানের পর পর মাগরিবের নামাজ আদায় করা। তিন রাকাত ফরজের পর দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা আদায় করা। এরপর দুই দুই রাকাত করে ছয় রাকাত সালাতুল আওয়াবিন আদায় করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাজের পর কোনো অনর্থক কথাবার্তা না বলে ছয় রাকাত নামাজ পড়ে, তাকে ১২ বছরের ইবাদতের সওয়াব দেওয়া হয়। (তিরমিজি)
পাশাপাশি সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে প্রত্যেক রাতে সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে, সে কখনো অভাবের কষ্ট ভোগ করবে না।’ (বাইহাকি, হাদিস : ২৪৯৮)। ফজরের পরের আমলগুলো মাগরিবের পরও আদায় করা।
প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করা
প্রতিদিন হাফেজ নন এমন ব্যক্তির এক পারা কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত। যেন মাসে এক খতম পূর্ণ হয়ে যায়। হাফেজদের তিন পারা তিলাওয়াত করা উচিত। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন তিলাওয়াত করো। কেননা কোরআন কিয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৮০৪)
যারা কোরআন না পড়তে পড়তে এমনভাবে ভুলে যায় যে দেখেও পড়তে পারে না। তাদের ব্যাপারে হাদিসে কঠিন শাস্তির ধমকি এসেছে। তারা কিয়ামতের দিন অঙ্গহানি অবস্থায় আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত করবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৭৪)
যে কোরআন পড়তে জানে না, তার শেখার চেষ্টা করতে হবে। পড়তে না পেরে আয়াতের ওপর আঙুল ফিরালে তিলাওয়াতের সওয়াব পাবে না। কিন্তু কোরআনের প্রতি মহাব্বত প্রকাশের সওয়াবের আশা করা যায়। (মারাকিল ফালাহ : ২৫৯)
কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি সাধ্যমতো কোরআনের অনুবাদ, আমলের নিয়তে অর্থসহ হাদিস পাঠ এবং বিশ্বনবী (সা.), সাহাবায়ে কেরাম ও আল্লাহওয়ালাদের জীবনী পড়া উচিত।
এশার ওয়াক্ত হলে করণীয়
এশার নামাজের ওয়াক্ত হলে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া। সম্ভব হলে ফরজের আগের চার রাকাত সুন্নতও পড়া। উত্তম সময়ের প্রতি খেয়াল করে চার রাকাত ফরজ, দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও তিন রাকাত বেতের আদায় করা। নামাজের পর সুরা মুলক পাঠ করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, কোরআনের মধ্যে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট একটি সুরা আছে। যেটি কারো পক্ষে সুপারিশ করলে তাকে মাফ করে দেওয়া হবে। সেটি হলো তাবারা কাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলক (তথা সুরা মুলক)।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮৯১)
এশার নামাজের পর করণীয়
এশার পর খানাদানা সেরে টিভি, মোবাইল ইত্যাদিতে অযথা সময় নষ্ট না করা। বরং নির্ধারণ করে নেওয়া যে আমি প্রতিদিন এতটার ভেতর শুয়ে পড়ব। ঘুম না এলেও সেই নির্ধারিত সময়েই শুয়ে পড়া। সারা দিনের ভালো-মন্দের হিসাব করা। সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া, কারো প্রতি কোনো ধরনের হিংসা-বিদ্বেষ পুষে না রাখা। নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য তাওবা করা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। ভালো কাজের জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করা। পরবর্তী দিনটি যেন আরো উন্নত হয় সেই চেষ্টা করা। তার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
নিদ্রার আগের আমল
ঘুমের আগে মিসওয়াক/ব্রাশ করে মুখ পরিষ্কার করে অজু করা। শুয়ে তাসবিহে ফাতেমি পড়া। তা হলো, ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, ৩৩ বার ‘আলহামদু লিল্লাহ’, ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’। কোনো পছন্দনীয় আমল থাকলে তা আদায় করা। যেমন—অনেকে সুরা ইয়াসিন পড়েন, অনেকে আয়াতুল কুরসি পড়েন, অনেকে চার ‘কুল’ পড়েন। অতঃপর ঘুমের দোয়া পড়া। ঘুমের দোয়া হলো—‘আল্লাহুম্মা বিসিমকা আমুতু ওয়া আহ্ইয়া’। ডান কাতে শুয়ে ঘুমানো। জিকির করতে করতে ঘুমিয়ে যাওয়া।
তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া
শেষ রাতে ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার কিছু সময় আগে জাগ্রত হওয়া। তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা করা। তাহাজ্জুদ শেষ রাতের নামাজ। অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ নামাজ। নবীজি (সা.)-কে তাহাজ্জুদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং আপনি রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ুন। তা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। নিশ্চয়ই আপনার প্রভু আপনাকে মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে) প্রতিষ্ঠিত করবেন।’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ৭৯)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্কৃষ্ট নামাজ হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাজ।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)
সাহরি খাওয়া
রোজা রাখতে চাইলে রোজার নিয়তে সাহরি খাওয়া। সময়ের প্রতি লক্ষ করে সাহরি খাওয়া শেষ করা, আজানের প্রতি লক্ষ করে নয়। কারণ সাধারণত আজান দেওয়া হয় সাহরির সময় শেষ হওয়ার আরো পাঁচ মিনিট পর, আজান দেওয়ার পাঁচ মিনিট আগেই সাহরির সময় শেষ হয়ে যায়। তাই যারা আজানের সময় সাহরি খাবেন, তাদের রোজা হবে না।
বিশেষ সতর্কতা
কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। সারাক্ষণ ‘নেট দুনিয়ায়’ ঘোরাঘুরি করে মুক্তাতুল্য মূল্যবান মুহূর্তগুলো নষ্ট করা যাবে না। দেশের জরুরি খবরাখবরের পেছনে কত সময় ব্যয় করব—তাও নির্ধারণ করে নেওয়া উচিত। কোনো কথা শুনে সত্য-মিত্যা যাচাই না করে প্রচার করা যাবে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ৬)
নবীজি (সা.) বলেছেন ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শুনে তা-ই বলে বেড়ায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫)
মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : মুহাদ্দিস
জামিয়া আম্বরশাহ আল ইসলামিয়া, কারওয়ান বাজার, ঢাকা
পুরুষরা কাজে না গেলে কী করবেন?
পুরুষরা কাজে না গেলে ঘরে স্ত্রী-পরিজনকে সময় দেবেন। সত ও সভ্য স্ত্রীরা তার স্বামী থেকে কামনা করে থাকে যে তার স্বামী যেন তাকে পর্যাপ্ত সময় দেন এবং তার কাছে থাকেন। উকবা ইবনে আমের (রা.) বলেন, আমি একদা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উভয় জাহানের মুক্তির পথ কী, তা জানতে চাইলাম। উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনটি উপদেশ দিলেন। তার একটি ছিল—পরিবারের সঙ্গে তোমার অবস্থানকে দীর্ঘ করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪০৬)। তবে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান যেন নিছক দৈহিক উপস্থিতিই না হয়। যেমন—ঘরে তো আছেন কিন্তু টিভি, মোবাইল, ব্যক্তিগত কাজ বা স্ত্রীর কাজে ভুল ধরতে এতটাই নিমগ্ন, যা পরিবারের জন্য আরো বেশি পীড়াদায়ক।
ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করা : ঘরে থেকে ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করা যায়। ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করা অনেকের কাছে কিছুটা লজ্জার বিষয় মনে হয়। এটি ঠিক নয়। নবীজির প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, নবীজি কি ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করতেন? তিনি বলেন—হ্যাঁ, নবীজি ঘরের লোকদের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং নামাজের সময় হলে নামাজের জন্য যেতেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৭৬)
মুখেও ভালোবাসা প্রকাশ করা : ঘরে থেকে স্ত্রীদের সঙ্গে হাসি-মজা করা যায়। মুখেও মহব্বত প্রকাশ করা যায়। অনেকে স্বীয় স্ত্রীকে সীমাহীন ভালোবাসেন। অনেক সময় ভালোবাসার কথার জানানও দেন। কিন্তু মুখে প্রকাশ করাটাকে লজ্জার বিষয় মনে করেন। অথচ নবীজির সুন্নত মুখেও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করা। খাদিজা (রা.) সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আমার মনে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দেওয়া হয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৪৩৫)
আয়েশা (রা.)-কে বলেছেন, ‘সবার চেয়ে আয়েশা আমার কাছে এমন প্রিয়, যেমন সব খাবারের মধ্যে সারিদ আমার কাছে বেশি প্রিয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪১১)
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ভালোবেসে কখনো কখনো আমার নাম হুমায়রা বা লাল গোলাপ বলে ডাকতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৭৪)
তিনি আরো বলেন, পাত্রের যে অংশে আমি মুখ রেখে পানি পান করতাম তিনি সেখানেই মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে পছন্দ করতেন। (মুসলিম, হাদিস : ৩০০)
তিনি বলেন, কখনো কখনো আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করতাম এবং আমাকে খুশি করতে তিনি প্রতিযোগিতায় ইচ্ছা করেই নিজেকে পেছনে ফেলে দিতেন। এ ছাড়া একই সঙ্গে গোসল করা, একই প্লেটে খাবার খাওয়া, একই চাদরে রাত্রিযাপনসহ অসংখ্য রোমান্টিকতায় ভরপুর ছিল নবীজির দাম্পত্য জীবন।
মুফতি মুহাম্মাদ ইসমাঈল –এর লেখা থেকে