Tuesday, April 14, 2020

হতাশ হবেন না কখনো

সত্যিকারের মুত্তাকী কখনোই আল্লাহর উপর আশা হারায় না। আল্লাহর উপর আশা হারানোর অনুমতি তিনি আমাদের দেননি। লা তাকনাতু মির-রহমাতিল্লাহ! এ আচরণ আমাদেরকে রপ্ত করতে হবে।
কোন এক জায়গায় দেখলাম এক মা তার ছেলেকে ভীষণ বকা দিচ্ছিলেন। আর ছেলেটা চিতকার করে কাঁদছিল। মা ছেলেকে কষে একটা চড়ও বসিয়ে দিল। কিন্তু আপনি জানেন, বাচ্চাটা কার কাছে গেল? এরপরও বাচ্চাটা মাকেই ধরে রইল। তার মাকে ছাড়ছে না। চারপাশে অচেনা লোকের ভীড়। সে তাদের কাছে যেতে চায় না। যদিও তার মা তার উপর রাগ হয়েছে, হতাশ হয়েছে, তাকে বকা দিচ্ছে। কিন্তু তার আশ্রয়, সুরক্ষা সে কার কাছে পাবে? তার মায়ের কাছেই। এ দৃশ্য আমাকে ভাবিয়েছে, সুবহানাল্লাহ! যখন আমি আপনি গুনাহ করি, যখন আমরা আল্লাহকে হতাশ করি, তাঁর অবাধ্য হই— আমরা কার কাছে যাব? আমাদের আর কোথায় যাওয়ার আছে? আমাদের আর কোথাও যাওয়ার আছে?
আমাদের গুনাহের খাতায় বহু জিনিসি আছে যা আল্লাহ প্রকাশ করেননি। শুধু আল্লাহই সেসব জানেন। সেসবের জন্য আল্লাহর কাছে আমাদের ক্ষমা চাইতেই হবে। জান্নাতে যারা যাবে তাদের বর্ণনায় যেসব বৈশিষ্ট্য এসেছে তার মাঝে এটাই প্রধান বৈশিষ্ট্য।
ওমাই ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লাল্লাহ— আল্লাহ ছাড়া আর কে গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন? আপনি আর কার কাছে যাবেন, কোথায় যাবেন? আল্লাহ ছাড়া আর কে জানে আপনি আমি কী কী ভুল করেছি?
কিন্তু একজন সত্যিকারের মুত্তাকী যখন ভুল কিছু করে ততক্ষণাত সে কী করে? সে আল্লাহকে স্মরণ করে! ‘যাকারুল্লাহ, ফাসতাগফারু লিযুনুবিহিম।’ তারপর তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। (৩:১৩৫)
তাই আমরা হতাশ হবো না। আল্লাহর কাছেই যাবো, তাঁর সাহায্য চাইবো।

প্রজ্ঞা ছারখার রাগের কাছে

নিজের মধ্যে সুখ খুঁজে পাওয়া খুবই দুঃসাধ্য একটি কাজ। তেমনিই দুঃসাধ্য একে সর্বত্র খুঁজে পাওয়া। -অ্যাগনিজ রেপ্লিয়ার
অহং-এ নিঃশেষ মান-সম্মান
দুশ্চিন্তায় নিঃশেষ জীবন
উতকোচে নিঃশেষ বিচার
লোভে সততার অবসান
ভয়ে নিঃশেষ মানুষ
মহানুভবতাই জীবনের একমাত্র আভরণ
আপন দৃঢ় স্বাধীন চিন্তা সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচর
যাচেনা যে কিছুই , সবকিছু এমনিতেই হয় তারই
যে সুখ অন্যের কষ্টের কারণ তা করো বিপুলভাবে ত্যাগ
ভোগে রোগ ভয়,
কুলে কুল চুতি,
মানেতে দীনতা,
বিত্তে নরপতি,
বলে রিপুভয়,
সুরূপে তরুণী,
শাস্ত্রে বাদী ভয়
খলে ভীত গুণী,
দেহে কাল ভয়
ভয় ভবময়,
নর শুধু হয়
বিরাগে নির্ভয় ॥
বি.দ্রঃ দরকার মনে করলে সংগ্রহে রাখো

মানষিক চাপ, ঘুম, সূর্যের আলো এবং আমাদের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনা

মানষিক চাপ বা স্ট্রেস ভাল নয়। মানষিক চাপ আমদের ইমিউন সিস্টেমকে চাপে রাখে। ফলে আমার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপণা যায় কমে। এরকম হলে আমরা সহজেই ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাসের লক্ষ্যবস্তুকে পরিণত হবো।
অল্প ঘুম বা ঘুমহীনতাও আমদের ইমিউন সিস্টেমকে চাপে রাখে। আমাদের শরীরের যে সব কোষ কিলার সেল বা শত্রুর বিরুদ্ধে হন্তারক কোষ হিসেবে কাজ করে অনিদ্রা বা ঘুমহীনতা বা কম ঘুম হলে সেই হন্তারক কোষগুলোর সংখ্যা কমে যায়। একারণে আমাদের ইমিউন সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আল কুরআনে বলা হয়েছে, “ঘুম হলো প্রশান্তিকারক।” সূরা আন নাবা দ্রষ্টব্য।
সূর্যের আলোর মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে আমাদের শরীরের ওপর। সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে আমাদের শরীর ভিটামিন ডি তৈরী করে। সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে আমাদের শরীর সেরোটোনিন নামের এক রাষায়নিক তৈরী করে। এর আরেক নাম “ফিলগুড কেমিক্যাল” বা “হ্যাপী কেমিক্যাল।” এর সেরোটোনিন আমাদের মানষিক চাপ কমিয়ে দেয়। আবার সূর্যের আলোর আল্ট্রাভায়োলেট রে বা রশ্মি আমাদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের শরীরকে সহজেই ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাসের লক্ষ্যবস্তুকে পরিণত করে। তাই সূর্যের আলোতে আমাদের কম থাকাও ভালো নয় আবার বেশী থাকাও ভালো নয়। পরিমিত পরিমাণ হলেই ভালো।
তাই আমরা মানসিক চাপে না থাকি, পরিমিত পরিমাণ ঘুমাই ও দৈনিক পরিমিত সময় সূর্যের আলোতে থাকি।

মু’মিনের মুনাজাত

মুমিন নানাবিধ দুঃখ-কষ্ট, বিপদাপদ, রোগ-শোকে কেবল তার প্রভুর কাছেই ধর্না দেয়। কিন্তু ল করে যে, দুঃখ-কষ্ট তার বাড়ে বৈ কমে না; তাই অনেক সময় সে হতাশ হয়ে পড়ে। আসলে ব্যাপারটা কী আল্লাহ কি তাঁর বান্দার সাথে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে পারেন? মুমিন বলবে, কখনোই নয়। তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে ভাবতে হবে। দোয়া ও প্রার্থনা সম্পর্কে আল্লাহ পাকের বাণী, হে নবী, আমার কোনো বান্দাহ যখন আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তাহলে তাদেরকে বলে দাও, আমি তাদের অতি নিকটে। যে আমাকে ডাকে আমি তার ডাক শুনি এবং জবাব দেই, কাজেই আমার আহবানে সাড়া দেয়া এবং আমার প্রতি ঈমান আনা তাদের একান্ত— কর্তব্য, এ কথা তুমি তাদেরকে শুনিয়ে দাও, হয়তো তারা সত্য-সরল পথের সন্ধান পাবে’
-সূরা আল বাকারা ১৮৬।
এতে স্পষ্ট যে, ডাকতে হবে কেবল আল্লাহকে এবং এ জন্য কোনো মাধ্যম তালাশ করা বা কোনো পথ অতিক্রম করার প্রয়োজন নেই। তিনি আরো বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের দ্বারা সাহায্য গ্রহণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন’- সূরা আল বাকারা-১৫৩।

বাবারা কাঁদেনা কেন?

আপনার বাবাকে কখনো কাঁদতে দেখেছেন? আমি দেখিনি। পরিবারে শত ঝড়ঝঞ্ঝা, আর্থিক সংকট, রোগশোক কোনো কিছুই এই মানুষটাকে কাঁদাতে পারে না। কখনো ভেবেছেন—কেন? জিজ্ঞাসা করলে হয়তো তারা স্মিত হেসে বলবেন, ‘বাবাদের কাঁদতে নেই রে বোকা!’ আর হয়তো সে কারণেই (অধিকাংশ ক্ষেত্রে) মায়েদের আগেই বাবারা দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।
বাবারা কেন কাঁদেন না? জবাব অনেক রকমই হতে পারে। তবে সম্ভবত: আসল কথাটি হলো, তিনি কেঁদে ফেললে পরিবারের অন্য সদস্যদের ভরসার জায়গাটা আর থাকে না। তখন সবাই মিলে লড়াই করার মানসিক শক্তি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়।
অনেক সময় মাত্র একজনের দৃঢ়তায় লড়াইয়ের যে রসদ জোটে, তা অভাবনীয় ফল বয়ে আনে। চে গুয়েভারা, নেলসন ম্যান্ডেলা, শেখ মুজিবুর রহমান, লি-কুয়ান ইউ, মাহাথির মুহাম্মদ, ফিদেল কাস্ত্রো, মুয়াম্মার গাদ্দাফি—এমন অনেকেই তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আর সে কারণেই পরিবারে ভরসার প্রতীক হয়ে বাবারা হাল ধরে থাকেন। তাদের অনুপস্থিতিতে মা, বড় ভাই বা বোনদেরও অনেক সময় এমন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। তবে সেটা বাবা হলে শত উত্কণ্ঠার মাঝেও তার একটি বাক্য—‘আচ্ছা, আমি দেখছি কী করা যায়।’ আশার প্রদীপটা জ্বালিয়ে রাখেন। তখন আমরা বিশ্বাস করি, একটা কিছু হবে। অর্থাৎ লড়াই চলাকালে ঝাণ্ডাটা কাউকে না কাউকে সুউচ্চে তুলে ধরতে হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বলাকা কাব্যে বলেছেন,
“ওই যে প্রবীণ, ওই যে পরম পাকা,
চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা,
ঝিমায় যেন চিত্রপটে আঁকা”-এটা হলো বাবা, পরম পাকা, পরম অভিজ্ঞ।
আবার বলেছেন, বোধ করি বাবাকে বা যারা পরে বাবা হবে উদ্দেশ্য করেই-
সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ ক'রে
পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা।
তাই ভাল বাবাই যোগ্য নেতৃত্বে রয়।
থিম: আবদুল হামিদ সাহেবের লেখার

মহাকবি শেখ সাদী (রহ.)র ১৩টি অমর বাণী

আকাশের মত উদারতা ও স্বর্গের শান্তি লইয়া যে সকল মহাপুরুষ মর্তে আগমন করিয়াছিলেন, শেখ সা’দী তাহাদের মধ্য অন্যতম।
“অরণ্যে পশু সহবাসে স্বাধীনভাবে বিচরণ করা অপেক্ষা বান্ধব সমাজের শত-শৃঙ্খলিত জীবন সহস্রগুণে শ্রেয়।” -শেখ সাদী
১. অজ্ঞের পক্ষে নীরবতাই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম পন্থা। এটা সবাই জানলে কেউ অজ্ঞ হতো না।
২. অকৃতজ্ঞ মানুষের চেয়ে কৃতজ্ঞ কুকুর শ্রেয়।
৩. আমি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই। তার পরেই ভয় পাই যে আল্লাহকে মোটেই ভয় পায় না।
৪. মানুষ এমনভাবে জীবনযাপন করে যেন কখনো মরতে হবে না, আবার এমনভাবে মরে যায় যেন কখনো বেঁচেই ছিল না।
৫. হিংস্র বাঘের ওপর দয়া করা নিরীহ হরিণের ওপর জুলুম করার
নামান্তর।
৬. যে সৎ, নিন্দা তার কোনো অনিষ্ট করতে পারে না।
৭. প্রতাপশালী লোককে সবাই ভয় পায় কিন্তু শ্রদ্ধা করে না।
৮. দেয়ালের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় সতর্ক হয়ে কথা বল, কারণ তুমি জান না দেয়ালের পেছনে কে কান পেতে দাঁড়িয়ে আছে।
৯. মুখের কথা হচ্ছে থুথুর মতো, যা একবার মুখ থেকে ফেলে দিলে আর ভিতরে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই কথা বলার সময় খুব চিন্তা করে বলা উচিত।
১০. মন্দ লোকের সঙ্গে যার ওঠাবসা, সে কখনো কল্যাণের মুখ দেখবে না।
১১. দুই শত্রুর মধ্যে এমনভাবে কথাবার্তা বল, যেন তারা মিলে গেলেও তোমাকে লজ্জিত হতে না হয়।
১২. বাঘ না খেয়ে মরলেও কুকুরের মতো উচ্ছিষ্ট মুখে তোলে না।
১৩. পরকালে যা আবশ্যক তাহা যৌবনে সংগ্রহ করো।

নিম গাছ

যে গল্পটি এখনো আমাকে অন্যলোকে নিয়ে যায়-

লেখকঃ বনফুল
কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে।
পাতাগুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ!
কেউবা ভাজছে গরম তেলে।
খোস দাদ হাজা চুলকানিতে লাগাবে।
চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ।
কচি পাতাগুলো খায়ও অনেকে।
এমনি কাঁচাই …
কিম্বা ভেঙে বেগুন-সহযোগে।
যকৃতের পক্ষে ভারি উপকার।
কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয় কত লোক … দাঁত ভালো থাকে। কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন।
বলে- ‘নিমের হাওয়া ভালো, থাক্, কেটো না।’
কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না।
আবর্জনা জমে এসে চারিদিকে।
শান দিয়ে বাঁধিয়েও দেয় কেউ- সে আর-এক আবর্জনা।
হঠাৎ একদিন একটা নতুন ধরনের লোক এলো।
মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রইল নিমগাছের দিকে। ছাল তুললে না, পাতা ছিঁড়লে না, ডাল ভাঙলে না, মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রইল শুধু।
বলে উঠল,-‘বাহ্, কী সুন্দর পাতাগুলি … কী রূপ! থোকা-থোকা ফুলেরই বা কী বাহার… একঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে। বাহ্-
খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে চলে গেল।
কবিরাজ নয়, কবি।
নিমগাছটার ইচ্ছে করতে লাগল লোকটার সঙ্গে চলে যায়। কিন্তু পারলে না। মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে। বাড়ির পিছনে আবর্জনার স্তূপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল সে।
ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটার ঠিক এক দশা।
-এখনো রয়েছে আমাদের এই বাংলায় অনেক মেয়ে বা পুরুষ যারা ভাল মেয়ে মানুষকে কোন দিন মানুষ মনে করে না। তাদের কী বলবেন আপনারা?