Friday, July 21, 2023

ঘুমের জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর অবস্থান (sleeping position) কোনটি

(১) ঘুমের জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর: ব্যাক পজিশন (পিঠের ওপর ঘুমানো)

ভাল দিক: গলা এবং পিঠ ব্যথা প্রতিরোধ, অ্যাসিডিটির রিফ্লাক্স হ্রাস করা, বলিরেখা কমানো, মহিলাদের স্তনের আকার বজায় রাখা।
খারাপ দিক: নাসিকাগর্জন ।
আরও কিছু: আপনার পিঠের ও সোজা হয়ে ঘুমানো আপনার মাথা, ঘাড় এবং মেরুদণ্ডের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা সহজ করে তোলে। নিউইয়র্ক সিটির একজন চিকিতসক স্টিভেন ডায়ামান্ট (Steven Diamant) বলেছেন, "এতে করে আপনি আপনার পিঠের ওপর কোনও অতিরিক্ত ভার চাপিয়ে দিচ্ছেন না"। রচেস্টারের মেয়ো ক্লিনিকের এক ঘুমের ঔষধ বিশেষজ্ঞ এরিস ওলসন (Eric Olson) বলেছেন, "এটি অ্যাসিডিটির রিফ্লক্সের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পক্ষেও আদর্শ। মাথা যদি সোজা হয়ে থাকে তবে আপনার পাকস্থলী আপনার খাদ্যনালীর নিচে থাকবে যাতে অ্যাসিড বা খাদ্য পুনরায় সেই পথে ফিরে না আসতে পারে। তবে সাধারণত এই অবস্থায় ঘুম হলে নাক ডাকা অত্যন্ত ঘন ঘন এবং বিকট আওয়াজের মাধ্যমে হয়।
আদর্শ বালিশ: ব্যাক স্লিপারদের জন্য সেরা বালিশ নরম বা তুলতুলে হওয়া চাই। এসব বালিশের উদ্দেশ্যই হল আপনার মাথা ও ঘাড়কে ঠেস দিয়ে রাখা, যাতে গোটা শরীরের ভার না পড়ে।
(২) পরবর্তী সেরা: সাইড পজিশন (পাশ ফিরে ঘুমানো)
ভাল দিক: গলা এবং পিঠে ব্যথা প্রতিরোধ করা, অ্যাসিডিটির রিফ্লাক্স হ্রাস করা, কম নাক ডাকা, গর্ভাবস্থায় ঘুমানোর জন্য আদর্শ।
খারাপ দিক: আপনার ত্বক এবং আপনার স্তনের জন্য।
আরও কিছু: সামগ্রিক স্বাস্থের জন্য সাইড-পজিশনটি দুর্দান্ত — এটি নাকডাকা কমায় এবং আপনার মেরুদণ্ডকে সোজা ও টানটান করে রাখে। আপনি এসিড রিফ্লাক্স জনীত সমস্যা থেকে মুক্তি চান, এই ধরনের ঘুম আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করবে।
নেতিবাচক দিক: "পাশ ফিরে ঘুমানোর ফলে আপনার বলিরেখা বেড়ে যেতে পারে", বলেছেন ড. গ্লেজার (Dr. Glaser), "এই অবস্থায় আপনার মুখের ওপর চাপ বেশি পরায় বলিরেখা সৃষ্টি হতে পারে।" স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিভাগের মেডিকেল এডিটর রোশিণী রাজাপাক্সা (Roshini Rajapaksa) বলেছেন, "বালিশে দেহ একপাশে কাত হয়ে থাকার কারণে মহিলাদের স্তনের আকার সম্পূর্ণ হয় না।"
(৩) আদর্শ নয়: গর্ভস্থ অবস্থান (যেভাবে মাতৃগর্ভে শিশু থাকে)
ভাল দিক: মহিলাদের গর্ভাবস্থায় ঘুমানোর জন্য, নাক ডাকা কমানোর জন্য।
খারাপ দিক: ঘাড় এবং পিঠে ব্যথা হতে পারে, বলিরেখা বাড়িয়ে দেয়, স্তনের আকার নিয়ন্ত্রনে রাখে না।
আরও কিছু: "যখন আপনি আপনার হাঁটু ভাঁজ করে থুতনির কাছে নিয়ে এসে ঘুমোন আপনার joint pain এবং আর্থ্রারাইটিস এর ঝুঁকি বেড়ে যায়", ডঃ ওলসন (Dr. Olson) বলছেন, "এই বাঁকা অবস্থানটি ডায়াফ্র্যাগমেটিক শ্বাসকেও সীমিত করে দেয়", বলেন ইরিভিংটন, এনওয়াইএর একজন আকুপাংকচারিস্ট ডডি চ্যাং (Doddy Chang)। যদি আপনি এটি আপনার রাতের ঘুমানোর অভ্যাস এ পরিণত করেন, তবে আপনার মুখের বলিরেখা বয়সের আগেই চলে আসতে পারে এবং স্তনের বিকার ঘটতে পারে।
(৪) সবচেয়ে খারাপ: পেটের অবস্থান (পাকস্থলীর ওপর চাপ দিয়ে উল্টো হয়ে শোওয়া)
ভাল দিক: সহজ নাক ডাকা
খারাপ দিক: ঘাড় এবং পিঠে ব্যথা হতে পারে, মুখে অজস্র বলিরেখা দেখা যায়, বেহায়া স্তনের আশঙ্কা।
আরও কিছু: "পেটে ভর দিয়ে ঘুম আপনার মেরুদণ্ডের একটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা কঠিন করে তোলে," শ্যানন (Shannon) ব্যাখ্যা করে। এটি অস্থিসন্ধি ও পেশীর উপর চাপ সৃষ্টি করে, যা স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে — ব্যথা, numbness এবং tingling হতে পারে। ড. ডায়ান্ট (Dr. Diant) ব্যাখ্যা করেন, "দিনে 15 মিনিটের জন্য যদি আপনি আপনার ঘাড় একপাশে পরিণত হয়ে থাকেন তবে আপনি কীরকম ব্যথা অনুভব করতে পারেন তা একবার ভেবে দেখুন। এই রকম sleeping position অবস্থায় আপনি এক ঘন্টার জন্য হলেও এক দিকে আপনার মাথা রেখে ঘুমোন। এর প্রভাব হয়ত পরের দিন মনে হবে না, কিন্তু খুব শীঘ্রই আপনার ঘাড়ে ব্যথা শুরু হতে পারে।
রেফা: ১. https://bn.quora.com/
২. Michael Clarke

পুরুষদের মধ্যে থেকে Y ক্রোমোজোম ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে , মহানবী সা. এঁর হাদীসের কথাগুলো স্পস্টতর হচ্ছে

 বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেন যে, পুরুষদের মধ্যে থেকে Y ক্রোমোজোম ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। তবে আশার কথা হলো, বিজ্ঞানীরা একটি নতুন যৌন জিন সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন যা মানব জাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে পারে।

মানুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম রয়েছে, যার মধ্যে এক জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম। মেয়েদের ক্ষেত্রে জিনোটাইপ XX, পুরুষদের ক্ষেত্রে XY। Y ক্রোমোজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন হলো SRY, যা SOX9 নামক জিন থেকে শুরু করে অন্যান্য বিভিন্ন জিনকে ট্রিগার করে, যা সমস্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে পুরুষ নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, স্পাইনি ইঁদুরের উপর জরিপ চালিয়ে তাদের দুটি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যারা তাদের Y ক্রোমোজোম হারিয়েছে, সাথে SRY জিনও বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু প্রজাতিগুলো এখনও টিকে রয়েছে।
এই প্রজাতিগুলোর মধ্যে গবেষণা করে দেখা যায়, পুরুষ ইঁদুরের ক্রোমোজোম ৩-এর মূল সেক্স জিন SOX9 এর কাছে ডিএনএ-র একটি ছোট অনুলিপি রয়েছে, যা শুধুমাত্র পুরুষদের জিনের মধ্যেই উপস্থিত। এই অনুলিপিটি SOX9 এর কার্যকলাপকে বাড়িয়ে তোলে, ফলে বিলুপ্ত হওয়া SRY এর কাজ প্রতিস্থাপন হয়ে যায় এর মাধ্যমে।
এই ফলাফলগুলো থেকে অনুমান করা যাচ্ছে যে, মানুষ সম্ভাব্যভাবে একটি নতুন লিঙ্গ নির্ধারণকারী জিন তৈরি করতে পারবে, যা Y ক্রোমোজোমকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে এবং মানবপ্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করবে।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেন যে, পুরুষদের মধ্যে থেকে Y ক্রোমোজোম ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। তবে আশার কথা হলো, বিজ্ঞানীরা একটি নতুন যৌন জিন সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন যা মানব জাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে পারে।
মানুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম রয়েছে, যার মধ্যে এক জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম। মেয়েদের ক্ষেত্রে জিনোটাইপ XX, পুরুষদের ক্ষেত্রে XY। Y ক্রোমোজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন হলো SRY, যা SOX9 নামক জিন থেকে শুরু করে অন্যান্য বিভিন্ন জিনকে ট্রিগার করে, যা সমস্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে পুরুষ নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, স্পাইনি ইঁদুরের উপর জরিপ চালিয়ে তাদের দুটি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যারা তাদের Y ক্রোমোজোম হারিয়েছে, সাথে SRY জিনও বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু প্রজাতিগুলো এখনও টিকে রয়েছে।
এই প্রজাতিগুলোর মধ্যে গবেষণা করে দেখা যায়, পুরুষ ইঁদুরের ক্রোমোজোম ৩-এর মূল সেক্স জিন SOX9 এর কাছে ডিএনএ-র একটি ছোট অনুলিপি রয়েছে, যা শুধুমাত্র পুরুষদের জিনের মধ্যেই উপস্থিত। এই অনুলিপিটি SOX9 এর কার্যকলাপকে বাড়িয়ে তোলে, ফলে বিলুপ্ত হওয়া SRY এর কাজ প্রতিস্থাপন হয়ে যায় এর মাধ্যমে।
এই ফলাফলগুলো থেকে অনুমান করা যাচ্ছে যে, মানুষ সম্ভাব্যভাবে একটি নতুন লিঙ্গ নির্ধারণকারী জিন তৈরি করতে পারবে, যা Y ক্রোমোজোমকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে এবং মানবপ্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করবে।
Ref: Abdul Aziz, Team Science Bee, #science #bee #facts #baby

7 vegetarian foods to increase hemoglobin levels

 Vegetarian foods rich in iron and other nutrients can help increase hemoglobin levels in individuals with iron-deficiency anemia. Here are seven vegetarian foods that are excellent sources of iron and can support hemoglobin production:

Spinach: Spinach is a leafy green vegetable rich in iron and also contains vitamin C, which enhances iron absorption. Include spinach in salads, smoothies, or sautéed dishes.
Lentils: Lentils are a good source of plant-based iron, and they also provide protein and fiber. They are versatile and can be added to soups, stews, salads, or used as a base for veggie burgers.
Tofu: Tofu, a soft white substance made from mashed soya beans, is an iron-rich protein source suitable for vegetarians. Use it in stir-fries, curries, or marinate and grill it as a main dish.
Chickpeas: Chickpeas (garbanzo beans) are not only a good source of iron but also provide folate and protein. Use them in salads, hummus, or make roasted chickpea snacks.
Pumpkin seeds: Pumpkin seeds (pepitas) are a nutritious snack and a good source of iron. Sprinkle them over salads or enjoy them as a standalone snack.
Quinoa: Quinoa কাওনের চাল is a protein-rich grain that contains iron, magnesium, and other essential nutrients. Use it as a base for salads, bowls, or as a side dish.
Blackstrap molasses: Blackstrap molasses is a sweetener that is particularly high in iron. You can use it in baking, smoothies, or mix it with warm water as a drink.
It's essential to combine iron-rich foods with vitamin C-rich foods, such as citrus fruits, tomatoes, or bell peppers, as vitamin C enhances iron absorption. Additionally, consuming foods high in vitamin B12 and folate is important, as they are necessary for the production of healthy red blood cells. If you have low hemoglobin levels or suspect iron-deficiency anemia, it's crucial to consult with a healthcare professional .

রাসুল (সা.)-এর হিজরতের পথচিত্র

 হিজরতের রাত : হিজরতের রাতে রাসুল (সা.) আলি (রা.)-কে তার বিছানায় অবস্থানের নির্দেশ দেন, যেন তিনি কুরাইশ গোত্রের গচ্ছিত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে পারেন।

হিজরতের দিন : রাসুল (সা.) আবু বকর (রা.)-এর বাড়িতে যান। আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) তাদের জন্য খাবার তৈরি করে নিজের ওড়না ছিড়ে তা বেঁধে দেন।
সাওর গুহায় তিন রাত অবস্থান : ঘরের সামনের দিকের দরজা দিয়ে তাঁরা উভয়ে বের হন এবং সাওর গুহার উদ্দেশ্যে যান।
আবু বকর (রা.) প্রথমে গুহার ভেতর দেখে নেনে এরপর উভয়ে প্রবেশ করেন। এদিকে কুরাইশের লোকজন উভয়কে না পেয়ে খোঁজা শুরু করে। আর কুরাইশের সারাদিনের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে রাতের বেলা আবদুল্লাহ বিন আবু বকর (রা.) গুহায় আসতেন। আর আমের বিন ফুহাইরা (রা.) সাওর গুহার কাছে ছাগল চরাতেন। তিনি উভয়ের জন্য দুধ দোহন করে নিয়ে আসতেন। এবং আবদুল্লাহ বিন আবু বকর (রা.)-এর পদচিহ্ন মুছে দিয়ে যেতেন।
চতুর্থ দিন : এদিন তাঁরা সাওর গুহা থেকে বের হয়ে মদিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন আবদুল্লাহ বিন উরাইকিত।
পঞ্চম দিন : মক্কা উত্তর দিক থেকে ৮০ কি.মি. দূরত্বে উসফান নামক স্থানের পশ্চিম দিক দিয়ে তাঁরা পথ চলেন। এরপর তাঁরা ওয়াদি আমাজ, উম্মে মাবাদ, ওয়াদি কিলয়াহর পথ দিয়ে গমন করেন। শেষোক্ত স্থানে সুরাকা বিন মালিক (রা.) সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি ঘটে।
ষষ্ঠ দিন : এ দিন তাঁরা জহফা থেকে তিন মাইল দূরত্বের গদিরে খুম অতিক্রম করেন। এরপর ওয়াদি আল-খাজ্জার, সানিয়্যাহ মাররাহ ও ওয়াদিয়ে লাকাফ অতিক্রম করেন।
সপ্তম দিন : এ দিন তাঁরা মুদলিজা লাকাফ, মুদলিজা মিজাহ, মারজাহ মিজাহ, মারজাহ জুল আদওয়াইন, বাতান জুল কাশাদ, জাদাজিদ, আজরাদ, বাতানে রি, ওয়াদি জু সালাম, মুদলিজা তাহান, আবাইব, আল-ফাজাহ, আল-কাহাহ নামক স্থান অতিক্রম করেন।
অষ্টম দিন : এ দিন তাঁরা ওয়াদি আরাজ অতিক্রম করেন।
নবম দিন : এ দিন তাঁরা আল-জাদওয়াত, রুকুবাহ, দারাব আল-গাইর, ওয়াদি রিম অতিক্রম করেন।
দশম দিন : বির আল-মাশি, ওয়াদি আল-আকিক, আল-জুসজাসাহ অতিক্রম করেন।
১১তম দিন : এ দিন তাঁরা আজ-জিবি, আল-উসবাহ, কুবা অতিক্রম করেন। রাসুল (সা.) কুবায় চারদিন অবস্থান করেন।
মদিনায় পৌঁছার দিন : মদিনায় পৌঁছে রাসুল (সা.) বনু নাজ্জার গোত্রে অবতরণ করেন। সেখানে আবু আইউব আনসারি (রা.)-এর ঘরে থাকেন।
তথ্যসূত্র : আল-আজহার ইসলামিক একাডেমি

সময়ের মূল্যায়ন

সময়ের মূল্যায়নে মুমিনের অনুভূতি সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও গভীর। কেননা পরকালে আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি তোমার জীবন কোথায় নিঃশেষ করেছ? তিনি তাঁর যৌবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি তা কোথায় ব্যয় করেছ? এ জন্য সে সর্বদা সময়ের ব্যাপারে সচেতন থাকে। সে অনর্থক ও নিষ্ফল কাজে সময় ব্যয় করে না। একজন মুমিন কিভাবে সময় অপচয় করতে পারে, অথচ সে জানে সময়ই তার সবচেয়ে মূল্যবান ও পরম মূলধন।

মুমিন পৃথিবীতে জীবনযাপন করলেও প্রাত্যহিক জীবনে তার দৃষ্টি পরকাল পর্যন্ত প্রসারিত থাকে। ফলে সে বৃক্ষ রোপণ করে পৃথিবীতে আর ফল প্রত্যাশা করে পরকালে। সাহাবি আবু দারদা (রা.) জীবনের শেষভাগে একটি আখরোটগাছ রোপণ করেন। লোকেরা বলল, আপনি জীবনের শেষভাগে এসে আখরোটগাছ রোপণ করছেন? এই গাছ তো দীর্ঘ সময়ের পর ফল দেয়। আবু দারদা (রা.) বলেন, কি ক্ষতি হবে যদি আমি সাওয়াব লাভ করি আর মানুষ এর ফল ভোগ করে? তিনি বৃদ্ধ বয়সে একটি জাইতুনগাছ লাগানোর সময় বলেছিলেন, আমাদের জন্য আমাদের পূর্বসূরিরা গাছ লাগিয়েছিল, আমরা ফল ভোগ করেছি। আমরা বৃক্ষ রোপণ করছি, যেন আমাদের পরবর্তীরা তার ফল খেতে পারে। সময় এভাবেই মুমিনের অনুভূতিকে জাগিয়ে তোলে এবং তার পার্থিব জীবনকে পরকালমুখী করে।
ড. ইউসুফ আল-কারজাভি (রহ.)

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে কোথায় কীভাবে রিপোর্ট করবেন

 বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চিহ্নিত করার দায়িত্ব নেয়। আর ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চিহ্নিত করার জন্য থাকে রিপোর্ট ফরম। আসুন, এ বিষয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া যাক—

প্রতিটি ওষুধের অসংখ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, যার বেশির ভাগই অজানা
চিকিৎসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ওষুধ। একটি ওষুধ বাজারে আসার আগে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে। এসব ধাপ অতিক্রমের সময় ওষুধের যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ধরা পড়ে, তার পরিমাণ খুব অল্প। প্রতিটি ওষুধের আরও অসংখ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, যার বেশির ভাগই অজানা। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চিহ্নিত করার দায়িত্ব নেয়। আর ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চিহ্নিত করার জন্য থাকে রিপোর্ট ফরম। আসুন, এ বিষয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া যাক—
১. ওষুধ সেবনের পর যেকোনো সমস্যা হলেই কি রিপোর্ট করব?
উত্তর: হ্যাঁ। ওষুধ সেবনের পর কোনো সমস্যা হলে যদি মনে হয়, সমস্যাটি ওষুধ সেবনের জন্য হয়েছে, তাহলে রিপোর্ট করতে হবে।
২. ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাদে আর কী কী বিষয়ে রিপোর্ট করতে হবে?
উত্তর: ক. ওষুধের গুণগত মানে সমস্যা থাকলে।
খ. ওষুধের নির্দিষ্ট ডোজ বা ব্যবহারের নির্দেশনা অনুসরণ করতে সমস্যা হলে।
গ. ওষুধের প্যাকেজিং ত্রুটি বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে।
৩. কোথায়, কীভাবে রিপোর্ট করতে হবে?
উত্তর: ক. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ইয়েলো কার্ড বা রিপোর্ট ফরম ডাউনলোড করে পূরণ করার পর ই–মেইল করতে হবে।
খ. টেলিফোন: ৮৮০২৯৮৮০৮০৩, ৮৮০১৭২৮৩৪৯৫০৩
গ. ফ্যাক্স: ৮৮০২৯৮৮০৮৫৪
ঘ. ই–মেইল: adrmcell.dgd@gmail.com, dgda.gov@gmail.com
৪. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটার কত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট করতে হবে?
উত্তর: ক. যেকোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটার সাত দিনের মধ্যে, কিন্তু এক মাসের বেশি নয়।
খ. পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক হলে যত তাড়াতাড়ি রিপোর্ট করা যায়।
৫. রিপোর্ট না করলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
উত্তর: ক. রিপোর্ট না করলে ওষুধ সেবনের ফলে সচরাচর হয় না, এমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অজানা থেকে যাবে।
খ. মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অজানা থাকার কারণে পরবর্তী সময়ে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।
গ. ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে, তা জানা না থাকলে ভুল চিকিৎসা হতে পারে।
ঘ. ওষুধ প্রাত্যহিক জীবনের অতি গুরত্বপূর্ণ উপাদান।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যত বেশি নির্ণয় করা সম্ভব হবে, স্বাস্থ্য খাতের সর্বত্র নিরাপত্তা তত বেশি নিশ্চিত হবে। তাই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া–সম্পর্কিত রিপোর্ট সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।

বর্ষাতেও স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস নয়।

 রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো— চিকিৎসকদের মতে, সব সমস্যার একটাই সমাধান হল হাঁটা। সুস্থ থাকতে হাঁটার যে কোনও বিকল্প নেই। ঠিক কী ভাবে কত ক্ষণ হাঁটলে কতটা উপকার পাবেন? ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা ওজন কমানোর জন্য কত ক্ষণ হাঁটা জরুরি? বলা হয়, দিনে দশ হাজার পা হাঁটাই আদতে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

শরীর চাঙ্গা রাখার জন্য অনেকেই সকালে কিংবা সন্ধ্যায় হাঁটাহাঁটি করেন। তবে বর্ষার মরসুমে মাঝেমধ্যেই বৃষ্টির কারণে হাঁটতে যাওয়ার সুযোগ হয় না, বৃষ্টি না হলেও চারদিকে কাদা, জল জমার কারণে অনেকেই বর্ষাকালে বাইরে হাঁটতে যেতে পছন্দ করেন না। তা হলে কী করে চাঙ্গা থাকবে শরীর? হাঁটাহাঁটিও বা হবে কী করে?
অফিস থেকে বাড়ি ফিরে অনেকেই টিভি বা ওয়েব সিরিজ় দেখতে শুরু করেন। কেউ সোফায় বসে, কেউ আবার বিছানায় শুয়ে সিরিজ় উপভোগ করেন। শরীর চাঙ্গা রাখতে হলে টিভিতে সিরিজ় কিংবা সিনেমা দেখতে বাড়িতেই হাঁটাহাঁটি করতে পারেন।
দিনের অনেকটা সময় আমরা ফোনে কথা বলি। বন্ধুর সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলার সময়ে হোক কিংবা অফিসের কোন ‘কনফারেন্স কল’ চলাকালীন— এক জায়গায় বসে কথা না বলে চেষ্টা করুন হাঁটাহাঁটি করার।
এখন আমরা অনেক বেশি যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়েছি। বাড়ির কাজের জন্য না হয় কোনও যন্ত্রের উপর আমার নির্ভর করি, আর না হলে পারিশ্রমিক দিয়ে পরিচারিকা রাখা হয়। বর্ষায় হাঁটাহাঁটির সুযোগ কম। তাই সব কাজ না হলেও চেষ্টা করুন অন্তত ঘরের আসবাবপত্র নিজে মুছতে। এতেও কিন্তু বেশ খানিকটা হাঁটাহাঁটির সুযোগ হয়।
আনন্দবাজার