Wednesday, December 6, 2023

কমলা লেবুর সাথে যা খাওয়া মানা

    দুধ

দুধ বা দুগ্ধজাত কোনও খাবার খাবেন না কমলালেবুর সঙ্গে। তাহলে অ্যাসিডিটি অনিবার্য। বদহজম ও গ্যাসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
টোম্যাটো
কমলালেবুর মতো টোম্যাটোতেও আছে ভিটামিন সি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ। কিন্তু অম্লজাতীয় এই দুই ফল একসঙ্গে খেলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স হতে পারে।
কলা
কমলালেবুর সঙ্গে কলা খেলে বদহজম-সহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তৈলাক্ত ও মশলাদার খাবার
তেলমশলার সঙ্গে কমলালেবু খেলে অ্যাসিডিটি হয়ে বদহজম দেখা দিতে পারে। যকৃতের আলসারের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
ক্যাফেইন বা কফি
চা, কফির সঙ্গে কমলালেবু খেলে পেটের গণ্ডগোল দেখা দিতে পারে। বুক জ্বলে যাওয়ার মতো বিপত্তিও হতে পারে।
কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস
কমলালেবুর সঙ্গে কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস পান করলে পেট ফেঁপে ওঠা, অস্বস্তি-সহ নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে।
অ্যালকোহল
সাইট্রাস ফ্রুট কমলালেবুর সঙ্গে অ্যালকোহল পান করলে পেটের সমস্যা থেকে অ্যালার্জি-সহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
-নিউজ১৮ বাংলা

May be an image of fruit
All reactions:


Monday, December 4, 2023

ছোট বাবুর মতো সুখনিদ্রার জন্য

 জন্মের পর প্রথম দিকে যেখানে দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ঘুম হতো, তা ২০ বছর বয়সে এসে ৬ ঘণ্টা নেমে আসে। বয়স বাড়তে থাকলে সময়ও কমতে থাকে। বাড়ার সাথে সাথে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রিত অভ্যন্তরীণ ঘড়িটি বিপাক ক্রিয়া হরমোনজনিত কারণে ঘুম কমিয়ে দেয়, জেগে থাকার বৃদ্ধি করে। ঘুমের ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাবার জন্য আরো কিছু কারণ আছে- ধূমপান/ মদ্যপান, ২০/২২ বছর বয়সে; ছোট বাচ্চা, ২৮/২৯ বছর বয়সে; মূত্রাশয়ের ডাকে পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সে। আর ক্রমে বিছানা হয়ে উঠে কন্টকাকীর্ণ। আর এভাবেই আমরা দিনের বেলায়ও দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকি। মানসিক অস্থিরতা, অবসাদ ও উতকণ্ঠা বোধ করি। এগুলো আবার শারীরিক ব্যাপক সমস্যা যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, দিনের বেলায় কাজের সময় মনোযোগ হারিয়ে ফেলা বা ঘুমিয়ে পড়া ইত্যাদি ঘটনার জন্ম দেয়।

এখানে ৩টি বয়স বিভাগে ঘুম সহায়ক কিছু পরামশ দেয়া হচ্ছেঃ
২০ বছর বয়সে সুখনিদ্রার জন্য
- এ বয়সে ৬ ঘণ্টা ঘুমাতে পারলেই চলবে। তবে ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম হলে তা পর্যাপ্ত। এক্ষেত্রে ৪টি করণীয় আছে।
- রাত ১০টার মধ্যে শুয়ে পড়ুন। জেগে থাকার অভ্যাস বাড়িয়ে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবেন না।
- সন্ধ্যার পর আর চা পান করবেন না।
- রাত ১১.৩০ মিনিটের দিকে মেলাটোনিন নামক হরমোন নিরসন হয় যা আমাদের ঘুমাতে আরো গভীর করে। গবেষকরা বলছেন, রাতে ০.৩ মিলিগ্রাম মেলাটোনিন খেলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া যায়।
- সপ্তাহান্তে ছুটির আমেজে দীর্ঘক্ষণ ঘুমাবার চেষ্টা করবেন না। ঘুমালে আপনার অভ্যন্তরীণ ঘড়ির ছন্দ হারাবে এবং আপনার সব বিনিয়োগ বৃথা যাবে।
৩০ বছর বয়সে সুখ নিদ্রার জন্য
গত দশকে চেয়ে সামান্য একটু বেশি ঘুম হতে পারে আপনার। তবে তা যথেষ্ট নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ ও ৪০ এর দশকে মানুষের ৮২% কম গভীর ঘুম হয়। এ সময় অগভীর ঘুম বেশি হয়। এখানে সুখনিদ্রার জন্য করণীয়-
- নিয়ম করে ভিটামিন বি৫ (প্যান্টোথেনিক এসিড) সমৃদ্ধ খাবার খান। এটি স্ট্রেস হরমোন কটিসোলের কার্যকারিতা হ্রাস করবে। ভিটামিন বি৫-এর উত্তম উতস হলো ডাল, পশুর লিভার বা যকৃত, বৃক্ক, মাশরুম বা ব্যাঙের ছাতা, নারিকেল, বাদাম, বেল, তরমুজ, ডিম, শ্যাওলা জাতীয় খাদ্য গম ইত্যাদি। এতেও কাজ না হলে চিকিতসকের পরামর্শ মতো এসপিরিন খাওয়া যেতে পারে। এসপিরিন কটিসোলের নিঃসরণ কমাবে।
- শিশুরা ঘুম ভাঙাতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের টেলিভিশন দেখার নিয়ন্ত্রণ করুন। বাচ্চারা যত টেলিভিশন দেখতে থাকবে তত তাদের নিজেদের ঘুম এলোমেলো হবে এবং বাবা-মার ও ঘুমের প্রতিদিনকার ছন্দ নষ্ট হবে।
- প্রতিদিন ২-৩ কিলোমিটার হাঁটুন। বিকালে হাঁটাই উত্তম। হালকা ব্যায়াম ও করতে পারেন।
৫০ বছরের পরবর্তী সময়ে সুখনিদ্রা
এ সময়ে অধিকাংশ মানুষই নিদ্রাহীনতায় ভোগে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০-এর বেশি বয়সের পুরুষরা তাদের প্রতি ১০ বছর অতিক্রমের জন্য ২৮ মিনিট করে কম ঘুমায়। ৬০ বছর বয়সের আগেই তাদের গভীর ঘুম উধাও হয়। ৫০ বছর বয়সের একজন মানুষের রক্তে তার ৩০ বছর বয়সের ১০ গুণ কটিসোল উপস্থিত থাকে। যা তার ঘুম হরণ করে। আবার প্রতি ২৫ জনে ১ জনের ঘুমের মধ্যে হঠাত খুব অল্প সময়ের জন্য শ্বাস আটকে যায় সে জেগে ওঠে। এর সঙ্গে যোগ হয় প্রস্টেট গ্রন্থির কারণে নানাবিধ সমস্যা ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া, তলপেট মূত্রাশয় ভার থাকার কারণে টান টান হয়ে থাকা। এ বয়সে গভীর ঘুমের জন্য করণীয়-
- প্রচুর ভিটামিন বি৫ সমৃদ্ধ খাদ্য খান। রাতে শর্করা জাতীয় বেশি পরিমাণে খাবার চেষ্টা করুন। এতে কটিসোল নিঃসরণ কমবে, Serotonin নিঃসরণ বাড়বে, ঘুম আসবে।
- ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসলে তার জন্য চিকিতসা করাতে হবে।
- যাদের হৃদরোগের জন্য ওষুধ খেতে হচ্ছে তাদের চিকিতসক তার অনিদ্রা বা গভীর ঘুম না হওয়ার কথাটি জানাবে অথবা অন্যান্য ওষুধ খাবার বেলায়ও ঘুমের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
- রাতে ৩-৪ বার প্রস্রাব করতে যেতে হলে আপনার ডাক্তারকে জানান। প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে এরূপ হতে পারে।
সবার জন্য করণীয়-
- ওষুধের দোকান থেকে নিজের ইচ্ছামাফিক ঘুমের বড়িও কিনে খাবেন না। এতে আপনার বড় ধরনের ঝুঁকি হতে পারে। ওষুধ সেবনে আন্তরিক হোন।
- চিকিতসক আপনাকে ওষুধ ছাড়াও ঘুমানোর জন্য কিছু কিন্তু পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে পারেন। তা অভ্যাস করার চেষ্টা করুন।
- ঘুমানোর সময় ও পরিবেশ যতটা সম্ভব অপরিবর্তনীয় রাখুন।
- রাতের খাবার নির্দিষ্ট সময়ে খাবেন। রাতে সবজি কম খাবেন শর্করা বেশি খাবেন।
- শেষ কাপ চা ঘুমানোর সময় থেকে যতটা সম্ভব আগেই শেষ করুন।
- ঘুমানোর ৪০-৪৫ মিনিট আগে ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল করে নিতে পারেন।
সূত্র: ডা: শাহজাদা সেলিম
Self Study


Sunday, December 3, 2023

নামাজের স্থান পবিত্র কি না, সন্দেহ হলে

 বিশেষ দরকারী লেখা মুসলিমদের জন্য

সালাত বা নামাজ হলো ঈমানের পরে ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল। এর মাধ্যমে বান্দার সঙ্গে তার রবের বিশেষ সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। তাই নামাজ অবস্থায় বান্দার শরীর, কাপড় ও স্থান পরিপূর্ণ পাক-পবিত্র থাকা অত্যাবশ্যক। পবিত্রতা নামাজ আদায়ের পূর্বশর্ত।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমার ঘর পাক-সাফ রাখো তাওয়াফকারী, রুকু-সিজদা ও দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীদের জন্য।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ২৬)
নামাজের স্থান পবিত্র করার নির্দেশসংবলিত বহু প্রমাণ আছে। নিম্নে নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়ার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হলো :
জমি শুকালে বা তাতে বৃষ্টি পড়লেও পবিত্র হয়
জমি ও ছাদ ইত্যাদিতে নাপাকি পড়ার পরে তা রোদে বা বাতাসে শুকিয়ে নাপাকির চিহ্ন দূর হয়ে গেলে তা পাক হয়ে যাবে। আয়েশা (রা.), ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়া (রহ.), ইমাম মুহাম্মাদ (বাকের রহ.) প্রমুখ থেকে বর্ণিত, ‌‘জমিনের পবিত্রতা হলো তা শুকিয়ে যাওয়া। ’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ৬২৪, ফাতহুল কদির ১/১৯৯)
তদ্রূপ নাপাক জমি কুপিয়ে নেওয়ায় নাপাকির চিহ্ন দূর হয়ে গেলেও জমি পাক বলে গণ্য হবে। হাদিস শরিফে এসেছে, জনৈক বেদুইন অজ্ঞতাবশত মসজিদে পেশাব করে দেওয়ায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ওই জায়গা খনন করে নিতে বলেছেন। (দেখুন : মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ১৬৫৯)
অনুরূপ নাপাক জমিতে বৃষ্টি পড়ে নাপাকির চিহ্ন দূর হয়ে গেলেও পাক হয়ে যাবে। হ্যাঁ, সর্বাবস্থায়ই নাপাকির চিহ্ন অবশিষ্ট থাকলে জমি পাক হবে না। (ফাতাওয়া কাজিখান ১/২৩, আদ্দুররুল মুখতার ১/৩১১)
প্রস্রাবে ভেজা নাপাক জুতা নিয়ে শুকনা জমির ওপর চলার কারণে যদি জমি ভিজে যায়, তাহলে জমি নাপাক হবে, অন্যথায় নাপাক হবে না। (রদ্দুল মুহতার ৬/৭৩৩)
পাকা মেঝে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছলেই পবিত্র হয়ে যায়
পাকা বা টাইলস বিছানো মেঝেতে শিশুরা প্রস্রাব করলে জায়গাটি ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলার দ্বারা প্রস্রাবের চিহ্ন ও দুর্গন্ধ দূর হয়ে গেলে পাক হয়ে যাবে, তাতে নামাজ পড়াও বৈধ হবে। পানি ঢেলে ধোয়া আবশ্যক নয়। (আদ্দুররুল মুখতার ১/৩১১, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ৫/২৮৪)
নাপাক মেঝে শুকিয়ে পাক হওয়ার পর তাতে পানি পড়লে পুনরায় নাপাক হবে না, বরং পাক-ই গণ্য হবে। তদ্রূপ অজুর পরে ভিজা পায়ে তাতে হেঁটে গেলেও পা নাপাক হবে না। (হালবি কাবির, পৃষ্ঠা ১৫৪, আলবাহরুর রায়েক : ১/৩৯৪)
গোবর দ্বারা লেপনকৃত স্থানে নামাজ পড়া
মাটি মিশ্রিত করে গোবর দ্বারা জমি লেপা হলে এমতাবস্থায় জমি শুকিয়ে গোবরের চিহ্ন ও দুর্গন্ধ দূর হয়ে গেলে তা পাক হয়ে যাবে বিধায় তাতে নামাজ পড়া যাবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৬২, কাসেমিয়া ৫/৫৭৭)
নাপাক স্থানে বিছানা বিছিয়ে নামাজ পড়া
নাপাক স্থানে বিছানা বিছিয়ে নামাজ পড়া অবস্থায় বিছানা এমন মোটা হলে যাতে এপাশ-ওপাশ দেখা না যায় এবং নাপাকির প্রভাব বিছানায় প্রকাশ না পায়- তাতে নামাজ শুদ্ধ হবে। আর বেশি পাতলা হলে যার কারণে নাপাকি অনুভূত হয়, তাহলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। (রদ্দুল মুহতার ২/৭৪, কাসেমিয়া ৫/৫৭৮)
সেপটিক ট্যাংক, নাপাক নালা ইত্যাদির ছাদে নামাজ পড়া
সেপটিক ট্যাংক, নাপাক নালা ইত্যাদির ছাদের ওপর নামাজ শুদ্ধ হবে। কেননা ছাদ বা তার উপরিভাগ পাক, যদিও তার নিচে নাপাকির অবস্থান আছে। কোনো কোনো মসজিদের নিচতলায় বা এক পাশে টয়লেট ইত্যাদি থাকে, সেগুলোর ওপরতলায় নামাজের ব্যবস্থা থাকলে তাতে নামাজ পড়তেও কোনো অসুবিধা নেই। (রদ্দুল মুহতার ২/৭৪)
কোনো স্থানের পাক-নাপাক না জানলে করণীয়
কোনো স্থানের পাক-নাপাক জানা না থাকলে তাতে নাপাকির কোনো চিহ্ন স্পষ্ট না হলে জমিটি পবিত্র বলে গণ্য হবে। সন্দেহবশত কোনো জমিকে নাপাক বলা যাবে না। জাবের (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমার জন্য গোটা জমিনকে নামাজের স্থান এবং পবিত্রকারী হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাই আমার উম্মতের যেখানেই নামাজের সময় হবে সেখানেই নামাজ পড়ে নেবে। (বুখারি, হাদিস : ৩৩৫)
তদ্রূপ নতুন-পুরনো বিছানা-পাটি ইত্যাদিতে নাপাকির চিহ্ন না থাকলেই তাতে নামাজ পড়া যাবে। অহেতুক সন্দেহের প্রয়োজন নেই। (আজিজুল ফাতাওয়া, পৃষ্ঠা ১৯৩)
রাস্তাঘাটের কাদামাটি ও পানির বিধান
কোনো স্থানকে শুধু সন্দেহবশত নাপাক বলা যাবে না। নাপাকির ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পাক হিসেবেই বিবেচিত হবে। রাস্তাঘাটের আবর্জনাযুক্ত পানি ও কাদায় নাপাকির আলামত পরিলক্ষিত না হলে তা নাপাক বলে গণ্য হবে না এবং উক্ত পানির ছিটা শরীর বা কাপড়ে লাগলেও নাপাক হবে না। তবে নাপাকির চিহ্ন, রং বা দুর্গন্ধ অনুভূত হলে নাপাক বলা হবে। (রদ্দুল মুহতার ১/৩২৪)
মোটা কার্পেট নাপাক হলে পবিত্র করার পদ্ধতি
কার্পেটের কোনো অংশে নাপাক লাগলে শুধু ওই অংশই নাপাক হবে, পুরো কার্পেট নাপাক হবে না। তাই পাক করার জন্য ওই অংশে পানি ঢেলে এমনভাবে রেখে দেবে যাতে পানি সম্পূর্ণ ঝরে যায়। এভাবে তিনবার করলে কার্পেটটি পাক হয়ে যাবে। হ্যাঁ, যদি একবারও এমনভাবে পানি ঢালা হয়, যাতে ওই নাপাকি দূর হওয়ার বিষয়ে ধৌতকারীর প্রবল ধারণা হয়ে যায়, তাহলে একবার ভালোভাবে ধোয়ার দ্বারাও পবিত্র হবে। আর গাঢ় নাপাক যেমন পায়খানা ইত্যাদি লাগলে ওই নাপাকির চিহ্ন ও দুর্গন্ধ দূর করে ফেললেই পাক হয়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতার ১/৩১০)
যদি কার্পেটের বিভিন্ন স্থানে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব পড়ে এবং শুকিয়ে যাওয়ার কারণে প্রস্রাব পড়ার স্থান চিহ্নিত করা অসম্ভব হয়, তখন অনুমান করে কার্পেটের সন্দেহযুক্ত অংশগুলো ধুয়ে ফেললে পুরো কার্পেট পাক হয়ে যাবে। তবে সম্ভব হলে পূর্ণ কার্পেটই ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নেওয়া উত্তম। (রদ্দুল মুহতার ১/৩২৮, আহসানুল ফাতাওয়া ২/৯২)
Source: মুফতি মাহমুদ হাসান: শিক্ষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা
May be an image of scorpion grass
Like
Comment
Share

Saturday, December 2, 2023

আন্ডা সমাচার

 ডিমকে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একে বলা হয় সুপার ফুড। এতে উচ্চ প্রোটিন, প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। অনেকে কোলেস্টেরলের ভয়ে ডিম খান না। কিন্তু এটি ঠিক নয়। কারণ, একটি ডিমে ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে, যা খুব বেশি নয়।

একটি সিদ্ধ ডিমে রয়েছে ৭৮ ক্যালরি, ৬ দশমিক ৩ গ্রাম প্রোটিন, ৫ দশমিক ৩৪ গ্রাম ফ্যাট ও সামান্য কার্বোহাইড্রেট। এ ছাড়া রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, আয়োডিন, সেলেনিয়াম, ফসফোরিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন বি৫, ভিটামিন ডি, জিংক, ফোলেট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কোলিন, লুটেইন, Zeaxanthin
ডিম খাওয়ার নিয়ম
কেউ যদি ক্যালরি, ওজন বা কোলেস্টেরল কমানোর কথা চিন্তা করেন অথবা ফ্যাটি লিভারের কথা ভাবেন, তাহলে তাঁরা ডিম সিদ্ধ বা পানিতে পোচ করে খাবেন। কারণ, এখানে কোনো তেল থাকবে না।
ডিমের পুষ্টি সর্বাধিক পেতে যতটা সম্ভব কম তাপমাত্রায় স্বল্প সময়ে রান্না করুন।
প্রচলিত ডিমের চেয়ে অরগানিক ডিম বেশি পুষ্টিকর। দেশি প্রাকৃতিক চারণ করা মুরগির ডিমে ভিটামিন এ, ই, ওমেগা থ্রি ও ভিটামিন ডি প্রচলিত ডিমের চেয়ে তিন গুণ বেশি। এ ছাড়া ওমেগা থ্রি যুক্ত ডিমে উপকারী চর্বি বেশি। তাই হৃদ্‌রোগ, কোলেস্টরল ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই ডিম ভালো।
ডিম রান্নার ক্ষেত্রে ভালো তেল নির্বাচন করা উত্তম। যেমন অ্যাভোকাডো ও এক্সট্রা ভার্জিন জলপাই তেল।
ডিমে কোনো ফাইবার থাকে না। ডিমের সঙ্গে ফাইবার তথা আঁশ হিসেবে খেতে পারেন পালংশাক, বাঁধাকপি, ব্রকলি, ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ, মরিচ ইত্যাদি।
ডিম চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন হওয়ায় একে সামান্য তেল দিয়ে খেলে সহজে শরীরে শোষিত হবে। তবে অবশ্যই বেশি তেল দিয়ে দীর্ঘ সময় ভাজবেন না।
লক্ষণীয়
ডিম কাঁচা বা অল্প পোচ করে খাবেন না। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুরা। এতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।
কোলেস্টেরল বেশি না থাকলে বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি না থাকলে ডিম অল্প তেল যোগ করে খেতে পারেন। কারণ, ডিম সিদ্ধ থেকে ডিম ভেজে খেলে প্রায় প্রতিটি ভিটামিন বেশি পাওয়া যায়। বিশেষ করে শিশুদের এভাবে দিন।
ডিমের মধ্যে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান ভালো থাকায় ডিম খাওয়ার পর চা, চিনিযুক্ত খাবার, দুধ বা সয়াজাতীয় খাবার খাবেন না।
ডিম যেহেতু প্রোটিনের ভালো উৎস, তাই প্রোটিনের চাহিদা ও অন্য প্রোটিন খাবার কেমন খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে ডিম খেতে হবে।
ডিম ধরার পর অবশ্যই হাত সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেবেন।
prothomalo
May be an image of egg yolk
All reactions:

গালি দেওয়া

 যেসব কথা দ্বারা কাউকে খাটো বা হেয় করা হয় তাই গালি। মানুষ তাদের পরিভাষায় যেসব শব্দকে গালি, উপহাস ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মনে করে শরীয়তের দৃষ্টিতে তাই গালি হিসেবে বিবেচিত। গালি দেওয়া ও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলা কোনো ঈমানদার মানুষের জন্য শোভনীয় নয়। এমনকি শয়তানকেও গালি দেওয়া যাবে না।

১. আল্লাহ ও রাসুলকে গালি দেওয়া কুফরি : মহান আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলকে গালমন্দ করা, তাঁদের ব্যাপারে খারাপ মন্তব্য করা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা কটাক্ষ করা বড় কুফরি। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে গালি দেওয়া ও তাঁদের সঙ্গে উপহাস করা মূলত তাদের কষ্ট দেওয়া। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তার রাসুলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশাপ করেন এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক শাস্তি।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৭)
২. ঈমানদারদের গালি দেওয়া ফাসেকি : যৌক্তিক বা অযৌক্তিক কোনো ভাবেই কাউকে গালি দেওয়ার অনুমতি ইসলামে নেই। এমনকি হাসি-কৌতুক ও ঠাট্টাচ্ছলেও অন্যকে গালি দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে অশোভনীয় ও নিন্দনীয়। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি [আল্লাহর অবাধ্যাচরণ] এবং তার সঙ্গে লড়াই ঝগড়া করা কুফরি।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৪৪)
৩. সময়কে গালি দেওয়া যাবে না : আরব মুশরিকরা কোনো বিপদ বা পরীক্ষায় পতিত হলে সময়কে গালি দিত। এটি বড় অন্যায়। কারণ সময়ের ভালো ও মন্দ পরিবর্তন করেন স্বয়ং মহান আল্লাহ। তাই সময়কে গালি দিলে সেটি আল্লাহকে গালি দেওয়ার নামান্তর। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলেছেন, মানুষ সময়কে গালি দিয়ে আমাকে কষ্ট দেয়। অথচ আমিই সময় (সময়ের স্রষ্টা), সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে, আমি রাত-দিনের পরিবর্তন করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৯১)
৪. অন্য ধর্মের উপাস্যকে গালি দেওয়া যাবে না : কোনো ধর্মের উপাস্য বা দেব-দেবীদের গালি দেওয়া যাবে না। কটূক্তি বা সম্মানহানীকর কোন কথা বলা যাবে না। পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট করে এ ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাদের আরাধনা করে, তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না। তাহলে তারা ধৃষ্টতা দেখাতে গিয়ে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গাল-মন্দ করবে। এমনিভাবে আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তাদের কাজ-কর্মকে সুশোভিত করে দিয়েছি। অতপর স্বীয় পালনকর্তার কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদের বলে দেবেন যা কিছু তারা করত।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১০৮)
৫. মা-বাবা তুলে গালি দেওয়া যাবে না : সাধারণত প্রত্যেকেই নিজের মা-বাবাকে ইজ্জত-সম্মান করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় অন্যকে মা-বাবা তুলে গালি দেওয়ার কারণে সেও তার মা-বাবা তুলে গালি দেয়। এতে নিজের মা-বাবাকে সরাসরি গালি না দিলেও নিজের কারণে অন্যের গালি দেওয়ার পথ তৈরি হয়। এটিও করা যাবে না। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো নিজের বাবা-মাকে অভিশাপ করা।’ জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! মানুষ নিজের বাবা-মাকে কীভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বললেন, ‘যখন কোন লোক অন্য লোকের বাবাকে গালি দেয়, তখন সেও তার বাবাকেও গালি দেয়, মাকে গালি দেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৩)
৬. পশু-পাখিকে গালি দেওয়া যাবে না : পশু-পাখি ও বৃক্ষ-তরুলতা সবই মহান আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি। তারা প্রতিনিয়ত মানুষকে সেবা দিয়ে চলেছে। মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এগুলো দ্বারাই পূরণ হয়। কাজেই এ সবের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। গালিও দেওয়া যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা মোরগকে গালি দিয়ো না। কারণ, সে নামাযের জন্য জাগিয়ে থাকে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১০৩)
৭. মৃতদের গালি দেওয়া যাবে না : মৃত মানুষরা তাদের জীবনের অধ্যায় শেষ করে তাদের কৃতকর্মের প্রাপ্তিস্থানে পৌঁছে গিয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়া বা প্রাপ্তির কিছু নেই। কাজেই তাদের ক্ষমা করা তাদের জন্য দোয়া করা উচিত। গালি দেওয়ার কিছু নেই। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা মৃতদের গালি দিয়ো না। যেহেতু তারা নিজেদের কৃতকর্মের পরিণতি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৯৩)
৮. রোগ-ব্যাধিকে গালি দেওয়া যাবে না : রোগ-ব্যাধিকে গালি দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার উম্মে সায়েব কিংবা উম্মে মুসাইয়িবের কাছে প্রবেশ করে বলেন, হে উম্মে সায়েব কিংবা উম্মে মুসাইয়িব! তোমার কি হয়েছে যে থরথর করে কাঁপছ? সে বলল, জ্বর হয়েছে; আল্লাহ তাতে বরকত না দেন।’ (এ কথা শুনে) তিনি বলেন, জ্বরকে গালি দিয়ো না। জ্বর তো আদম সন্তানের পাপ মোচন করে; যেমন হাপর (ও ভাটি) লোহার ময়লা দূর করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৩৫)
৯. বাতাসকেও গালি দেওয়া যাবে না : আল্লাহই বান্দার সুখ, শান্তি, সফলতা এবং কল্যাণ প্রদান করেন। অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা, জলচ্ছ্বাস, ঝড়, টর্নেডো, মহামারি ইত্যাদিকে গালি দিয়ে লাভ নেই। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি। বাতাস আল্লাহর এক হুকুম, তা কখনো রহমত নিয়ে আসে, আবার কখনো আজাব নিয়ে আসে। তুমি যখন বাতাসকে দেখবে, তখন তাকে গালি দেবে না, বরং আল্লাহর কাছে এর থেকে কল্যাণ কামনা করবে এবং এর অকল্যাণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৯৭)
১০. শয়তানকেও গালি দেওয়া যাবে না : কোনো মানুষ, প্রাণি বা কোন কিছুকেই গালি দেওয়া যাবে না। এমনকি শয়তানকেও গালি দেওয়া যাবে না। এর অর্থ এই নয় যে শয়তান তাওবা করে ভালো হয়েছে। বরং শয়তান অভিশপ্ত ও খারাপ হয়েই আছে। তাকে গালি দিলেও সে সংশোধন হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা শয়তানকে গালি দিয়ো না। বরং তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো।’ (সহিহুল জামি, হাদিস : ৭৩১৮)
পরিশেষে বলা যায়, সবসময় গালমন্দ ও অশ্লীল বাক-বিনিময় থেকে বেঁচে থাকতে হবে এবং মার্জিত ও শ্রুতিমধুর শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করতে হবে।
Ref: ড. আবু সালেহ মুহাম্মদ তোহা, সহযোগী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।যেসব কথা দ্বারা কাউকে খাটো বা হেয় করা হয় তাই গালি। মানুষ তাদের পরিভাষায় যেসব শব্দকে গালি, উপহাস ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মনে করে শরীয়তের দৃষ্টিতে তাই গালি হিসেবে বিবেচিত। গালি দেওয়া ও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলা কোনো ঈমানদার মানুষের জন্য শোভনীয় নয়। এমনকি শয়তানকেও গালি দেওয়া যাবে না।
১. আল্লাহ ও রাসুলকে গালি দেওয়া কুফরি : মহান আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলকে গালমন্দ করা, তাঁদের ব্যাপারে খারাপ মন্তব্য করা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা কটাক্ষ করা বড় কুফরি। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে গালি দেওয়া ও তাঁদের সঙ্গে উপহাস করা মূলত তাদের কষ্ট দেওয়া। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তার রাসুলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশাপ করেন এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক শাস্তি।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৭)
২. ঈমানদারদের গালি দেওয়া ফাসেকি : যৌক্তিক বা অযৌক্তিক কোনো ভাবেই কাউকে গালি দেওয়ার অনুমতি ইসলামে নেই। এমনকি হাসি-কৌতুক ও ঠাট্টাচ্ছলেও অন্যকে গালি দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে অশোভনীয় ও নিন্দনীয়। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি [আল্লাহর অবাধ্যাচরণ] এবং তার সঙ্গে লড়াই ঝগড়া করা কুফরি।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৪৪)
৩. সময়কে গালি দেওয়া যাবে না : আরব মুশরিকরা কোনো বিপদ বা পরীক্ষায় পতিত হলে সময়কে গালি দিত। এটি বড় অন্যায়। কারণ সময়ের ভালো ও মন্দ পরিবর্তন করেন স্বয়ং মহান আল্লাহ। তাই সময়কে গালি দিলে সেটি আল্লাহকে গালি দেওয়ার নামান্তর। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলেছেন, মানুষ সময়কে গালি দিয়ে আমাকে কষ্ট দেয়। অথচ আমিই সময় (সময়ের স্রষ্টা), সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে, আমি রাত-দিনের পরিবর্তন করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৯১)
৪. অন্য ধর্মের উপাস্যকে গালি দেওয়া যাবে না : কোনো ধর্মের উপাস্য বা দেব-দেবীদের গালি দেওয়া যাবে না। কটূক্তি বা সম্মানহানীকর কোন কথা বলা যাবে না। পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট করে এ ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাদের আরাধনা করে, তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না। তাহলে তারা ধৃষ্টতা দেখাতে গিয়ে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গাল-মন্দ করবে। এমনিভাবে আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তাদের কাজ-কর্মকে সুশোভিত করে দিয়েছি। অতপর স্বীয় পালনকর্তার কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদের বলে দেবেন যা কিছু তারা করত।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১০৮)
৫. মা-বাবা তুলে গালি দেওয়া যাবে না : সাধারণত প্রত্যেকেই নিজের মা-বাবাকে ইজ্জত-সম্মান করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় অন্যকে মা-বাবা তুলে গালি দেওয়ার কারণে সেও তার মা-বাবা তুলে গালি দেয়। এতে নিজের মা-বাবাকে সরাসরি গালি না দিলেও নিজের কারণে অন্যের গালি দেওয়ার পথ তৈরি হয়। এটিও করা যাবে না। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো নিজের বাবা-মাকে অভিশাপ করা।’ জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! মানুষ নিজের বাবা-মাকে কীভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বললেন, ‘যখন কোন লোক অন্য লোকের বাবাকে গালি দেয়, তখন সেও তার বাবাকেও গালি দেয়, মাকে গালি দেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৩)
৬. পশু-পাখিকে গালি দেওয়া যাবে না : পশু-পাখি ও বৃক্ষ-তরুলতা সবই মহান আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি। তারা প্রতিনিয়ত মানুষকে সেবা দিয়ে চলেছে। মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এগুলো দ্বারাই পূরণ হয়। কাজেই এ সবের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। গালিও দেওয়া যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা মোরগকে গালি দিয়ো না। কারণ, সে নামাযের জন্য জাগিয়ে থাকে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১০৩)
৭. মৃতদের গালি দেওয়া যাবে না : মৃত মানুষরা তাদের জীবনের অধ্যায় শেষ করে তাদের কৃতকর্মের প্রাপ্তিস্থানে পৌঁছে গিয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়া বা প্রাপ্তির কিছু নেই। কাজেই তাদের ক্ষমা করা তাদের জন্য দোয়া করা উচিত। গালি দেওয়ার কিছু নেই। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা মৃতদের গালি দিয়ো না। যেহেতু তারা নিজেদের কৃতকর্মের পরিণতি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৯৩)
৮. রোগ-ব্যাধিকে গালি দেওয়া যাবে না : রোগ-ব্যাধিকে গালি দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার উম্মে সায়েব কিংবা উম্মে মুসাইয়িবের কাছে প্রবেশ করে বলেন, হে উম্মে সায়েব কিংবা উম্মে মুসাইয়িব! তোমার কি হয়েছে যে থরথর করে কাঁপছ? সে বলল, জ্বর হয়েছে; আল্লাহ তাতে বরকত না দেন।’ (এ কথা শুনে) তিনি বলেন, জ্বরকে গালি দিয়ো না। জ্বর তো আদম সন্তানের পাপ মোচন করে; যেমন হাপর (ও ভাটি) লোহার ময়লা দূর করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৩৫)
৯. বাতাসকেও গালি দেওয়া যাবে না : আল্লাহই বান্দার সুখ, শান্তি, সফলতা এবং কল্যাণ প্রদান করেন। অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা, জলচ্ছ্বাস, ঝড়, টর্নেডো, মহামারি ইত্যাদিকে গালি দিয়ে লাভ নেই। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি। বাতাস আল্লাহর এক হুকুম, তা কখনো রহমত নিয়ে আসে, আবার কখনো আজাব নিয়ে আসে। তুমি যখন বাতাসকে দেখবে, তখন তাকে গালি দেবে না, বরং আল্লাহর কাছে এর থেকে কল্যাণ কামনা করবে এবং এর অকল্যাণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৯৭)
১০. শয়তানকেও গালি দেওয়া যাবে না : কোনো মানুষ, প্রাণি বা কোন কিছুকেই গালি দেওয়া যাবে না। এমনকি শয়তানকেও গালি দেওয়া যাবে না। এর অর্থ এই নয় যে শয়তান তাওবা করে ভালো হয়েছে। বরং শয়তান অভিশপ্ত ও খারাপ হয়েই আছে। তাকে গালি দিলেও সে সংশোধন হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা শয়তানকে গালি দিয়ো না। বরং তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো।’ (সহিহুল জামি, হাদিস : ৭৩১৮)
পরিশেষে বলা যায়, সবসময় গালমন্দ ও অশ্লীল বাক-বিনিময় থেকে বেঁচে থাকতে হবে এবং মার্জিত ও শ্রুতিমধুর শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করতে হবে।
Ref: ড. আবু সালেহ মুহাম্মদ তোহা, সহযোগী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
May be an image of tree

Friday, December 1, 2023

যাদের ফুলকপি না খাওয়াই ভালো!

 যাদের ফুলকপি না খাওয়াই ভালো!

শীতকাল মানে সুস্বাদু সবজির সমারোহ। শীতকালীন সবজির মধ্যে আইকন বা একেবারে প্রতীকী সবজি হচ্ছে ফুলকপি। ভাজি, মাছ দিয়ে ঝোল, বেসন দিয়ে ভাজা ফুলকপির কথা ভাবলেই জিভে আসে পানি। কিন্তু অতিরিক্ত ফুলকপি খাওয়ার কিছু অসুবিধার কথা কি আমরা জানি
খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক ওয়েবসাইট ইটদিসনটদ্যাট-এ প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে জেনে নেওয়া যাক অতিরিক্ত ফুলকপির কয়েকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা-
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে ফুলকপিতে সাবধানতা
ফুলকপি হল ক্রুসিফেরাস গোত্রের সবজি, একই রকম সবজি যেমন বাঁধাকপি, ব্রকলি। আর এসব সবজিতে ব়্যাফিনোস নামক একটি কমপ্লেক্স সুগার রয়েছে যা কিনা সহজে হজম হতে চায় না।
বরং এই উপাদানের কারসাজিতে অন্ত্রে গ্যাসের প্রকোপ বাড়ে। আর এই কারণেই বেশি বেশি ফুলকপি কিংবা যেকোনো কপি খেলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি সহ গ্যাসট্রাইট্রিসের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে।
বিশেষত, যারা ইতিমধ্যেই আইবিএস, আইবিডি-এর মতো সমস্যায় ভুগছেন, তাদের এই সবজি থেকে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
হাইপোথাইরয়েডিজমের ব্যাপারে সাবধান
ফুলকপিতে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট আইসোথিওসায়ানেটেস নামের একধরনের অণু উতপাদন করে, যা কিনা আপনার দেহের আয়োডিন শোষণ মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে যাদের খাবারে আলাদাভাবে কম আয়োডিন থাকে তারা ফুলকপি বেশিমাত্রায় খেলে আয়োডিনের অভাব বেড়ে যেতে পারে। শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি থেকে জন্ম নিতে পারে হাইপোথাইরয়েডিজম। যারা ইতিমধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত তারা ফুলকপিসহ অন্যান্য কপি এড়িয়ে চলাই ভাল।
রক্ত তরল করার ওষুধের সঙ্গে বিক্রিয়ার সম্ভাবনা
স্ট্রোক এবং হার্টের অসুখে আক্রান্তদের চিকিতসকেরা ব্লাড থিনার বা রক্ত তরল করার ওষুধ দিয়ে থাকেন। তবে ফুলকপিতে মজুত থাকা ভিটামিনকে এই ওষুধের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ব্লাড ক্লট বা জমাট তৈরি করতে পারে। তাই এরকম ওষুধ খেলে ফুলকপি থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।
অ্যালার্জি ও ক্ষুধা মন্দা
ফুলকপিতে মজুত থাকা কিছু উপাদান অনেকের সহ্য হয় না। কারও কারও এই সবজি খেলে ব়্যাশের উঠতে পারে, হতে পারে চুলকানিও।
আবার ফুলকপিতে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ইত্যাদি উপাদান কম কিন্তু ফাইবারে ভরপুর। এজন্য যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য ফুলকপি খাওয়া উত্তম। কারণ এতে পেট ভরা থাকে ক্ষুধা কম পায়।
তবে যারা ইতিমধ্যে কম ওজনের এবং অন্যান্য পুষ্টিউপাদানের স্বল্পতায় ভুগছেন তাদের জন্য ফুলকপি ক্ষুধামন্দার কারণ হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
দ্রষ্টব্যঃ প্রতিবেদনটি সাধারণ সচেতনতার জন্য। কোনো আতঙ্ক ছড়ানো কিংবা কোনো কিছু খেতে নিরুতসাহিত করতে নয়। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে অবশ্যই আপনার চিকিতসকের পরামর্শ নেবেন।