Friday, April 4, 2025

ঈমানে মুজমাল ও ঈমানে মুফাসসাল

 ঈমান

ঈমানের আসল বস্তু তাওহীদ। এক কথায় তাওহীদ শব্দের অর্থ একাত্ব-বাদ । কিন্তু ইহার ব্যাপক ও ব্যবহারিক অর্থ কয়েক প্রকারে বিভক্ত । প্রথমতঃ ইহার অর্থ আল্লাহপাকের সর্বত ভাবে এক জানা, কাহাকেও তাঁহার সমকক্ষ মনে না করা । তাঁহার সাথে কাহাকেও চিন্তায়, কল্পনায় বা কর্মে অংশীদার স্থাপন না করা এবং ‘আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই’ এই কথার উপর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করিয়া একমাত্র তাঁহারই উপর উপাসনায় রত হওয়া ।
এই সম্পর্কে আল্লাহপাকের একটি পবিত্র কালাম এই যে
وَمَا اُمِرُوْا اِلاَّلِيَعْبُدُ اللهَ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ حُنَفَاءَ-
অর্থৎ-তাহাদিগকে অন্য সব দেব-দেবীর পূজা ছাড়িয়া (খালেছ ভাবে) শুধুমাত্র এক আল্লাহপাকের এবাদত করার জন্য আদেশ করা হইয়াছে।
১. ঈমানে মুজমাল :
امنت بالله كما هو باسمائه وصفاته وقبلت جميع احكامه و اركانه
উচ্চারাণঃ- আমানতু বিল্লাহি কামা হুয়া বি আসমায়িহী ওয়া ছিফাতিহী ওয়াক্বাবিলতু জামিয়া আহ্‌কামিহী ও আরকানিহী।
অর্থঃ- সর্বমহান সুন্দর নাম ও গুণ বিশিষ্ট আল্লাহ্ তা'আলার উপর ঈমান আনলাম এবং তাঁর আদেশাবলী ও নিষেধসমূহ মেনে নিলাম।
২. ঈমানে মুফাসসাল :
ইমান অর্থ বিশ্বাস, মুফাসসাল অর্থ বিস্তৃত বা বিস্তারিত; ‘ইমানে মুফাসসাল মানে হলো ইমান ও ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ।
آمَنْتُ بِاللّٰهِ وَمَلٰئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَالْقَدْرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ مِنَ اللّٰهِ تَعَالٰى وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ.
এটি হলো: ‘আমানতু বিল্লাহি, ওয়া মালায়িকাতিহি, ওয়া কুতুবিহি, ওয়া রাসুলিহি, ওয়াল ইয়াওমিল আখিরি, ওয়াল কদরি খয়রিহি ওয়া শাররিহি মিনাল্লাহি তাআলা, ওয়াল বাআছি বাদাল মাউত।’
অর্থাৎ: আমি বিশ্বাস আনলাম আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, কিয়ামতের দিনের প্রতি; তাকদিরের প্রতি, ভাগ্যের ভালো-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে; মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি।’ (শুআবুল ইমান)।
ইমানে মুফাসসালের বিশেষ তাৎপর্য
ইমানে মুফাসসালে অতীব গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক সাতটি বিষয় বিবৃত হয়েছে, যা প্রতিটি বিশ্বাসী মোমিন বিনা বাক্যব্যয়ে স্বীকার করবেন।
এই সাতটি বিষয় যথাক্রমে:
১. আল্লাহ,
২. ফেরেশতা,
৩. কিতাব,
৪. রাসুল,
৫. কিয়ামত,
৬. তাকদির ও
৭. পরকাল।
কালিমা তাইয়েবাতে এবং কালিমা শাহাদাতে ইমান বলতে শুধু আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর প্রতি বিশ্বাস করাকে বোঝানো হয়েছে।
ইমানের মূল তিনটি বিষয় হলো:
১. তওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ,
২. রিসালাত বা নবী-রাসুলদের প্রতি বিশ্বাস ও
৩. আখিরাত বা পরকালের প্রতি বিশ্বাস।
এই মর্মে কোরআন করিমে বলা হয়েছে: ‘(মুত্তাকিন তথা সাবধানি মুমিন তারা) যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে, আমি যে রিজিক তাদের দিয়েছি তা হতে ব্যয় করে, আর যারা বিশ্বাস করে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার পূর্বে, আর তারা পরকালে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ৩-৪)।
ইমানের প্রকার ও প্রকরণ
ইমান ও ইসলামের পরিপূর্ণ বিবরণের নির্দেশনা রয়েছে ইমানে মুফাসসালে। হাদিস শরিফে আছে: ইমানের ৭৭টি শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এর প্রথমটি হলো (কালিমা তাইয়েবা) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’ (আল্লাহ ছাড়া মাবুদ নাই, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহ তাআলার রাসুল)। শেষটি হলো ‘রাস্তা বা পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা।’ (বুখারি)।
ইমান বা বিশ্বাসের ৭৭টি শাখা তিন ভাগে বিভক্ত।
ক. প্রথম ৭টি মুখ বা বাক্শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট,
খ. দ্বিতীয় ৩০টি মন বা বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও
গ. তৃতীয় ৪০টি শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা কর্মের সঙ্গে সংযুক্ত।
মুখের জবানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইমানের ৭টি বিষয়
১. আল্লাহর একত্ব মুখে স্বীকার করা।
২. কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করা।
৩. দিনি ইলম শিক্ষা করা।
৪. দিনি ইলম শিক্ষা দেওয়া ও দিনের প্রচার করা।
৫. দোয়া করা নিজের ও অন্যের কল্যাণ কামনা করা)।
৬. জিকির করা (আল্লাহর গুণাবলি আলোচনা করা)। স্থান, কাল, পাত্র ও বিষয় নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট মাছনুন দোয়াসমূহ অন্যতম জিকির।
৭. বাহুল্য কথাবার্তা বলা ও শোনা থেকে বিরত থাকা।
আখিরাত বিশ্বাসের স্বরূপ
মনের বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইমানের ৩০টি বিষয়
১. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস।
২. আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুকে তাঁরই সৃষ্টি এই বিশ্বাস।
৩. ফেরেশতাদের অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস।
৪. আসমানি কিতাবসমূহ বিশ্বাস।
৫. সকল নবী-রাসুলগণের (আ). প্রতি বিশ্বাস।
৬. ভালো-মন্দ তাকদিরেরওপর বিশ্বাস।
৭. কিয়ামত ও বিচার দিবসের প্রতি বিশ্বাস।
৮. জান্নাত বা বেহেশতের প্রতি বিশ্বাস।
৯. জাহান্নাম বা দোজখের প্রতি বিশ্বাস।
১০. আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও মহব্বত।
১১. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অন্যদের প্রতি ভালোবাসা।
১২. নবীজি (সা.)-কে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা করা।
১৩. সকল কর্মে রাসুল (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ করা।
১৪. যেকোনো কাজ ইখলাছের সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা।
১৫. রিয়াকারী (আত্মপ্রদর্শন. ও মোনাফেকি পরিত্যাগ করা।
১৬. সর্বক্ষণ অন্তরে আল্লাহর ভয় রাখা।
১৭. আল্লাহর রহমতের আশা রাখা।
১৮. কখনো কোনো গুনাহের কাজ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই তওবা করা।
১৯. সদা সর্বদা কথায় ও কাজে আল্লাহ তাআলার নিয়ামতসমূহের শুকর করতে থাকা।
২০. বৈধ ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি)পালন করা।
২১. শাহ্ওয়াত বর্জন (অর্থাৎ কাম রিপুকে নিয়ন্ত্রণ) করা।
২২. বিপদে ধৈর্য ধারণ করা।
২৩. আল্লাহ তাআলা যখন যেই অবস্থায় রাখেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকা।
২৪. বিনয়ী হওয়া।
২৫. বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করা।
২৬. গর্ব ও অহংকার পরিত্যাগ করা।
২৭. হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করা।
২৮. রাগ-ক্রোধ দমন করা, কারও সঙ্গে মনোমালিন্য না রাখা।
২৯. দুনিয়ার (ধন-সম্পদের) মহব্বত না রাখা।
৩০. লজ্জা থাকা।
কর্মের সঙ্গে সংযুক্ত ইমানের ৪০টি বিষয়
১. পাক-পবিত্র ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা।
২. ছতর ঢাকা।
৩. নামাজ পড়া।
৪. জাকাত-উশর ও ছদকায়ে ফিতর এবং (দান-দক্ষিণা) প্রদান করা।
৫. দাস-দাসীকে মুক্তি দেওয়া।
৬. ছখী দানশীল বা উদার মনের অধিকারী হওয়া।
৭. কোরআন-হাদিস-ফিকাহ শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
৮. রোজা রাখা। রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করা ও শবে কদর তালাশ করা।
৯. হজ করা, কাবা শরিফ তাওয়াফ করা এবং মদিনা শরিফ জিয়ারত করা।
১০. হিজরত করা। যে দেশে বা যে সমাজে থেকে দিন-ইমান রক্ষা করা যায় না, সে দেশ বা সমাজ ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাওয়া বা পরিবর্তনের চেষ্টা করা।
১১. আল্লাহর ওয়াস্তে মানত করলে তা পূর্ণ করা।
১২. আল্লাহর নামে কোনো জায়েজ কাজে কছম করলে, তা পূরণ করা।
১৩. আল্লাহর নামে কছম করে তা ভঙ্গ করলে তার কাফ্ফারাহ আদায় করা। (নাজায়েজ কাজের কছম করলে তা ভঙ্গ করে কাফ্ফারাহ আদায় করা)।
১৪. কাম-রিপু প্রবল হলে বিবাহ করা।
১৫. স্ত্রী, সন্তানসন্ততি, পরিবার-পরিজন ও অধীনদের হক আদায়।
১৬. সন্তান প্রতিপালন করা এবং তাদের দিনি ইসলামের শিক্ষা দেওয়া।
১৭. আত্মীয়স্বজনের হক প্রদান করা ও তাদের সঙ্গে সদাচার করা।
১৮. আল্লাহর হুকুমের বিপরীত নয় এমন সব বিষয়ে মনিবের বা মালিকের অনুগত থাকা।
১৯. জায়েজ ও হালাল বিষয়ে ওস্তাদ, পীর, মুরব্বিদের অনুগত থাকা।
২০. পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচার করা।
২১. চাকর-বাকর, কর্মচারী ও অধীনদের প্রতি সদয় ব্যবহার করা।
২২. নেতৃবৃন্দ ও দায়িত্বশীলদের ন্যায়পরায়ণ ও দয়ালু হওয়া।
২৩. আহলুস সুন্নত ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত থাকা।
২৪. পরোপকার ও মানবকল্যাণে নিয়োজিত থাকা।
২৫. দায়িত্বশীলদের বৈধ নির্দেশ পালন করা।
২৬. সৎ কাজে সহযোগিতা করা ও অসৎ কাজে বাধা প্রদান করা।
২৭. অধীনদের শরিয়ত মতো পরিচালনা করা।
২৮. রাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষা করা।
২৯. আমানত রক্ষা করা। মুসলমানের জান, মাল ও ইজ্জত আমানত।
৩০. অভাবগ্রস্তকে কর্জে হাছানা (লাভবিহীন ঋণ) দিয়ে সাহায্য করা।
৩১. ঋণ পরিশোধ করা এবং পরিশোধের পূর্বে তা পরিশোধ করার দৃঢ় ইচ্ছা রাখা।
৩২. পাড়া-প্রতিবেশীর উপকার করা এবং তারা কোনো প্রকার কষ্ট দিলে বা ক্ষতি করলে তা অম্লান বদনে সহ্য করা।
৩৩. কাজ-কারবার, লেনদেন পরিষ্কার রাখা; পাওনা আদায় করতে কঠোরতা ও দেনা পরিশোধ করতে শিথিলতা না করা।
৩৪. মাপে বেশ-কম না করা; পণ্যে ভেজাল না দেওয়া।
৩৫. সুদ-ঘুষ ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা।
৩৬. সম্পদের সদ্ব্যবহার (বৈধভাবে উপার্জন ও জায়েজ পন্থায় ব্যয়) করা।
৩৭. সালামের জবাব দেওয়া ও হাঁচির উত্তর দেওয়া (দোয়া পড়া)।
৩৮. অবৈধ খেলাধুলা, রং-তামাশা ইত্যাদি হতে দূরে থাকা।
৩৯. ঈদের নামাজ আদায় করা ও কোরবানি করা।
৪০. রাস্তায় কষ্টদায়ক কোনো কিছু থাকলে তা অপসারণ করা। (বুখারি ও মুসলিম)।

সৌন্দর্যবর্ধক গাছ বিপজ্জনক হতে পারে!

 নান্দনিক রুচিবোধের বহিঃপ্রকাশে কিংবা গৃহসজ্জায় একটু প্রাণের ছোঁয়ার জন্য গাছের বিকল্প নেই। কংক্রিটের এই শহরে মাথা গুঁজে বাঁচার তাগিদে ইট-কাঠ-পাথরের কুঠুরিতেই আমরা খুঁজে নিই আপন আবাস। তবে বাসা তো শুধু অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই নয়, নিবিড় স্বস্তি আর একান্ত নিজের মতো থাকতেই চাওয়া–পাওয়ার প্রতিফলনে সাজিয়ে–গুছিয়ে বাসাকে আমরা বাড়িতে রূপান্তরিত করি। কর্মব্যস্ত জীবনের ব্যর্থতা সফলতাগুলো বাইরে রেখে বাড়ি ফেরার এই প্রণোদনা বাড়িয়ে তোলে সবুজের ছোঁয়া।

প্রকৃতির পরশ পেতে ছাদ, বারান্দা, সিঁড়িঘর এবং প্রবেশদ্বারে গাছ রাখি আমরা। আর অন্দরসজ্জায় ব্যবহৃত গাছের বাহার দেখা যায় ড্রয়িংরুমে, বেডরুমে, লিভিংরুমে কিংবা যেকোনো মানানসই জায়গায়। কিন্তু জানেন কি, সঠিক জ্ঞান না থাকলে প্রাণের প্রতিচ্ছবি ঘরে রাখা আপাতনিরীহ গাছ হতে পারে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির কারণ! মানতে কষ্ট হলেও এটাই সত্যি। বিশেষ করে বাড়িতে ছোট শিশু এবং পোষা প্রাণী থাকলে সৌন্দর্যবর্ধনে জনপ্রিয় অনেক গাছ হতে পারে মৃত্যুর কারণ। তাই জেনে নেওয়া ভালো কোন গাছগুলো হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হুমকি।
ক্রোটন বা পাতাবাহার
ক্রোটন বা পাতাবাহারের রূপে সব প্রকৃতিপ্রেমী মুগ্ধ। ফুল না ফুটলে কী হবে, পাতাতেই যে রং রূপের কারসাজি! আর তাই ঘরে-বাইরে বিভিন্ন জাতের পাতাবাহারের জনপ্রিয়তা। কিন্তু ক্ষতিকর গাছের তালিকায় পাতাবাহারের নাম দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। পাতাবাহারের বিষাক্ত রস ও বীজ অ্যালার্জি বা ত্বকের জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে। আর কোনোভাবে পেটে চলে গেলে মন খারাপ, বিরক্তি, বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হতে পারে। শুধু তাই নয়, ত্বকের কাটাছেঁড়ার মাধ্যমে রক্তে মিশে গেলে যদি দ্রুত চিকিৎসা না করা হয় তবে মৃত্যুও হতে পারে।
অ্যাগলোনিমা
পাতাবাহারের মতোই পাতার রং, নকশা, বৈচিত্র্য আর আকৃতির জন্য বিভিন্ন রকমের অ্যাগলোনিমার গ্রহণযোগ্যতা তুঙ্গে। যত্ন এবং আলো-বাতাস কম লাগে বলে ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে জনপ্রিয়। তবে দর্শনধারী হলেও গুণবিচারে অ্যাগলোনিমার রস বিপজ্জনক। কাজের সময় এই রস চামড়ায় লাগলে জ্বালাপোড়া তো হবেই, চোখে লাগলে ডাক্তারের কাছে দৌড়াতে হবে।
অ্যাডেনিয়াম
শৌখিন ইনডোর প্ল্যান্টের মধ্যে অ্যাডেনিয়ামের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই গাছের মনোমুগ্ধকর ফুলের রংবাহারে চোখ ফেরানো মুশকিল, ফুলদানি নয়—ঘরের কোণে অ্যাডেনিয়াম অন্দরসজ্জায় যোগ করে আভিজাত্য। ফুল ছাড়াও অ্যাডেনিয়ামগাছের আকৃতির আকর্ষণ এড়ানো মুশকিল। তবে জানেন কি, আফ্রিকান বেশ কিছু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী তাদের তিরের মাথায় বিষ দিতে অ্যাডেনিয়াম রস ব্যবহার করে! হ্যাঁ। এই গাছের মূল, কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা থেকে দুধের মতো বিষাক্ত রস নিঃসৃত হয়, যা ত্বক ও মিউকাস টিস্যুর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক নেশা হয়। মাত্রা কমবেশি হলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তাই যথাযথ সতর্কতা ছাড়া অ্যাডেনিয়াম হতে সাবধান।
মন্সটেরা
বড় বড় সবুজ পাতার লতানো গাছ—ঘরে বা বাইরে যেখানেই হোক না কেন, খুব সহজেই প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যায় মন্সটেরা। প্রতিকূল আলো-বাতাসে যত্ন ছাড়াই বাড়ে বলে সবুজপ্রেমী প্রায় প্রতি ঘরেই দেখা মেলে এই গাছের। জানার বিষয়, মন্সটেরা পাতার রস সংবেদনশীল ত্বক বা চোখে গেলে তীব্র প্রতিক্রিয়া করে। আর ভুল করে এই পাতা চিবিয়ে ফেললে তো কথাই নেই—মুখ ও গলা ফুলে যাওয়া, কণ্ঠস্বর বিকৃতি, ঠোঁট ও মুখ অবশ হয়ে যাওয়ার মতো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
আজালিয়া
ছবিতে, পোস্টারে কিংবা স্ক্রিনসেভারে প্রায়ই দেখা যায়, নানা রঙে রঙিন ফুলের ভূমিসজ্জায় সেজেছে প্রকৃতি। যার প্রধান কৃতিত্ব আজালিয়া ফুলের। এই ফুল যেমন রোদহীন স্থানেও চমৎকার ল্যান্ডস্কেপ তৈরি করে, তেমন অন্দরসজ্জায় যোগ করে অনন্য বসন্ত। শুধু ফুল নয়, আজালিয়া বনসাইশিল্পের জন্যও আদর্শ। তবে এই সৌন্দর্যের রয়েছে অ্যান্ড্রোমডোটক্সিন, যা নেশায় আচ্ছন্ন করে এবং শরীর অবশ করে দেয়। আজালিয়া পাতা পেটে গেলে বিষক্রিয়ায় বমি, খিঁচুনি, পেটে ব্যথা এবং ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অজ্ঞান হয়ে থাকতে পারে পূর্ণবয়স্ক মানুষ।
অ্যালোকেসিয়া
অ্যালোকেসিয়া। বাংলায় যাকে বলি কচু। গ্রামে হাটে-মাঠে-ঘাটে বা বাড়ির আনাচকানাচে গজিয়ে ওঠা অ্যালোকেসিয়াকে আগাছাজ্ঞান করলেও শহরে কিন্তু বেশ জনপ্রিয় সেমি–ইনডোর গাছ। অনেক জাতের মধ্যে সবুজ রঙের মখমলে তৈরি বড় বড় পাতার মতো দেখতে অ্যালোকেসিয়ার দামটাও নার্সারিতে নিতান্ত কম নয়। তবে এই গাছের রাইজোম বিশেষত বিপজ্জনক। তবু অ্যালোকেসিয়া ভোজ্য—মানে বাঙালির ভাতে ভর্তা, ভাজি, ঘন্ট বা ইলিশের মাথা দিয়ে চচ্চড়িতে কচুর কথা বলছি। কিন্তু এর কিছু প্রজাতিতে বিষাক্ত স্ফটিক রয়েছে, যা গলা চুলকানো, জিহ্বা অবশ হয়ে যাওয়া, জ্বলুনি এমনকি জিহ্বা ও গলা ফুলে গিয়ে শ্বাসরোধে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
ডাম্বকেন
এই গাছের আরেক নাম ডাইফেনব্যাকিয়া। এর সৌন্দর্য নিয়ে যেমন নতুন করে কিছু বলার নেই, তেমন দ্বিরুক্তি নেই বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায়। ডাম্বকেনের পাতার এবং কাণ্ডের রস অত্যন্ত বিষাক্ত, যা ত্বকে জ্বালাপোড়া বা ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে সংস্পর্শে গেলেই। উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, এই গাছ হাত দিয়ে ধরলে এবং ওই হাত দিয়ে চোখ ছুঁলে চোখে ভয়ানক অস্বস্তি বা জ্বলুনি হয়। চোখের এই প্রদাহ বেড়ে গেলে অন্ধত্বের আশঙ্কাও থাকে। এই গাছের যেকোনো অংশ খাওয়ার পর বা গলায় যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে একটি শিশুর মৃত্যু হতে পারে, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জীবনও খুব বেশি সময় থাকবে না।
এ ছাড়া স্পার্জ, সাইক্লেমন, ক্লিভিয়া, ব্রোভালিয়া, শ্যাফলার, ডেফোডিল, ইংলিশ আইভি, ক্যালাডিয়াম, টিউলিপ ইত্যাদি গাছেরও কমবেশি ক্ষতিকর দিক রয়েছে। তবে সঠিক তথ্য এবং যত্ন করার নিয়ম জানলে সব গাছই বাড়িকে সতেজ করে তুলবে। গাছের যত্নআত্তি করার সময় হাতে গ্লাভস ও চোখে চশমা ব্যবহার করলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। আর গাছ ক্ষতিকর হোক বা না হোক—অবুঝ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখাই ভালো। অনেক গাছ আবার বিড়াল ও কুকুরের জন্য ক্ষতিকর, তাই গাছ বাছাই এবং বাড়িতে আনার আগে পোষা প্রাণীদের কথা মাথায় রাখা উচিত।
সূত্র: দীপান্বিতা ইতি

Tuesday, April 1, 2025

Cloves

 Cloves: Safe for Daily Consumption For most people, 1–3 cloves per day (or about 1/4 to 1/2 teaspoon of ground clove) is safe. This provides health benefits without causing adverse effects.

What Happens If You Consume Too Much Clove?
Excessive consumption can lead to several side effects due to the high eugenol content in cloves:
Digestive Issues – Nausea, vomiting, diarrhea, and stomach irritation.
Liver Damage – High doses of eugenol can be toxic to the liver, especially in people with liver conditions.
Blood Thickening -- Because cloves are anticoagulants, they can make people who take blood thinners more likely to get a blood clot.
Low Blood Sugar (Hypoglycemia) – Overconsumption can significantly lower blood sugar levels, which may be dangerous for diabetics.
Allergic Reactions – In rare cases, excessive intake may trigger allergic symptoms like skin rashes or breathing difficulties.
Mouth Irritation – Too much clove or clove oil can cause burning sensations or sores in the mouth.
If you accidentally consume too much, drinking water and consuming bland foods may help dilute the effects. However, if you experience severe symptoms, seek medical attention.
No photo description available.
dus

ঈদুল ফিতরের মাহাত্ম্য

 ঈদ অর্থ আনন্দ, উৎসব। ফিতর অর্থ ভাঙা বা খোলা। ঈদুল ফিতর অর্থ রোজা ভাঙা বা খোলার আনন্দ। দীর্ঘ এক মাস দিবসে রোজা রেখে ঈদুল ফিতরের দিন ফজর থেকে রোজা খোলার আনন্দ পেতেই ইসলাম ঈদুল ফিতরের ব্যবস্থা করেছে।

যেমনটি রাসুল (সা.) ঘোষণা করেছেন, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সিয়াম পালনকারীদের জন্য দুটি আনন্দ আছে। এর মাধ্যমে সে অনাবিল আনন্দ লাভ করে। একটি হলো- যখন সে ইফতার করে তখন ইফতারির মাধ্যমে আনন্দ পায় (ঈদের মাধ্যমেও)। দ্বিতীয়টি হলো- যখন সে তার প্রভুর সঙ্গে মিলিত হবে তখন সে তার সিয়ামের জন্য আনন্দিত হবে।
(মুসলিম, হাদিস : ২৫৯৬)
ফলে এদিন রোজা রাখা সম্পূর্ণ হারাম। কারণ এদিন সবাই মহান রাব্বুল আলামিনের মেহমান হয়ে থাকে। এদিনে রোজা রাখার অর্থ হলো- আল্লাহর মেহমানদারি গ্রহণ না করে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করা। এ জন্য নবীজি সা. বলেন, এদিন কোনো রোজা নেই। -(বুখারি, হাদিস : ১৮৬৪)
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা ঈদের দিন ফেরেশতাদের মধ্যে রোজাদারদের নিয়ে গর্ব করে বলেন, ‘হে ফেরেশতারা, আমার কর্তব্যপরায়ণ প্রেমিক বান্দার বিনিময় কী হতে পারে?’ ফেরেশতারা বলেন, ‘হে প্রভু, পূর্ণরূপে পুরস্কার দান করাই তো তার প্রতিদান।’
আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব (রোজা) পালন করেছে। অতঃপর দোয়া করতে করতে ঈদগাহে গমন করেছে। সুতরাং আমার মর্যাদা, সম্মান, দয়া ও বড়ত্বের কসম, আমি তাদের দোয়া কবুল করব এবং তাদের মাফ করে দেব। ’ (শুআবুল ঈমান, ৩৭১৭, মিশকাত : ২০৯৬)
তবে মনে রাখতে হবে, ইসলাম অন্য ধর্মের মতো শুধু অনুষ্ঠানসর্বস্ব কোনো ধর্ম নয়।
এর প্রতিটি বিধানে অন্তর্নিহিত রয়েছে ইবাদতের স্বাদ। ঈদও মুসলিম উম্মাহর জন্য এমন একটি ইবাদতের নিয়ামত। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ইদানীং ঈদের মতো মহিমান্বিত উৎসবে বিভিন্ন কুপ্রথার অনুপ্রবেশ ঘটছে। ঈদকে যদি আমরা সত্যিকার অর্থে ইবাদত হিসেবে পালন করতে চাই, তাহলে আমাদের কোরআন-হাদিসের বিধি-নিষেধ মেনেই এই ইবাদত পালন করার প্রতি ব্রতী হতে হবে। অন্যথায় এটি আমাদের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না। কুপ্রথার চাদরে ঢাকা গুনাহময় ঈদ কারো গুনাহ মাফ করাতে পারবে না, কারো মর্যাদা বৃদ্ধি করবে না। উপরন্তু তা হবে আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ।
তাই আসুন, আমরা ঈদের পবিত্রতা বজায় রাখি। ঈদকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সব ধরনের গুনাহ থেকে নিজেদের বিরত রাখি। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।
May be an image of text
other

Eating etiquette

 Respect your Foods

Eating silently allows you to be completely involved with the food, chew it thoroughly, and greatly reduces the risk of choking. In many cultures, it is also seen as a sign of respect towards the food.
May be an image of text that says "sha 0..... Paeo Tips for Healthy Eating Eating Silently"
s