Monday, May 29, 2017

যদি আমি পারি, বাকি সবাই পারে, তা হলে তোমাকেও কেউ আটকাতে পারবে না

ফেল্টুস শিক্ষার্থী হলেন দেশসেরা
সফলদের জীবনীতে অনেকবারই হয়তো শুনেছেন যে পড়ালেখায় খুব একটা ভাল ছিলেন না। অনেকেই বলেন, ‘ওসব আগে সম্ভব ছিল। এখন দিন পাল্টে গেছে।এই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন ভারতের শিক্ষার্থী রুক্মিনী রায়ার। একসময় ফেল করা এই শিক্ষার্থী নিজেকে পাল্টে ফেলে ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (আইএস) পরীক্ষায় সারাদেশে হয়েছেন প্রথম
ভারতের চণ্ডীগড়ের রুক্মিনী রায়ার এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র আলোচিত। প্রচণ্ড প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কোনো বিশেষ কোচিং ছাড়াই প্রথম হয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ২০১১ সালের ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ( ইউপিএসসি) পরীক্ষাতেও সারাদেশে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছিলেন
ভারতীয় গণমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, এত ভালো ফলাফল করলেও একসময় তিনি ছিলেনফেল্টুস শিক্ষার্থী বোর্ডিং স্কুলে পড়ার সময় ফেল করেছিলেন তিনি
সাধারণত শিক্ষার্থীরা ফেল করার পর ভেঙে পড়ে। রুক্মিনীও ভেঙে পড়েছিলেন। তবে সেটাকে কাটিয়ে ছিনিয়ে প্রচণ্ড জেদ তুলেছিলেন মাথায়। সেই প্রত্যয়ী মনোভাবেই ছিনিয়ে এনেছেন বিজয়
২৯ বছর বয়সী রুক্মিনী মুম্বাইয়ের টাটা ইন্সটিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস থেকে সোশ্যাল এন্টারপ্রেনারশিপে স্নাতকোত্তর পর্ব শেষ করেছেন
২০০৫ সালে ভর্তি হয়েছিলেন স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সে। ২০০৮ সালে ডিস্টিংশন নম্বর নিয়ে স্বর্ণপদক পেয়ে পাস করেন রুক্মিনী
পড়াশোনা শেষ করে ভারতীয় সমাজকে ভাল করে জানার আগ্রহে কর্ণাটক মহারাষ্ট্রের দুটি এনজিওতে কাজ করেন তিনি। এরপর যোগ দেন প্ল্যানিং কমিশন অব ইন্ডিয়ার চাকরিতে। চাকরি করতেই করতেই সিদ্ধান্ত নেন পাবলিক সার্ভিসে যাওয়ার
২০১১ সালে ইউপিএসসি-তে পুরো দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছিলেন রুক্মিনী। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমাজবিদ্যা নিয়ে প্রথম চেষ্টাতেই উত্তীর্ণ হন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায়
কোনও বিশেষ কোচিং ছাড়াই আইএএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করার কৃতিত্ব পরিশ্রমকেই দিলেন রুক্মিনী। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের বলব- পরিশ্রম, লেগে থাকা আর লক্ষ্যে স্থির থাকাই সাফল্যের একমাত্র পথ। এখনই শুরু করো। যদি আমি পারি, বাকি সবাই পারে, তা হলে তোমাকেও কেউ আটকাতে পারবে না।

সূত্র: আনন্দবাজার

Friday, May 26, 2017

আপনি কেমন আছেন, খাবার ইচ্ছাই বলে দেবে

কখনও কখনও এমনটা হয় যে কোনও একটা বিশেষ খাবার খেতে খুব ইচ্ছে করছে কোন খাবার খেতে ইচ্ছে করছে তা আসলে নির্ভর করে আমাদের শরীরের উপর ব্যাপারটা মোটেও চোখের খিদে নয় প্রতিটা বিশেষ স্বাদের সঙ্গেই যোগ রয়েছে আমাদের শরীরের কোনও না কোনও অঙ্গের আর তাই কোনও বিশেষ অঙ্গে এনার্জির অভাব বা অতিরিক্ত এনার্জির কারণেই বিশেষ স্বাদ চায় জিভ
) তিতা
তিতা খাওয়ার ইচ্ছে সাধারণত কমই হয় আমাদের। তিতা খাবারের সঙ্গে হার্ট সুস্থ থাকার সরাসরি যোগ রয়েছে। শরীর যদি অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠে তা হলে আমাদের তিতা খাওয়ার ইচ্ছে হয়। সাধারণ ভাবে রাগ, অনিয়ন্ত্রিত আবেগ, উত্কণ্ঠা, অনিদ্রার কারণে শরীর গরম হতে পারে। তিতা খাবার শরীর ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করে। শরীরে এনার্জির ফ্লো স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে
) নোনতা
আমাদের কিডনির স্বাস্থ্য নির্ভর করে বংশগত জিনের উপর। কিডনিতে যদি এনার্জি ব্লকেজ তৈরি হয় তা হলে শরীরে ওয়াটার এনার্জির ভারসাম্য নষ্ট হয়। সেই কারণ আমাদের নোনতা খাবার দেখলেই খেতে ইচ্ছে হয়। অনেকে মনে করেন কিছু খেতে ইচ্ছে হচ্ছে মানে সেই খাবার আমাদের শরীরে প্রয়োজন। কিন্তু তা সব সময় সত্যি নয়। যদি নোনতা খাবার খেতে ইচ্ছে হলে বেশি করে নুন খেতে থাকেন তা হলে কিন্তু পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যেতে পারে। কিডনির সমস্যা থেকে ক্লান্তি, গাঁটে ব্যথা, ক্রমাগত প্রস্রাব পাওয়া, অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া, কম বয়সে মেনোপজ, যৌন সমস্যা দেখা দিতে পারে
) টক
লিভারের কার্যকারিতার উপর আমাদের মন ভাল থাকা, খারাপ থাকা নির্ভর করে। যদি লিভারে এনার্জির ভারসাম্য নষ্ট হয় তা হলে টক খেতে ইচ্ছে হবে। লিভারে এনার্জি ফ্লো ঠিকঠাক না হলে ভাজা, তৈলাক্ত, ফ্যাটি খাবার খেতেও ইচ্ছে হয় শরীর বলছে, এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব হয়েছে। লিভারে এনার্জি ফ্লো ঠিকঠাক না হলে অনিয়মিত মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল, অবসাদ, মাইগ্রেন, পেশীর সমস্যা হতে পারে
) ঝাল
আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধের জন্য সবচেয়ে জরুরি ফুসফুস। শরীরে প্যাথোজেন আক্রমণ করলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি। ফুসফুস প্যাথোজেনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। ঝাল খাবার প্যাথোজেন রুখতে পারে। তাই ঝাল খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। যখনই ঝাল খেতে ইচ্ছে হবে বুঝবেন আপনার শরীর প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে চাইছে

) মিষ্টি
শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ স্প্লিন বা প্লীহা। রক্ত ফিল্টার করতে সাহায্য করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে প্লীহা। যদি মিষ্টি দেখলেই খেতে ইচ্ছে হয় তা হলে আপনার হজমের সমস্যা, ওজন বাড়়ার সমস্যা, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এগুলো সবই প্লীহার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। নুনের মতোই মিষ্টি খেতে ইচ্ছে হলে মিষ্টি খেলেই পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যাবে। সাধারণত, মেনস্ট্রুয়াল cycle চলাকালীন কোনও কারণ স্ট্রেস হলেই বেশি মিষ্টি খেতে ইচ্ছে হয়
-Adapted