আমরা সূর্য ওঠার আগেই মোরগের ডাক শুনে অভ্যস্ত। অনেকেই মনে করেন, মোরগ হয়তো মানুষের চেয়ে ৪৫ মিনিট আগে ভোরের আলো দেখতে পায়। তথ্যটি কিছুটা অতিরঞ্জিত হলেও এর পেছনে দারুণ কিছু সত্য লুকিয়ে আছে!
১.
মানুষের তুলনায় মোরগ-মুরগির দৃষ্টিশক্তি অনেক বেশি জটিল ও উন্নত। মানুষের চোখে যেখানে তিনটি রঙের সেন্সর বা 'কোন' (Cone) থাকে, এদের চোখে থাকে চারটি (যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় Tetrachromatic Vision বলে)। এর ফলে এরা অতিবেগুনি রশ্মি (UV light) দেখতে পারে। চোখের এই তীব্র সংবেদনশীলতার কারণে ভোরের দিগন্তে আলোর সামান্যতম পরিবর্তনও এরা মানুষের অনেক আগেই ধরে ফেলতে পারে।
২.
মোরগ যে শুধু আলো দেখেই ডাকে, তা কিন্তু নয়! জাপানের নাগোয়া ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে দারুণ এক তথ্য। মোরগের ভেতরে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী 'বায়োলজিক্যাল ক্লক' বা 'সার্কাডিয়ান রিদম' (Circadian Rhythm) কাজ করে। এর মানে হলো, তারা শুধু আলোর ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তারা আগে থেকেই অনুমান করতে পারে কখন ভোর হবে।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যদি একটি মোরগকে পুরোপুরি অন্ধকার ঘরেও রাখা হয়, যেখানে বাইরের আলো মোটেও পৌঁছায় না, তবুও সেই মোরগটি ঠিক ভোরের নির্দিষ্ট সময়েই ডেকে ওঠে!
৩.
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি এবং বায়োলজিক্যাল ক্লক—এই দুইয়ের চমৎকার সমন্বয়ের কারণেই মোরগ এত আগে দিন শুরু করতে পারে। আর এ কারণেই আধুনিক ঘড়ি আবিষ্কারের অনেক আগে থেকেই পৃথিবীর সব প্রান্তের মানুষ মোরগকে সবচেয়ে বিশ্বস্ত অ্যালার্ম ঘড়ি হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে।
https://bn.quora.com/profile/Md-Mehedi-Hasan-983
No comments:
Post a Comment