অনেকের অভিজ্ঞতার সাথে খুব মিল আমারও অভিজ্ঞতা এমন।
একটা সত্য ঘটনা
ছোট উদ্যোক্তা। কভিডের সময় যে ধাক্কা খেয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছিল প্রাণপণে। এর মধ্যে বড় ব্যাবসা প্রতিসঠানগুলো তার পন্যগুলো বানিয়ে ফেলতে শুরু করল। সেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আরো মুখ থুবড়ে পড়ল। এর মধ্যে ব্যাংকের নেয়া ঋণ ছয় কোটি টাকা। ব্যাংকের চাপ সহ্য না করতে পেরে দিয়ে দিল নিজের বাবার করা একমাত্র বাড়িটি যেটা জামানত ছিল। বৃদ্ধা মা কে নিয়ে উঠল ভাড়া বাড়িতে। মামলা মোকদ্দমায় যাবার ইচ্ছে ছিল না। বাড়ি দিয়ে দিল ৩.৫ কোটি টাকায়। তা শোধ করেও নিস্তার নেই। কোনোভাবে ফ্যাক্টরি ছোট করে দিল আরো এক কোটি টাকা। ৪.৫ কোটি টাকা শোধ। ব্যাংক নাকি আরো তিন কোটি টাকা পায় জানালো।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা সার্কুলার এক কালীণ দায়মুক্তি দেখে কিছুটা স্বস্তি পেলো। যেদিন সার্কুলার দেয়া হল ঠিক তার পর দিনই আবেদন জমা দিল ব্যাংকে। এককালীন টাকা দিয়ে দায়মুক্তি। আরোপিত ও অনারোপিত সুদ সব মাফ করে দিতে পারে ব্যাংক। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংক নানা ধানাইপানাই শুরু করল। কেনো করল সেটা সকলেরই বোধগম্য। দুই তিন বার মিটিং, আবেদন জমা দেবার পর ও একদিন দেখা গেলো অর্থ ঋণ আদালতে ব্যাংক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। নিলাম নোটিশ দিয়েছে তার শেষ সম্বল ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। যেই মামলার ভয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে দিল সেই মামলায় তাকে পড়তেই হলো।
বড় ঋণ খেলাপিরা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিদেশে লাক্সারি টুরে নিয়ে যায়। বিশাল বড় গিফট দেয়। সুতরাং তাদের কে ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ দেয় না তারা। এর মধ্যে অনেকে বড় ব্যাংকের মালিক। সেই ব্যাংক অফিসার বা তার নিকটজনের চাকুরীদাতা।
এ দেশে ভালো মানুষ কে চরম ভোগান্তিতে পড়তে ভয় এটা একটা উতকৃস্ট উদাহরণ।
No comments:
Post a Comment