Wednesday, May 2, 2018

অপরিহার্য ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য: মুসলমানের


সাধারণভাবে বলতে গেলে সচ্চরিত্রের চেয়ে কোন ভাল গুণ নেই। সর্বোত্তম লোকেরাই সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। আর খাবার লোকেরা মন্দ চরিত্রের অধিকারী। সচ্চরিত্রের কয়েকটি দিক এখানে তুলে ধরা হলো যা সকলের কাঙ্ক্ষিত। একজন মুসলমানের জিন্দেগি হবে এরকম-
১. বিনয়ী হতে হবে এবং কোনরূপ গর্ব করলে চলবে না।
২. কোন আস্থার আসনে বসানো হলে, সেই আস্থা অক্ষুন্ন রাখা দরকার।
৩. সর্বদা সত্য কথা বলবে এবং নির্দেশ মত কাজ করতে হবে।
৪. মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের প্রতি স্নেহদৃষ্টি, দয়া ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
৫. যার সহায়তা প্রয়োজন তাকে সাহায্য করা এবং সাহায্য না চাইলেও সুঃস্থকে সহায়তা দেয়া প্রয়োজন।
৬. ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের আসনে থেকে ক্ষমা করা উচিত।
৭. অপরের সত চিন্তাকে মূল্য দেয়া উচিত।
৮. অন্যের প্রতি বন্ধুসুলভ হওয়া এবং তাদের সাথে বন্ধুর মত ব্যবহার করা কর্তব্য।
৯. অপরের পরামর্শ চাইলে আন্তরিকভাবে পরামর্শ দেয়া প্রয়োজন।
১০. যে যার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, তার সথে সে ব্যাপারে কথা বলবে না। জরুরি বা প্রয়োজন না হলে অন্যের কাছ থেকে কোন কিছু কখনও চাইবে না।
১২. ওয়াদা অক্ষুন্ন রাখা।
১৩. কর্তার রাগ প্রশমিত করা এবং নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত হওয়া।
১৪. যারা ইসলামের চর্চা করে, তাদের প্রতি তার সম্পর্কের বিশেষ গুরুত্ব দেয়া।
১৫. সর্বদা ধৈর্যশীল হওয়া।
১৬. আগে যার সাথে ঝগড়া হয়েছে, তাকে সম্ভাষণ জানিয়ে আন্তরিকতা প্রদর্শন করা।
১৭. দায়িত্বদানকারী অথবা নিয়োগকারীর পরিবার ও আত্মীয়ের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
১৮. মিতচারী হওয়া।
১৯. আল্লাহ যা দিয়েছেন, তা নিয়েই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত হওয়া।
২০. তুচ্ছ বিষয় ছেড়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোনিবেশ করা।
২১. দুষ্ট লোকদের মোকাবেলায় দূরদর্শীতার পরিচয় দিতে হবে।
২২. অন্যের সাথে উপহার বিনিময় করা।
২৩. যে ভাল কাজ করতে চায় তাকে ভাল কাজের দিকে পরিচালিত করা।
২৪. বিবাদমান পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করা।
২৫. কাজ সম্পদানের আগে সে সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করে নেয়া।
২৬. অন্যের প্রতি সদয় হওয়া।
২৭. অন্যান্যরা তাকে যা গোপন করতে বলে সেটা এবং অন্যদের ব্যাপারে সে যা জানতে পেরেছে তা গোপন করা।
২৮. কোন মুসলমান মনক্ষুন্ন হয়েছে, এমন কাজ করলে সেজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।
২৯. যে দুর্ব্যবহার করেছে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া, যেন সে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে পড়ে।
৩০. প্রফুল্লচিত্তে আরেকজনের সাথে সাক্ষাত করা।
৩১. ভাল লোক হলে তাদের সাথে মেলামেশা করা। অন্যথায় নির্জনতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।
৩২. কারো অনুপস্থিতিতে সমালোচনা করা হলে তার পক্ষে কথা বলা।
৩৩. যে পথ হারিয়েছে তাকে পথ দেখানো বিশেষতঃ ক্ষীণ দৃষ্টিসম্পন্ন লোকদেরকে পথ দেখানো।
৩৪. সহজ হতে হবে; তবে বুদ্ধি বিবেচনাহীন হওয়া চলবে না।
৩৫. দানশীল হতে হবে, তবে অমিতব্যয়ী হওয়া যাবে না।
৩৬. দুর্বলের প্রতি সদয় এবং পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
৩৭. কারো সম্পর্কে তথ্যাদি জানার জন্য সে গালিগালাজ বা গালমন্দ করলে প্রতিশোধ না নেয়া অথবা তার সম্পর্কে কিছু জানার জন্য গালিগালাজ না করা।

সূত্রঃ ড. মারওয়ান ইব্‌রাহিম আল কায়সি

মলমূত্র ত্যাগ, ইসলামী দিক


মল-মূত্র ত্যাগের জন্য উপযুক্ত স্থান হচ্ছে বিশেষভবে ডিজাইনকৃত ও নির্মিত অথবা বাড়ির প্রান্তে  স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা তৈরী করা। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিধান মানতে হবেঃ
১. পায়খানায় প্রত্যেক মুসলমানকে প্রথম বাম পা ফেলে প্রবেশ করতে হবে, বিসমিল্লাহ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা নিাল খুবসি ওয়াল খাবাযেছ (আল্লাহর নামে প্রবেশ করছি, হে আল্লাহ তোমার কাছে সব রকম কুচিন্তা ও কুকর্ম থেকে পানাহ চাই) ।
২. কাউকে সাথে নিয়ে পায়খানায় যাবে না অথবা শরীরের গোপনাঙ্গ অন্যের সামনে উন্মুক্ত করবে না, যেমনটি পেশাবখানায় গিয়ে মানুষ দাঁড়িয়ে স্থায়ীভাবে নির্মিত পাত্রে প্রস্রাব করে। এ ধরনের পেশাবখানায়, একজন আরেকজনকে যাতে না দেখতে পায়, এমন মোটা স্ক্রীন বা পর্দা টাঙ্গাইতে হবে।
৩. খোলা পায়ে পায়খানায় প্রবেশ উচিত নয়। ধূলা-ময়লা বা মারাত্মক রোগ জীবানু যাতে শরীরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্যেই এই সাবধানতা।
৪. পায়খানায় প্রবেশের আগেই পোশাক খুলে ফেলা চলবে না। সর্বাধিক গোপনীয়তা ও শিষ্টাচার পালন করা প্রয়োজন।
৫. এরপর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন। পেশাব করার পর গোপনাঙ্গ পানি দিয়ে ধৌত করা এবং পায়খানার ক্ষেত্রে প্রথমে টয়লেট পেপার ব্যবহার ও পরে সাবান ব্যবহার করলেও চলে (পানি বা সাবানের অভাবে ঢিলা বা বালি ব্যবহার করা যেতে পারে- অনুবাদক) ।
৬. পেশাব-পায়খানার সময় অথবা হাত ধোবার সময় ডান হাত ব্যবহার করা যাবে না। খাবার গ্রহণ, পানাহার, পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা প্রভৃতি কাজে ডান হাত ব্যবহার করতে হবে। মলমুত্র ত্যাগের পর পরিচ্ছন্ন হওয়া, নাক ঝাড়া প্রভৃতি কাজে বাম হাতের ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে হবে- যা ইসলামি বিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
৭. শরীর বা পোশাকে কোন প্রকার ময়লা যাতে না লাগে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং বরে পাকসাফ হওয়ার ব্যাপারে কোন প্রকার বাড়াবাড়ি কাঙ্ক্ষিত নয়।
৮. কোন মুসলমানের পক্ষে তার গোপনাঙ্গের প্রতি তাকানো অরুচিকর।
৯. কেবলামুখী হয়ে পেশাব পায়খানা করা মুসলমানর জন্য নিষিদ্ধ। কিবলামুখী অথবা কিবলাকে পিছনে ফেলে পেশাব পায়খানা নিষিধ্ধ। সুতরাং বাকী দু’দিকে এই কাজ সারত হবে।
১০. পায়খানার পর উঁচু হয়ে বসে পানি ব্যবহার করা উত্তম। তবে (বৃদ্ধদের বেলায়) বসে থেকে শারীরিক অসুবিধা হলে দাঁড়িয়ে পানি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ নয়।
১১. জরুরী প্রয়োজন ছাড়া পেশাব-পায়খানার সময় কোন মুসলমানের পক্ষে হাঁটা চলা উচিত নয়। এ সয় কোন কিছু পড়াও নিষেধ।
১২. পায়খানা ছেড়ে না আসা পর্যন্ত কোন মুসলমান অন্য কারো সালাম বা স্বাগত সম্ভাষণের জবাব দেবে না। ফিরে এসে সে ক্ষমা চেয়ে তার প্রত্তুত্তর দেবে।
১৩. নিজের শরীর পুরোপুরি আবৃত করার পরেই মুসলমানদের পায়খানা ছেড়ে আসতে হবে।
১৪. গোসলকালে কোন মুসলমানের উচিত নয়, একইস্থানে পেশাবের পানি প্রবাহিত করা।
১৫. পায়খানা থেকে বের হয়ে তাকে বলতে হবে গোফরানাকা (হে আল্লাহ, আমার গুনাহ মাফ করে দাও)।
সূত্রঃ ড. মারওয়ান ইব্‌রাহিম আল কায়সি

মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন, ইসলামী দিক


ইসলাম ব্যক্তির নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট। নীচে কিছু পরিচিত আদবের বিবরণ দেয়া হলো। এই লক্ষ্য অর্জনে যে কোন আচরণের সহায়ক অথচ ইসলামি নীতির সাথে সাংঘর্ষিক নয়, এমন বিষয় ইসলামি আদবের অংশ। নীচের বিষয়গুলো ব্যক্তির নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিতঃ
১. ঘুমাবার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে, দরজা-জানালা বন্ধ করা হয়েছে, খাবার বস্তু ও পানির পাত্র ঢাকা হয়েছে এবং আগুনের সব উতস বন্ধ করা হয়েছে।
২. যে বাড়ির ছাদে বিরুপ বা অনুকূল পরিস্থিতিতেও কাউকে পাওয়া যায়না, এমন স্থানে ঘুমানো উচিত নয়। শোবার সময় বালিশ, লেপ-তোশক পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে, সেখানে কোন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ লুকিয়ে আছে কি-না।
৩. পাত্র থেকে পানি পান করার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে ঐ পাত্রে ক্ষতিকর কোন কিছু পড়েনি।
৪. একা একা নয়, বরং যতদূর সম্ভব দলবদ্ধভাবে সফর বা ভ্রমনে যাওয়া উচিত। যাবনাহন এমনভাবে পার্ক করা যাবে না, যাতে অন্যের অসুবিধা বা বিপদের কারণ হয়।
৫. জুতো বা মোজা পরার আগে পরীক্ষা করা দরকার, রাতে অথবা ব্যবহার না করার জন্য কোন ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ সেখানে লুকিয়ে রয়েছে কি-না।
৬. কতিপয় প্রাণী যেমন সাপ, বিচ্ছু, ইঁদুর- ক্ষতিকর বিধায় ঘরে বা বাড়ীর আশে পাশে দেখা গেলে সেগুলোকে মেরে ফেলতে হবে অথবা নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিতে হবে।

সূত্রঃ ড. মারওয়ান ইব্‌রাহিম আল কায়সি

বাড়ীর বাইরে এস্তেঞ্জা বা মলমূত্র ত্যাগ, ইসলামী দিক

বন-জঙ্গল, মরুভূমি ও যুদ্ধের সময় শিবিরের দিনগুলোতে এস্তেঞ্জার জন্য মুসলমানদের কতিপয় বিধি পালন করতে হয়ঃ
১. স্থির পানি, গাছের ছায়া, জনসাধারণ যেখানে চলাচল করে এমন স্থানে বা সড়ক, কোন পশু-বাখি বা সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত গহ্বর বা গর্ত এমন স্থানে এস্তেঞ্জা করা নিষিদ্ধ। কারো কোনো প্রকার ক্ষতি করা অথবা ক্ষতির পরিবেশ সৃষ্টি করা চলবে না।
২. যেখানে কাউকে নগ্ন অবস্থায় দৃষ্টিগোচর হয় না এমন স্থানে এবং গোপন অবস্থায় এস্তেঞ্জা করতে হবে।
৩. এমন স্থানে বসা উচিত, যাতে নিজের গায়ে অথবা কাপড়-চোপড়ে ময়লা না লাগে।
৪. যদি প্রস্রাব পায়খানার ব্যবস্থা না থাকে, তবে হাজত পুরা করার জন্য যত সম্ভব দূরে চলে যাওয়া যেন কোন মানুষ দেখতে না পায়। (ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ) যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ না করা। হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূল করীম (স:)প্রস্রাব পাযখানা কোথায় করেতেন তা কেউ জানতো না।
সূত্রঃ ১. ড. মারওয়ান ইব্‌রাহিম আল কায়সি
২. https://deenilhaq.wordpress.com

পানীয় পান, ইসলামী দিক


১. সব রকম উত্তেজক পানীয় ইসলামে নিষিদ্ধ।
২. স্বর্ণ বা রৌপ্যের পাত্রে পানি নিষিদ্ধ। অন্য যে কোন প্রকার পাত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. পানীয় দ্রব্য বিশেষ করে পানি পরিষ্কার রাখতে হবে এবং বিশেষ করে রাতে পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে।
৪. পানি পানের আগে দেখতে হবে পানিভারা পাত্রটিতে কোন কিছু পড়ে আছে কি-না।
৫. পানি পানকালে ডান হাত ব্যবাহার করতে হবে। নেহায়েত প্রয়োজন ছাড়া বাম হাত ব্যবহার করবে না।
৬. ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে পানি পান করতে হবে।
৭. কোন বোতল, জগ বা চামড়ার পাত্রের মুখ থেকে সরাসরি পানি না করা উচিত নয়।
৮. ভাঙ্গা কিনারা বিশিষ্ট কোন পাত্র পানি পান করার জন্য ব্যবহার করা উপযুক্ত নয়।
৯. পানি পানকালে পাত্রে নি:শ্বাস ফেলা উচিত নয়। এক চুমুকে তৃষ্ণা মেটানো যায় না। মুখ থেকে কাপ সরিয়ে নিয়ে নি:শ্বাস ফেলার পর পুনরায় পানি খাওয়া উচিত।
১০. ঝর্ণা, নদী বা জলাশয় থেকে পানি পান করতে হলে পেটের ওপর ভর করে থাকা অবস্থায় মুখ লাগিয়ে পানি পান করা উচিত নয়। বরং হাত ধুয়ে হাতের সাহায্যে পানি পান করা উচিত।
১১. কাপ অথবা গ্লাস থেকে এক ঢোকে না খেয়ে, ধীরে ধীরে পানি পান করা উচিত। পানি পানকালে মুখ থেকে পাত্র সরিয়ে নিঃশ্বাস নিতে হবে। পানি পানের সময় তিনভাগে বিভক্ত করে তিনবার এর পুনরাবৃত্তি করতে হবে। এটা অধিকতর তৃষ্ণা নিবারক, স্বাস্থ্যপ্রদ এবং উত্তম কাজ।
১২. দাঁড়িয়ে, হেলান দিয়ে অথবা শুয়ে থাকা অবস্থায় পানি পান করা উচিত নয়। বসে থাকা অবস্থায় পান করা উচিত; অবশ্য ঝর্ণা থেকে পানি পান করার সময় বসার প্রশ্ন আসে না।
১৩. পানি পান করার পর মুসলমানদেরকে আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া প্রকাশ করতে হবে। দুধপানের বিশেষ উপকারিতার জন্য আল্লাহর বিশেষ শুকরিয়া প্রকাশ করে বলতে হবে এই বলে: “আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফিহে ওয়াজিদনা মিনহু” (হে খোদা, আমাদেরকে দুধ পানের তওফিক দাও এবং তা থেকে সমৃদ্ধি দাও।) ।
১৪. একদল লোক যখন পান করে, তখন ডানে অবস্থিত ছেলে-বুড়ো যেই থাকুক, সেই প্রথম পান করবে। প্রথমে পানির পাত্রের চালান ডান দিক থেকে শুরু করতে হবে। ডানে বসা লোকটিকে অনুরোধ করতে হবে যাতে পানীয়টি ডানদিকে আরেক ব্যক্তিকে চালান দেয়।
১৫. যখন কোন ব্যক্তি একদল লোকের মধ্যে কিছু পানীয় বিতরণ করতে চায়, সে তখন যেন তার ডানে যে কেউ থাকুকনা কেন, তাকেই দেয়। অতঃপর সে ডানদিকেই অগ্রসর হবে যদিও তার বামে কোন বৃদ্ধ লোকও থাকে। ডান দিকে যারা থাকবে তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ডান হাতে পানীয় চালান দিতে হবে।
১৬. যদি কোন মুসলমানকে কেউ পানীয় পান করতে দেয়, তাহলে তাকে ধন্যবাদ দিতে ভুল করা উচিত নয় এবং তার বরকতের জন্য খোদার কাছে দোয়া করতে হবে।
১৭. যদি কেউ এমন কিছু খায় যাতে চর্বি বা ফ্যাটি অ্যাসিড আছে, যেমন দুধ: তাহলে মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পরে কুলি করতে হবে।
১৮. যদি কুকুর কোন পাত্র থেকে পানি পান করে, তাহলে মাটি অথবা সাবান দিয়ে ৭বার পাত্রটি ধুতে হবে। কুকুরের মুখের লালার জন্য এরূপ করতে হবে। (অন্য প্রাণীর জন্য এটা প্রযোজ্য নয়।)।
সূত্রঃ ১. ড. মারওয়ান ইব্‌রাহিম আল কায়সি
Posted to Blog on 02.05.2018

সুষ্ঠু সামাজিক সম্পর্কঃ অন্যদের প্রতি কর্তব্য, ইসলাম কি বলে?


১. কথা বলা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এবং সামাজিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সুতরাং কি বলা হচ্ছে এবং কিভাবে বলা হচ্ছে তা খুব বিজ্ঞতার সাথে বিবেচনা করে বলতে হবে।
২. সততা ব্যক্তিকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে এবং সামাজিক বন্ধন গড়ে তুলতেও সহায়তা করে। এটা একজন ভাল মুসলমানের অপরিহার্য গুণ।
৩. কথাবার্তার সময় অমায়িক মৌখিক অভিব্যক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা অন্যের প্রতি ব্যক্তির কর্তব্যের অংশ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
৪. লোকদের কর্মের ভিত্তিতেই মুসলমানকে তাদের বিবেচনা করতে হবে। যারা তার সাথে সদ্ব্যবহার করে তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে হবে। কোন মানুষ অন্যের গোপন ইচ্ছা ও চেতনা জানতে পারেনা- এটা বিচারের ভার আল্লাহর। কিন্তু যার অসততা ধরা পড়ে, সে সদিচ্ছা প্রকাশ করলেও তাকে বিশ্বাস করা যায়না।
৫. সম্মান ও সহৃদয়তার সাথে অন্যের সহিত সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
৬. ওয়াদা করার আগে মুসলমানকে নিশ্চিত হতে হবে যে, তিনি এ ওয়াদা রক্ষা করতে পারবেন। অজুহাত দিয়ে এই ওয়াদা খেলাপ করা যাবেনা। ভাবলে চলবেনা যে, এই অজুহাতই যথেষ্ট। এ অজুহাত অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে গেল, একথা ভাবলে তার ব্যাপারে খারাপ ধারণা সৃষ্টি হবে।
৭. একই সঙ্গে বহু প্রতিশ্রুতি দেয়া অথবা বহু লোকের প্রতিশ্রুটি দেয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ হয়তো তিনি এতগুলো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবেন না।
৮. অন্যান্যের প্রতি সামাজিক কর্তব্যের মধ্যে রয়েছে: তারা পীড়িত হলে তাদের দেখতে যাওয়া এবং মৃত্যুবরণ করলে তাদের দাফন কাফনে অংশ নেয়া।
৯. যে জনসাধারণকে ধন্যবাদ দেয়না সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেনা (হাদিস)।[আবু দাউদ, তিরমিজি] কারো প্রতি কৃত উপকারের জন্য তাকে ধন্যবাদ দেয়ার উত্তম উপায় হচ্ছে তাকে বলা: ‘জাযাকাল্লাহ্ খায়রান’ (আল্লাহ তোমাকে পুরস্কৃত করুন)।
১০. কোন ব্যক্তি হারাম বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোন বিষয় ছাড়া সাহায্য চাইলে মুসলমানের উচিত তাকে সাহায্য করা। কেউ সহযোগিতা চাইলে তাকে দ্বিধাহীন চিত্তে সাহায্য করতে হবে।
১১. দাওয়াত গ্রহণ করা উচিত। কোন বিয়ের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়।
১২. কোন মুসলমানের পোশাক, শরীর বা মুখ থেকে পিঁয়াজ বা রসুনের ন্যায় বস্তুর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে অন্যদের অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলা উচিত নয়।
সূত্রঃ ১. ড. মারওয়ান ইব্‌রাহিম আল কায়সি

ব্যক্তিগত খারাপ বৈশিষ্ট্য: ইসলামী দিক


সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে সাফল্য অর্জন করতে চাইলে ব্যক্তিগত চরিত্রের কতিপয় নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য পরিহার এবং একই সঙ্গে কতিপয় ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের চর্চা করতে হবে। নীচে নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের একটি তালিকা দেওয়া হলো যা মুসলমানকে পরিহার করতে হবে:
১. অত্যন্ত ভয় পাওয়া, উত্তেজিত বা আকস্মিকভাবে ক্ষুব্ধ হওয়া।
২. অন্যদের সাথে খারাপ সম্পর্ক রাখা।
৩. সংশ্লিষ্ট নয় এমন বিষয়ে কথা বলা।
৪. ক্ষুব্ধতা বা ক্রোধ প্রকাশ করা (বিশেষত সেটা যদি কোন গরিব মানুষের পক্ষ থেকে হয়; তবে ঐ ব্যক্তি হয়তো নিজেকে বড় ভাবতে পারে, অন্যদের চোখে সে কার্যতঃ তা নয়)।
৫. কাউকে অপবাদ দেয়া।
৬. অন্য লোকের আলোচনা শুনতে যাওয়া যারা চায়না যে সে এই আলোচনায় অংশ নিক অথবা তারা তাকে এড়াতে চায়।
৭. দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করা।
৮. ভিন্ন লোকের বংশধরদের গালি দেওয়া।
৯. সহযোগী কোন মুসলমানের ‍দুর্ভাগ্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা।
১০. বংশের মৃত পূর্বপুরুষ অথবা পদস্থ আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে গর্ব করা।
১১. অন্যদের দোষত্রুটি বের করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো।
১২. কোন মুসলমানের সাথে বিরোধ থাকলে, তিন দিনের বেশি কথা না বলা ও এড়িয়ে যাওয়া।
১৩. নিজে দুষ্টের শিরোমনি হয়ে অন্যের প্রতি অপবাদ দেওয়া।
১৪. কোন মুসলমানের ব্যাপারে এমন কিছু বলা, যা তিনি (স্ত্রী বা পুরুষ) পছন্দ করেন না, যদিও তা সত্য হয়।
১৫. অন্যের প্রতি সন্দেহপ্রবণ হওয়া।
১৬. অন্যের ব্যাপারে অনুসন্ধিতসু হওয়া।
১৭. গোয়েন্দাগিরি করা।
১৮. কোন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া।
১৯. অন্যদের হিংসা করা।
২০. অন্যান্য মুসলমানদের ঘৃণা করা।
২১. কারো অগোচরে নিন্দা করা।
২২. অন্যদের প্রতি অসততার কাজ করা, প্রতারণা বা বিভ্রান্ত করা।
২৪. আত্মপ্রবঞ্চনা বা আত্মপ্রতারণা করা।
২৫. ধন-লোলুপ এবং কৃপণ হওয়া।
২৬. কাপুরুষ হয়ে নিজের ভয়ভীতি দূর করতে না পারা এবং বিপদ থেকে পালিয়ে যাওয়া।
২৭. সব সময় অসন্তুষ্ট থাকা ও অভিযোগ করা এবং কোন ব্যাপারে সন্তুষ্ট না হওয়া।
২৮. নিজের সাহায্য সহায়তা, দান-দক্ষিণা ও উদারতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
২৯. নিজে স্বার্থপর হয়ে অন্যের কথা না ভেবে নিজস্ব প্রয়োজন ও কল্যাণের প্রতি প্রধানতঃ চিন্তাভাবনা করা ও আগ্রহী হওয়া।
৩০. অন্যকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে হাত গুটিয়ে থাকা।
৩১. কোন ব্যক্তির উপস্থিতিতে তার প্রশংসা ও স্তুতিবাদ করা।
৩২. পাপিষ্ঠ প্রকৃতির অথবা বিত্তবান বা উচ্চ পদে অসীন ব্যক্তিদের প্রতি অনাহুত বা অযাচিত সম্মান প্রদর্শন।
৩৩. উচ্চস্বরে কথা বলা।
৩৪. অন্যের প্রতি কঠোর বা রূঢ় ব্যবহার করা।
৩৫. নিজের প্রশংসা করা অথবা নিজেকে অযাচিতভাবে বড় করে তুলে ধরা।
৩৬. মিথ্যা বলা।
সূত্রঃ ১. ড. মারওয়ান ইব্‌রাহিম আল কায়সি