Wednesday, May 9, 2018

জীবন নিয়ে একহার্ট তোলে’র ১৫টি সুপার্ব কোটেশন

1. The present is the most precious time
“আজ” হলো সবচেয়ে মূল্যবান সময়।
ক. “গতকাল চলে গেছে, আগামীটা স্বপ্ন যে, আজকের দিনটাতে, ভরে নাও মনটাকে।”
খ. “গতকাল একটি বাতিল চেক, আগামীকাল একটি প্রমিজরী নোট, [আজ] হলে রেডী ক্যাশ। একে ব্যবহার করো।”
গ. “গতকাল অবশ্যই চলে গেছে আর আগামীকাল আসবে না কোনদিন।”
ঘ. বাস্তববাদীরা বলেন, অতীতের দীর্ঘশ্বাস আর ভবিষ্যতের আশ্বাস বাস্তব জীবনে কোনটাই কাজের নয়। বর্তমানটাই কেবল জীবন্ত। আর জীবন্ত বর্তমানে কাজ করে যাওয়টাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ঙ. গতকাল হলো ইতিহাস, আগামীকাল হলো ধোয়াঁশা আর “আজ” হলো আল্লাহর সেরা দান। এজন্যই আমরা “আজ”কে বলি বর্তমান।
2. Love does not exist outside of you, but within you
“প্রেম” তোমার ভেতরেই রয়েছে, তোমার বাইরে প্রেমের কোন অস্তিত্ব নেই, একে খুঁজে পেতে চেষ্টা করো। প্রেম হলো ভেদকারী আলোর মত।
3. Life will give you whatever experience is most helpful for the evolution of your consciousness.
তোমার বিবেকবুদ্ধির “জট” খুলতে সবচেয়ে ভালো যত রকমের অভিজ্ঞতার দরকার হোক না কেন জীবন তোমাকে সেটা দিতেই থাকবে । জীবনের শক্তি অফুরান।
4. The more you think negatively, the more compulsive your mind is about negative things
তুমি যতই নেতিবাচক হবে তুমি ততই নিজেকে নেতিবাচকের বন্দরে নোঙর করবে। ইতিবাচক হওয়াটা মহাসাগরের চেয়েও বড়।
5. When you complain, you become a victim
তুমি যতই অভিযোগ করতে থাকবে তুমি ততই “শিকারে” পরিণত হতে থাকেবে। অভিযোগ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকো। জীবন বদলে যাবে।
6. There is a fine line between honoring the past and losing yourself within it
নিজের জীবনের অতীতকে গৌরবোজ্জ্বল করে তুলে ধরা আর তার মাঝে নিজেকে বিলীন করার মধ্যে কোন সুক্ষ্ণ ভেদরেখা নেই। অতীত কেবলই অতীত।
7. Give up defining yourself and the other
নিজেকে বা অন্যকে ভালভাবে সঙ্গায়িত করার কোনই দরকার নেই। যা পেয়েছি তাই থাক, যা পাইনি তাও।
8. You are more than your brain
তুমি তোমার “ঘিলু”র চেয়েও অনেক বেশী দরকারী। তুমি নেই তো ঘিলুর কি কাজ? মনটাকে কাজ দাও। মন ঘিলুর চেয়েও দামী।
9. Where there is true love - there is no ego
সত্যিকারের ভালবাসা যেখানে, সেখানে “অহংবোধ” আছে কি?
10. When you fight you strengthen the pain
তুমি যখন জীবনযুদ্ধে থাকো তখন তুমি প্রকৃতপক্ষে তোমার বেদনাগুলোকেই শক্তিশালী করতে থাকো।
11. Every addiction begins with pain and ends with pain
আসক্তি বা নির্ভরশীলতা আরম্ভ হয় বেদনায়, শেষ হয় বেদনাতেই।
12. Searching is the antithesis of happiness
কোন কিছু ভাল করে খুঁজে দেখা “সুখে”র অন্য নাম।
13. Any action is better than no action
কোন কিছু না করার চেয়ে যে কোন কিছু করা অপেক্ষাকৃত ভালো।
14. The mind is a superior tool if used wisely
ভালভাবে ব্যবহার করতে জানলে “মন”টাই সবচেয়ে মানসম্পন্ন যন্ত্র।
15. Don’t take life so seriously, Smile
জীবনটাকে অতটা সিরিয়াসলি নেয়ার দরকার নেই। একটু হাসো, উজ্জীবিত থাকো, হও কৌতুকপ্রিয়। এতেই জীবন বিকশিত হবে। 

Tuesday, May 8, 2018

Quran & Hadiths on Women empowerment


‘পূরুষ যা অর্জন করে তা তার অংশ, আর নারী যা অর্জন করে তা তার অংশ।’ (নিসা, ৩২)
রাসূল (সঃ) আরও বলেন, যে ব্যক্তি বিধবা নারীর ও মিস্কীনের প্রয়োজন পুরা করার চেষ্টা করে সে যেন জিহাদে লিপ্ত।
আরেকটি হাদীছে রাসূল (সঃ) বলেন, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারভুক্ত। যে ব্যক্তি তাঁহার পরিবারের সাথে সদ্ব্যবহার করে আল্লাহতা‘য়ালা তাকে ভালবাসেন।

দোযখ থেকে বাঁচা সহজ


সূরা দাহর, আয়াত ৮-১১
৮)আর আল্লাহর মহব্বতে মিসকীন, ইয়াতিম, এবং বন্দীকে খাবার দান করে।
৯) এবং (তাদেরকে বলে) আমরা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই তোমাদেরকে খেতে দিচ্ছি। আমরা তোমাদের কাছ থেকে এর কোন প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা পেতে চাইনা।
১০) আমরা তো আমাদের রবের পক্ষ থেকে সেদিনের আযাবের ভয়ে ভীত, যা হবে কঠিন বিপদভরা অতিশয় দীর্ঘ দিন।
১১) আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সেদিনের অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে সজীবতা ও আনন্দ দান করবেন।

Al Quran and Hadith on Circulation of wealth


এবং তাদের সম্পদে প্রার্থী ও সুবিধা বঞ্চিতদের সুনির্দিষ্ট অধিকার আছে-(সূরা মায়ারিজ-২৪)
সম্পদ এমনভাবে বণ্টন করবে যেন তা সমাজের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয় (সূরা হাশর-৪)
তোমাদের কি হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে লড়াই করছোনা? অথচ বঞ্চিত-অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুরা ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের রব, এই জনপদ থেকে আমাদের উদ্ধার করো , যার অধিবাসীরা জালেম এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাঠাও: সূরা নিসা, আয়াত-৭৫ ।
আমি সংকল্প করেছিলাম, যাদেরকে পৃথিবীতে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে তাদেরকে উন্নত করবো, তাদেরকে নেতা বানাবো আর তাদেরকেই  উত্তরাধীকারী বানাবো-সূরা কাসাস, আয়াত-৫।
রাসূল (সঃ) বলেন, “মানুষ যখন মারা যায় তখন তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটা আমলের সওয়াব সে মৃত্যুর পরেও পেতে থাকে। ১মটি হলো, ছদকায়ে জারীয়াহ, ২য়টি হলো, যেই এলেমের দ্বারা লোকে উপকৃত হয় আর ৩য়টি হলো, ঐ নেক সন্তান যে মৃত্যুর পরও তার জন্য দোয়া করতে থাকে।”

Al Quran and Hadits on (Customer) Service


১. “তোমরাই হলে সর্বোত্তম জাতি। মানুষের কল্যানের জন্য তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দিবে এবং অন্যায় কাজের নির্দেশ দিবে (আল ইমরান-১১০) । ২. মুমিন গ্রাহকের প্রতি সদয় ও বিনয়ী হতে হবে। (শুয়ারা-২১৫) । ৩. সেবাকে ইবাদত তূল্য মনে করা - এ ব্যপারে রাসুলের (স :) এর নির্দেশনা হচ্ছে- যে কাজ সর্বোত্তম পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয় তাই আল্লাহর কাছে পছন্দীয়। ৪. ইতিবাচক তুল্য মনে করা: রাসূল (স:) কেউ কাউকে কল্যানের পন্থা বাতলিয়ে দিলে কাজটি সম্পাদনকারীর সমপরিমানে সওয়াব লাভ করবে।(আবু দাউদ)। ৫. ধৈর্যশীল হওয়া: যারা রাগকে (মুত্তাকীরা) সংবরন করে। (আল ইমরান-১৩৪) ৬. মানুষের প্রতি ইহসান (অনুগ্রহ) করতে হবে। যেরূপ আল্লাহ ইহসান করেছেন। (আন নমল-৭৭)।  ৭. কাজে কর্মে খেয়াল খুশির অনুসরন করা যাবে না। (নাযিয়াত-৪০)
সেবার দ্বারা শ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়া যায়-
রাসূল (স:) বলেন, খাইরুন্নাসু আনফাউহুম লিন্নাস, অর্থাত মানুষের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ যে অন্যের উপকার করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে। তিব্রানী
মান নাফ্ফাসা আন মু’মিনিন কুরবাতুমমিন কারবিদ্দুনিয়া নাফ্ফাসাল্লাহু আ’নহু কুরবাতুম মিন কুরবিন ইয়াওমাল ক্কিয়ামাতি। ওয়া মাইস্সারাহু আ’লা মু’সিরিন ইয়াস্সারাল্লাহু আলাইহি ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আ’খিরাতি ওয়ামান সাতারা মুসলিমান সাতারল্লাহু ফীদ্দুনীয়া ওয়ালআখিরাত-ওয়াল্লাহু আওনীল আব্দি মা’দামাল আ’বদু ফিআ’ওনী আখিহে। আবু হোরায়রা(রা:) মুসলিম। অর্থাত যে ব্যক্তি কোন মু’মীনকে তানফীস করবে,(এখানে তানফীসের অর্থ হলো-প্রফুল্ল করা, আনন্দ দেয়া, তুষ্ট করা, শান্তনা দেয়া ও দুঃখ-কষ্ট দূর করা)। পূর্বোক্ত নাফ্ফাসা শব্দটি এসেছে তান্ফীস থেকে) আল্লাহ ক্কিয়ামতে তার দুঃখ-কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোন সঙ্কটাপন্ন ব্যক্তির সঙ্কট নিরসন করবে, আল্লাহ তার দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় সঙ্কট নিরসন করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে, আল্লাহ  দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার সাহায্য করে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা নিজ ভাইয়ের সাহায্যে করতে থাকে।
মানুষের ভাগ্যের ভালমন্দ আমলের উপর নির্ভরশীল
রাসূল (সঃ) আরও বলেন, যে ব্যক্তি বিধবা নারীর ও মিস্কীনের প্রয়োজন পুরা করার চেষ্টা করে সে যেন জিহাদে লিপ্ত।
আরেকটি হাদীছে রাসূল (সঃ) বলেন, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারভুক্ত। যে ব্যক্তি তাঁহার পরিবারের সাথে সদ্ব্যবহার করে আল্লাহতায়ালা তাকে ভালবাসেন।
মানুষের ভাগ্যের ভালমন্দ আমলের উপর নির্ভরশীল (সুরা ফজরঃ ১৫-২০)

Wednesday, May 2, 2018

অপবিত্রতা, ইসলামী দৃষ্টিকোণ


হযরত আবু মালিক আল-আশ’আরী (রা) হইতে বর্ণিত হইয়াছে, তিনি বলিয়াছেন, রাসূলে কারীম (স) ইরশাদ করিয়াছেনঃ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। আর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ আমলের পাল্লা পূর্ণ মাত্রায় ভরিয়া দেয়, ‘সুবহান আল্লাহ’ ও আলহামদুলিল্লাহ’ পূর্ণ করিয়া দেয় আকাশমন্ডল ও পৃথিবীকে। পরন্তু নামায জ্যোতি, সাদকা অনস্বীকার্য দলীল, ধৈর্য আলো এবং কুরআন হয় তোমার পক্ষের প্রমাণ, না হয় তোমার বিরুদ্ধের দলীল। প্রত্যেক মানুষেরই সকাল হয়, পরে সে নিজের সত্বারই বেচা-কেনা করে। অতঃপর সে হয় উহাকে (নিজেকে) মুক্তি দেওয়ার  ব্যবস্থা করে, নতুবা উহাকে (নিজেকে) সে ধ্বংস করিয়া দেয়।-মুসলিম
মুসলমানকে অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকতে এবং নিজেকে, নিজের কাপড়-চোপড় ও তার বাসস্থান অথবা পারিপর্শ্বিক পরিবেশ নাপাক ময়লা থেকে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন রাখবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এসব অপবিত্র বিষয়ের মধ্যে রয়েছে বমি উদ্রেককারী ওষধ, স্তন্যপায়ী প্রাণীর অগ্রগন্থির তরল পদার্থ, প্রস্রাব, মাদক জীবজন্তুর ‍দুধ। মাছ ও কীট পতঙ্গ এবং ভেড়া, ছাগল ও হাতীর পশম ছাড়া জীবন্ত কোন প্রাণীর কেটে ফেলা অঙ্গ অপবিত্র। ইসলামি বিধান মোতাবেক জবেহ করা ছাড়া সকল জন্তু হারাম। এসব হারাম জিনিসের কোন অংশ যদি কোন মুসলমানের শরীরে বা কাপড়ে পড়ে তাহলে তা ‍ধুয়ে ফেলা ফরজ।

গোসল করা

১. নানা করণে মানবদেহের পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য। রোগ বালাইয়ের মোকাবেলায় শরীর রক্ষা করা ছাড়াও সমাজের লোকদের সাথে মেলামেশা জন্য এটা প্রয়োজন।
২. সুতরাং বার বার গোসল করাই দুর্গন্ধ থেকে বাঁচবার উপায়।

কোথায় গোসল করবেন

১. পুরুষেরা একটি পর্দা টানিয়ে অথবা জাঙ্গিয়া পরিধান করে পাবলিক গোসলখানায় গোসল করতে পারে।
২. গোসলখানা তৈরি হলে সেখানে পেশাব করা যথার্থ নয়; কার এর ফলে ঐ স্থান দূষিত হবে। স্থানটি পাকা মেঝে হলে এবং পায়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকবেল পেশাব করা নিষিদ্ধ নয়।

গোসল কখন ফরজ হয়

সমগ্র শরীর ধুয়ে ফেলা নিম্নোক্ত কারণে জরুরি হয়ে পড়েঃ
১. বীর্যপাতের পর, ঘুমের সময় অথবা স্বপ্নে বীর্যপাত হলেও, তা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য।
২. মহিলাদের ক্ষেত্রে যৌন সংক্রান্ত কোন স্বপ্ন দেখলে এবং সেই সাথে তরল পদার্থের চিহ্ন পেলে, মহিলাদের রক্তস্রাব শেষ হলে এবং প্রসূতি অবস্থার মেয়াদ শেষ হলে।
এছাড়া বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রেও গোসল করা জরুরি। এর মধ্যে ইসলাম দু’টি ঈদ, ইসলাম গ্রহণ এবং প্রতি শুক্রবার জুমাআর নামাজের আগে গোসল করা প্রয়োজন।

গোসলের নিয়ম

প্রত্যেক মুসলমানকে নিম্নোক্ত বিধি মানতে হবেঃ
১. গোসলের আগে তাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, সে অন্যদের থেকে নিজেকে আড়াল করেছে।
২. পরিষ্কার স্থানে কাপড় চোপড় ও তোয়ালে রাখতে হবে।
৩. প্রথম পর্যায়ে গোসলের আগে অপবিত্রতা, ময়লা ধুয়ে ফেলতে হবে।
৪. তিনবার হাত ধুতে হবে।
৫. কুলি করতে হবে এবং পরিষ্কার করতে হবে।
৬. মুখমণ্ডল ও হাত ধুতে হবে।
৭. ডানদিক থেকে শরীরের ওপর পানি ঢালতে হবে।
৮. শরীর ও চুলের সকল অংশে পানি পৌছানো নিশ্চিত করতে হবে এবং হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলোর মধ্যে পানি প্রবেশ করাতে হবে।
৯. সাবান ব্যবহারকালে পরিষ্কার পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে ফেলতে হবে, যাতে সাবানের কোন চিহ্ন শরীরে না থাকে। ফরজ গোসলের সময় এটা জরুরি।
১০. বাথ’টাবে গোসল করা যেতে পারে; তবে শর্ত হলো শাওয়ারের সাহায্যে দেহের সব অপবিত্রতা ধুয়ে মুফে ফেলতে হবে।

শরীরের কোন কোন অংশের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ-

শরীরের যেসব স্থানে প্রধানতঃ ময়লা জমে, সেসব স্থান পরিষ্কার করা জরুরি। যেমন:
১. প্রয়োজন বোধে চুল ছেঁটে ফেলা।
২. বগল ও নিম্নাঙ্গের চুল সপ্তাহান্তে (অনুর্ধ্ব ৪০ দিনে) শেভ করা বা তুলে ফেলা।
৩. নখ কাটা। নখ কাচা জরুরি হয়ে পড়লে মুসলমানদেরকে প্রথমে ডান হাত, তারপর বাম হাত এবং এরপর ডান পা এবং তারপর বাম পায়ের নখ কাটতে হবে।
শরীরের অন্যান্য অংশ বিশেষ করে মুখমণ্ডল, মাথা, হাত ও পা পরিচ্ছন্ন রাখা বিশেষ জরুরি। এরূপ করলে শরীর ও মন বিশেষভাবে সতেজ থাকবে; তদুপরি শরীরের এসব অংশ অন্যান্য অংশ অন্যান্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বেশি কাজে লাগে। অন্যদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখ ব্যবহার করা হয় বলে মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সবিশেষ গুরুত্বপ দিতে হবে। দেখা গেছে পেছন দিকের (পাছা) চাইতে মুখ গহবরে অনেক বেশি সূক্ষ্ম জীবাণূ থাকে। এজন্য দাঁতের ডাক্তাররা মুখ পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করে থাকেন। বিশেষ করে আহার গ্রহণের পর দাঁতে কোন কিছু লেগে না থাকে, সেজন্য দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
১. খাবার পর খিলাল বা টুথপিক ব্যবহার করা।
২. মুখের ডান দিক থেকে মিসওয়াক বা টুথব্রাশ ব্যবহার করা।
এই পদ্ধতির কোনটাই একে অপরের বিকল্প নয়, একে অপরের পরিপূরক; যত্রতত্র টুথব্রাশ নিয়ে যাওয়া অবান্তর ও কঠিন; তবে মিসওয়াক যেকোন স্থানে সহজেই নিয়ে যাওয়া যায়। তদুপরি কারো সাথে সাক্ষাতের আগে মুখের দুর্গন্ধ পরিশোধন অথবা কর্মস্থল থেকে ফিরে আসার পর মিসওয়াক সহজেই ব্যবহার করা যায়। মুখ পরিষ্কার রাখা এবং স্মিত হাসির জন্য এ দুটো পরিপূরক পন্থা রয়েছে।
সূত্রঃ ড. মারওয়ান ইব্‌রাহিম আল কায়সি


বিছানায় গমন (প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি) -ইসলাম কি বলে?


১. প্রত্যেক মুসলমানকে অবশ্যই বিছানায় আশ্রয় নেয়ার আগে ইস্তিঞ্জা করতে তথা মূল মূত্র ত্যাগ করতে হবে।
২. অজু করার মাধ্যমে পবিত্র অবস্থায় বিছানায় গমন আবশ্যক।
৩. ভরপেটে শুতে না যাওয়া স্বাস্থ্য বিধিসম্মত।

কখন ঘুমাতে হবে, -ইসলাম কি বলে?

১. এশার নামাজ পড়ার আগে শুতে যাওয়া ঠিক নয়, কারণ এর ফলে নামাজ কাজা হতে পারে।

২. দিনে যখন নামাজের সময় শুরু হয়, সেই সময় ঘুমানো যাবেনা নামাজ পড়া ছাড়া। এসময় ঘুমিয়ে পড়লে নামাজ তরক হতে পারে।
৩. জোহর, আসর নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে অল্পক্ষণ আরাম করা বা ঘুমানো যেতে পারে। এর ফলে চোখ ও শরীর আরাম লাভ করে এবং দিবসের বাকী কাজ সম্পাদনের জন্য তা দেহে সজীবতা এনে দেয়।
৪. প্রয়োজনীয় কাজ করে অথবা কোন অতিথিকে আপ্যায়ণ করে এশার নামাজের পর পরই মুসলমানদের ঘুমিয়ে পড়া উচিত। এভাবে তারা সজীবতা লাভ করতে পারে এবং দিনটি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে।

বিছানা, -ইসলাম কি বলে?

১. সাধারণ ডিজাইন ও নির্মাণের মাধ্যমে বিছানা তৈরি করতে হবে। এটা খুব বেশি আরাম দায়ক অথবা অস্বস্তিকর হওয়ার প্রয়োজন নেই। আলস্য বা পরিশ্রমবিমুখতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে প্রয়োজনীয় আরামের উপযোগী আরামদায়ক হলেই হয়।
২. বিছানাটি মেঝে থেকে খুব ‍উঁচুতে হওয়া উচিত নয়- বিশেষভাবে লক্ষ্যে এটা করা উচিত।
৩.বিছানা এমন স্থানে স্থাপন করা উচিত নয়, যাতে শরীরের একাংশ রোদে এবং অপরাংশ ছায়ায় পড়ে।
৪. নিরাপত্তার জন্য যে সব ছাদে প্রতিরক্ষা প্রাচীর নেই, সে সব স্থানে শয়ন চলবেনা। তেমনিভাবে যেসব নির্জন স্থানে হঠাত অসুস্থতা, অনুপ্রবেশকারীদের হামলা অথবা অগ্নিকাণ্ডের ন্যায় জরুরি অবস্থার সাহায্য-সহায়তা পাওয়া যায় না- এসব স্থানে শয়ন করা উচিত নয়।
৫. পল্লী এলাকার মত অনেক স্থান নিকটবর্তী কোন বাথরুম না থাকলে বিছানার নীচে উপযুক্ত পাত্রে পানি রাখা প্রয়োজন। অসুস্থ, ‍বৃদ্ধ এবং যারা দরজার বাইরে ঘুমান তাদের জন্য এটা বেশ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।

ঘুমাতে যাবার আগে, -ইসলাম কি বলে?

প্রত্যেক মুসলমানকে নিম্নোক্ত বিধি মানতে হবেঃ

১. লেপ-তোশক-বালিশ ঝেড়ে দেখতে হবে তার নীচে কোন ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ লুকিয়ে আছে কিনা।
২. নিম্নোক্ত দোয়া পড়তে হবেঃ বিইসমিকা আল্লাহুম্মা আহইয়া ওয়া বিইসমিকা আমুতু (হে আল্লাহ, তোমার নামেই আমি বেঁচে আছি ও মৃত্যুবরণ করব)।
৩. ডান দিকে পাশ করে শোয়া।
৪. উপুড় হয়ে না শোয়া।
৫. জোর করে ঘুমাবার চেষ্টা না করা। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিক নিয়মেই ঘুম এসে যাবে।
৬. আল্লাহর নাম নিয়ে শুতে হবে এবং ঘুম না আসা পর্যন্ত তাঁর নাম নিতে হবে। এর ফলে শরীরে শিথিল ভাব আসবে এবং দিনের সমস্যা ও জটিলতার চিন্তা দূর হবে।
৭. শরীরে প্রকৃত চাহিদা অনুসারে (কম বা বেশি নয়) নিজের ঘুম নিয়ন্ত্রণ করা।

ঘুম থেকে জাগা, -ইসলাম কি বলে?

১. ভোরে ঘুম থেকে জাগতে হবে। এর ফলে সারা দিনের কাজের উপর ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া সুস্পষ্ট হয় এবং যারা একাজ করেন তাদের কাছে এটা অনুধাবন সহজ।
২. আগের দিনের ন্যায় দিনে আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করতে হবে এবং তার শোকরা আদায় করতে হবে।
৩. ফজরের নামাজের জন্য অজু করার আগে টুথব্রাশ বা মেছওয়াক দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতে হবে। রাতের বেলা দীর্ঘ সময়ের জন্য জাগলে এরূপ করা ‍উচিত।
৪. যদি কোন প্রবাহমান পানি না পাওয়া যায়, তাহলে ঘুম থেকে জেগে প্রথমে নিজের হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। পাত্রে সংরক্ষিত পানির হাত ডুবানোর আগেই তা করতে হবে। এর কারণ ঘুমন্ত ব্যক্তি জানেনা রাতে তার হাত কি স্পর্শ করেছিল।
সূত্রঃ ড. মারওয়ান ইব্‌রাহিম আল কায়সি