Sunday, June 17, 2018

মিনার মালীর মেয়ের লেখা গল্প বিশ্ব বাবা দিবসে

মিনার প্রামাণিক। দেশের একটি বিখ্যাত ইন্টান্যাশনাল স্কুলে মালীর কাজ করেন। ফুলের সাথে কথা বলেন, ফুল গাছের নিবিড় পরিচর্যা করেন। একদিন স্কুলের পিওন এস বল্লো, মিনার তোমাকে প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম ডেকেছেন। জলদি তার সাথে দেখা করো। পিওনের “জলদি” কথাটা মিনারের মনের ভেতর কেমন যেন মোচড় দিল। সে ভাবলো কী এমন হলো, আর আমিই বা কী এমন ভুল করলাম যার কারণে ম্যাডাম আমাকে তলব করলেন?
মিনার দাস চট-জলদি তার হাত পা ধুয়ে নিলো। মোটামুটি ফ্রেশ মনে প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডামের কামরার দিকে চল্লো। বাগানের ধারেই ম্যাডামের কামরা কিন্তু এইটুক পথ যেনো আর শেষ হচ্ছেনা। ওর বুকের ধুকধুকানী বেড়ে গেল। মনে হচ্ছে হৃদপিন্ডটা বুকের খাঁচার বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। আসতে আসতে মিনার যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ করে দেখলো –এমন কোন অন্যায় ও করেনি। সে জানে সে কাজে আন্তরিক আর কখনোই কাজে ফাঁকি দেয়নি।
প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডামের কামরার দরজায় গঙ্গা দরজায় টোকা দিল। প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম বল্লেন, মিনার এসেছো? ভেতরে এসো। প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডামের গলার শাসনের সূর শুনে মিনার আরো ঘাবড়ে গেল। সোনালী কালো পরিপাটি চুলের ম্যাডাম বসে আছেন। পরনে ফ্রেঞ্চনটের কাজ করা ক্লাসিক শাড়ি, নাকের ডগায় সোনালী ফ্রেমের চশমা আঁটা। ম্যাডাম মিনারকে লক্ষ্য করে তার টেবিলে রাখা একটি কাগজের দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখালেন।
“কাগজটা পড়ো, মিনার।” ম্যা..ম্যা.. ম্যাডাম, আমি পড়তে জানিনে! ক্ষমা করবেন ম্যাডাম- খারাপ কোন কিছু করিনিতো? আমার ভয় হচ্ছে খুব। খারাপ কোন কিছু করলে আর একবার সুযোগ দিন। আমি শুধরে নেবা। আমি আপনার কাছে চিরদিনের জন্য কৃতজ্ঞ একারণে যে আপনি আমার মেয়েকে বিনা বেতনে দেশের সবচেয়ে ভাল ইন্টান্যাশনাল স্কুলে পড়বার সুযোগ করে দিয়েছেন-এ ঋন আমি সারা জীবনে শোধ করতে পারবো না। আপনি আমার মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছেন। বলতে বলতে মিনার কাঁপতে থাকে। এবার ম্যাডাম বল্লেন, মিনার তুমি চুপ করো। অনেক বলেছো। এবার শোন। তোমার মেয়েকে আমি আমাদের স্কুলে পড়বার সুযোগ করে দিয়েছি এ কারণে যে সে খুবই মেধাবী আর তুমিও বাপু খুবই দক্ষ একজন মালী, কাজে খুবই আন্তরিক, সন্দেহ নেই। তুমি থাকো এখানেই। আমি একজন শিক্ষিকা ডাকছি সে তোমাকে তোমার ভাষায় ইংরেজী লেখাটা পড়ে শোনাবে, বুঝেছে? জি, ম্যাডাম। কথা শেষ না হতেই আরেক শিক্ষিকা প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডামের কামরায় ঢুকলেন। ইংরেজীতে এই লেখাটি লিখেছে তোমার মেয়ে। মনযোগ দিয়ে বাংলা কথাগুলো শোন মিনার।
“আজ তোমাদেরকে (মা দিবস) নিয়ে একটি রচনা লিখতে বলা হয়েছিল।”
“আমার জন্ম বগুড়ার একটি ছোট্ট গাঁয়ে। সেই গাঁয়ে চিকিতসার কোন সুযোগ তো ছিলই না, স্কুলে গিয়ে ছেলে মেয়েরা পড়া লেখা করবে সেটা ছিল দুঃস্বপ্নের মত। মায়েরা ফি বছর সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মারা যাচ্ছে। এরকম ছিল আমার অভাগী মা। সে ও আমাকে জন্ম দিয়ে তার কোলে নেয়ার আগেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে! আমার বাবাই হলো প্রথম ও একমাত্র মানুষ যে কিনা আমাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে আর সেই হলো একসাথে আমার মা ও বাবা । আমি দুনিয়াতে এলাম। আত্মীয়-স্বজনরা কি আমাকে ঘিরে আনন্দ করবে তা না করে বলা শুরু করলো আমি নাকি অপয়া, আমি নিজ মা’কে খেয়েছি। আত্মীয়-স্বজনরা আমার বাবাকে আরেকটা বিয়ে করার জন্য পিড়াপিড়ি করতো। আমার বাবা ছিলেন নির্বিকার। উনি বিয়ের ব্যাপারে টু শব্দটি করতেন না। আমার দাদা দাদীরা আমার বাবাকে অনেক খারাপ উপদেশ দিতো। কিন্তু বাবা ও সব কথা কানেই তুলতো না। আসলে আমার দাদা দাদীরা নাতনীর বদলে নাতী চায়। এটাই তাদের খায়েশ। তারা বাবাকে বলতো আরেকটা বিয়ে না করলে তারা আমার বাবাকে ভু-সম্পত্তির কোন ভাগই দেবে না। কিন্তু আমার বাবা নারাজ। সে আবার বিয়ে করবেই না। একদিন সে আমাকে কোলে নিয়ে জমি জমা, গরু বাছুর ছাগল, আরামের বাড়ী সব রেখে বাড়ী থেকে বের হয়ে অজানার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো।
বাবা আমাকে সাথে করে নিয়ে চলে এলো আপনাদের এই বড় ঢাকা শহরে। কিন্তু শহুরে জীবন বড়ই নির্মম। বাবা আমাকে বড় করে তোলার জন্য দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করতো। বাবা কখনোই চাইতো না যে আমার যত্নের এতটুকু ত্রুটি হোক। বাবা আমাকে এতই ভালবাসতো যে সে তার প্লেটে রাখা রুটির শেষ টুকরোটিও আমাকে খাইয়ে দিতো। আমার মুখে কথা ফুটলে আমি বাবাকে বলতাম, বাবা তুমি খাচ্ছোনা কেন? বাবা বলতো আমার খেতে ভাল লাগে না। তুই খেয়েনে মা। আরো বড় হলে বুঝলাম, বাবা আসলে আমাকে বড় করার জন্যই এইভাবে নিজেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। আর আমার বাবা আমার ভাল থাকার জন্য তার সাধ্যের বাইরেও চেষ্টা করে যাচ্ছে।                           
আর আপনাদের এই স্কুল- সেটা আমাকে আর আমার বাবাকে দিয়েছে ছোট্ট একটি আশ্রয়, সুযোগ করে দিয়েছে আমার পড়া লেখার যে অবদান আমি সারা জীবনেও ভুলবো না। তাই “যদি ভালবাসা আর যত্ন বলতে মাকে বুঝায় তাহলে আমার বাবাই আমার “মা”। আমার বাবাই এই জায়গায় ফিট-অন্য কেউই নয়। যদি সংবেদনশীল সহানুভুতি মায়েরই হয়ে থাকে সেটাও আমার বাবাই আমাকে দিয়েছে অন্য কেউ নয়।
যদি উতসর্গ বলতে আমরা মা’কে বুঝি তাহলে এখানেও আমার বাবাই রয়েছে, অন্য কেউ নয়। তাই আমি বলি যদি মা’কে প্রেম-ভালবাসার জন্য, দয়ার জন্য, উতসর্গের জন্যই সৃষ্টি করা হয়-তাহলে আমার বাবাই এই দুনিয়াতে আমার সেরা “মা”।
আজকের “মা” দিবসে আমি আমার বাবাকে সেরা অর্ঘ দিই সবচেয়ে ভাল “প্যারেন্ট” হিসেবে। আমি আমার বাবা তথা এই বিদ্যালয়ের বাগানের মালীকে শ্রদ্ধার স্যালুট জানাই শতবার আর গলা উঁচু করে বলতে চাই দেখে যাও সেই মানুষকে যার মধ্যে প্রেম, দয়া ভালবাসা আর উতসর্গ সবই রয়েছে সেটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় বাবা। 
আমি জানি, আজকের এই রচনা লেখার জন্য আমাকে কোন নম্বর না দিয়ে বরং ফেল করানো হবে। কিন্তু আমি জানি নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়া আমার বাবার অমূল্য ভালবাসার তূলনায় এর মূল্য খুবই সামান্য। আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।”
প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডামের কামরায় তখন চলছে এক পিনপতন নীরবতা। কেবল শোনা যাচ্ছে মিনারের কান্নার শব্দ। বাগানের মালী মিনার। বাইরের প্রখর রোদ্দুর মিনারের শরীর ঘামে ভেজাতে না পারলেও মেয়ের রচনার ভাব আর ভাষা মিনারের বুকটাকে চোখের জলে নাইয়ে দিয়েছে।
মিনার আরো অনেকক্ষণ প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডামের কামরায় করজোড়ে দাঁড়িয়ে রইলো।          
প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডামের কাছ থেকে মিনার রচনার কাজটি নিয়ে নিলো। সেটি সে বুকের কাছে ধরে আবারো অঝোরে কাঁদতে লাগলো।
প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম এবার চেয়ার ছেড়ে উঠলেন। মিনারকে একটা চেয়ার দিলেন বসবার জন্য। আরো দিলেন এক গ্লাস পানি। ম্যাডামের গলায় সুমধুর সুর। যেন অপার আনন্দে উনি ভাসছেন।
প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম ম্যাডাম বল্লেন, ‘জানো মিনার, বিশ্ব মা দিবসে আমরা তোমার মেয়েকে এই রচনা লেথার জন্য ১০এ ১০ দিয়েছি যা কেউই পায়নি। স্কুলের বহু বছরের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য রেকর্ড। আর এত ভাল করে আজ অব্দি কেউই এমন লেখা লেখেনি।’
আজ তাই এই আনন্দঘন দিনে আমাদের স্কুল কমিটি তোমার মত একজন অনন্য মানুষকে
বিশ্ব মা দিবসের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা জানি আমরা তোমার মত মানুষের কোনই মূল্য দিতে পারবোনা। আর এটাও জানি যে পারফেক্ট প্যারেন্ট হতে গেলে কেবল মায়ের মত মহিলার দরকার নেই, বাবাও পারে। তোমার হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা তোমার মেয়েকে ধন্য করেছে। ধন্য করেছে এই স্কুলকেও যে স্কুল এমন একজন সুকণ্যাকে লালন করে চলেছে। আর গোটা স্কুল তোমার মেয়ের বাবার মত বাবা পেয়ে আজ ধন্য। মিনার, তুমি শুধু বাগানের মালীই নও। তুমি জীবনের ফুল ফোটানোরও মালী। তুমি না থাকলে, তুমি দৃঢ়চিত্ত না হলে অনেক মেয়ের মত তোমার মেয়েও রাস্তায় ঝরে পড়তো! তোমাকে আজ আমার বড়ই ভাল করে দেখতে ইচ্ছে করছে মিনার। তুমি আসলেই এক মহতপ্রাণ মানুষ। আল্লাহ যেন এই মানুষটিকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখেন অনন্য এক উদাহরণ হিসেবে। 
প্রিন্সিপ্যাল ম্যডাম এবার হেসে বল্লেন, “তাহ’লে মিনার আমাদের স্কুলে বিশ্ব মা দিবসের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হ’তে রাজী তো?”    

Wednesday, June 13, 2018

নিজের বর্তমান হাল নিয়ে আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকুন, বিকজ ইউ আর বেটার দ্যান মিলিয়নস্

১. যে কোয়ালিফিকেশন নিয়ে আপনি চাকরী পেয়েছেন ঠিক সেই কোয়ালিফিকেশন নিয়ে অনেকেই পথে পথে ঘুরছে। ভেবেছেন কি একবারও ওদের অবস্থাটা কি? তাই নিজের বর্তমান হাল নিয়ে আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকুন। বলুন, আলহামদুলিল্লাহি ‘আলা কুল্লি হাল্-আল্লাহ, আমার সকল অবস্থাতেই আমি আপনার ওপর সন্তুষ্ট।
২. আল্লাহ আপনার যে প্রার্থনার জবাব দিয়েছেন, আপনি সাফল্য পেয়েছেন, সেই একই প্রার্থনা করে অনেকেই জবাব না পেয়ে হতাশায় নিমজ্জিত। তাই তাই নিজের বর্তমান হাল নিয়ে আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকুন। বলুন, আলহামদুলিল্লাহি ‘আলা কুল্লি হাল্-আল্লাহ, আমার সকল অবস্থাতেই আমি আপনার ওপর সন্তুষ্ট।
৩. যে সড়ক দিয়ে আপনি নিরাপদে বাড়ী পৌছতে পেরেছেন কাছের মানুষের কাছে, ঠিক সেই সড়ক পার হতে গিয়ে অনেকেই মূলবান জীবন হারাচ্ছে। তাই তাই নিজের বর্তমান হাল নিয়ে আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকুন। বলুন, আলহামদুলিল্লাহি ‘আলা কুল্লি হাল্- আল্লাহ, আমার সকল অবস্থাতেই আমি আপনার ওপর সন্তুষ্ট।
৪. হাসপাতালের যে বেডে শুয়ে থেকে আপনি রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন ঠিক সেই বেডে শুয়ে অনেকেই সারা জীবনের মত দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে। তাই তাই নিজের বর্তমান হাল নিয়ে আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকুন। বলুন, আলহামদুলিল্লাহি ‘আলা কুল্লি হাল্- আল্লাহ, আমার সকল অবস্থাতেই আমি আপনার ওপর সন্তুষ্ট।
৫. যে বৃষ্টি আপনার জমিকে উর্বরতা দিয়ে সুন্দর ফসল ঘরে এনে দিল ঠিক সেই বৃষ্টি আরেকজনের ফসলকে ডুবিয়ে দিয়ে তাকে অভাবের ভেতর ঠেলে দিলো। তাই তাই নিজের বর্তমান হাল নিয়ে আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকুন। বলুন, আলহামদুলিল্লাহি ‘আলা কুল্লি হাল্-আল্লাহ, আমার সকল অবস্থাতেই আমি আপনার ওপর সন্তুষ্ট।

আপনাকে এজন্যই সন্তুষ্ট থাকতে হবে যে আপনার যা আছে সেটি আপনার কোন্ ক্ষমতা নয়, আপনার কোন পেশীশক্তি নয়, নয় আপনার প্রখর প্রতিভা বা বিশাল বিশাল কোয়ালিফিকেশন। এটি হলো আল্লাহর দয়া আর আপনার ওপর আল্লাহর দান। আপনার ওপর বিশেষ রহমত।

আপনাকে সব কিছু দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। আর তাই আমাদের সব সময়ই বলা দরকার আলহামদুলিল্লাহি ‘আলা কুল্লি হাল্-আল্লাহ, আমার সকল অবস্থাতেই আমি আপনার ওপর সন্তুষ্ট।

বলো, যদি আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্রসমূহ কালিতে পরিণত হয় তাহলে সেই সমুদ্রসমূহ নিঃশেষ হয়ে যাবে কিন্তু আমার রবের কথা শেষ হবে না৷ বরং যদি এ পরিমাণ কালি আবারও আনি তাহলে তাও যথেষ্ট হবে না৷

বলো, আমি তো একজন মানুষ তোমাদেরই মতো, আমার প্রতি অহী করা হয় এ মর্মে যে, এক আল্লাহ তোমাদের ইলাহ, কাজেই যে তার রবের সাক্ষাতের প্রত্যাশী তার সতকাজ করা উচিত এবং বন্দেগীর ক্ষেত্রে নিজের রবের সাথে কাউকে শরীক করা উচিত নয়৷
সূরা আর কাহফ, আয়াত ১০৯, ১১০

Wednesday, June 6, 2018

অনন্য হতে হলে নীচের কথাগুলো অনুপ্রেরণার কারণ হতে পারে

For Phenomenal growth
Take risks রিস্ক নাও।
Embrace changes পরিবর্তনকে স্বাগত জানাও।
If you refuse to change with time, you might perish সময়ের ব্যবধানে নিজেকে না বদলালে তুমি হারিয়ে যাবে।
Become so powerful that your competitors become your allies পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে এমন শক্তি অর্জন করো যেন তোমার প্রতিদ্বন্দ্বীরা তোমার মিত্র হয়ে যায়।
Reach the top position and then eliminate the competition  
পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে ওপরে ওঠো আর প্রতিযোগিতা ভুলে যাও।
Keep innovating আবিষ্কার করতেই থাকো।
Colonel sanders founded KFC at the age of 65 
কর্নেল স্যান্ডার্স্ ৬৫ বছর বয়সে কেএফসি প্রতিষ্ঠা করেন।
Jack Ma, who couldn't get job in KFC, founded Ali baba
জ্যাক মা কেএফসিতে চাকরী পাননি। পরে তিনি নিজেই আলীবাবার কর্ণধার হন।   
Age is just a number বয়স একটা সংখ্যামাত্র
Only those who keep trying succeeds
যারা চেষ্টা করে সফলতা তারাই পায়।
Lamborghini was founded as result of revenge of a tractor owner who was insulted by Enzo Ferrari, the founder of Ferrari
ইতালীর লাম্বারঘিনী একবার ফেরারীর প্রতিষ্ঠাতা এনজো ফেরারীর কাছে চরম অপমানিত হলে এনজো ফেরারীর প্রতিশোধ হিসেবে নিজেই লাম্বারঘিনী মোটরগাড়ীর নির্মাতা বনে যান।
1. Never underestimate anyone, ever!! 
কোন মানুষকেই ছোট ভেবো না। সৃষ্টিকর্তা তার ভেতর যে কত অসীম শক্তি রেখেছেন তা কারো পক্ষে অনুমান করা কঠিন।
2. Success is the best revenge
সাফল্যই সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ।
Just keep working hard!!
কঠোর পরিশ্রম করো।
Invest your time wisely!! 
তোমার সময়কে বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজে লাগাও। 
Keep upgrading yourself!
তোমার নিজেকে উন্নীত করতে থাকো সবসময়।
Don’t be afraid to fail!!!
পতনের ভয় যেন তোমার না থাকে। 

Saturday, June 2, 2018

Sleep in Darkness


Only in darkness, our organism can produce melatonin which is known as a biorhythm regulator. It is produced at night in amounts enough for endocrine system regulation. Scientists from the USA proved that people who fall asleep with lights on are more likely to have cancer than people who turn all sources of light off. 
ঘুম ও মহা বিজ্ঞানময় আল কুরআন
তোমাদের ঘুমকে করেছি শান্তির বাহন।- সূরা আন নাবা আয়াত ০৯
মানুষকে দুনিয়ায় কাজ করার যোগ্য করার জন্য মহান আল্লাহ অত্যন্ত কর্মকুশলতা সহকারে তার প্রকৃতিতে ঘুমের এক অভিলাষ বা চাহিদা সৃষ্টি করে দিয়েছেন৷ প্রতি কয়েক ঘন্টা পরিশ্রম করার পর এই চাহিদা আবার তাকে কয়েক ঘন্টা ঘুমাতে বাধ্য করে৷

আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে তোমাদের রাতে ও দিনে ঘুমানো এবং তোমাদের তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করা৷ অবশ্যই এর মধ্যে রয়েছে বহু নিদর্শন এমনসব লোকদের জন্য যারা (গভীর মনোযোগ সহকারে) শোনে৷ সূরা আর রুম আয়াত ২৩

অনুগ্রহ সন্ধান করা অর্থ জীবিকার জন্য সংগ্রাম ও প্রচেষ্টা চালানো৷ মানুষ যদিও সাধারণত রাতের বেলা ঘুমায় এবং দিনের বেলায় জীবিকার জন্য চেষ্টা- মেহনত করে তবুও শতকরা একশো ভাগ লোক এমনটি করে না৷ বরং বহুলোক দিনের বেলায় ঘুমায় এবং রাতে জীবিকা উপার্জনের জন্য মেহনত করে৷ তাই রাত দিনকে একসাথে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ দুটি সময়ে তোমরা ঘুমাও এবং নিজেদের জীবিকা উপার্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকো৷
এটিও এমন ধরনের নিদর্শনাবলীর অন্যতম যেগুলো থেকে একজন মহাজ্ঞানী স্রষ্টার ব্যবস্থাপনার সন্ধান পাওয়া যায়৷ বরং এ ছাড়াও এ জিনিসটি এও চিহ্নিত করে যে, তিনি নিছক স্রষ্টা নন বরং নিজের সৃষ্টির প্রতি তিনি বড়ই করুণাশীল ও স্নেহময় এবং তাঁর প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্য তাঁর চেয়ে বেশি তিনি চিন্তা করেন৷ মানুষ দুনিয়ায় অনবরত পরিশ্রম করতে পারে না৷ বরং প্রত্যেকবার কয়েক ঘন্টা মেহনত করার শক্তি পাবে৷ এ উদ্দেশ্যে মহাজ্ঞানী ও করুণাময় ও স্রষ্টা মানুষের মধ্যে কেবলমাত্র ক্লান্তির অনুভূতি এবং কেবলমাত্র বিশ্রামের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হননি বরং ' নিদ্রার এমন একটি জবরদস্ত চাহিদা তাঁর অস্তিত্বের মধ্যে রেখে দিয়েছেন যার ফলে তাঁর ইচ্ছা ছাড়াই এমন কি তাঁর বিরোধিতা সত্ত্বেও আপনা আপনিই কয়েক ঘন্টার জাগরণ ও মেহনতের পর তা তাকে পাকড়াও করে, কয়েক ঘন্টা বিশ্রাম নিতে তাকে বাধ্য করে এবং প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে আপনা আপনিই তাকে ত্যাগ করে ৷ এ নিদ্রার স্বরূপ ও অবস্থা এবং এর মৌল কারণগুলো আজো মানুষ অনুধাবন করতে পারেনি৷ এটি অবশ্যই জন্মগতভাবে মানুষের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী হয়ে থাকে, এটা একথার সাক্ষ পেশ করার জন্য যথেষ্ট যে, এটি কোন আকষ্মিক ঘটনা নয় বরং কোন মহাজ্ঞানী সত্তা একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনা অনুসারে এ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন৷ এর মধ্যে একটি বিরাট জ্ঞান, কল্যাণ ও উদ্দেশ্যমুখীতা পরিষ্কার সক্রিয় দেখা যায়৷ এ ছাড়াও এ নিদ্রা একথারও সাক্ষবহ যে, যিনি মানুষের মধ্যে এ বাধ্যতামূলক উদ্যোগ রেখে দিয়েছেন তিনি নিজেই মানুষের জন্য তাঁর চেয়ে বেশি কল্যাণকামী৷ অন্যথায় মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে নিদ্রার বিরোধিতা করে এবং জোরপূর্বক জেগে থেকে এবং অনবরত কাজ করে কেবল নিজের কর্মশক্তিই নয় জীবনী শক্তিও ক্ষয় করে৷
তাঁরপর জীবিকার অন্বেষণের জন্য " আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান" শব্দাবলীর ব্যবহার করার মাধ্যমে নিদর্শনাবলীর অন্য একটি ধারাবাহিকতাঁর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে৷ যদি পৃথিবী ও আকাশের বিপুল ও অগণিত শক্তি সম্ভারকে জীবিকার কার্যকারণ ও উপায় উপকরণ সৃষ্টি করার কাজে না লাগিয়ে দেয়া হতো এবং পৃথিবীতে মানুষের জন্য জীবিকার অসংখ্য উপায়- উপকরণ সৃষ্টি না করা হতো, তাহলে মানুষ এ জীবিকার সন্ধানইবা কোথায় করতে পারতো৷ শুধুমাত্র এতটুকুই নয় বরং জীবিকার এ অনুসন্ধান এবং তা উপার্জন এমন অবস্থায়ও সম্ভব হতো না যদি এ কাজের জন্য মানুষকে সর্বাধিক উপযোগী অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ এবং দৈহিক ও মানসিক যোগ্যতা না দান করা হতো, কাজেই মানুষের মধ্যে জীবিকা অন্বেষণের যোগ্যতা এবং তাঁর অস্তিত্বের বাইরে জীবিকার উপকরণাদি বিদ্যমান থাকা পরিষ্কারভাবে একজন দয়াশীল ও মর্যাদাবান সত্তার অস্তিত্বের সন্ধান দেয়৷ বুদ্ধিবৃত্তি অসুস্থ না হলে কখনো কেউ এ ধারণা করতে পারতো না যে, এ সবকিছু অকস্মাত হয়ে গেছে অথবা এসব বহু ইলাহর ইলাহিত্বের ফল কিংবা কোন নির্দয় অন্ধশক্তি এ অনুগ্রহ ও দানের উতস৷

Tuesday, May 29, 2018

নদী থেকে নেয়ে আসা হাতি আর কাদামাখা কদাকার শুয়োরের গল্প


বড়সড় একটা হাতি নদীতে গোসল সেরে তার মালিকের বাড়ীর পথে যাচ্ছিল। একটা সাঁকোর কাছে আসার পর সে দেখলো বিপরীত দিক থেকে একটা কাদামাখা কদাকার শুয়োর আসছে। হাতিটি একপাশে সরে গিয়ে কাদামাখা কদাকার শুয়োরটার জন্য পথ করে দেয়। আর হাতিও তার পথে যেতে থাকে। ডেরায় ফেরার পর কাদামাখা কদাকার শুয়োর তার বন্ধুদেরকে মজা করে বললো “দ্যাখ আমি কত্ত বড়। একটা বড় হাতিও “ভয়ে” আমাকে পথ ছেড়ে দেয়, হা হা হা।”
এটা শুনে হাতির বন্ধুরা বেশ অস্বস্তি বোধ করে। ওরা কাদামাখা কদাকার শুয়োরের কথার একা সমুচিত জবাব চায়। তারা চেচিঁয়ে বল্লো আমরা কি এতই ভীতু?
সদ্য নাইয়ে আসা হাতিটি মুচকী হেসে বন্ধুদেরকে বল্লো, “দ্যাখ বন্ধুরা, পুঁচকে কাদামাখা কদাকার শুয়োরকে পায়ের তলায় পিষে মারা আমার পক্ষে কোন ব্যাপারই ছিল না। কিন্তু আমিতো গোসল করে এসেছি আর ও ছিল নিতান্তই অপরিষ্কার, অপরিচ্ছন্ন। আর ওকে পায়ের তলায় পিষে দিলে আমার পা ৪টিও অপরিষ্কার, অপরিচ্ছন্ন হতো, তাই না? তাই আমি আস্তে এক পাশে সরে গিয়ে ওর জন্য পথ করে দিয়েছি। এটা ছিল আমার পজিটিভ মনেরই উপস্থিতি, তাইনা। হাতির বন্ধুরা ইতিবাচক মাথা নোয়ালো।   
সারমর্মঃ আমরা যেনো “নেগেটিভ” মনের ভয়ে কখনোই না থাকি আর নোংরা অপবিত্রতাকে সব সময়ই দূরে রাখি। নোংরা, অপবিত্ররা কী কমেন্ট করলো, ভঙ্গীতে কমেন্ট করলো সেটা আমাদের গায়ে মাখার কী দরকার!
জীবনে কোন “ড্রামা” করার দরকার নেই-সামনে এগিয়ে যাও।   

“উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে,
তিনিই মধ্যম যিনি চলেন তফাতে।”
-রবীন্দ্রনাথ

“কুকুর আসিয়া এমন কামড়
দিল পথিকের পায়
কামড়ের চোটে বিষদাঁত ফুটে
বিষ লেগে গেল তাই।
ঘরে ফিরে এসে রাত্রে বেচারা
বিষম ব্যথায় জাগে,
মেয়েটি তাহার তারি সাথে হায়
জাগে শিয়রের আগে।
বাপেরে সে বলে ভর্তসনা ছলে
কপালে রাখিয়া হাত,
তুমি কেন বাবা, ছেড়ে দিলে তারে
তোমার কি নাই দাতঁ?
কষ্টে হাসিয়া আর্ত কহিল
“তুই রে হাসালি মোরে,
দাঁত আছে বলে কুকুরের পায়ে
দংশি কেমন করে?”
কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পায়,
তা বলে কুকুরে কামড়ানো কি রে
মানুষের শোভা পায়?”
-শেখ সা’দী

Friday, May 25, 2018

জিভের আপদ-Problems with Tongue! A Religious approach


৫ম কিস্তি
“মানুষের আসল পরিচয় লুকিয়ে থাকে তারই রসনায়।”  
অতি বলায় যে অভ্যাসী, সাধারনতঃ সে মিথ্যা বেশী বলে। কবি বলেন, “কহে সে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর।”
যেমন, যে নিজের বড়াই করে সে অধিকাংশ সময় আতিরঞ্জন করে।
আল্লাহ তা’য়ালা তোমার জন্য একটি মাত্র জিহ্বা আর দুটি কান দিয়েছেন। সুতরাং তোমার “কথন” অপেক্ষা “শ্রবন” বেশী হওয়াই বাঞ্ছনীয়। তাই বিজ্ঞব্যক্তিরা বলেন, “লৌহ তরবারী অপেক্ষা বাক্ তরবারীর তীব্রতা অনেক বেশী।”
হযরত আলী(রা.) বলেন, “৪টি কাজ মূর্খের আচরণঃ ১. এমন লোকের অভিমান করা যে মানিয়ে নিতে পার না ২. এমন লোকের কাছে বসা যে তাকে কাছে টানতে পারে না। ৩. এমন লোকের কাছে অভাবের কথা বলা যে অভাব পূরণের ক্ষমতা রাখে না। ৪. এমন কথা বলা যা নিজের বিষয়ের ভেতর নয়।”
তাই বলা হয়, “বোবার শত্রæ নেই।”
“কোথা বা সে ভালবাসা,
কোথা বা সে প্রেম আবিলতা?
কাড়িয়া লইয়াছে সবি
সেই ব্যথা, সেই বল্গাহীন কথা।”