Sunday, March 29, 2020

আল্লাহর গজব আসে ৩০ কারণে

৩০টি কারন ৭ ক্যাটাগরিতে
প্রথম ক্যাটাগরী:
পাপের সীমা ছাড়িয়ে গেলে
মানুষ পাপ করতে করতে যখন পাপের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখনই আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়।পাপিষ্ঠ ফেরাউনকে আল্লাহ তাআলা তখনই ধরেছেন, যখন সে নিজেকে আল্লাহ বলে দাবি করেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ‘হে মুসা! তুমি ফেরাউনের কাছে যাও, সে অত্যন্ত উদ্ধত হয়ে গেছে।’ (সুরা ত্বাহা : ২৪)
নমরুদকে আল্লাহ তাআলা তখনই শাস্তি দিয়েছেন, যখন সে নিজেকে প্রভু বলে দাবি করেছে। অনুরূপভাবে আদ, সামুদ প্রভৃতি জাতিকে তাদের সীমাহীন পাপাচারের কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বনি ইসরাইলরা আল্লাহর কিতাব তাওরাতকে অস্বীকার, উত্তম জিনিস তথা মান্না ও সালওয়ার পরিবর্তে খারাপ জিনিস তথা ভূমির উতপন্ন জিনিস চাওয়া, আমালেকা সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আল্লাহর অগণিত নিয়ামত ভোগ করেও অকৃতজ্ঞ হওয়ার কারণেচির লাঞ্ছনা ও আল্লাহর ক্রোধে পতিত হয়েছে।আগের নবীদের এসব কাহিনী পবিত্র কোরআনে আলোচনা করে আল্লাহ তাআলা এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে যদি উম্মতে মুহাম্মদী (সা.)ও তাদের মতো পাপাচারে লিপ্ত হয়, তবে তাদের পরিণতিও অনুরূপ হবে এবং একই ভাগ্য বরণ করতে হবে। 

২) বিধর্মী কার্যকলাপের ফলে
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন (১)সরকারি মালকে নিজের মাল মনে করা হয়, (২)আমানতের মালকে নিজের মালের মতো ব্যবহার করা হয়, (৩)জাকাতকে জরিমানা মনে করা হয়, (৪)ইসলামী আকিদাবর্জিত বিদ্যা শিক্ষা করা হয়,
(৫)পুরুষ স্ত্রীর অনুগত হয়,
(৬)মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়,
(৭)বন্ধুদের আপন মনে করা হয়,
(৮)বাবাকে পর ভাবা হয়,
(৯)মসজিদে শোরগোল করা হয়,
(১০)পাপী লোক গোত্রের নেতা হয়,
(১১)অসত ও নিকৃষ্ট লোক জাতির চালক হয়, (১২)ক্ষতির ভয়ে কোনো লোককে সম্মান করা হয়, (১৩)গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন অধিক হয়,
(১৪)মদ্য পানের আধিক্য ঘটে, 
(১৫)পরবর্তী সময় লোকেরা পূর্ববর্তী লোকদের বদনাম করে—তখন যেন তারা অপেক্ষা করে লু হাওয়া (গরম বাতাস), ভূমিকম্প, ভূমিধস, মানব আকৃতি বিকৃতি, শিলাবৃষ্টি, রক্তবৃষ্টি ইত্যাদি কঠিন আজাবের, যা একটার পর আরেকটা আসতে থাকবে, যেমন হারের সুতা ছিঁড়ে গেলে মুক্তার দানাগুলো একটার পর একটা পড়তে থাকে। (তিরমিজি)

৩) ব্যভিচার, মাপে কম দেওয়া ইত্যাদি অপকর্মের ফলে
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মুহাজিরদের উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘পাঁচটি মন্দ কাজ এমন আছে, যদি তোমরা তাতে জড়িয়ে  পড়ো বা তা তোমাদের মধ্যে বাসা বাঁধে, তবে খুবই খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হবে। আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যেন এ পাঁচটি মন্দ কাজ তোমাদের মধ্যে জন্ম না নেয়।’
ক. ব্যভিচার যদি কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাদের মধ্যে এমন এমন রোগ দেখা দেবে, যা আগে ছিল না।
খ. ‘মাপে কম দেওয়া।’ এ মন্দ কাজ যদি কোনো জাতির মধ্যে জন্ম নেয়, তবে তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং তারা অত্যাচারী শাসকের শিকারে পরিণত হয়।
গ. ‘জাকাত’ না দেওয়া। এ মন্দ কাজ যাদের মধ্যে দেখা দেয়, তাদের ওপর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। যদি সে অঞ্চলে পশু বা পাখি না থাকত, তবে আদৌ বৃষ্টি হতো না।
ঘ. আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা। এ মন্দ কাজ যখন সমাজে দেখা দেয়, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর অমুসলিমদের আধিপত্য চাপিয়ে দেন। আধিপত্যবাদীরা তখন মুসলমানদের সহায়-সম্পদ কেড়ে নেয়।
ঙ. ‘কিতাব অনুযায়ী শাসনকার্য না চালানো।’ যদি মুসলমান শাসকরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী শাসনকার্য না চালায়, তবে আল্লাহ তাআলা মুসলিম সমাজে ভাঙন সৃষ্টি করে দেন। তারা নিজেদের মধ্যে পরস্পর লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে এবং সমাজে সন্ত্রাস ও খুন-খারাবি শুরু হয়ে যায়।’ (বায়হাকি, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০১৯)
হজরত ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বীনের কার্যকলাপে শৈথিল্য প্রদর্শন করা হলে সেই সম্প্রদায়ের লোকদের অন্তরে ভয়-ভীতি ঢেলে দেওয়া হয়, কোনো সম্প্রদায়ে জিনা-ব্যভিচার বৃদ্ধি পেলে তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়, কোনো সম্প্রদায়ের লোক মাপে কম দিলে তাদের রিজিক সংকুচিত করে দেওয়া হয়, কোনো সম্প্রদায়ে অন্যায়ভাবে বিচার-ফয়সালা করা হলে সে গোত্রে রক্তপাত বৃদ্ধি পায়, কোনো সম্প্রদায়ের লোক অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে তাদের মধ্যে শত্রুতা প্রবল করে দেওয়া হয়। (মুয়াত্তা মালেক, মিশকাত : পৃ. ৪৫৯) 

৪) অন্যায় কাজে বাধা না দেওয়ার ফলে
সতকাজের আদেশ এবং অসত কাজে বাধা দেওয়া ফরজ। মুমিন এ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে না। হজরত হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যার হাতে আমার প্রাণ নিবদ্ধ তাঁর শপথ! তোমরা অবশ্যই ন্যায় কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজ থেকে (মানুষকে) বিরত রাখবে। অন্যথায় আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর আজাব পাঠাবেন। অতঃপর তোমাদের পরিত্যাগ করা হবে এবং তোমাদের দোয়াও কবুল করা হবে না।’ (তিরমিজি) 

৫) অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে
অন্যায়ভাবে হত্যা করা হারাম। কথিত আছে, হজরত আদম (আ.)-এর পুত্র কাবিল যেদিন হাবিলকে হত্যা করে, সেদিনই পৃথিবীতে প্রথম ভূমিকম্প হয়। কেননা অন্যায়ভাবে হত্যাকাণ্ড আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। তিনি ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সে সদা সেখানে অবস্থান করবে।’ (সুরা নিসা : ৯৩)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে দূরে থাকবে। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন—ইয়া রাসুলুল্লাহ! বিষয়গুলো কী কী? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন : ১. আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। ২. জাদুটোনা করা। ৩. যথাযথ কারণ বাদে কাউকে হত্যা করা, যা আল্লাহ হারাম করে দিয়েছেন। ৪. সুদ খাওয়া। ৫. এতিমের সম্পদ গ্রাস করা। ৬. রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা। ৭. মুসলিম সরলা নির্দোষ মহিলাদের নামে ব্যভিচারের দুর্নাম রটনা করা। (মিশকাত, প্রথম খণ্ড, বাবুল কাবাইর ওয়া আলামাতুন নিফাক, সহীহ বুখারি, কিতাবুল ওয়াসায়া, হাদিস নম্বর : ২৭৬৬) 
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) মহানবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন—তিনি বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি মুসলমানদের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে আবদ্ধ কোনো অমুসলিমকে হত্যা করে, তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ ৪০ বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৬৮৬, সুনানে নাসাঈ, হাদিস  : ২৫)

৬) দুনিয়াপ্রীতি বৃদ্ধি পেলে
মুমিন দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে অধিক ভালোবাসে। সাহাবায়ে কিরাম দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দিতেন এবং দ্বীনের জন্য মরণকে বেশি পছন্দ করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—আমার উম্মতের ওপর এমন দুঃসময় আসবে, যখন অন্যান্য জাতি তোমাদের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে যেন ক্ষুুধার্ত মানুষ খাদ্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একজন সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—না, বরং তোমরা সংখ্যায় অনেক হয়েও বন্যার ফেনার মতো ভেসে যাবে। দুশমনদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয়ভীতি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি উঠে যাবে। তোমাদের অন্তরে ওহান (কাপুরুষতা) সৃষ্টি হবে। একজন সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ওহান কী? রাসুল (সা.) বললেন, দুনিয়ার মহব্বত ও মৃত্যুর ভয়। (আবু দাউদ) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চারটি বিষয় ক্ষতিকর : ক. চোখ নষ্ট হওয়া, খ. কলব শক্ত হওয়া, গ. দীর্ঘ আশা করা ও ঘ. পার্থিব লোভ।

৭) ধনীরা কৃপণ হলে
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের মধ্যে উত্তম লোকরা তোমাদের নেতা (রাষ্ট্রপ্রধান) হয়, ধনীরা দানশীল হএবং রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়, তখন তোমাদের জন্য জমিনের নিম্নভাগ থেকে জমিনের উপরিভাগ উত্তম। আর যখন তোমাদের মধ্যে ধনী লোকরা কৃপণ হয়, কার্যাবলি মহিলাদের নির্দেশমতো চলে, তখন তোমাদের জন্য জমিনের উপরিভাগ থেকে জমিনের নিম্নভাগ উত্তম।’ (তিরমিজি, পৃষ্ঠা : ৪৫৯)
https://myjaalhaq.blogspot.com/2019/06/blog-post_28.html 

আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ মানুষের ইবাদত পাবার যোগ্য হতেই পারে না!!

আল্লাহর কাছে মানুষের সৃষ্টির ধারাবাহিক ইতিহাস রয়েছেঃ

আমি মানুষকে তৈরী করেছি মাটির উপাদান থেকে
তারপর তাকে একটি সংরক্ষিত স্থানে টপ্‌কে পড়া ফোঁটায় পরিবর্তত করেছি,  
এরপর সেই ফোঁটাকে জমাট রক্তপিন্ডে পরিণত করেছি, তারপর সেই রক্তপিন্ডকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি,এরপর মাংসপিন্ডে অস্থি-পঞ্জর স্থাপন করেছি, তারপর অস্থি-পঞ্জরকে ঢেকে দিয়েছি গোশত দিয়ে,  তারপর তাকে দাঁড় করেছি স্বতন্ত্র একটি সৃষ্টি রূপে৷  কাজেই আল্লাহ বড়ই বরকত সম্পন্ন, সকল কারিগরের চাইতে উত্তম কারিগর তিনি৷
সূরা আল মু’মিনুন আয়াত ১২-১৪
Wa laqad khalaqnal insaana min sulaalatim minteen
Summa ja'alnaahu nutfatan fee qaraarim makeen
Summa khalaqnan nutfata 'alaqatan fakhalaqnal 'alaqata mudghatan fakhalaq nal mudghata 'izaaman fakasawnal 'izaama lahman summa anshaanaahu khalqan aakhar; fatabaarakal laahu ahsanul khaaliqeen
তিনিই তো সে সত্তা যিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন৷ তারপর শুত্রু থেকে৷ তারপর রক্তের পিণ্ড থেকে৷ অতপর তিনি তোমাদেরকে শিশুর আকৃতিতে বের করে আনেন৷ এরপর তিনি তোমাদেরকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত করেন যাতে তোমরা নিজেদের পূর্ণ শক্তিতে উপনীত হতে পারো৷ তারপর আরো বৃদ্ধিপ্রাপ্ত করেন যাতে তোমরা বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হও৷ তোমাদের কাউকে আগেই ফিরিয়ে নেয়া হয়৷ এসব কাজ করা হয় এ জন্য যাতে তোমরা তোমাদের নির্ধারিত সময়ের সীমায় পৌঁছতে পারো এবং যাতে প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে পারো৷ 
সূরা আল মুমিন আয়াত ৬৭   
Huwal lazee khalaqakum min turaabin summa min nutfatin summa min 'alaqatin summa yukhrijukum tiflan summa litablughooo ashuddakum summa litakoonoo shuyookhaa; wa minkum mai yutawaffaa min qablu wa litablughooo ajalam musam manw-wa la'allakum ta'qiloon

জীবনের এসব পর্যায়ের মধ্য দিয়ে মানুষদেরকে অতিক্রম করানোর কারণ এ নয় যে, তারা পশুর মত জীবন যাপন করবে এবং পশুর মত মরবে৷ বরং এসব পর্যায় অতিক্রম করানো হয় এ জন্য যে আল্লাহ মানুষদেরকে যে জ্ঞান বুদ্ধি দিয়েছেন তা কাজে লাগাবে এবং সে নিয়ম নীতি ও ব্যবস্থাপনা উপলব্ধি করবে যার অধীনে মানুষদের আপন সত্তার ওপর দিয়ে এসব আবার আবর্তন চলে৷ মাটির প্রাণহীন উপাদানসমূহের মধ্যে জীবনের মত বিস্ময়কর ও অদ্ভুত জিনিসের উতপত্তি হওয়া, কেবল অনুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃষ্টিগোচর এমন অতি ক্ষুদ্র শুক্রকীট থেকে মানুষের মত বিস্ময়কর সৃষ্টির অস্তিত্ব লাভ করা তারপর মাতৃগর্ভে স্থিতিকাল থেকে প্রসবকাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই এমনভাবে বেড়ে ওঠা যে, তার লিংগ, তার আকার আকৃতি, তার দৈহিক কাঠামো, তার মানসিক বৈশিষ্টাবলী এবং তার ক্ষমতা ও যোগ্যতা সবকিছুই সেখানে নির্ধারিত হয়ে যায় এবং তার সৃষ্টির ব্যাপারে দুনিয়ার কোন শক্তিরই প্রভাব খাটাতে না পারা৷ তাছাড়া যার গর্ভপাত হয় তার গর্ভপাতের শিকার হওয়া, যে শিশুকালে মরে যায়, যে যৌবনকালে বা বৃদ্ধাবস্থায় কোন নির্দিষ্ট বয়স সীমায় পৌঁছা, তার এমন সব ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেও সে বয়সে উপনীত হওয়া যেসব পরিস্থিতিতে নিশ্চিত মৃত্যু হওয়া উচিত এবং যাকে বয়সের কোন এক পর্যায়ে মৃত্যুবরণ করতে হবে নিশ্চিত মৃত্যু হওয়া উচিত এবং যাকে বয়সের কোন এক পর্যায়ে মৃত্যুবরণ করতে হবে তার পৃথিবীর সর্বোত্তম কোন হাসপাতালে সুদক্ষ ডাক্তারদের চিকিতসাধীন থেকেও মৃত্যুবরণ করা৷ এসব বিষয় কি এ সত্যটিই তুলে ধরছে না যে, আমাদের জীবনও কোন এক সর্বশক্তিমান সত্তার হাতে? বাস্তব অবস্থা যখন এই যে, এক সর্বশক্তিমান সত্তা আমাদের জীবন ও মৃত্যুর ব্যাপারে সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী তখন কোন নবী, অলী, ফেরেশতা কিংবা তারকা বা গ্রহ উপগ্রহ আমাদের ইবাদাত পাওয়ার যোগ্য হয় কিভাবে? তাছাড়া কোন মানব শক্তি এ পদমর্যাদা কিভাবে লাভ করলো যে, আমরা তা আইন কানুন, তার আদেশ নিষেধ এবং তার নিজের নির্ধারিত হালাল হারাম বিনা বাক্যে মেনে নেব? 
সূত্রঃ http://islam.net.bd/ এবং https://www.quran411.com/

Tuesday, March 17, 2020

প্রতিদিন ৮ কথা ভবিষ্যত সাফল্যের জন্য

কথা ১. আমার কাজ পৃথিবীর কেউ এগিয়ে দেবে না, আমার কাজ আমাকেই করতে হবে ।
কথা ২. আমি বিশ্বাস করি, আমার সাথে খুব ভালো কিছু হতে যাচ্ছে ।
কথা ৩. পৃথিবীর কোনোকিছুই স্থায়ী নয়, আমার সমস্যাগুলোও নয় ।
কথা ৪. হয়তো আমার স্বপ্নপূরণ খুব সহজে হবে না, কিন্তু আমাকে পারতেই হবে ।
কথা ৫. বাজে অভ্যাসগুলো ছাড়তে হবে, আমি আমার পরিশ্রমের ফল সুস্থভাবে দেখে যেতে চাই।
কথা ৬. আমি কখনোই আশা হারাবো না, কারণ কাল কি হবে আমি জানি না।
কথা ৭. জীবন অনেক কঠিন, কিন্তু আমি তার চেয়েও কঠিন ।
If life hits hard, hit back harder
কথা ৮. নীরবে কাজ করে যাব, আমার কাজই একদিন চিতকার করে সবার নজর কাড়বে ।
-স্পাইকস্টোরী

Sunday, March 1, 2020

বাবা কেন সেরা শিক্ষক?

শিক্ষক হলো সেই যে কেবল শিক্ষা দেয়। কিন্তু সবচেয়ে ভাল শিক্ষক হলো সেই যে তোমার সম-পর্যায়ে নেমে এসে তোমাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে ব্যর্থ হওয়ার পর কিভাবে সফল হতে হয়। সবচেয়ে ভাল শিক্ষক হলো সেই যে তোমাকে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান করে আর স্বপ্ন দেখায়। সবচেয়ে ভাল শিক্ষক হলো সেই যে তোমার হাতটি ধরেই রাখে-কখনো ছাড়েনা আর তোমাকে দেয় গতি। সবচেয়ে ভাল শিক্ষক হলো সেই যে তোমাকে মহান একজন মানুষ হতে যা যা শিক্ষা লাগে সবই দেয় ক্লান্তিবিহীনভাবে।
সেই তোমার সারা জীবনের আদর্শ-সেই সবচেয়ে ভাল শিক্ষক-তোমার বাবা।

মানুষ কেন কাঁদে?

টেনিসনের Tears, Idle Tears কবিতাটি যারা পড়েছেন তারা মনে করতে পারেন কথাগুলো,
“Tears, idle tears, I know not what they mean,
Tears from the depth of some divine despair
Rise in the heart, and gather to the eyes...”
আবার কিশোর কুমারের এ গানটি আমাদের কান্নার কথা মনে করে দেয়-
“চোখের জলের হয়না কোন রঙ
তবু কত রঙের ছবি আছে আঁকা
চোখের জলের হয়না কোন রঙ
তবু কত রঙের ছবি আছে আঁকা
দেখতে গিয়ে হারিয়ে গেলাম গভীন আঁধার পথে
আঁকা বাঁকা ।।
স্বপ্ন দিয়ে মনকে আমি ভুলিয়ে গেলাম রেখে
তবু কেমন করে কান্না এত এল কোথা থেকে
স্বপ্ন দিয়ে মনকে আমি ভুলিয়ে গেলাম রেখে
তবু কেমন করে কান্না এত এল কোথা থেকে
ফুলে ভরা সবুজ মনের আকাশ
ধোঁয়ায় ঢাকা।।”
Researchers don't know exactly why we cry.
Biochemically, the composition of tears is similar to saliva.
Women really do cry more often than men.
Tears come from the lachrymal gland.
There's an anatomical reason why crying makes your nose run
Syn-propanethial-S-oxide is the reason onions make you cry.
Crocodile tears are real.
Happy tears aren't all that different from the sad ones.
Some people are more likely to cry than others -- but why is less clear.
অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে মানুষ কান্না করে। এ কান্নাকে বিশ্লেষণ করলে পুরো সাংস্কৃতিক পরিচয় থেকে শুরু করে সামাজিক অবস্থান—সবকিছুই বোঝা সম্ভব। এটির অধ্যয়ন নিজেদের ভালোভাবে বুঝতে সহায়তা করে। আচরণ হিসেবে কান্নাকে অনেকেই ঠাট্টা-উপহাস করেন। তারা বলেন, অশ্রু হলো মেয়েলি, প্রশ্রয়পূর্ণ ও অতিনাটকীয় বিষয়। এটা অনুমান করা কঠিন নয় যে এ ধারণা পুরুষতান্ত্রিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
শিক্ষকরা সর্বদা শিক্ষার্থীদের কাঁদতে নিষেধ করেন এবং তারা এটাকে সস্তা হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে মনোবিদরা ‘ভালো কান্নাকাটি’র প্রয়োজনীয়তা আছে বলে উল্লেখ করেন। তারা অশ্রুকে একটি পরিচয় ও মানসিক তৃপ্তি হিসেবে দেখেন, যার শারীরিক প্রভাব আছে। অনেকে কান্নাকে আত্মা-পরিষ্কারের ওষুধ হিসেবে উল্লেখ করে নিজেদের ঘোষণা দেন যে ‘আমি একজন ক্রাইয়ার’।
তবে সব কান্নাও এক রকম নয়। মানব শরীর তিন ধরনের কান্না উতপাদন করে। একটা হলো মৌলিক, যা শুষ্কতা থেকে রক্ষার জন্য চোখের বলের উপরে তৈলাক্ত স্তর তৈরি করে। আরেকটি হলো প্রতিবিম্ব, যা চোখে ধূলিকণা বা কিছু পড়লে সেটা থেকে চোখকে রক্ষার জন্য হাজির হয়। পেঁয়াজ কাটার সময় বা তীব্র আলোর মুখোমুখি হলেও এটা হয়ে থাকে। অর্থাত চোখ কোনোভাবে বিরক্ত হলে প্রতিবিম্বের মাধ্যমে চোখ দিয়ে পানি বের হয়। তৃতীয়টা হলো আবেগীয়, যা সংবেদনশীল কোনো কারণে ঘটে থাকে। আবেগীয় বা সংবেদনশীল অশ্রুতে মৌলিক ও প্রতিবিম্বের চেয়ে প্রোটিনের মাত্রা বেশি থাকে। প্রোটিনের কারণে অশ্রু অনেক ঘন হওয়ায় ধীরে ধীরে সেগুলো চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে।
এ অশ্রুগুলো যত বেশি গড়িয়ে পড়বে, অন্যদের জন্য তার বার্তাগুলো তত বেশি উপলব্ধি করার সুযোগ তৈরি হবে। সংবেদনশীল অশ্রু একটি সামাজিক ও জৈবিক সংকেত। এটা যোগাযোগেরও একটা মাধ্যম। কিন্তু অনেক সময় মানুষ একা একাই কান্না করে থাকে, যেখানে কান্নার প্রেরক থাকলেও প্রাপক থাকে না। এ বার্তা সামাজিকভাবে নিজের দিকে পরিচালিত হতে পারে অর্থাৎ বার্তাগুলো সে নিজেই নেয় এবং আত্মতৃপ্তি পায়। এ মুহূর্তে কেউ হয়তো কবি অর্থার রিমবৌদের কথা ভাবতে পারেন—‘আমি অন্য একজন’। কখনো কখনো একক কোনো ব্যক্তি কান্নার প্রেরক ও প্রাপক হতে পারে। কান্নার সামাজিক যে সংকেত রয়েছে, তা সংস্কৃতিভেদে পরিবর্তিত হয়। এটা ক্রন্দনকারী ও সাক্ষীদের ব্যক্তিগত পরিচয়, ক্ষমতা ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে।
চিকিতসাবিজ্ঞানের সুনির্দিষ্ট ফ্রেম রয়েছে, যার মাধ্যমে মানুষের অশ্রুকে ব্যাখ্যা করা যায়। এজন্য তারা অশ্রুর উতপাদন পরিমাপের জন্য রোগীর চোখ থেকে অশ্রু সংগ্রহ করেন। আবার যখন কোনো মনোবিদ হতাশার রোগীর চিকিতসা করেন, তখন রোগীর কান্নার বর্ণনা শুনে থাকেন। কান্নার বিভিন্ন ধরনের ওপর অনেক সম্ভাবনা নির্ভর করে। এদের মধ্যেও নানা পার্থক্য দেখা যায়। এমন রোগীরা বলেন, ‘আমি আগের মতো আর কান্না করি না’, ‘শরীর ও চোখ শুকিয়ে অসাড় হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি প্রতিটি ছোট ছোট বিষয়ের জন্য কেঁদেছি’, ‘আমি কান্নার মতো অনুভব করি কিন্তু কাঁদতে পারি না’। কান্না মানুষের মধ্যে গভীর বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে। আবার বিতর্কিত পৃথককরণও সৃষ্টি করতে পারে। এটা নির্ভর করে মূলত তারা কারা এবং তারা কীভাবে পৃথিবীতে বসবাস করবে, এটা পরস্পর শেয়ার করার মাধ্যমে।
পদ্ধতিগত নিদর্শনগুলো ও প্রত্যাশিত বিষয়গুলো পরিবর্তন হলে অশ্রু চলে আসে। এজন্য কোনো শিশু কিছু খেতে চাইলে তাকে সেটা না দিলে সে কাঁদে। সম্ভবত আপনি লক্ষ করেছেন, একই সঙ্গে কান্না করা এবং গান গাওয়া প্রায় অসম্ভব। গলার পেশি একসঙ্গে কান্না ও গানের সংকোচন-প্রসারণ করতে পারে না। এজন্য দ্য ক্রাইং বুক-এর লেখক ও গবেষক হিদার ক্রিস্টল বলেছেন, কান্নার বিপরীত শব্দ হাসি নয় বরং গান। কান্নার সময় গলা ধরে আসে, কোনো কথা পর্যন্ত বলা যায় না।
মানুষ যখন বলতে পারা এবং নিজেকে পরিচালনার শেষ সীমায় পৌঁছে যায়, তখনই মানুষ কান্না করে। এর অর্থ এই নয় যে শেষ সীমায় পৌঁছার আগ পর্যন্ত তার কথাগুলো ভালো, সত্য বা বিশ্বাসযোগ্য হওয়া উচিত। বরং এটা বোঝায় যে এটা মানুষের ব্রেকিং পয়েন্ট। এরপর সে আর কিছু বলতে পারে না বা নিজেকে পরিচালনা করতে আর সক্ষম হয় না। এটাই তার স্বাভাবিকের সর্বোচ্চ সীমা। এর মানে হলো, যে কারণে অশ্রুগুলো ঝরে পড়ছে, সে বিষয়গুলোর দিয়ে মনোযোগ দেয়ার সময় এসেছে।
গবেষক হিদার ক্রিস্টল বলেন, আমার গবেষণার বহু বছর পর এখন পর্যন্ত আমি নিজেকে শারীরিক ও রূপক রূপে কান্নাকে বোঝার বিস্ময়কর উপায়গুলো শিখছি। এটা দেখা যাচ্ছে যে অশ্রু যখন আসন্ন, তখন আপনার গলা ধরে আসছে বা শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এমন সময় আপনি শ্বাস নেয়া বা কিছু গিলে ফেলার চেষ্টা করলে পেশিগুলো তা প্রতিরোধ করে এবং বাধা দেয়ার সংবেদন তৈরি করে। তবে গবেষণায় দেখেছি এ ধরনের পরিস্থিতি পরিবর্তন করা সম্ভব। থামার জায়গা বা সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে নয় বরং উত্তরণের পথ হিসেবে যদি কান্নার দিকে আপনি নজর দিতে পারেন, তবেই সে অশ্রু আপনি বুঝতে পারবেন। আনন্দ, নিপীড়ন, শোক, সৌন্দর্য ও হিংস্রতা বোঝার জন্য কান্না একটা অনেক বড় অবলম্বন।
ডেইলী গার্ডিয়ান/ Huffington Postথেকে: সহায়তা: বণিক বার্তা

মন্দ স্বভাব পতন ডেকে আনে

সৃষ্টিগতভাবে মানুষের ভেতর দুই ধরনের প্রবৃত্তি কাজ করে। ভালো প্রবৃত্তি, যা মানুষকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করে এবং মন্দ প্রবৃত্তি, যা মানুষকে মন্দ কাজে উতসাহিত করে। কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ যেসব কাজ করে তাকে ‘আখলাকে সায়্যিআহ’ বা মন্দ স্বভাব বলা হয়। যেমন—মিথ্যা, মূর্খতা, অহংকার, কৃপণতা, পরনিন্দা, প্রতারণা ইত্যাদি। আখলাকে সায়্যিআহ মানুষের জাগতিক সাফল্য ও পরকালীন মুক্তির পথে অন্তরায়। ইসলাম এসব স্বভাব পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দুশ্চরিত্র ও রূঢ় স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮০১)
কুরআন ও হাদিসে মানুষের সব ধরনের মন্দ স্বভাব পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তেমন কয়েকটি মন্দ স্বভাব হলো—
১. আল্লাহ ও তাঁর স্মরণ থেকে উদাসীন থাকা: মানুষের একটি নিকৃষ্টতম স্বভাব হলো তার স্রষ্টার স্মরণ থেকে বিমুখ থাকা। কেননা তা মানবহৃদয়কে মৃতে পরিণত করে এবং অন্যান্য মন্দ স্বভাবকে উতসাহিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে আল্লাহর স্মরণ করে এবং যে আল্লাহকে স্মরণ করে না তাদের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত ও মৃতের মতো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪০৭)
২. অহংকার: অহংকার বা আত্মম্ভরিতা আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম স্বভাব। আল্লাহ অহংকার অপছন্দ করেন এবং তা মানুষের পতন ডেকে আনে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কোনো উদ্ধত-অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা: লুকমান, আয়াত: ১৮)
পরকালেও অহংকারী ব্যক্তির পরিণতি হবে ভয়াবহ। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যার অন্তরে এক অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১)
৩. মিথ্যাচার: মিথ্যাচার জঘন্যতম পাপ। কথাবার্তা, কাজকর্ম ও আইন-আদালত সর্বত্র মিথ্যা পরিহার করে চলতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ মিথ্যাকে শিরকের পরে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘সুতরাং তোমরা বর্জন করো মূর্তিপূজার অপবিত্রতা এবং দূরে থাকো মিথ্যা কথন থেকে।’ (সুরা: হজ, আয়াত: ৩০)
হাদিসের বর্ণনা মতে, মিথ্যা সব পাপের মূল এবং তা মানুষকে জাহান্নামে পৌঁছে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই মিথ্যা পাপাচার পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং পাপাচার জাহান্নাম পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। ব্যক্তি যখন অনবরত মিথ্যা বলতে থাকে তখন আল্লাহর কাছে তাকে মিথ্যাবাদীরূপে লিপিবদ্ধ করা হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৯৪)
৪. সম্মান ও সম্পদের মোহ: সম্মান ও সম্পদের মোহ বহু পাপের কারণ, যা মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ছাগলের পালে দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘ ছেড়ে দিলে যেমন ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, সম্মানের লিপ্সা ও সম্পদের মোহ মানুষের দ্বিনের জন্য তার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৭৬)
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যার দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে অপর কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা তার লালসা কোরো না।’ (সুরা: নিসা, আয়াত: ৩২)
৫. দুনিয়ার মোহ: পার্থিব জীবন ও জীবনোপকরণের চাহিদা মানুষকে পাপ কাজের প্রতি ধাবিত করে। মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও পরকালীন চিন্তা থেকে বিমুখ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়া ভালোবাসল, সে তার পরকালকে ক্ষতিগ্রস্ত করল। আর যে ব্যক্তি আখিরাতকে ভালোবাসল, সে তার দুনিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করল। সুতরাং তোমরা অস্থায়ী বস্তুর ওপর স্থায়ী বস্তুকে প্রাধান্য দেবে।’ (মুসনাদে আহমদ: ৪/৪১২)
৬. কৃপণতা: কৃপণতা আল্লাহর অপছন্দনীয় একটি স্বভাব। খিয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা ও নির্দয়তার মতো মন্দ স্বভাবের সৃষ্টি হয় কৃপণতা থেকে। এর কারণে মানুষের সামাজিক সম্মানও ক্ষুণ্ন হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদের দিয়েছেন, তাতে যারা কৃপণতা করে তাদের জন্য তা মঙ্গল—এটা যেন তারা কিছুতেই মনে না করে। বরং এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। যে বিষয়ে তারা কৃপণতা করবে, কিয়ামতের দিন তাদের গলায় তার বেড়ি পরিয়ে দেওয়া হবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত: ১৮০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে এবং মানুষের থেকে দূরে থাকে। কিন্তু জাহান্নামের নিকটবর্তী থাকবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৬১)
৭. অপব্যয় ও অপচয়: ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃপণতা যেমন দূষণীয়, অনুরূপ অপব্যয় এবং অপচয় দূষণীয়। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কাজেও অপচয় ও অপব্যয় নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা খাও এবং পান করো; কিন্তু অপব্যয় করবে না। নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) অপব্যয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত: ৩১)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর কিছুতেই অপব্যয় করবে না। যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা: বনি ইসরাঈল, আয়াত: ২৬-২৭)
৮. ক্রোধ ও রাগ: অনিয়ন্ত্রিত রাগ মানুষের হিতাহিত জ্ঞান কেড়ে নেয় এবং অন্যায় কাজে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিকে লজ্জিত হতে হয়। আল্লাহ বলেন, ‘যখন তারা ক্রোধান্বিত হয় তখন তারা ক্ষমা করে দেয়।’ (সুরা: আশ-শুরা, আয়াত: ৩৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ওই ব্যক্তি বীরপুরুষ নয়, যে অন্যকে ধরাশায়ী করে। বরং সেই প্রকৃত বীর, যে রাগের সময় নিজেকে সংযত রাখতে পারে।’ (সহিহ : বুখারি, হাদিস: ৬১১৪)
৯. হিংসা-বিদ্বেষ : ইসলামের দৃষ্টিতে হিংসা একটি মানসিক ব্যাধি, যা মানুষের মানসিক স্বস্তি ও শান্তি নষ্ট করে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্টের কারণ হয়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বিরত থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে খেয়ে ফেলে। যেভাবে আগুন লাকড়িকে জ্বালিয়ে নিঃশেষ করে দেয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৭৩)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ হিংসা থেকে পানাহ চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, যখন সে হিংসা করে।’ (সুরা: ফালাক, আয়াত: ৫)
১০. আত্মগৌরব : আত্মপ্রশংসা ও আত্মগৌরব মানুষকে বাস্তবতাবিমুখ করে। ইসলাম আত্মগৌরব থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আত্মপ্রশংসা কোরো না, কে আল্লাহভীরু এ সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত।’ (সুরা : নাজম, আয়াত: ৩২)
মহানবী (সা.) বলেন, ‘প্রবৃত্তির অনুগামী হওয়া, কৃপণতার অনুগত হওয়া এবং আত্মপ্রশংসায় লিপ্ত হওয়া—এগুলো হচ্ছে ধ্বংসাত্মক বদ-অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত। তবে এসবের মধ্যে শেষোক্তটি হচ্ছে সবচেয়ে জঘন্য।’ (সুনানে বায়হাকি)
১১. গালি দেওয়া: গালি দেওয়া এবং অশ্লীল ও অকথ্য ভাষা ব্যবহার করা ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে তা পাপ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুমিনের সঙ্গে লড়াই করা কুফরি এবং তাকে গালি দেওয়া ফিসক (প্রকাশ্য পাপ)।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৪১১৩)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রকৃত ঈমানদার ব্যক্তি কারো প্রতি ভর্ত্সনা ও অভিশাপ করে না এবং সে কোনো অশালীন ও অশ্লীল কথাও বলে না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৭৭)
১২. ধোঁকা ও প্রতারণা: ধোঁকা ও প্রতারণা কোনো মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। মুমিন তার জীবনের কোনো কথা ও কাজে প্রতারণার আশ্রয় নেবে না। বাহ্যত নিজের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও সে সত্য বলবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মত হিসেবে গণ্য হবে না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৩১৫)

Toxic Relationship

Being in a toxic relationship can feel like a living hell.
তিক্ত সম্পর্ক মানে হলো সম্পর্কের চরম অবনতি। এমন সম্পর্কের সৃষ্টি হলে মনে হবে দোযখে জীবন্ত দগ্ধ হচ্ছি।
What is a Toxic Relationship?
A toxic relationship is a relationship that is mentally, emotionally or spiritually damaging. Toxic relationships are defined by the qualities of fear, submission/domination (or inequality), and deception.
What Causes Toxic Relationships?
Here are four common causes of toxic relationships:
1. Poor communication and personal boundaries
2. Emotional or mental immaturity
3. Childhood wounds and traumas
4. Narcissism-আত্মনিমগ্নতা and sociopathy( pattern of antisocial behaviors and attitudes, including manipulation and deceit, that often arises from environmental factors)
27 Signs of Toxic Relationships
1. Walking on eggshells (be extremely cautious about one's words or actions.)– you find yourself walking on eggshells all the time for fear of upsetting your partner
2. Can’t speak freely – you can’t speak about your thoughts, feelings or needs openly without fearing negative repercussions
3. It’s always about them – your relationship is always about pleasing, listening to, or upholding the other person – but they never return the favor
4. Abandoning values – you compromise your own values, interests, friendships, etc. to keep the relationship
5. Feeling drained and depressed – you mostly feel drained, depressed or distressed around your partner
6. Playing the role of parent or therapist – you often find yourself in the role of therapist or parent to your partner, rather than an adult in a relationship
7. Being made fun of – your partner makes fun of your flaws and sensitivities whether passively (by treating you “less than”) or actively (through name-calling or insults)
8. Being taken advantage of – your partner takes advantage of you financially, emotionally, mentally or sexually
9. Always agreeing with them – you always feel the need to agree with your partner (or else there will be negative consequences)
10. Constant drama – you always feel a sense of endangerment around them as drama/chaos seems to follow them everywhere
11. Strict roles – you feel like you have to play a role and if you dare change, your whole relationship will crumble (this is known as enmeshment)
12. Jealous of your success – instead of celebrating your triumphs, your partner feels compelled to drag you down
13. Brings out the worst in you – instead of helping you to be the best version of yourself possible, your partner fuels your shadow self and seems to enjoy watching you self-destruct
14. Regressing instead of progressing – on a personal and spiritual level, you move backward instead of forwards and your self-growth stagnates around your partner
15. No support – you can’t turn to each other for emotional and mental support in times of need
16. Unreliable – you can’t trust your partner to offer financial support, lend a helping hand, or even turn up to appointments or commitments on time
17. Deception, suspicion, and paranoia – there is an implicit lack of truthfulness in your relationship and you may have caught your partner red-handed in many lies
18. Self-absorption – they are wound up in their own problems, goals, desires, and so are you – there is no meeting point or mutual ground to connect on
19. Contempt – there is an undercurrent of festering anger in your relationship that manifests as sarcasm, negative and condescending tones of voice, curled lips, and eye-rolling
20. Disrespecting boundaries – you struggle to maintain clear physical, emotional, mental or spiritual boundaries – and your partner may enjoy overstepping them
21. Submission/domination – there are issues of control in your relationship and one person will enjoy lording it over the other resulting in numerous emotional and psychological games
22. Non-stop obstacles – all relationships go through bumpy periods, but in yours it is never-ending
23. Feeling unworthy – your self-worth has dropped to an all-time low and you carry a feeling of persistent worthlessness while being around your partner
24. Keeping count of wrongdoings – instead of moving on from the past, there is a toxic fixation and “scorekeeping” of all past fights, arguments, and grievances
25. Lack of self-responsibility – your partner doesn’t take responsibility for their mistakes or their happiness
26. Justifying bad behavior – you always find yourself trying to excuse or justify the selfish, immature or nasty behavior displayed by your partner
27. Unequal division of labor – you feel like you have to do all the emotional work in the relationship while your partner gets to be rude, cold, unreliable or immature
How many of these signs can you relate to? The more you agree with, the more toxic your relationship is.
-ওয়েকআপ.কম