Tuesday, April 14, 2020

মহাকবি শেখ সাদী (রহ.)র ১৩টি অমর বাণী

আকাশের মত উদারতা ও স্বর্গের শান্তি লইয়া যে সকল মহাপুরুষ মর্তে আগমন করিয়াছিলেন, শেখ সা’দী তাহাদের মধ্য অন্যতম।
“অরণ্যে পশু সহবাসে স্বাধীনভাবে বিচরণ করা অপেক্ষা বান্ধব সমাজের শত-শৃঙ্খলিত জীবন সহস্রগুণে শ্রেয়।” -শেখ সাদী
১. অজ্ঞের পক্ষে নীরবতাই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম পন্থা। এটা সবাই জানলে কেউ অজ্ঞ হতো না।
২. অকৃতজ্ঞ মানুষের চেয়ে কৃতজ্ঞ কুকুর শ্রেয়।
৩. আমি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই। তার পরেই ভয় পাই যে আল্লাহকে মোটেই ভয় পায় না।
৪. মানুষ এমনভাবে জীবনযাপন করে যেন কখনো মরতে হবে না, আবার এমনভাবে মরে যায় যেন কখনো বেঁচেই ছিল না।
৫. হিংস্র বাঘের ওপর দয়া করা নিরীহ হরিণের ওপর জুলুম করার
নামান্তর।
৬. যে সৎ, নিন্দা তার কোনো অনিষ্ট করতে পারে না।
৭. প্রতাপশালী লোককে সবাই ভয় পায় কিন্তু শ্রদ্ধা করে না।
৮. দেয়ালের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় সতর্ক হয়ে কথা বল, কারণ তুমি জান না দেয়ালের পেছনে কে কান পেতে দাঁড়িয়ে আছে।
৯. মুখের কথা হচ্ছে থুথুর মতো, যা একবার মুখ থেকে ফেলে দিলে আর ভিতরে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই কথা বলার সময় খুব চিন্তা করে বলা উচিত।
১০. মন্দ লোকের সঙ্গে যার ওঠাবসা, সে কখনো কল্যাণের মুখ দেখবে না।
১১. দুই শত্রুর মধ্যে এমনভাবে কথাবার্তা বল, যেন তারা মিলে গেলেও তোমাকে লজ্জিত হতে না হয়।
১২. বাঘ না খেয়ে মরলেও কুকুরের মতো উচ্ছিষ্ট মুখে তোলে না।
১৩. পরকালে যা আবশ্যক তাহা যৌবনে সংগ্রহ করো।

নিম গাছ

যে গল্পটি এখনো আমাকে অন্যলোকে নিয়ে যায়-

লেখকঃ বনফুল
কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে।
পাতাগুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ!
কেউবা ভাজছে গরম তেলে।
খোস দাদ হাজা চুলকানিতে লাগাবে।
চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ।
কচি পাতাগুলো খায়ও অনেকে।
এমনি কাঁচাই …
কিম্বা ভেঙে বেগুন-সহযোগে।
যকৃতের পক্ষে ভারি উপকার।
কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয় কত লোক … দাঁত ভালো থাকে। কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন।
বলে- ‘নিমের হাওয়া ভালো, থাক্, কেটো না।’
কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না।
আবর্জনা জমে এসে চারিদিকে।
শান দিয়ে বাঁধিয়েও দেয় কেউ- সে আর-এক আবর্জনা।
হঠাৎ একদিন একটা নতুন ধরনের লোক এলো।
মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রইল নিমগাছের দিকে। ছাল তুললে না, পাতা ছিঁড়লে না, ডাল ভাঙলে না, মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রইল শুধু।
বলে উঠল,-‘বাহ্, কী সুন্দর পাতাগুলি … কী রূপ! থোকা-থোকা ফুলেরই বা কী বাহার… একঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে। বাহ্-
খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে চলে গেল।
কবিরাজ নয়, কবি।
নিমগাছটার ইচ্ছে করতে লাগল লোকটার সঙ্গে চলে যায়। কিন্তু পারলে না। মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে। বাড়ির পিছনে আবর্জনার স্তূপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল সে।
ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটার ঠিক এক দশা।
-এখনো রয়েছে আমাদের এই বাংলায় অনেক মেয়ে বা পুরুষ যারা ভাল মেয়ে মানুষকে কোন দিন মানুষ মনে করে না। তাদের কী বলবেন আপনারা?

জান্নাতের আনত নয়না সুলোচনা নারীগণ

১. এমন নাজুক যেমন হয় ডিমের খোসার নিচে লুকানো ঝিল্লি৷
Ka annahunna baidum maknoon-আস সাফফাত ৪৯
২. এমন সুদর্শনা, যেমন হীরা এবং মুক্তা
Ka annahunnal yaaqootu wal marjaan-আর রাহমান ৫৮
৩. এমন অনুপম সুন্দরী যেন লুকিয়ে রাখা মুক্তা
Ka amsaalil lu'lu'il maknoon-আল ওয়াক্কিয়াহ ২৩
৪. তারা হবে নিজের স্বামীর প্রতি আসক্ত ও তাদের সময়বস্কা৷
'Uruban atraabaa আল ওয়াক্কিয়াহ ৩৭
অসম্ভব সুন্দর বর্ণনা আল্লাহ পাকের।

ভয়কে জয় করতে দরকার আত্মবিশ্বাস এবং সাহস

ভয় একটি শারীরিক প্রক্রিয়া নাকি পুরোটাই মনস্তাত্ত্বিক, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু মানুষ আসলে ভয় পায় কেন? ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের মনোবিজ্ঞানী এবং ভীতি সংক্রান্ত এক বইয়ের লেখক ড. ওয়ারেন ম্যানসেল বলছেন, এটা অভিব্যক্তিমূলক, এটা জীববিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত এবং এর মূল ব্যাপার হচ্ছে টিকে থাকা। যেকোনো ধরণের ভীতি বা ঝুঁকির মুখে পালানো বা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের শরীরের একটা প্রস্তুতি থাকা দরকার।
সমাজবিজ্ঞানী ড. মারগী কের বলেছেন, ভয়ের কারণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং পরিত্রাণের উপায় বের করা জরুরি। এটাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।
ড. ম্যানসেল বলছেন, আপনি যদি খুব সহজেই চমকে যান, কিংবা বিশেষ কোন ভীতি বা ফোবিয়া থাকে আপনার, তাহলে তা থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনি নিজে কিছু জিনিস চর্চা করতে পারেন, আবার প্রয়োজনে একজন থেরাপিস্টের সাহায্য নিতে পারেন। এর প্রথম ধাপ হচ্ছে, নিজের মনকে প্রস্তুত করা, মানে আপনি জানেন বিশেষ কোন পরিস্থিতি আপনাকে বিব্রত করে, সুতরাং এখনই তার মুখোমুখি না হয়ে, আপনার মন পুরোপুরি তৈরি হবার পরই আপনি তার মোকাবেলা করুন।
সাহসী হতে হলে যদি ভয়কে জয় করতে হয়, তবে প্রথমেই জানতে হয় মানুষ সাধারণত কীসের ভয় পায়? এ প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্ন হলেও তা মোটামুটি দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—
১. জানা জিনিসের ভয় (সাপ, তেলাপোকা, বাঘ, নদীর স্রোত ইত্যাদি)
২. অজানা জিনিসের ভয় (অন্ধকার, অশরীরী আত্মা ইত্যাদি)
তবে ডেল কার্নেগি ফাউন্ডেশনের গবেষণা মতে, জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে হলে আমাদের যেসব ভয়কে জয় করে সাহসী হতে হয় তা হলো—
১. তিরস্কার বা সমালোচনার ভয়
২. ব্যর্থতা বা অকৃতকার্যের ভয়
কীভাবে সেসব ভয় জয় করে সাহসী হতে হয়? সে জন্য যে সব কাজ করতে হবে তা হলো—
১. থেমে না গিয়ে কাজ করে যান। কারণ কাজ করা অবস্থায় ভয় কম আসে।
২. সাধারণত মানুষ ভয় জয়ের ঠিক আগ মুহূর্তেই চেষ্টা ছেড়ে দেয়। তাই চেষ্টা ছাড়বেন না।
৩. চেষ্টা করে কাজ না হলে সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্য পন্থা অবলম্বন করুন।
৪. কিছু না করে চুপ থাকলেই তিরস্কার ও সমালোচনার ভয় জয় করে সাহসী হওয়া যায়।
৫. নিয়মিত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম মানুষকে সাহসী করে।
৬. ক্ষুধার্ত বা দুর্বল থাকলে ভয় আসে। তাই, ভয় আসলে ক্ষুধার্ত থাকলে কিছু খান।
৭. ভয়ের কারণ সরালেই সাহস বাড়ে। অন্ধকারে ভিতু থাকলে অন্ধকার দূর করলেই সাহসী হওয়া যায়।
৮. নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন।
৯. নিজের ভুল স্বীকার করুন।
১০. না বলতে শিখুন। (যৌক্তিক হলেও অনেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে না বলতে পারেন না)
তবে যাঁরা মনে করেন, এসব সাহস বাড়িয়ে ভয়কে জয় করে কী হবে? কপালে (ভাগ্যে) থাকলে তা এমনিতেই আসবে। তাঁদের উদ্দেশ্যে একটি ল্যাটিন প্রবাদ মনে করিয়ে দিতে চাই। এই প্রবাদটি যে শুধু আমেরিকান আর্মি মেনে চলে তা কিন্তু নয়, সারা পৃথিবীতেই প্রবাদটি মোটামুটি প্রচলিত। তা হলো- Fortune favors the brave. অর্থাৎ ভাগ্য সাহসীদের পক্ষে থাকে।
মনে রাখবেন, এই সাহস আর ভয় হলো একটি মুদ্রার দুটি পিঠ। তবে কোনটি আপনি নেবেন, সেটা মুদ্রাটি ছুড়ে আপনার ভাগ্যের ওপর ফেলে দেওয়া হয় না। এটা আপনাকেই নির্বাচন করতে হয়। সাহসীরা মুদ্রার সাহসের পৃষ্ঠাটি পছন্দ করেন। সে জন্য ভয় তাঁদের মুদ্রার মতোই নিচে পড়ে থাকে।
ভালবাসার জয়
যতীন্দ্র মোহন বাগচী
ও ভাই, ভয়কে মোরা জয় করিব হেসে-
গোলাগুলির গোলাতে নয়, গভীর ভালবেসে।
খড়ুগ, সায়ক, শাণিত তরবার,
কতটুকুন সাধ্য তাহার, কি বা তাহার ধার?
শত্রুকে সে জিনতে পারে, কিনতে নারে যে সে-
ও তার স্বভাব সর্বনেশে।
ভালবাসায় ভুবন করে জয়,
সখ্যে তাহার অশ্রুজলে শত্রু মিত্র হয়-
সে যে সৃজন পরিচয়।
শত আঘাত-ব্যথা-অপমানে লয় সে কোলে এসে,
মৃত্যুরে সে বন্ধু বলে ধরে শেষে।
সূত্র: বিভিন্ন

চাই প্রশান্ত মন

সৌন্দর্যকে গভীরভাবে দেখতে পারলে মন প্রশান্ত হয়।
মনের ভেতরে বিরক্তিকে কখনোই প্রশ্রয় দিতে নেই্। কারণ বিরক্তি সেখানে আসন পেতে বসলে মনের ওপর সেটা প্রভাব বিস্তার করে সহজেই। তখন শান্তি পুরোপুরি বিঘ্নিত হয়। নিজের মনের শান্তির জন্য অন্য কোন নেতিবাচক জিনিসের সাথে কোনভাবেই সংযোগ ঘটানো যাবেনা। নিজের সাথে অন্য কারো তূলনাও করা যাবে না। অন্যের সাথে নিজের তূলনা করলে মনের গভীর যাওয়া অসম্ভব। তাই শান্তভাবে মনের কন্দরে গভীর দৃষ্টি দিতে হবে এতে মন সম্প্রসারিত হবে, হবে মহানুভবতার দিকে অগ্রসর। মানুষকে ভেবে নিতে হবে সৃষ্টিগতভাবে সে কি? তাই তাকে প্রাকৃতিক হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। আর প্রকৃতিক হওয়ার সাথে সাথে আত্মিক যোগাযোগটাও নিবিড়ভাবে থাকতে হবে। শান্ত মন শুধূ শান্তি পূর্ণই নয়-এই মন মানুষকে নিয়ে যায় স্রষ্ঠার কাছকাছি।

পবিত্র কোরান শরিফ নিয়ে কবিতা

মহাগ্রন্থ আল কুরআন
আমল কি কিতাব থি,
দুয়া কি কিতাব বানা দিয়া।
বাংলা:
আমল করার কিতাব ছিলো,
দোয়ার কিতাব বানিয়ে দিয়েছো।
সমঝেনে কি কিতাব থি,
পাড়নে কা কিতাব বানা দিয়া।
বাংলা:
অনুধাবন করার কিতাব ছিলো,
পাঠের কিতাব বানিয়ে দিয়েছো।
জিন্দাওঁ কা দস্তুর থা,
মুর্দাওঁ কা মানশুর বানা দিয়া।
বাংলা:
জীবিতদের জীবনবিধান ছিলো,
মৃতদের ইশতাহার বানিয়ে দিয়েছো।
জো ইলম্ কি কিতাব থি
উসে লা-ইলমোঁ কে হাথ মে দিয়া।
বাংলা:
যেটা ছিলো জ্ঞানের কিতাব,
মূর্খদের হাতে ছেড়ে দিয়েছো।
তাশখীর-এ-কায়েনাত কা দার্স দেনে আয়ি থি,
সির্ফ মাদ্রাসোঁ কা নিসাব বানা দিয়া।
বাংলা:
সৃষ্টির জ্ঞান দিতে এসেছিলো এটা,
স্রেফ মাদ্রাসার পাঠ্য বানিয়ে দিয়েছো।
মুর্দা কওমোঁ কো জিন্দা কারনে আয়ি থি,
মুর্দোঁ কো বখশ্ওয়ানে পার লাগা দিয়া।
বাংলা:
মৃত জাতিদের বাঁচিয়ে তুলতে এসেছিলো এটা,
মৃতের জন্যে দোয়ার কাজে লাগিয়ে দিয়েছো।
আয় মুসালমানোঁ, ইয়ে তুম নে ক্যা কিয়া?
বাংলা:
হে মুসলমানেরা, এ তোমরা কী করেছো?
(Collected)
কবিতাটি লিখেছিলেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও হিন্দি ভাষার খ্যাতিমান কবি শঙ্কর দয়াল শর্মা।
আল কুরআন ১৫শ বছরের কাছাকাছি সময় পেরোচ্ছে। এই মহাগ্রন্থ ভাইরাল হয়েছে তখন থেকেই যখন শুরু হয়েছিল। আমরা মুসলমানরা বুঝিনি। এখনো সেই তিমিরেই রয়েছি।
লেখাটি ছড়িয়ে দিন।
শঙ্কর দয়াল শর্মা বাবু যদি বিষয়টি বুঝে থাকেন-আমরা তাহলে কোথায়!
আফসোস, বড়ই আফসোস!!
The Book, The Message
(The Quran)
Amal ki kitab thi.
Dua ki kitab bana dia
It was a command for action.
You turned it into a book of prayer.
Samajhne ki kitab thi.
Parhne ki kitab bana dia.
It was a Book to understand.
You read it without understanding.
Zindaon ka dastoor tha.
Murdon ka manshoor bana dia.
It was a code for the living.
You turned it into a manifesto of the dead.
Jo ilm ki kitab thi.
Usay la ilmon ke hath thama dia.
That which was a book of knowledge;
You abdicated to the ignoramus.
Taskheer-e-kayenaat ka dars denay aayi thi.
Sirf madrason ka nisaab bana dia.
It came to give knowledge of Creation.
You abandoned it to the madrassah.
Murda qaumon ko zinda karne aayi thi.
Murdon ko bakhshwane per laga dia.
It came to give life to dead nations.
You used it for seeking mercy for the dead.
Aye Musalmano ye tum nay kia kiya?
O’ Muslims! What have you done?

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত এবং অবশ্যপালনীয় বিধান

পবিত্র থাকার ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় বারংবার উৎসাহিত করা হয়েছে এবং যারা পূতপবিত্র থাকবে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে প্রভূত কল্যাণ ও সওয়াবের।
মদিনার নিকটবর্তী কুবা এলাকার লোকজন পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করত। তাদের ভূয়সী প্রশংসা করে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সেখানে এমন লোকেরা রয়েছে, যারা ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করতে পছন্দ করে । আর আল্লাহ তায়ালা পবিত্রতা অর্জনকারীদের পছন্দ করেন ।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ১০৮)
আরও বর্ণিত আছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)
প্রিয়নবী (সা.) বলেন, তোমরা তোমাদের উঠান ও আঙিনা পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে রাখো।
ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হল নামাজ, এই নামাজের জন্য পূর্বশর্ত আরোপ করা হয়েছে পবিত্রতা(অজু) অর্জনকে। আরেক হাদিসের মধ্যে পবিত্রতাকে ঈমানের অর্ধেক বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
হযরত আবু মালেক আশআরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম, হাদিস : ২২৩)
আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনগণ, তোমরা যখন নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন নিজেদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে, মাথা মাসেহ করবে এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করবে; যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হবে। তোমরা যদি পীড়িত হও, কিংবা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নিবে। (সূরা: মায়িদাহ, আয়াত: ৬)
নবী (সা.) বলেন, নামাজ বেহেশতের চাবি; অজু (পবিত্রতা) নামাজের চাবি। (মিশকাত)
আল্লাহ তায়ালা পবিত্রতা অর্জনের সরাসরি নির্দেশনা দিতে গিয়ে বলেন, হে বস্ত্রাচ্ছাদিত, উঠুন, সতর্ক করুন; এবং আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার কাপড় পবিত্র রাখুন, অপবিত্রতা পরিহার করে চলুন। (সূরা: মুদ্দাছছির, আয়াত: ১-৪)
পশ্চিমা দেশগুলোতে মানসিক রোগী ও হতাশাগ্রস্ত লোকদের সংখ্যা করে বেড়েই চলেছে। পাগলাগারদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মানসিক রোগ ও হতাশাগ্রস্ত লোকদের নিয়ে গবেষণাও হচ্ছে অধিক পরিমাণে।
এক মার্কিন গবেষক তার প্রবন্ধে লিখেছেন, আমি ডিপ্রেশন (মানসিক রোগে) আক্রান্ত কয়েকজন রোগীকে প্রতিদিন পাঁচবার মুখ ধৌত করিয়েছি। কিছুদিন পরে তাদের রোগ কমে যায়। অতপর, আরও কিছু রোগীদের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করলাম এবং সেই সঙ্গে দিনে পাঁচবার হাত, মুখ ও পা ধোয়ার ব্যবস্থা করলাম। এবার তারা অনেকটাই সুস্থ হয়ে গেলেন। এই গবেষক তার প্রবন্ধের উপসংহারে অকপটে স্বীকার করেছেন, মুসলমানদের মধ্যে মানসিক রোগ কম দেখা যায়। কারণ, তারা দিনে কয়েকবার হাত, মুখ ও পা ধুয়ে থাকে। উচ্চ রক্তচাপের সহজ ওষুধ হল অজু।
এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অত্যন্ত আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন; উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীকে প্রথমে অজু করিয়ে দিন, তারপর ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করুন, দেখবেন প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
এক মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ মুসলিম গবেষক বলেন, মানসিক রোগের কার্যকরি চিকিৎসা হলো অজু।
পশ্চিমা দেশের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা রোগীদের শরীরে অজুর মত করে দিনে কয়েকবার পানি ঢেলে দেন। এতে রোগের উপশম হয় দ্রুত ।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার আরেকটি উপায় হল গোসল। এটিও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশিকা ও ইবাদত। সপ্তাহে ন্যূনতম একবার হলেও গোসল করাকে আবশ্যক করে দেয়া হয়েছে ইসলামে।
হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমুআর দিন (শুক্রবার) গোসল করা প্রতিটি সাবালক ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস: ৪৭৯)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালার জন্য প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য হলো (অন্তত) প্রতি সাত দিনের মাথায় নিজের মাথা ও শরীর ধৌত করা। (বুখারি, হাদিস : ৮৯৭; মুসলিম, হাদিস : ৮৪৯)
মুখের যত্ন নেয়া ও দাঁত পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে প্রিয় নবী (সা.) বলেন, মিসওয়াক করলে যেমন মুখ (গাছের ছোট ডাল যা দাঁত মাজতে ব্যবহৃত হয়) পরিষ্কার ও পবিত্র হয়, তেমন আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনেরও কারণ হয়। (আন- নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
হযরত আবু হুরায়রা ( রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যদি আমার উম্মতদের ওপরে বেশি কষ্টসাধ্য না হয়ে যেত, তাহলে আমি তাদেরকে প্রত্যেক নামাযের পূর্বে মিসয়াক করার নির্দেশ দিতাম। ( বুখারি এবং মুসলিম )
নিয়মিত মিসওয়াক করলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়, মাথা ব্যথা দূর হয় এবং মাথার রগগুলোতে প্রশান্তি আসে। এতে শ্লেষ্মা (কফ, সর্দি) দূর হয়, দৃষ্টি শক্তি তীক্ষ্ম হয়, পাকস্থলী ঠিক থাকে এবং খাবার সহজে হজম হয়ে যায়, বিবেক বৃদ্ধি পায়। সন্তান প্রজননে বৃদ্ধি ঘটায়। বার্ধক্য দেরীতে আসে এবং পিঠ মজবুত থাকে। (হাশিয়াতুত তাহতাভী, আল মারাকিল ফালাহ, ৬৮ পৃষ্ঠা)
রাসুল (সা.) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন। (সহীহমুসলিম শরীফ, ১৫২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৫৩)
তিনি যখন ঘুম থেকে জেগে যেতেন, তখনও মিসওয়াক করতেন। (আবু দাউদ, ১ম খন্ড, ৫৪ পৃষ্ঠা, হাদীস-৫৭)
বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার বিকল্প নেই। নিজে এবং নিজের আশপাশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে সবসময়।
গবেষকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে করোনা Virus রোধে সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ হল নিজেকে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বারবার হাত ধোয়া।
সূত্রঃ যুগান্তর পত্রিকা