Friday, July 10, 2020

আড্ডা থেকে শিখেছি মেঝেতে বসে খাওয়ার উপকারিতা

সালটা ১৯৮২ বা ’৮৩ হবে। সবে চাকরী পেয়েছি আমরা বন্ধুরা। থাকি অফিসের কাছাকাছি মতিঝিলের এজিবি কলোনী বা এর আশপাশ। ২-১ জন আরো পশ্চিমে ধানমন্ডি, কলাবাগান এলাকায়। একদিন বন্ধু নান্না ওর শিল্প ব্যাংক অফিস থেকে (তারিখ মনে নেই) টেলিফোনে বল্লো, “লুলু আগামীকাল আসবে, তুইও আসবি। বিকেলে শাকেরের বাসায় যাবো আরামবাগে।” আমি তখন কাকরাইলে ন্যাশনাল সায়েন্স মিউজিয়ামে চাকরী করি। লুলু তখন সম্ভবত: বি.এ.ভি.এস-এ কাজ করে। শাকেরেরটা মনে করতে পারিনি। আমি রাজী হলাম। আমরা ৪ জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র ছিলাম। বিকেল হলেই বেরিয়ে পড়তাম। একসাথে ঘোরাঘুরি আরো কত কি। সে এক দারুন স্মৃতি।
আমাদের মধ্যে শাকের চটুল কথায় বেশ ওস্তাদ।
নান্না আইনষ্টাইনের মত মাঝেমধ্যে বেশ ভারী ভারী কথা কয়।
লুলু সক্রেটিসের মত ভাবনা নিয়ে কথা কয়।
আর আমি মাঝেমঝে ২-১টি রসবোধের কথা ছাড়ি।
তো শাকেরের বাসায় নির্দিষ্ট দিনের বিকেলে আমরা ৩ জনে হাজির হই। আড্ডা শেষে নাশতা এলো। শাকের বল্লো, দোস্তঁরা, “মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে খাওয়া যাক।” লুলু সক্রেটিসের মতই বল্লো, মেঝেতে বসে খাওয়া, সে তো দারুন এক ব্যাপার! লিগেসি আছে এতে। শাকের ওরে বাপ রে কয়ে ফোড়ন কাটলো। বল্লো, দোস্তঁরা! “ডাইনিং টেবিল কিনতে পারিনি, টাকা নাই। তাই মেঝেতে বসেই তোরা খাবি। না হলে খাবিনা, ভাগবি! ব্যস!” নান্না আর আমি কোন মন্তব্য করিনি। বসে যাই সবাই। খাওয়া আর গল্প চলে এক সাথে। অনেক সময় এক সাথে থেকে চলে আসি আমরা শাকেরের বাসা থেকে।
ভালই হতো সেই দিনগুলো যদি আবার ফিরে পেতাম!  
আমরা তো মেঝেতে বসলাম। খাওয়ার সময় এর উপকারিতা কি কিছু আছে?
 ডাইনিংয়ের চেয়ারের চেয়ে ঘরের মেঝেতে বসে খাওয়ার উপকারিতা অনেক
আধুনিক জীবনযাপনে আমরা সবাই চেয়ার টেবিলে বসে খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। মাটিতে বসে খাওয়ার চল প্রায় উঠেই গিয়েছে। কিন্তু প্রাচীনকাল থেকেই এদেশের মানুষ ঘরের মেঝেতে বসে খেত। এবার জেনে নেয়া যাক মাটিতে ঘরের মেঝেতে বসে খাওয়ার উপকারিতা। চেয়ারের আবিষ্কার আসলে খুব বেশি দিন ধরে হয়নি। অধিকাংশ মানুষই এখন ডাইনিং টেবিলে বসে খাওয়া-দাওয়া করতে পছন্দ করেন। আর এখন তো ডাইনিং টেবিল-চেয়ারে বসে খাওয়া একটি ফ্যাশন, ভদ্রতার অংশ হিসেবে ধরা হয়। তবে আগের দিনের মানুষ কিন্তু স্কোয়াট Squat বা উবু হয়ে বসে খেত। তবে এটি পশ্চিমা বিশ্বের লোকদের অভ্যাসে নেই, কিছু কিছু দেশের সংস্কৃতিতে এখনো এ অভ্যাস রয়েছে। তবে জানেন কি, পুরোনো এই সংস্কৃতির মধ্যে যোগব্যায়ামের শেকড় রয়েছে এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আমরা যারা গাঁয়ে থেকেছি তার মাটিতে বসে খাওয়াই অভ্যস্ত ছিলাম। কালক্রমে অভ্যাসটি হারিয়ে যায়। এখন আর কারো ঘরে মাদুর দেখা যায় না। আমার আব্বা ডাইনিং টেবিলের কথা শুনতেই চাইতো না। বলতো, “ওটাতে বসে খেলে আমার খাওয়াই হবে না।” তবে আমি ভোরের নাশতার সময় অভ্যাসটি সজীব রেখেছি। এখনো।
মেঝেতে বসে খাওয়ার উপকারিতা
ভারতের চিতৌরের প্রাক্তন জেলা আয়ুর্বেদ চিকিতসা আধিকারিক রোশনাল মোড়ের পরামর্শ অনুযায়ী, চেয়ার-টেবিলের তুলনায় মাটিতে বসে খাওয়াই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।
১. যখন আমরা খাওয়ার জন্য মেঝেতে বসি, আসলে তখন কিছু যোগব্যায়ামের আসনও করা হয়। এটিকে সুখাসন বা স্বস্তিকাসন অথবা সিদ্ধাসনও বলা হয়। সুখাসন পদ্মাসনেরই একটি রূপ। পদ্মাসনের যা যা উপকারিতা, সুখাসন করলেও সেগুলো পাওয়া যায়।
২. সুখাসনে বসলে একাগ্রতা বাড়ে।
৩. সুখাসনে বসলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। যার ফলে শরীরে অতিরিক্ত এনার্জি পাওয়া যায়।
৪. এই আসনে বসলে মানসিক চাপ কমে, মনে ইতিবাচক চিন্তাভাবনার প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
৫. সুখাসনে বসলে পায়ের শক্তি বৃদ্ধি হয়।
৬. মাটিতে সুখাসনে বসে খাবার খেলে মেদ বৃদ্ধি, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাসের মতো পেট সংক্রান্ত সমস্যা এড়ানো যায়।
৭. সুখাসনে বসে খাবার খেলে আলস্য দূর হয়। মাংস পেশিতে খিঁচ ধরা কমে।
৮. এই আসনটিতে বসে খাবার খেলে মেরু‌দণ্ডের নীচের অংশে জোর পড়ে। এর ফলে শরীরে আরাম অনুভূত হয়।
৯. পা ক্রস করে মেঝেতে বসে খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়। মেঝেতে বসে খেলে হজমরস ভালোভাবে বের হয় ও দ্রুত খাবার হজম হয়।
১০. পা ক্রস করে বসে খাওয়া পিঠ ও ঘাড়ের জন্য খুবই উপকারি।
১১. পা ক্রস করে বসলে এমনিতেই অঙ্গবিন্যাস বা Posture ঠিকঠাক হয়ে যায়।
১২. পবিত্র দ্বীন ইসলামে মেঝেতে বসে খাওয়া সুন্নত।
১৩. নামাজে বসার মতো মেঝেতে বসে খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়।মেঝেতে বসে খেলে হজমরস ভালোভাবে বের হয় ও দ্রুত খাবার হজম হয়।
১৪. নামাজের মতো বসে খাওয়া পিঠ ও ঘাড়ের জন্য খুবই উপকারি।
১৫. মেঝেতে বসে খেলে কম খাওয়া যায় কারণ পেটে কিছুটা চাপ পড়ে, পেটের আয়তন কমে যায়। এতে স্থুলতা কমে, ওজনও কমে।

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষ ডাইনিং টেবিলে বসে খেয়ে থাকে। তবে আপনি জানেন কী? টেবিলে খাওয়ার চেয়ে মেঝেতে বসে খেলে হজম প্রক্রিয়াকে ভালো হয়। এছাড়া মেঝেতে বসে খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে।
পবিত্র দ্বীন ইসলামে মেঝেতে বসে খাওয়া সুন্নত। এর রয়েছে অনেক উপকারিতা। সেই উপকারিতার কথা ফুটে উঠেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডিতে। আসুন জেনে মেঝেতে বসে খাওয়ার উপকারিতা।
১.নামাজে বসার মতো মেঝেতে বসে খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়।মেঝেতে বসে খেলে হজমরস ভালোভাবে বের হয় ও দ্রুত খাবার হজম হয়।
২. মেঝেতে বসে খাবার খেলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এছাড়া হার্টের রক্ত পাম্প করতে সুবিধা হয়।
৩. নামাজের মতো বসে খাওয়া পিঠ ও ঘাড়ের জন্য খুবই উপকারি। চেয়ারে বেশিক্ষণ বসে থাকা ঘাড় ও কোমরের ব্যথা হয়।
৪. মেঝেতে বসে খেলে ব্যায়াম ও করা হয়। এটি এ ধরনের আসনগুলোতে যে উপকারিতা রয়েছে।

নুন, আল্লাহর একটি নিদর্শন

খুলে যাক মানুষের জ্ঞান
রুপান্তরের দিক বিবেচনা করে অনেকসময় জ্ঞানীরা উদাহরণ যে থাকেন যে, “তোমরা নুনের মত হও। যাতে অল্পতেই বোঝা যায় যে পরিবর্তনের জন্য তোমাদের মনের সঠিক উপস্থিতি কতটা দরকার।”
সাগর জলে পানি আর নুনের অনুপাত যেমন, মানুষের শরীরের প্রত্যেকটি কোষেও পানি আর নুনের অনুপাত ঠিক তেমন। এ এক বিষ্ময়কর ব্যাপার। (Ref: Grolier Encyclopedia of Knowledge)

মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। আর দুনিয়ার সব কিছু সৃষ্টি করেছেন মানুষের জন্য। মানুষের প্রয়োজনীয় সব উপকরণ তিনি পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছেন। যার মধ্যে অন্যতম একটি জিনিস হলো লবণ।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর সাগর দুটি একরূপ নয়। একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অন্যটির পানি লোনা, খর। আর প্রত্যেকটি থেকে তোমরা তাজা গোশত খাও এবং আহরণ করো অলংকার, যা তোমরা পরিধান করো। আর তোমরা দেখো তার বুক চিরে নৌযান চলাচল করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সুরা: ফাতির, আয়াত: ১২)
আমরা খাওয়ার জন্য যে লবণ ব্যবহার করি তার বেশির ভাগই আসে সমুদ্রের লবণ থেকে। সমুদ্র থেকে যে লবণ আনা হয় তা একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিশোধন করা হয়। জোয়ারের সময় সমুদ্রের লোনা পানি জমা করে রাখা হয় বড় বড় জমিতে। এরপর সেই জমির চারপাশ বাঁধ দিয়ে পানি আটকে ফেলা হয়। এরপর সূর্যের আলোতে সেই পানি বাষ্প হয়ে গেলে তার নিচে লবণ পড়ে থাকে। পরে আবার সেই লবণ পরিষ্কার করে বাজারে বিক্রয় করা হয়। ইংরেজিতে একে Table Salt বলা হয়। ল্যাটিন শব্দ ‘salārium’ মানে হলো নুন আর স্যালারি মানে বেতন কথাটি এসেছে salārium থেকে। রোমে সৈন্যদের বেতন দেয়া হতো নুন কেনার জন্য। The word salary ultimately derives from an allowance—salārium—paid to Roman soldiers for the purchase of salt.( https://en.wikipedia.org/wiki/History_of_salt )
আয়েশা (রা.) গোশত সংরক্ষণের জন্য লবণ ব্যবহার করেছেন। (বুখারি, হাদিস: ৫৫৭০)
জীবনের জন্য লবণের গুরুত্ব অপরিসীম। লবণে আছে বিপুল পরিমাণ সোডিয়াম। সোডিয়াম শরীরের জন্য দরকারি ইলেকট্রোলাইট। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ইলেকট্রোলাইট, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম অপরিশোধিত লবণে পাওয়া যায়। তবে তা গ্রহণ করতে হবে পরিমিত। শরীরে লবণ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া দুটিই দেহের জন্য বিপজ্জনক। তাই লবণের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখার ব্যাপারটি বেশ সতর্কতার সঙ্গে করা উচিত তা বলাই বাহুল্য।
হাজার হাজার বছর ধরে লবণ যে শুধু রান্নায় ব্যবহার হচ্ছে তা কিন্তু নয়। কোনো কোনো ধর্মেও লবণের রয়েছে আলাদা মর্যাদা। জাপানের Shintoয় যেকোনো মানুষ বা স্থানকে পরিশুদ্ধ করতে লবণ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। দা িভিঞ্চির আঁকা “লাষ্ট সাপার” চিত্র কর্মে একটি নুনের পাত্র উল্টে পড়ে আছে দেখা যায়। এটা ছিল সে সময়কার রীতি অনুযায়ী এক অশুভ ঈঙ্গিত (spilling salt was generally considered a bad omen).
লবণ নিয়ে রীতিমতো একটা আন্দোলন হয়েছিল, যেটিকে লবণ আইন অভিযান বা লবণ সত্যাগ্রহ বলা হয়। ইংরেজিতে একে সল্ট মার্চ বলে অভিহিত করা হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই আন্দোলনের বিশেষ মর্যাদা ছিল। লবণের ওপর ব্রিটিশ সরকার যে কর আরোপ করে তারই প্রতিবাদে এই যাত্রার আয়োজন করা হয়। লাখ লাখ মানুষ সেদিন সেই যাত্রায় অংশগ্রহণ করেছিল। The Salt March, also known as the Salt Satyagraha, Dandi March and the Dandi Satyagraha, was an act of nonviolent civil disobedience in colonial India led by Mohandas Karamchand Gandhi. The 24-day march lasted from 12 March 1930 to 6 April 1930 as a direct action campaign of tax resistance and nonviolent protest against the British salt monopoly. Ref: https://en.wikipedia.org/wiki/Salt_March
মহান আল্লাহর এই নিয়ামত পরিমিত ব্যবহারে যেমন খাবার সুস্বাদ করে, তেমনি বিভিন্ন ক্ষতিকর অনুজীব দমনে এটি ওষুধ হিসেবে কাজ করে। রাসুল (সা.) নিজেও ওষুধ হিসেবে লবণ ব্যবহার করেছেন। একবার রাসুল (সা.)-কে নামাজরত অবস্থায় বিচ্ছু কামড় দিলে তিনি কিছু লবণ ও পানি চেয়ে নিলেন এবং তা একটি পাত্রে মেশালেন, অতঃপর অঙ্গুলির দংশিত স্থানে পানি ঢালতে এবং ওই স্থান মুছতে লাগলেন এবং সুরা ফালাক ও নাস দ্বারা ঝাড়তে লাগলেন। (মিশকাত, হাদিস: ৪৫৬৭)
বিশেষ করে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ডাক্তাররা লবণপানিতে গড়গড়া কুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
এভাবেই মহান আল্লাহ তাঁর কোটি কোটি নিয়ামত দিয়ে আমাদের জীবনকে সহজ করে দিয়েছেন। আল্লাহু আকবার। যেগুলো নিয়ে চিন্তা করলে মুমিনের ঈমান আরো দৃঢ় হয়ে যায়।

আমি মুসলিম—এ কথার অর্থ কী

মূল শব্দ হলো “সলম” মানে আত্মসমর্পণ। আত্মসমর্পণ করতে হবে আল্লাহর কাছে। যে আত্মসমর্পণ করে সেই হলো মুসলিম।
মুসলিম অর্থ আত্মসমর্পণকারী ও অনুগত। যে নিজেকে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে সে মুসলিম। যে মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর ঈমান এনে তাঁর শরিয়ত পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ, সে মুসলিম। যে কোরআন-সুন্নাহ মেনে চলে সে মুসলিম। যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ, সে মুসলিম। যে নামাজ পড়ে, কেবলামুখী হয় এবং মুসলমানদের জবাইকৃত পশু ভক্ষণ করে, সে মুসলিম।
মুসলিম আরবি শব্দ। এর বাংলা পরিভাষা হিসেবে মুসলিম ও মুসলমান দুটি শব্দই সমানভাবে ব্যবহার হয়।
যে দ্বিন হিসেবে ইসলামকে মেনে নেয়, সে মুসলিম। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘নিঃসন্দেহে ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দ্বিন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯)
যে হালাল-হারাম মেনে চলে, সে মুসলিম। যে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল পালন করে, সে মুসলিম।
মুসলমান হতে হলে পাপ কাজ করা যায় না। অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা যায় না। অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জন করা যায় না। এক শ্রেণির মানুষের কাছে সম্পদ পুঞ্জীভূত করে রাখা যায় না। মানুষের সম্মান নিয়ে খেলা করা যায় না।
মুসলমান কাউকে নিয়ে উপহাস করে না। দোষারোপ করে না। মন্দ নামে ডাকে না। গোপন দোষ প্রকাশ করে না। গিবত করে না। শত্রুভাব নিয়ে থাকে না।
মুসলমান মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হয়। প্রতিবেশীর খবর নেয়। মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় করে। এতিম ও অসহায়ের পাশে দাঁড়ায়।
মুসলমান আদম সন্তান হিসেবে ভেদাভেদ দূর করে। পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। ভাই ভাই হয়ে থাকে।
মুসলমান জীবনকে গতিশীল করে। জীবনের সব ক্ষেত্রে সংকল্প, ধৈর্য, সততা নিশ্চিত করে। আল্লাহর ওপর ভরসা করে।
মুসলমান সর্বাধিক মানবিক হয়। তাকওয়া, বিনয়-নম্রতা, ধৈর্য-সহিষ্ণুতা, দানশীলতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যপরায়ণতা ইত্যাদি মুসলমানের বিশেষ গুণ।
মুসলমান পরিবার ও সমাজবান্ধব হয়।
মুসলমান জীবনের সব ক্ষেত্রে পরকালীন সাফল্যকে প্রাধান্য দেয়।
মুসলমান তার গোটা জীবন আল্লাহর কাছে সঁপে দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলে দাও, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ—সবই বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৬২)

রোগ-ব্যাধিতে পাপ হয়

সুস্থতা অসুস্থতা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। সুস্থতায় শোকর আর অসুস্থতায় ধৈর্য এ দুটিকে আল্লাহর নিয়ামতে পরিণত করে। এগুলো মানবজীবনের অনুষঙ্গ। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীদেরও কখনো কখনো রোগ-ব্যাধি দিয়েছেন। তাই কেউ অসুস্থ হলেই এই কথা ভাবা যাবে না যে, এটি তার পাপের ফসল। আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-ও মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়েছেন।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে বেশি রোগ যন্ত্রণা ভোগকারী অন্য কাকেও দেখিনি। (বুখারি, হাদিস: ৫৬৪৬)
রোগ-ব্যাধির মাধ্যমে মহান আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন। শুধু রোগ-ব্যাধি কেন মুমিনের যেকোনো দুঃখ-কষ্টের বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাকে পাপমুক্ত করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্ট ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফোটে, এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। (বুখারি, হাদিস: ৫৬৪১)
তবে শর্ত হলো, বিপদে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত: ১৫৫)
আল্লাহ তাআলার এই পরীক্ষার পরিধি হয় মানুষের ঈমানের ওপর ভিত্তি করে। মহান আল্লাহ কখনো কখনো কঠিন বিপদ দিয়েও পরীক্ষা করেন। যার ঈমান যত বেশি তার পরীক্ষাও তত বড় হয়। রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করেন তাকে তিনি দুঃখকষ্টে পতিত করেন। (বুখারি, হাদিস: ৫৬৪৫)
এই দুঃখ-কষ্টে যারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাদের সওয়াবও বাড়িয়ে দেন। আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তো ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তোমাদের দু’ব্যক্তি যতটুকু জ্বরে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু জ্বরে আক্রান্ত হই। আমি বললাম, এটি এ জন্য যে, আপনার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব। তিনি বললেন, হ্যাঁ তাই। কেননা যেকোনো মুসলিম দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়, তা একটা কাঁটা কিংবা আরো ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে মুছে দেন, যেমন গাছ থেকে তার পাতাগুলো ঝরে পড়ে। (বুখারি, হাদিস: ৫৬৪৮)
তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত দুঃখ-কষ্ট ও রোগ-ব্যাধিতে হতাশ না হয়ে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা। তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া। নিশ্চয়ই তিনি যা করেন, আমাদের কল্যাণের জন্যই করেন। আমরা যেহেতু দুর্বল বান্দা, পরীক্ষা দেওয়ার শক্তি রাখি না, তাই আমাদের উচিত মহান আল্লাহর কাছে সুস্থতার নিয়ামতের দোয়া করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুস্থ রাখুন।

মানসিক শক্তি ও দৃঢ় মনোবল রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সহায়ক

আল্লাহ তাআলা সবকিছুর স্রষ্টা ও নিয়ন্তা। তিনিই জীবন ও মৃত্যুর মালিক। তাঁর বিধান অনুসরণই আমাদের সুরক্ষার পথ। বিপদ–আপদ ও বালামসিবত উত্তরণে ইসলামে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। কোরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ৪৫)। প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নামাজ বেহেশতের চাবি, পবিত্রতা নামাজের চাবি।’ (মুসনাদে আহমাদ)। 

যথানিয়মে অজু করা শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা এবং পরিষ্কার–পচ্ছিন্নতার জন্য অতি জরুরি ও বিশেষ উপকারী। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য নতুন অজু করা সুন্নাত। এ ছাড়া সব নফল নামাজের জন্যও অজু করা সুন্নাত। খাবার গ্রহণের আগে অজু করা সুন্নাত। অজু করে ঘুমানোও একটি সুন্নাত। ঘুম থেকে উঠে অজু করাও সুন্নাত। মলমূত্রত্যাগের পরও অজু করা সুন্নাত। সর্বদা অজু করা অবস্থায় থাকা সুন্নাত আমল। হাদিস শরিফে আছে, ‘অজু মুমিনের অস্ত্র।’ (বায়হাকি)। 

অজুর অসাধারণ সুন্নাতটি নিয়মিত আমল করলে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ বার অজু করার মাধ্যমে হাত–পা ধোয়া হয়। এতে একদিকে সুন্নাত আমলের সওয়াব পাওয়া যায়, অন্যদিকে রোগব্যাধির ঝুঁকি থেকেও মুক্ত থাকা যায়। আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদে বলেন, ‘তাদের মাঝে রয়েছে এমন বান্দা, যারা পবিত্রতাকে পছন্দ করে আর আল্লাহ তাআলা পবিত্রদিগকে ভালোবাসেন।’ (সুরা-৯ তাওবাহ, আয়াত: ১০৮)। 

পোশাকের বিষয়ে সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাকের উপকারিতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তোমাদের সম্ভ্রম নিবারণ ও বেশভূষার জন্য তোমাদিগকে পরিচ্ছদ দিয়েছি এবং সাবধানতার পরিচ্ছদই সর্বোতকৃষ্ট। ইহা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা-৭ আরাফ, আয়াত: ২৬)। বিশেষ অবস্থায় বিশেষ সুরক্ষার জন্য বিশেষ ধরনের পোশাকের নির্দেশনাও রয়েছে আল–কোরআনে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘আমি তাঁকে (দাউদ আ.) তোমাদের জন্য বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে তা তোমাদের যুদ্ধে সুরক্ষা দেয়, সুতরাং তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে না?’ (সুরা-২১ আম্বিয়া, আয়াত: ৮০)। 

 

মসজিদে যাওয়ার সময় পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন পোশাক পরার বিশেষ নির্দেশ রয়েছে কোরআন হাকিমে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা পরিচ্ছন্ন পরিচ্ছদ পরিধান করবে, পানাহার করবে কিন্তু অপচয় করবে না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না। বলো, “আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসব সুন্দর জিনিস ও পবিত্র জীবিকা সৃজন করেছেন, কে তা হারাম করেছে?”’ (সুরা-৭ আরাফ, আয়াত: ৩১-৩২)।

পোশাক পবিত্র রাখার নির্দেশ সরাসরি কোরআন মাজিদেই রয়েছে। আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবীজি (সা.)–কে লক্ষ করে বলেন, ‘তুমি তোমার পরিচ্ছদ পবিত্র রাখো, অপবিত্রতা পরিহার করে চলো।’ (সুরা-৭৪ মুদ্দাচ্ছির, আয়াত: ৪-৫)। নবী করিম (সা.) সব সময় পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন পোশাক পরতেন। তিনি বিশেষ বস্তুকে বিশেষ পদ্ধতিতে পরিষ্কার করতেন। তাঁর একখানা চামড়ার দস্তরখান ছিল, তা তিনি মাঝেমধ্যে আগুনে সেঁকে পরিষ্কার করতেন। (তিরমিজি ও মুসলিম)। তিনি জুতা ও মোজা পরিধানের পূর্বে ও খোলার পরে ঝেড়েমুছে পরিষ্কার করতেন। বিশেষ বিশেষ সময়ে তিনি বিশেষ বিশেষ পোশাক পরতেন এবং পোশাকে বিশেষ বিশেষ অনুষঙ্গ যুক্ত করতেন। যেমন তিনি সব সময় ছোট পাগড়ি পরতেন, জুমার দিনে মাঝারি পাগড়ি পরতেন এবং ঈদে ও বিশেষ দিনে বড় পাগড়ি পরতেন। মসজিদে গমন ও জুমার জন্য তিনি বিশেষ পোশাকের নির্দেশনাও দিয়েছেন, ‘তোমরা জুমার জন্য ও মসজিদের জন্য দুটি কাপড় আলাদা করে রাখো।’ (বায়হাকি)।

শোবার ঘর পরিপাটি ও বিছানা–ছাদর ইত্যাদি ধুয়ে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন রাখা সুন্নাত। প্রতিবার শোয়ার আগে বিছানা–চাদর ইত্যাদি ঝেড়ে পরিপাটি করা সুন্নাত। ঘরের প্রতিটি কক্ষ ও প্রতিটি কোণ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন মহানবী (সা.)। এমনকি ঘরের আঙ্গিনা ও বাড়ির আশপাশও পরিষ্কার রাখতে বলেছেন মহানবী (সা.)। 

রোগ প্রতিরোধে মানসিক শক্তি ও দৃঢ় মনোবল বিশেষ সহায়ক। আল্লাহর ওপর নির্ভরতা ও সুন্নাত আমলের মাধ্যমেই তা অর্জন করা সম্ভব। 

সত প্রতিবেশী

মানব সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো প্রতিবেশী। জিবরাঈল (আ.) আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-কে প্রতিবেশীর ব্যাপারে সর্বদা এত বেশি অসিয়ত করেছেন যে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমার ধারণা হয়, শিগগিরই তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ (উত্তরাধিকার) করে দেবেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৬০১৪)
ইসলামে প্রতিবেশীর হককে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন সত প্রতিবেশীকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ মর্যাদা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘একজন মুসলমানের জন্য প্রশস্ত বাসভবন, সত প্রতিবেশী ও আরামদায়ক বাহন সৌভাগ্যের নিদর্শন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৪০৩২, আদবুল মুফরাদ, হাদিস: ১১৫)
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলার কাছে সঙ্গীদের মাঝে উত্তম সঙ্গী হলো সেই ধরনের ব্যক্তি যে তার নিজ সঙ্গীর কাছে উত্তম। আল্লাহ তাআলার দৃষ্টিতে প্রতিবেশীদের মাঝে উত্তম হলো সেই ধরনের প্রতিবেশী যে তার নিজের প্রতিবেশীর কাছে উত্তম। (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৪৪)
অতএব প্রতিবেশীর সঙ্গে কখনোই রূঢ় আচরণ করা যাবে না। প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে ভ্রাতৃত্বের, ভালোবাসার। অথচ আজকাল শহুরে মানুষরা তো প্রতিবেশীকে চেনেও না। গ্রাম-গঞ্জের মানুষ প্রতিবেশীর খোঁজখবর রাখলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সামান্য বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে বছরের পর বছর। অথচ সাহাবায়ে কেরাম তাঁদের অমুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গেও নম্র ব্যবহার করতেন। তাঁদের ঘরে মাঝে মাঝে উপহার পাঠাতেন। মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)-এর জন্য তাঁর পরিবারে একটি ছাগল জবেহ করা হলো। তিনি এসে বলেন, তোমরা কি আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে (গোশত) উপহার পাঠিয়েছ? আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, প্রতিবেশীর অধিকার প্রসঙ্গে জিবরাঈল (আ.) আমাকে অবিরত উপদেশ দিতে থাকেন। এমনকি আমার ধারণা হলো যে, হয়তো শিগগিরই প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবে। (বুখারি, হাদিস: ১৯৪৩)
তাই দুই এক ইঞ্চি জমিজমা, পানি নিষ্কাশন কিংবা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে শত্রুতা না রেখে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো মীমাংসা করে নিতে হবে। কারণ আমরা যেসব জিনিস নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে শত্রুতা করি, জুলুম অত্যাচার করি, সেই জিনিসগুলো কিন্তু দুনিয়াতেই থেকে যাবে। কিন্তু আমাদের সবাইকে আল্লাহর সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। এবং হিসাব দিতে হবে।
মানুষের হক আল্লাহ কখনো মাফ করে দেন না। ফলে এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলো যেন আমাদের সারা জীবনের নেক আমলগুলোকে ধ্বংস করে না দেয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলা হলো ইয়া রাসুলুল্লাহ! অমুক নারী সারা রাত নামাজ পড়ে, সারা দিন রোজা রাখে, ভালো কাজ করে, দান-খয়রাত করে এবং নিজ প্রতিবেশীদের মুখের কথায় কষ্ট দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, সে জাহান্নামি। পুনরায় সাহাবিরা বলেন, অমুক নারী ফরজ নামাজ পড়ে, বস্ত্র দান করে এবং কাউকে কষ্ট দেয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে জান্নাতি। (আদবুল মুফরাদ, হাদিস: ১১৮)
উপরোক্ত হাদিসে উল্লিখিত নারীর এত আমল থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার কারণে আল্লাহর রাসুল (সা.) তাকে জাহান্নামি ঘোষণা দিয়েছেন। এতে বোঝা যায় প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা ইসলামে অধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমাদের সবার উচিত এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক হওয়া। প্রতিবেশীর প্রতি সদয়  হওয়া।

Friday, July 3, 2020

A reminiscence of my inquisitive mind and reconnaissance on Resilience



একটি টেবিল ক্লথের বিশেষ লেখা ও আমার “নম্রতা” অনুসন্ধানী মন



টেবিল ক্লথের মূল কথা “নম্র যারা, ভদ্র তারা।”
আমার গ্রামের নাম শিকারপুর। বগুড়া সদর উপজেলায় অবস্থিত এটি। গ্রামটি ঐতিহ্যবাহী। গ্রামের অন্যতম একটি ঐতিহ্য হলো আমাদের গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে- ফুটবল প্রেমী। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দামী ক্লাবের ফুটবলাররা আমাদের গ্রামের মাঠে খেলেছেন, আমাদের আমোদিত করেছেন। কোন ফুটবল খেলার ফাইন্যালের সময় আশপাশের দু-চার গ্রামে হৈচৈ পড়ে যেতো। বহু মানুষ আসতো শিকারপুরের নাপিতের আড়ার মাঠে ফুটবলের ফাইন্যাল খেলা দেখতে। আমারও নেশার কমতি ছিলনা। আমার বড় ভাই, মেজ ভাই আর আমি তিনজনই গ্রামের চাঁদতারা ক্লাবের খেলোয়াড় ছিলাম। আমি সবসময় ডিফেন্সে খেলতাম। মেজদা আর বড় ভাই সেন্টার ফরওয়ার্ডে। খেলায় আমাদের তিন ভাইয়ের সূনাম ছিল। আর আমরা পন্ডিত পাড়ার ছেলে সেটা আমাদের জন্য ছিল বাড়তি সূনাম। ফাইন্যাল খেলায় চ্যাম্পিয়ন হতো আর যে দল রানার-আপ হতো- তাদেরকে পুরস্কারে ভূষিত করা হতো খেলা শেষের অনুষ্ঠানে। সেই অনুষ্ঠানে আনা হতো একটি বিশেষ ধরনের টেবিল আর একটি সাদা টেবিল ক্লথ যা আসতো আমার আবদুল হামিদ চাচার বাড়ী থেকে আর উনি ছিলেন আব্বার চাচাতো ভাই। আবদুল হামিদ চাচা খেলার শেষ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতেন। তিনি ছিলেন পন্ডিত মানুষ। চাচার বাড়ী থেকে আনা টেবিল ক্লথটিতে লেখা ছিল, “নম্র যারা, ভদ্র তারা” -আজকের লেখার উপজীব্য
“নম্র যারা, ভদ্র তারা” -কথাগুলো মনের ভেতরে রেখে দিলাম। ৮ম শ্রেণির ছাত্র আমি তখন। খুঁজতে থাকলাম এতে কী বলা হলো আর বাস্তব জীবনে এর মূল্যই বা কী? বলা বহুল্য, আবদুল হামিদ চাচাকে কখনোই জিজ্ঞেস করা হয়নি একথাগুলোর মানে কি। চাচাতো বোনদের কেউ একজন সূঁই-সুতোর ফোঁড় দিয়ে দিয়ে কথাগুলো লিখেছিল তাদেরকেও জিজ্ঞেস করা হয়নি। কিন্তু আমার অনুসন্ধানী মন থেমে থাকেনি।
অনেকদিন পর “নম্র যারা, ভদ্র তারা” এ কথাগুলোর খোঁজে নামলাম।

নম্রতা কি?
১. নম্রতা একটি মানবীয় গুণ। নম্রতা—এমন এক গুণ যা শান্তি বাড়ায়
২. নম্রতা এক দৃঢ়তা
৩. নম্রতা উত্তম চরিত্রের ভূষণ
৪. মানুষের জীবনে যত উত্তম গুণাবলী রয়েছে তার মধ্যে উত্তম গুণ হলো- বিনয় ও নম্রতা।
৫. বিনয় ও নম্রতা উত্তম চরিত্রের ভূষণ।
৬. আল্লাহ স্বয়ং নম্র, তাই তিনি নম্রতাকে ভালোবাসেন।
৭. বিনয় ও নম্রতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ
৮. মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। বহুধা গুণের সমন্বয়ে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব। তন্মধ্যে বিনয় ও নম্রতার হার সিংহভাগ।
৯. মানুষের অন্যতম সুকুমার ভূষণ হলো-বিনয় ও নম্রতা।
১০. ব্যক্তিজীবনে যে যতো বিনয়ী ও নম্র, সে তত বেশি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী।
১১. বিনয়গুণ দিয়ে অন্যের চোখে বপন করা যায় ভালোবাসার বীজ। 
১২. বিনয় ও নম্রতা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা ও ইহ-পারলৌকিক মুক্তির মহৌষধ।
১৩. মন্দকে প্রতিহত করতে হয় বিনয় ও নম্রতা দ্বারা
১৪. বিনয় ও নম্রতা মানুষকে উচ্চাসনে সমাসীন ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করতে সহায়তা করে।
১৫. নম্রতা মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানিয়ে দেয় নম্রতার গুরুত্বপূর্ণ পথ অবলম্বন করা ছাড়া মানুষ তার অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছতে সক্ষম হয়না। 
১৬. ‘যাকে নম্রতার কিছু অংশ প্রদান করা হয়েছে, তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের বিরাট কল্যাণের অংশ প্রদান করা হয়েছে। আর যাকে সেই নম্রতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের বিরাট কল্যাণ হ’তে বঞ্চিত করা হয়েছে’। [তিরমিযী হা/২০১৩; মিশকাত হা/৫০৭৬]
১৭. বিনয়ীকে মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। যে যত বেশী বিনয়ী ও নম্র হয় সে তত বেশী উন্নতি লাভ করতে পারে।
১৮. নম্র মানুষ সরল ও ভদ্র হয়।
১৯. INNA AKRAMAKUM 'INDAL LAAHI ATQAAKUM
তোমাদের মধ্যে যে অধিক পরহেজগার সে-ই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদার অধিকারী৷ - সূরা আল হুজুরাত, ১৩ আয়াতাংশ
২০. বিনয়ং বশীকৃতং ভবেত -বিনয় দিয়ে জগত বশীভুত করা যায়।
২১. "আমার মধ্যে আরেকটু বিনয় থাকলেই আমি বিশুদ্ধ হয়ে যেতাম।"      - টেড টার্নার (মার্কিন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব)
২২. "বিনয়ের অধিষ্ঠান সৌন্দর্যের বেদীতে।" - ডেমাডেস (এথেনীয় বক্তা)
২৩. আল্লাহ কর্তৃক বিনয়ীদের প্রশংসা:
‘দয়াময় আল্লাহর বান্দা তো তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদেরকে যখন অজ্ঞ ব্যক্তিরা সম্বোধন করে তখন তারা বলে ‘সালাম’। আর যারা রাত্রি অতিবাহিত করে পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত থেকে ও দন্ডায়মান হয়ে এবং যারা বলে, হে আমার প্রতিপালক! আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি বিদূরিত কর, নিশ্চয়ই এর শাস্তি নিশ্চিত বিনাশ। নিশ্চয়ই তা অবস্থান ও আবাসস্থল হিসাবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট’ (ফুরক্বান ২৫/৬৩-৬৬)।
২৪. ‘মুমিন ব্যক্তি নম্র ও ভদ্র হয়। পক্ষান্তরে অভদ্র মানুষ ধূর্ত ও চরিত্রহীন হয়’। [তিরমিযী হা/১৯৬৪; মিশকাত হা/৫০৮৫।]

নম্রতা, বিনয় বা সহনশীলতার ইংরেজী হলো রিজিলিয়্যান্স। এর সংজ্ঞা টানতে গিয়ে Mayo Clinic-এর ব্যবস্থাপন পরিচালক মি. অমিত সূধ বলেছেন Resilience is “the core strength you use to lift the load of life.” মানে হলো জীবনের ভার বইবার জন্য মানুষ তার যে মূল শক্তিকে ব্যবহার করে সেটাই রিজিলিয়েন্স বা নম্রতা।
রিজিলিয়েন্স বা নম্রতার জন্য মানুষের ৭টি ‘C’র বিশেষ দরকারঃ
·         1. Competence: যে কোন বিরূপ অবস্থার ধকল সামলানোর সক্ষমতা
·         2. Confidence: আত্ম-বিশ্বfস ছাড়া রিজিলিয়েন্স বা নম্রতার সন্ধান মিলবে না
·         3. Connection: রিজিলিয়েন্স বা নম্রতার খোঁজ পেতে হলে পারিবারিক কানেকশান খুবই দরকারী অনুসঙ্গ
·         4. Character: রিজিলিয়েন্স বা নম্রতার কাছে যেতে হলে চরিত্র অবশ্যই উন্নত হতে হবে
·         5. Contribution: রিজিলিয়েন্স বা নম্রতার কাছে যেতে হলে সমাজে মানুষের অবদান রাখতে হবেই
·         6. Coping: রিজিলিয়্যান্স বা নম্রতার কাছে যেতে হলে বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হবে
·         7. Control: রিজিলিয়েন্স বা নম্রতার কাছে যেতে হলে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রন চাই
রেফারেন্স: Ken Ginsburg, MD, Pediatrician, Children’s Hospital of Philadelphia, USA.

প্রকৃতিতে “নম্রতা” মিলবে?
প্রাণিবিজ্ঞানী হিসেবে আমাকে প্রকৃতির সাথে থাকতেই হয়েছে বা হচ্ছে এখনো। গ্রাম-বাংলার ছেলে হিসেবে তো বটেই। সু-স্নাতক শ্রেণিতে পড়ার সময় আমি প্রকৃতি বিজ্ঞানী আগাসীজের কথা পড়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, “প্রকৃতি থেকে শেখো, প্রস্তক থেকে নয়।” এ কথাগুলো সামনে রেখে ১৯৭৬এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কক্সবাজার ভ্রমণের সময় আমরা একটা ব্যানার তৈরী করেছিলাম।
খুঁজতে খুঁজতে এক সময় মিলেই গেলো যে প্রকৃতিতে নম্রতা রয়েছে। জীব জগতের সব জীবই নম্র ও সহনশীল এমনকি হিংস্র প্রাণীটিও। বহু হিংস্র পশু মানুষের পোষ মেনেছে এগুলো আমরা প্রায়ই বিভিন্ন ভিডিওতে দেখি। বৃক্ষ লতাদির ভেতরেও অনেক সহনশীলতা রয়েছে। তবে দৃশ্যমান সহনশীলতা রয়েছে ঘাসের মধ্যে। একথা শুনতে একটু অবাক লাগে বৈকি। হ্যাঁ। আমি বাঁশের কথা বলছি। সেটাই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ঘাস। বৃক্ষ লতাদির মধ্যে একমাত্র বাঁশই সবচেয়ে বেশী নম্র বা সহনশীল বা রিজিলিয়েন্ট।
কবিতায় পড়েছি-
“লাঠি হোক কাঠি হোক
হয় হোক বাঁশী
দাদা কন জেনো ঠিক-
বাঁশ তবু ঘাসই।”

অথবা
“বংশে যদি বংশী শুধু বাজে
বংশ তবে ধ্বংস হবে লাজে;
বংশ নিঃস নহে বিশ্ব মাঝে-
যেহেতু তা লাগে সবার কাজে।”

“যেহেতু তা লাগে সবার কাজে” একথাগুলো মনের ভেতরে নিয়ে গাঁয়ের বাড়ীতে গিয়ে দাদাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে আমাদের বাড়ীর উত্তর-পশ্চিম কোণে ৪টি বড় বড় বাঁশ ঝাড় কেন? গ্রামের ভাষায় “বাঁশের থোপ” দেখিয়ে দাদা বলেছিলেন আমাদের মুনশী সাহেবের প্রশ্নটা যেন কেমন? দাদা আমাকে মুনশী সাহেব বলতেন। কারণ, আমার নানা ছিলেন শিক্ষক আর মসজিদে ঈমামতি করতেন সেই সুবাদে দাদা মুনশী ডাকতেন আমাকে। বোধ করি তিনি আমার নানার ছায়া আমার ভেতর ঠাহর করতে পেরেছিলেন। তো দাদা বল্লেন আমাদের এই গাঁয়ের সব পাড়াতেই তুই দেখবি উত্তর-পশ্চিম কোণে “বাঁশের থোপ”। এর বিশেষ কারণটা হলো প্রবল বেগে ঝড় হলে এই বাঁশগুলো বুক পেতে দিয়ে আমাদের ৫০ বা কোন কোন সময় ১০০ বছরের পুরোনো মাটির বাড়ীগুলোকে রক্ষা করে। কালবোশেখী বা নরওয়েস্টার যখন আসে তখন সেটা উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকেই আসে। আর ঝড় যখন কালবোশেখী বাঁশ ঝাড়ে ঢোকে তখনই ঝড়ের বেগ হঠাত করেই স্তিমিত হয়ে যায় বাঁশের বিভিন্ন অবস্থানের কারণে। বাঁশেরা কেউ নুইয়ে থাকে, কেউ আকারে ছোট, কেউ ডান কাত হয়ে থাকে কেউ বাম কাতে, কেউবা সোঝা -আর কঞ্চির খেলাতো আছেই। আমি হুঁ করে বল্লাম- বুঝলাম দাদা। আবার দ্যাখ, ৫০-৬০ মাইল বেগে ঝড় হলে ওরা নুইয়ে পড়ে। যেন ঝড়ের সাথে ওদের অনেক দিনের খেলার সখ্যতা। আসলে কিন্তু বাঁশেরা ঝড়কে ঠেকিয়ে দিচ্ছে। আমি বুঝলাম দাদা জ্ঞানের ভারী ভারী কথাগুলো বলছে সেই সাথে প্রাকৃতিক বাঁশের নমনীয়তা বা রিজিলিয়েন্স নিয়ে।
আমরা প্রকৃতির কাছে কতটা ঋণী তা এই বাঁশের কাছে শিখলাম দাদার মাধ্যমে। আর বাঁশ আমাকে শেখালো নমনীয়তা। আল্লাহু আকবার।
দাদার কথা শুনে আমার রেড স্যু মূভমেন্ট নামক লীডারশীপ কোম্পানীর সিইও মিসেস ম্যারিয়েলা দাব্বার কথা মনে হয়েছিল। তিনি বলেছেন, “প্রতিকূলতার প্রচন্ড কালবোশেখীর তোড়ে উড়ে না গিয়ে দৃঢ়তার সাথে উঠে দাঁড়াও। এটা হবে তোমার নমনীয়তার সবচে বড় চিহ্ন।”
কবি নজরুলের ভাষায়, “নাচে ওই কালবোশেখী, কাটাবি কাল বসে কি?”
পজিটিভ সাইকোলজির দুই পন্ডিত মি. কর্ণার ও মি. ডেভিডসন নম্রতা বা সহনশীলতার কতকগুলো স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলোঃ
১. পরিবর্তনকে চ্যালেজ্ঞ হিসেবে নিতে হবে
২. প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে
৩. নিয়ন্ত্রনহীন হলে চলবে না
৪. অন্যের সহায়তা লাগবে
৫. অন্যের সহায়তাটা যেন নিরাপদ হয়
৬. ব্যক্তিক বা সামষ্টিক লক্ষ্য থাকবে
৭. স্ব-দক্ষতা
৮. ধকল সামলানোর ক্ষমতা
৯. অতীতের সাফল্য সামনে নিতে হবে
১০. বাস্তব অভিজ্ঞতা
১১. রসবোধ থাকতে হবে
১২. লক্ষ্যভেদী অগ্রযাত্রা দরকার
১৩.ধৈর্য
১৪. নেগেটিভ দিক সামলানোর ক্ষমতা
১৫. অভিযোজন বা মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা
১৬. আশাবাদিতা 
১৭. পরিপূর্ণ বিশ্বাস

নমনীয়তার নিগূঢ় রহস্য: ব্রুস লী’র কথা
নমনীয়তা বিষয়ে ব্রুস লী’র এই কথাগুলো পড়ে আমি নিজে “নমনীয়” কি না তা ভাবনার মধ্যে আনতে চেষ্টা করেও পারিনি।
আল্লাহ আল কুরআনের অনেক জায়গায় পানির উদাহরণ কেন এনেছেন এখন আমার কাছে তা স্পষ্ট হচ্ছে। আর এটাও স্পষ্ট হচ্ছে যে আল্লাহ কেন “ইক্করা” কথাটি আল কুরআনের প্রথমে এনেছেন।
আল্লাহু আকবার

ব্রুস লী’ বলেছেনঃ
তোমার মনটাকে পয়লা খালি করে ফেলো। তুমি নিজেকে “পানির মতো” মনে করো যে তোমার নিজের কোন আকার নেই।
এবারঃ
একটি পেয়ালায় পানি ঢাল। পানিটি একটি পেয়ালা হলো
একটি বোতলে পানি ঢাল। পানিটি একটি বোতল হলো
একটি টি-পটে পানি ঢাল। পানিটি একটি টি-পট হলো
এখন পানি পেয়ালা থেকে, বোতল থেকে বা টি-পট থেকে পানি ঢালা যেতে পারে বা স্থানান্তর করা যেতে পারে অথবা পেয়ালা, বোতল বা টি-পট ভাঙলে পানি বেরিয়ে যেতেও পারে।
তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত পানির মতোঃ
১. আকারবিহীন হওয়া,
২. নমনীয় হওয়া,
৩. সমোচ্চশীলতা বা Equilibrium বজায় রাখা
৪. প্রবাহমান হওয়া

কতটা রিজিলিয়েন্ট বাঁশ? কতটা?
১৯৪৫এ জাপানের হিরোশিমায় পরমাণু বোমা মেরেছিল আমেরিকা। সব পুড়ে ছারখার! মানবেতিহাসের এক জঘন্যতম অধ্যায় ছিল সেটি। পরমাণু বোমার আগুনের দাবদাহ মানুষসহ গাছপালা পুড়ে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল হিরোশিমায়্। কিন্তু তাজ্জব ব্যাপার!! পোড়েনি একটি বাঁশ ঝাড়!! মাত্র ১ বছর পরে সেই বাঁশ ঝাড়ের রাইজোম বা মূল থেকে নোতুন বাঁশের চারা গজিয়েছিল।
কী অসাধারন রিজিলিয়েন্স বাঁশের!!
কী অসাধারণ উদাহরণ মানুষের জন্য আল্লাহর তরফ থেকে!!
আল্লাহু আকবার।
আল্লাহর কাছে মাথা নত না করে কি পারা যায়?