Friday, July 10, 2020

তারপর তাকে(মানুষকে) উল্টো ফিরিয়ে নীচতমদেরও নীচে পৌঁছিয়ে দিয়েছি



সুম্মা  রাদাদনাহু আসফালা সাফিলীন
Thumma ra dad naahu asfala saafileen
আল কুরআন। সূর আত ত্বীন। আয়াত ০৫
মুফাসসিরগণ সাধারণত এর দু'টি বর্ণনা করেছেনঃ
একঃ আমি তাকে বার্ধক্যের এমন এক অবস্থার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছি যেখানে সে কিছু চিন্তা করার বুঝার ও কাজ করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে৷
দুইঃ আমি তাকে জাহান্নামের সর্বনিম্ন পর্যায়ের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছি৷
কিন্তু বক্তব্যের যে উদ্দেশ্যটি প্রমাণ করার জন্য এই সূরাটি নাযিল করা হয়েছে এই দু'টি অর্থের তার জন্য প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানো যেতে পারে না৷
সূরাটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, আখেরাতে পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা যে যথার্থ সত্য তা প্রমাণ করা৷ এদিক দিয়ে মানুষের মধ্যে থেকে অনেককে চরম দুর্বলতম অবস্থায় পৌঁছিয়ে দেয়া হয় এবং মানুষদের একটি দলকে জাহান্নামে ফেলে দেয়া হবে- এ দু'টি কথার একটিও এই অর্থের সাথে খাপ খায় না৷
প্রথম কথাটি শাস্তি ও পুরস্কারের প্রমাণ হতে পারে না৷ কারণ, ভালো ও খারপ উভয় ধরনের লোক বার্ধক্যের শিকার হয়৷ কাউকে তার কাজের শাস্তি ভোগ করার জন্য এই অবস্থায় শিকার হতে হয় না৷
অন্যদিকে দ্বিতীয় কথাটি আখেরাতে কার্যকর হবে একে কেমন করে এমন সব লোকের কাছে হিসেবে পেশ করা যেতে পারে যাদের থেকে আখেরাতে শাস্তি ও পুরস্কার লাভের ব্যবস্থার পক্ষে স্বীকৃতি আদায় করার জন্য এই সমস্ত যুক্তি প্রমাণ পেশ করা হচ্ছে? তাই বলা যেতে পারে আয়াতের সঠিক অর্থ হচ্ছে, সর্বোত্তম কাঠামোয় সৃষ্টি করার পর যখন মানুষ নিজের দৈহিক ও মানসিক শক্তিগুলোকে দুষ্কৃতির পথে ব্যবহার করে তখন আল্লাহ তাকে দুষ্কৃতিরই সুযোগ দান করেন এবং নিচের দিকে গড়িয়ে দিতে দিতে তাকে এমন নিম্নতম পর্যায়ে পৌঁছিয়ে দেন যে, অন্য কোন সৃষ্টি সেই পর্যায়ে নেমে যেতে পারে না৷ এটি একটি বাস্তব সত্য৷ মানুষের সমাজে সচরাচর এমনটি দেখা যায়৷ লোভ, লালসা, স্বার্থবাদিতা, কামান্ধতা, নেশাখোরী, নীচতা, ক্রোধ এবং এই ধরনের অন্যান্য বদ স্বভাব যেসব লোককে পেয়ে বসে তারা সত্যিই নৈতিক দিক দিয়ে নীচতমদেরও নীচে পৌঁছে যায়৷ দৃষ্টান্ত স্বরূপ শুধু মাত্র একটি কথাই ধরা যাক৷ একটি জাতি যখন অন্য জাতির প্রতি শত্রুতা পোষণ করার ব্যাপারে অন্ধ হয়ে যায় তখন সে হিংস্রতার দুনিয়ায় হিংস্র পশুদেরকে ও হার মানায়৷ একটি হিংস্র পশু কেবলমাত্র নিজের ক্ষুধার খাদ্য যোগাড় করার জন্য অন্য পশু বধ করে৷ সে ব্যাপকভাবে পশুদের হত্যা করে চলেনা৷ কিন্তু মানুষ নিজেই নিজের সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদেরকে ব্যাপকভাবে হত্যা করে চলে(Cannibalism)৷ পশুরা কেবলমাত্র নিজেদের নখর ও দাঁত ব্যবহার করে শিকার করে৷ কিন্তু এই সর্বোত্তম কাঠামোয় সৃষ্ট মানুষ নিজের বুদ্ধির সাহায্যে বন্দুক, কামান, ট্যাংক, বিমান, আণবিক বোমা, Hydrogen বোমা এবং অন্যান্য অসংখ্য মারণান্ত্র তৈরী করেছে এবং সেগুলোর সাহায্যে মুহূর্তের মধ্যে সুবিশাল জনপদগুলো ধবংস নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে৷ পশুরা কেবল আহত বা হত্যা করে৷ কিন্তু মানুষ নিজেদেরই মতো মানুষকে নির্যাতন করার জন্য এমন সব ভয়াবহ পদ্ধতি আবিস্কার করেছে যেগুলোর কথা পশুরা কোন দিন কল্পনাও করতে পারে না৷ তারপর নিজেদের শত্রুতা ও প্রতিশোধ স্পৃহা চরিতার্থ করার জন্য তারা নীচতার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়৷ তারা মেয়েদের উলংগ করে তাদের মিছিল বের করে৷ এক একজন মেয়ের ওপর দশ বিশ জন ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজেদের কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করে৷ বাপ, ভাই ও স্বামীদের সামনে তাদের স্ত্রী ও মা-বোনদের শ্লীলতাহানি করে৷ মা-বাপের সামনে সন্তানদেরকে হত্যা করে৷ নিজের গর্ভজাত সন্তানদের রক্ত পান করার জন্য মাকে বাধ্য করে৷ মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে এবং জীবন্ত কবর দেয়৷ দুনিয়ায় পশুদের মধ্যেও এমন কোন হিংস্রতম গোষ্ঠী নেই যাদের বর্বরতাকে কোন পর্যায়ে মানুষদের এই বর্বরতার সাথে তুলনা করা যেতে পারে৷ মানুষের অন্যান্য বড় বড় গুণের ব্যাপারেও এই একই কথা বলা যায়৷ এগুলোর মধ্য থেকে যেটির দিকে মানুষ মুখ ফিরিয়েছে সেটির ব্যাপারে নিজেকে নিকৃষ্টতম সৃষ্টি প্রমাণ করেছে৷ এমনকি ধর্ম যা মানুষের কাজে সবচেয়ে পবিত্র, তাকেও সে এমন সংকীর্ণ করে দিয়েছে, যার ফলে সে গাছ পালা, জীব- জন্তু ও পাথরের পূজা করতে করতে অবনতির চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়ে নারী ও পুরুষের লিংগেরও পূজা করতে শুরু করেছে৷ দেবতাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য ধর্ম মন্দিরে দেবদাসী রাখছে৷ তাদের সাথে ব্যভিচার করাকে পুণ্যের কাজ মনে করছে৷ যাদেরকে তারা দেবতা ও উপাস্য গণ্য করেছে তাদের সাথে সম্পর্কিত দেবকাহিনীতে এমন সব কুতসিত কাহিনী জুড়ে দিয়েছে যা জঘন্য ও নিকৃষ্টতম মানুষের জন্য ও লজ্জার ব্যাপার৷                                                             

সু-অভ্যাস

সু-অভ্যাস কেমন হতে পারে তা নীচের কবিতায় পুরোপুরি উঠে এসেছে। কবিতাটি আমাদের সকলের জানা। আমি পড়েছিলাম ১৯৬০এ- “১” ক্লাশে পড়ার সময়্। কত ভালভাবে পড়েছিলাম বুঝতে পারি যার কারণে এখনো আমার ভেতরে তার অনুরণন চলে। চলবে আমৃত্যু।
বেলা ওঠার আগেই নিদ থেকে জাগার পরে ফ্রেশ হয়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে কিছু সময় থিতু হয়ে বসো। আজকের দিনের রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, শব্দ-এ সব কিছুই পাবার জন্য আল্লাহকেই পয়লা ধন্যবাদটুকু দাও। তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ হও। কারণ আজকে না জাগলে এই দুনিয়ার শোভাটুকু উপভোগ করার সৌভাগ্য কোনভাবেই আসতো না। আজকের সকালে কত মানুষই তো দুনিয়া থেকে চলে গেছে, যাদের খবর তোমার কাছে পৌছেনি। এবার মনের ভেতরে কিছু ভাল ভাল আইডিয়া তৈরী করে নাও। জীবনে ভাল আইডিয়াগুলোর প্রতিফলণ ঘটাবার চেষ্টা করো। কিছু সময় “নীরব” হয়ে যাও। দেখো তোমার মনে ভেতর আজকের দিনের রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, শব্দ মিশে গেল কি না! এভাবে ভাবলে আল এ অভ্যাস বজায় রইলে দ্বন্দ্ব ও ডিফিকাল্ট সিচুয়েশনগুলো থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। আর এভাবে ভাবলে সারাদিন শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনও সম্ভব।   
আমার পণ
-মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে।
ভাইবোন সকলেরে যেন ভালোবাসি,
এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি।
ভালো ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা,
পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা।
সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।
সাবধানে যেন লোভ সামলিয়ে থাকি,
কিছুতে কাহারে যেন নাহি দিই ফাঁকি।
ঝগড়া না করি যেন কভু কারো সনে,
সকালে উঠিয়া এই বলি মনে মনে।

খাবার গ্রহণে রাসুল (সা.) এর সুন্নত


রাসুল (সা.) তার প্রিয় সাহাবিদের ক্ষুদ্র থেকে বৃহত—প্রত্যেক বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। তার প্রতিটি কর্ম ও পদক্ষেপ মানবতার অনুসরণযোগ্য। সফলতা ও কামিয়াবির মাধ্যম। জীবনপথের পাথেয়। তার কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করলে ‍মুমিনের জীবনে বয়ে যাবে প্রশান্তির ফল্গুধারা।
রাসুল (সা.) কীভাবে খাবার খেতেন, খাবার গ্রহণে তার কী পদ্ধতি ছিল—সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।
খাবার গ্রহণের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা 
রাসুল (সা.) খাবার গ্রহণের আগে সব সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলতেন। তার সঙ্গীদেরও বিসমিল্লাহ বলতে উতসাহিত করতেন। রাসুল (সা.)  বলেন, ‘আল্লাহর নাম নিয়ে ও ডান হাত দ্বারা খানা খাও। এবং তোমার দিক হতে খাও।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৫১৬৭, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯১৩)
বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, “যখন তোমরা খানা খেতে শুরু করো তখন আল্লাহর নাম স্মরণ করো। আর যদি আল্লাহর নাম স্মরণ করতে ভুলে যাও, তাহলে বলো, ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ও আখিরাহ।” (আবু দাউদ, হাদিস নং: ৩৭৬৭, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৮৫৮)
হাত ধুয়ে শুরু ও শেষ করা
খাবার গ্রহণের আগে হাত ধোয়া আবশ্যক। না হয় বিভিন্ন ধরনের অসুখ দেখা দিতে পারে। রাসুল (সা.) খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার আদেশ দিয়েছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) পানাহারের আগে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নিতেন। (মুসনাদে আহমাদ)
অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) খাওয়ার পর কুলি করতেন এবং হাত ধৌত করতেন। (মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে মাজাহ)
দস্তরখান বিছিয়ে খাওয়া
আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) পায়াবিশিষ্ট বড় পাত্রে খাবার খেতেন না। কাতাদা (রা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, তাহলে কীসের ওপর খানা খেতেন? তিনি বললেন, ‘চামড়ার দস্তরখানের ওপর।’ (বোখারি: ৫৩৮৬)
ডান হাত দিয়ে খাওয়া
রাসুল (সা.) আজীবন ডান হাত দিয়ে খাবার খেতেন। বাম হাত দিয়ে খাবার খেতে নিষেধ করেছেন তিনি। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা বাম হাত দ্বারা খাবার খেয়ো না ও পান করো না। কেননা শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৫৩৭৬; মুসলিম, হাদিস নং: ২০২২)
হাত চেটে খাওয়া
রাসুল (সা.) খাওয়ার সময় সর্বদা হাত চেটে খেতেন। না চাটা পর্যন্ত কখনো হাত মুছতেন না। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যখন খাবার গ্রহণ করবে, তখন হাত চাটা নাগাদ তোমরা হাতকে মুছবে (ধোয়া) না।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৫২৪৫)
আঙুল চেটে খাওয়া
আঙুল চেটে খাওয়ার ফলে বরকত লাভের অধিক সম্ভাবনা থাকে। কারণ খাবারের বরকত কোথায় রয়েছে মানুষ তা জানে না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যখন খাবার গ্রহণ করো তখন আঙুল চেটে খাও। কেননা বরকত কোথায় রয়েছে তা তোমরা জানো না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১৯১৪)
পড়ে যাওয়া খাবার তুলে খাওয়া
খাবার গ্রহণের সময় কখনো কখনো থালা-বাসন থেকে এক-দুইটি ভাত, রুটির টুকরো কিংবা অন্য কোনো খাবার পড়ে যায়। সম্ভব হলে এগুলো তুলে পরিচ্ছন্ন করে খাওয়া চাই।
রাসুল (সা.)-এর খাবারকালে যদি কোনো খাবার পড়ে যেত, তাহলে তিনি তুলে খেতেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের খাবার আহারকালে যদি লুকমা পড়ে যায়, তাহলে ময়লা ফেলে তা ভক্ষণ করো। শয়তানের জন্য ফেলে রেখো না।’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯১৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৩৪০৩)
হেলান দিয়ে না খাওয়া
কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে খাবার খেতে তিনি নিষেধ করেছেন। হেলান দিয়ে খাবার খেলে পেট বড় হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দাম্ভিকতা প্রকাশ পায়। আবু হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর দরবারে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে বলেন, আমি টেক লাগানো অবস্থায় কোনো কিছু ভক্ষণ করি না। (বুখারি, হাদিস নং: ৫১৯০, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৮৬)
খাবারের দোষ-ত্রুটি না ধরা
শত চেষ্টা সত্ত্বেও খাবারে দোষ-ত্রুটি থেকে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করা নিতান্ত বেমানান। রাসুল (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)  কখনো খাবারের দোষ-ত্রুটি ধরতেন না। তার পছন্দ হলে খেতেন, আর অপছন্দ হলে খেতেন না। (বুখারি, হাদিস নং: ৫১৯৮; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৩৩৮২)
খাবারে ফুঁ না দেওয়া
খাবার ও পানীয়তে ফুঁ দেওয়ার কারণে অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। রাসুল (সা.) খাবারে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) কখনো খাবারে ফুঁ দিতেন না। কোনো কিছু পান করার সময়ও তিনি ফুঁ দিতেন না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৩৪১৩)
খাবারের শেষে দোয়া পড়া
আল্লাহ তাআলা খাবারের মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনেক বড় দয়া ও অনুগ্রহ করেন। এ দয়ার কৃতজ্ঞতা আদায় করা সভ্যতা ও শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। খাবার গ্রহণ শেষে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা অপরিহার্য।
খাবার শেষে রাসুল (সা.)  আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাতেন ও দোয়া পড়তেন। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) খাবার শেষ করে বলতেন, ‘আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাসিরান ত্বয়্যিবান মুবারাকান ফিহি, গায়রা মাকফিইন, ওলা মুয়াদ্দায়িন ওলা মুসতাগনা আনহু রাব্বানা।’ তিনি কখনো এই দোয়া পড়তেন: ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতআমানা ওয়াছাকানা ওয়াজাআলানা মিনাল মুসলিমিন।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৫৪৫৮)
রাসুল (সা.)-এর সুন্নতগুলো জীবনে বাস্তবায়ন সম্ভব হলে, জীবন সুন্দর ও সার্থক হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

চুপ থাকা ভাল, কথা বেশি বিপদ বেশি

ইসলামে মত প্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় কথা, অনর্থক বাক্যব্যয় নিষিদ্ধ। মানুষের মনের ভাব প্রকাশের শুদ্ধতম ও অর্থপূর্ণ উচ্চারিত ধ্বনিসমষ্টিই ভাষা। মুখের উচ্চারণের সঙ্গে মনের সংশ্লেষ না ঘটলে তা হয় অনর্থক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমরা তা মুখে মুখে ছড়িয়ে দিচ্ছিলে এবং এমন বিষয় তোমরা উচ্চারণ করছিলে মুখে, যে সম্পর্কে তোমাদের বিন্দুমাত্র জ্ঞান ছিল না। তোমরা বিষয়টিকে একটি সাধারণ কথা মনে করেছিলে। অথচ আল্লাহর কাছে তা ছিল অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।’ (সুরা নুর, আয়াত: ১৫)
এ আয়াতে মুখে মুখে কথা চালাচালি ও অন্যের বিরুদ্ধে অপবাদ রটনাকে মারাত্মক বিষয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে কথা-কাজে সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ হলো ‘মুনাফিকি’। এটি অপরাধ। মহান আল্লাহর নির্দেশ হলো—‘তোমরা সত্যের সঙ্গে মিথ্যার মিশ্রণ কোরো না এবং জেনেশুনে সত্যকে গোপন করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪২)
মন ও মুখের সংশ্লেষহীন বাক্য মূল্যহীন। এমন কথা কখনোই বলা উচিত নয়, যার কর্মগত বাস্তবতা নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘ঈমান এনেছ যারা, তারা শোন/যে কাজ কর না কিছু, বল তা কেন?/আল্লাহর কাছে অতি ঘৃণার তাহা/এমন কথা বল, কর না যাহা।’ (কাব্যানুবাদ, সুরা সাফ, আয়াত: ২-৩)
তাইতো বলতে হয়, নৈতিকতা ও বাকসংযম পরস্পর সম্পৃক্ত। বাকসংযমের বিষয়ে প্রিয় নবী (সা.) অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। এর সঙ্গে জান্নাত লাভের সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী ও দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানের জামানত দিতে পারে, আমি তার জন্য জান্নাতের জামিন হব।’ (বুখারি)
বাক্সংযমের অভাবে মানুষ মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং পাপ কাজে লিপ্ত হয়। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া পাপ কাজ, তার সঙ্গে লড়াই-ঝগড়া করা কুফরি কাজ। (বুখারি ও মুসলিম)
দ্বিমুখী আচরণ মারাত্মক অন্যায় ও জঘন্য বিষয়, এর পরিণতি ভয়াবহ। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুই মুখবিশিষ্ট হয় (যার কাছে যায় তারই প্রশংসা গায়) কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির জিহ্বা হবে আগুনের তৈরি।’ (দারেমি)
আমরা মুখে যা কিছু বলি আর যা কিছু করি আল্লাহ তার সব কিছু জানেন, দেখেন ও বোঝেন। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছেন—‘মানুষ যে কথাই বলুক না কেন, তার কাছে একজন ততপর প্রহরী প্রস্তু থাকেন।’ (সুরা কাফ, আয়াত: ১৮)
‘অহেতুক কথা’ ও ‘কথার কথা’ বিপদের বিষয় হতে পারে।
মহামতি প্লেটো বলতেন, ‘একটি কথা বলার আগে ১০ বার ভেবে বলো।’ তাই বেশি কথা বলা যাবে না। তবে ন্যায়সংগত কথা বলা জরুরি।

আড্ডা থেকে শিখেছি মেঝেতে বসে খাওয়ার উপকারিতা

সালটা ১৯৮২ বা ’৮৩ হবে। সবে চাকরী পেয়েছি আমরা বন্ধুরা। থাকি অফিসের কাছাকাছি মতিঝিলের এজিবি কলোনী বা এর আশপাশ। ২-১ জন আরো পশ্চিমে ধানমন্ডি, কলাবাগান এলাকায়। একদিন বন্ধু নান্না ওর শিল্প ব্যাংক অফিস থেকে (তারিখ মনে নেই) টেলিফোনে বল্লো, “লুলু আগামীকাল আসবে, তুইও আসবি। বিকেলে শাকেরের বাসায় যাবো আরামবাগে।” আমি তখন কাকরাইলে ন্যাশনাল সায়েন্স মিউজিয়ামে চাকরী করি। লুলু তখন সম্ভবত: বি.এ.ভি.এস-এ কাজ করে। শাকেরেরটা মনে করতে পারিনি। আমি রাজী হলাম। আমরা ৪ জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র ছিলাম। বিকেল হলেই বেরিয়ে পড়তাম। একসাথে ঘোরাঘুরি আরো কত কি। সে এক দারুন স্মৃতি।
আমাদের মধ্যে শাকের চটুল কথায় বেশ ওস্তাদ।
নান্না আইনষ্টাইনের মত মাঝেমধ্যে বেশ ভারী ভারী কথা কয়।
লুলু সক্রেটিসের মত ভাবনা নিয়ে কথা কয়।
আর আমি মাঝেমঝে ২-১টি রসবোধের কথা ছাড়ি।
তো শাকেরের বাসায় নির্দিষ্ট দিনের বিকেলে আমরা ৩ জনে হাজির হই। আড্ডা শেষে নাশতা এলো। শাকের বল্লো, দোস্তঁরা, “মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে খাওয়া যাক।” লুলু সক্রেটিসের মতই বল্লো, মেঝেতে বসে খাওয়া, সে তো দারুন এক ব্যাপার! লিগেসি আছে এতে। শাকের ওরে বাপ রে কয়ে ফোড়ন কাটলো। বল্লো, দোস্তঁরা! “ডাইনিং টেবিল কিনতে পারিনি, টাকা নাই। তাই মেঝেতে বসেই তোরা খাবি। না হলে খাবিনা, ভাগবি! ব্যস!” নান্না আর আমি কোন মন্তব্য করিনি। বসে যাই সবাই। খাওয়া আর গল্প চলে এক সাথে। অনেক সময় এক সাথে থেকে চলে আসি আমরা শাকেরের বাসা থেকে।
ভালই হতো সেই দিনগুলো যদি আবার ফিরে পেতাম!  
আমরা তো মেঝেতে বসলাম। খাওয়ার সময় এর উপকারিতা কি কিছু আছে?
 ডাইনিংয়ের চেয়ারের চেয়ে ঘরের মেঝেতে বসে খাওয়ার উপকারিতা অনেক
আধুনিক জীবনযাপনে আমরা সবাই চেয়ার টেবিলে বসে খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। মাটিতে বসে খাওয়ার চল প্রায় উঠেই গিয়েছে। কিন্তু প্রাচীনকাল থেকেই এদেশের মানুষ ঘরের মেঝেতে বসে খেত। এবার জেনে নেয়া যাক মাটিতে ঘরের মেঝেতে বসে খাওয়ার উপকারিতা। চেয়ারের আবিষ্কার আসলে খুব বেশি দিন ধরে হয়নি। অধিকাংশ মানুষই এখন ডাইনিং টেবিলে বসে খাওয়া-দাওয়া করতে পছন্দ করেন। আর এখন তো ডাইনিং টেবিল-চেয়ারে বসে খাওয়া একটি ফ্যাশন, ভদ্রতার অংশ হিসেবে ধরা হয়। তবে আগের দিনের মানুষ কিন্তু স্কোয়াট Squat বা উবু হয়ে বসে খেত। তবে এটি পশ্চিমা বিশ্বের লোকদের অভ্যাসে নেই, কিছু কিছু দেশের সংস্কৃতিতে এখনো এ অভ্যাস রয়েছে। তবে জানেন কি, পুরোনো এই সংস্কৃতির মধ্যে যোগব্যায়ামের শেকড় রয়েছে এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আমরা যারা গাঁয়ে থেকেছি তার মাটিতে বসে খাওয়াই অভ্যস্ত ছিলাম। কালক্রমে অভ্যাসটি হারিয়ে যায়। এখন আর কারো ঘরে মাদুর দেখা যায় না। আমার আব্বা ডাইনিং টেবিলের কথা শুনতেই চাইতো না। বলতো, “ওটাতে বসে খেলে আমার খাওয়াই হবে না।” তবে আমি ভোরের নাশতার সময় অভ্যাসটি সজীব রেখেছি। এখনো।
মেঝেতে বসে খাওয়ার উপকারিতা
ভারতের চিতৌরের প্রাক্তন জেলা আয়ুর্বেদ চিকিতসা আধিকারিক রোশনাল মোড়ের পরামর্শ অনুযায়ী, চেয়ার-টেবিলের তুলনায় মাটিতে বসে খাওয়াই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।
১. যখন আমরা খাওয়ার জন্য মেঝেতে বসি, আসলে তখন কিছু যোগব্যায়ামের আসনও করা হয়। এটিকে সুখাসন বা স্বস্তিকাসন অথবা সিদ্ধাসনও বলা হয়। সুখাসন পদ্মাসনেরই একটি রূপ। পদ্মাসনের যা যা উপকারিতা, সুখাসন করলেও সেগুলো পাওয়া যায়।
২. সুখাসনে বসলে একাগ্রতা বাড়ে।
৩. সুখাসনে বসলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। যার ফলে শরীরে অতিরিক্ত এনার্জি পাওয়া যায়।
৪. এই আসনে বসলে মানসিক চাপ কমে, মনে ইতিবাচক চিন্তাভাবনার প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
৫. সুখাসনে বসলে পায়ের শক্তি বৃদ্ধি হয়।
৬. মাটিতে সুখাসনে বসে খাবার খেলে মেদ বৃদ্ধি, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাসের মতো পেট সংক্রান্ত সমস্যা এড়ানো যায়।
৭. সুখাসনে বসে খাবার খেলে আলস্য দূর হয়। মাংস পেশিতে খিঁচ ধরা কমে।
৮. এই আসনটিতে বসে খাবার খেলে মেরু‌দণ্ডের নীচের অংশে জোর পড়ে। এর ফলে শরীরে আরাম অনুভূত হয়।
৯. পা ক্রস করে মেঝেতে বসে খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়। মেঝেতে বসে খেলে হজমরস ভালোভাবে বের হয় ও দ্রুত খাবার হজম হয়।
১০. পা ক্রস করে বসে খাওয়া পিঠ ও ঘাড়ের জন্য খুবই উপকারি।
১১. পা ক্রস করে বসলে এমনিতেই অঙ্গবিন্যাস বা Posture ঠিকঠাক হয়ে যায়।
১২. পবিত্র দ্বীন ইসলামে মেঝেতে বসে খাওয়া সুন্নত।
১৩. নামাজে বসার মতো মেঝেতে বসে খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়।মেঝেতে বসে খেলে হজমরস ভালোভাবে বের হয় ও দ্রুত খাবার হজম হয়।
১৪. নামাজের মতো বসে খাওয়া পিঠ ও ঘাড়ের জন্য খুবই উপকারি।
১৫. মেঝেতে বসে খেলে কম খাওয়া যায় কারণ পেটে কিছুটা চাপ পড়ে, পেটের আয়তন কমে যায়। এতে স্থুলতা কমে, ওজনও কমে।

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষ ডাইনিং টেবিলে বসে খেয়ে থাকে। তবে আপনি জানেন কী? টেবিলে খাওয়ার চেয়ে মেঝেতে বসে খেলে হজম প্রক্রিয়াকে ভালো হয়। এছাড়া মেঝেতে বসে খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে।
পবিত্র দ্বীন ইসলামে মেঝেতে বসে খাওয়া সুন্নত। এর রয়েছে অনেক উপকারিতা। সেই উপকারিতার কথা ফুটে উঠেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডিতে। আসুন জেনে মেঝেতে বসে খাওয়ার উপকারিতা।
১.নামাজে বসার মতো মেঝেতে বসে খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়।মেঝেতে বসে খেলে হজমরস ভালোভাবে বের হয় ও দ্রুত খাবার হজম হয়।
২. মেঝেতে বসে খাবার খেলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এছাড়া হার্টের রক্ত পাম্প করতে সুবিধা হয়।
৩. নামাজের মতো বসে খাওয়া পিঠ ও ঘাড়ের জন্য খুবই উপকারি। চেয়ারে বেশিক্ষণ বসে থাকা ঘাড় ও কোমরের ব্যথা হয়।
৪. মেঝেতে বসে খেলে ব্যায়াম ও করা হয়। এটি এ ধরনের আসনগুলোতে যে উপকারিতা রয়েছে।

নুন, আল্লাহর একটি নিদর্শন

খুলে যাক মানুষের জ্ঞান
রুপান্তরের দিক বিবেচনা করে অনেকসময় জ্ঞানীরা উদাহরণ যে থাকেন যে, “তোমরা নুনের মত হও। যাতে অল্পতেই বোঝা যায় যে পরিবর্তনের জন্য তোমাদের মনের সঠিক উপস্থিতি কতটা দরকার।”
সাগর জলে পানি আর নুনের অনুপাত যেমন, মানুষের শরীরের প্রত্যেকটি কোষেও পানি আর নুনের অনুপাত ঠিক তেমন। এ এক বিষ্ময়কর ব্যাপার। (Ref: Grolier Encyclopedia of Knowledge)

মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। আর দুনিয়ার সব কিছু সৃষ্টি করেছেন মানুষের জন্য। মানুষের প্রয়োজনীয় সব উপকরণ তিনি পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছেন। যার মধ্যে অন্যতম একটি জিনিস হলো লবণ।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর সাগর দুটি একরূপ নয়। একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অন্যটির পানি লোনা, খর। আর প্রত্যেকটি থেকে তোমরা তাজা গোশত খাও এবং আহরণ করো অলংকার, যা তোমরা পরিধান করো। আর তোমরা দেখো তার বুক চিরে নৌযান চলাচল করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সুরা: ফাতির, আয়াত: ১২)
আমরা খাওয়ার জন্য যে লবণ ব্যবহার করি তার বেশির ভাগই আসে সমুদ্রের লবণ থেকে। সমুদ্র থেকে যে লবণ আনা হয় তা একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিশোধন করা হয়। জোয়ারের সময় সমুদ্রের লোনা পানি জমা করে রাখা হয় বড় বড় জমিতে। এরপর সেই জমির চারপাশ বাঁধ দিয়ে পানি আটকে ফেলা হয়। এরপর সূর্যের আলোতে সেই পানি বাষ্প হয়ে গেলে তার নিচে লবণ পড়ে থাকে। পরে আবার সেই লবণ পরিষ্কার করে বাজারে বিক্রয় করা হয়। ইংরেজিতে একে Table Salt বলা হয়। ল্যাটিন শব্দ ‘salārium’ মানে হলো নুন আর স্যালারি মানে বেতন কথাটি এসেছে salārium থেকে। রোমে সৈন্যদের বেতন দেয়া হতো নুন কেনার জন্য। The word salary ultimately derives from an allowance—salārium—paid to Roman soldiers for the purchase of salt.( https://en.wikipedia.org/wiki/History_of_salt )
আয়েশা (রা.) গোশত সংরক্ষণের জন্য লবণ ব্যবহার করেছেন। (বুখারি, হাদিস: ৫৫৭০)
জীবনের জন্য লবণের গুরুত্ব অপরিসীম। লবণে আছে বিপুল পরিমাণ সোডিয়াম। সোডিয়াম শরীরের জন্য দরকারি ইলেকট্রোলাইট। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ইলেকট্রোলাইট, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম অপরিশোধিত লবণে পাওয়া যায়। তবে তা গ্রহণ করতে হবে পরিমিত। শরীরে লবণ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া দুটিই দেহের জন্য বিপজ্জনক। তাই লবণের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখার ব্যাপারটি বেশ সতর্কতার সঙ্গে করা উচিত তা বলাই বাহুল্য।
হাজার হাজার বছর ধরে লবণ যে শুধু রান্নায় ব্যবহার হচ্ছে তা কিন্তু নয়। কোনো কোনো ধর্মেও লবণের রয়েছে আলাদা মর্যাদা। জাপানের Shintoয় যেকোনো মানুষ বা স্থানকে পরিশুদ্ধ করতে লবণ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। দা িভিঞ্চির আঁকা “লাষ্ট সাপার” চিত্র কর্মে একটি নুনের পাত্র উল্টে পড়ে আছে দেখা যায়। এটা ছিল সে সময়কার রীতি অনুযায়ী এক অশুভ ঈঙ্গিত (spilling salt was generally considered a bad omen).
লবণ নিয়ে রীতিমতো একটা আন্দোলন হয়েছিল, যেটিকে লবণ আইন অভিযান বা লবণ সত্যাগ্রহ বলা হয়। ইংরেজিতে একে সল্ট মার্চ বলে অভিহিত করা হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই আন্দোলনের বিশেষ মর্যাদা ছিল। লবণের ওপর ব্রিটিশ সরকার যে কর আরোপ করে তারই প্রতিবাদে এই যাত্রার আয়োজন করা হয়। লাখ লাখ মানুষ সেদিন সেই যাত্রায় অংশগ্রহণ করেছিল। The Salt March, also known as the Salt Satyagraha, Dandi March and the Dandi Satyagraha, was an act of nonviolent civil disobedience in colonial India led by Mohandas Karamchand Gandhi. The 24-day march lasted from 12 March 1930 to 6 April 1930 as a direct action campaign of tax resistance and nonviolent protest against the British salt monopoly. Ref: https://en.wikipedia.org/wiki/Salt_March
মহান আল্লাহর এই নিয়ামত পরিমিত ব্যবহারে যেমন খাবার সুস্বাদ করে, তেমনি বিভিন্ন ক্ষতিকর অনুজীব দমনে এটি ওষুধ হিসেবে কাজ করে। রাসুল (সা.) নিজেও ওষুধ হিসেবে লবণ ব্যবহার করেছেন। একবার রাসুল (সা.)-কে নামাজরত অবস্থায় বিচ্ছু কামড় দিলে তিনি কিছু লবণ ও পানি চেয়ে নিলেন এবং তা একটি পাত্রে মেশালেন, অতঃপর অঙ্গুলির দংশিত স্থানে পানি ঢালতে এবং ওই স্থান মুছতে লাগলেন এবং সুরা ফালাক ও নাস দ্বারা ঝাড়তে লাগলেন। (মিশকাত, হাদিস: ৪৫৬৭)
বিশেষ করে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ডাক্তাররা লবণপানিতে গড়গড়া কুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
এভাবেই মহান আল্লাহ তাঁর কোটি কোটি নিয়ামত দিয়ে আমাদের জীবনকে সহজ করে দিয়েছেন। আল্লাহু আকবার। যেগুলো নিয়ে চিন্তা করলে মুমিনের ঈমান আরো দৃঢ় হয়ে যায়।

আমি মুসলিম—এ কথার অর্থ কী

মূল শব্দ হলো “সলম” মানে আত্মসমর্পণ। আত্মসমর্পণ করতে হবে আল্লাহর কাছে। যে আত্মসমর্পণ করে সেই হলো মুসলিম।
মুসলিম অর্থ আত্মসমর্পণকারী ও অনুগত। যে নিজেকে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে সে মুসলিম। যে মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর ঈমান এনে তাঁর শরিয়ত পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ, সে মুসলিম। যে কোরআন-সুন্নাহ মেনে চলে সে মুসলিম। যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ, সে মুসলিম। যে নামাজ পড়ে, কেবলামুখী হয় এবং মুসলমানদের জবাইকৃত পশু ভক্ষণ করে, সে মুসলিম।
মুসলিম আরবি শব্দ। এর বাংলা পরিভাষা হিসেবে মুসলিম ও মুসলমান দুটি শব্দই সমানভাবে ব্যবহার হয়।
যে দ্বিন হিসেবে ইসলামকে মেনে নেয়, সে মুসলিম। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘নিঃসন্দেহে ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দ্বিন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯)
যে হালাল-হারাম মেনে চলে, সে মুসলিম। যে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল পালন করে, সে মুসলিম।
মুসলমান হতে হলে পাপ কাজ করা যায় না। অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা যায় না। অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জন করা যায় না। এক শ্রেণির মানুষের কাছে সম্পদ পুঞ্জীভূত করে রাখা যায় না। মানুষের সম্মান নিয়ে খেলা করা যায় না।
মুসলমান কাউকে নিয়ে উপহাস করে না। দোষারোপ করে না। মন্দ নামে ডাকে না। গোপন দোষ প্রকাশ করে না। গিবত করে না। শত্রুভাব নিয়ে থাকে না।
মুসলমান মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হয়। প্রতিবেশীর খবর নেয়। মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় করে। এতিম ও অসহায়ের পাশে দাঁড়ায়।
মুসলমান আদম সন্তান হিসেবে ভেদাভেদ দূর করে। পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। ভাই ভাই হয়ে থাকে।
মুসলমান জীবনকে গতিশীল করে। জীবনের সব ক্ষেত্রে সংকল্প, ধৈর্য, সততা নিশ্চিত করে। আল্লাহর ওপর ভরসা করে।
মুসলমান সর্বাধিক মানবিক হয়। তাকওয়া, বিনয়-নম্রতা, ধৈর্য-সহিষ্ণুতা, দানশীলতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যপরায়ণতা ইত্যাদি মুসলমানের বিশেষ গুণ।
মুসলমান পরিবার ও সমাজবান্ধব হয়।
মুসলমান জীবনের সব ক্ষেত্রে পরকালীন সাফল্যকে প্রাধান্য দেয়।
মুসলমান তার গোটা জীবন আল্লাহর কাছে সঁপে দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলে দাও, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ—সবই বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৬২)