Monday, April 5, 2021

উপহার ও হাদিয়া হতে হবে নিঃস্বার্থে

 উপহার, উপঢৌকন, হাদিয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় পরস্পর সম্পর্ক সুদৃঢ় করে। ইসলাম মানুষের বন্ধন সুদৃঢ় করতে চায়। তাই রাসুল (সা.) উপহার ও হাদিয়া আদান-প্রদানের তাগিদ দিয়েছেন।

এমনকি কেউ হাদিয়া দিলে তার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক মধুর হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যাকে দান করা হয়েছে তার সামর্থ্য থাকলে সে যেন এর প্রতিদান দেয়। যার সামর্থ্য নেই, সে যেন প্রশংসা করে। কেননা যে প্রশংসা করল, সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। আর যে তা গোপন করে, সে তার প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮১৩)
কিন্তু এই উপহার ও হাদিয়া হতে হবে নিঃস্বার্থে। পার্থিব কোনো মতলব দিয়ে উপহার বা হাদিয়া দিলে তা ঘুষের অন্তর্ভুক্ত হবে। আবু হুমায়দ সাইদি (রা.) বলেন, নবী (সা.) আজদ গোত্রের ইবনুল লুত্বিয়্যাহ নামক এক ব্যক্তিকে জাকাত উসুলের উদ্দেশে কর্মচারী নিয়োগ করেন। সে যখন (জাকাতের উসুলকৃত) মালামাল নিয়ে এসে নবী (সা.)-এর নিকট অর্পণ করল, তখন বলল, এগুলো হচ্ছে আপনাদের, আর ওটা আমাকে উপঢৌকনস্বরূপ দেওয়া হয়েছে। তখন নবী (সা.) বলেন, তুমি তোমার মাতা-পিতার ঘরে বসে থেকে দেখলে না কেন, তোমার জন্য উপঢৌকন প্রেরিত হয় কি না? তারপর নবী (সা.) খুতবা দিতে দাঁড়ালেন। (মুসলিম, হাদিস : ৪৬৩৩)
তবে কিছু মানুষ এমন আছে, পদের অধিকারী হলেও যারা হাদিয়া গ্রহণ করতে পারবেন, তাঁরা হলেন :
(১) নিজের মাহরাম আত্মীয়দের থেকে।
(২) যারা তাকে এ পদ লাভ করার আগেও হাদিয়া দিত, এখনো সেই পরিমাণ দেয় তাদের থেকে হাদিয়া নেওয়া যাবে।
(৩) নিজের পদের চেয়ে ওপরের পদবিধারী থেকে হাদিয়া নেওয়া যাবে। শর্ত হলো, তার পদ দ্বারা তাদের উপকৃত হওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারবে না। (দুররে মুখতার ও রদ্দুল মুহতার : ৪/৩১১)
সূত্র: মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ/কালের কন্ঠ

ঝিঙের গুণ

 নজরুলের ঝিঙে ফুল কবিতা মনে আছে তো?

ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল।
সবুজ পাতার দেশে ফিরোজিয়া ফিঙে-কুল –
ঝিঙে ফুল।
গুল্মে পর্ণে
লতিকার কর্ণে
ঢলঢল স্বর্ণে
ঝলমল দোলো দুল –
ঝিঙে ফুল॥
আমার মা ঝিঙেকে বলতেন “তরী”। ভর্তা বানাতেন তরী দিয়ে। আমার আর কিছু লাগতো না ভাতের সাথে।
পাখীর মধ্যে খয়েরী হাঁড়ীচাঁচা -Dendrocitta vagabunda হলো ঝিঙের ১নং শত্রু। ঝিঙে বড় হলেই ওরা হাজির। খেয়ে দেয়ে কর্কশ স্বর তুলে বিদায়।
১. খাবারে অরুচি হলে কচি ঝিঙে ও শিং মাছের ঝোল খান।
২. ঝিঙে রক্তকে দূষণ থেকে রক্ষা করে। লিভারের জন্যও উপকারি। ঝিঙের রস খেলে লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ে। বিশেষ করে লিভারে অ্যালকোহলের ক্ষতিকর প্রভাব দূর করে। জন্ডিসের আদর্শ পথ্যও ঝিঙে।
৩. ঝিঙে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। শরীরের বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিন বের করে দেয়। নিয়মিত ঝিঙে খেলে ত্বক ভাল থাকে। বিভিন্ন রোগজীবাণু, ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
৪. ঝিঙেতে রয়েছে পেপটাইড এনজাইম যা সুগার কমায়, রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ডায়াবিটিক রোগিদের জন্য ঝিঙে মহৌষধ!
৫. ঝিঙে ফাইবারে ভরপুর! কাজেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। অ্যাসিডিটি ও আলসার সারায়। পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে খাবার হজমে সাহায্য করে। পাইলস-এও খুব উপকারি!
-নিউজ১৮ ও জেনারেল জুওলজি

মানব শরীরের মৌসুমী হালচাল, রোগ বালাই এবং ব্যবস্থাপত্রঃ আয়ুর্বেদের নিরিখে

 কি করবেন ইম্যুনিটি বাড়াতে?

বায়ু-পিত্ত-কফ। আয়ুর্বেদ মতে এই তিন দোষ সাম্যাবস্থায় মানেই শরীর নীরোগ রয়েছে। আর বৈষম্য হলেই হয় রোগের উদ্ভব। বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য ছয় ঋতুর বিভিন্ন সময়ে ওই তিন দোষের মধ্যে বৈষম্য ডেকে আনে। ফলে বিশেষ ঋতুতে বিশেষ সমস্যা এবং ঋতু পরিবর্তনকালীন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। তবে আল্লাহর অশেষ করুণায় প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মেই মানবদেহের তিন দোষকে সাম্যাবস্থায় রাখতে প্রতিটি ঋতুতে বিশেষ শাকসব্জি ও ফলমূল দান করে। সব মরশুমি শাকসব্জি এবং ফলে প্রচুর পরিমাণে ‘ভিটামিন সি’, ‘ভিটামিন ই’ এবং ‘ভিটামিন এ’-র পূর্বসূরি ‘বিটা ক্যারোটিন’ থাকে। সঙ্গে থাকে অন্যান্য ভিটামিন, খনিজ এবং ‘অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট’। এই উপাদানগুলি শরীরের মধ্যে উৎপন্ন হওয়া ক্ষতিকর কিছু রাসায়নিক দ্রব্য থেকে বিভিন্ন অঙ্গকে রক্ষা করে। গড়ে তোলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
১. গরমেঃ দিনের পর দিন বাড়ছে তাপমাত্রা। তবে খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই মরশুমেও আপনি পেতে পারেন স্বস্তি। গ্রীষ্মে মানবদেহ বায়ু দোষ সঞ্চয়প্রাপ্ত হয়। অন্যদিকে প্রশমিত হয় কফ দোষ। আসে জলহানি জাতীয় দৌর্বল্য। প্রচণ্ড আর্দ্রতার কারণে এখন আমাদের প্রচুর ঘাম হচ্ছে। ফলে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যাচ্ছে। দেহে জলের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। তাই গ্রীষ্মে শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য জামরুল, শসা, ফুটি(বাঙ্গি), আম, তরমুজ, আঙুর এবং লিচুর মতো ফল খুবই উপকারী। সব্জির মধ্যে উচ্ছে, ঝিঙে, পটল, করলা, ঢ্যাঁড়স, কুমড়ো, কলমি শাক, পুঁই শাক, সজনে শাক পিত্ত দোষ উপশম করে জলহানি কমায় এবং তিন দোষের মধ্যে সাম্য আনে।
২. বর্ষায় বায়ুর প্রকোপ বাড়ে। তাই অস্থিরতা, নিদ্রাহীনতা, অতিসার বা ডায়ারিয়ার মতো রোগে মানুষ প্রায়ই ভোগেন। এই সময় মরশুমি ফল পেয়ারা, কলা এবং সব্জির মধ্যে ঝিঙে, পটল, চালকুমড়ো, ক্যাপসিকাম, বেগুন, আমড়া, হিঞ্চে ও গিমে শাক শরীরের পক্ষে হিতকর। সঙ্গে রান্নায় শুকনো আদা, জিরে, ধনে, গোলমরিচ ইত্যাদি মশলা পরিমিত মাত্রায় খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। এগুলি পিত্তবল বাড়ায়।
৩. শরতে পিত্তের প্রকোপ দেখা যায়। এই সময় ওল, কচু, মানকচু, লাল শাক, পটল ইত্যাদি সব্জি এবং ফল হিসেবে সবেদা, বাতাবিলেবু, আনারস, পানিফল, তাল, আপেল খাওয়া স্বাস্থ্যকর। এই সব ফল ও শাকসব্জি পিত্তকে প্রশমন করে এবং ত্রিদোষকে সাম্যাবস্থায় আনে।
৪. হেমন্তে পিত্ত দোষ প্রশমিত করতে খান মুসম্বি, শরতের মরশুমি ফল এবং শাকসব্জি।
৫. শীতকালে কফ দোষ সঞ্চিত হয়। এটি সব্জির সময়। বিট, গাজর, বিনস, মটরশুঁটি, টম্যাটো, সিম, পেঁপে, মেথি শাক শরীরের পক্ষে হিতকর। তবে বেশি পরিমাণে ফুলকপি ও বাঁধাকপি খাওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। ফলের মধ্যে কমলালেবু এবং বেদানা স্বাস্থ্যকর।
৬. বসন্তে কফের প্রকোপ হয়। কচি নিমপাতা, সজনে ডাঁটা, করলা, উচ্ছে, পটল, বেগুন, লাউ, কুমড়োর মতো সব্জি এবং ফলের মধ্যে আমলকী, পাকা বেল, বেদানা, কুল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
তুলনায় দুর্বল এবং রুগ্নদের জন্য সারাবছর পরিমিত কলা, খেজুর, কাজু, চিনাবাদাম, আখরোট, আমন্ড ইত্যাদি স্বাস্থ্যকর উপাদান খাওয়া যেতে পারে।
প্রকৃতির নিয়মে উৎপন্ন হওয়া শাকসব্জি, ফলমূল খাওয়াই ওই তিন দোষ বৈষম্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোত্তম উপায়।
আয়ুর্বেদবেত্তারা সেই বিধানই দিয়েছেন।
-বর্তমান পত্রিকা

মৌমাছি ও মধু

 কোরআন ও হাদিসে আল্লাহ তাআলা ও রাসুলুল্লাহ (সা.) একাধিকবার মধু এবং মৌমাছির ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। এতে খুবই অবাক করার মতো তথ্য আছে।

মৌমাছির ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর আপনার পালনকর্তা মধু-মক্ষিকাকে আদেশ দিলেন, তোমরা পর্বত, বৃক্ষ ও উঁচু মাচা বা চালের মধ্যে গৃহ নির্মাণ করো। এরপর সব ধরনের ফল থেকে আহার গ্রহণ করো এবং আপন পালনকর্তার পথসমূহে চলো।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৮)
কোরআনের অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তার (মক্ষিকা) পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রোগের প্রতিকার আছে। নিশ্চই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন আছে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৯)
হাদিসে এসেছে, জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের ওষুধের যেগুলোতে আরোগ্য আছে তা হলো, শিঙ্গা লাগানো, মধু পান করা...।’ (বুখারি ও মুসলিম, হাদিস : ৬১৭, ২০৩২)
অন্য এক হাদিসে আছে, আবু সাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বলল, আমার ভাইয়ের ডায়রিয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, তাকে মধু পান করাও। সে গিয়ে তার ভাইকে মধু পান করাল। এভাবে দুইবার হলো। এবং প্রতিবারই সে রোগের অভিযোগ করল। তখন রাসুল (সা.) প্রতিবার তাকে মধু পান করাতে বলেন। লোকটি আবার এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! তার পায়খানা তো আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন তিনি বলেন, আল্লাহ সত্যবাদী এবং তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যাবাদী। সে আবার গেল এবং তাকে মধু পান করাল। এবার সে পুরোপুরি আরোগ্য হয়।’ (বুখারি, ৫/২৯১, তিরমিজি, হাদিস : ২০২৩)
আরেক হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন মধু সেবন করবে সে বড় ধরনের কোনো রোগে আক্রান্ত হবে না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২/১১৪২)
রেফাঃ আল কুরআন, আল হাদীস

শাক সব্জি খেয়ে সুস্থ থাকা যায়

 মার্চের শুরুতেই সূর্যের চোখরাঙানি শুরু। খাতায় কলমে যে বসন্ত, কে বলবে! দিনের বেলায় বাইরে বেরলেই ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা। এই সবে শুরু, আগামীদিনে আরও প্রখর রোদ্দুর অপেক্ষা করে বসে আছে। তাই এই তীব্র তাপদাহের মধ্যে শরীরকে ঠিক রাখতে খাবার সম্পর্কে একটু বিশেষ সচেতনতা দরকার বৈ কি। তবে জানলে অবাক হবেন, এই কঠিন সময়টাকে নির্ঝঞ্ঝাটে কাটিয়ে দেওয়ার সমস্ত খাদ্য প্রকৃতি আমাদের সামনেই সাজিয়ে রেখেছে। এবার এমনই কিছু সব্জি এবং শাকের সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক যা আপনার শরীরকে গ্রীষ্মের নানা সমস্যা থেকে রেহাই দিতে পারে—

ঝিঙেঃ ঘামের সঙ্গেই শরীর থেকে বেরিয়ে যায় সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরিনের মতো দরকারি ইলেকট্রোলাইটস। এই ঘাটতি পূরণের কাজে ঝিঙে হতে পারে আপনার হাতের কাছের অন্যতম বিকল্প। কারণ ঝিঙের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে সোডিয়াম, পটাশিয়াম সহ বিভিন্ন খনিজের সমাহার রয়েছে। এছাড়া ঝিঙে হজমেও বিশেষভাবে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি দুর্বলতা কাটাতেও এই সব্জির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। নানান অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ এই খাদ্য রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে জোরালো করতেও সাহায্য করে। গোটা গ্রীষ্মকাল জুড়েই এই সব্জি পাওয়া যায়।
ঢেঁড়শঃ নামে যাবেন না, গুণের দিক থেকে এই সব্জির জবাব নেই! গরমেই এই সব্জির ফলন বাড়ে। ঢেঁড়শ নানাভাবে শরীরকে সুস্থসবল রাখতে সাহায্য করে। আর সব থেকে বড় কথা, ঢেঁড়শ হল শীতল প্রকৃতির সব্জি। তীব্র গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এই খাদ্য। তাই ঢেঁড়শ খেলে অনেকের ঠান্ডাও লাগে। পাশাপাশি পেটের নানা সমস্যাতেও দারুণ কাজ করে এই সব্জি। এই সব্জিতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি, আয়রনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান। তাই শরীরের সার্বিক পুষ্টি রক্ষাতেও ঢেঁড়শের বিশাল ভূমিকা রয়েছে।
পটলঃ মোটামুটি প্রতিটি বাঙালি পরিবারেই পটল খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এই বিশেষ খাদ্যবস্তুটি আয়রন, সোডিয়াম সমৃদ্ধ। ফলে শরীরে খনিজের ঘাটতি পূরণেও এই খাদ্যের গুরুত্ব আছে। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি যা শরীরের পুষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। আবার এই সহজপাচ্য খাদ্যটি গরমের নানাবিধ পেটের সমস্যা, হজমের সমস্যা দূরে রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
সজনে ডাঁটাঃ এই বিশেষ খাদ্যটি নানান গুণে সমৃদ্ধ। এই ডাঁটার মধ্যে রয়েছে ক্যালশিয়াম, আয়রনের মতো খনিজ। এছাড়া সজনে ডাঁটা নিয়মিত খেলে চিকেন পক্স সহ এই সময়ে নানাবিধ ভাইরাসগঠিত রোগ সংক্রমণের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি তৈরি করে। পাশাপাশি হজমশক্তির উন্নতিতেও এই সব্জির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আবার রক্তচাপের সমস্যা এবং ঘুমের বিভিন্ন অসুখে এই সব্জি খেলে উপকার মেলে।
গিমা শাকঃ গ্রাম-বাংলার এই বিশেষ রসদ আজ অবহেলিত। যদিও গুণাগুণের নিরিখে এই শাককে টেক্কা দেওয়া বেশ কঠিন। গরমেই এই শাক বেশি পাওয়া যায়। স্বাদে তিতো। এই শাকে রয়েছে ভিটামিন এ, সি। আছে নানান খনিজ। ফলে শরীরে ভিটামিন ও খনিজর ঘাটতিও মেটে। গরমকালে খিদে বাড়াতে সাহায্য করে এই শাক। শরীরকে সার্বিকভাবে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
কচি নিম পাতাঃ নিমের গুণাগুণ নিয়ে যত বলা যায়, ততই কম। নানাবিধভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে নিম পাতা। প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ এই খাদ্য। তাই গরমের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ দূরে রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার। এছাড়া নিম হজমের সমস্যা কমায়। হার্ট ভালো রাখে। গরমে বেড়ে ওঠা মূত্রনালীর নানা অসুখকে প্রতিহত করে। আর সকলেই নিশ্চয়ই জানেন, ডায়াবেটিসের মতো কঠিন রোগকে প্রতিহত করতেও নিম পাতার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাই শুধু গ্রীষ্ম নয়, গোটা বছরই পাতে থাকুক কচি নিম পাতা।
হিনচে শাকঃ ‌আরও একটি অবহেলিত খাদ্য। এই শাকটিও নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। রয়েছে ভিটামিন এবং খনিজ। এছাড়া নিয়মিত এই শাকটি খেলে রক্ত পরিষ্কার থাকে। পাশাপাশি গরমের বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি দূরে রাখতেও সাহায্য করে। অরুচি দূর করতেও হিমচে শাক যথেষ্ট কার্যকরী।
অন্যান্য
পেঁপে, কুমড়ো, কাঁচকলা, গাজর, পুঁইশাক, পালংশাক, লালশাকসহ বাজারজাত প্রায় প্রতিটি শাকসব্জিই গুণে সমৃদ্ধ। তাই সব শাকসব্জিই খান।
কতটা খাবেন?
রোজই দিনে দু’বেলা অন্তত একবাটি শাকসব্জি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। তবেই পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি।
কীভাবে রান্না?
শাকসব্জি রান্নার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন। ময়লা যেন না থাকে। তেল, মশলা কম ব্যবহার করে রান্না করুন।
-বর্তমান পত্রিকা সূত্র
Kaniz Hasneen Mumoo, Atowar Khan and 2 others

অতিমাীরর সময় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অজু

 বৈশ্বিক মহামারি করোনা শুরুর পর দেশে দেশে হাত ধোয়ার ব্যাপারে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী, চিকিতসক ও সমাজকর্মীরা সোচ্চার হয়েছেন। হাত যেন পরিষ্কার থাকে, হাত থেকে হাতে বা হাত থেকে নাকে-মুখে যেন ভাইরাস না ছড়ায় সেটিই ছিল এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য। হাত ধোয়ার ব্যাপারে সচেতনতা তৈরির জন্য প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস নামে একটি দিবসও পালন করা হয়। দুটি চেষ্টাই ঐচ্ছিক। ব্যক্তি চাইলে করতে পারে, না-ও পারে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা ইসলামী শরিয়তের মাধ্যমে মানবজাতিকে এমন ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেছেন, যাতে একজন মুসলিম প্রতিদিন ১৫ বার করে শুধু হাতই নয়; বরং নাক-মুখসহ দেহের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গ ধুতে হয় এবং সেটি আবশ্যিকভাবে। যার নাম অজু।

একজন মুসলিম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচবার অজু করে থাকেন। এই অজুগুলোতে সে ১৫ বার কনুই পর্যন্ত হাত ধোয়, ১৫ বার কুলি করে, ১৫ বার নাক পরিষ্কার করে, ১৫ বার সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ধোয়, ১৫ বার পা ধোয়, পাঁচবার মাথা ও ঘাড় মাসেহ করে (ভেজা হাত বোলানো)। অজুতে কাজগুলো বিশেষ যত্নসহ করা হয়। পরিষ্কার যেন ঠিকভাবে হয় বা অণুমাত্র অংশও যেন শুকনো থেকে না যায়, সে ব্যাপারে তারা যথেষ্ট সচেষ্ট থাকে। এভাবে প্রতিদিন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ১৫ বার করে ধোয়ার ফলে শরীর যেমন পরিচ্ছন্ন থাকে, তেমনি তাতে কোনো ধরনের রোগ-জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা বহুলাংশে কমে যায়। তাই অজু হতে পারে স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম মাধ্যম, সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরক্ষা।
মানুষের শরীরের যেসব অঙ্গ খোলা থাকে যেমন হাত, মুখ, নাক, চোখ, পা ইত্যাদি অজুর মাধ্যমে প্রতিদিন ১৫ বার ধোয়া হয়। এতে অঙ্গগুলো পরিষ্কার হয়ে যায়। সব সময় খোলা থাকার কারণে বিভিন্ন কাজ করার সময় এগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ধুলা-ময়লা জমে এবং দুর্গন্ধ তৈরি হয়। অজুর মাধ্যমে তা দূর হয়। দিনের অজু ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করে, ফজরের অজু সারা রাতের ঘুমের পর ব্যক্তিকে সতেজ করে তোলে। এতে মানুষের মনে-মগজে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পায়। চিকিতসাবিজ্ঞানীরা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অজুর অনেকগুলো উপকারের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন মানবদেহের বাহ্যিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য দেহে Lymphatic Sistem সঠিক পদ্ধতিতে সক্রিয় হওয়া আবশ্যক। অজু এ কাজে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মানবদেহের অভ্যন্তরীণ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে নাসারন্ধ্র্রের মধ্যে থাকা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিচ্ছন্নতা ও সুরক্ষা আবশ্যক। শুধু অজুর মাধ্যমেই নাসারন্ধ্রের এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়া হয়ে থাকে। অজুর মাধ্যমে ঘাড়ের দুই পাশে কম্পন সৃষ্টি করা যায়। এতে Lymphatic Sistem আরো সক্রিয় হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমের জন্য বিছানায় যাওয়ার আগে নিয়মিত অজু করতেন। বারা ইবনে আজিব (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, তুমি যখন বিছানায় যাওয়ার ইচ্ছা করো, তখন অজু কোরো, যেভাবে তুমি সালাতের জন্য অজু করো। (সহিহ বুখারি)
চিকিতসাবিজ্ঞানীরা ঘুমের আগে অজু করার যৌক্তিকতা খুঁজে পেয়েছেন। দিনভর মাটি, ময়লা, ধুলা ও জীবাণুগুলো দেহের ছিদ্রে জমা হয়ে চামড়াকে দূষিত করে থাকে। মুখের ত্বকে ও চোখে ক্ষতিকর ধুলাবালি জন্মে। অজুর মাধ্যমে শরীরের খোলা অঙ্গগুলো এবং চোখকে রাতের দীর্ঘ সময়ে এসব ময়লার ক্ষতি থেকে রক্ষায় ঘুমুতে যাওয়ার আগের অজু অত্যন্ত কার্যকর।
রাসুল (সা.) বলেছেন, মুমিন যখন অজুতে হাত ধুয়ে ফেলে তখন হাতের গুনাহ পড়ে যেতে থাকে। এমনকি নখের নিচ দিয়েও পড়তে থাকে। (সুনান নাসায়ি)
মানুষ প্রাত্যহিক কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে হাত। হাতে ময়লা জমে, নানাবিধ রোগের জীবাণু জমা হয়, বিভিন্ন কেমিক্যাল পুঞ্জীভূত হয়ে হাতকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। কেননা শরীরের সব অঙ্গে হাতের স্পর্শ লেগে থাকে। এর মাধ্যমে নাক-মুখ ও অন্যান্য ত্বক সহজেই জীবাণু সংক্রমণের আওতায় চলে আসে। অজুতে প্রতিদিন ১৫ বার হাত ধোয়ার ফলে এ ঝুঁকি কমে যায়। মহানবী (সা.) গুনাহ ঝরে পড়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন তাতে নখের নিচ থেকেও গুনাহ ঝরে পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা যে নখের নিচে আরো বেশি জীবাণু জন্মে। তাই নখ পরিষ্কারে বেশি যত্ন নেওয়া আবশ্যক।
মহানবী (সা.) বলেছেন, যখন মুমিন অজু করার সময় কুলি করে, তখন তার মুখের সব গুনাহ ঝরে যায়। (সুনান নাসায়ি)
অজুতে প্রতিদিন ১৫ বার কুলি করা হয়। এর দ্বারা দাঁতের ভেতরের খাদ্যকণা, মুখগহ্বরের ক্ষতিকর ময়লা ও জীবাণু বের হয়ে আসে। কুলি মুখকে পরিষ্কার করে। এটি দাঁতের রোগ থেকে রক্ষা করে। চোয়াল মজবুত করে। দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে। এর ফলে যেমন জীবিকা বৃদ্ধি পায় তেমনি ব্যক্তি টনসিলের প্রকোপ থেকে সুরক্ষিত থাকে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, মুমিন যখন অজু করার সময় নাকে পানি দেয় তখন নাকের সব গুনাহ ঝরে যায়। (সুনানে নাসায়ি)
প্রতিটি মানুষ প্রতিদিন প্রায় শত ঘনফুট বায়ু নাকের মাধ্যমে গ্রহণ করে। এ সময় বায়ুর পাশাপাশি বহু রোগ-জীবাণুও নাক দিয়ে দেহে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে যায়। অজু নাককে বাইরের ধুলা-ময়লা থেকে দেহকে সুরক্ষিত রাখায় ভূমিকা রাখে।
নবীজি (সা.) বলেছেন, মুমিন অজুতে যখন নিজের চেহারা ধুয়ে ফেলে তখন তার চেহারার গুনাহগুলো ঝরে পরে এমনকি চোখের পালকের পাপড়ি থেকেও গুনাহ বের হয়ে আসে। (সুনানে নাসায়ি)
অজুতে মুখমণ্ডল ধোয়ার কারণে চেহারায় নম্রতা ও কমনীয়তা সৃষ্টি হয়। ধুলা-ময়লার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া লোমকূপ খুলে যায়। এতে মুখমণ্ডলের ত্বকে অক্সিজেনের সরবরাহ বেড়ে যায়। চেহারা ঔজ্জ্বল্য, পূর্ণ ও আকর্ষণীয় হয়। চোখের সাদা অংশ ও মণির উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়। অজুতে দাড়ি খিলাল করতেন। চিকিতসাবিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন, এর দ্বারা বহু রকমের জীবাণু দূর হয়ে যায়। দাড়ির চুলে জমে থাকা পানি গলায় শক্তি জোগায়। এটি থাইরয়েড ও গলার রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, অজুকারী যখন মাথা মাসেহ করে, তখন তার মাথা থেকে গুনাহগুলো ঝরতে থাকে। এমনকি তার দুই কানের নিচ থেকেও। (সুনানে নাসায়ি)
অজুতে কান মাসেহ করা হয়। কানের ভেতরের দিকে ভেজা তর্জনী দ্বারা এবং বাইরের দিক আঙুল দ্বারা মাসেহ করার মাধ্যমে কানের ময়লা দূর হয়। কান নানাবিধ সংক্রামক ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকে। এর দ্বারা শ্রবণশক্তির ওপর অন্তরঙ্গ প্রভাব পড়ে। মানবদেহের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে ময়লা, কাদা, ধুলা, জীবাণু, আবর্জনা ইত্যাদি পায়ে লাগার আশঙ্কাই সবচেয়ে বেশি থাকে। নানা কারণে পায়ের সুরক্ষা আবশ্যক। প্রতিদিন পাঁচ অজুতে ভালোভাবে পা ধোয়ার কারণে পায়ের সংরক্ষণ সঠিকভাবে সম্পন্ন হতে পারে।
সূত্রঃ ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

Sunday, March 21, 2021

বয়স অনুযায়ী কতটা ঘুমোলে কমতে পারে হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি ?

 ঘুমের ধরন ও সময় যদি ঠিক থাকে, তা হলে কমতে পারে হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি। সম্প্রতি এমনই তথ্য উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়।

নানা স্বাস্থ্যসংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে কয়েক মিলিয়ন মানুষ হার্ট ফেলিওরের শিকার হন। আর এই হার্ট ফেলিওরের পিছনে অন্যতম কারণ হল ঘুমের সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে সমীক্ষার দাবি, ঠিকঠাক ঘুমের ধরন প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রায় ৪২ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয় হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি।
স্বাস্থ্যকর ঘুমের ধরন হল সারাদিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোনো, সকালে যথাসময়ে ওঠা, ইনসমনিয়া বা ঘুমের অভাবে না ভোগা। নাক ডাকা বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমোনোর অভ্যাসও স্বাস্থ্যকর নয়।
সম্প্রতি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে সমীক্ষাটি। ঘুমের সঙ্গে হার্ট ফেলিওরের এই সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে প্রায় ব্রিটেনের বায়ো ব্যাঙ্কের ৪,০৮,৮০২ জনের উপরে দীর্ঘ সমীক্ষা চলে। এঁদের বয়সসীমা ৩৭-৭৩ বছর। এর পাশাপাশি হার্ট ফেলিওরের ঘটনাগুলিকেও খতিয়ে দেখা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রায় ১০ বছর সময়কালের মধ্যে ৫,২২১ হার্ট ফেলিওরের কেস নজরে আসে।
স্বাস্থ্যকর ঘুমের অন্যতম প্যারামিটার অর্থাৎ সারাদিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোনো, সকালে যথাসময়ে ওঠা, ইনসমনিয়া বা ঘুমের অভাবে না ভোগা, নাক ডাকা, কিংবা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমোনোর অভ্যাসের বিষয়গুলি।
ঘুমের সময়কাল অনুযায়ী সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মোট তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলি হল ঘুমোনোর পর্যাপ্ত সময় অর্থাৎ ৭-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমোনো লোকজন, দিনে ৭ ঘণ্টার কম ঘুমোনো লোকজন, দিনে ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমোনো লোকজন।
সমীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, যাঁরা পর্যাপ্ত সময় ঘুমোচ্ছেন এবং যাঁদের সামগ্রিক ঘুমের ধরন যথাযথ, তাঁদের ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি। বিস্তারিত ভাবে মূল্যায়ণ করে দেখা যায়, যাঁরা সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি।
যাঁরা ৭-৮ ঘণ্টা করে ঘুমোচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি। এঁদের মধ্যে যাঁরা দিনে ঘুমোন না এবং নাক ডাকা বা ইনসমনিয়া ভোগেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি।
নিউজ১৮ Source