Sunday, September 5, 2021

আল্লাহভীরু কারা, আল কুরআন কি বলে?

মুত্তাকি হলো যাদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার ভয় আছে এবং যারা আল্লাহ তাআলার ভয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।

তাকওয়া শব্দ থেকে মুত্তাকি শব্দ থেকে এসেছে।
কুরআনে বর্ণিত আল্লাহভীরু কারা?
১. যারা অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি ঈমান আনে
আল্লাহভীরুদের প্রধান গুণ হলো তারা গায়েবি তথা অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি ঈমান আনে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা অদৃশ্যের বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদের যে জীবিকা দান করেছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৩)
২. যারা ক্ষমা করে
কারো ভুল কিংবা অপরাধের পর তাকে ক্ষমা প্রদর্শন করা ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। কোরআনে ক্ষমা করাকে মুত্তাকিদের গুণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা যদি ক্ষমা করো, তবে তা হবে তাকওয়ার নিকটবর্তী।’(সুরা বাকারা, আয়াত : ২৩৭)
৩. যারা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে
মুত্তাকিদের অন্যতম গুণ হলো তারা গুনাহ থেকে নিজেদের দূরে রাখে। যদি কখনো গুনাহে জড়িয়ে পড়ে, তারা দ্রুত তাওবা করে নিজেদের সংশোধন করে নেয়। আল্লাহ বলেন, ‘যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের ওপর শয়তানের আগমন ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে ওঠে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ২০১)
৪. যারা সত্য খুঁজে নেয়
আল্লাহভীরুরা সত্যান্বেষী হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা হলো সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই মুত্তাকি।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৩৩)
৫. যারা দান করে
মুত্তাকিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তারা সুখে-দুঃখে দান-সদকা করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘(আল্লাহভীরু তারাই) যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, আর আল্লাহ তাআলা সতকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
৬. যারা রাগ নিয়ন্ত্রণ করে
রাগ মানুষের একটি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাগ অন্যায় কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই ইসলাম মানুষকে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, আর আল্লাহ তাআলা সতকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
৭. যারা আল্লাহর আয়াতগুলোকেে সম্মান করে
মুত্তাকিরা আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান প্রদর্শন করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তা তো তার হৃদয়ের আল্লাহভীতির কারণে।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৩২)
৮. যারা ন্যায়পরায়ণ
ন্যায়পরায়ণ হওয়া এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা মুত্তাকিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ন্যায়বিচার পরিত্যাগে প্ররোচিত না করে। তোমরা সুবিচার কোরো, এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় কোরো। তোমরা যা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৮)
৯. রাত জেগে ইবাদত করে যারা
পবিত্র কোরআনে রাতের শেষাংশে ইবাদত করাকে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা অত্যন্ত ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সতপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫)
আল্লাহ আমাদের এই ৯টি গুণ ধারন করার তাওফীক দিন।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ

কল্যাণ ও ইসলাম

     আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা বলছেন:

'মানুষের কল্যাণ করুন যেভাবে আল্লাহ আপনার কল্যাণ করেন'।- আল ক্বাসাস, আয়াত-৭৭
কে আপনার অকল্যাণ সাধন করলো, কে আপনার দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ালো না, কে আপনার পেছনে শত্রুতা করেছিলো— এসবকিছুর জন্যে আপনার জীবন কিন্তু থেমে থাকেনি। সেই অকল্যাণ থেকে, সেই দুঃসময় থেকে, সেই শত্রুতা থেকে কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা আপনাকে ঠিক-ই উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন। তাই, কারো উপকার করার জন্যে 'সে আপনার জন্য কী করেছে' তা বিবেচ্য নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা আপনার জন্যে যা করেন তা-ই বিবেচ্য।
কল্যাণ নিয়ে একটি কবিতা
মেথর
কে বলে তোমারে বন্ধু, অস্পৃশ্য অশূচি?
শুচিতা ফিরিছে সদা তোমারি পিছনে;
তুমি আছ, গৃহবাসে তাই আছে রুচি,
নহিলে মানুষ বুঝি ফিরে যেত বনে।
শিশুজ্ঞানে সেবা তুমি করিতেছ সবে,
ঘুচাইছ রাত্রিদিন সর্ব ক্লেদ-গ্লানি!
ঘৃনার নাহিক কিছু স্নেহের মানবে;-
হে বন্ধু! তুমি একা জেনেছ সে বাণী!
নির্বিচারে আবর্জনা বহ অহর্নিশ,
নির্বিকার সদা শূচি তুমি গঙ্গাজল!
নীলকন্ঠ করেছেন পৃথ্বীরে নির্বিষ;
আর তুমি? তুমি তারে করেছ নির্মল।
এসো বন্ধু এসো বীর, শক্তি দাও চিতে,-
কল্যাণের কর্ম করি লাঞ্ছনা সহিতে।
সূত্র: আল কুরআন
নিজ মেধা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

ইসলাম ও গোল্ডেন রুল

 “থ্রি রুলস অব লাইফ” এবং হযরত আবু বকর (রা.)

কবিতাটি পড়া আমার ৬ ক্লাশে। কিন্তু তার অনুরণন এখনো। প্রধান শিক্ষক আবদুল বাসিত স্যার বলেছিলেন, “শিখে নাও, আরো বড় হলে জীবনে কাজে লাগাতে পারবে।”
সে কথাগুলোও ভুলিনি আজও।
কবিতাটিঃ
The Three Rules
What is the iron rule?
The rule of savage men: if evil is done unto you, evil do thou again,
This is the iron rule.
What is the silver rule?
The rule of worldly men: if good your neighbour does do you, do good to him again,
This is the silver rule.
What is the golden rule?
The rule of righteous men: if devil is done unto you, return thou good again,
This is the golden rule
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু
দূর সম্পর্কের এক দরিদ্র আত্মীয়কে আর্থিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। দারিদ্রের ভারে নুইয়ে পড়া তার জীবনের অচলাবস্থায় আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সাহায্যের অন্যতম ভরসাস্থল।
কিন্তু, যেবার 'আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ব্যাপারে মদীনার মুনাফিকেরা কুতসা রটালো, চারিত্রিক কলংকের যে অপবাদ তারা লেপ্টে দিতে চেয়েছিলো উম্মুল মুমিনীনের গায়ে, সেই ঘটনায় যুক্ত হয়ে পড়েছিলো আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই আত্মীয়ই।
ভাবুন তো— কারো দুঃখের দিনে আপনি আপনার সর্বোচ্চটা দিয়ে তার পাশে দাঁড়ান, কিন্তু দিন শেষে যদি জানতে পারেন যে সেই লোকটা আপনার মান-ইজ্জতকে দুই পয়সার দাম দেয় না, সুযোগ পেলে আপনার পিঠেও ছুরি চালাতে মরিয়া, আপনার অবস্থা তখন কেমন হবে?
আমরা হলে বলতাম— না! তোমার সাথে আর না। তোমাকে আমার চেনা হয়ে গেছে।
তাকে এতোদিন যা সাহায্য-সহযোগিতা আপনি করতেন, সব বন্ধ করে দিবেন মুহূর্তেই। আর যাই হোক— একজন বিশ্বাসঘাতকের সাথে আর কোন সম্পর্ক আপনি রাখতে পারেন না।
'আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘটনায় দূর সম্পর্কের সেই আত্মীয়ের ব্যাপারেও মুহূর্তের জন্য এভাবে ভেবেছিলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি —বললেন— 'নিয়মিতভাবে তোমাকে যে সাহায্য-সহযোগিতা আমি করতাম সেটা আজ থেকে বন্ধ করলাম। আমার কন্যার ব্যাপারে যে লোক এতোটা অপবাদ দিতে পারে, তার জন্য আমার কোন দয়া থাকতে পারে না'।
একজন মানুষ হিসেবে, একজন বাবা হিশেবে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই চিন্তাটা খুব-ই স্বাভাবিক। আপনি বা আমি হলেও এর ব্যতিক্রম চিন্তা কখনোই করতে পারতাম না। কিন্তু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই চিন্তাটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা পছন্দ করলেন না। কেউ একজন অন্যায় করেছে বলে, সেই অন্যায়ের পই পই হিসেব করে, তার সাথে যাবতীয় সম্পর্ক আপনি ছিন্ন করে আসবেন, দুঃসময়ে তাকে দিয়ে আসা সাহায্য-সহযোগিতা বন্ধ করে দিবেন— এমনটা করবার ব্যাপারে ইসলাম আপনাকে উতসাহিত করে না। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এমন সিদ্ধান্তের বিপরীতে, তাকে সতর্ক করে দিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা কুরআনে আয়াত নাযিল করলেন:
'তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন, মিসকীন এবং আল্লাহর পথে হিজরাতকারীদেরকে সাহায্য করবে না। তারা যেন তাদেরকে ক্ষমা করে ও তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি উপেক্ষা করে। তোমরা কি পছন্দ কর না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিক? আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।'- আন নূর, আয়াত-২২
ইসলাম - সে তো পরশ-মানিক তাকে কে
পেয়েছে খুঁজি?
পরশে তাহার সোনা হল যারা তাদেরেই মোরা
বুঝি।
উমর ফারুক কবিতাংশ ( কাজী নজরুল ইসলাম)
সূত্র:
আল কুরআন
নিজ মেমোরী
আরিফ আজাদ, FB Friend
কাজী নজরুল ইসলাম

Thursday, August 26, 2021

এসো আল্লাহর সাথে সখ্যতা স্থাপন করি। GET CONNECTED WITH ALLAH

 

GET CONNECTED WITH ALLAH

এসো আল্লাহর সাথে সখ্যতা স্থাপন করি।

6 STEPS

কিভাবে: ৬ স্টেপ

1. DUA OR SUPPLICATION

দোয়ার মাধ্যমে

REMEMBER ALLAH, ASK FROM ALLAH, BECOME A FRIEND OF ALLAH

আল্লাহকে স্মরণ করা, আল্লাহ কাছে চাওয়া, আল্লাহর ওলী (বন্ধু) হওয়া 

2. STAY AWAY FROM POISONS

বিষ থেকে বিষময় পরিবেশ থেকে দূরে থাকা

POISONS ARE EVERYTHING THAT DISPLEASES ALLAH, STAY AWAY FROM SUCH ACTIONS, GAIN ALLAH’S HAPPINESS

বিষ হলো সেগুলো যেগুলো আল্লাহকে অখুশী করে। এসব কাজ থেকে সরে আসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা

3. 99 NAMES OF ALLAH

LEARN UNDERTAND AND RAISE THE QUALITY AND CHARACTERISTIS OF ALLAH

আল্লাহর ৯৯ নাম অর্থসহ জানা। একেবারে মুখস্ত করে ফেলা। আল্লাহর নামের গুনবাচক দিক জানা ও আল্লাহর বৈশিষ্টগুলো জানা  

4. REMEMBER ALLAH

ENGAGE IN ZIKR (DHIKR) AND PRAISES OF ALLAH, SAY ASTAGFIRULLAH A LOT TO REASE YOUR SINS, SAY ALHAMDULILLAH SO THAT ALLAH WILL GIVE YOU MORE REWARDS

আল্লাহকে স্মরণ করা

জিকরের মাধ্যমে আল্লাহর বড়ত্ব জাহির করা। পাপ মোচনের জন্য অধিক “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়া। সাওয়াবের পত্যাশায় বেশী বেশী “আলহামদুলিল্লাহ”, সুরা ফাতিহা পড়া  

5. FOLLOW THE SUNNAH

FOLLOW THE SUNNAH AND AND BE AT THE PROXIMITY OF ALLAH

সুন্নাত পালনের দিকে ঝুঁকে থাকা। এতে আল্লাহ সান্নিধ্য পাওয়া যায় ও রাসুলের অনুসরণ করা সহজ হয়  

6. STAY CONNECTED WITH AL QURAN

RECITE, UNDERSTAND AND MOST IMPORTANTLY ACT IN ACCORDANCE WITH THE QURAN

আল কুরআনের সাথে কানেকশন রাখা। আল কুরআন বুঝে পড়া, আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা জানা, আল কুরআন মানা ও সে অনুসারে আল কুরআনকে ব্যবহারিক জীবনে, বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো।

FINALLY:

SEEK KNOWLEDGE, REMEMBER ALLAH, TURN TO ALLAH, REMAIN IN ALLAH’S OBEDIENCE, UNDERSTAND WHO ALLAH IS, PRAISE ALLAH, UNDERSTAND THE QURAN.

সবশেষেঃ জ্ঞান অন্বেষণ করা, আল্লাহকে স্মরণে রাখা, আল্লাহর দিকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখা, আল্লাহ যা যা চান তা পরিপালন করা, আল্লাহর অস্তিত্ব বিষয়ে জানা, আল্লাহর প্রশংসা করা, আল কুরআনকে ধারন করা।  

INSHA ALLAH YOU WILL BE AT THE PROXIMITY 0F ALLAH.

এ কাজগুলো সঠিকভাবে করা হলে বা করা গেলে ইন শা আল্লাহ, আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া সহজতর হবে।

সূত্র: https://www.pinterest.com/pin/15762667416866620: https://productivemuslim.com/

Monday, August 9, 2021

হিসাব-নিকাশ

 হিসাব-নিকাশ

Accountability and Clearance
কেমন করে হিসাব দেবো
নিকাশ যদি চায়!
দিন ফুরায়ে যায়রে আমার
দিন ফুরায়ে যায়!!
পাপ করেই চলেছি অথচ শিউরে উঠিনা,
আমি কি পাষান?
আশা ও নিরাশার দোলাচলে মানুষ
কুরআনের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক ও হতাশাব্যঞ্জক আয়াত- শিউরে ওঠার মত।
আমিরুল মুমীনিন, খলিফাতুল মুসলীমিন, চিরধারী সম্রাট হজরত উমার ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু, এই উমরের কতটুকু জানি আমরা, অনেক কিছুই জানি না।
হজর‍ত উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু অন্ধকারে একদিকে যাচ্ছিলেন। পিছনে কিছু লোক ছিল। হঠাত করে তিনি প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা- তোমাদের মধ্যে কেউ কি বলতে পারো?-কুরানে কারীমের মধ্যে সব থেকে হতাশা ব্যঞ্জক আয়াত কোনটি?
অন্ধকারের ভিতরে একজন জবাব দিলেন, (ফা মাই ইয়ামাল মিস কালা জাররাতিন খইরাই ইয়ারাহ, ওয়ামাই ইয়ামাল মিস কালা জাররাতিন শাররাই ইয়ারাহ)
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ
وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
Famaiy ya'mal mithqala zarratin khai raiy-yarah
Wa maiy-y'amal mithqala zarratin sharraiy-yarah
সুরা যিলযাল,আয়াত-৭,৮)
এর অর্থ হল-যদি কেউ জাররাহ (সরিষা) পরিমান ভালো কাজ করে কিয়ামতে সে তা দেখতে পাবে, আর যদি সামান্য সরিষা পরিমান গুনাহর কাজ করে, সে তা দেখতে পাবে।
এই আয়াতটি যখন নাযিল হয়, হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাযিয়াল্লাহু আনহু তিনি আল্লাহর রসুলকে প্রশ্ন করলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ, আল্লাহ যে আয়াত নাযিল করলেন, কিয়ামতের দিন আমি কি আমার ছোট্ট পাপ কি দেখতে পাবো? আল্লাহর নবী বললেন, আল্লাহ বলেছেন অবশ্যই তা দেখতে পাবে। হজরত আবু সাইদ খুদরি রাযিয়াল্লাহু আনহু চিতকার করে কেঁদে উঠলেন আর বললেন তাহলে তো আমি মরেই যাবো, (আমার ছোট্ট পাপ তাও যদি আমি দেখি কিয়ামতে তাহলে আমি তো মরে যাবো)
হজরত উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু অন্ধকারের ভিতরে হাঁটছেন, আর কাঁদছেন, কিছু দূর অগ্রসর হয়ে তিনি আবার প্রশ্ন করলেন?
আচ্ছা কেউ কি বলতে পারো, কুরানে কারীমের মধ্যে আশাব্যঞ্জক আয়াত কোনটি?
পিছন থেকে অন্ধকারের ভিতর থেকে আওয়াজ এল -قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّ ( 'কুল ইয়া ‘ইবাদিয়াল লাজিনা আসরাফু আলা আনফুছিকুম, লা-তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ। Qul yaa'ibaadiyal lazeena asrafoo 'alaaa anfusihim laa taqnatoo mirrahmatil laah)
এর অর্থ হল- বলে দিন ওহে আমার বান্দারা তোমরা যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ তারা আল্লাহর রহমত প্রাপ্তি থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করবেন, তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু [সূরা আল-যুমার ৫৩]
হজরত উমার কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আছে না কি?
হজর‍ত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বললেন, আমি তো বললাম, আমি তো জবাব দিলাম।
--------------------------------------------------------------------------রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জনৈক লোক যে জীবনে কক্ষনো কোন প্রকার সাওয়াবের কাজ করেনি, যখন সে মারা যাবে তার পরিবার পরিজনকে ডেকে বলল, মৃত্যুর পর তোমরা তাকে পুড়ে ফেলবে সেটার অর্ধেক স্থলভাগে বাতাসে উড়িয়ে দিবে এবং অর্ধেক পানিতে নিক্ষেপ করবে। কারণ আল্লাহর কসম! আমাকে যদি আল্লাহ পুনঃ একত্রিত করতে পারেন তাহলে তিনি আমাকে অবশ্যই এমন ‘আযাব দিবেন, যা পৃথিবীর অন্য কাউকে কখনো দেননি।
তারপর লোকটি যখন ইন্তিকাল করল তখন তার পরিবারের লোকেরা তার নির্দেশ অনুযায়ী তদ্রূপ করল। তখন আল্লাহ তা‘আলা স্থলভাগকে আদেশ দিলেন সে তার মধ্যস্থিত যা কিছু আছে (ছাই) একত্রিত করলো। এরপর পানিতে মিশ্রিত ভাগকে নির্দেশ দিলেন। সেও তার মধ্যস্থিত সব কিছু একত্রিত করে দিল। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি এমনটি কেন করলে? সে বলল, হে আমার রব! আপনার ভয়ে। আপনি তো সর্বজ্ঞ। তখন আল্লাহ তা‘আলা সদয় হয়ে তাকে মাফ করে দিলেন। (সহিহ মুসলিম, ই.ফা. ৬৭২৭, ই.সে. ৬৭৮২)
আসুন ক্ষমা চাই তাঁর কাছেই। তিনি দুয়ার খুলে রয়েছেন সব সময়। সে দুয়ার ককখোনো বন্ধ হয় না।

Monday, July 12, 2021

রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর মুবারক চেহারা

 যে ছবি আঁকা যায়না

হালকা গড়ন, চওড়া কাঁধ, প্রশস্ত বক্ষ, সবল মেরুদন্ড ও সুদৃঢ় পেশী, স্বাস্থ্যবান, শক্তিশালী, সুঠাম ও সুন্দর দেহ। মাঝারি উচ্চতা, ঈষত
কোঁকড়ানো ঘন কালো চুল গুচ্ছাকারে প্রায় কাঁধ পর্যন্ত ছুঁয়ে থাকতো। পরিণত বয়সেও মাত্র গোটা বিশেক পাকা চুল দেখা গেছে। মুখমন্ডল ছিল ডিম্বাকার। প্রশস্ত ও উঁচু কপালের নীচে সুন্দর, সুদীর্ঘ বাঁকানো ভ্রুযুগল। গভীর কালো চোখ দুটো টানা দীপ্তিময়। নাক বড় আকারের ঈগল পাখীর ঠোঁটের মত। তাঁর বাঁকানো দাঁত ছিল সুগঠিত আর ঝকঝকে সাদা। মুখ ভর্তি পৌরুষদীপ্ত শ্মশ্রু। গায়ের ত্বক ছিল স্বচ্ছ ও কোমল; রঙ উজ্বল রক্তিমাভ গোলাপী। ঘাম দেখা দিলে তা মুক্তোর মত আভা ছড়াতো। হাত দুটো ছিল রেশম কোমল। মোলায়েম। পদক্ষেপ ছিল দৃঢ় ও স্প্রিংয়ের মত স্থিতিস্থাপক। যখন হাঁটতেন তখন মনে হতো তিনি কোন উঁচু জায়গা থেকে নীচে নামছেন। মুখ ঘুরাবার সময় গোটা শরীর ঘুরাতেন। তাঁকে দেখে মনে হতো চিন্তাশীল, ধ্যানমগ্ন এবং গম্ভীর; একই সঙ্গে সদা সচেতন। তিনি হাসতেন কিন্তু সেই হাসি কখনো মুচকি হাসির সীমা ছাড়িয়ে যেত না।
সূত্রঃ
-দ্য বেনিফ্যাক্টর থেকেঃ লেখকঃ সৈয়দ ওয়াহিদ উদ্দিন,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রিয় নবী (সা.)-এর দৈহিক গঠন, হাদিসের আলোকে
চেহারা
প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর মানুষ। যাঁর সৌন্দর্যের কাছে আকাশের চাঁদও হার মানত। আবদুল্লাহ ইবনে কাআব (রহ.) বলেন, ‘আমি আমার পিতা কাআব ইবনে মালিক (রা.)-কে তাঁর তাবুক যুদ্ধে না যাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে সালাম করলাম, খুশি ও আনন্দে তাঁর চেহারা ঝলমল করে উঠল। তাঁর চেহারা আনন্দে এমনই উদ্বেল থাকতো, মনে হতো যেন চাঁদের একটি টুকরো। তাঁর মুখমণ্ডলের এ অবস্থা থেকে আমরা তা বুঝতে পারতাম।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫৫৬)। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর দুই পা ছিল মাংসপূর্ণ। চেহারা ছিল সুন্দর। আমি তাঁর পরে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯০৯)
যে নবীর সঙ্গে রাসুল (সা.)-এর চেহারায় মিল ছিল
রাসুল (সা.)-এর চেহারা মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে মিল ছিল।
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেছেন, মিরাজের রাতে আমার সম্মুখে নবীদের হাজির করা হয়। সে সময় মুসা (আ.)-কে আমি দেখলাম, তিনি যেন শানুআহ গোত্রের একজন পুরুষ। আমি ঈসা ইবনে মারিয়াম (আ.)-কেও লক্ষ্য করেছি, আমার দেখা লোকদের মাঝে তিনি উরওয়াহ ইবনে মাসউদের মতো।
আমি ইবরাহিম (আ.)-কেও লক্ষ্য করেছি, আমার দেখা লোকদের মাঝে তিনি তোমাদের বন্ধুর মতো, অর্থাত আমার মতো। জিবরাঈল (আ.)-কেও আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি আমার দেখা লোকদের মাঝে দিহয়া ইবনে খলিফা আল ক্বালবির মতো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৪৯)
উচ্চতা
উচ্চতার দিক থেকে তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের। বেশি লম্বাও না, আবার একদম খাটো না। যে উচ্চতা ও শারীরিক গঠন একজন মানুষকে আকর্ষণীয় করে তোলে, তিনি ছিলেন ঠিক সেই গঠনেরই। বারাআ ইবনে আজিব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ছিলেন মাঝারি গড়নের। (বুখারি, হাদিস : ৩৫৫১)
চোখ
তাঁর চোখ দুটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর। একজন বীরপুরুষের চোখ যেমন হওয়া প্রয়োজন ঠিক তেমনই। তাঁর চোখের শুভ্রাংশের রক্তিমতা তাঁর চোখের সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল।
জাবির ইবনে সামুরাহ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর মুখ ছিল বেশ দীর্ঘ (প্রশস্ত), চোখ দুটি ছিল লাল (শুভ্রাংশে রক্তিমতা ছিল) এবং পায়ের জঙ্ঘা ছিল শীর্ণকায়। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৪৬)
দাড়ি
জাবির ইবনে সামুরাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল এবং দাড়ির সামনের অংশ সাদা হয়ে গিয়েছিল। তিনি যখন তেল দিতেন (সাদা) চুল তখন দেখা যেত না, আর যখন চুল অগোছালো হতো তখন দেখা যেত। তাঁর দাড়ি প্রচুর ঘন ছিল। জনৈক লোক বলল, তাঁর চেহারা ছিল তরবারির মতো। জাবির (রা.) বলেন, না, তাঁর চেহারা ছিল সূর্য ও চন্দ্রের মতো (উজ্জ্বল) গোলাকার। আমি তাঁর পিঠের উপরিভাগে কবুতরের ডিমসদৃশ নবুয়তের মোহর দেখেছি। এটির রং ছিল তাঁর গায়ের রঙের মতো। (মুসলিম, হাদিস : ৫৯৭৮)
হাত
তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর দেহের অধিকারী। তাঁর হাতগুলো ছিল গোশতে ভরপুর। সুঠাম বাহু ও হাত পাওয়ার জন্য মানুষকে যেমন বছরের পর বছর জিম করতে হয়, নবী (সা.) সৃষ্টিগতভাবেই ছিলেন এর চেয়ে বেশি সুন্দর দেহের অধিকারী। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর হাত গোশতে পূর্ণ ছিল। তাঁর পরে আমি কোনো লোককে এমন দেখিনি। আর রাসুল (সা.)-এর চুল ছিল মাঝারি ধরনের, অধিক কোঁকড়ানোও না, অধিক সোজাও না। (বুখারি, হাদিস : ৫৯০৬)
তাঁর হাতের পেশিগুলো দেখে শক্তপোক্ত মনে হলেও সেগুলো ছিল অত্যন্ত নরম। নবীজির সেবক আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ছিলেন শুভ্র উজ্জ্বল বর্ণের। তাঁর ঘাম যেন মুক্তার মতো। তিনি চলার সময় সম্মুখপানে ঝুঁকে চলতেন। আমি নরম কাপড় বা রেশমকেও তাঁর হাতের তালুর মতো নরম পাইনি এবং মিশক ও আম্বরের মধ্যেও রাসুল (সা.)-এর শরীরের চেয়ে অধিক সুগন্ধ পাইনি। (মুসলিম, হাদিস : ৫৯৪৮)
পা
হাতের মতো তাঁর পাও ছিল সুন্দর। তাঁর মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো দেহই যেমনটা মানানসই হওয়া প্রয়োজন, ঠিক তেমনই ছিল। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর মাথা ও দুই পা ছিল মাংসপূর্ণ। তাঁর আগে ও তাঁর পরে আমি তাঁর মতো অন্য (কাউকে অধিক সুন্দর) দেখিনি। তাঁর হাতের তালু ছিল চওড়া। (বুখারি, হাদিস : ৫৯০৭)
-সূত্র: মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

Sunday, July 4, 2021

ভালো ভালো কথাগুলো কারো কারো উপকারে আসতে পারে

 ১. ত্রুটি খোঁজা

যা তুমি বোঝোনা
তার ভেতরে দোষ খুঁজবেনা।
-ফরাসী প্রবাদ
২. যুক্তি তক্ক আলোচনা
যুক্তি তক্ক বা আলোচনা যেনো সবসময়্ হয়
উন্নয়নের জন্য
জেতার জন্য যেনো না হয় কখনো।
-হেটেরোডক্সাসকোটস
৩. পরিপক্কতা
পরিপক্কতা হলো সেই মানুষ, সেই অবস্থা থেকে সরে যাওয়া যা তোমার
মনের শান্তি,
তোমার আত্ম-মর্যাদা,
মূল্যবোধ,
নৈতিকতা
হুমকীর মুখে ঠেলে দেয়।
৪. কথা বলা
কাউকে কোন কথা বলবার আগে
অবশ্যই চিন্তা করে নেবে
ঠিক ওই কথাটি যদি আমাকে বলা হতো
তা হলে আমার কি মনে হতো।
৫. ভাল কথাগুলোঃ
সুখ তোমাকে সুমিষ্ট রাখবে
পরীক্ষা তোমাকে শক্ত করবে
দুঃখ তোমাকে মানবিক করবে
ব্যর্থতা তোমাকে বিনয়ী করবে
সাহস তোমাকে চলমান রাখবে।
-অ্যাবাউট মি অ্যান্ড হোয়াই কোটস
৬.
Words to Live By
জ্ঞান হলো কি বলতে হবে সেটা ভাল করে জানা
প্রজ্ঞা হলো কি বলতে হবে বা বলতে হবে না
সেটা বুঝতে পারা।
৭. The Power of Self Talk
প্রত্যেক ইতিবাচক চিন্তা
এক একটি নীরব প্রার্থনা
যা মানুষের যাপিত-জীবন বদলে দিতে সক্ষম।
৮. অ্যামেজিংমুভমেন্ট
আমি যদি নিজের কাছেই ভাল না হই
তাহলে অন্য মানুষ আমার কাছে ভাল হবে-
এটা কিভাবে আশা করতে পারি?
৯. Leadership Masterclass
ভেঙ্গে পড়ার পর যে নারী
নিজেকে সামলে নিয়েছে
সে নারী বিলক্ষণ শক্তিশালী।