Monday, October 11, 2021

Palindrome- স্মৃতির জাবর কেটে কেটে শেখা

 স্মৃতির জাবর কেটে কেটে শেখা -Palindrome

জানি কিন্তু জানি না।
আমি Palindrome নিয়ে ২৭.০৯.২০২১এ একটি প্রশ্ন করেছিলাম বন্ধুদের বেশ ক’দিন আগে। একমাত্র আশরাফ ভাই লিখেছিলেন, “অনেক অজানার মধ্যে ওরাও আছে।” আর কেউই জবাব দেন নি।
সোনালী ব্যাংক অসবোর্ন স্ট্রিট লন্ডন, ইউ.কে শাখায় পোষ্টিঙয়ের সুবাদে সেখানকার বাংলাদেশী মানুষদের সাথে নিবিড় সখ্যতা গড়ে উঠেছিল সেই ১৯৯২-৯৪এ। এরকম একজন বন্ধু আমার প্রিয় মুহিব উল্যাহ ভাই। তার প্রতিষ্ঠানের নাম “জম জম” ইন্টারন্যাশনাল। ব্রিক লেন মসজিদের লাগোয়া এই সুপরিচিত বিজিনেস সেন্টার। এখনো তার খোঁজখবর পাই। একদিন এক মজার ঘটনা ঘটে “জম জম” ইন্টারন্যাশনালে।
মুহিব উল্যাহ ভাই বল্লেন, আপনাকে বলতেই হবে যে “ব্যস্ত” কথাটার আরবী কি। পরক্ষণই তিনি বল্লেন যে আমি জানি আপনি এটা জানেন আর আপনি এটা জানেন না। দুটোই। কেমন দোটানায় পড়লাম। আমার [নেশার লাটিম ঝিম ধরা] দেখে খানিকক্ষণ চুপ থাকার পর মুহিব উল্যাহ ভাই বল্লেন, “ব্যস্ত” শব্দটির আরবী হলো, “মশগুল।” আমি বল্লাম আমি তো এটা জানি। উনি বল্লেন, আমি তো সেটা আগেই বলেছিলাম যে আপনি এটা জানেন। ২ জনই হাসলাম খানিকক্ষণ।
যা হোক মূল প্রসংগে আসি।
আমরা বাঙলায় অনেক বাক্য বা শব্দ ব্যবহার করি যা ডান দিক থেকে পড়লে যা হয় ঠিক বাম থেকে ডাইনে পড়লেও তেমনিই হয়- কোন বদল নেই। যেমন-“কটক” বা “রমা কান্ত কামার”বা “কথক”-ইত্যাদি। এ শব্দ বা বাক্যের নাম কি? কেউ জানেন? না জানলে আমি বলে দিচ্ছি।
এ ধরনের বাক্য বা শব্দের নাম হলো Palindrome.
গুগল বাবাজি বলছেন, “যে শব্দ কবিতা প্রভৃতি উলটা করিয়া পড়িলেও একই থাকে।”
প্যালিনড্রোম হল এমন কিছু বিশেষ শব্দ আর সংখ্যা যার আরম্ভ বা শেষ দু’দিক থেকেই পড়লে শব্দের উচ্চারণ আর অর্থের কোন বদল হয় না; বা সংখ্যার মান একই থাকে। মূল গ্রীক শব্দ প্যালিনড্রোমাস থেকে ইংরেজি প্যালিনড্রোম শব্দটি এসেছে।
A palindrome is a word, number, phrase, or other sequence of characters which reads the same backward as forward, such as madam or racecar.
Greek roots-palin অর্থ 'again' আর drome বা dromous অর্থ 'way, direction'
Henry Peacham নামের ভদ্রলোক ১৬৩৮ সালে ইংরেজী ভাষায় palindrome প্রবর্তন করেন।
উদাহরণ দিচ্ছি:
A nut for a jar of tuna.
রমাকান্ত কামার
কটক
কথক
Al lets Della call Ed “Stella.”
Borrow or rob?
Was it a car or a cat I saw?
Madam, in Eden, I’m Adam.
Murder for a jar of red rum.
Do geese see God?
Radar
Rotator
11/11/11 11:11
02/02/2020
NEVER OD OR EVEN
Step on no pets
The longest palindrome in use today is said to be the 19-letter Finnish word ”saippuakivikauppias”, which means soapstone vendor.
আপনাদের কারো হাস্যরসের উদ্রেক হলে জানাবেন আর বিরক্তি জাগলেও।
আমি মনে করছি আমার বড় নাতনী কানাডা প্রবাসী “চারু ভাই”- আমার পোষ্টটি পছন্দ করবে।
সূত্র:
রিডার্স ডাইজেস্ট সেপ্টেম্বর ২০২১
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
গুগল
Merriam-Webster ডিকশনারী

Tuesday, September 28, 2021

মহাযুদ্ধের কথা


মহাযুদ্ধের কথা

না! এ যুদ্ধে নেমে কোন হতাশা নয়

আল কুরআন কি বলে?
১. হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে বিভ্ৰান্ত করল?
یٰۤاَیُّهَا الۡاِنۡسَانُ مَا غَرَّکَ بِرَبِّکَ الۡکَرِیۡمِ
O mankind, what has deceived you concerning your Lord, the Generous
কোন্ বস্তু তোমাকে ধোঁকা ও প্রতারণায় ফেলে রেখেছে? যার কারণে তুমি সেই প্রভুকে অস্বীকার করেছ; যিনি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তোমাকে অস্তিত্ব প্রদান করেছেন, তোমাকে জ্ঞান ও সমঝ-বুঝ দান করেছেন, জীবন-যাপন করার জন্য নানান উপকরণ দিয়েছেন।
-সূরা আল-ইনফিতার | Al-Infitar | سورة الإنفطار - আয়াতঃ ৬
২.
أَفَرَأَيْتُم مَّا تُمْنُونَ
أَأَنتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ
তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছো, যে শুক্র তোমরা নিক্ষেপ করো
তা দ্বারা সন্তান সৃষ্টি তোমরা করো, না তার স্রষ্টা আমি?
Afara'aytum maa tumnoon
'A-antum takhluqoo nahooo am nahnul khaaliqoon
(সূরা আল ওয়াক্কিয়াহ, আয়াত ৫৮-৫৯)
৩. فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ مِمَّ خُلِقَ
خُلِقَ مِن مَّاءٍ دَافِقٍ
يَخْرُجُ مِن بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ
Fal yanzuril insaanu mimma khuliq
Khuliqa mim maaa'in daafiq
Yakhruju mim bainissulbi wat taraaa'ib
কাজেই মানুষ একবার এটাই দেখে নিক কী জিনিস থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে !
তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রবলবেগে নিঃসৃত পানি থেকে
যা পিঠ ও বুকের হাড়ের মাঝখান দিয়ে বের হয়৷
(সূরা আত তারিক আয়াত ৫-৭)
মানব জন্ম বিষয়ে আল কুরআন কতটা স্পষ্ট-ভাবা যায় কি?
বিজ্ঞান বলে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ্য পুরুষ একবার সহবাস করলে যে পরিমান বীর্য নির্গত হয় তাতে ৪০ কোটি শুক্রাণু থাকে। তো, লজিক অনুযায়ি মেয়েদের গর্ভে যদি সেই পরিমান শুক্রানু স্থান পেতো তাহলে ৪০ কোটি বাচ্চা তৈরি হতো। এই ৪০ কোটি শুক্রাণু মায়ের জরায়ুর দিকে পাগলের মত ছুটতে থাকে, জীবিত থাকে মাত্র ৩০০-৫০০ শুক্রাণু। আর বাকিরা? এই ছুটে চলার পথে ক্লান্ত অথবা পরাজিত হয়ে মারা যায়। এই ৩০০-৫০০ শুক্রাণু যেগুলো ডিম্বানুর কাছে যেতে পেরেছে, তাদের মধ্যে মাত্র একটি মহাশক্তিশালী শুক্রাণু ডিম্বানুকে Fertilize বা নিষিক্ত করে বা ডিম্বানুতে আসন গ্রহন করে। সেই ভাগ্যবান শুক্রাণুটি হচ্ছে আপনি কিংবা আমি বা আমরা সবাই।
কখনও কি এই মহাযুদ্ধের কথা মাথায় এনেছি আমরা?
❒ আপনি যখন দৌড় দিয়েছিলেন- তখন ছিলনা কোন চোখ, হাত, পা, মাথা, ছিল চলার জন্য কেবল একটি লাঙ্গুল বা লেজ। তবুও আপনি জিতেছিলেন।
❒ আপনি যখন দৌড় দিয়েছিলেন- তখন আপনার ছিলনা কোন সার্টিফিকেট, ছিলনা মগজ বা ঘিলু তবুও আপনি জিতেছিলেন।
❒ আপনি যখন দৌড় দিয়েছিলেন- তখন আপনার ছিলনা কোন শিক্ষা, কেউ সাহায্য করেনি তবুও আপনি জিতেছিলেন।
❒ আপনি যখন দৌড় দিয়েছিলেন- তখন আপনার একটি গন্তব্য ছিল এবং সেই গন্তব্যের দিকে উদ্দেশ্য ঠিক রেখে একা একাগ্র চিত্তে দৌড় দিয়েছিলেন এবং শেষ অবধি আপনিই জিতেছিলেন।
-এরপর?
❒ বহু বাচ্চা মায়ের পেটেই নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু আপনি মারা যাননি, পুরো ১০ টি মাস পূর্ণ করতে পেরেছেন। ত্রুটিহীনভাবে জন্ম নিয়েছেন।
❒ বহু বাচ্চা জন্মের সময় মারা যায় কিন্তু আপনি টিকেছিলেন।
❒ বহু বাচ্চা জন্মের প্রথম ৫ বছরেই মারা যায় কিন্তু আপনি এখনো বেঁচে আছেন।
❒ অনেক শিশু অপুষ্টিতে মারা যায় কিন্তু আপনার কিছুই হয়নি।
❒ বড় হওয়ার পথে অনেকেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে কিন্তু আপনি এখনো আছেন।
-আর আজ?
আপনি কিছু একটা হলেই ঘাবড়ে যান,
নিরাশ হয়ে পড়েন,
কিন্তু কেন?
কেনো ভাবছেন আপনি হেরে গিয়েছেন?
কেন আপনি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন?
এখন আপনার বন্ধু বান্ধব, ভাই বোন, সার্টিফিকেট, সবকিছু আছে,
হাত-পা আছে,
শিক্ষা আছে,
প্ল্যান করার মগজ আছে,
সাহায্য করার মানুষ আছে,
তবুও আপনি আশা হারিয়ে ফেলেছেন।
যখন আপনি জীবনের প্রথম দিন থেকেই হার মানেননি। ৪০ কোটি শুক্রাণুর সাথে মরণপণ যুদ্ধ করে ক্রমাগত দৌড় দিয়ে কারও সাহায্য ছাড়াই চরম এক প্রতিযোগিতায় একাই বিজয়ী হয়েছেন।
-তাহলে হতাশা কেনো?
দীর্ঘ পথ দেখে পথিক যদি পথ চলা বন্ধ করে দেয় তাহলে তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা আর পূরণ হয় না। উপযুক্ত উদ্যম ও পরিশ্রম ছাড়া জীবনের বাঞ্ছিত লক্ষ্যে পৌঁছানোও সম্ভব নয়।
Sources:
-আল কুরআন
-নিজ পাঠ, পোষ্ট গ্রাজুয়েট লেভেলের

Sunday, September 5, 2021

আল্লাহভীরু কারা, আল কুরআন কি বলে?

মুত্তাকি হলো যাদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার ভয় আছে এবং যারা আল্লাহ তাআলার ভয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।

তাকওয়া শব্দ থেকে মুত্তাকি শব্দ থেকে এসেছে।
কুরআনে বর্ণিত আল্লাহভীরু কারা?
১. যারা অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি ঈমান আনে
আল্লাহভীরুদের প্রধান গুণ হলো তারা গায়েবি তথা অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি ঈমান আনে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা অদৃশ্যের বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদের যে জীবিকা দান করেছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৩)
২. যারা ক্ষমা করে
কারো ভুল কিংবা অপরাধের পর তাকে ক্ষমা প্রদর্শন করা ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। কোরআনে ক্ষমা করাকে মুত্তাকিদের গুণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা যদি ক্ষমা করো, তবে তা হবে তাকওয়ার নিকটবর্তী।’(সুরা বাকারা, আয়াত : ২৩৭)
৩. যারা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে
মুত্তাকিদের অন্যতম গুণ হলো তারা গুনাহ থেকে নিজেদের দূরে রাখে। যদি কখনো গুনাহে জড়িয়ে পড়ে, তারা দ্রুত তাওবা করে নিজেদের সংশোধন করে নেয়। আল্লাহ বলেন, ‘যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের ওপর শয়তানের আগমন ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে ওঠে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ২০১)
৪. যারা সত্য খুঁজে নেয়
আল্লাহভীরুরা সত্যান্বেষী হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা হলো সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই মুত্তাকি।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৩৩)
৫. যারা দান করে
মুত্তাকিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তারা সুখে-দুঃখে দান-সদকা করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘(আল্লাহভীরু তারাই) যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, আর আল্লাহ তাআলা সতকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
৬. যারা রাগ নিয়ন্ত্রণ করে
রাগ মানুষের একটি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাগ অন্যায় কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই ইসলাম মানুষকে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, আর আল্লাহ তাআলা সতকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
৭. যারা আল্লাহর আয়াতগুলোকেে সম্মান করে
মুত্তাকিরা আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান প্রদর্শন করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তা তো তার হৃদয়ের আল্লাহভীতির কারণে।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৩২)
৮. যারা ন্যায়পরায়ণ
ন্যায়পরায়ণ হওয়া এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা মুত্তাকিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ন্যায়বিচার পরিত্যাগে প্ররোচিত না করে। তোমরা সুবিচার কোরো, এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় কোরো। তোমরা যা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৮)
৯. রাত জেগে ইবাদত করে যারা
পবিত্র কোরআনে রাতের শেষাংশে ইবাদত করাকে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা অত্যন্ত ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সতপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫)
আল্লাহ আমাদের এই ৯টি গুণ ধারন করার তাওফীক দিন।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ

কল্যাণ ও ইসলাম

     আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা বলছেন:

'মানুষের কল্যাণ করুন যেভাবে আল্লাহ আপনার কল্যাণ করেন'।- আল ক্বাসাস, আয়াত-৭৭
কে আপনার অকল্যাণ সাধন করলো, কে আপনার দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ালো না, কে আপনার পেছনে শত্রুতা করেছিলো— এসবকিছুর জন্যে আপনার জীবন কিন্তু থেমে থাকেনি। সেই অকল্যাণ থেকে, সেই দুঃসময় থেকে, সেই শত্রুতা থেকে কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা আপনাকে ঠিক-ই উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন। তাই, কারো উপকার করার জন্যে 'সে আপনার জন্য কী করেছে' তা বিবেচ্য নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা আপনার জন্যে যা করেন তা-ই বিবেচ্য।
কল্যাণ নিয়ে একটি কবিতা
মেথর
কে বলে তোমারে বন্ধু, অস্পৃশ্য অশূচি?
শুচিতা ফিরিছে সদা তোমারি পিছনে;
তুমি আছ, গৃহবাসে তাই আছে রুচি,
নহিলে মানুষ বুঝি ফিরে যেত বনে।
শিশুজ্ঞানে সেবা তুমি করিতেছ সবে,
ঘুচাইছ রাত্রিদিন সর্ব ক্লেদ-গ্লানি!
ঘৃনার নাহিক কিছু স্নেহের মানবে;-
হে বন্ধু! তুমি একা জেনেছ সে বাণী!
নির্বিচারে আবর্জনা বহ অহর্নিশ,
নির্বিকার সদা শূচি তুমি গঙ্গাজল!
নীলকন্ঠ করেছেন পৃথ্বীরে নির্বিষ;
আর তুমি? তুমি তারে করেছ নির্মল।
এসো বন্ধু এসো বীর, শক্তি দাও চিতে,-
কল্যাণের কর্ম করি লাঞ্ছনা সহিতে।
সূত্র: আল কুরআন
নিজ মেধা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

ইসলাম ও গোল্ডেন রুল

 “থ্রি রুলস অব লাইফ” এবং হযরত আবু বকর (রা.)

কবিতাটি পড়া আমার ৬ ক্লাশে। কিন্তু তার অনুরণন এখনো। প্রধান শিক্ষক আবদুল বাসিত স্যার বলেছিলেন, “শিখে নাও, আরো বড় হলে জীবনে কাজে লাগাতে পারবে।”
সে কথাগুলোও ভুলিনি আজও।
কবিতাটিঃ
The Three Rules
What is the iron rule?
The rule of savage men: if evil is done unto you, evil do thou again,
This is the iron rule.
What is the silver rule?
The rule of worldly men: if good your neighbour does do you, do good to him again,
This is the silver rule.
What is the golden rule?
The rule of righteous men: if devil is done unto you, return thou good again,
This is the golden rule
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু
দূর সম্পর্কের এক দরিদ্র আত্মীয়কে আর্থিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। দারিদ্রের ভারে নুইয়ে পড়া তার জীবনের অচলাবস্থায় আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সাহায্যের অন্যতম ভরসাস্থল।
কিন্তু, যেবার 'আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ব্যাপারে মদীনার মুনাফিকেরা কুতসা রটালো, চারিত্রিক কলংকের যে অপবাদ তারা লেপ্টে দিতে চেয়েছিলো উম্মুল মুমিনীনের গায়ে, সেই ঘটনায় যুক্ত হয়ে পড়েছিলো আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই আত্মীয়ই।
ভাবুন তো— কারো দুঃখের দিনে আপনি আপনার সর্বোচ্চটা দিয়ে তার পাশে দাঁড়ান, কিন্তু দিন শেষে যদি জানতে পারেন যে সেই লোকটা আপনার মান-ইজ্জতকে দুই পয়সার দাম দেয় না, সুযোগ পেলে আপনার পিঠেও ছুরি চালাতে মরিয়া, আপনার অবস্থা তখন কেমন হবে?
আমরা হলে বলতাম— না! তোমার সাথে আর না। তোমাকে আমার চেনা হয়ে গেছে।
তাকে এতোদিন যা সাহায্য-সহযোগিতা আপনি করতেন, সব বন্ধ করে দিবেন মুহূর্তেই। আর যাই হোক— একজন বিশ্বাসঘাতকের সাথে আর কোন সম্পর্ক আপনি রাখতে পারেন না।
'আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘটনায় দূর সম্পর্কের সেই আত্মীয়ের ব্যাপারেও মুহূর্তের জন্য এভাবে ভেবেছিলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি —বললেন— 'নিয়মিতভাবে তোমাকে যে সাহায্য-সহযোগিতা আমি করতাম সেটা আজ থেকে বন্ধ করলাম। আমার কন্যার ব্যাপারে যে লোক এতোটা অপবাদ দিতে পারে, তার জন্য আমার কোন দয়া থাকতে পারে না'।
একজন মানুষ হিসেবে, একজন বাবা হিশেবে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই চিন্তাটা খুব-ই স্বাভাবিক। আপনি বা আমি হলেও এর ব্যতিক্রম চিন্তা কখনোই করতে পারতাম না। কিন্তু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই চিন্তাটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা পছন্দ করলেন না। কেউ একজন অন্যায় করেছে বলে, সেই অন্যায়ের পই পই হিসেব করে, তার সাথে যাবতীয় সম্পর্ক আপনি ছিন্ন করে আসবেন, দুঃসময়ে তাকে দিয়ে আসা সাহায্য-সহযোগিতা বন্ধ করে দিবেন— এমনটা করবার ব্যাপারে ইসলাম আপনাকে উতসাহিত করে না। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এমন সিদ্ধান্তের বিপরীতে, তাকে সতর্ক করে দিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা কুরআনে আয়াত নাযিল করলেন:
'তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন, মিসকীন এবং আল্লাহর পথে হিজরাতকারীদেরকে সাহায্য করবে না। তারা যেন তাদেরকে ক্ষমা করে ও তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি উপেক্ষা করে। তোমরা কি পছন্দ কর না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিক? আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।'- আন নূর, আয়াত-২২
ইসলাম - সে তো পরশ-মানিক তাকে কে
পেয়েছে খুঁজি?
পরশে তাহার সোনা হল যারা তাদেরেই মোরা
বুঝি।
উমর ফারুক কবিতাংশ ( কাজী নজরুল ইসলাম)
সূত্র:
আল কুরআন
নিজ মেমোরী
আরিফ আজাদ, FB Friend
কাজী নজরুল ইসলাম

Thursday, August 26, 2021

এসো আল্লাহর সাথে সখ্যতা স্থাপন করি। GET CONNECTED WITH ALLAH

 

GET CONNECTED WITH ALLAH

এসো আল্লাহর সাথে সখ্যতা স্থাপন করি।

6 STEPS

কিভাবে: ৬ স্টেপ

1. DUA OR SUPPLICATION

দোয়ার মাধ্যমে

REMEMBER ALLAH, ASK FROM ALLAH, BECOME A FRIEND OF ALLAH

আল্লাহকে স্মরণ করা, আল্লাহ কাছে চাওয়া, আল্লাহর ওলী (বন্ধু) হওয়া 

2. STAY AWAY FROM POISONS

বিষ থেকে বিষময় পরিবেশ থেকে দূরে থাকা

POISONS ARE EVERYTHING THAT DISPLEASES ALLAH, STAY AWAY FROM SUCH ACTIONS, GAIN ALLAH’S HAPPINESS

বিষ হলো সেগুলো যেগুলো আল্লাহকে অখুশী করে। এসব কাজ থেকে সরে আসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা

3. 99 NAMES OF ALLAH

LEARN UNDERTAND AND RAISE THE QUALITY AND CHARACTERISTIS OF ALLAH

আল্লাহর ৯৯ নাম অর্থসহ জানা। একেবারে মুখস্ত করে ফেলা। আল্লাহর নামের গুনবাচক দিক জানা ও আল্লাহর বৈশিষ্টগুলো জানা  

4. REMEMBER ALLAH

ENGAGE IN ZIKR (DHIKR) AND PRAISES OF ALLAH, SAY ASTAGFIRULLAH A LOT TO REASE YOUR SINS, SAY ALHAMDULILLAH SO THAT ALLAH WILL GIVE YOU MORE REWARDS

আল্লাহকে স্মরণ করা

জিকরের মাধ্যমে আল্লাহর বড়ত্ব জাহির করা। পাপ মোচনের জন্য অধিক “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়া। সাওয়াবের পত্যাশায় বেশী বেশী “আলহামদুলিল্লাহ”, সুরা ফাতিহা পড়া  

5. FOLLOW THE SUNNAH

FOLLOW THE SUNNAH AND AND BE AT THE PROXIMITY OF ALLAH

সুন্নাত পালনের দিকে ঝুঁকে থাকা। এতে আল্লাহ সান্নিধ্য পাওয়া যায় ও রাসুলের অনুসরণ করা সহজ হয়  

6. STAY CONNECTED WITH AL QURAN

RECITE, UNDERSTAND AND MOST IMPORTANTLY ACT IN ACCORDANCE WITH THE QURAN

আল কুরআনের সাথে কানেকশন রাখা। আল কুরআন বুঝে পড়া, আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা জানা, আল কুরআন মানা ও সে অনুসারে আল কুরআনকে ব্যবহারিক জীবনে, বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো।

FINALLY:

SEEK KNOWLEDGE, REMEMBER ALLAH, TURN TO ALLAH, REMAIN IN ALLAH’S OBEDIENCE, UNDERSTAND WHO ALLAH IS, PRAISE ALLAH, UNDERSTAND THE QURAN.

সবশেষেঃ জ্ঞান অন্বেষণ করা, আল্লাহকে স্মরণে রাখা, আল্লাহর দিকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখা, আল্লাহ যা যা চান তা পরিপালন করা, আল্লাহর অস্তিত্ব বিষয়ে জানা, আল্লাহর প্রশংসা করা, আল কুরআনকে ধারন করা।  

INSHA ALLAH YOU WILL BE AT THE PROXIMITY 0F ALLAH.

এ কাজগুলো সঠিকভাবে করা হলে বা করা গেলে ইন শা আল্লাহ, আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া সহজতর হবে।

সূত্র: https://www.pinterest.com/pin/15762667416866620: https://productivemuslim.com/

Monday, August 9, 2021

হিসাব-নিকাশ

 হিসাব-নিকাশ

Accountability and Clearance
কেমন করে হিসাব দেবো
নিকাশ যদি চায়!
দিন ফুরায়ে যায়রে আমার
দিন ফুরায়ে যায়!!
পাপ করেই চলেছি অথচ শিউরে উঠিনা,
আমি কি পাষান?
আশা ও নিরাশার দোলাচলে মানুষ
কুরআনের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক ও হতাশাব্যঞ্জক আয়াত- শিউরে ওঠার মত।
আমিরুল মুমীনিন, খলিফাতুল মুসলীমিন, চিরধারী সম্রাট হজরত উমার ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু, এই উমরের কতটুকু জানি আমরা, অনেক কিছুই জানি না।
হজর‍ত উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু অন্ধকারে একদিকে যাচ্ছিলেন। পিছনে কিছু লোক ছিল। হঠাত করে তিনি প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা- তোমাদের মধ্যে কেউ কি বলতে পারো?-কুরানে কারীমের মধ্যে সব থেকে হতাশা ব্যঞ্জক আয়াত কোনটি?
অন্ধকারের ভিতরে একজন জবাব দিলেন, (ফা মাই ইয়ামাল মিস কালা জাররাতিন খইরাই ইয়ারাহ, ওয়ামাই ইয়ামাল মিস কালা জাররাতিন শাররাই ইয়ারাহ)
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ
وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
Famaiy ya'mal mithqala zarratin khai raiy-yarah
Wa maiy-y'amal mithqala zarratin sharraiy-yarah
সুরা যিলযাল,আয়াত-৭,৮)
এর অর্থ হল-যদি কেউ জাররাহ (সরিষা) পরিমান ভালো কাজ করে কিয়ামতে সে তা দেখতে পাবে, আর যদি সামান্য সরিষা পরিমান গুনাহর কাজ করে, সে তা দেখতে পাবে।
এই আয়াতটি যখন নাযিল হয়, হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাযিয়াল্লাহু আনহু তিনি আল্লাহর রসুলকে প্রশ্ন করলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ, আল্লাহ যে আয়াত নাযিল করলেন, কিয়ামতের দিন আমি কি আমার ছোট্ট পাপ কি দেখতে পাবো? আল্লাহর নবী বললেন, আল্লাহ বলেছেন অবশ্যই তা দেখতে পাবে। হজরত আবু সাইদ খুদরি রাযিয়াল্লাহু আনহু চিতকার করে কেঁদে উঠলেন আর বললেন তাহলে তো আমি মরেই যাবো, (আমার ছোট্ট পাপ তাও যদি আমি দেখি কিয়ামতে তাহলে আমি তো মরে যাবো)
হজরত উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু অন্ধকারের ভিতরে হাঁটছেন, আর কাঁদছেন, কিছু দূর অগ্রসর হয়ে তিনি আবার প্রশ্ন করলেন?
আচ্ছা কেউ কি বলতে পারো, কুরানে কারীমের মধ্যে আশাব্যঞ্জক আয়াত কোনটি?
পিছন থেকে অন্ধকারের ভিতর থেকে আওয়াজ এল -قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّ ( 'কুল ইয়া ‘ইবাদিয়াল লাজিনা আসরাফু আলা আনফুছিকুম, লা-তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ। Qul yaa'ibaadiyal lazeena asrafoo 'alaaa anfusihim laa taqnatoo mirrahmatil laah)
এর অর্থ হল- বলে দিন ওহে আমার বান্দারা তোমরা যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ তারা আল্লাহর রহমত প্রাপ্তি থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করবেন, তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু [সূরা আল-যুমার ৫৩]
হজরত উমার কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আছে না কি?
হজর‍ত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বললেন, আমি তো বললাম, আমি তো জবাব দিলাম।
--------------------------------------------------------------------------রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জনৈক লোক যে জীবনে কক্ষনো কোন প্রকার সাওয়াবের কাজ করেনি, যখন সে মারা যাবে তার পরিবার পরিজনকে ডেকে বলল, মৃত্যুর পর তোমরা তাকে পুড়ে ফেলবে সেটার অর্ধেক স্থলভাগে বাতাসে উড়িয়ে দিবে এবং অর্ধেক পানিতে নিক্ষেপ করবে। কারণ আল্লাহর কসম! আমাকে যদি আল্লাহ পুনঃ একত্রিত করতে পারেন তাহলে তিনি আমাকে অবশ্যই এমন ‘আযাব দিবেন, যা পৃথিবীর অন্য কাউকে কখনো দেননি।
তারপর লোকটি যখন ইন্তিকাল করল তখন তার পরিবারের লোকেরা তার নির্দেশ অনুযায়ী তদ্রূপ করল। তখন আল্লাহ তা‘আলা স্থলভাগকে আদেশ দিলেন সে তার মধ্যস্থিত যা কিছু আছে (ছাই) একত্রিত করলো। এরপর পানিতে মিশ্রিত ভাগকে নির্দেশ দিলেন। সেও তার মধ্যস্থিত সব কিছু একত্রিত করে দিল। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি এমনটি কেন করলে? সে বলল, হে আমার রব! আপনার ভয়ে। আপনি তো সর্বজ্ঞ। তখন আল্লাহ তা‘আলা সদয় হয়ে তাকে মাফ করে দিলেন। (সহিহ মুসলিম, ই.ফা. ৬৭২৭, ই.সে. ৬৭৮২)
আসুন ক্ষমা চাই তাঁর কাছেই। তিনি দুয়ার খুলে রয়েছেন সব সময়। সে দুয়ার ককখোনো বন্ধ হয় না।