রাসূলুল্লাহ সা: প্রথম জুমার খুতবা প্রদান করেন মসজিদুল কুবায়। হিজরতের প্রাক্কালে মক্কা থেকে মদিনায় আসার সময় কুবায় সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার এই চার দিন অবস্থান করেন। কুবার অধিবাসীদের জন্য তাদের মসজিদ নির্মাণ করেন।
Saturday, October 30, 2021
রাসূল সা: প্রদত্ত প্রথম জুমার খুতবা
জুমার দিন তিনি কুবা থেকে বের হন। বনি সালেম বিন আওফ গোত্রের কাছে আসতেই জুমার নামাজের সময় হয়ে গেল। সেখানকার উপত্যকায় অবস্থিত মসজিদেই তিনি জুমার নামাজ পড়লেন। এটি ছিল মসজিদে নববী নির্মাণ করার আগের জুমা আদায় এবং খুতবা প্রদান। ইতিহাসে এটাই প্রথম জুমার খুতবা হিসেবে পরিচিত।
প্রথম খুতবা : বিখ্যাত সিরাত গবেষক ইবনে ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: সর্বপ্রথম যে খুতবাটি দিয়েছিলেন তা আমার কাছে আবু সালাম বিন আবদুর রাহমানের সূত্রে পৌঁছেছে। তিনি মুসলমানদের সামনে দাঁড়িয়ে সর্বপ্রথম আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তাঁর গুণাগুণ বর্ণনা করে বললেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের মুক্তির জন্য আমল করো। আল্লাহর শপথ! তোমরা তখন অবশ্যই (পরকালের উদ্দেশে আমল করার গুরুত্ব সম্পর্কে) জানতে পারবে যখন তোমাদের কেউ (শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার আওয়াজ শুনে) বেহুঁশ হয়ে যাবে। সে তার ছাগলের পালকে রাখালবিহীন অবস্থায় ছেড়ে চলে যাবে। অতঃপর তার প্রভু তার সাথে কথা বলবেন, তার মাঝে ও তার প্রভুর মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না (সরাসরি কথা হবে) এবং তার মাঝে ও তার প্রভুর মাঝে কোনো পর্দা থাকবে না।’ আল্লাহ বলবেন, তোমার কাছে কি আমার রাসূল এসে আমার হুকুম-আহকাম পৌঁছে দেয়নি? আমি তোমাকে দুনিয়ার সম্পদ দিয়েছিলাম এবং তোমার ওপর অনুগ্রহ করেছিলাম। সুতরাং তুমি নিজের জন্য কী প্রেরণ করেছ?’ তখন সে ডান দিকে তাকাবে, বাম দিকে তাকাবে। কিন্তু সে কিছুই দেখতে পাবে না। অতঃপর সামনে তাকাবে। কিন্তু সে জাহান্নাম ছাড়া কিছুই দেখতে পাবে না।
সুতরাং যে ব্যক্তি এক টুকরা খেজুর দান করার বিনিময়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার সামর্থ্য রাখে সে যেন জাহান্নাম থেকে নিজেকে আত্মরক্ষা করে। আর যে ব্যক্তি তারও ক্ষমতা না রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলার মাধ্যমে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। কেননা, এর বিনিময়েও নেকির সংখ্যা ১ থেকে ১০ গুণ আর ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
দ্বিতীয় খুতবা : ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই, আমরা আমাদের নফসের অকল্যাণ থেকে এবং খারাপ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। তিনি যাকে হিদায়াত করেন কেউ তাকে গোমরাহ করতে পারে না। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন কেউ তাকে সঠিক পথ দেখাতে পারে না। আমি এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সঠিক কোনো উপাস্য নেই। তিনি এক, তার কোনো শরিক নেই। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। নিশ্চয়ই ওই ব্যক্তি সফল হবে, যার অন্তরকে আল্লাহ তায়ালা কুরআনের মাধ্যমে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন এবং কুফরিতে লিপ্ত হওয়ার পর তাকে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় দিয়েছেন। সুতরাং মানুষের কথাগুলো বাদ দিয়ে সে আল্লাহর কালামকে বেছে নিয়েছে। কেননা আল্লাহর কথাই হচ্ছে সর্বোত্তম কথা ও তাঁর বাণীই হচ্ছে সর্বোচ্চ বাণী। আল্লাহ যা ভালোবাসেন তোমরা তাই ভালোবাস এবং তোমাদের অন্তরসমূহকে আল্লাহর ভালোবাসা দিয়ে ভরে দাও। আল্লাহর কালামকে পাঠ করতে এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে তোমরা ক্লান্তিবোধ করো না। তোমাদের অন্তর যেন কুরআন থেকে (কুরআন ছেড়ে দিয়ে) পাষাণ না হয়ে যায়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সব সৃষ্টি থেকে উত্তমটিই বাছাই করেন এবং তা নিজের জন্য নির্বাচন করেন।
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের আমলসমূহ থেকে কুরআন তিলাওয়াতকে সর্বোত্তম আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বান্দাদের আমল থেকে তা পছন্দ করেছেন। তা সর্বোত্তম বাণী বলে ঘোষণা করেছেন এবং তার মাঝে মানুষের জন্য সব হালাল ও হারাম বিষয় বর্ণনা করেছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করো। তোমরা মুখ দিয়ে যেসব কথা উচ্চারণ করে থাকো, তা থেকে সর্বোত্তম কথার মাধ্যমে আল্লাহর সত্যতার ঘোষণা প্রদান করো।
আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে পরস্পর ভালোবাসার বন্ধন রচনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গকারীকে মোটেই পছন্দ করেন না। (জাদুল মাআদ থেকে সংগৃহীত)
- নয়া দিগন্ত সূত্র
ভালো কথা ও কাজ অন্যায়কে মুছে দেয়
আল্লাহ তাআলা মানুষের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তাআলাকে এমন ভাবে ভয় কর; যেভাবে তাকে ভয় করার উচিত (ভয় করার মতো ভয় কর) এবং মুসলমান না হয়ে মৃত্যু বরণ কর না। (সুরা আলে-ইমরান: আয়াত ১০২)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে মানবতার সার্বিক কল্যাণে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। পাশাপাশি অন্যায় কাজ পরিত্যাগ করে কল্যাণের কাজে ব্রতী হওয়ারও নির্দেশ প্রদান করেছেন।
হজরত আবু যর জুনদুব ইবনে জুনাদাহ এবং হজরত আবু আবদুর রহমান মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তাঁরা উভয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহকে ভয় কর যেখানেই থাক না কেন। অন্যায় কাজ হয়ে গেলে পরক্ষণেই ভাল কাজ কর। তবে ভাল কাজ অন্যায়কে মুছে দিবে আর মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার কর।’ -(মুসনাদে আহমদ ও তিরমিজি)
হাদিসের শিক্ষা
>> মানুষ যেখানেই থাকুক না কেন, আল্লাহ তাআলাকে ভয় করার মতো ভয় করা;
>> আল্লাহ তাআলার ভয় মানুষকে দুনিয়া ও পরকালে সম্মানিত করে তোলে;
>> ছোট হোক আর বড় হোকে কোনো ভাবেই অন্যায় কাজ করা যাবে না;
>> মাত্রাতিরিক্ত অন্যায়ের কারণেই দুনিয়াতে মানুষ বড় বড় বিপদের মুখোমুখি হয়।
>> কোনোভাবে অন্যায় কাজ হয়ে গেলে, সঙ্গে সঙ্গে ভাল কাজ করা;
>> প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘোষণা অনুযায়ী ভাল কাজ অন্যায় তথা গোনাহকে মুছে দিবে। –সূত্র: অনেক
দীর্ঘসূত্রীতা
কাজটা শুরু করলে তা শেষ করো-
যে কাজ আমরা শুরু করি-তা অনেক সময় শেষ করিনা। এটা নিঃসন্দেহে দীর্ঘসূত্রীতারই একটা অংশ। যে কাজটি আমরা শেষ করিনা তা ২টি জায়গায় জমা থাকে। ১. কাজের টেবিলে ২. যে কাজটি করছে তার মাথায়। যে কাজটি মাথায় তার স্থান করে নেয় সেটা ব্যক্তির শক্তি খরচ করাতে থাকে আর শংকিত করাতে থাকে চেতনাকে। তাছাড়া জমে থাকা কাজটি যতদিন জমা থাকবে ততদিন ধরেই ব্যক্তির ব্যক্তিগত শক্তি শুষে নিতে থাকবেই। তাই আমাদের পারফেকশনিষ্ট(perfectionist) হওয়ার দরকার নেই দরকার হলো কমপ্লিশনিষ্ট(completionist)হওয়ার। এটা হলে আমরা কেউই প্রোক্রাশনিনেটর(Procrastinator) বা দীর্ঘসূত্রী হবো না।
তাই বাঙ্গালী চরিত্র সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের উক্তি যেখানে তিনি বলেছেন-
"আমরা আরম্ভ করি, শেষ করি না, আড়ম্বর করি, কাজ করি না, যাহা অনুষ্ঠান করি তাহা বিশ্বাস করি না, যাহা বিশ্বাস করি তাহা পালন করি না, ভুরি পরিমাণ বাক্য রচনা করিতে পারি, তিল পরিমাণ আত্মত্যাগ করিতে পারি না, আমরা অহংকার দেখাইয়া পরিতৃপ্ত থাকি, যোগ্যতা লাভের চেষ্টা করি না, সকল কাজেই পরের প্রত্যাশা করি, অথচ পরের ত্রুটি লইয়া আকাশ বিদীর্ণ করিতে থাকি, পরের অনুকরণে আমাদের গর্ব, পরের অনুগ্রহে আমাদের সম্মান, পরের চক্ষে ধুলি নিক্ষেপ করিয়া আমাদের পলিটিক্স এবং নিজের বাক চাতুর্যে নিজের প্রতি ভক্তিবিহবল হইয়া ওঠাই আমাদের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য।”
কুরআন, ফিরে এসো তার দিকে, হবে লাভবান!!
এই মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে রয়েছে মানুষে পূর্ববর্তীদের ইতিহাস, পরবর্তীদের সংবাদ এবং মানুষের মাঝে সব ধরনের সিদ্ধান্তের বিধান, সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী, আল-কুরআন কোনো অহেতুক বিষয় নয়।
যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশত আল-কুরআনকে ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তায়ালা তার দাম্ভিকতাকে চূর্ণ করে দেন, আর যে ব্যক্তি আল-কুরআনকে বাদ দিয়ে সঠিক পথ খুঁজে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করে দেন। আল-কুরআন ছেড়ে দিয়ে যে সম্মান অন্বেষণ করে আল্লাহ তাকে অপদস্ত করেন। আর যে আল-কুরআনের দ্বারস্থ না হয়ে সাহায্য ও বিজয় কামনা করে সে আল্লাহ তায়ালার রোষানলে পতিত হয়।
আল-কুরআন হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার মজবুত রজ্জু, এটিই হচ্ছে সহজ ও সঠিক পথের দিশারি। আল-কুরআনের অনুসারী হলে কেউ বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট হবে না। আলেমরা কুরআন থেকে কখনোই তৃপ্ত হন না। অর্থাত আল-কুরআন যতই তারা তিলাওয়াত করেন ততই তাদের কাছে ভালো লাগে। আল-কুরআনের রহস্য ও নিগূঢ় তত্ত্বের কোনো শেষ নেই।
যে আল-কুরআনের কথা বলে সে তো সত্যই বলে, আর যিনি কুরআন মোতাবেক ফায়সালা করেন তিনি তো ইনসাফ করেন, আর যে আল-কুরআন অনুযায়ী আমল করে সে তো সওয়াব ও প্রতিদান লাভ করে, যে আল-কুরআনের দিকে আহ্বান করে সে অবশ্যই সরল ও হেদায়েতের পথে আহ্বান করে। যারা আল-কুরআন পাঠ করে ও সেই অনুযায়ী চলে তাদের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা নিয়েছেন যে, তারা দুনিয়াতে পথভ্রষ্ট হবে না এবং পরকালেও বিপদগ্রস্ত হবে না।
ইবনে আব্বাস রা:-এর বর্ণনায় এসেছে। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব মহাগ্রন্থ আল-কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, ইহকাল ও পরকালে সে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মুসলিম শরিফের হাদিস, রাসূল সা: বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কাছে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি যা তোমরা আঁকড়ে ধরলে কখনোই পদচ্যুত হবে না, আর তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব মহাগ্রন্থ আল-কুরআন।
মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল করে আল্লাহ তার বান্দাদের অনুগ্রহ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে মানব জাতি! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এমন বিষয় সমাগত হয়েছে যা হচ্ছে নসিহত এবং অন্তরের সব রোগের আরোগ্যকারী, আর মুমিনদের জন্য কুরআন পথ-প্রদর্শক ও রহমত। হে নবী, আপনি বলে দিন, আল্লাহর এই দান ও রহমতের প্রতি সবারই আনন্দিত হওয়া উচিত; আল-কুরআন (পার্থিব সম্পদ) থেকে বহুগুণে উত্তম যা তারা সঞ্চয় করছে’ (সূরা ইউনুস, আয়াত : ৫৭-৫৮)।
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, ‘আপনার ওপর যে কিতাব অবতীর্ণ করেছি, তা মুসলিমদের জন্য প্রত্যেক বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদস্বরূপ’ (সূরা নাহল, আয়াত-৮৯)।
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, ‘হে আহলে কিতাব! তোমাদের কাছে রাসূল এসেছে, যে তোমাদেরকে স্পষ্টভাবে (আল্লাহর হুকুম) বলে দিচ্ছেন, যাতে তোমরা বলতে না পারো যে, তোমাদের কাছে কোনো সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী আগমন করেনি। (এখন তো) তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী এসে গেছে, আর আল্লাহ সব বস্তুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান’ (সূরা মায়িদা, আয়াত-১৯)।
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, ‘হে লোক সকল! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে প্রত্যক্ষ প্রমাণ এসেছে এবং তোমাদের প্রতি সমুজ্জ্বল জ্যোতি অবতীর্ণ করেছি। অতঃপর যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং তাঁকে সুদৃঢ়রূপে ধারণ করেছে, ফলত তিনি তাদেরকে স্বীয় করুণা ও কল্যাণের দিকে প্রবিষ্ট করাবেন এবং স্বীয় সরল পথ প্রদর্শন করবেন’ (সূরা নিসা, আয়াত : ১৭৪-১৭৫)।
তিনি আরো বলেন, ‘এই কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ পথনির্দেশ করে এবং সতকর্মপরায়ণ বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার। আর যারা পরকাল বিশ্বাস করে না তাদের জন্য আমি প্রস্তুত করে রেখেছি মর্মন্তুদ শাস্তি’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ৯-১০)। উপরোক্ত বিষয়ে আরো অনেক আয়াত রয়েছে যারা আল-কুরআন জেনে-বুঝে মনোযোগের সাথে তিলাওয়াত করে ও সে অনুযায়ী আমল করে তাদের এগুলো জানা রয়েছে। সালফে সালেহিনদের পদ্ধতি ছিল এমন- তারা কুরআনের আয়াত শিখলে তার অর্থ অনুধাবন ও আমল না করে সামনের দিকে অগ্রসর হতেন না। তারা ইলম ও আমল একত্রে শিখেছেন। যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, কাজেই তারা কুরআনের আদেশ ও নিষেধ সংক্রান্ত জ্ঞানার্জন করেছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করতে বিনা দ্বিধায় অগ্রগামী হয়েছেন।
আজ আমরা এমন এক জামানায় বাস করছি যেখানে নানাবিধ ফিতনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, বিপদ ও দুর্যোগের ঢেউ একের পর এক আছড়ে পড়ছে, প্রবৃত্তির লালসা তীব্রতর হচ্ছে, অস্পষ্ট ও সন্দেহজনক বিষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিভিন্ন জটিলতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, অন্যায় ও বিদআতের দিকে আহ্বানকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এমতাবস্থায় এগুলো থেকে মুক্তি পেতে সত্যের ওপর সুদৃঢ় অবিচল থাকতে হবে।
মানসিক প্রশান্তি ও তৃপ্তি অর্জন করতে হলে, বাস্তবিক প্রতিদান ও পুরস্কার লাভ এবং শাস্তি থেকে নিরাপত্তা পেতে হলে, সঠিক আকিদার ওপর থাকতে হলে এবং সুনাম ও সুন্দর কর্ম চালিয়ে যেতে হলে, রাজা-প্রজা, জাতি-গোত্র, যুবক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, আলেম-সাধারণ সব মুসলিমকে যথাযথভাবে পূর্ণ আবেগ ও আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর কিতাব মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের তিলাওয়াত উপলব্ধি করা, তাঁর শিক্ষা দেয়া-নেয়া ও আমল করা এবং সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে আল-কুরআন পথেই ফিরে আসতে হবে।
সূত্র: নয়া দিগন্ত
Monday, October 11, 2021
Palindrome- স্মৃতির জাবর কেটে কেটে শেখা
স্মৃতির জাবর কেটে কেটে শেখা -Palindrome
জানি কিন্তু জানি না।
আমি Palindrome নিয়ে ২৭.০৯.২০২১এ একটি প্রশ্ন করেছিলাম বন্ধুদের বেশ ক’দিন আগে। একমাত্র আশরাফ ভাই লিখেছিলেন, “অনেক অজানার মধ্যে ওরাও আছে।” আর কেউই জবাব দেন নি।
সোনালী ব্যাংক অসবোর্ন স্ট্রিট লন্ডন, ইউ.কে শাখায় পোষ্টিঙয়ের সুবাদে সেখানকার বাংলাদেশী মানুষদের সাথে নিবিড় সখ্যতা গড়ে উঠেছিল সেই ১৯৯২-৯৪এ। এরকম একজন বন্ধু আমার প্রিয় মুহিব উল্যাহ ভাই। তার প্রতিষ্ঠানের নাম “জম জম” ইন্টারন্যাশনাল। ব্রিক লেন মসজিদের লাগোয়া এই সুপরিচিত বিজিনেস সেন্টার। এখনো তার খোঁজখবর পাই। একদিন এক মজার ঘটনা ঘটে “জম জম” ইন্টারন্যাশনালে।
মুহিব উল্যাহ ভাই বল্লেন, আপনাকে বলতেই হবে যে “ব্যস্ত” কথাটার আরবী কি। পরক্ষণই তিনি বল্লেন যে আমি জানি আপনি এটা জানেন আর আপনি এটা জানেন না। দুটোই। কেমন দোটানায় পড়লাম। আমার [নেশার লাটিম ঝিম ধরা] দেখে খানিকক্ষণ চুপ থাকার পর মুহিব উল্যাহ ভাই বল্লেন, “ব্যস্ত” শব্দটির আরবী হলো, “মশগুল।” আমি বল্লাম আমি তো এটা জানি। উনি বল্লেন, আমি তো সেটা আগেই বলেছিলাম যে আপনি এটা জানেন। ২ জনই হাসলাম খানিকক্ষণ।
যা হোক মূল প্রসংগে আসি।
আমরা বাঙলায় অনেক বাক্য বা শব্দ ব্যবহার করি যা ডান দিক থেকে পড়লে যা হয় ঠিক বাম থেকে ডাইনে পড়লেও তেমনিই হয়- কোন বদল নেই। যেমন-“কটক” বা “রমা কান্ত কামার”বা “কথক”-ইত্যাদি। এ শব্দ বা বাক্যের নাম কি? কেউ জানেন? না জানলে আমি বলে দিচ্ছি।
এ ধরনের বাক্য বা শব্দের নাম হলো Palindrome.
গুগল বাবাজি বলছেন, “যে শব্দ কবিতা প্রভৃতি উলটা করিয়া পড়িলেও একই থাকে।”
প্যালিনড্রোম হল এমন কিছু বিশেষ শব্দ আর সংখ্যা যার আরম্ভ বা শেষ দু’দিক থেকেই পড়লে শব্দের উচ্চারণ আর অর্থের কোন বদল হয় না; বা সংখ্যার মান একই থাকে। মূল গ্রীক শব্দ প্যালিনড্রোমাস থেকে ইংরেজি প্যালিনড্রোম শব্দটি এসেছে।
A palindrome is a word, number, phrase, or other sequence of characters which reads the same backward as forward, such as madam or racecar.
Greek roots-palin অর্থ 'again' আর drome বা dromous অর্থ 'way, direction'
Henry Peacham নামের ভদ্রলোক ১৬৩৮ সালে ইংরেজী ভাষায় palindrome প্রবর্তন করেন।
উদাহরণ দিচ্ছি:
A nut for a jar of tuna.
রমাকান্ত কামার
কটক
কথক
Al lets Della call Ed “Stella.”
Borrow or rob?
Was it a car or a cat I saw?
Madam, in Eden, I’m Adam.
Murder for a jar of red rum.
Do geese see God?
Radar
Rotator
11/11/11 11:11
02/02/2020
NEVER OD OR EVEN
Step on no pets
The longest palindrome in use today is said to be the 19-letter Finnish word ”saippuakivikauppias”, which means soapstone vendor.
আপনাদের কারো হাস্যরসের উদ্রেক হলে জানাবেন আর বিরক্তি জাগলেও।
আমি মনে করছি আমার বড় নাতনী কানাডা প্রবাসী “চারু ভাই”- আমার পোষ্টটি পছন্দ করবে।
সূত্র:
রিডার্স ডাইজেস্ট সেপ্টেম্বর ২০২১
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
গুগল
Merriam-Webster ডিকশনারী
Tuesday, September 28, 2021
মহাযুদ্ধের কথা
মহাযুদ্ধের কথা
না! এ যুদ্ধে নেমে কোন হতাশা নয়
আল কুরআন কি বলে?
১. হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে বিভ্ৰান্ত করল?
یٰۤاَیُّهَا الۡاِنۡسَانُ مَا غَرَّکَ بِرَبِّکَ الۡکَرِیۡمِ
O mankind, what has deceived you concerning your Lord, the Generous
কোন্ বস্তু তোমাকে ধোঁকা ও প্রতারণায় ফেলে রেখেছে? যার কারণে তুমি সেই প্রভুকে অস্বীকার করেছ; যিনি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তোমাকে অস্তিত্ব প্রদান করেছেন, তোমাকে জ্ঞান ও সমঝ-বুঝ দান করেছেন, জীবন-যাপন করার জন্য নানান উপকরণ দিয়েছেন।
-সূরা আল-ইনফিতার | Al-Infitar | سورة الإنفطار - আয়াতঃ ৬
২.
أَفَرَأَيْتُم مَّا تُمْنُونَ
أَأَنتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ
তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছো, যে শুক্র তোমরা নিক্ষেপ করো
তা দ্বারা সন্তান সৃষ্টি তোমরা করো, না তার স্রষ্টা আমি?
Afara'aytum maa tumnoon
'A-antum takhluqoo nahooo am nahnul khaaliqoon
(সূরা আল ওয়াক্কিয়াহ, আয়াত ৫৮-৫৯)
৩. فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ مِمَّ خُلِقَ
خُلِقَ مِن مَّاءٍ دَافِقٍ
يَخْرُجُ مِن بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ
Fal yanzuril insaanu mimma khuliq
Khuliqa mim maaa'in daafiq
Yakhruju mim bainissulbi wat taraaa'ib
কাজেই মানুষ একবার এটাই দেখে নিক কী জিনিস থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে !
তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রবলবেগে নিঃসৃত পানি থেকে
যা পিঠ ও বুকের হাড়ের মাঝখান দিয়ে বের হয়৷
(সূরা আত তারিক আয়াত ৫-৭)
মানব জন্ম বিষয়ে আল কুরআন কতটা স্পষ্ট-ভাবা যায় কি?
বিজ্ঞান বলে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ্য পুরুষ একবার সহবাস করলে যে পরিমান বীর্য নির্গত হয় তাতে ৪০ কোটি শুক্রাণু থাকে। তো, লজিক অনুযায়ি মেয়েদের গর্ভে যদি সেই পরিমান শুক্রানু স্থান পেতো তাহলে ৪০ কোটি বাচ্চা তৈরি হতো। এই ৪০ কোটি শুক্রাণু মায়ের জরায়ুর দিকে পাগলের মত ছুটতে থাকে, জীবিত থাকে মাত্র ৩০০-৫০০ শুক্রাণু। আর বাকিরা? এই ছুটে চলার পথে ক্লান্ত অথবা পরাজিত হয়ে মারা যায়। এই ৩০০-৫০০ শুক্রাণু যেগুলো ডিম্বানুর কাছে যেতে পেরেছে, তাদের মধ্যে মাত্র একটি মহাশক্তিশালী শুক্রাণু ডিম্বানুকে Fertilize বা নিষিক্ত করে বা ডিম্বানুতে আসন গ্রহন করে। সেই ভাগ্যবান শুক্রাণুটি হচ্ছে আপনি কিংবা আমি বা আমরা সবাই।
কখনও কি এই মহাযুদ্ধের কথা মাথায় এনেছি আমরা?
❒ আপনি যখন দৌড় দিয়েছিলেন- তখন ছিলনা কোন চোখ, হাত, পা, মাথা, ছিল চলার জন্য কেবল একটি লাঙ্গুল বা লেজ। তবুও আপনি জিতেছিলেন।
❒ আপনি যখন দৌড় দিয়েছিলেন- তখন আপনার ছিলনা কোন সার্টিফিকেট, ছিলনা মগজ বা ঘিলু তবুও আপনি জিতেছিলেন।
❒ আপনি যখন দৌড় দিয়েছিলেন- তখন আপনার ছিলনা কোন শিক্ষা, কেউ সাহায্য করেনি তবুও আপনি জিতেছিলেন।
❒ আপনি যখন দৌড় দিয়েছিলেন- তখন আপনার একটি গন্তব্য ছিল এবং সেই গন্তব্যের দিকে উদ্দেশ্য ঠিক রেখে একা একাগ্র চিত্তে দৌড় দিয়েছিলেন এবং শেষ অবধি আপনিই জিতেছিলেন।
-এরপর?
❒ বহু বাচ্চা মায়ের পেটেই নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু আপনি মারা যাননি, পুরো ১০ টি মাস পূর্ণ করতে পেরেছেন। ত্রুটিহীনভাবে জন্ম নিয়েছেন।
❒ বহু বাচ্চা জন্মের সময় মারা যায় কিন্তু আপনি টিকেছিলেন।
❒ বহু বাচ্চা জন্মের প্রথম ৫ বছরেই মারা যায় কিন্তু আপনি এখনো বেঁচে আছেন।
❒ অনেক শিশু অপুষ্টিতে মারা যায় কিন্তু আপনার কিছুই হয়নি।
❒ বড় হওয়ার পথে অনেকেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে কিন্তু আপনি এখনো আছেন।
-আর আজ?
আপনি কিছু একটা হলেই ঘাবড়ে যান,
নিরাশ হয়ে পড়েন,
কিন্তু কেন?
কেনো ভাবছেন আপনি হেরে গিয়েছেন?
কেন আপনি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন?
এখন আপনার বন্ধু বান্ধব, ভাই বোন, সার্টিফিকেট, সবকিছু আছে,
হাত-পা আছে,
শিক্ষা আছে,
প্ল্যান করার মগজ আছে,
সাহায্য করার মানুষ আছে,
তবুও আপনি আশা হারিয়ে ফেলেছেন।
যখন আপনি জীবনের প্রথম দিন থেকেই হার মানেননি। ৪০ কোটি শুক্রাণুর সাথে মরণপণ যুদ্ধ করে ক্রমাগত দৌড় দিয়ে কারও সাহায্য ছাড়াই চরম এক প্রতিযোগিতায় একাই বিজয়ী হয়েছেন।
-তাহলে হতাশা কেনো?
দীর্ঘ পথ দেখে পথিক যদি পথ চলা বন্ধ করে দেয় তাহলে তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা আর পূরণ হয় না। উপযুক্ত উদ্যম ও পরিশ্রম ছাড়া জীবনের বাঞ্ছিত লক্ষ্যে পৌঁছানোও সম্ভব নয়।
Sunday, September 5, 2021
আল্লাহভীরু কারা, আল কুরআন কি বলে?
মুত্তাকি হলো যাদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার ভয় আছে এবং যারা আল্লাহ তাআলার ভয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।
তাকওয়া শব্দ থেকে মুত্তাকি শব্দ থেকে এসেছে।
কুরআনে বর্ণিত আল্লাহভীরু কারা?
১. যারা অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি ঈমান আনে
আল্লাহভীরুদের প্রধান গুণ হলো তারা গায়েবি তথা অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি ঈমান আনে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা অদৃশ্যের বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদের যে জীবিকা দান করেছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৩)
২. যারা ক্ষমা করে
কারো ভুল কিংবা অপরাধের পর তাকে ক্ষমা প্রদর্শন করা ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। কোরআনে ক্ষমা করাকে মুত্তাকিদের গুণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা যদি ক্ষমা করো, তবে তা হবে তাকওয়ার নিকটবর্তী।’(সুরা বাকারা, আয়াত : ২৩৭)
৩. যারা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে
মুত্তাকিদের অন্যতম গুণ হলো তারা গুনাহ থেকে নিজেদের দূরে রাখে। যদি কখনো গুনাহে জড়িয়ে পড়ে, তারা দ্রুত তাওবা করে নিজেদের সংশোধন করে নেয়। আল্লাহ বলেন, ‘যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের ওপর শয়তানের আগমন ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে ওঠে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ২০১)
৪. যারা সত্য খুঁজে নেয়
আল্লাহভীরুরা সত্যান্বেষী হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা হলো সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই মুত্তাকি।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৩৩)
৫. যারা দান করে
মুত্তাকিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তারা সুখে-দুঃখে দান-সদকা করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘(আল্লাহভীরু তারাই) যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, আর আল্লাহ তাআলা সতকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
৬. যারা রাগ নিয়ন্ত্রণ করে
রাগ মানুষের একটি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাগ অন্যায় কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই ইসলাম মানুষকে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, আর আল্লাহ তাআলা সতকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
৭. যারা আল্লাহর আয়াতগুলোকেে সম্মান করে
মুত্তাকিরা আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান প্রদর্শন করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তা তো তার হৃদয়ের আল্লাহভীতির কারণে।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৩২)
৮. যারা ন্যায়পরায়ণ
ন্যায়পরায়ণ হওয়া এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা মুত্তাকিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ন্যায়বিচার পরিত্যাগে প্ররোচিত না করে। তোমরা সুবিচার কোরো, এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় কোরো। তোমরা যা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৮)
৯. রাত জেগে ইবাদত করে যারা
পবিত্র কোরআনে রাতের শেষাংশে ইবাদত করাকে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা অত্যন্ত ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সতপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫)
আল্লাহ আমাদের এই ৯টি গুণ ধারন করার তাওফীক দিন।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ
Subscribe to:
Posts (Atom)