Antacids Cause Kidney Disease
Monday, November 22, 2021
অ্যান্টাসিড থেকে সাবধান
আমাদের মধ্যে বহু মানুষ কথায় কথায় অ্যান্টাসিড (Antacid) খেয়ে নেন। যদিও এই অভ্যাস আপনার করে দিচ্ছে ঘোর ক্ষতি। এমনকী এর থেকে হতে পারে ক্রনিক কিডনি ডিজিজও (Chronic Kidney Disease)। তাই আজ থেকেই সাবধান।
সজীবের প্রচণ্ড গ্যাসের সমস্যা। তবে তিনি চিকিতসকের পরামর্শ নেন না। বরং নিজের বুদ্ধির উপরই আস্থা রাখেন। এই কারণে ওষুধের দোকানে গিয়ে কিনে ফেলেন অ্যান্টাসিড। তারপর বাড়িতে এসেই জল দিয়ে খেয়ে গিলে নেন সেই ওষুধ। এভাবেই বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে। তবে তিনি জানতেও পারছেন না তিনি কোন ভুলটাই না করছেন। এক সমস্যা কাটাতে গিয়ে জন্ম দিচ্ছেন অপর এক সমস্যা। এই অ্যান্টাসিড অগচোরেই করে দিচ্ছে মারাত্মক ক্ষতি। অন্তত এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
একনজরে অ্যান্টাসিড
এই ওষুধগুলিকে বিজ্ঞানসম্মত ভাষায় বলে পিপিআই বা প্রোটোন পাম্প ইনহিবিটর (এমন ধরনের ওষুধ যার প্রধান কাজ হলো পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষ থেকে এসিড নিঃসরণ কমানো)। সাধারণত অ্যাসিড (Acid Reflux), বদহজম (Indigestion), পেপটিক আলসারের (Peptic Ulcers) ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার হয়।
সমস্যা কখন?
মুশকিল হল, এই ওষুধটি দোকানে প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি হয়। যদিও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টাসিড খাওয়া উচিত নয়। কারণ চিকিতসকরাই জানেন এই ওষুধের ডোজ কতটা দিতে হবে। সেই মতোই খেতে হয় ওষুধ। নইলে এক অসুখ তাড়াতে গিয়ে অন্য সমস্যা উঁকি দেয়। তাই এই ওষুধ ডাক্তারবাবুরা অহেতুক খেতে বারণ করে থাকেন।
কী কী সমস্যা হয়?
বিভিন্ন সমস্য়া হতে পারে। এমনকী সার্বিক স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়াও সম্ভব। গবেষণা বলছে, টপাটপ অ্যান্টাসিড খেলে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ, অ্যাকিউট কিডনি ডিজিজ ইত্যাদি রোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কিডনি বিশেষজ্ঞরা এই বদোভ্যাস নিয়ে বিশেষ রকম সতর্ক করেছেন।
তবে দোষ কেবল সাধারণ মানুষের নয়। বহু বিশেষজ্ঞও অ্যান্টাসিড ব্যবহার নিয়ে তেমন আমল দেন না বলে বিভিন্ন স্তর থেকে অভিযোগ উঠে আসছে। কিন্ত কেন এমনটা হচ্ছে? অনেকের মতে, এই সকল বিষয়গুলি কেবল জার্নালের পেজেই বন্ধ থাকে। তার বাইরে কোনও প্রচার নেই। তাই সকলের পক্ষে এই বিষয়টি জানা সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে এই সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে বলেই মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই অচিরেই এই সমস্যা থেকে সমাধান মিলবেন বলেই আশাবাদি সকলে।
মনে রাখবেন
এক-আধদিন খেলে অসুবিধে নেই। তবে নিয়মিত অ্যান্টাসিড খাওয়ার আগে অবশ্যই ভাবুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তাঁর মত অনুযায়ী, অ্যান্টাসিড খান। কারণ তিনি প্রথমে আপনার শরীরের সমস্যা ধরবেন। তারপর ঠিক করবেন, আপনার কোন ধরনের অ্যান্টাসিড লাগবে বা আদৌও তা লাগবে কি না। কখন, কতটা ডোজে সেই ওষুধ খেতে হবে তাও ঠিক করবেন তিনিই। তাই নিজের বুদ্ধি কাজে লাগাতে যাবেন না। বিশেষজ্ঞের উপর ভরসা করুন। আর গ্যাসের সমস্যা প্রায়ই চলতে থাকলে খাওয়াদাওয়া ঠিক করুন। বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন। বাড়িতে কম তেল, মশলা দিয়ে খাবার খান। খাবারের মধ্যে শাকসবজি, হোল গ্রেইন জাতীয় খাবার বেশি রাখুন। মাছ, মাংস, ডিম খান পরিমিত। তবেই ভালো থাকবেন।
-এইসময়
-নিজ পাঠ
মাছ খেয়েই ওজন কমানো সম্ভব
ভাতে-মাছে বাঙালি বলে কথা। দুপুরের ভোজে একটু মাছের ঝোল-ভাত না হলে হয়? কিন্তু উদর তো পূর্তিতে বেড়েই চলেছে। সেক্ষেত্রে ওজন কমানোটাও জরুরি হয়ে পড়ছে (Fish for Weight Loss)।
কিন্তু জানেন কি, মাছ খেয়েই ওজন কমানো সম্ভব। ওমেগা-৩ (থ্রি) ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ শরীরের পক্ষে দারুণ উপকারী । চোখ, চুল ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর দারুণ উপায় এই মাছগুলি।
সাধারণত অন্য আমিষ খাবারের চেয়ে এক টুকরো মাছে ক্যালোরি অনেকটাই কম থাকে। সঙ্গে মাছে থাকা প্রোটিন শরীরের প্রয়োজন মেটায়। গবেষণা বলছে, স্ট্রেস, চাপ, প্রদাহ এসব ওজন বাড়ানোর সহায়ক। মাছে থাকে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা প্রদাহ দূর করে। এবং শরীরকে ভালো মেটাবলিজম দেয় যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।
স্যালমন বা রাভা-- এই মাছে প্রচুর ওমেগা, ভিটামিন বি, সেলেনিয়াম, ভিটামিন ডি থাকে। হার্টের স্বাস্থ্য, ডিমেনশিয়া, মানসিক অবসাদ কাটােত দারুণ কার্যকরী এই মাছ। অবশ্যই পাতে রাখুন। যে কোনও সুপারমার্কেটে পাওয়া যায়। বড় বাজারেও ওঠে।
সার্ডিন বা টারলি-- রোদের অভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব হয়। ভারতীয় মহিলাদের এই সমস্যা খুবই পরিচিত। ফলে শরীরে অল্প বয়স থেকেই ব্যথার সমস্যা তৈরি হয়। সার্ডিন মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি ও বি১২ ভিটামিন থাকে। গোটা মাছ খেতে দারুণ উপকার পাবেন।
ম্যাকরেল বা বাঙদা-- ছোট্ট তৈলাক্ত এই মাছে সেলেনিয়াম ও ভিটামিন ১২ ভিটামি ডি ভর্তি। শরীরের জন্য উপকার প্রচুর।
টুনা-- সব জায়গায় না পাওয়া গেলেও, সুপারমার্কেটে টুনার ক্যান কিনতে পাওয়া যায়। বাড়িতে টুনা এনে রেসিপি দেখে বানিয়ে খান। শরীরের দারুণ কাজে লাগবে, স্বাদেও অনবদ্য। এতে ওমেগা ৩, ভিটামিন ডি ও প্রোটিন ভরপুর।
বাঙালীর ইলিশও কম যায় না- কমবে ওজন, মিলবে পুষ্টি
ইলিশ মাছের নাম শুনলে জিবে জল আসে না, এমন বাঙালি আছেন কি? শর্ষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, দই ইলিশ, ইলিশের টক, ভাজা ইলিশ, ইলিশের ভর্তা, আরও কত কি! বাঙালির রান্নাঘরে ইলিশের পদের তো শেষ নেই। বাঙালির ইলিশপ্রেম যতটা খাঁটি, ইলিশের বাঙালিপ্রেমও কিন্তু ঠিক ততটাই। স্বাদে অনন্য ইলিশ পুষ্টিগুণেও ভরপুর। প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশে প্রায় ২১.৮ গ্রাম প্রোটিনের পাশাপাশি রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, নায়সিন, ট্রিপ্টোফ্যান, ভিটামিন, বি ১২, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেলস। এ ছাড়া অন্যান্য উপকারিতা তো আছেই। এবার জেনে নিন আরও কিছু চমতকার উপকারিতা।
হৃদপিন্ডের জন্য
ইলিশ মাছে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ একেবারেই কম। অন্য দিকে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকে। ফলে হৃদপিন্ড থাকে সুস্থ।
রক্ত সঞ্চালন সুবিধা
সামুদ্রিক মাছে থাকা ইপিএ ও ডিএইচএ(ইকোসাপেন্টাইওনিক এসিড ও ডোকোজেএক্সেনিক অ্যাসিড) ওমেগা-৩ তেল শরীরে ইকসিনয়েড হরমোন তৈরি রুখতে পারে। এই হরমোনের প্রভাবে রক্ত জমাট বেঁধে শিরা ফুলে যায়। ইলিশ মাছ খেলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। থ্রম্বসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।
বাতব্যথার উপশম
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সঙ্গে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। প্রতিদিনের ডায়েটে সামুদ্রিক মাছ থাকলে বাতের ব্যথা, গাঁট ফুলে গিয়ে যন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
চোখের স্বাস্থ্যে উপকারী
তেলযুক্ত মাছ খেলে চোখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। চোখ উজ্জ্বল হয়। বয়সকালে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসা মোকাবিলা করতে পারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। ইলিশ মাছের মধ্যে থাকা ভিটামিন এ রাতকানা রোগের মোকাবিলা করতেও সাহায্য করে।
প্রয়োজনীয় খনিজ মেলে ইলিশে
ইলিশ মাছে রয়েছে আয়োডিন, সেলেনিয়াম, জিংক, পটাশিয়াম। থাইরয়েড গ্ল্যান্ড সুস্থ রাখে আয়োডিন, সেলেনিয়াম উতসেচক ক্ষরণে সাহায্য করে, যা ক্যানসার মোকাবিলা করতে পারে। এ ছাড়া ভিটামিন এ ও ডির উত্কৃষ্ট উত্স ইলিশ মাছ।
ফুসফুসের জন্য
বহু গবেষণায় দেখা গেছে, সামুদ্রিক মাছ ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর। শিশুদের ক্ষেত্রে হাঁপানি রোধ করতে পারে ইলিশ মাছ। যাঁরা নিয়মিত মাছ খান, তাঁদের ফুসফুস অনেক বেশি শক্তিশালী হয়।
অবসাদ কাটাতে
ওমেগা-ত ফ্যাটি অ্যাসিড অবসাদের মোকাবিলা করতে পারে। সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার (এসএডি), পোস্ট ন্যাটাল ডিপ্রেশন কাটাতে পারে ইলিশ মাছ।
ত্বকের যত্নে
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে ইলিশ খাওয়ার অভ্যাস। নিয়মিত মাছ খেলে অ্যাকজিমা, সিরোসিসের হাত থেকে রক্ষা পায় ত্বক। ইলিশ মাছে থাকা প্রোটিন কোলাজেনের অন্যতম উপাদান। এই কোলাজেন ত্বক টাইট ও নমনীয় রাখতে সাহায্য করে।
পেটের যত্নে
ডায়েটে তেলযুক্ত মাছ থাকলে পেটের সমস্যা অনেক কম হয়। আলসার, কোলাইটিসের হাত থেকে রক্ষা করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।
ব্রেন
মস্তিষ্কের ৬০ শতাংশই তৈরি ফ্যাট দিয়ে, যার অধিকাংশই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। যাঁরা নিয়মিত মাছ খান, তাঁদের মধ্যে বয়স বাড়ার পর ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা অনেক কম দেখা যায়। শিশুদের মস্তিষ্কের গঠনেও সাহায্য করে ডিএইচএ। অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার (এডিএইচডি) রোধ করতে পারে ইলিশ মাছ। স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, পড়াশোনায় মনোযোগী করে।
-নিউজ১৮
-প্রথম আলো
-নিজ পাঠ
ধন যখন অস্বস্তির কারণ
কিয়ামতের দিন যেসব ধনী শাস্তির সম্মুখীন হবে
ধন-সম্পদ মহান আল্লাহর নিয়ামত। এটি হালাল পদ্ধতিতে অর্জন করলে এবং আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় ব্যয় করলে এটি জান্নাতের সোপান হতে পারে। কিন্তু কেউ যদি তা অর্জনে এতটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠে যে সে আল্লাহকেই ভুলে যায়, হালাল-হারামের পার্থক্য করে না, সম্পদের নেশায় জুলুম-অত্যাচারে লিপ্ত হয়ে যায়, তাহলে তা সম্পদের মালিককে জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। তাদের পরম যত্নে আগলে রাখা ধন-সম্পদ দিয়েই তাদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। যেই প্রাচুর্যের জন্য যারা মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধের তোয়াক্কা পর্যন্ত করেনি, সেই প্রাচুর্য হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে যাবে। কিয়ামতের দিন কিছু ধনী মানুষ একেবারে নিঃস্ব হয়ে উঠবে। তারা হলো—
জাকাত না দিয়ে সম্পদ জমাকারী : যারা আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ পেয়ে তাঁর শুকরিয়া আদায় করেনি, সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেনি, কিয়ামতের দিন তাদের অবস্থা হবে ভয়াবহ। পবিত্র কোরআনে তাদের শাস্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, আপনি তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। যেদিন জাহান্নামের আগুনে সেগুলো উত্তপ্ত করা হবে এবং সেসব দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর আর পিঠে দাগ দেওয়া হবে, বলা হবে, এগুলোই তা যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। কাজেই তোমরা যা পুঞ্জীভূত করেছিলে তার স্বাদ ভোগ করো।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৪-৩৫)
অনাহারীদের অন্ন না দানকারী : ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অনাহারীর আহারের ব্যবস্থা করা। যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা থেকে বিরত থাকবে, কিয়ামতের দিন তারা কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কিন্তু যার আমলনামা তার বাঁ হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, হায়! আমাকে যদি দেওয়াই না হতো আমার আমলনামা, আর আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব। হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হতো। আমার ধন-সম্পদ আমার কোনো কাজেই এলো না। আমার ক্ষমতাও বিনষ্ট হয়েছে। ফেরেশতাদের বলা হবে, ধরো তাকে, তার গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও। তারপর তোমরা তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়ে দগ্ধ করো। তারপর তাকে শৃঙ্খলিত করো এমন এক শিকলে, যার দৈর্ঘ্য হবে ৭০ হাত, নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানদার ছিল না, আর মিসকিনকে অন্নদানে উতসাহী করত না।’ (সুরা : হাক্কাহ, আয়াত : ২৫-৩৪)
কৃপণ : যেসব কারণে মানুষের ধ্বংস অবধারিত, তার মধ্যে কৃপণতা অন্যতম। এটি বরকত উঠিয়ে নেয়। মহান আল্লাহ কৃপণদের ওপর ভীষণ রাগান্বিত হন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর কেউ কার্পণ্য করলে এবং নিজেরা অমুখাপেক্ষী মনে করলে আর যা উত্তম তাতে মিথ্যারোপ করলে তার জন্য আমরা সুগম করে দেব কঠোর পথ। আর তার সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না, যখন সে ধ্বংস হবে।’ (সুরা : লাইল, আয়াত : ৮-১১)
অশ্লীল কাজে অর্থায়নকারী : যে কাজ করতে গেলে অর্থের প্রয়োজন হয়, তাই যারা ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তারা যেমন ধনীদের দ্বারস্থ হয়, তেমনি যারা মন্দ কাজ করে, তারাও ধনীদের দ্বারস্থ হয়। অশ্লীল ও গুনাহর কাজে অর্থায়ন করা যেকোনো মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ। পাপে সহযোগিতা করার কারণে তাদেরও পাপীদের সমপরিমাণ পাপ বহন করতে হবে এবং মহান আল্লাহর কঠিন আজাবের সম্মুখীন হতে হবে। এ ব্যাপারে সতর্ক করে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর আল্লাহ জানেন তোমরা জানো না। (সুরা : নুর, আয়াত : ১৯)
সুদখোর: সুদ ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্যতম অপরাধ। একে ব্যভিচারের চেয়েও নিকৃষ্ট পাপ মনে করা হয়। কিয়ামতের দিন সুদখোরদের কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সুদ খায় তারা (কিয়ামতের দিন) তার মতো দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৫)
এ ছাড়া বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসে যারা অবৈধ উপায়ে উপার্জন করে এবং গুনাহর কাজে ব্যয় করে, কিয়ামতের দিন তাদের দুর্ভোগের বিষয়ে বহু হুঁশিয়ারি রয়েছে।
Ref: কালের কন্ঠ
সম্পদ ও সৌভাগ্য লাভ
মুসনাদে আহমদ ও সুনানে তিরমিজিতে আবু কাবাশা আনসারি (রহ.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে বলা হয়েছে, জ্ঞানীদের আচার-আচরণে জ্ঞানের বিশেষ প্রভাব আছে এবং একইভাবে মূর্খদের আচার-আচরণে মূর্খতার প্রভাব আছে। জ্ঞান লাভ ও অজ্ঞতার বিচারে পৃথিবীর মানুষ চার প্রকার। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘দুনিয়া চার শ্রেণির মানুষের জন্য। তারা হলো—
১. আল্লাহ যে বান্দাকে সম্পদ ও জ্ঞান দান করেছেন। অতঃপর সে তাতে (সম্পদ আয় ও ব্যয় করার ক্ষেত্রে) প্রতিপালককে ভয় করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে, সে তাতে আল্লাহর অধিকার স্বীকার করে। এটাই সর্বোত্তম স্তর।
২.
“হে জ্ঞান,
করেছো ধনী কতনা জাতিরে
যাহারে ছেড়েছো
সে ই ডুবেছে তিমেরে।”
যে বান্দাকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন, কিন্তু সম্পদ দান করেননি। তবে তার নিয়ত পরিশুদ্ধ। ফলে সে বলে, যদি আমার সম্পদ থাকত, তবে আমি অমুক কাজ করতাম। তাকে তার নিয়ত অনুসারে সওয়াব দেওয়া হবে। প্রতিদান লাভে দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রথম ব্যক্তির মতো। অর্থাত দান-সদকা ও আর্থিক ইবাদত করতে না পারলেও আল্লাহ তাকে সওয়াব দিয়ে দেবেন।
সোনার পাত্র ভাঙিলেও তারে
সোনা বলি সমাদর,
ধন নাশে জ্ঞানী জ্ঞানীই থাকে গো
অক্ষয় গুণাকর
মূর্খের যদি ধন নাশ হয়
কি বা মূল্য তার
মাটির পাত্র ভাঙিবা মাত্র
হয়ে যায় ধুলিসার।
৩. যে ব্যক্তিকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু জ্ঞান দান করেননি। ফলে সে জ্ঞানহীন অবস্থায় সম্পদ ব্যয় করে। সে তাতে আল্লাহকে ভয় করে না, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে না এবং তাতে আল্লাহর অধিকার আছে, তা-ও সে জানে না। এই ব্যক্তি সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
৪. যে ব্যক্তিকে আল্লাহ জ্ঞানও দেননি এবং সম্পদও দেননি। সে বলে, আমার সম্পদ থাকলে আমি অমুক ব্যক্তির তথা তৃতীয় জনের মতো (পাপ কাজ) করতাম। সে তার নিয়ত অনুসারে প্রতিদান পাবে এবং তাদের উভয়ের পরিণতি একই রকম হবে। অর্থাত মন্দ কাজ না করেও সে পাপের ভাগীদার হবে।
উল্লিখিত হাদিসে মানুষ ও পৃথিবীতে তাদের প্রাপ্তিকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণি হলো যাদের জ্ঞান ও সম্পদ উভয়টি দেওয়া হয়েছে। এখানে জ্ঞান দ্বারা দূরদৃষ্টি, বিবেক-বুদ্ধি ও গভীর বোধ-উদ্দেশ্য, যা মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শন করে, তাকে পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করে। তার জ্ঞান তাকে বোঝায় সম্পদ মাধ্যম, গন্তব্য নয়। সে সম্পদের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি মাত্র। নিশ্চয়ই সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ। সুতরাং তার সম্পদে আল্লাহর সুদৃঢ় অধিকার আছে। ফলে সে সম্পদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, সে নিজের প্রতি সুবিচার করে এবং জ্ঞান ও সম্পদ দ্বারা মানুষের প্রতি সুবিচার করে। এটাকেই হাদিসে সর্বোত্তম স্তর বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ মর্যাদায় প্রথম শ্রেণির মতো। তারা হলো যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তবে সম্পদ দেওয়া হয়নি। ফলে তারা অর্থ ব্যয় করতে পারে না, দান করতে পারে না, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে পারে না। তবে তাদের এসব কাজ করার নিয়ত থাকে। কেননা জ্ঞান থাকায় তারা জানে আল্লাহ এসব কাজে সন্তুষ্ট হন। নিয়তের বিনিময়ে আল্লাহ তাদের উপযুক্ত প্রতিদান দেন। তবে নিয়ত মনের ভেতর উঁকি দেওয়া বা ভাসমান কোনো বিষয় নয়। বরং নিয়ত হলো সুদৃঢ় ইচ্ছা। মনের গভীরে যা স্থান করে নেয়। জ্ঞানী ব্যক্তির চিন্তা-ভাবনা ও আগ্রহ-উদ্দীপনায় নেক কাজের ইচ্ছা প্রবল থাকে। এ জন্য আল্লাহ তাকে প্রথম জনের মতো উত্তম প্রতিদান দেবেন।
তৃতীয় শ্রেণি, যাদের সম্পদ দেওয়া হয়েছে তবে জ্ঞান দেওয়া হয়নি। অর্থাত সে এমন উপকারী জ্ঞান থেকে বঞ্চিত ছিল, যা তাকে আল্লাহভীতি শেখাবে, তার দৃষ্টির জ্যোতি হবে, ভালো কাজের আগ্রহ তৈরি করবে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। হাদিসের ভাষায় এটাই নিকৃষ্টতম স্থান। তার এই অধঃপতনের কারণ হলো অজ্ঞতার মধ্যে ডুবে থাকা এবং জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হওয়া। জ্ঞান না থাকায় সে জানে না তার সম্পদে আল্লাহর অধিকার আছে, সে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে না, সম্পদ দ্বারা অন্যের প্রতি সুবিচার করে না এবং সম্পদ অর্জন ও ব্যয়ে তার প্রতিপালক মহান আল্লাহকে ভয় করে না। ফলে তার সম্পদ ও প্রাচুর্য তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এমন সম্পদ তার না থাকাই তার জন্য কল্যাণকর ছিল। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাকে যে সম্পদ দান করেছিলেন, তা দ্বারা সে জান্নাতের পাথেয় অর্জন করতে পারত। কিন্তু তা না করে সে জাহান্নামের পথ প্রশস্ত করেছে।
চতুর্থ শ্রেণির মানুষকে জ্ঞান ও সম্পদ কোনোটাই দান করা হয়নি। কিন্তু তার অজ্ঞতা ও অন্ধত্বের কারণে তার প্রত্যাশা ছিল যদি সে সম্পদ লাভ করে, তবে তা অবশ্যই প্রবৃত্তিপূজা ও পাপ কাজে ব্যয় করবে। ঠিক যেমনটি করে তৃতীয় শ্রেণির মূর্খ ধনী। ফলে সে তাদেরই দলভুক্ত হয়ে যায়। মন্দ নিয়তের কারণে সে তাদের উভয়ের পাপের ভাগ সমান হয়ে যায়। এই ব্যক্তি সবচেয়ে নির্বোধ ও বোকা। সে তার পরকালকে নষ্ট করেছে অথচ পার্থিব জীবনেও তার কোনো অর্জন নেই। তার মন্দ পরিণতির জন্য তার মন্দ নিয়ত ও খারাপ ইচ্ছাই শুধু দায়ী। নিঃসন্দেহে সে-ই সবচেয়ে হতভাগ্য, যে পৃথিবীতে দরিদ্রের জীবন যাপন করে এবং পরকালেও তার জন্য প্রস্তুত থাকে জাহান্নামের শাস্তি।
হাদিসের ব্যাখ্যা ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, প্রথম দুই শ্রেণি সৌভাগ্যবান। তাদের জ্ঞান ও জ্ঞানানুযায়ী তাদের আমল তাদের সৌভাগ্যের কারণ হয়েছে। দ্বিতীয় দুই শ্রেণি হতভাগ্য। অজ্ঞতা ও অজ্ঞতার পরিণতি তাদের দুর্ভাগ্যের কারণ হয়েছে।
-ড. ইউসুফ আল-কারজাভি/কালের কন্ঠ/নিজ পাঠ
তেজী বটে তেজপাতা!!
তেজী বটে তেজপাতা!!
বাঙালি রান্নায় নিয়মিত তেজপাতা ব্যবহার হয়। সুগন্ধ তো বটেই, এ ছাড়াও এই পাতার অনেক গুণ। এর নানা উপাদান শরীরের নানা কাজে লাগে। কিন্তু রান্নার সময়ে গরম কড়াইয়ে তেজপাতা দিলে, তা থেকে যে ধোঁয়া ওঠে, সেটি শরীরে এক বিশেষ ধরনের প্রভাব ফেলে। এমনই বলছেন বিজ্ঞানীরা।
রান্নার সময়ে তেজপাতা থেকে তৈরি হওয়া ধোঁয়া শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে, তার আগে জেনে নেওয়া যাক, তেজপাতার গুণগুলি।
• তেজপাতা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। যাঁরা ডায়াবিটিসের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের খাবার রান্নার সময়ে তেজপাতা মেশাতে পারেন। শর্করার মাত্রা কমবে।
• শরীরে জমা দূষিত পদার্থ তেজপাতা বার করে দেয়। ফলে ওজন কমে।
• তেজপাতা হৃদ্রোগের আশঙ্কা কমায়। যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের রান্নায় তেজপাতা মেশানো যেতে পারে। রক্তচাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এই গুণগুলির কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু তেজপাতার ধোঁয়া শরীরে গেলেও তার সুফল আছে। এমনই বলছেন কয়েক জন বিজ্ঞানী। দেখা গিয়েছে, তেজপাতার ধোঁয়া নাকে ঢুকলে কয়েকটি হরোমোনের ক্ষরণ বাড়ে। এই হরোনেগুলি মন ভাল রাখতে সাহায্য করে। ফলে রান্নার সময়ে তাতে তেজপাতা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার সুফল পাওয়া যায়।
মশলার নাম “গরম” কেন?
'গরম মশলা' বললেই আমরা 'আহ্' বলে উঠি। একটা আস্বাদের আঘ্রাণ যেন লেগে যায় জিভে। এ কথা ঠিক যে, গরম মশলা যে কোনও রান্নার স্বাদ বৃদ্ধি করে। কিন্তু গরম মশলাকে কেন 'গরম মশলা' বলে?
গরম মশলা আসলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, তাই এই মশলার নামের সঙ্গে 'গরম' শব্দটি যুক্ত হয়ে গিয়েছে। রান্নায় অতিরিক্ত গন্ধ এবং স্বাদ যোগ করে এই মশলা। তবে এই মশলার ফলে শরীরে যে তাপমাত্রা তৈরি হয় তা খারাপ নয়, তা প্রকারান্তরে স্বাস্থ্যের কাজেই লাগে। তা রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়িয়ে দেয়।
গরম মশলা আসলে নানা মশলার একটা মিশ্রণ। এতে থাকে গোলমরিচ, বড় এলাচ, ছোট এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ। কখনও কখনও এ সবের সঙ্গে তেজপাতা, জায়ফল, জৈয়ত্রীও যোগ করা হয়।
গরম মশলায় থাকা প্রতিটি মশলারই আলাদা আলাদা কার্যকারিতা রয়েছে। যেমন দারুচিনি হৃদরোগ, সুগার ইত্যাদি রোধ করে। এমনকী ক্যান্সারের প্রতিকারেও কাজে লাগে। এভাবে প্রতিটি মশলাই কোনও না কোনও ভাবে শরীরকে রক্ষা করে।
ঘরেই গরম মশলা বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে। গোটা গোলমরিচ, বড় এলাচ, ছোট এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা, জায়ফল, জৈয়ত্রীকে ছোট ছোট টুকরোয় ভেঙে গুঁড়ো করে নিয়ে তা বায়ু-নিরোধক কোনও কৌটোয়ে রেখে দেওয়া যেতে পারে। এর পর প্রয়োজনমতো একটু একটু ব্যবহার করলেই হল।
-জিনিউজচব্বিশঘন্টা
ক্ষুদ্র গ্লিটার(GLITTER) বৃহত ক্ষতি
ক্ষুদ্র গ্লিটার(GLITTER) বৃহত ক্ষতি
গ্লিটার হল ছোট, প্রতিফলিত কণার একটি ভাণ্ডার যা বিভিন্ন আকার, আকার এবং রঙে আসে। চকচকে কণাগুলি বিভিন্ন কোণে আলো প্রতিফলিত করে, যার ফলে পৃষ্ঠটি ঝলমলে বা ঝলমলে হয়। বাচ্চারা ছবি আঁকার সময় এগুলো ব্যবহার করে।
চলতি মাসে রিডার্স ডাইজেস্টে একটি লেখা এসেছে, “Small steps can stop harming our Oceans”-শীর্ষক শিরোনামে। লেখাটি আমি বেশ মনযোগ দিয়ে পড়েছি। কিন্তু একটি জায়গায় এসে আমার চোখ দুটো আটকে যায়। ওরা লিখেছে- NOT ONLY IS GLITTER REALLY ANNOYING AND IMPOSSIBLE TO GET OUT OF YOUR HOUSE, BUT IT IS ALSO TERRIBLE FOR THE OCEANS. “MOST GLITTER PRODUCTS USED FOR CHILDREN’S ARTS AND CRAFTS ARE MADE FROM PLASTIC AND WHEN WASHED DOWN THE KITCHEN SINK WILL CONTRIBUTE THE GROWING OF MICROPLASTICS IN OUR ENVIRONMENT-“ SAYS DR. DUNE IVES, CEO OF LONELY WHALE-AN ENVIRONMENTAL ORGANISATION.
MICROPLASTICS ARE CONSUMED BY FISH BIRDS AND SEA TURTLES.
ONE STUDY FOUND THAT MICROPLASTICS HAVE BEEN CONTAMINATED THE DEEPEST POINT OF THE OCEAN, CHALLENGER DEEP, IN THE PACIFIC OCEAN’S MARIANA TRENCH, SHE SAYS. BUT YOU DON’T HAVE TO GIVE UP YOUR CHILDRE’S CRAFT PROJECTS-INSTEAD OPT FOR ECO-FRIENDLY ALTERNATIVES SUCH AS FOOD COLORING SALTS.
এখন আমরা চিন্তা করে দেখি যে ছেলে-মেয়েদের আঁকিবুকিতে আমরা যে গ্লিটার ব্যবহার করার জন্য উতসাহি করছি তাদেরকে কিনেও দিচ্ছি, সেই গ্লিটার যদি রান্না ঘরের সিঙ্ক বা বেসিন গড়িয়ে পৃথিবীর গভীরতম খাঁড়ি চ্যালেঞ্জার ডীপের ম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চ অব্দি যায়- আর সেগুলো যদি পাখি, মাছ এবং সাগরে বিচরণশীল কচ্ছপগুলো খায় আর আমরা সেই প্রাণীগুলো যদি খেয়ে নিই -তাহলে গ্লিটারতো আমদের তথা মানুষের পেটেই এলো?
ঈশপের গল্প:
সেই ছোট বেলায় শোনায় ঈশপের গল্প মনে পড়ে গেল। গল্পটি এ রকম করে লেখাঃ
এক জলাশয়ে অনেক ভেক (ব্যাঙ) বাস করত। একবার কতগুলো বালক খেলাচ্ছলে সেই জলাশয়ে পাথর নিক্ষেপ করতে লাগল। বালকদের ছোঁড়া পাথরে অনেক ভেক মারা গেল, অনেক হলো আহত। অবশেষে এক সাহসী ভেক উঠে এল কিনারে। বলল, তোমরা আমাদের গায়ে পাথর ছুঁড়ে মারছ কেন?
বালকেরা বলল, এটা তো আমাদের কাছে খেলা।
সর্দার ভেক বলল, ওটা তোমাদের জন্য খেলা হতে পারে। কিন্তু আমাদের জন্য মরণ।
সেই ভেককুলের গল্পের মত এখনকার মাইক্রেপ্লাষ্টিক গ্লিটার। ওরা শুধু সামুদ্রিক প্রাণীই নয়-আমাদেরকেও মারছে।
আমরা সচেতন হবো কবে? কবে?
আল্লাহ পাক তার গ্রন্থ আল করআনে মানুষকে ভালবেসে উল্লেখ করেছেন, ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
জাহারাল ফাছা-দুফিল বাররি ওয়ালবাহরি বিমা-কাছাবাত আইদিন্না-ছি লিইউযীকাহুম বা‘দাল্লাযী ‘আমিলূলা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।– সূরা আর রূম, আয়াত নং-৪১
মানুষ নিজ হাতে যা কামাই, তার ফলে স্থলে ও জলে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে, আল্লাহ তাদেরকে তাদের কতক কৃতকর্মের স্বাদ গ্রহণ করাবেন সে জন্য; হয়ত (এর ফলে) তারা ফিরে আসবে।
দুনিয়ায় যে ব্যাপক বালা-মুসিবত দেখা দেয়, যেমন দুর্ভিক্ষ, মহামারি, ভূমিকম্প, শত্রুর আগ্রাসন, জালিমের আধিপত্য ইত্যাদি, এসবের প্রকৃত কারণ ব্যাপকভাবে আল্লাহ তাআলার হুকুম অমান্য করা ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়া। এভাবে এসব বিপদাপদ মানুষের আপন হাতের কামাই হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা মানুষের উপর এসব বিপদাপদ চাপান এজন্য, যাতে মানুষের মন কিছুটা নরম হয় এবং দুষ্কর্ম থেকে নিবৃত্ত হয়। প্রকাশ থাকে যে, দুনিয়ায় যেসব বিপদাপদ দেখা দেয়, অনেক সময় তার বাহ্যিক কারণও থাকে যা প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী আপন কার্য প্রকাশ করে। কিন্তু এটা তাে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সেই কারণও আল্লাহ তাআলারই সৃষ্টি এবং বিশেষ সময় ও বিশেষ স্থানে তার সক্রিয় হওয়াটাও আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তিনি নিজের সে ইচ্ছা সাধারণত মানুষের পাপাচারের ফলেই কার্যকর করেন। এভাবে এ আয়াত শিক্ষা দিচ্ছে, সাধারণ বালা-মুসিবতের সময় নিজেদের গুনাহের কথা স্মরণ করে আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা ও ইস্তিগফারে লিপ্ত হওয়া চাই, যদিও আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তা বাহ্যিক কোন কারণ ঘটিত বিষয়।
আল কুরআন বিষ্ময়করভাবে সত্য কথাই বলে আমাদের ভালোর জন্য! কিন্ত আমরা বিষ্ময়করভাবে নির্বিকার।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন ২০৫০ সাল নাগাদ আমাদের মহাসাগরগুলোতে মাছের চেয়ে প্লাষ্টিকের ওজন হবে দ্বিগুণ বা ৪ গুণ।
Source:
Al Quran
Reader’s Digest
Subscribe to:
Posts (Atom)