Monday, November 29, 2021

সহনশীলতার লড়াই

 সহনশীল হও। আল্লাহ নিজে সহনশীল

সহনশীলতা এমন একটি গুণ যা সবার ভাগ্যে জোটেনা-
আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আল্লাহ কোমল। তাই তিনি প্রতিটি কাজে কোমলতা পছন্দ করেন। (বুখারী, মুসলিম)
গল্পের শুরু
জর্জ ডব্লিউ ম্যাকলরেন। ১৯৪৮ সালে জর্জ ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করেন(খুব সম্ভবত ৫৮ বছর বয়সে), সেখান থেকে স্নাতকত্ব ডিগ্রি অর্জন করার জন্যে। কিন্তু তার আবেদনপত্র বাতিল করা হয়, তার কালো রঙের জন্যে। বর্ণবৈষম্যের স্বীকার হয়েছিলেন তিনি।
হার মানেন নি তিনি। কোর্টে গেলেন। জিতে গেলেন কেস। ভর্তি হলেন ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটিতে।
লড়াই এখানেই থেমে থাকলো না। আইনগত ভাবে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে পেলেও, আর সকলের সাথে বসার সৌভাগ্য হলো না। ঘরের এক কোনায় সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের থেকে আলাদা হয়ে বসতে বাধ্য করা হল তাকে।
একদিন বা দুই দিন নয়। টানা দুই বছর তিনি সেইভাবে ক্লাস করে গেলেন। ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে তখন প্রায় ১২ হাজার ছাত্র ছাত্রী। একমাত্র জর্জ - প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান মানুষ সেই ইউনিভার্সিটিতে এই ভাবে ক্লাস করে গেলেন।
এইভাবে প্রতিদিন অপমানিত লাঞ্ছিত বঞ্চিত তিরস্কৃত হয়ে তিনি আবার কোর্টে গেলেন। ততদিনে বেশ কিছু কালো, সংখ্যালঘু, আদিবাসী আমেরিকানরা সেই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। তাদেরও সাথে জর্জের মত ব্যবহার করা হতো। তাদের লাইব্রেরি, বসার জায়গা, পড়ার জায়গা সব আলাদা।
কোর্টের রায় এলো আবার জর্জের পক্ষেই। আসতে আসতে তারাও অধিকার পেলো ক্লাসের সবার সাথে বসার।
জর্জের কথায়, “সহপাঠীরা তার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে থাকত, সে যেন একটা পশু। কেউ তার সাথে কথা বলতো না, শিক্ষকরা তার উপস্থিতি অবজ্ঞার সাথে উপেক্ষা করে দিতো। তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হতো না। কিন্তু তিনি এমনভাবে পড়াশুনা করেছিলেন যে শেষের দিকে তারা আমার খোঁজ নিত। তারা(ছাত্ররা) তাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ও বুঝতে আমার কাছে আসতো।”
"Some colleagues would look at me like I was an animal, no one would give me a word, the teachers seemed like they were not even there for me, nor did they always take my questions when I asked. But I devoted myself so much that afterwards, they began to look for me to give them explanations and to clear their questions."
ইউনিভার্সিটির তিনজন উল্লেখযোগ্য ছাত্রের মধ্যে তার নাম উল্লিখিত হয়েছিল। পরবর্তী কালে তিনি কানসাস ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করেন এবং সেখানেই প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন।
এতো সহনশীলতা, কষ্ট সহ্য করার এত ক্ষমতা - আমাদের সকলের কাছে পূজনীয়। সমস্ত প্রতিকূলতাকে পরাজিত করে, পড়াশুনার জন্যে, নিজের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যে তার এই লড়াই আর অধ্যবসায় - প্রতিটি মানুষের জীবনের চলার পথের পাথেয় হয়ে ওঠা উচিত।
গল্পের শেষ
আমার প্রশ্ন হলো আমরা জর্জ ডব্লিউ ম্যাকলরেন-এঁর মত কতজন হতে পেরেছি?
কষ্ট থেকেই বোধ করি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছিলেন-
জগত জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথি।
শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা
সবাই আমরা সমান বুঝি,
কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।
দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো,
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা,
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।
বাহিরের ছোপ আঁচড়ে সে লোপ
ভিতরের রং পলকে ফোটে,
বামুন, শূদ্র, বৃহত, ক্ষুদ্র
কৃত্রিম ভেদ ধুলায় লোটে।
রাগে অনুরাগে নিদ্রিত জাগে
আসল মানুষ প্রকট হয়,
বর্ণে বর্ণে নাইরে বিশেষ
নিখিল জগত ব্রহ্মময়।
বংশে বংশে নাহিকো তফাত
বনেদি কে আর গর-বনেদি,
দুনিয়ার সাথে গাঁথা বুনিয়াদ
দুনিয়া সবারি জনম-বেদি।
সূত্র:
আল হাদীস
বিএন.কোর.ডটকম
-বাঙলা সংকলন
-নিজ পাঠ

সহনশীলতা নিয়ে কিছু ভাল ভাল কথা

 সহনশীলতা নিয়ে কিছু ভাল ভাল কথা

ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) আবদুল কায়েস গোত্রের আশাজ্জাকে বললেনঃ তোমার মধ্যে এমন দু’টি গুণ বা অভ্যাস রয়েছে যা আল্লাহও পছন্দ করেনঃ সহনশীলতা ও ধীর-স্থিরতা। (মুসলিম ৬৩২)
আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আল্লাহ কোমল। তাই তিনি প্রতিটি কাজে কোমলতা পছন্দ করেন। (বুখারী, মুসলিম-৬৩৩)
আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (সা) বলেছেনঃ আল্লাহ নিজে কোমল। তিনি কোমলতা ভালোবাসেন। তিনি কোমলতার দ্বারা ঐ জিনিস দান করেন যা কঠোরতার দ্বারা দেন না। (মুসলিম-৬৩৪)
আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (সা) বলেছেনঃ যে জিনিসে কোমলতা থাকে, কোমলতা সেটিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। যে জিনিস থেকে কোমলতা ছিনিয়ে নেয়া হয় সেটাই দোষদুষ্ট ও ত্রুটিযুক্ত হয়ে যায়। (মুসলিম ৬৩৫)
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করলে লোকেরা ঝাঁপিয়ে পড়তে উঠে দাঁড়াল। নবী (সা) বলেনঃ ছাড় তাকে। তার পেশাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। তোমাদেরকে সহজ নীতি অবলম্বনকারী হিসাবে পাঠানো হয়েছে, কঠোর নীতির ধারক হিসেব নয়। (বুখারী ৬৩৬)
আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (সা) বলেছেনঃ তোমরা সহজ নীতি ও আচরণ অবলম্বন কর, কঠোর নীতি অবলম্বন করো না। সুসংবাদ শোনাতে থাক এবং পরস্পর ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িও না। (বুখারী, মুসলিম ৬৩৭)
জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ যাকে কোমলতা বঞ্চিত করা হয়েছে, তাকে সব রকমের কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত করা হয়েছে। (মুসলিম ৬৩৮)
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (সা) কে বলল, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বলেনঃ রাগ করো না। লোকটি (এটাকে যথেষ্ট মনে না করে) কথাটিকে কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করলো। নবী (সা) বারবার বলেনঃ রাগ করো না। (বুখারী ৬৩৯)
আবু ইয়া’লা শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেনঃ আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের প্রতি দয়া-মায়াপূর্ণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছেন। অতএব তোমরা কোন প্রাণীকে হত্যা করলে, উত্তমভাবে হত্যা করবে এবং কোন প্রাণীকে যবেহ করলে উত্তমভাবে যবেহ করবে। তোমাদের প্রত্যেকেই যেন তার ছুরিকে শানিত করে নেয় এবং যবেহ করার প্রাণীকে আরাম দেয়। (মুসলিম ৬৪০)
আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা) কে দু’টি বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণ করার ইখতিয়ার দেয়া হলে তিনি সর্বদাই অপেক্ষাকৃত সহজটি গ্রহণ করতেন, যদি না তা গুনাহর বিষয় হত। তা গুনাহর বিষয় হলে তা থেকে তিনি সকলের চাইতে বেশি দূরে অবস্থানকারী হতেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ব্যক্তিগত কোন বিষয়ে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে আল্লাহর বিধান লংঘিত হলে তিনি শুধু মহান আল্লাহর জন্যই প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন। (বুখারী, মুসলিম ৬৪১)
ইবনে মাসঊদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের জানাব না যে, কোন লোক জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম অথবা কার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম? জাহান্নামের আগুন এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য হারাম যে লোকদের নিকটে বা তাদের সাথে মিলেমিশে থাকে, যে কোমলমতি, নরম মেজাজ ও বিনম্র স্বভাব বিশিষ্ট। ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

Monday, November 22, 2021

বেশী ধারণা ও অনুমান করা থেকে বিরত থাকো।

 অনুমান যদি নিজের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যের ওপর গিয়ে পড়ে এবং তা কোনো মন্দ বিষয়ে হয়ে থাকে তখন সেটাকে আমরা মন্দ বা কুধারণা বলে থাকি। সমাজে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতি রক্ষার জন্যে এ মন্দ ধারণা হুমকিস্বরূপ। কারো সঙ্গে মুক্ত মনে কিংবা ভালো ধারণা রেখে চলাফেরা করা আর তার সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করে ওঠাবসার করার মাঝে স্বাভাবিকভাবেই বিস্তর ফারাক রয়েছে। কোনো দলিল-প্রমাণ ছাড়া অনর্থক কারো সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করতে তাই ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে কারিমে আল্লাহ বলেন , “হে ঈমানদাগণ, বেশী ধারণা ও অনুমান করা থেকে বিরত থাকো কারণ কোন কোন ধারণা ও অনুমান গুনাহ ৷

–সূরা হুজরাত আয়াত- ১২
একেবারেই ধারণা(অনুমান) করতে নিষেধ করা হয়নি ৷ বরং খুব বেশী ধারণার ভিত্তিতে কাজ করতে এবং সব রকম ধারণার অনুসরণ থেকে মানা করা হয়েছে ৷ এর কারণ বলা হয়েছে এই যে, অনেক ধারণা গুনাহের পর্যায়ের পড়ে ৷ এ নির্দেশটি বুঝার জন্য আমাদের বিশ্লেষণ করে দেখা উচিত ধারণা কত প্রকার এবং প্রত্যেক প্রকারের নৈতিক অবস্থা কি?
প্রথম প্রকারের ধারণা হচ্ছে, যা নৈতিকতার দৃষ্টিতে অত্যন্ত পছন্দনীয় এবং দীনের দৃষ্টিতেও কাম্য ও প্রশংসিত ৷ যেমনঃ আল্লাহ, তার রসূল এবং ঈমানদারদের ব্যাপারে ভাল ধারণা পোষণ করা ৷ তাছাড়া যাদের সাথে ব্যক্তির মেলামেশা ও ওঠাবসা আছে এবং যাদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষনের কোন যুক্তিসংগত কারণ নেই ৷
দ্বিতীয় প্রকার ধারণা আছে যা বাদ দিয়ে বাস্তব জীবনে চলার কোন উপায় নেই ৷ যেমন আদালতে বিচারকের সামনে যেসব সাক্ষ পেশ করা হয় তা যাঁচাই বাছাই করে নিশ্চিত প্রায় ধারণার ভিত্তিতে ফায়সালা করা ছাড়া আদালত চলতে পারে না ৷ কারণ, বিচারকের পক্ষে ঘটনা সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয় ৷ আর সাক্ষের ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নিশ্চিত সত্য হয়না, বরং প্রায় নিশ্চিত ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ৷ যে ক্ষেত্রে কোন না কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরী হয়ে পড়ে, কিন্তু বাস্তব জ্ঞান লাভ বাস্তব হয় না সে ক্ষেত্রে ধারণার ওপর ভিত্তি করে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ছাড়া মানুষের জন্য আর কোন উপায় থাকে না ৷
তৃতীয় এক প্রকারের ধারণা আছে যা মূলত খারাপ হলেও বৈধ প্রকৃতির ৷ এ প্রকারের ধারণা গোনাহের অন্তরভুক্ত হতে পারে না ৷ যেমনঃ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির চরিত্র ও কাজ-কর্মে কিংবা তার দৈনন্দিন আচার -আচরণ ও চালচলে এমন সুস্পষ্ট লক্ষণ ফুটে উঠে যার ভিত্তিতে সে আর ভাল ধারণার যোগ্য থাকে না ৷ বরং তার প্রতি খারাপ ধারণা পোষণের একাধিক যুক্তিসংগত কারণ বিদ্যমান ৷ এরূপ পরিস্থিতিতে শরীয়াত কখনো এ দাবী করে যে, সরলতা দেখিয়ে মানুষ তার প্রতি অবশ্যই ভাল ধারণা পোষণ করবে ৷ তবে বৈধ খারাপ ধারণা পোষনের চূড়ান্ত সীমা হচ্ছে তার সম্ভাব্য দুস্কৃতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ৷ নিছক ধারণার ভিত্তিতে আরো অগ্রসর হয়ে তার বিরুদ্ধে কোন তৎপরতা চালানো ঠিক নয় ৷
চতুর্থ আরেক প্রকারের ধারণা আছে যা মূলত গুনাহ, সেটি হচ্ছে, বিনা কারণে কারো অপরের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা কিংবা অন্যদের ব্যাপারে মতস্থির করার বেলায় সবসময় খারাপ ধারণার ওপর ভিত্তি করেই শুরু করা কিংবা এমন লোকেদের ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করা যাদের বাহ্যিক অবস্থা তাদের সৎ ও শিষ্ট হওয়ার প্রমাণ দেয় ৷ অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তি কোন কথা বা কাজে যদি ভাল ও মন্দের সমান সম্ভবনা থাকে কিন্তু খারাপ ধারণার বশবর্তী হয়ে আমরা যদি তা খারাপ হিসেবেই ধরে নেই তাহলে তা গোনাহের কাজ বলে গণ্য হবে ৷ যেমনঃ কোন সৎ ও ভদ্র লোক কোন মাহফিল থেকে উঠে যাওয়ার সময় নিজের জুতার পরিবর্তে অন্য কারো জুতা উঠিয়ে নেন আমরা যদি ধরে নেই যে, জুতা চুরি করার উদ্দেশ্যেই তিনি এ কাজ করেছেন ৷ অথচ এ কাজটি ভুল করেও হতে পারে ৷ কিন্তু ভাল সম্ভাবনার দিকটি বাদ দিয়ে খারাপ সম্ভাবনার দিকটি গ্রহণ করার কারণ খারাপ ধারণা ছাড়া আর কিছুই নয় ৷
এ বিশ্লেষণ থেকে একথা পরিস্কার হয়ে যায় যে, ধারণা করা যেমন নিষিদ্ধ বিষয় নয় ৷ বরং কোন কোন পরিস্থিতিতে তা পছন্দনীয়, কোন কোন পরিস্থিতিতে অপরিহার্য, কোন কোন পরিস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত জায়েয কিন্তু ঐ সীমার বাইরে নাজায়েয এবং কোন কোন পরিস্থিতিতে একেবারেই নাজায়েয ৷ তাই একথা বলা হয়নি যে, ধারণা বা খারাপ ধারণা করা থেকে একদম বিরত থাকো ৷ বরং বলা হয়েছে, অধিকমাত্রায় ধারণা করা থেকে বিরত থাকো ৷ তাছাড়া নির্দেশটির উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট করার জন্য আরো বলা হয়েছে , কোন কোন ধারণা গোনাহ ৷ এ সতর্কীকরণ দ্বারা আপনা থেকেই বুঝা যায় যে, যখনই কোন ব্যক্তি ধারণার ভিত্তিতে কোন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কিংবা কোন পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তখন তার ভালভাবে যাচাই বাছাই করে দেখা দরকার, যে ধারণা সে পোষণ করেছে তা গোনাহের অন্তর্ভুক্ত নয় তো? আসলেই কি এরূপ ধারণা পোষনের দরকার আছে? এরূপ ধারণা পোষনের জন্য তার কাছে যুক্তিসংগত কারণ আছে কি? সে ধারণার ভিত্তিতে সে যে কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছে তা কি বৈধ? যেসব ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এতটুকু সাবধানতা তারা অবশ্যই অবলম্বন করবে ৷ লাগামহীন ধারণা পোষণ কেবল তাদেরই কাজ যারা আল্লাহর ভয় থেকে মুক্ত এবং আখেরাতের জবাবদিহি সম্পর্কে উদাসীন ৷

আসক্তি

 আসক্তি নিয়ে কুরআন

আল্লাহ্ বলেন- ‘নারী, সন্তান-সন্ততি, জমাকৃত সোনা-রূপার ভাণ্ডার, পছন্দসই (চিহ্নিত) ঘোড়া, চতুষ্পদ জন্তু ও ক্ষেত-খামার প্রভৃতি কামনীয় জিনিসকে মানুষের নিকট শোভনীয় করা হয়েছে। এসব ইহজীবনের ভোগ্য বস্তু। আর আল্লাহর কাছেই উত্তম আশ্রয়স্থল রয়েছে’ (ইমরান: ১৪)।
‘কামনীয় জিনিস’ বলতে এখানে এমন সব জিনিসকে বুঝানো হয়েছে, প্রাকৃতিকভাবে মানুষ যার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং যা পছন্দ করে। এই জন্যই তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়া এবং তা ভালোবাসা অপছন্দনীয় নয়। আকর্ষণীয় এই সুশোভন আল্লাহর পক্ষ হতে মানুষের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। তিনি বলেন, ‘আমি পৃথিবীস্থ সব কিছুকে পৃথিবীর জন্য শোভা করেছি মানুষকে পরীক্ষার জন্য।-’ (সূরা কাহ্ফ ১৮:৭)।
আলোচ্য আয়াতে কামনীয় জিনিসের মধ্যে সর্বপ্রথম মহিলার কথা উল্লেখ হয়েছে। রমণী পুরুষের কাছে সর্বাধিক বেশি রমণীয় ও কমনীয়। রাসূল সা: বলেছেন, ‘মহিলা এবং সুগন্ধি আমার কাছে অতি প্রিয় জিনিস’ (মুসনাদে আহমদ)। অনুরূপ তিনি বলেছেন, ‘নারী হলো দুনিয়ার সব চেয়ে উৎকৃষ্টমানের সামগ্রী।’
তাই যদি নারীর প্রতি (বৈধ) ভালোবাসা শরীয়তের সীমা অতিক্রম না করে, তা হবে আখিরাতের সম্বলও।

হলুদ ও রোগ নিরাময়

রান্নাঘরে হলুদ আছে?

সমাধান আছে জলদি
বেশির ভাগ বাঙালি হেঁশেলেই হলুদ থাকে। গুঁড়ো হলুদ বেশি ব্যবহার হলেও, কেউ কেউ নিয়মিত কাঁচা হলুদ কেনেন বাজার থেকে। তবে হালে কাঁচা হলুদ খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। কারণ অতিমারির শুরুতে অনেকে দাবি করেছিলেন, কাঁচা হলুদ না কি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে পারে। যদিও সেই দাবির সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
তবে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পারুক বা না পারুক, হলুদের অন্য অনেক গুণ আছে। সেগুলি ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। এমনই কয়েকটির তালিকা রইল
• গাঁটের ব্যথা সারায়: অনেকেরই হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা হয়। এগুলি মূলত বাতের ব্যথা। হলুদে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলি বাতের ব্যথা কমাতে পারে। হাড়ের সংযোগস্থলের নমনীয়তা বাড়ায় হলুদ। দীর্ঘ দিনের পুরনো ব্যথাও কমিয়ে দিতে পারে অনেকাংশে।
• যকৃতের ক্ষমতা বাড়ে: প্রতি দিন খাবারের সঙ্গে নানা দূষিত পদার্থ শরীরে ঢোকে। এগুলি শরীরের নানা ক্ষতি করে। সবচেয়ে বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় যকৃত। হলুদে উচ্চমানের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আছে। এটি যকৃত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এর ক্ষমতাও বাড়ায়।
• রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি হয়: হলুদ এমন একটি খাবার, যার মধ্যে একই সঙ্গে ব্যাক্টিরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাক জাতীয় সংক্রমণ আটকানোর উপাদান রয়েছে। ফলে মরসুম বদলের সময়ে নিয়মিত একটু করে হলুদ খেলে নানা রকম রোগবালাই দূরে থাকে।
• মস্তিষ্কের পুষ্টি হয়: শিশুদের জন্য হলুদ খুবই উপকারী। কারণ বাড়ন্ত বয়সে মস্তিষ্কের যে পুষ্টির দরকার হয়, তার অনেকটিই পাওয়া যায় হলুদ থেকে।
• ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে: হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ওজন কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, হলুদের কিছু উপাদান মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। কিছু কিছু হরমোন মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোনগুলির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে হলুদ। আর মানসিক চাপ কমলে ওজনও কমে।
-আনন্দবাজার

কসমেটিকস কি আপনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

কেনার আগেই জেনে নিন

দোকান থেকে বিউটি প্রোডাক্ট কেনার সময়, তাতে কোন কোন যৌগ ব্যবহার করা হয়েছে, তা দেখে কেনেন ক’জন? কিন্তু জানেন কি, এই সব বিউটি প্রোডাক্ট-এ এমন কিছু যৌগ ব্যবহার হয়, যা ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক? শুধু তাই নয়, মারণ রোগের দিকেও ঠেলে দিতে পারে এই সব যৌগ। তাই এরপর থেকে বিউটি প্রোডাক্ট কেনার আগে দেখে নেবেন, এই সব যৌগ তাতে রয়েছে কি না। থাকলে তৎক্ষণাত বাদ দেবেন এই প্রডোক্টগুলোঃ
১। বিএইচএ এবং বিএইচটি(বুটিলেটেড হাইড্রক্সিয়ানসোল (বিএইচএ) বায়োলেটেড হাইড্রক্সিটলুয়েন (বিএইচটি))
ত্বকের রং হালকা করার জন্য এই যৌগ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তার পাশাপাশি এটি ক্যান্সারের মতো রোগও ডেকে আনতে পারে। পরিবেশের জন্য খুব খারাপ এই যৌগ দু’টি। জলে মিশলে মাছের ক্ষতি হয়। কোনও ভাবে পেটে গেলে লিভার খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ত্বকে ব্যবহার করলেও, পরে থাইরয়েডের সমস্যা ডেকে আনতে পারে এরা।
২। ফর্মালডিহাইড
নেল পলিশ, বডি ওয়াশ, কন্ডিশনার, শ্যাম্পু, আই শ্যাডোর মতো প্রোডাক্ট-এ এই ফর্মালডিহাইড ব্যবহার করা হয়। আপাত ভাবে এর ব্যবহার হল ব্যাকটেরিয়া মারতে। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি অফ রিসার্চ অন কারসিনোজেন-এর মতে, এটি মানুষের জন্য প্রচণ্ড ভাবে ক্যান্সার ঘটাতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দেয় এই যৌগ।
৩। বোরিক অ্যাসিড
বাজারে প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হয় ত্বক ফরসা করার ক্রিম। কিন্তু জানেন কি, এতে থাকতে পারে সোডিয়াম বোরেট বা বোরিক অ্যাসিড? এই বোরিক অ্যাসিড শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই বোরিক অ্যাসিডের ক্ষতিকারক প্রভাব আরও বেশি। শুক্রাণু পরিমাণ কমে যেতে পারে এর কারণে। এবং পুরুষ প্রজননক্ষমতা হারাতে পারেন এই যৌগ অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে গেলে।
৪। মার্কারি
ভয়ানক যৌগ। যদিও বহু কসমেটিক-এই এর ব্যবহার হয়। কারণ মার্কারি বা পারদ ত্বক উজ্জ্বল করতে পারে। আই শ্যাডো বা আই মেকআপে এর বেশি ব্যবহার হয়। মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে মার্কারি। যে কোনও প্রোডাক্ট কেনার আগে দেকে নিন, তাতে ক্যালোমেল, মারকিউরিও, মারকিউরিও ক্লোরাইড বা সাধারণ মার্কারি-র কথা লেখা আছে কি না। থাকলে কোনও ভাবেই ব্যবহার করবেন না সেটি।
৫। ফ্র্যাগরান্স
শ্যাম্পু, কোলোন, কন্ডিশনার, বডি ওয়াশের মতো প্রোডাক্ট কেনার সময়, বহু নামী কোম্পানিরও বোতলেই উপাদানের তালিকায় এই শব্দটি লেখা থাকে। কিন্তু ফ্র্যাগরান্স মানে কি শুধুই সুগন্ধ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নামের আড়ালে রয়েছে এমন কতগুলো যৌগ, যেগুলোর কথা কোম্পানিরা প্রকাশ্যে বলতে চায় না। এবং সেই সব যৌগের ব্যবহারে অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট থেকে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পর্যন্ত হতে পারে।
৬। পলিইথিলিন গ্লাইকল
চুলের তেলচিটে ভাব দূর করতে পারে এই যৌগ। তাই শ্যাম্পুতে এর ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মনে রাখবেন, এই যৌগ একই সঙ্গে ত্বকের স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাবও নষ্ট করতে পারে। তাতে ত্বকের ক্যান্সার থেকে মস্তিষ্কের ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। তাই শ্যাম্পু কেনার আগে তাতে পলিইথিলিন গ্লাইকল বা পিইজি আছে কি না পরীক্ষা করে নিন।

তিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন

 তিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন৷- সূরা আল মুলক, আয়াত ০২

আল্লাহ পৃথিবীতে মানুষের জীবন ও মৃত্যুর এ ধারাবাহিকতা চালু করেছেন তাকে পরীক্ষা করার জন্য, কোন মানুষটির কাজ বেশী ভাল তা দেখার জন্য৷ এ সংক্ষিপ্ত বাক্যটিতে বেশ কিছু সত্যের প্রতি ইংগিত দেয়া হয়েছেঃ
প্রথম হলো, মৃত্যু এবং জীবন তাঁরই দেয়া৷ আর কেউ জীবনও দান করতে পারে না, মৃত্যুও না৷
দ্বিতীয় হলো, মানুষ একটি সৃষ্টি, তাকে ভাল এবং মন্দ উভয় প্রকার কাজ করার শক্তি দেয়া হয়েছে৷ তার জীবন বা মৃত্যু কোনটিই উদ্দেশ্যহীন নয়, সৃষ্টা তাকে এখানে সৃষ্টি করেছেন পরীক্ষার জন্য৷ জীবন তার জন্য পরীক্ষার সময় বা অবকাশ মাত্র৷ মৃত্যুর অর্থ হলো, তার পরীক্ষার সময় ফুরিয়ে গেছে৷
তৃতীয় হলো, এ পরীক্ষার জন্য স্রষ্টা সবাইকে কাজের সুযোগ দিয়েছেন৷ সে ভাল মানুষ না খারাপ মানুষ, এ পৃথিবীতে কাজের মাধ্যমে সে যাতে তার প্রকাশ ঘটাতে পারে সে জন্য সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেককে কাজের সুযোগ দিয়েছেন৷
চতুর্থ হলো, কার কাজ ভাল এবং কার কাজ খারাপ প্রকৃতপক্ষে সৃষ্টিকর্তাই তার ফায়সালা করবেন৷ কাজের ভাল-মন্দ বিচার করার মানদণ্ড নির্ধারণ করা পরীক্ষার্থীর কাজ নয়, বরং পরীক্ষা গ্রহণকারীর কাজ৷ তাই যারাই পরীক্ষায় সফল হতে চাইবে, তাদেরকে জানতে হবে পরীক্ষা গ্রহণকারীর দৃষ্টিতে ভাল কাজ কি?
পঞ্চম বিষয়টি পরীক্ষা কথাটির মধ্যেই নিহিত৷ তা হলো, যার কাজ যেমন হবে তাকে সে অনুপাতেই প্রতিফল দেয়া হবে৷ কারণ ফলাফলই যদি না থাকে তাহলে পরীক্ষা নেয়ার আদৌ কোন অর্থ হয় না৷