Why stress and depression affects dental health
Wednesday, March 9, 2022
দুশ্চিন্তার প্রভাব দাঁতেও
ওজন ঝরায় আন্ডা
সাদা বা বাদামী আন্ডা যে কোনটাই পুষ্টিকর!
শুকরিয়া আদায় করো আর অকৃতজ্ঞ হয়ো না
লাইন শাকারতুম, লা আজিদান্নাকুম, ওয়ালাইন কাফারতুম ইন্না আজাবি লাশাদীদ।
‘মেয়েলি’ প্রশ্ন
Gynecologist’s answer so called embarrassing questions
স্তন-যোনি-ঋতুস্রাব— প্রত্যেকটি শব্দই যেন নিষিদ্ধ। লোকসমাজে তো এ নিয়ে আলোচনা করা যাবেই না, নিজের মনেও যেন এ নিয়ে ভাবা ‘পাপ’।
নারী-শরীর মানেই যেন রহস্য! সমাজ সে ভাবেই দেখে এবং সে ভাবেই দেখতে শেখায়। এমনকি নারী নিজেও তা ভাবতে শেখে, বিশ্বাস করে।
নারী-শরীর মানেই যেন রহস্য! সমাজ সে ভাবেই দেখে এবং
সে ভাবেই দেখতে শেখায়। এমনকি নারী নিজেও তা ভাবতে শেখে, বিশ্বাস করে। স্তন-যোনি-ঋতুস্রাব—
এ সবই নিষিদ্ধ। কোনও সভ্য সমাজে জনসমক্ষে এ নিয়ে কথা বলা যাবে না। নারী-শরীর মানেই
লজ্জা। শৈশব পেরিয়ে যেই একটি মেয়ে কৈশোরে পা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে সমাজ তার ঘাড় ধরে শেখাতে
বসে, কোন কথা বলা যাবে, কোন কথা বলা যাবে না। সেই পাঠ্যক্রমে এক বার চোখ বোলালেই যে
কেউ শিখে যায় যে, নিজের শরীর নিয়ে যাবতীয় প্রশ্নই নিষিদ্ধ। অথচ বেড়ে ওঠার সময়ে সকলের
মনেই হাজার প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রশ্ন মনেই থেকে যায়। বয়স বাড়লেও চিন্তা-ভাবনার পরিসর
অজান্তেই বাড়া বন্ধ করে দেয়। তাই অনেক সময়ে অনেক জরুরি প্রশ্ন মনে এলেও তা অবচেতনে
ঠেলে দেয় মেয়েরা।
নারীমন কি কোনও দিন নিজের শরীরে নিজে খোলামেলা চিন্তা-ভাবনা
করতে শিখবে না? লাজলজ্জা ভুল নিজের শরীরকে চিনতে শিখবে না? কিছু জরুরি অথচ ‘নিষিদ্ধ’ প্রশ্ন উত্তর দিলেন ভারতীয় স্ত্রীরোগ চিকিৎসক ভিমি
বিন্দ্রা এবং কৃষ্ণাবেণী নয়নী।
স্তনবৃন্তের
লোম থাকা কি স্বাভাবিক? না কি আমিই অদ্ভুত?
ঋতুস্রাব কমে যাওয়া মানেই কি প্রজনন
ক্ষমতাও কমে যাওয়া?
সাধারণত প্রত্যেক নারীর ঋতুস্রাব চলে
৩ থেকে ৭ সাত দিন পর্যন্ত। তার শরীর থেকে ৮০ মিলি রক্তক্ষয় হয়। এর চেয়ে কম বা বেশি
রক্তক্ষয়, দুই-ই কোনও রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। মানসিক চাপ, হরমোনের তারতম্য কিংবা
থাইরয়েড, পিসিওডি-র মতো রোগ থাকলে রক্তক্ষয় কমে যেতে পারে। বয়সের সঙ্গেও তা কমতে
পারে। তাতে প্রজনন ক্ষমতা কমতেও পারে, না-ও পারে। হঠাৎ যদি কখনও দেখেন, ঋতুস্রাব
অনেকটাই হালকা হয়ে এসেছে, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
ঋতুস্রাবের
সময়ে এত ব্রণ হয় কেন?
সব মেয়ের ঋতুচক্রের বিভিন্ন সময়ে শরীরে হরমোনের নানা রকম তারতম্য
চলে। ঋতুস্রাবের ঠিক আগে হঠাৎই ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন কমে যায়। এতে ত্বক
বেশি পরিমাণে সেবাম তৈরি করে এবং কোষগুলি অনেক সময়ে তাতে বন্ধ হয়ে যায়। এতে
ব্যাক্টেরিয়া সহজেই জন্মাতে পারে। তার থেকেই ব্রণ হয়। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ব্রণ
কমবেশি হতে পারে এক এক জনের ক্ষেত্রে। ত্বকের সঠিক যত্ন নিলে এই সমস্যা একটু কমতে
পারে।
ঘরোয়া
টোটকায় কি ঋতুস্রাবের সময় পিছিয়ে দেওয়া সত্যিই সম্ভব?
ঘরোয়া টোটকা বা অতিরিক্ত শরীরচর্চায় ঋতুস্রাবের সময় পিছিয়ে দেওয়া
যায়, এমন ভ্রান্ত ধারণা অনেকেরই রয়েছে। অনেকে দাবি করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছু
টোটকা কাজও দেয়। কিন্তু এর কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা গবেষণাপত্র নেই। ঋতুস্রাবের
সময়ে পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন পড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে হরমোনের ওষুধ খেতে হবে।
যোনিদ্বারের মাংসপেশি কি আগের মতো
টানটান থাকে না অতিরিক্ত সঙ্গমের ফলে?
সঙ্গম নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা চারদিকে রয়েছে। অনেকেই ভয় পান, বেশি
যৌন মিলনে হয়তো মাংসপেশি আলগা হয়ে যাবে। কিন্তু মেয়েদের যৌনাঙ্গ যথেষ্ট ইলাস্টিক।
মানে সঙ্গমের সময়ে বা যৌন উত্তেজনায় তা যেমন বিস্তৃত হয়, সঙ্গমের পর ফের আগের
আকারেই ফিরে যায়।
শৈশব পেরিয়ে যেই একটি মেয়ে কৈশোরে পা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে
সমাজ তার ঘাড় ধরে শেখাতে বসে, কোন কথা বলা যাবে, কোন কথা বলা যাবে না।
স্তনবৃন্তে লোম কিংবা ফাটা? এগুলি
কি স্বাভাবিক?
স্বাভাবিক—
১। একটি স্তন সামান্য বড়
২। স্তন বা স্তনবৃন্তে লোম
৩। একটি স্তন সামান্য ঝুলে থাকে
৪। ঋতুস্রাবের সময়ে বা আগে স্তনে যন্ত্রণা
চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে যখন—
১। স্তনের কোনও অংশ উঁচু হয়ে বা ফুলে রয়েছে, যা আগে ছিল না।
২। স্তনবৃন্তে ঘোলাটে তরল রস বা রক্তক্ষয়।
৩। বগল বা স্তন ফুলে থাকা
৪। স্তনবৃন্তের চারপাশে অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক বা ফাটল
৫। অতিরিক্ত চুলকানি
৬। স্তন গরম হয়ে যাওয়া বা জ্বালাভাব
যৌনাঙ্গ পরিষ্কার করতে কি বিশেষ
সাবান প্রয়োজন?
যোনি এবং যোনিদ্বারের পার্থক্য প্রথমেই জানতে হবে। শরীরের ভিতরের অংশ
যোনি। যা নিজে থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়। আলাদা করে কোনও রকম সাবান দিলে জ্বালাভাব
বা অন্য সমস্যা হতে পারে। যোনিদ্বার প্রত্যেক দিন পরিষ্কার করা উচিত ঈষদুষ্ণ জল
এবং হালকা সাবন দিয়ে। কিন্তু বাজারচলতি বিভিন্ন সুগন্ধি দেওয়া সাবান বা তরল একদমই
ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ যে কোনও রকমের রাসায়নিক এখানকার মাংসপেশিতে জ্বালাভাব
বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
মা না হয়েও কি স্তনদুগ্ধ তৈরি হতে
পারে?
যিনি সন্তানের জন্ম দেননি, তাঁরও স্তনে স্তনদুগ্ধের মতো তরল তৈরি হতে
পারে। একে বলা হয় গ্যালাক্টোরিয়া। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, হরমোনের তারতম্য বা
অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা প্রতিক্রিয়া হিসাবে এমন হতেই পারে। সব সময়ে কোনও শারীরিক
জটিলতার ইঙ্গিত না হলেও, কখনও কখনও স্তনের টিস্যু নষ্ট হয়ে গেলে বা লিভার বা
কিডনির কোনও সমস্যা হলে এমন হতে পারে। তাই পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার আগেই চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্তন
টিপলে কি আকারে বড় হয়ে যায়?
কমবয়সিদের মধ্যে এমন গুজব রটেই থাকে। স্তন টিপলে কখনওই তার আকার
বদলায় না। যৌন উত্তেজনা হতে পারে মাত্র। ওজন বাড়লে, অন্তঃসত্ত্বা হলে বা সন্তানকে
স্তনপান করালে তবেই স্তনের আকার বড় হয়। তা ছাড়া, শুধু স্তন প্রতিস্থাপনেই স্তনের
আকার বড় হতে পারে।
কোন ধরনের যোনিস্রাব স্বাভাবিক,
কোনটি উদ্বেগজনক?
অনেক ধরনের যোনিস্রাব স্বাভাবিক এবং তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ
নেই। যেমন—
১। স্বচ্ছ এবং জলের মতো (মাঝেমাঝে বাড়তেই পারে)
২। সাদা (ঋতুস্রাবের আগে এবং পরে স্বাভাবিক)। কিন্তু তা ছানার মতো
হলে ইস্টের সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। সঙ্গে চুলকানি থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করান।
৩। স্বচ্ছ ইলাস্টিকের মতো (প্রজননের সময়ে স্বাভাবিক)
৪। বাদামি (ঋতুস্রাবের পর এক-দু’দিন স্বাভাবিক। অন্য সময়ে হলে
চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন)
যেগুলি অস্বাভাবিক—
১। হলুদ বা সবুজ (যৌনরোগের ইঙ্গিত)
২। রক্তের মতো বা বাদামি (ঋতুস্রাবের এক দু’দিন পর ছাড়া এমন
যোনিস্রাব ক্যানসার, ফাইব্রয়েড বা কোন সিস্টের ইঙ্গিত হতে পারে।
Ref: nandabazar.com
Tuesday, February 22, 2022
“মানুষ” শব্দটির বিশ্লেষণ
Analysis
of the Word “MAN”
অন্যের প্রতি দয়া করা মনুষ্যত্ববোধের প্রকাশ। আল্লাহতায়ালা
কুরআন মাজিদে মানুষ নিয়ে বেশ কয়েকটি আয়াত দিয়েছেন তার একটি হলো- ‘খালাকাল ইনসানা
মিন আলাক্ব।’ যিনি সৃষ্টি করেছেন ইনসান তথা মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। আরেক আয়াতে
তিনি বলেছেনঃ যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তোমাকে সুঠাম ও
সুসামঞ্জস্য করে গড়েছেন। এবং যে আকৃতিতে চেয়েছেন
তোমাকে গঠন করেছেন৷ আল্লাহ আবারো বলেছেনঃ
আমি মানুষকে পয়দা করেছি
সর্বোত্তম কাঠামোয়। এ ইনসান কেমন হবে তার নমুনা করেছেন নবী(সা.)কে।
প্রাণি বিজ্ঞানী সি.পি হিকম্যান মানুষের সংজ্ঞা লিখতে গিয়ে
লিখেছেনঃ
A
man is a physico-chemical system with a specific and varying level of
organization pattern, self-regulative, self-perpetuating in continuous
adjustment with the environment. - C.P.
Hickmann
১. ‘আল ইনসান’ الۡاِنۡسَانِ শব্দের প্রথম হরফ ‘আলিফ’- তা দিয়ে ইমান
বুঝানো হয়েছে। ইমান যার যত বেশি মজবুত তিনি তত বড় ইনসান। জাতীয় কবি নজরুলের ভাষায়-
‘আল্লাতে যার পূর্ণ ইমান কোথা সে মুসলমান, কোথা সে মুসলমান।’
২. আল ইনসানের দ্বিতীয় হরফ ‘লাম’- লাম দিয়ে ‘লুতফ’ বা
অনুগ্রহ, দয়া, লিনত বা নম্রতা-ভদ্রতা
বুঝায়। যার দয়া নেই, অন্যের প্রতি অনুগ্রহ নেই, নম্রতা
নেই, ভদ্রতা নেই সে আর যাই হোক মানুষ নামের যোগ্য নয়। কোরআনের
ভাষায়- ‘উলাইকা কাল আনআমে বালহুম আদ্বাল্ল।’ তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো বরং তার
চেয়েও নিকৃষ্ট।
৩. আল ইনসানের তৃতীয় হরফ ‘আলিফ’- এর মাধ্যমে সৌহার্দ, উনসিয়ত
বা মনের টান বুঝানো হয়েছে। আজকের সমাজে মনের টান,
সৌহার্দ প্রায় অনুপস্থিত।
৪. আল ইনসানের চতুর্থ হরফ ‘নুন’। এ নুন দিয়ে নিয়াবত বা
প্রতিনিধিত্ব বুঝায়। মানুষ আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি। তার চরিত্র হবে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থ, পররাষ্ট্রনীতিসহ
জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করা। ‘তাখাল্লাকু বি আখলাকিল্লাহ’ তথা
আল্লাহর চরিত্রে চরিত্রবান হও। ‘সিবগাতাল্লাহ’ বা আল্লাহর রঙে রঙিন হওয়ার অর্থ হল
আল্লাহ রহমান, রহিম- পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। করুণা ও দয়ার
প্রতিবিম্ব হবে মানুষ। যার জীবনচরিত দেখে মানুষ তাকে বলবে আল্লাহওয়ালা। যার আছে
দয়া, মায়া, মানবপ্রেম, সৃষ্টিপ্রেম।
যে চরম শত্রুকেও আপন করে নিতে পারে। যার নমুনা ছিলেন প্রিয় নবীজি (সা.)। এক চরম
শত্রু ইহুদি সিদ্ধান্ত নিল নবী মুহাম্মাদ (সা.)কে হত্যা করতে হবে। রাতের বেলায় সে
প্রিয় নবীজি (সা.)-এর মেহমান হল। বারবার চেষ্টা করেও তার মিশন সফল করতে পারেনি।
ধারালো চাকু নিয়ে এসেছিল প্রিয় নবীজিকে আঘাত করতে। যার পাহারার দায়িত্ব আল্লাহ
নিয়েছেন তাকে আঘাত করার সাধ্য কার? ইহুদি প্রিয় নবীজি
(সা.)-এর মেহমানদারি, আপ্যায়ন গ্রহণ করার পর
তাকে ভালো বিছানায় শোয়ার ব্যবস্থা করলেন। শত্রুকে আঘাত করতে না পেরে রাগে-ক্ষোভে
শেষ রাতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিছানায় পেশাব-পায়খানা করে অন্ধকার থাকতেই পালিয়ে যায়।
যাওয়ার সময় ভুলে তার চাকুটি ফেলে যায়। কিছু সময় পর সে চাকু নিতে ফিরে এসে দেখে
প্রিয় নবী (সা.) ময়লা সাফ করে বিছানার চাদর ধুয়ে দিচ্ছেন। দূর থেকে ইহুদি এ ঘটনা
দেখে কেঁপে উঠলেন। একটু কাছে যেতে প্রিয় নবীজি (সা.) তার সামনে এসে বললেন, ‘ভাই! রাতে আপনার খুব কষ্ট হয়েছে। আমি আপনার সেবা করতে পারিনি এ জন্য
ক্ষমাপ্রার্থী।’ মানুষের প্রতি এ দয়া, অকৃত্রিম ভালোবাসা, মেহমানদারির
নজির কি কোথাও আছে? জানের দুশমন মুহূর্তে
পরিণত হল অন্তরঙ্গ বন্ধুতে। পড়ে নিল কালেমা।
৫. আল ইনসানের পঞ্চম হরফ ‘সিন’। এর অর্থ সায়াদাত বা
সৌভাগ্যবান হওয়া। জীবনের চাওয়া-পাওয়া সব পেয়ে মানুষ যখন সৃষ্টিপ্রেমে বিভোর হয়ে
আল্লাহপ্রেমের সদর দরজায় পৌঁছে যায় তখনই সে হয় সৌভাগ্যবান। যার রূপরেখা দিতে গিয়ে
ইমাম গাজ্জালি (রহ.) লিখেছেন, ‘কিমিয়ায়ে সায়াদাত’ বা
সৌভাগ্যের পরশমণি। আল্লামা ইকবাল (রহ.) তাই তো বলেছেন, ‘খুদি কো কর এতনা বুলন্দ তাকদির সে পহেলে- কে খোদা পুসে তুজেহ বাতা তেরি রেজা
কেয়া হ্যায়।’ আত্মমর্যাদাকে এত উঁচুতে নিয়ে যাও তাকদিরের গণ্ডিরও ওপরে। খোদা যেন
জিজ্ঞেস করে, বান্দা বলো কী পেলে তুমি সন্তুষ্ট হবে। আজকের মানুষ পার্থিব মোহে,
রিপুর তাড়নায় চরম
দুর্ভাগ্যকে সৌভাগ্য মনে করছে। কিছুদিন ক্ষমতার দাপট, বিত্ত-বৈভবের
অহঙ্কারে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। কিছুদিন পর দেহ বেলুনের বাতাস বের হয়ে গেলে লাশ
হচ্ছে। লোভ-লালসা নয়, পার্থিব সম্পদ নয়- সৌভাগ্যের
অধিকারী হতে হলে সম্পর্ক করতে হবে সৌভাগ্যের চাবিকাঠি যার হাতে, তিনি
আর কেউ নন, তিনি আমার-আপনার প্রেমময় খোদা। মাওলানা রুমি (রহ.) তাই তো
বলেছেন, হারকে খাহাদ যিস্তান বা আবরু-যিকরে উ কুন যিকরে উ কুন যিকরে
উ। যে চাইবে সম্মানের জীবন লাভ করে অমর হতে, তাঁর জিকির কর, তাঁর
জিকির কর অমরত্ব মিলবে তাতে।
৬. আল ইনসানের ষষ্ঠ হরফ ‘আলিফ’- এর মাধ্যমে উনসিয়্যাত বা
মনের টান সৃষ্টি করা, উখুয়্যাত বা ভ্রাতৃত্ববোধ
জাগিয়ে তোলা। এক সৃষ্টির প্রতি অপর সৃষ্টির মনের টান বা মমত্ব যদি না থাকে, একটি
বিড়াল, একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর প্রতি দয়া যদি না থাকে তাহলে এ
মানুষটি সুরতে মানুষ হতে পারে কিন্তু তাকে প্রকৃত মানুষ বলে না। প্রিয় নবীজি (সা.)
গোশত বা মাছ খাওয়ার পর যে হাড্ডি বা কাঁটা থাকত তা সংরক্ষণ করে বলতেন, খবরদার
এ হাড্ডিতে বা কাঁটাতে পানি ফেল না। কারণ এটি অন্য প্রাণী খাবে। যদি তাতে পানি ঢাল
তাতে তার স্বাদ কমে যাবে। অন্য প্রাণী খেয়ে তৃপ্তি পাবে না। সৃষ্টির প্রতি এ প্রেম, এ
দয়ার নীতি কোনোদিন কেউ শুনেছে বা দেখেছে? আল্লামা ইকবাল তাই তো
বলেছেন, ‘সবক পড় ফের সাদাকাত কা, আমানাত কা, সুজায়াত
কা লিয়া যায়েগা ফের তুঝসে দুনিয়া কি ইমামত কা।’ সবক পড় ফের সত্যবাদিতার, আমানত
এবং বীরত্বের; দুনিয়ার নেতৃত্ব তোমার হাতে ফের আসবে ।
৭. আল ইনসান শব্দের শেষ হরফ ‘নুন’। এর অর্থ হল নুর বা আলো।
মানুষ লাভ করবে আলোকিত জীবন। নিজ খুদী হবে আলোকিত,
সমগ্র সৃষ্টিজগতকে করবে
আলো দান। যে মানুষ নিজে আলোকিত নন, অন্য সৃষ্টি যার অস্তিত্ব, ব্যক্তিত্ব, মমত্ব
থেকে আলো নিতে পারে না সে আর যাই হোক, আলোকিত মানুষ নন। নয় সে
ইনসান। কোরআনের ভাষায়- ‘উলাইকা হুম শাররুল বারিয়্যাহ।’ তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট
সৃষ্টি। এক কথায় ইনসানে কামেল বা পূর্ণাঙ্গ মানুষ হতে হলে থাকতে হবে সুদৃঢ়, ইমান, অনুগ্রহ, দয়া, নম্রতা, ভদ্রতা, সৌহার্দ।
তখন গোটা জীবন হবে আলোকিত।
রেফাঃ আল কুরআন
অধ্যক্ষ, ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল
মাদ্রাসা
C.P.
Hickmann, প্রফেসর, ইন্ডিয়ানা
ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র
নিজ পাঠ
Saturday, February 5, 2022
কর্পূর যখন ব্রণের ওষুধ
অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক হলে, এক চিমটে কর্পূরের গুঁড়োর সঙ্গে এক চামচ মুলতানি মাটি মিশিয়ে নিন।
কর্পূর ব্রণর সমস্যাও দূর করতেও সাহায্য করে? অনিয়মিত জীবনযাত্রা, দূষণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ত্বকের সঠিক যত্ন না নেওয়া, হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে ব্রণর সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। এ ক্ষেত্রে কর্পূরে থাকা অ্যান্টিসেপটিক উপাদান বেশ কার্যকারী। কর্পূরের গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য অলিভ অয়েল দিয়ে মিশ্রণটি ব্রণর ওপর লাগান। তবে এই প্রলেপটি সারা মুখে লাগানোর প্রয়োজন নেই।
তৈলাক্ত ত্বকে কীভাবে ব্যবহার করবেন কর্পূর?
অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক হলে, এক চিমটে কর্পূরের গুঁড়োর সঙ্গে এক চামচ মুলতানি মাটি মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটিতে সামান্য পরিমাণ গোলাপ জল দিয়ে একটা পাতলা পেস্ট বানিয়ে নিন। ফেসপ্যাকটি সারা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। এর পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ওপেন পোরসের সমস্যা দূর হবে।
শীতকালে সারা শরীরে প্রায়শই র্যাশের সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা দূর করতে নারকেল তেলের সঙ্গে সামান্য কর্পূর মিশিয়ে সারা শরীরে লাগান। এটি ত্বকের জ্বালা ভাবকে নিয়ন্ত্রণ করে। চাইলে বডি লোশনের সঙ্গে সামান্য কর্পূরের গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।
পোড়া দাগ নিরাময় কর্পূর ব্যবহার করা যেতে পারে। সামান্য পরিমাণে কর্পূর নিয়ে জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত পোড়া জায়গাটিতে লাগান, উপকার মিলবে।
-আনন্দবাজার সূত্র
Saffron-For-Child
শিশুর বিকাশে সহায়ক
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য যেমন জাফরান খুবই উপকারী, তেমন শিশুর জন্যও অত্যন্ত ভালো জাফরান। শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য় খুবই সহায়ক জাফরান। কী ভাবে শিশুর স্বাস্থ্যের বিকাশের জন্য জাফরান ব্যবহার করবেন তা জেনে নিন।
সন্তানের সুস্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রতিটি মা-বাবাই চিন্তিত থাকেন। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই তাদের স্বাস্থ্যবান রাখতে সচেষ্ট হয়ে পড়েন তাঁরা। তবে ৬ মাস পর্যন্ত বাচ্চারা শুধুমাত্র মাতৃদুগ্ধের ওপরই নির্ভরশীল থাকে। এ সময় মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে শরীরে পুষ্টির জোগান সম্পূর্ণ হয়। আবার ৬ মাস বয়সের পর থেকে বাচ্চাদের তরল ও আধাতরল খাদ্য দেওয়া হয়। সে সময়ও সন্তানের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান হচ্ছে কী না, তাতে নজর রেখে চলেন প্রতিটি মা-বাবাই।
এমন একটি উপাদান রয়েছে, যা সন্তানদের ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই তাদের পুষ্টি জোগাতে সহায়ক হবে। এই উপাদানটি হল কেসর বা জাফরান (saffron)। নবজাতক শিশু-সহ যে কোনও বয়সের বাচ্চাদের জাফরান দেওয়া তাদের পুষ্টি বৃদ্ধিতে সহায়ক প্রমাণিত হবে।
হাড়ের বিকাশে সাহায্য করে
অল্প বয়সে বাচ্চাদের হাড় দ্রুতগতিতে বিকশিত হয়। জাফরানে ক্যালশিয়াম ও ফাইবার উপস্থিত। হাড়ের উন্নতি ও বাচ্চাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য এই উপাদানটি অত্যন্ত জরুরি।
বাচ্চাদের মুড বুস্ট করে
জাফরান এক ধরনের স্ফূর্তিদায়ক ও মুড স্টেবিলাইজার হিসেবে কাজ করে। বাচ্চাদের খিটখিটে ও ছিঁচকাঁদুনে হওয়া থেকে আটকায় জাফরান। এনসিবিআইয়ের এক রিপোর্ট অনুযায়ী জাফরান বাচ্চাদের মেজাজ উন্নত করে।
ফ্লু থেকে রক্ষা করে
শিশু বা অল্প বয়সি বাচ্চারা প্রায়ই সর্দি ও ফ্লুর শিকার হয়ে পড়ে। জাফরানের প্রকৃতি গরম। এ কারণে এটি জ্বর, সর্দি ও ফ্লুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে।
শিশুর বিকাশে সহায়ক এক চিমটে জাফরান! মজবুত হবে হাড়, ভালো থাকবে দৃষ্টিশক্তি
বাচ্চাদের পাচন প্রক্রিয়াকে মজবুত করতে সাহায্য করে জাফরান। এতে উপস্থিত অ্যান্টিবায়োটিক ও ভালো ব্যাক্টিরিয়া পাচন তন্ত্রের কাজকে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।
দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে
জাফরানে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন রেটিনাকে শক্তিশালী করে। এর ফলে বাচ্চাদের দৃষ্টি শক্তি উন্নত হয় এবং দীর্ঘদিন পর্যন্ত তা ভালো থাকে।
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে
স্নায়ু ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য শৈশবকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। জাফরান স্নায়ুর নেটওয়ার্ককে বিকশিত ও সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
শিশুর ত্বকের পক্ষে উপকারী
বাচ্চাদের ত্বক খুব শীঘ্র শুষ্ক ও রক্ষ হয়ে যায়। বাচ্চাদের ত্বক সংবেদনশীল হওয়ায় এতে রাসায়নিক যুক্ত লোশান বা ক্রিম ব্যবহার করা যায় না। এ কারণে আমরা তেল ব্যবহার করে ত্বক সুস্থ রাখি। এ ছাড়াও জাফরান ব্যবহার করেও বাচ্চাদের ত্বককে মোলায়েম ও সুস্থ রাখা যায়।
জাফরানের তেল বানিয়ে মালিশ করুন
রাতের বেলায় নারকেল বা আমন্ড তেলে এক-দুটি জাফরান মিশিয়ে দিন। সকালে জাফরান মেশানো তেল দিয়ে বাচ্চাদের মালিশ করতে পারেন। স্নানের পর এই তেল দিয়ে আবার মালিশ করুন। এর ফলে ত্বক ভালো থাকবে এবং ভালো ঘুমও আসবে।
খাবারে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন
৬ মাসের বেশি বয়সি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খাবার-দাবারের মধ্যে জাফরান মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন। দুধ, সেরেল্যাক বা অন্য কোনও তরল খাবারে জাফরান মেশাতে পারেন। আবার বাচ্চারা শক্ত খাবার খেতে শিখে গেলে, দুধে জাফরান ঘুলে পান করালেও উপকার পাবেন।
-আনন্দবাজার