Thursday, September 29, 2022

ইসলাম বিরোধীরা ইসলামকে গালাগাল দিতেই মজা পায়

 গল্পটি রূপক কিন্তু শেখার আছে

মুসলমানরা সব আশিক্ষিত আর দরিদ্র হলোঃ
অনেকদিন আগের কথা। একবার বৃষ্টির পানিতে রাজার কয়েক বস্তা টাকা ভিজে গিয়েছিলো। রাজার কর্মচারীরা সেই টাকা শুকানোর জন্য রোদে রেখেছে। পাশের গাছে একটি পাখির বাসা ছিলো। সেই পাখিটি সেখান থেকে একটি টাকা নিয়ে গেছে। এরপর গাছের উপরে বসে সেই পাখিটি গান গাইছে…
রাজার ঘরে যে টাকা আছে, আমার ঘরে সেই টাকা আছে।
সেই গান শুনে রাজার কর্মচারী গাছে উঠে দেখলো, পাখির বাসায় একটি টাকা পড়ে আছে। সেই লোকটি, টাকাটা নিয়ে আসলো। এটা দেখে পাখিটি গান গাইছে…
রাজা এমন গরীব হলো, আমার টাকা নিয়ে গেলো।
এই গান শুনে, মুচকি হেসে, লোকটি আবার টাকাটা ওই পাখির বাসায় রেখে দিলো। এটা দেখে, পাখিটি আবারও গান গাইছে…
রাজা এত ভয় পেলো, আমার টাকা ফিরিয়ে দিলো।
ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, ওই পাখিটি গান গাইবে। টাকা নিলে গান, টাকা ফিরিয়ে দিলে গান। সবখানেই গান। তার ভালো খারাপ যেটাই হোক না কেন, সবসময়ই অন্যেকে দোষারোপ করাটা ওই পাখিটির স্বভাব।
ইসলাম বিরোধীদের ঠিক তেমনই গান গাওয়ার স্বভাব। সবখানেই গান গাইবে।
বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৪.৬৬ শতাংশ। ভারতে শিক্ষার হার ৭৫%। সৌদি আরবে শিক্ষার হার ৯৭% । মুসলমান মোটেও অশিক্ষিত নয়।

স্বামী-স্ত্রী কত দিন আলাদা থাকতে পারবে?

 মুয়াবিয়া ইবনে হায়দা (রা.) বলেন, ‘আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের প্রতি আমাদের স্ত্রীদের কী অধিকার আছে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা যখন খাবে তাদেরও খাওয়াবে, যখন খাবে তাদেরও খাওয়াবে, যখন তোমরা কাপড় পরবে তাদেরও পরতে দেবে। তাদের চেহারায় মারবে না, গালগন্দ করবে না। তাদের তোমাদের ঘরেই থাকতে দেবে, অন্য কোথাও না। ’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২১৪২)।

উল্লিখিত হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকবে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তারা পৃথক থাকবে না।
কখন বিছানা আলাদা হবে : এই বিশেষ প্রয়োজনটা কী? আমরা আগেই আলোচনা করেছি, যদি স্ত্রীর মধ্যে অশালীন, আপত্তিকর কোনো কিছু দেখা যায়, তবে প্রথমে তাকে বোঝাতে হবে। যদি তার বোধোদয় না ঘটে, তখন বিছানা আলাদা করার অবকাশ আছে। স্বামী ও স্ত্রী আলাদা বিছানায় শোবে। বিছানা বর্জনের অর্থ তাদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া নয় কিংবা নিজে ঘর থেকে চলে যাওয়াও উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হলো ঘরের ভেতরেই উভয়ে পৃথক বিছানায় ঘুমাবে। আর এটা বলা হয়েছে প্রয়োজনের তাগিদেই। স্ত্রীর মানসিকতায় যেন পরিবর্তন আসে এবং সে মার্জিত জীবনযাপনের গুরুত্ব অনুভব করে।
সর্বাত্মক বয়কট নয় : আলেমরা বলেন, বিশেষ প্রয়োজনে স্বামী পৃথক বিছানা গ্রহণ করলেও তার সঙ্গে পুরোপুরি কথা বন্ধ রাখা বা সর্বাত্মক বয়কট করা যাবে না; বরং তারা পরস্পরের সঙ্গে সালাম বিনিময় করবে এবং প্রয়োজনীয় কথা বলবে। পুরোপুরি কথা বন্ধ করা বৈধ হবে না।
স্বামী কত দিন দূরে থাকতে পারবে : ইসলামী আইনজ্ঞ আলেমরা বলেন, স্বামী যদি চার মাসের বেশি সময়ের জন্য সফরে যেতে চান, তবে স্বামী স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ করবে। খুশি মনে অনুমতি দিলে সফর বৈধ হবে, অন্যথায় নয়। ওমর (রা.) তাঁর শাসনামলে এই আইন চালু করেছিলেন যে যেসব যোদ্ধা বাড়ির বাইরে থাকেন, তাঁরা চার মাসের বেশি বাইরে থাকতে পারবেন না।
স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া হজও নয় : আলেমরা আরো বলেন, কেউ যদি চার মাসের কম সময়ের জন্য সফরে বের হয়, তবে তার জন্য স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু চার মাসের বেশি সময়ের জন্য সফরে বের হলে অবশ্যই স্ত্রীর অনুমতি লাগবে। সফর যত বরকতপূর্ণই হোক না কেন। এমনকি যদি হজের সফরও হয় আর তা যদি চার মাসের বেশি সময়ের জন্য হয়, তবে স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন হবে। দাওয়াত, তাবলিগ ও জিহাদের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে।
প্রবাসীদেরও লাগবে স্ত্রীর অনুমতি : যখন এমন গুরুত্বপূর্ণ বিধানের ক্ষেত্রেও স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন হয়, তখন চাকরিবাকরি বা নিছক অর্থ উপার্জনের জন্য স্বামী যদি দূরে থাকে বা দেশের বাইরে থাকে, তবে তার বিধান কী হবে? এমনটি করা স্ত্রীর অধিকার নষ্ট করার শামিল, যা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ ও গুনাহ।
স্ত্রীর অনুমতি গুরুত্বপূর্ণ কেন? : ইসলাম স্ত্রীর ওপর স্বামীর অভিভাবকতুল্য কর্তৃত্ব দিয়েছে। তবে স্বামীর ব্যাপারে স্ত্রীর সন্তুষ্টি ও মূল্যায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন হিসেবে তার ঈমানই সবচেয়ে বেশি পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সবচেয়ে ভালো। আর তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই সবচেয়ে চরিত্রবান যে তার স্ত্রীর চোখে চরিত্রবান। ’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১১৬২)। উল্লিখিত হাদিস থেকে বোঝা যায়, স্বামীর চরিত্র বিচারে স্ত্রীর মূল্যায়ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন
-ইসলাহি খুতুবাত থেকে
আল্লামা মুফতি তকি উসমানি

নবীজি (সা.)-এর কণ্ঠস্বর কেমন ছিল?

 অন্য সব কিছুর মতোই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কণ্ঠস্বরও সুমিষ্ট ও চিত্তাকর্ষক ছিল। তাঁর শব্দ-বাক্যের বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও কণ্ঠের মাধুর্য সহজেই অন্যকে মুগ্ধ করত। তার চেয়ে সুমধুর আওয়াজ আর কারো ছিল না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কণ্ঠস্বর ও বাকভঙ্গি সম্পর্কে আলী (রা.) বলেছেন, ‘আসদাকুন নাসি লাহজাতান’।

আর আরবরা ‘সিদকু লাহজা’ দ্বারা বোঝায়, যার উচ্চারণ পুরোপুরি বিশুদ্ধ এবং বাকভঙ্গিও আকর্ষণীয়। আর নবী করিম (সা.) ছিলেন সবচেয়ে বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও মুগ্ধকর বাকভঙ্গির অধিকারী। এ জন্য তাঁকে বলা হয়েছে ‘আসদাকুন নাসি লাহজাতান’।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ কোনো নবীকেই সুন্দর আওয়াজ ও কান্তিময় চেহারা ছাড়া প্রেরণ করেননি। আর এসব গুণাবলিতে আমাদের নবী (সা.) ছিলেন সব নবীর ঊর্ধ্বে। যেমন একজন কবি বলেছেন, ‘সব উম্মতের অন্তরে যদিও সত্যের পরিতৃপ্তি থাকে। তবে নবীদের চেহারা ও আওয়াজ এক মুজিজাও বটে। ’
(আরো বিস্ময়কর হলো) যত দূর পর্যন্ত সাধারণত কারো আওয়াজ পৌঁছাত না, তত দূর পর্যন্ত তাঁর মোবারক শব্দ বিনা কষ্টে পৌঁছে যেত। বিশেষত সেসব খুতবার শব্দ, যেগুলোতে উপদেশ, সতর্কবার্তা এবং আল্লাহকে ভয় করার উদ্দেশ্য থাকত। এমনকি পর্দার ভেতর থাকা নারীরা তা স্পষ্ট শুনতে পেত। তিনি হজের দিনগুলোতে মিনায় যে ভাষণ দিয়েছিলেন ওই ভাষণ সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকেই শুনতে পেরেছিল।
মাদারিজুন নবুয়ত থেকে সংগৃহীত
শায়খ আবদুল হক দেহলভি (রহ.)
-কালের কন্ঠ

কাউকে কাফির বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

 যে ব্যক্তির মনে নিজের পরিণাম এবং পরকালের চিন্তা থাকে তার মুখ অন্যের ব্যাপারে কখনোই লাগামহীন হতে পারে না, সে ব্যক্তি কোনো অবিশ্বাসী কাফেরকেও হীন দৃষ্টিতে দেখে না। কেননা সে কাফেরের পরিণাম কী হবে তা যেমন তার জানা নেই, তেমনি নিজের পরিণাম কী হবে তাও তো সে জানে না। কোনো এক ফার্সি কবি বলেছেন, ‘কোনো কাফির ব্যক্তিকেও হীন চোখে দেখবে না। কেননা এমনও হতে পারে যে লোকটা মৃত্যুর আগে মুসলিম হয়ে যাবে।

-আল্লামা আশরাফ আলী থানবি (রহ.)

হাতের কাছে প্রাকৃতিক দাওয়াই যা ফার্টিলিটি বাড়াতে পারে

 “The soil is the great connector of lives, the source and destination of all. It is the healer and restorer and resurrector, by which disease passes into health, age into youth, death into life. Without proper care for it we can have no community, because without proper care for it we can have no life.”

― Wendell Berry, The Unsettling of America: Culture and Agriculture
লবঙ্গ (Clove) খেলে ফার্টিলিটি বাড়ে
লবঙ্গ দারুণ একটি খাবার। এবার মাথায় রাখতে হবে যে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম সহ অন্যান্য নানা উপকারী উপাদান রয়েছে লবঙ্গে। এই কারণে রক্ত পরিষ্কার করে দিতে পারে লবঙ্গ। এছাড়া এই লবঙ্গ পারে রক্ত প্রবাহ বিশেষ সময়ে বাড়তে। এমনকী ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর ক্ষেত্রেও কার্যকরী হল লবঙ্গ।
এবার থেকে এই বিষয়টি মাথায় রাখুন।
দারচিনি (Cinnamon) ফার্টিলিটি বাড়ায়
মাথায় রাখার বিষয় হল দারচিনি কিন্তু শরীরের জন্য খুবই ভালো। এক্ষেত্রে দারচিনি খেলে প্রজনন ক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়তে পারে। এমনকী পিসিওএস থেকে শুরু করে এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো সমস্যা কমিয়ে দিতে পারে দারচিনি। তবে বেশি পরিমাণে এই মশলা খেতে যাবেন না।
অশ্বগন্ধা (Ashwagandha-বৈজ্ঞানিক নাম 'উইদানিয়া সোমনিফেরা Withania somnifera) খেলে ফার্টিলিটি বাড়ে অশ্বগন্ধা খেলে ফার্টিলিটি বাড়ে
মাথায় রাখতে হবে যে অশ্বগন্ধা খেলে অনেক ক্ষেত্রেই বেড়ে যেতে পারে ফার্টিলিটি। এতে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা বাড়াতে পারে ফার্টিলিটি। তাই এই বিষয়টি মাথায় রাখা হল খুবই প্রয়োজনীয়।
-self study

Saturday, August 27, 2022

মুসলিম নারীর পবিত্রতাবিষয়ক আট বিধান

 ইসলামে নামাজসহ একাধিক ইবাদতের জন্য পবিত্রতার শর্তারোপ করা হয়েছে। তাই প্রতিটি ইবাদতের আগে সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা সবার ওপর ফরজ। আল্লাহ তাআলা পুরুষকে যেমন জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনি নারীকেও জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। জ্ঞানার্জনের অন্যতম দিক হলো, প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে জানা। এখানে নারীদের পবিত্রতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় কিছু মাসয়ালা নিয়ে আলোচনা করা হলো—

ইসলামের নিয়ম হলো, টয়লেটে শেষে নারী-পুরুষ উভয় ঢিলা বা টিস্যু ও পানি ব্যবহার করবে। নারীদের মলমূত্র ত্যাগের পর পানি ও টিস্যু উভয়টি ব্যবহার করা উত্তম। আর পেশাবের পর শুধু পানি ব্যবহার করে নিলেই চলবে। এ ক্ষেত্রে ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তবে পুরুষের জন্য টয়লেট শেষে টিস্যু ও পানি উভয়টি নেওয়াই উত্তম। (রদ্দুল মুহতার ১/৩৩৭,আলমুহিতুল বুরহানি ১/৪৩)
লিপস্টিক ও নেইলপলিশ অবস্থায় অজুর বিধান
ইসলামে মহিলাদের জন্য মেহেদি ব্যবহার করা জায়েজ এবং মেহেদি থাকাবস্থায় অজু করা জায়েজ। কারণ তা চামড়ার মাঝে পানি প্রবেশ করতে বাধা দেয় না। এ ব্যাপারে সব ফিকাহবিদ একমত। তবে লিপস্টিক ও নেইলপলিশ এর বিপরীত। কারণ এগুলো চামড়ায় পানি প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করে থাকে। অথচ শরীরে পানি প্রবেশ না করলে অজু-গোসল বৈধ হয় না। তবে মেহেদির মতো যদি পলিশের কোনো প্রলেপ না থাকে তাহলে অজু শুদ্ধ হবে। (খোলাসাতুল ফাতওয়া : ৪/৩৭৭, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২)
মাছের রক্ত মাখা কাপড়ের বিধান
সাধারণত নারীরা ঘরে রান্নার কাজ করে থাকেন। তাই প্রায় বাসায় ছোট-বড় মাছ কাটতে হয়। অনেক সময় কাপড়ে মাছের রক্ত লেগে যায়। তখন সন্দেহ হয় কাপড় নাপাক হয়ে গেল কি না। এ ক্ষেত্রে বিধান হলো, যেহেতু মাছের রক্ত অপবিত্র নয়, তাই মাছের রক্ত কাপড়ে লাগলে কাপড় অপবিত্র হবে না। সুতরাং মাছের রক্ত মাখা কাপড়ে সব ধরনের ইবাদত করতে কোনো বাধা নেই। তবে উত্তম হলো কাপড় পরিবর্তন করে ইবাদত করা। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ২০৩৬, আলমাবসুত, সারাখসি: ১/৮৭)
ফরজ গোসলে চুল ধোয়ার বিধান
ফরজ গোসলে মহিলাদের চুল খোলা থাকলে পুরো চুল ধোয়া ফরজ। আর বাঁধা থাকলে পুরো চুল ধোয়া ফরজ নয়। শুধু চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানোই যথেষ্ট। (শরহু মুশকিলিল আসার, হাদিস : ৩৮৫৪)
ফরজ গোসলে মহিলাদের লজ্জাস্থানের বহিরাংশে পানি পৌঁছালে ফরজ আদায় হয়ে যায়। অভ্যন্তরীণ অংশে পানি পৌঁছানো জরুরি নয়। আর রোজা অবস্থায় নারীদের ভেতরাংশে যেন পানি না পৌঁছে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা ভেতরে যাওয়ার দ্বারা রোজা ভেঙে যাবে। (রদ্দুল মুহতার ১/১৫২)।
বোরকা বা শাড়িতে রাস্তার কাদা লাগার বিধান
নারীদের যেহেতু টাখনুর নিচে কাপড় পরার বিধান, তাই বৃষ্টির দিনে অনেক সময় রাস্তায় বের হলে রাস্তার কাদা বোরকা, শাড়ি ও জামা-কাপড়ে লেগে যায়। তখন অনেকের ধারণা হয় যে কাপড় অপবিত্র হয়ে গেছে। অথচ বিষয়টি এমন নয়। কারণ রাস্তার কাদা নাপাক নয়; কিন্তু কাদামাটির মধ্যে নাপাকি দৃশ্যমান হলে কাদার ওই অংশ অপবিত্র বলে গণ্য হবে এবং কাপড়ে এ ধরনের কাদা বেশি পরিমাণে লেগে গেলে তা নিয়ে নামাজ শুদ্ধ হবে না। তা ধুয়ে নিতে হবে। তবে ধোয়ার সুযোগ থাকলে এমন ময়লা কাপড়ে নামাজসহ অন্য ইবাদত না করাই ভালো। (কিতাবুল আসল : ১/৫২, আলমাবসুত, সারাখসি : ১/২১১)
ছোট বাচ্চার বমি ও নাকফুলের বিধান
দুগ্ধপায়ী ছোট বাচ্চা মুখ ভরে বমি করলে তা বড় মানুষের মতোই নাপাক এবং তা কাপড়ে পড়লে ধৌত করতে হবে। মুখ ভরে বমি না করলে তা নাপাক হবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/১৩৭)
আর অজু-গোসল করার সময় নারীদের নাকফুলের ছিদ্রে পানি পৌঁছানো জরুরি। (আল মুহিতুল বুরহানি : ১/৮০)
ছোট বাচ্চার বমি ও নাকফুলের বিধান
দুগ্ধপায়ী ছোট বাচ্চা মুখ ভরে বমি করলে তা বড় মানুষের মতোই নাপাক এবং তা কাপড়ে পড়লে ধৌত করতে হবে। মুখ ভরে বমি না করলে তা নাপাক হবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/১৩৭)
আর অজু-গোসল করার সময় নারীদের নাকফুলের ছিদ্রে পানি পৌঁছানো জরুরি। (আল মুহিতুল বুরহানি : ১/৮০)
সূত্র: ইবরাহিম সুলতান

ইবাদতের স্বাদ আস্বাদন

 নবী (সা.) বলেছেন, ‘নামাজে রাখা হয়েছে আমার নয়নের প্রশান্তি।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩৯৩৯)

বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলার অন্যতম একটি নিয়ামত হচ্ছে, ইবাদতেই স্বাদ অনুভব করা। আমাদের অনেকেরই অনেক সময় এমন হয় যে নামাজ, রোজা ইত্যাদি ভালো কাজ সবই করা হচ্ছে। কিন্তু ইবাদতে কোনো স্বাদ অনুভব হয় না। বুকের জমিনটা যেন শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। যাতে কোনো কিছুই উর্বর হচ্ছে না। প্রিয় নবী (সা.) ইবাদতের মাঝেই স্বাদ অনুভব করতেন। এ জন্য তিনি বলেছেন, ‘নামাজে রাখা হয়েছে আমার নয়নের প্রশান্তি।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩৯৩৯)
যেভাবে ইবাদতে স্বাদ অনুভব হবে
এক. যেসব কারণে ইবাদতে স্বাদ অনুভব হয় এর মধ্যে একটি হচ্ছে, ইবাদতের জন্য সাধনা করা। এর জন্য এমনভাবে পরিশ্রম করা যে এক সময় মন ইবাদতেই শান্তি খুঁজে পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা, সবর অবলম্বন করো, মোকাবেলার সময় অবিচলতা প্রদর্শন করো এবং সীমান্ত রক্ষায় স্থিত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করে চলো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা : আল-ইমরান, আয়াত : ২০০)
দুই. সব ধরনের পাপাচার থেকে বিরত থাকা। পাপের একটি নগদ শাস্তি হচ্ছে ইবাদতের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হওয়া। পাপের কারণে বান্দা এবং আল্লাহর মধ্যে এক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে যায়। ফলে অন্তর কঠোর হয়ে যায়। সে জন্য সে আর ইবাদতের স্বাদ অনুভব করে না। বিশেষ করে দৃষ্টিকে সংযত রাখা। অসুস্থ শরীর যেভাবে খাবারের স্বাদ অনুভব করে না তেমনি পাপাসক্ত ব্যক্তি ইবাদতের স্বাদ অনুভব করে না। কারণ তার শরীর অসুস্থ হয়ে আছে। ইরশাদ হয়েছে, কোনো মুসলিম যখন প্রথমবার কোনো নারীর সৌন্দর্যের প্রতি দৃষ্টি পড়ার পর, দৃষ্টি অবনত করে, আল্লাহ তাআলা তাকে ইবাদতে বিশেষ স্বাদ আস্বাদন করান। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১৭৮৪)
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘তুমি যদি আমলের স্বাদ অনুভব না কোরো, তাহলে তুমি নিজের আমলকেই দোষারোপ কোরো।’ (মাদারিজুস সালিকিন : ২/৯০)
তিন. অহেতুক জিনিসকে বর্জন করে চলা। অহেতুক কথাবার্তা অতিরিক্ত পানাহার—এসব বিষয় ইবাদতের মাঝে প্রভাব সৃষ্টি করে। আল্লাহ বলেন, ‘হে আদমের সন্তান!...খাও ও পান করো; কিন্তু অপব্যয় করো না। আল্লাহ অপব্যয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)
মারুফ কার্খি (রহ.) বলেন, ‘অহেতুক কথাবার্তা বলার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যায়।’ (জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম, পৃষ্ঠা ৩১৭)
চার. মনে মনে এ কথার দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ তাআলার ইবাদত, নামাজ, রোজা, হজ, সদকা ইত্যাদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার মাধ্যম। এবং এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ভালোবাসবেন। আর বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবে। আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, ‘ওই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেয়েছে, যে রব হিসেবে আল্লাহকে, দ্বিন হিসেবে ইসলামকে এবং রাসুল হিসেবে মুহাম্মাদ (সা.)-কে সন্তুষ্টচিত্তে স্বীকার করেছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৭)
-কালের কন্ঠ সূত্র