Thursday, September 29, 2022

ইসলামে অভ্যর্থনা জানানোর রীতি

 অভ্যর্থনা (Welcome) হলো সংবর্ধনা, আপ্যায়ন, সমাদর ও সসম্মানে গ্রহণ ইত্যাদি। পৃথিবীতে ইসলাম এসেছে সভ্য, উন্নত ও চির সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলের ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে সব বিষয়ে রয়েছে ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। অতিথিদের সম্মান ও অভ্যর্থনা জানানোর পদ্ধতি নিম্নরূপ—

সালাম : সালামের মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হয়, হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয় এবং শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঈমানি পরিবেশ তৈরি হয়।
মহান আল্লাহ প্রথম মানুষ হিসেবে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেন। এরপর ফেরেশতা কর্তৃক তাকে অভ্যর্থনা জানানোর আয়োজন করেন। আদম (আ.) ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে ‘আস-সালামু আলাইকুম’ বললে ফেরেশতারা জবাবে বলেন, ‘আস-সালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ’।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন মহান আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করলেন, তখন বললেন, যাও, অমুক স্থানে ফেরেশতাদের একটি দল আছে, তাদের সালাম করো এবং তাদের জবাব শোনো। কারণ সেটিই তোমার এবং তোমার সন্তানদের অভিবাদন। আদম (আ.) গিয়ে ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে ‘আস-সালামু আলাইকুম’ বলে সালাম দিলেন। ফেরেশতারা জবাবে বলেন, ‘আস-সালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ’। তারা ‘ওয়া রহমাতুল্লাহ’ বেশি বলেন। তখন থেকেই সালামের সূচনা হয়। (বুখারি, হাদিস : ৫৮৭৩; মুসলিম, হাদিস : ৭৩৪২)
এ ছাড়া আগমনকারী অবস্থানকারীকে সালাম দেওয়াই ইসলামী শিষ্টাচার। হাদিসে বলা হয়েছে, আরোহী হেঁটে চলা ব্যক্তিকে, চলমান থেমে থাকা ব্যক্তিকে, আগমনকারী অবস্থানকারীকে, কমসংখ্যক বেশিসংখ্যক লোককে এবং কম বয়সী বেশি বয়সীকে সালাম প্রদান করবে। (বুখারি, হাদিস : ৫৮৭৭; মুসলিম, হাদিস : ৫৭৭২)
মুসাফাহা বা করমর্দন : মুসাফাহা বা করমর্দন হলো সালামের পরিপূরক। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সালামের পরিপূর্ণতা হলো মুসাফাহা। ’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৭৩০)
সালাম বিনিময়ের পর উভয়ে উভয়ের দুই হাতের মাধ্যমে মুসাফাহা করাই সুন্নাহসম্মত।
কারণ প্রথমত, এ বিষয়ে ইমাম বুখারি (রহ.) সহিহ বুখারির মুসাফাহা অধ্যায়ে বলেছেন, ‘উভয় হাত দ্বারা মুসাফাহা করার বর্ণনা। হাম্মাদ ইবন জায়েদ (রহ.) আবদুল্লাহ ইবন মুবারক (রহ.)-এর সঙ্গে উভয় হাত দ্বারা মুসাফাহা করেছেন। ’ (বুখারি, অধ্যায়: অনুমতি প্রার্থনা, অনুচ্ছেদ: দুহাত ধরে মুসাফাহা, শিরোনাম।
দ্বিতীয়ত, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে ‘আত-তাহিয়্যাত’ এমনভাবে মুখস্থ করিয়েছেন যে আমার হাত তাঁর উভয় হাতের মধ্যে ছিল। ’ বুখারি, হাদিস : ৫৯১০)
তৃতীয়ত, হাদিসে হাত দ্বারা মুসাফাহা করার কথা বর্ণিত হয়েছে। হাত বললে দুই হাতই বোঝায়। যেমন—আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রকৃত মুসলমান সে ব্যক্তি, যার মুখ ও হাতের অনিষ্ট থেকে মুসলমানরা নিরাপদ থাকে। ’ (বুখারি, হাদিস : ১০; মুসলিম, হাদিস : ১৭১)
এখানে হাত বললেও অবশ্যই দুই হাত উদ্দেশ্য। পক্ষান্তরে কোনো এক হাত বোঝাতে চাইলে নির্দিষ্ট করে ডান বা বাম হাত উল্লেখ করা হয়। যেমন—খাদ্য গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ডান হাত দ্বারা খেতে বলা হয়েছে। (দ্র. বুখারি, হাদিস : ৫০৬১; মুসলিম, হাদিস : ৫৩৮৭)
বাম হাতে খেতে নিষেধ করা হয়েছে। (দ্র. মুসলিম, হাদিস : ৫৩৮৩)
ডান হাতে ইসতিনজা করতে নিষেধ করা হয়েছে। (দ্র. বুখারি, হাদিস: ১৫৩; মুসলিম, হাদিস: ৬৩৮)
চতুর্থত, এক হাতে মুসাফাহা করা বর্তমানে একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। যা পরিত্যাজ্য। অথচ মুসাফাহা একটি ইবাদত, যা স্বীয় বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্যে সমৃদ্ধ।
মুয়ানাকা বা কোলাকুলি : দীর্ঘদিন পর একে অন্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে পরস্পরে মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করা সুন্নত। কেউ সফর থেকে এলে দীর্ঘদিন পর দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ায় সাহাবায়ে কেরাম মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, জায়েদ ইবন হারিসা (রা.) যখন মদিনায় এলেন তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার ঘরে ছিলেন। জায়েদ (রা.) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমার ঘরে এলেন এবং দরজায় টোকা দিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের কাপড় সামলাতে সামলাতে উঠে গেলেন এবং জায়েদের সঙ্গে কোলাকুলি করলেন এবং তাকে আদর করলেন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭৩২)
শাবি (রহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম পরস্পরে মুসাফাহা করতেন আর কেউ সফর থেকে এলে তার সঙ্গে কোলাকুলি করতেন। (ইবন আবি শায়বা, আল-মুসান্নাফ, হাদিস : ২৬২৩৪)
দাঁড়িয়ে যাওয়া ও এগিয়ে যাওয়া : সফর থেকে আগত ব্যক্তির আগমনে আনন্দ প্রকাশ করে তার জন্য দাঁড়ানো মুস্তাহাব। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ফাতেমা (রা.) যখনই রাসুল (সা.)-এর কাছে আসতেন, রাসুল (সা.) তাঁর দিকে দাঁড়িয়ে অগ্রসর হতেন, চুমু খেতেন। তিনি তাঁকে নিজের জায়গায় বসাতেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৮৭২)
এভাবে কোনো ব্যক্তির সফলতার ওপর আনন্দিত হয়ে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দাঁড়ানোও মুস্তাহাব। (ফাতহুল মুলহিম : ৩/১২৭)
কাব ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আমি মসজিদে প্রবেশ করলে তালহা (রা.) আমার দিকে আনন্দিত হয়ে বসা থেকে উঠে দৌড়ে এগিয়ে এসেছেন এবং
অভিনন্দন
জানিয়েছেন। (বুখারি, হাদিস: ৪৪১৮)
আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, বনু কুরাইজার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.)-কে ডেকে পাঠিয়েছেন। সাদ (রা.) একটি গাধায় চড়ে আসেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর ব্যাপারে বলেন, তোমরা তোমাদের নেতা সাদের দিকে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যাও। (মুসলিম, হাদিস : ১৭৬৮)
কাজেই ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে যাওয়া ও প্রয়োজনে এগিয়ে গিয়ে তাঁকে অভিবাদন ও অভ্যর্থনা জানানোর অনুমতি আছে।
আপ্যায়ন : অতিথিকে যথাযথ আপ্যায়ন ও কদর করা একজন মুসলমানের ঈমানি কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। নবী (সা.) অতিথি আপ্যায়নের তাকিদ দিয়েছেন। কাজেই আগত অতিথিদের আদর-আপ্যায়ন ও উপহার-সামগ্রী প্রদান অতি সমীচীন বিষয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অতিথিদের সমাদর করে। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬১৩৬)
মৌখিক অভ্যর্থনা ও অভ্যর্থনা সংগীত : আগন্তুক অতিথিকে মৌখিক অভ্যর্থনা ও অতিথির প্রশংসনীয় গুণাবলিসংবলিত অভ্যর্থনা সংগীতও পরিবেশন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে ইসলামের অন্য বিধান যেন লঙ্ঘন না হয়। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধিরা নবী (সা.)-এর কাছে আগমন করে তখন নবী (সা.) তাদের জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমরা কারা?’ তারা বলল, ‘আমরা (আবদুল কায়েস গোত্রের) রবিআ শাখার লোক। ’ নবী (সা.) বলেন, ‘ওই জাতিকে মারহাবা! ওই প্রতিনিধিদলকে মারহাবা! এটা তোমাদের অপরিচিত কোনো জায়গা নয়। এখানে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। ’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩; মুসলিম, হাদিস : ১৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে যখন মদিনায় প্রবেশ করছিলেন, তখন মদিনার মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের জোয়ার নেমে এসেছিল। তারা প্রিয়নবী (সা.)-কে বরণ করে নিতে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিল। নারী ও শিশুরা বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে নবী (সা.)-কে বিভিন্ন রকমের কবিতা আবৃত্তি করে হৃদয়োৎসারিত উষ্ণতা দিয়ে অভ্যর্থনা জানিয়েছিল। (ইবনে কাসির, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৮)
তারা আবৃত্তি করেছিল—
তলা‘আল বাদরু ‘আলাইনা, মিন ছানিয়্যাতিল বিদা‘আ
ওজাবাশ শুকরু ‘আলাইনা- মাদা‘আ লিল্লাহি দা‘আ
আইয়্যুহাল মাব‘উছু ফি-না—জি’তা বিল আমরিল মুতা‘আ।
অর্থ—‘উদিত হলো নতুন চাঁদ, ওদা পাহাড়ের ঘাঁটি থেকে। দায়িত্ব মোদের শোকর করা, ডাকবেন যত দিন আল্লাহর দিকে। ওহে নবাগত! মোদের মাঝে, অনুগত আমরা সবে তোমার সকল কথায়-কাজে। ’
নবী (সা.) বনু নাজ্জার গোত্রে পৌঁছলে তাদের মেয়েরা অভ্যর্থনা জানিয়ে আবৃত্তি করেছিল—
‘নাহনু জাওয়ারু মিন বানিন-নাজ্জার, ইয়া হাব্বাজা মুহাম্মাদুন মিন জার। ’
অর্থ—‘আমরা নাজ্জার গোত্রের মেয়ে, কী সৌভাগ্য আমাদের, মুহাম্মাদ (সা.) আমাদের প্রতিবেশী। ’ (মুহাম্মাদ ইদ্রিস কান্ধলভি, সিরাতুল মুস্তফা, ১ম খণ্ড, দেওবন্দ : দারুল কিতাব, পৃষ্ঠা ৪০৬)
সূত্র: ড. আবু সালেহ মুহাম্মদ তোহা R.U

সুন্নাহর অনুসরণেই মু'মিনের মুক্তি

 সুন্নাত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ: প্রকৃতি, জীবনপদ্ধতি, রীতি, আদর্শ ইত্যাদি। পরিভাষায় সুন্নত হলো, রাসুল (সা.)-এর সার্বিক জীবনাদর্শ। ইসলামের আকিদা-বিশ্বাস থেকে নিয়ে ইবাদত, লেনদেন ও শিষ্টাচারসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শই হলো সুন্নত। যদিও পরবর্তী সময়ে মানুষের সহজতার জন্য বিধানাবলির প্রামাণিকতা ও নির্দেশের মাত্রা ইত্যাদির বিবেচনায় ইসলামী বিধানসমূহে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নতসহ নানা শব্দে স্তর বিন্যাস করা হয়েছে। কিন্তু এসবই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও যাবতীয় কল্যাণের বিবেচনায় সমান গুরুত্বের দাবি রাখে।

রাসুলের জীবনাদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা বলেন : ‘প্রকৃতপক্ষে, তোমাদের মধ্যে যারা পরকালের আশা রাখে এবং আল্লাহকে খুব বেশি করে স্মরণ করে তাদের জন্য রাসুলুল্লাহর জীবনে এক সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ২১)
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন: ‘বলো, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (আলে ইমরান, আয়াত : ৩১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন : ‘আমার সব উম্মতই জান্নাতে প্রবেশ করবে; কিন্তু যে অস্বীকার করবে। সাহাবিরা বললেন, কে অস্বীকার করবে? তিনি বলেন, যারা আমার অনুসরণ করবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে সে-ই অস্বীকার করবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৭২৮০)
ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এ মর্মে অন্তিম উপদেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নত এবং আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নত কঠোরভাবে অনুসরণ করবে। সাবধান! (দ্বিনি বিষয়ে) নব আবিষ্কার সম্পর্কে! কারণ প্রতিটি নব আবিষ্কার হলো বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬০৭)
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নত অপছন্দ করল তার সঙ্গে আমার সুন্নত অপছন্দ করল তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৭৭৬)
সুন্নত অপছন্দ করল তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৭৭৬)
সুন্নতই মুক্তির পথ
বায়েজিদ বোস্তামি (রহ.)-এর কাছে জনৈক ব্যক্তির কারামতের কথা বলা হলো যে অমুক এক রাতে মক্কা শরিফে পৌঁছে গেছে। তিনি বললেন, এটি কোনো বড় অর্জন নয়। কেননা শয়তানও মুহূর্তেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারে। তাই কেউ যতই বাতাসে উড়ে দেখাক, আগে পরীক্ষা করে নেবে যে সে রাসুল (সা.)-এর সুন্নতের রাজপথে অবিচল কি না? (বাসায়েরুল আশায়ের পৃষ্ঠা ৬১২)
মুজাদ্দিদে আলফে সানি (রহ.) জনৈক মুরিদকে বলেন যে ‘কারামতের ঠেলায় জমিন কেঁপে ওঠা বা মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়ে যাওয়ার চেয়েও অজুর সময় মিসওয়াকের সুন্নত পালন করা হাজারো গুণ উত্তম।’ (ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া : ২/১৯৫)
ইমাম আবু দাউদ (রহ.) একদা নৌসফরকালীন একটি জাহাজে ছিলেন। তখন জাহাজ থেকে নদীর পার দিয়ে গমনকারী জনৈক পথিককে হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে শুনলেন। তিনি জাহাজ থেকে নেমে এক দিরহামের বিনিময়ে একটি নৌকা ভাড়া করে পারে এসে হাঁচিদাতার উত্তরে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলে এলেন। এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, আমি তার জবাবে গিয়ে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলায় সে প্রতি-উত্তরে ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহ’ (আল্লাহ তোমাকে হিদায়াত দিন) এ দোয়া করেছে, আর লোকটি হতে পারে এমন কেউ, যার দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়। তাহলে তো এটিই আমার সফলতার জন্য যথেষ্ট। অতঃপর ওই রাতে জাহাজের যাত্রীগণ স্বপ্নে দেখল, জনৈক ব্যক্তি ঘোষণা করছে, ‘নিশ্চয়ই আবু দাউদ এক দিরহামের বিনিময়ে জান্নাত ক্রয় করে নিয়েছে।’ (ফাতহুল বারি : ১০/৬১০-৬১১)
আলেমগণ বলেন, আল্লাহর দরবারে আমল কবুল হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত : এক হলো—আকিদা বিশুদ্ধ হওয়া, দ্বিতীয়ত, সুন্নতের অনুসরণে হওয়া, তৃতীয়ত, নিয়ত সঠিক হওয়া।
আল্লাহ তাআলা সব মুসলমানকে সুন্নতের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন
-কালের কন্ঠ সূত্র

ইসলাম বিরোধীরা ইসলামকে গালাগাল দিতেই মজা পায়

 গল্পটি রূপক কিন্তু শেখার আছে

মুসলমানরা সব আশিক্ষিত আর দরিদ্র হলোঃ
অনেকদিন আগের কথা। একবার বৃষ্টির পানিতে রাজার কয়েক বস্তা টাকা ভিজে গিয়েছিলো। রাজার কর্মচারীরা সেই টাকা শুকানোর জন্য রোদে রেখেছে। পাশের গাছে একটি পাখির বাসা ছিলো। সেই পাখিটি সেখান থেকে একটি টাকা নিয়ে গেছে। এরপর গাছের উপরে বসে সেই পাখিটি গান গাইছে…
রাজার ঘরে যে টাকা আছে, আমার ঘরে সেই টাকা আছে।
সেই গান শুনে রাজার কর্মচারী গাছে উঠে দেখলো, পাখির বাসায় একটি টাকা পড়ে আছে। সেই লোকটি, টাকাটা নিয়ে আসলো। এটা দেখে পাখিটি গান গাইছে…
রাজা এমন গরীব হলো, আমার টাকা নিয়ে গেলো।
এই গান শুনে, মুচকি হেসে, লোকটি আবার টাকাটা ওই পাখির বাসায় রেখে দিলো। এটা দেখে, পাখিটি আবারও গান গাইছে…
রাজা এত ভয় পেলো, আমার টাকা ফিরিয়ে দিলো।
ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, ওই পাখিটি গান গাইবে। টাকা নিলে গান, টাকা ফিরিয়ে দিলে গান। সবখানেই গান। তার ভালো খারাপ যেটাই হোক না কেন, সবসময়ই অন্যেকে দোষারোপ করাটা ওই পাখিটির স্বভাব।
ইসলাম বিরোধীদের ঠিক তেমনই গান গাওয়ার স্বভাব। সবখানেই গান গাইবে।
বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৪.৬৬ শতাংশ। ভারতে শিক্ষার হার ৭৫%। সৌদি আরবে শিক্ষার হার ৯৭% । মুসলমান মোটেও অশিক্ষিত নয়।

স্বামী-স্ত্রী কত দিন আলাদা থাকতে পারবে?

 মুয়াবিয়া ইবনে হায়দা (রা.) বলেন, ‘আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের প্রতি আমাদের স্ত্রীদের কী অধিকার আছে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা যখন খাবে তাদেরও খাওয়াবে, যখন খাবে তাদেরও খাওয়াবে, যখন তোমরা কাপড় পরবে তাদেরও পরতে দেবে। তাদের চেহারায় মারবে না, গালগন্দ করবে না। তাদের তোমাদের ঘরেই থাকতে দেবে, অন্য কোথাও না। ’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২১৪২)।

উল্লিখিত হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকবে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তারা পৃথক থাকবে না।
কখন বিছানা আলাদা হবে : এই বিশেষ প্রয়োজনটা কী? আমরা আগেই আলোচনা করেছি, যদি স্ত্রীর মধ্যে অশালীন, আপত্তিকর কোনো কিছু দেখা যায়, তবে প্রথমে তাকে বোঝাতে হবে। যদি তার বোধোদয় না ঘটে, তখন বিছানা আলাদা করার অবকাশ আছে। স্বামী ও স্ত্রী আলাদা বিছানায় শোবে। বিছানা বর্জনের অর্থ তাদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া নয় কিংবা নিজে ঘর থেকে চলে যাওয়াও উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হলো ঘরের ভেতরেই উভয়ে পৃথক বিছানায় ঘুমাবে। আর এটা বলা হয়েছে প্রয়োজনের তাগিদেই। স্ত্রীর মানসিকতায় যেন পরিবর্তন আসে এবং সে মার্জিত জীবনযাপনের গুরুত্ব অনুভব করে।
সর্বাত্মক বয়কট নয় : আলেমরা বলেন, বিশেষ প্রয়োজনে স্বামী পৃথক বিছানা গ্রহণ করলেও তার সঙ্গে পুরোপুরি কথা বন্ধ রাখা বা সর্বাত্মক বয়কট করা যাবে না; বরং তারা পরস্পরের সঙ্গে সালাম বিনিময় করবে এবং প্রয়োজনীয় কথা বলবে। পুরোপুরি কথা বন্ধ করা বৈধ হবে না।
স্বামী কত দিন দূরে থাকতে পারবে : ইসলামী আইনজ্ঞ আলেমরা বলেন, স্বামী যদি চার মাসের বেশি সময়ের জন্য সফরে যেতে চান, তবে স্বামী স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ করবে। খুশি মনে অনুমতি দিলে সফর বৈধ হবে, অন্যথায় নয়। ওমর (রা.) তাঁর শাসনামলে এই আইন চালু করেছিলেন যে যেসব যোদ্ধা বাড়ির বাইরে থাকেন, তাঁরা চার মাসের বেশি বাইরে থাকতে পারবেন না।
স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া হজও নয় : আলেমরা আরো বলেন, কেউ যদি চার মাসের কম সময়ের জন্য সফরে বের হয়, তবে তার জন্য স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু চার মাসের বেশি সময়ের জন্য সফরে বের হলে অবশ্যই স্ত্রীর অনুমতি লাগবে। সফর যত বরকতপূর্ণই হোক না কেন। এমনকি যদি হজের সফরও হয় আর তা যদি চার মাসের বেশি সময়ের জন্য হয়, তবে স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন হবে। দাওয়াত, তাবলিগ ও জিহাদের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে।
প্রবাসীদেরও লাগবে স্ত্রীর অনুমতি : যখন এমন গুরুত্বপূর্ণ বিধানের ক্ষেত্রেও স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন হয়, তখন চাকরিবাকরি বা নিছক অর্থ উপার্জনের জন্য স্বামী যদি দূরে থাকে বা দেশের বাইরে থাকে, তবে তার বিধান কী হবে? এমনটি করা স্ত্রীর অধিকার নষ্ট করার শামিল, যা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ ও গুনাহ।
স্ত্রীর অনুমতি গুরুত্বপূর্ণ কেন? : ইসলাম স্ত্রীর ওপর স্বামীর অভিভাবকতুল্য কর্তৃত্ব দিয়েছে। তবে স্বামীর ব্যাপারে স্ত্রীর সন্তুষ্টি ও মূল্যায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন হিসেবে তার ঈমানই সবচেয়ে বেশি পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সবচেয়ে ভালো। আর তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই সবচেয়ে চরিত্রবান যে তার স্ত্রীর চোখে চরিত্রবান। ’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১১৬২)। উল্লিখিত হাদিস থেকে বোঝা যায়, স্বামীর চরিত্র বিচারে স্ত্রীর মূল্যায়ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন
-ইসলাহি খুতুবাত থেকে
আল্লামা মুফতি তকি উসমানি

নবীজি (সা.)-এর কণ্ঠস্বর কেমন ছিল?

 অন্য সব কিছুর মতোই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কণ্ঠস্বরও সুমিষ্ট ও চিত্তাকর্ষক ছিল। তাঁর শব্দ-বাক্যের বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও কণ্ঠের মাধুর্য সহজেই অন্যকে মুগ্ধ করত। তার চেয়ে সুমধুর আওয়াজ আর কারো ছিল না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কণ্ঠস্বর ও বাকভঙ্গি সম্পর্কে আলী (রা.) বলেছেন, ‘আসদাকুন নাসি লাহজাতান’।

আর আরবরা ‘সিদকু লাহজা’ দ্বারা বোঝায়, যার উচ্চারণ পুরোপুরি বিশুদ্ধ এবং বাকভঙ্গিও আকর্ষণীয়। আর নবী করিম (সা.) ছিলেন সবচেয়ে বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও মুগ্ধকর বাকভঙ্গির অধিকারী। এ জন্য তাঁকে বলা হয়েছে ‘আসদাকুন নাসি লাহজাতান’।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ কোনো নবীকেই সুন্দর আওয়াজ ও কান্তিময় চেহারা ছাড়া প্রেরণ করেননি। আর এসব গুণাবলিতে আমাদের নবী (সা.) ছিলেন সব নবীর ঊর্ধ্বে। যেমন একজন কবি বলেছেন, ‘সব উম্মতের অন্তরে যদিও সত্যের পরিতৃপ্তি থাকে। তবে নবীদের চেহারা ও আওয়াজ এক মুজিজাও বটে। ’
(আরো বিস্ময়কর হলো) যত দূর পর্যন্ত সাধারণত কারো আওয়াজ পৌঁছাত না, তত দূর পর্যন্ত তাঁর মোবারক শব্দ বিনা কষ্টে পৌঁছে যেত। বিশেষত সেসব খুতবার শব্দ, যেগুলোতে উপদেশ, সতর্কবার্তা এবং আল্লাহকে ভয় করার উদ্দেশ্য থাকত। এমনকি পর্দার ভেতর থাকা নারীরা তা স্পষ্ট শুনতে পেত। তিনি হজের দিনগুলোতে মিনায় যে ভাষণ দিয়েছিলেন ওই ভাষণ সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকেই শুনতে পেরেছিল।
মাদারিজুন নবুয়ত থেকে সংগৃহীত
শায়খ আবদুল হক দেহলভি (রহ.)
-কালের কন্ঠ

কাউকে কাফির বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

 যে ব্যক্তির মনে নিজের পরিণাম এবং পরকালের চিন্তা থাকে তার মুখ অন্যের ব্যাপারে কখনোই লাগামহীন হতে পারে না, সে ব্যক্তি কোনো অবিশ্বাসী কাফেরকেও হীন দৃষ্টিতে দেখে না। কেননা সে কাফেরের পরিণাম কী হবে তা যেমন তার জানা নেই, তেমনি নিজের পরিণাম কী হবে তাও তো সে জানে না। কোনো এক ফার্সি কবি বলেছেন, ‘কোনো কাফির ব্যক্তিকেও হীন চোখে দেখবে না। কেননা এমনও হতে পারে যে লোকটা মৃত্যুর আগে মুসলিম হয়ে যাবে।

-আল্লামা আশরাফ আলী থানবি (রহ.)

হাতের কাছে প্রাকৃতিক দাওয়াই যা ফার্টিলিটি বাড়াতে পারে

 “The soil is the great connector of lives, the source and destination of all. It is the healer and restorer and resurrector, by which disease passes into health, age into youth, death into life. Without proper care for it we can have no community, because without proper care for it we can have no life.”

― Wendell Berry, The Unsettling of America: Culture and Agriculture
লবঙ্গ (Clove) খেলে ফার্টিলিটি বাড়ে
লবঙ্গ দারুণ একটি খাবার। এবার মাথায় রাখতে হবে যে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম সহ অন্যান্য নানা উপকারী উপাদান রয়েছে লবঙ্গে। এই কারণে রক্ত পরিষ্কার করে দিতে পারে লবঙ্গ। এছাড়া এই লবঙ্গ পারে রক্ত প্রবাহ বিশেষ সময়ে বাড়তে। এমনকী ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর ক্ষেত্রেও কার্যকরী হল লবঙ্গ।
এবার থেকে এই বিষয়টি মাথায় রাখুন।
দারচিনি (Cinnamon) ফার্টিলিটি বাড়ায়
মাথায় রাখার বিষয় হল দারচিনি কিন্তু শরীরের জন্য খুবই ভালো। এক্ষেত্রে দারচিনি খেলে প্রজনন ক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়তে পারে। এমনকী পিসিওএস থেকে শুরু করে এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো সমস্যা কমিয়ে দিতে পারে দারচিনি। তবে বেশি পরিমাণে এই মশলা খেতে যাবেন না।
অশ্বগন্ধা (Ashwagandha-বৈজ্ঞানিক নাম 'উইদানিয়া সোমনিফেরা Withania somnifera) খেলে ফার্টিলিটি বাড়ে অশ্বগন্ধা খেলে ফার্টিলিটি বাড়ে
মাথায় রাখতে হবে যে অশ্বগন্ধা খেলে অনেক ক্ষেত্রেই বেড়ে যেতে পারে ফার্টিলিটি। এতে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা বাড়াতে পারে ফার্টিলিটি। তাই এই বিষয়টি মাথায় রাখা হল খুবই প্রয়োজনীয়।
-self study