Thursday, February 23, 2023

কোষ্ঠকাঠিন্যে

 কিছু টোটকা

আমলকির রস
আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি, এ-র উপকারী ভিটামিন। যা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য ঠেকাতেও কিন্তু ভরসা রাখতে পারেন আমলকির রসে। কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগীরা প্রতি দিন গরম জলে আমলকির রস মিশিয়ে খেতে পারেন। সুফল পাবেনই।
চিয়াবীজ
প্রোটিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফাইবারে সমৃদ্ধ চিয়াবীজ কোষ্ঠকাঠিন্যের ঘরোয়া ওষুধ হতেই পারে। এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও কমাত সাহায্য করে। ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে চিয়াবীজ দারুণ উপকারী।
নারকেল তেল
রূপচর্চা থেকে ওজন কমানো— সবেতেই নারকেল তেলের জুড়ি মেলা ভার। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এড়াতেও কিন্তু নারকেল তেল ঠিক তেমন ভাবেই সাহায্য করে। নারকেল তেলে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারে। নারকেল তেলে রান্না করতে পারেন। অথবা স্যালাডের উপর থেকে নারকেল তেল ছড়িয়ে দিতে পারেন।
যে খাবারে ফাইবার বেশি
হজমশক্তি ঠিক রাখতে ফাইবার দারুণ সাহায্য করে। হজমের গোলমাল থেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্ম। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে থাকতে ফাইবার আছে এমন খাবার বেশি করে খান। বেরি, ওট্‌স, বিনস্‌, ডাল, মটরশুঁটিতে রয়েছে ভরপুর পরিমাণে ফাইবার। নিয়মিত এগুলি খেতে পারেন। উপকার পাবেন।
-anandabazar

মুখের দুর্গন্ধ

 মুখের দুর্গন্ধ বিব্রতকর একটি সমস্যা

মুখের দুর্গন্ধ বিব্রতকর একটি সমস্যা। এ সমস্যাটার সমাধান কিন্তু খুব সহজ—জীবনযাত্রায় ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন। আর এর পেছনে যদি আলাদা কোনো কারণ দায়ী থাকে, তাহলে সেটির চিকিৎসাও প্রয়োজন।
প্রতিটি মানুষের মুখ, দাঁত ও জিহ্বায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু জীবাণু থাকে। এগুলো নিজের সুস্থতার জন্যই প্রয়োজনীয়। তবে এসব ব্যাকটেরিয়া থেকে এমন কিছু উদ্বায়ী পদার্থ তৈরি হয়, যা মুখের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী। মুখের স্বাভাবিক লালা সঞ্চারণের ফলে এমন দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী পদার্থ জমা হতে পারে না, তাই সাধারণত সারা দিনে মুখে তেমন দুর্গন্ধ হয় না। ঘুমালে লালা সঞ্চারণ কমে যায়, ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখের দুর্গন্ধ হয় অনেকেরই। নিয়মিত সঠিক উপায়ে দাঁত ব্রাশ, খাওয়ার পরে কুলকুচি, প্রয়োজনে ফ্লস ব্যবহার, মাউথওয়াশ ব্যবহার করার মাধ্যমে সহজেই এমন সমস্যা
ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ছাড়াও যেসব কারণে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে—
খাবারদাবার এবং অভ্যাস
পেঁয়াজ, রসুন, কমলালেবুর রস এবং কিছু মসলার কারণে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। এ ছাড়া যেকোনো খাবার দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেও কিন্তু মুখে দুর্গন্ধ হয়। তাই না খেয়ে থাকতে হলে (যেমন পবিত্র রমজানে রোজা রেখে কিংবা উপবাসের সময়) মুখ পরিষ্কার রাখার প্রতি বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। যাঁরা অ্যালকোহল কিংবা ধূমপান করেন, তাঁদের মুখেও দুর্গন্ধ হয়। পান, সুপারি, জর্দা, গুল প্রভৃতিও দুর্গন্ধের কারণ।
মুখের আরও ব্যাপারস্যাপার
মুখ যাঁদের শুষ্ক হয়ে থাকে, তাঁদেরও মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার প্রবণতা বেশি। মুখ খোলা রেখে যাঁরা ঘুমান, তাঁদের মুখ শুষ্ক হয়ে থাকে। আবার কিছু ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও মুখ শুষ্ক হয়ে যায়।
দুর্গন্ধের অন্যান্য কারণ
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ
সাইনাসে দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ
গলার পেছনের অংশে কফ জমা হওয়া
বদহজম
ডায়াবেটিস
লিভার বা কিডনির কিছু রোগ
দুর্গন্ধের সমাধান
মুখ পরিষ্কার করার সময় জিহ্বাও (গোড়ার দিকটাসহ) পরিষ্কার করুন।
ঘুমের আগে মাউথওয়াশ ব্যবহারের অভ্যাস করুন।
চিনিবিহীন Chewingগাম চিবাতে পারেন।
মুখ শুকনা বোধ করলেই একটু পানি খেয়ে নিন, যাতে অন্তত গলাটা ভেজে।
পান, সুপারি, জর্দা, গুল, সিগারেট এবং অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
যখন চিকিতসা প্রয়োজন
সব চেষ্টার পরও মুখে দুর্গন্ধ রয়ে গেলে চিকিতসকের পরামর্শ নিন। দাঁত বা মাড়ির কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলে সেটির চিকিতসা নিন। আর কফ-কাশি, হজমের সমস্যা কিংবা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা গেলে সেটির চিকিতসা তো নেবেনই।

সূত্র: প্রথম আলো

কলা

 Origin Of Banana

কলা নামক ফলটি আসলে কী-কোথায় এর উত্পত্তি?
কলা (Banana) নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা হয়েছে। যেখানে দেখা গিয়েছে যে এর ভিতরে এমন তিনটি জেনেটিক মার্কার রয়েছে, যা তিনটি ভিন্ন বন্য কলার (Wild Banana)। কিন্তু এমন কলা সারা বিশ্বে আবিষ্কৃত হয়নি। কলা পাকলে হলুদ রঙের হয়। মিষ্টি, নরম এবং মসৃণ হয়। কিন্তু আসলে একটি কলা আপনি যা ভাবেন তা নয়। এগুলি হলুদ, সবুজ, নীল, বাল্বের মতো, বীজযুক্ত বা বীজহীন হতে পারে। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম কলা।
পৃথিবীতে অনেক ধরনের, অনেক আকারের ও রঙের কলা পাওয়া যায়। উদ্ভিদবিদ জুলি সার্ডোস (Julie Sardos) বলেন, 'কলার বৈচিত্র্য সমগ্র বিশ্বে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। আমরা আমাদের অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি বর্তমানে সারা বিশ্বে যে সাধারণ কলা খাওয়া হচ্ছে তা তিনটি বন্য কলা থেকে এসেছে। কিন্তু তিনটি বুনো কলা সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। এমনকি খুঁজেও পাওয়া যায়নি। কলার এই তিন বন্য পূর্বপুরুষ মিলিত হলে মনে হয় কলা নিয়ে আমাদের চিন্তাধারা বদলে যাবে।'
বন্য কলা (Wild Bananas), যাকে বৈজ্ঞানিকভাবে Musa Acuminata বলা হয়। এর মধ্যে অনেক বীজ আছে। এটা খাওয়া যাবে না। মুসা প্যারাডিসিকা হলো কাঁচ কলা। বিজ্ঞানীরা মনে করেন কলার ইতিহাস ৭ হাজার বছরের পুরনো। আমরা এখন যে কলা খাচ্ছি, তার জন্ম ৭ হাজার বছর আগে পাপুয়া নিউ গিনিতে (Papua New Guinea)। তখনকার মানুষ কলার উৎপাদন করত, তাও কোনও সার ছাড়াই। তারপর প্রথমবার বীজ ছাড়াই কলা বের হলো। এটা খাওয়ার মতো ছিল। কিন্তু কীভাবে উৎপাদন করা হয়েছিল, তা আমরা জানি না।
কীভাবে সারা বিশ্বে কলা ছড়িয়ে পড়ল?
পাপুয়া নিউগিনি থেকে বাণিজ্যপথে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ভারতে কলা পৌঁছেছিল। এখানে আসার পর ক্রসব্রিড হয়েছে। আরও অনেক জাতের কলা তৈরি হতে থাকে। ছোট কলা, মোটা কলা, হাই পাল্প কলা, পাতলা কলা, হাই পাল্প কলা ইত্যাদি। বিভিন্ন রঙের কলা। মিষ্টি কম আর মিষ্টি বেশি। আপনি শুধু ভারতেই দেখুন, কয়েক ডজন ধরনের কলা পাবেন। কেরলের লাল রঙের কলা এবং ভুসাওয়ালের হলুদ কলা। গ্রোস মিশেল Gros Michel ("বিগ মাইক") কলার একটি রপ্তানি জাত এবং 1950 এর দশক পর্যন্ত এটি প্রধান জাত ছিল।
এভাবেই তিন বন্য কলার কথা জানতে পারেন বিজ্ঞানীরা
জুলি সার্ডোস বলেন, 'আমরা কম্পিউটারে তিনটি কলার জেনেটিক মার্কার দেখেছি। কোন রুট থেকে তারা মিলিত হয়েছে, তা খুঁজে বের করেছি। তদন্ত এখনও চলছে। এই কলা কোথা থেকে শুরু হয়েছে তা এই তদন্তে জানা যাবে। তাদের ক্রসব্রিডিং কোথায় করা হয়েছিল? কলার আগে বড় বীজ ছিল, কীভাবে বীজহীন ফল হয়ে উঠল, তাও জানা যাবে।'
বিজ্ঞানীরা কী পেয়েছেন?
তিনটি বন্য কলার জেনেটিক মার্কারগুলির মধ্যে একটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। দ্বিতীয়টি স্থানীয়ভাবে বোর্নিও দ্বীপে প্রজনন করা হয়েছিল। তৃতীয়টি এসেছে পাপুয়া নিউ গিনির কলা থেকে। এসব জায়গা থেকে জেনেটিক চরিত্র অবশ্যই পাওয়া যায়, কিন্তু তার পরেও কলা সবচেয়ে রহস্যময় ফল। তাদের গোপন কথা প্রকাশ করা হচ্ছে না। জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী জেমস লাইবেনস ম্যাক বলেন, সার্ডোসের তথ্য থেকে জানা যায় যে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের কোথাও কলা জন্মেছিল।
আগে কলা নরম ফল ছিল না:
কলা ছিল বীজসহ প্রথম শক্ত ফল, যা খাওয়া যেত না। তাহলে হঠাৎ করে মিষ্টি মণ্ডসহ বীজহীন ফল হল কী করে? এই প্রশ্নের উত্তরে জুলি বলেছেন, 'কলার প্রজনন এত সহজ নয়। একটি ভোজ্য কলা তৈরি করা সহজ নয়। আপনাকে এক জাতের কলা অন্য জাতের সঙ্গে ক্রসব্রিড করতে হবে। এটা যে সফল হবেই তা নয়। তারপর কলা এমন হতে হবে, যেন খেতে হয়। অন্যথায় প্রজনন নষ্ট হয়ে যাবে। এই গবেষণাটি সম্প্রতি ফ্রন্টিয়ার্স ইন প্ল্যান্ট সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে।'

জামাতে নামায পড়া কেন?

 নামাজ আদায়কারীদের অনেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মসজিদে আসেন। মসজিদে নামাজ পড়তে এলে তাঁদের পরস্পরের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের অশেষ সওয়াব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত একা পড়ার চেয়ে ২৭ গুণ বেশি। (বুখারি শরিফ)

মসজিদে নামাজ আদায় করলে বান্দার আত্মিক উন্নতি হয়। সামাজিক ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। জামাতে নামাজ আদায় করায় মুসলমানরা দৈনিক পাঁচবার একত্রে মিলিত হওয়ার সুযোগ পান। ফলে তাদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। একতাবদ্ধ হয়ে সত কাজ করার শিক্ষা জামাতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে অর্জন করা যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নামাজের প্রথম সারি হলো ফেরেশতাদের সারির মতো। তোমরা যদি প্রথম সারির মর্যাদা সম্পর্কে জানতে, তবে তা পাওয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়তে। মনে রেখো, একা নামাজ পড়ার চেয়ে দুই ব্যক্তির একত্রে নামাজ পড়া উত্তম। আর দুই ব্যক্তির একত্রে নামাজ পড়ার চেয়ে তিন ব্যক্তির একত্রে নামাজ পড়া উত্তম। এভাবে যত বেশি লোকের জামাত হবে, তা আল্লাহর কাছে তত বেশি প্রিয় হবে।’
একবার এক অন্ধ ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার এমন কেউ নেই, যে আমাকে হাত ধরে মসজিদে আনবে।’ অতঃপর লোকটি মসজিদে উপস্থিত হওয়া থেকে অব্যাহতি চান এবং ঘরে নামাজ পড়ার অনুমতি চান। রাসুলুল্লাহ তাঁকে ঘরে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়ে দেন। লোকটি রওনা করলে রাসুলুল্লাহ তাঁকে পুনরায় ডেকে পাঠান। লোকটি ফিরে আসেন। রাসুলুল্লাহ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি কি আজান শুনতে পাও?’ লোকটি বললেন, ‘হ্যাঁ, শুনতে পাই।’ রাসুলুল্লাহ বললেন, ‘তাহলে তুমি মসজিদে উপস্থিত হবে।’ তারপর বললেন, ‘ফজর ও এশার নামাজ মুনাফিকদের জন্য অন্যান্য নামাজের তুলনায় বেশি কষ্টকর। তোমরা যদি জানতে এ দুটি নামাজের মধ্যে কী পরিমাণ সওয়াব নিহিত আছে, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও নামাজে উপস্থিত হতে।’
-.prothomalo

সূরা ফাতিহা সালাতে অত্যাবশ্যকীয়

 সুরা ফাতিহা এমন এক সুরা, কেউ যখন এর একটি করে আয়াত পড়তে থাকে, আল্লাহ সঙ্গে সঙ্গে সেই আয়াতের জবাব দিতে থাকেন। এই সুরা যেন আল্লাহর সঙ্গে তাঁর বান্দার সরাসরি যোগাযোগ।

সুরা ফাতিহার অর্থ আবার দেখে নিই:
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই।
যিনি পরম করুণাময়, পরম দয়াময়;
বিচার দিনের মালিক।
আমরা তোমারই উপাসনা করি, তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি;
তুমি আমাদের চালিত করো সঠিক পথে,
তাঁদের পথে, যাঁদের তুমি অনুগ্রহ দান করেছ,
যারা (তোমার) রোষে পতিত হয়নি, পথভ্রষ্ট হয়নি।
এই সাতটি আয়াতের মধ্যে প্রথম তিনটি আয়াতে আছে আল্লাহর পরিচয়। আর শেষ তিন আয়াতে আছে আল্লাহর কাছে আমাদের প্রার্থনা।
আল্লাহর পরিচয় হিসেবে বলা হয়েছে, তিনি পরম দয়ালু ও করুণাময়; কারণ তিনিই মহাবিশ্বের প্রতিপালন করছেন। তাই তিনিই আমাদের মাফ করে দেওয়ার চূড়ান্ত অধিকারী। তিনি যেহেতু বিচার দিবসের প্রভূ, সেই বিচারে তিনিই আমাদের প্রতি দয়া বর্ষণ করার একমাত্র ত্রাণকর্তা।
সুরাটির শেষ তিন আয়াতের প্রথমেই আল্লাহর কাছে আমরা সরল পথ দেখিয়ে দেওয়ার পথনির্দেশ চাচ্ছি। কোন পথ সরল? আল্লাহ তায়ালা নবী-রাসুলকে যে পথে চালিত করেছেন। এটি হলো আল্লাহর কাছে আমাদের প্রত্যাশা। যিনি নবী-রাসুলদের পথ দেখিয়েছেন, তিনি ছাড়া আমাদের কে আর সর্বোত্তম পথ দেখাতে পারেন!
প্রথম অংশে আল্লাহর পরিচয় আর শেষ অংশে আল্লাহর কাছে আমাদের প্রত্যাশার মাঝখানে বলা হয়েছে, ‘ইয়া কানা বুদু ওয়া ইয়া কানাস্তাইন।’ অর্থাত, ‘আমরা তোমারই উপাসনা করি, তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।’ এই আয়াতকে বলতে পারি আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক। তাঁর কাছে আমাদের নিঃশর্ত আত্মনিবেদনের সম্পর্ক। আমাদের একমাত্র ইবাদত আল্লাহরই প্রতি। সব সাহায্যও আমরা তাঁর কাছেই চাই।
সুরাটির শেষাংশের প্রথম আয়াতে বলা হচ্ছে, তুমি আমাদের সরল পথ দেখাও। এর পরেই কথাটি আরেকটু বিশদ করে পর পর দুই আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ যাঁদের পরম অনুগ্রহ করেছেন, তাঁদেরকে দেখানো পথটিই হলো এ সরল পথ। কারা আল্লাহর এই অনুগ্রহ পেয়েছেন? যাঁরা পথভ্রষ্ট হননি। এ জন্য তাঁরা আল্লাহর ক্রোধেরও শিকার হননি।
-prothomalo

নবী, রাসূলদের ভাষা

 মাতৃভাষা আল্লাহর সেরা দান। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে মনের ভাব ব্যক্ত করতে মাতৃভাষা দান করেছেন। ভাষা অন্যান্য প্রাণীর ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম দিক। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘দয়াময় আল্লাহ, তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন, তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তিনিই তাকে শিখিয়েছেন ভাব প্রকাশ করতে।’ (সুরা আর-রহমান, আয়াত : ১-৪)

পৃথিবীতে বৈচিত্র্যময় ভাষা দান করেছেন। ভাষার এই বৈচিত্র্য আল্লাহর নিদর্শনের অংশ। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে আছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে।’ (সুরা রুম, আয়াত : ২২)
নবীরা মাতৃভাষায় কথা বলতেন : আল্লাহ তাআলা সব নবীকে তাঁর স্বজাতির ভাষা দিয়ে প্রেরণ করেছেন। তাঁরা নিজ নিজ জাতিকে মাতৃভাষায় আল্লাহর পথে আহ্বান করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি প্রত্যেক রাসুলকে স্বজাতির ভাষাতেই পাঠিয়েছি, যাতে সে তাদের কাছে বর্ণনা দেয়।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ০৪)
আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ প্রত্যেক নবীকে তাঁর স্বজাতির ভাষায় প্রেরণ করেছেন।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১৪১০)
আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘রাসুলরা মাতৃভাষাভাষী হওয়ার কারণ হচ্ছে, যেন তাদের জাতি রাসুল প্রেরণের উদ্দেশ্য এবং তাঁরা কী নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তা বুঝতে পারেন।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির : ৪/৪৭৭)
মাতৃভাষায় দক্ষ ছিলেন রাসুলরা : নবী (আ.) শুধু মাতৃভাষায় ধর্ম প্রচার করেননি; বরং তাঁরা ছিলেন নিজ নিজ ভাষায় পাণ্ডিত্যের অধিকারী। সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও আলংকারিক ভাষার কৃতিত্বধারী। পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত থেকে যা অনুমান করা যায়। কোরআনে মুসা (আ.)-এর ভাষ্যে হারুন (আ.)-এর প্রশংসা করে বলা হয়েছে, ‘আর আমার ভাই হারুন, সে আমার চেয়ে বিশুদ্ধ ভাষার অধিকারী, তাই তাকে আমার সঙ্গে সাহায্যকারী হিসেবে প্রেরণ করুন, সে আমাকে সমর্থন করবে।’ (সুরা কাসাস, আয়াত : ৩৪)
নবীজি (সা.)-এর ভাষাগত দক্ষতা : শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভি (রহ.) মহানবী (সা.)-এর ভাষাগত দক্ষতা সম্পর্কে লেখেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুবারক ভাষার বিশুদ্ধতা, একই বাক্যে বহু বাক্যের সমাবেশ, অভূতপূর্ব বাচনভঙ্গি, অমূল্য নির্দেশ ও সমাধান এত বেশি থাকত যা কোনো গবেষক ও চিন্তাবিদ কোনো সীমা ও গণনার মধ্যে আবদ্ধ করতে পারবে না। তাঁর ভাষার মাধুর্য, গভীরত্ব ও সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কেননা আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে অধিক শুদ্ধ ও সুমধুর ভাষার অধিকারী কাউকে সৃষ্টিই করেননি।
একবার ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মহানবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন যে হে আল্লাহর রাসুল, না আপনি বাইরে ভিনদেশে কোথাও গেছেন, না আপনি বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে ওঠা-বসা করেছেন, তবু আপনি এত সুন্দর শুদ্ধভাষা কোথা থেকে পেলেন? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইসমাইল (আ.)-এর ভাষা ও পরিভাষা যা দুষ্প্রাপ্য ও বিলীন হয়ে গিয়েছিল তা আমার কাছে জিবরাইল (আ.) নিয়ে আসেন এবং তা আমি আত্মস্থ করেছি। উপরন্তু তিনি বলেন, আমার প্রভু আমাকে (আদব) ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন, ফলে আমার ভাষাকে অতি উত্তম করে দিয়েছেন। যে শিক্ষা আরবি ভাষা, তার শুদ্ধতা, অলংকার, সৌন্দর্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাকে আরবরা আদব বলে। (মাদারিজুন নুবুওয়াহ)
কোন নবীর ভাষা কী ছিল : কোরআনের বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে নবী-রাসুল (আ.) মাতৃভাষায় কথা বলতেন এবং মাতৃভাষাতেই মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। নবী-রাসুলদের ভাষা সম্পর্কে যেসব ঐতিহাসিক বর্ণনা পাওয়া যায়, তা হলো—
১. আদম (আ.) : পৃথিবীর প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী আদম (আ.) জান্নাতে আরবি ভাষায় কথা বলতেন। তবে পৃথিবীতে আগমনের পর তিনি সিরিয়াক ভাষায় কথা বলেন। যাকে সিরিয়াক অ্যারামিক ভাষাও বলা হয়।
২. নুহ, শিশ, ইউনুস ও ইদরিস (আ.) : সিরিয়াক ভাষায় কথা বলতেন।
৩. হুদ ও সালিহ (আ.) : আরবি ভাষায় কথা বলতেন।
৪. ইবরাহিম (আ.) : তাঁর মাতৃভাষা ছিল সিরিয়াক। তবে তিনি আরবি ভাষায়ও পারদর্শী ছিলেন।
৫. লুত ও ইয়াকুব (আ.) : তাঁরাও সিরিয়াক ও আরবি উভয় ভাষায় পারদর্শী ছিলেন।
৬. ইসমাইল, আইয়ুব ও শোয়াইব (আ.) : আরবি ভাষায় কথা বলতেন।
৭. ইউসুফ (আ.) : শৈশবে তিনি আরবি ভাষায় কথা বলতেন। তবে মিসরে আগমনের পর প্রাচীন মিসরীয় ভাষা কিবতি ভাষায় কথা বলতেন।
৮. দাউদ ও সুলাইমান (আ.) : অ্যারামিক (সিরিয়াক ভাষার উপভাষা ও হিব্রুর প্রাচীনরূপ) ভাষায় কথা বলতেন। তবে তাঁরা আরবি ভাষায়ও পারদর্শী ছিলেন।
৯. মুসা ও হারুন (আ.) : তাঁরা প্রাচীন মিসরীয় কিবতি ভাষায় কথা বলতেন। তবে তিনি মাদায়েনে হিজরত করার পর আরবি ভাষা রপ্ত করেন। তবে মিসরের বনি ইসরাঈলরা অ্যারামিক (হিব্রু) ভাষায় কথা বলত।
১০. ইউশা বিন নুন (আ.) : তিনি মূলত আরবি ভাষায় কথা বলতেন। তবে প্রাচীন মিসরীয় কিবতি ভাষাও জানতেন।
১১. জাকারিয়া, ঈসা ও ইয়াহইয়া (আ.) : তাঁরা অ্যারামিক ভাষায় কথা বলতেন। তবে তাঁরা আরবি ভাষাও জানতেন।
১২. মুহাম্মদ (সা.) : তিনি আরবি ভাষায় কথা বলতেন। তিনি ছিলেন আরবের সবচেয়ে বিশুদ্ধ ভাষার অধিকারী।
মতভিন্নতা ও সমাধান : নবীদের মাতৃভাষা নিয়ে ঐতিহাসিকদের ভেতর মতভিন্নতা আছে। তবে বেশির ভাগ মতের মধ্যেই সমন্বয় করা সম্ভব। যেমন ঈসা (আ.)-এর ভাষার বিষয়ে দুটি মত হলো অ্যারামিক ও হিব্রু। মূলত অ্যারামিক হলো হিব্রু ভাষার প্রাচীনরূপ। হিব্রু অ্যারামিকের বিবর্তিত রূপ। তাই মৌলিকভাবে উভয় মতের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।
সূত্রঃ (ফিকরাহ ডটকম ও আল-মুলাক্কাস ডটকম)
আতাউর রহমান খসরু

মানুষ তাড়াহুড়ো প্রবণ

 ইসলামে কোনো কাজে তাড়াহুড়ো পছন্দনীয় নয়। বরং সব কাজে ধীরস্থিরতা ও মধ্যপন্থা অবলম্বন করা মুসলমানের গুণ। আল্লাহর রাসুল (সা.) সব কাজে ধীরস্থিরতা ও গাম্ভীর্য পছন্দ করতেন। সাহাবায়ে কেরামকেও এমনই শিক্ষা দিতেন প্রিয় নবী (সা.)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘যখন নামাজের জন্য ইকামত দেওয়া হয় তখন তোমরা দৌড়ে আসবে না, বরং তোমরা গাম্ভীর্য সহকারে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে আসবে। তারপর যতটুকু নামাজ (ইমামের সঙ্গে) পাবে, পড়ে নেবে। আর যতটুকু ছুটে যাবে, (সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে) নিজে পূর্ণ করে নেবে। (বুখারি: ৬৩৬; মুসলিম: ৬০২)

ইবাদত-বন্দেগি ছাড়াও প্রাত্যহিক কাজকর্মেও তাড়াহুড়ো প্রবণতা পরিহার করা। অনেককেই দেখা যায় নিজস্ব কর্মসম্পাদন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাড়াহুড়োর আশ্রয় নিয়ে থাকেন। এটা মানুষের সৃষ্টিগত বিষয় হলেও একটি নিন্দনীয় স্বভাব। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘মানুষ সৃষ্টিগতভাবে তাড়াহুড়োপ্রবণ, অচিরেই আমি তোমাদের আমার নিদর্শনাবলি দেখাব; কাজেই তোমরা তাড়াহুড়ো করো না।’ (সুরা আম্বিয়া: ৩৭)। কুরআনের অন্যত্র এটাকে মানুষের দুর্বলতারূপে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘মানুষ অত্যন্ত তাড়াহুড়োপ্রবণ।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ১১)। আয়াত দুটির মূলকথা হলো তাড়াহুড়ো প্রবণতা মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য। (তাফসিরে কুরতুবি)
তাড়াহুড়ো অনেক সময় ক্ষতি ডেকে আনে। কাজেই কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে একদম তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ধৈর্য ও স্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে আর তাড়াহুড়ো শয়তানের পক্ষ থেকে।’ (তিরমিজি: ২০১২)
তাড়াহুড়ো কোনো কাজ যথার্থ হয় না; বরং যেকোনো কাজে রাসুল (সা.) উম্মতকে পরামর্শের সুন্নাহ শিখিয়েছেন। ইসতিখারার দীক্ষা দিয়েছেন। যার সবগুলোতেই তাড়াহুড়ো বর্জনের শিক্ষা পাওয়া যায়। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম জাওজিয়্যাহ (রহ.) বলেন, তাড়াহুড়োকে শয়তানের কাজ হিসেবে উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে; তাড়াহুড়ো করে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বা কোনো কাজ সম্পাদন করা হয়, এতে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, উত্তেজনা কিংবা ক্রোধ শামিল থাকে। এর ফলে বান্দার আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিত্বের হানি ঘটে। ক্ষেত্রবিশেষে এই তাড়াহুড়োর জন্য ব্যক্তিকে অপমান ও অপদস্থতার সম্মুখীনও হতে হয়।
কোনো কারণে কারও ওপর ক্ষুব্ধ হলেও ক্রোধ প্রকাশে তাড়াহুড়ো করা মোটেও সমীচীন নয়। এতে এক দিন তা আক্ষেপের কারণ হতে পারে। ঠিক তেমনি কাউকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার আগে ভালোবাসা বা ঘৃণা করা কোনোটিই সঙ্গত নয়। কারণ এক দিন তা অনুশোচনার উপলক্ষ হতে পারে। মানুষ অন্যের
গিবত-শিকায়েত করতেও তাড়াহুড়ো করে ফেলে। একজন মানুষের কোনো বিষয় খারাপ লাগতেই পারে। কিন্তু তাকে পর্যাপ্ত সময় পর্যবেক্ষণ না করে সমালোচনায় লিপ্ত হলে এক দিন এর জন্য লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসতে পারে। ইসলাম নির্দেশিত ভদ্রতা ও সৌজন্যতা রক্ষা করে চললে, মুমিন ভাইদের হক সম্পর্কে সচেতন থাকলে এই লজ্জাকর পরিস্থিতিতে নিশ্চয়ই কাউকে পড়তে হবে না। সর্বক্ষেত্রে ভারসাম্য ও মধ্যম পন্থা অবলম্বন করাই ইসলামের শিক্ষা। তাই আসুন আমরা তাড়াহুড়োর মানসিকতা পরিহার করি। কারণ এটি একটি আত্মিক ব্যাধি, যার উতস হচ্ছে মানসিক অস্থিরতা, অহঙ্কার আর ইসলামের জ্ঞানের অভাব। তবে উতস যা-ই হোক, সর্বাবস্থায় তা নিন্দনীয় ও বর্জনীয়। আল্লাহ সবাইকে তাড়াহুড়ো প্রবণতা পরিহার করে সর্বক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা অবলম্বনের তওফিক দান করুন। আমিন।
shomoyeralo