Sunday, April 16, 2023

হিংসা মানুষকে অধঃপতনে নিয়ে যায়

 অন্যের সুখ, শান্তি ও ধন–সম্পদ বিনষ্ট বা ধ্বংস করে নিজে এর মালিক হওয়ার বাসনাকে আরবিতে হাসাদ বা হিংসা বলা হয়। ইসলাম অন্যের প্রতি হিংসা করাকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে।

মানুষের চরিত্রে যেসব খারাপ দিক আছে, তার মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ অন্যতম। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, ঈর্ষাকাতরতা, কলহ-বিবাদ প্রভৃতি মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনকে বিষময় করে তোলে। যে হিংসা করে, তার অন্তর কালিমায় পূর্ণ হয়ে যায়।
মানুষের মধ্যে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষের স্থলে সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, ‘আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন, সে জন্য কি তারা তাদের ঈর্ষা করে?’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৪)
হিংসা-বিদ্বেষ এক ভয়ানক সংক্রামক ব্যাধি। সম্পদের মোহ ও পদমর্যাদার লোভ-লালসা থেকে হিংসা-বিদ্বেষের সৃষ্টি হয়। হিংসা-বিদ্বেষ মুমিনের ভালো কাজকে নষ্ট করে ফেলে। তাই নবী করিম (সা.) সাবধানবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে নিবৃত্ত থাকবে। কেননা, হিংসা মানুষের নেক আমল বা পুণ্যগুলো এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেভাবে আগুন লাকড়িকে জ্বালিয়ে নিঃশেষ করে দেয়।’ (আবু দাউদ)
হিংসা মানুষকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। ঈর্ষাকাতরতা হিংসার পর্যায়ে চলে গেলে আক্রোশবশত মানুষ হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ঘটিয়ে ফেলতে পারে। হিংসুক ব্যক্তি অন্যের ভালো কিছুতেই সহ্য করতে পারে না। কাউকে কোনো উন্নতি বা ক্ষমতায় অভিষিক্ত দেখলে অন্তরে জ্বালা অনুভব করে।
নানা কারণে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি হিংসা প্রকাশ করে থাকে। দৈনন্দিন জীবনে হিংসার বহুবিধ কারণের মধ্যে আছে পারস্পরিক ঈর্ষা, শত্রুতা, দাম্ভিকতা, নিজের অসৎ উদ্দেশ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা অন্যের প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করা থেকে বেঁচে থাকবে, কেননা এরূপ ধারণা জঘন্যতম মিথ্যা। আর কারও দোষ অনুসন্ধান করবে না, কারও গোপনীয় বিষয় অন্বেষণ করবে না, একে অন্যকে ধোঁকা দেবে না, পরস্পর হিংসা করবে না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ মনোভাব পোষণ করবে না, পরস্পর বিরুদ্ধাচরণ করবে না, বরং তোমরা সবাই এক আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
কোনো কারণে কারও প্রতি শত্রুভাবাপন্ন দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ধরে রাখার নাম বিদ্বেষ। ইসলামে পারস্পরিক বিদ্বেষ পোষণ করাও নিষেধ।
হাদিসে বলা হয়েছে, ‘তিন ব্যক্তির গুনাহ মাফ হয় না, তার মধ্যে একজন হচ্ছে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ–পোষণকারী ব্যক্তি।’ হিংসা-বিদ্বেষের কঠিন পরিণতি সম্বন্ধে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমলগুলো পেশ করা হয় এবং সব মুমিন বান্দার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়; কিন্তু যাদের পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ ও দুশমনি আছে, তাদের ক্ষমা করা হয় না।’ (মুসলিম শরিফ)
পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ পরিত্যাগ করা। বিশ্বের সব সৃষ্টির সেবা ও জনকল্যাণ কামনাই হলো ইসলামের অনুশীলন। নিজের যা কিছু আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। অন্যের দিকে তাকিয়ে বিদ্বেষ পোষণ করে হিংসার আগুনে জ্বলেপুড়ে ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ নেই।
হিংসা থেকে বাঁচা
পরম করুণাময় পরম দয়াময় আল্লাহর নামে।
১. বলো, ‘আমি শরণ নিচ্ছি মানুষের প্রতিপালকের, মানুষের অধীশ্বরের, মানুষের উপাস্যের, তার কুমন্ত্রণার অমঙ্গল হতে, যে সুযোগমতো আসে ও সুযোগমতো সরে পড়ে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনের মধ্য থেকে বা মানুষের মধ্য থেকে।’ (সুরা ফালাক, কোরানশরিফ: সরল বঙ্গানুবাদ, অনুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, প্রথমা প্রকাশন)।
২. বলো, ‘আমি শরণ নিচ্ছি উষার স্রষ্টার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অমঙ্গল হতে; অমঙ্গল হতে রাত্রির, যখন তা গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়। অমঙ্গল হতে সেসব নারীর যারা গিটে ফুঁ দিয়ে জাদু করে। এবং অমঙ্গল হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।’ (সুরা নাস, কোরানশরিফ: সরল বঙ্গানুবাদ, অনুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, প্রথমা প্রকাশন)।
Source: ফেরদৌস ফয়সাল

নামাজের জন্য পবিত্রতা কেন প্রয়োজন

 আল্লাহ তাআলা পবিত্র অবস্থায় নামাজ আদায় করার কথা বলেছেন। সে জন্য নামাজ আদায়ের পূর্বশর্ত পবিত্রতা অর্জন করা। প্রশ্ন হচ্ছে, নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন কেন শর্ত করা হয়েছে? নিম্নে আমরা তার কয়েকটি কারণ আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।


এক. নামাজ হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বোচ্চ সেতুবন্ধ। রবের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যম। আর এই বন্ধন তৈরির জন্য আল্লাহর বান্দাকে পবিত্র হয়ে তার সামনে সমর্পণ হওয়ার কথা বলেছেন। আর এটা স্বতঃসিদ্ধ কথা যে একজন মানুষের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শিত হয়, তাকে তার সামনে সুন্দর কাপড় পবিত্র শরীর পরিপাটি জিনিস নিয়ে উপস্থিত হওয়া। সে জন্য আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর জন্য আল্লাহ তাআলা নাজাসাতে খফিফা ও গলিজা হতে পবিত্র হওয়ার আদেশ করেছেন। এগুলোর কারণে যদিও বাহ্যত কোনো নাপাকি লেগে থাকে না; কিন্তু এগুলো নাজাসাতে মানবি (অর্থগত) বটে। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) অজুবিহীন অবস্থায় সাহাবির সঙ্গে মুসাফা করতেও নিজেকে সংযত রেখেছেন। আবু জুহায়ম (রা.) বলেন, নবী (সা.) মদিনার কাছে অবস্থিত ‘বিরে জামাল’ থেকে আসছিলেন। পথিমধ্যে তাঁর সঙ্গে এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ হলো। লোকটি তাঁকে সালাম করল। নবী (সা.) জবাব না দিয়ে দেয়ালের কাছে অগ্রসর হয়ে তাতে (হাত মেরে) নিজের চেহারা ও হস্তদ্বয় মাসাহ করে নিলেন, (অর্থাৎ তায়াম্মুম করলেন) তারপর সালামের জবাব দিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩৭)

দুই. যদি মেনেও নেওয়া হয় এর শরীরে কোনো নাপাকি নেই, তবু বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ভরে থাকে। বিবেকের দাবি মহান রবের সামনে দাঁড়ানোর আগে নিজের এসব ময়লা-আবর্জনাকে পরিষ্কার করে নেওয়া। এ জন্যই সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করে মাথা ঢেকে নামাজ পড়া উত্তম।

তিন. নাপাক থেকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য অভ্যন্তরীণ জিনিসকে পাক-পবিত্র করা। নিজের অন্তরকে হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার, মুসলমানদের ব্যাপারে খারাপ ধারণা ইত্যাদি যেসব পাপাচার রয়েছে তা থেকে নিজেকে বিরত রাখা। ইসলামের মূল ইবাদতের অনেকগুলো আছে, যেগুলোর জন্য কোনো ধরনের পবিত্রতা শর্ত নয়। যেমন রোজা-জাকাত ইত্যাদি। আর এটা এ জন্য যে অজু ভেঙে যাওয়া, গোসল ফরজ হওয়া, এগুলো কোনো গুনাহ নয়। কিন্তু হিংসা-বিদ্বেষসহ যত আত্মিক ব্যাধি আছে সেসব পাপ। সে জন্য অজু-গোসলের পবিত্রতার মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে এই পবিত্রতা সঙ্গে সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা অর্জন করা জরুরি।

চার. এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করার আরেকটি মূল উদ্দেশ্য, এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন অপরাধ করে থাকে। মাথা দ্বারা চিন্তা করে। দৃষ্টি দ্বারা দেখে। হাত-পা দ্বারা বাস্তবায়ন করে। সে জন্য আল্লাহ তাআলা এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করার আদেশ করেছেন গুনাহ মার্জনার জন্য। হাদিসে এসেছে, অজুর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে গুনাহকে ঝরিয়ে দেন ঝরিয়ে দেন। আমর বিন আবাসা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা যখন অজু করে এবং তার উভয় হাত ধৌত করে, তখন তার দুহাত থেকে গুনাহ নির্গত হয়ে যায়। যখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার মুখমণ্ডল থেকে তার গুনাহ নির্গত হয়ে যায়। যখন সে তার উভয় হাত ধৌত করে এবং তার মাথা মাসেহ করে, তখন তার দুহাত ও মাথা থেকে তার গুনাহ নির্গত হয়ে যায়। এরপর যখন সে তার পদদ্বয় ধৌত করে, তখন তার পদদ্বয় থেকে তার গুনাহ নির্গত হয়ে যায়। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৮৩)

(বাদায়েউস সানায়ে অবলম্বনে, ১/১১৪)
-জাওয়াদ তাহের

Tuesday, March 28, 2023

সৈন্ধব নুন স্বাস্থ্যসম্মত

 ডায়েটে সাধারণ নুনের বদলে সৈন্ধব লবণ ব্যবহার কেন বেশি স্বাস্থ্যকর?

১) এই নুনে জ়িঙ্ক, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ়ের মতো খনিজ উপদান অনেক বেশি মাত্রায় থাকে। এ সব খনিজের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাক্টিরিয়াল উপাদান। ফলে এটি নিয়মিত খেলে শরীরে ব্যাকটিরিয়াজাত সংক্রমণের আশঙ্কা কমে।
২) সাধারণ নুনের তুলনায় সৈন্ধব নুনে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকে। শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বে়ড়ে যাওয়া মোটেই ভাল নয়, রোগব্যধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই রোজের ডায়েটে এই নুন রাখা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
৩) হাড়ের ক্ষয় রোধ করার জন্য কী করবেন ভাবছেন? সৈন্ধব নুন খান। সৈন্ধব নুনে পুষ্টি উপাদান ও খনিজের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এটি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে হাড় মজবুত হয়।
৪) হজমের সমস্যায় ভুগতে হয় অনেককেই। সারা বছর গ্যাস অম্বলের ভোগান্তি এড়াতে ডায়েটে সৈন্ধব নুন রাখা শুরু করতে পারেন। এই নুন হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
৫) এই নুন ডায়েটে রাখলে রোগ-ব্যাধি দূর হবে। পাশাপাশি, ত্বক ভাল রাখতেও এই নুনের উপর ভরসা রাখতে পারেন।
-আনন্দবাজার

On Almonds

 According to the BBC, British scientists have selected 100 of the world's most nutritious foods after analyzing and studying 1,000 foods.

British scientists analyze and evaluate these more than 1,000 foods, and then rank them according to their scores.
The higher the score, the higher the nutritional value and the most beneficial to human health.
Almonds scored 97 points, topped the list of 1000 foods as the most nutritious food in the world.
The top 10 most nutritious foods ranked in order: almonds, cherimoya, ocean perch, flatfish, chia seeds, pumpkin seeds, swiss chard, pork fat, beet greens, snapper.
Almonds are extremely nutritious, 100 grams of almonds contain 25 grams of protein, 27 grams of fat, and 14 grams of carbohydrates.
In addition, almonds also contain vitamin B1, vitamin B2, vitamin E, vitamin B5, vitamin C, and minerals such as potassium, sodium, calcium, iron, manganese, zinc, copper, and phosphorus.
Most of the fats in almonds are unsaturated fatty acids, which can protect the health of cardiovascular and cerebrovascular.
Compared to milk, almonds contain 3 times more calcium and 4 times more potassium than milk.
Almonds are an excellent source of vitamin E, 100 grams of almonds contain about 25 mg of vitamin E.
Vitamin E is one of the natural antioxidants, which can scavenge harmful free radicals and delay the aging process of the human body.
It is said that the inhabitants of the Himalayas often eat almonds, and their average life expectancy is as high as 90 to 100 years.

Chicken Liver

 In some Asian countries, chicken liver is a high-end food and is much more expensive than chicken.

Chicken liver is rich in nutrients and has unique nourishing and health benefits.
Chicken liver is an excellent source of iron. 100 grams of chicken liver contains 12 mg of iron, which is one of the best iron supplements.
The vitamin A content in chicken liver far exceeds that of milk, eggs, meat, fish and other foods. 100 grams of chicken liver contains about 10.5 mg of vitamin A.
Regular supplementation of some vitamin A can enhance and protect vision, prevent eye diseases, and maintain normal visual function.
Chicken liver also contains vitamin B2, 100 grams of chicken liver contains about 1.2 mg of vitamin B2.
Regular supplementation of some vitamin B2 plays an important role in the normal metabolism of carbohydrates, fats and proteins, reducing the accumulation of fat, and avoiding hardening of blood vessels.
In addition, chicken liver is also rich in protein, calcium, phosphorus, iron, potassium, zinc, selenium and other nutrients that the body needs.

মন্ত্রীর যোগ্যতা

 ঈদের আগের দিন খলিফা উমরের (রা) স্ত্রী নিজ স্বামীকে বললেন, ‘আমাদের জন্য ঈদের নতুন কাপড় না হলেও চলবে, কিন্তু ছোট বাচ্চাটি ঈদের নতুন কাপড়ের জন্য কাঁদছে’।

আরব জাহানের শাসক খলিফা উমর (রা) বললেন, ‘আমার তো নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই’।
পরে খলিফা উমর (রা) তার অর্থমন্ত্রী আবু উবাইদা (রা) কে এক মাসের অগ্রিম বেতন দেয়ার জন্য চিঠি পাঠালেন।
সমগ্র মুসলিম জাহানের খলিফা যিনি, যিনি সেই সময় প্রায় অর্ধেক পৃথিবী শাসন করছেন, তাঁর এ ধরণের চিঠি পেয়ে আবু উবাইদার (রা) চোখে পানি এসে গেল। উম্মতে আমীন আবু উবাইদা (রা) বাহককে টাকা না দিয়ে চিঠির উত্তরে লিখলেন, ‘আমীরুল মুমিনীন! অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য দুটি বিষয়ে আপনাকে ফয়সালা দিতে হবে।
১. আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন কি না?
২. বেঁচে থাকলেও দেশের জনসাধারণ আপনাকে সেই মেয়াদ পর্যন্ত খিলাফতের দায়িত্বে বহাল রাখবে কিনা?’
চিঠি পাঠ করে খলিফা উমর (রা) কোন প্রতি উত্তর তো করলেনই না, বরং এত কেঁদেছেন যে তাঁর চোখের পানিতে দাড়ি ভিজে গেলো। আর হাত তুলে আবু উবাইদার (রা) জন্য দোয়া করলেন- একজন যোগ্য অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত করতে পেরেছেন এই ভেবে।
-অ্যাডপ্টেড

ঋণ ফেরত দিও। এটা জরুরী

 হজরত আবু হুরাইরাহ (রা.)-র বরাতে এই হাদিসটির বর্ণনা আছে। তিনি নবী (সা.)-এর কাছে নিচের ঘটনাটি শুনেছেন।

বনি ইসরাইলের এক লোক অন্য এক লোকের কাছে এক হাজার দিনার ঋণ চাইল। তখন সে (ঋণদাতা) বলল, কয়েকজন সাক্ষী আনো, আমি তাদের সাক্ষী রাখব।
সে বলল, সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
তখন (ঋণদাতা) বলল, তাহলে একজন জামিনদার উপস্থিত করো।
সে বলল, জামিনদার হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
ঋণদাতা বলল, তুমি সত্য বলেছ। এরপর নির্ধারিত সময়ে তাকে এক হাজার দিনার দিয়ে দিল।
তারপর ঋণগ্রহীতা সমুদ্রে সফর করল। সে তার কাজ শেষ করে সে যানবাহন খুঁজতে লাগল, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণদাতার কাছে এসে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু সে কোনো বাহন পেল না।
তখন সে এক টুকরা কাঠ নিয়ে তা ছিদ্র করে ঋণদাতার নামে একটি চিঠি এবং এক হাজার দিনার তার মধ্যে ভরে ছিদ্র বন্ধ করে সমুদ্রতীরে এসে বলল, হে আল্লাহ! তুমি তো জানো আমি অমুকের কাছে এক হাজার দিনার ঋণ চাইলে সে আমার কাছে জামিনদার চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম, আল্লাহই জামিন হিসেবে যথেষ্ট। এতে সে রাজি হয়। তারপর সে আমার কাছে সাক্ষী চেয়েছিল, আমি বলেছিলাম সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট, তাতে সে রাজি হয়ে যায়। আমি তার ঋণ (যথাসময়ে) পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে যানবাহনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি। তাই আমি তোমার কাছে সোপর্দ করলাম। এই বলে সে কাঠের টুকরাটি সমুদ্রে ছুড়ে মারল। আর কাঠের টুকরাটি সমুদ্রে ডুবে গেল। লোকটি ফিরে গিয়ে নিজের শহরে যাওয়ার জন্য যানবাহন খুঁজতে লাগল।
এদিকে ঋণগ্রহীতা কোনো নৌযানে করে তার মাল নিয়ে আসে কিনা, সে আশায় ঋণদাতাটি গেল সমুদ্রতীরে। তার চোখ কাঠের টুকরাটির ওপর পড়ল, যার ভেতরে ছিল দিনার। সে কাঠের টুকরাটি তার পরিবারের জ্বালানি হিসেবে বাড়ি নিয়ে গেল। কাঠটি চেড়ার পর সে দিনার আর চিঠিটি পেয়ে গেল।
কিছুদিন পর ঋণগ্রহীতা এক হাজার দিনার নিয়ে এসে হাজির হলো। বলল, আল্লাহর কসম! আমি আপনার দিনার যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যানবাহনের খোঁজে ছিলাম। কিন্তু আমি এই যে এখন নৌযানে করে এলাম, তার আগে আর কোনো নৌযান পাইনি।
ঋণদাতা বলল, তুমি কি আমার কাছে কিছু পাঠিয়েছিলে?
ঋণগ্রহীতা বলল, আমি তো তোমাকে বললামই যে এর আগে আর কোনো নৌযান পাইনি।
সে বলল, তুমি কাঠের টুকরার ভেতরে যা পাঠিয়েছিলে, তা আল্লাহ তোমার পক্ষ থেকে আমাকে আদায় করিয়ে দিয়েছেন। তখন সে আনন্দচিত্তে এক হাজার দিনার নিয়ে ফিরে গেল।
(সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ২২৯১)
সূত্র: প্রথম আলো