Friday, July 21, 2023

হিন্দু থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত নারী কি বিয়ের পরে মায়ের বাড়ীতে থাকতে পারবে?

 প্রশ্ন : আমি একজন নওমুসলিমাহ। আমার পিতা-মাতা ইসলাম ধর্মের নয়। আমি এখন স্বামীর বাড়ি থাকি। আমি কি আমার পিতা-মাতার কাছে গিয়ে কিছুদিন থাকতে, খেতে পারব? আমি অনেক মানুষের কাছে শুনছি ইসলাম ধর্মের নয় এমন মা-বাবার বাসায় খাওয়া যাবে না। উল্লেখ্য, আমার ও আমার স্বামীর পরিবার আমাদের মেনে নিয়েছে।

উত্তর : মৌলিকভাবে আপনার বাবা-মায়ের কাছে যেতে বা থাকতে সমস্যা নেই। তবে যদি সেখানে গেলে আগের ধর্মের প্রতি দুর্বল হয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে বা তারা আপনাকে আবার আগের ধর্মে ফিরে যাওয়ার জন্য উপদেশ দেয় বা নিরাপত্তার অভাব থাকে তাহলে সেখানে যাওয়া ঠিক হবে না। গেলেও বেশি সময় অবস্থান করবেন না। মুসলিম মেয়ের অন্য ধর্মের পরিবেশে থাকলে ধর্ম পালনে সমস্যা হতে পারে। অল্প সময়ের জন্য যাবেন। তাদের জবাই করা কোনো প্রাণীর মাংস খাওয়া যাবে না। এ ছাড়া অন্যান্য হালাল খাবার খেতে অসুবিধা নেই।
- ফতোয়া বিভাগ, আস সুন্নাহ ট্রাস্ট

পিঠে ব্যথা যেসব অভ্যাসে

 পিঠে ব্যথা নিয়ে ভোগেননি, এমন মানুষ কমই আছেন। এই ব্যথা নানা কারণে হতে পারে। অনেক সময় এর জন্য তুচ্ছ দৈনন্দিন অভ্যাস দায়ী। একটু সতর্ক থাকলে এই ব্যথা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

জেনে নেওয়া যাক, অভ্যাসগত কী কী কারণে পিঠে ব্যথা হয়ে থাকে।
১. দীর্ঘ সময় কুঁজো হয়ে বসে থাকলে বা চেয়ারের ওপর বাঁকা হয়ে বসে থাকলে বুকের মাংসপেশিতে চাপ পড়ে। ফলে কাঁধ সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। তাই বসে কাজ করার সময় ৯০ ডিগ্রি কোণ করে ও চেয়ারের চাকার কাছাকাছি বসার চেষ্টা করুন। কম্পিউটার স্ক্রিনে তাকানোর সময় সামনে ঝোঁকা যাবে না।
২. কাজের ফাঁকে নিয়মিত বিরতি নেওয়ার অভ্যাস না করলে পিঠে ব্যথা হতে পারে এবং পেশি দুর্বল হতে পারে। আধা ঘণ্টা পরপর কিছুক্ষণের জন্য উঠে দাঁড়ালে এবং হাঁটাহাঁটি করলে উপকার পাওয়া যাবে।
৩. অফিসের বা বাসার চেয়ার মেরুদণ্ডের বাঁকা স্থানের ভার ঠিকমতো নিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। কারণ, বসার সময় মাথা সোজা ও মেরুদণ্ড চেয়ারের সঙ্গে লেগে থাকতে হবে। প্রয়োজনে চেয়ার নিজের মাপমতো ঠিক করে নিন।
৪. দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র মানসিক চাপ পিঠব্যথার অন্যতম কারণ হতে পারে। চাপমুক্ত থাকতে বই পড়া, বাগান করা, গান শোনা বা সঙ্গীর সঙ্গে আনন্দময় মুহূর্ত কাটানো যেতে পারে।
৫. ভালো তোশক সাধারণত ৯ থেকে ১০ বছর টেকে। তবে পিঠে অস্বস্তি হলে পাঁচ থেকে সাত বছর অন্তর তোশক পরিবর্তন করা উচিত। বেশি শক্ত না, বেশি নরম না—এমন তোশক ব্যবহার করতে হবে।
৬. কাঁধে প্রতিদিন ভারী ব্যাগ বহন করলে পিঠে ব্যথা হতে পারে। ব্যাগের ওজন শরীরের ওজনের তুলনায় কোনোভাবেই ১০ শতাংশের বেশি হওয়া যাবে না।
৭. নিয়মিত হাই হিল পরলে পিঠ বাঁকা হয় বলে মেরুদণ্ডে চাপ সৃষ্টি করে। ফ্ল্যাট স্যান্ডেল পরলে পায়ের পাতার প্রান্তে চাপ পড়ে। সবচেয়ে ভালে আরামদায়ক ফ্ল্যাট জুতা বা স্নিকারস পরা। অনেক দূর হাঁটতে হবে—এমন জায়গায় যাওয়ার সময় হিল না পরা ভালো।
৮. মোটরসাইকেল বা সাইকেল চালানো শুরুর পর পিঠে ব্যথা হলে এই বাহন নতুন করে সমন্বয় করতে হতে পারে। ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ বাইকার পিঠে ব্যথা অনুভব করেন। সাধারণ সাইকেলের ক্ষেত্রে ঊরুসন্ধি থেকে হ্যান্ডেল বার এক থেকে দুই ইঞ্চি সামনে থাকবে। আর মাউন্টেইন বাইকের ক্ষেত্রে তিন থেকে ছয় ইঞ্চি সামনে থাকবে। প্যাডেল নিচে থাকলে বসা অবস্থায় পায়ের অবস্থান হতে হবে ঘড়ির কাঁটায় ছয়টা বাজারমতো। বাইকের হাতল ধরার ক্ষেত্রে কনুই অল্প বাঁকা হবে। হাতে কোনো রকম চাপ পড়লে বুঝতে হবে সমস্যা আছে।
Ref: এম ইয়াছিন আলী, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি

জন্মের পর শিশুর প্রথম কান্না (সোনালি সময় বা গোল্ডেন মিনিট)

 একটি শিশু একটি পরিবারের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার। শিশুর আগমনী মুহূর্তে মা–বাবার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে পুরো পরিবার। নবজাতকের সুস্থতার বিষয়টি মায়ের গর্ভ থেকেই শুরু হয়। প্রসবকালীন সময়ে নানা জটিলতা শিশুর সার্বিক সুস্থতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

শিশু জন্ম নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম কান্নাটা খুব জরুরি। এই কান্নার মাধ্যমে নিশ্বাসে অক্সিজেন টেনে নেয় শিশু। এ সময়কে বলে সোনালি সময় বা গোল্ডেন মিনিট। কোনো কারণে নিশ্বাস নিতে না পারলে অক্সিজেন–সংকটে শিশুর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। হৃদপিণ্ড, ব্রেইনে অক্সিজেন না পৌঁছানোর কারণে একসময় শ্বাস নিতে ব্যর্থ হয় শিশু। তার প্রতিটি অর্গান বা অঙ্গে মারাত্মক খারাপ প্রভাব ফেলে এই ঘটনা। এ সমস্যাকে বলে পেরিনাটাল অ্যাসফিক্সিয়া।
পেরিনাটাল অ্যাসফিক্সিয়ার লক্ষণ হলো শিশুর জন্মের পর না কাঁদা, শ্বাসকষ্টে শিশু কালো হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া, হৃতপিণ্ডের গতি কমে যাওয়া। তাই জন্মের পর শিশু কেঁদে না ওঠলে দ্রুত তাকে হাসপাতাল বা নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে ভর্তি করাতে হবে। না হলে শিশুর জীবন বিপন্ন হতে পারে। দ্রুত চিকিতসা না পেলে শিশুর পরে সেরিব্রাল পালসি, স্নায়ুজনিত সমস্যা, মৃগী রোগ, অন্ধত্ব, বধিরতা, কথা বলতে না পারা, বুদ্ধিমত্তা কমে যাওয়া অর্থাত শিশুর প্রতিবন্ধী হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়।
তাই প্রসবকালীন সময় অনেক দীর্ঘ হলে অর্থাত সন্তান জন্ম দিতে যদি ১৮ ঘণ্টার বেশি সময় চেষ্টা করা লাগে, কোনোভাবে বাচ্চার মাথা আটকে যায়, বাচ্চার গলায় নাড়ি পেঁচিয়ে যায়, মায়ের যদি নানা ধরনের শারীরিক অসুস্থতা থাকে, সে ক্ষেত্রে চিকিতসক প্রয়োজন মনে করলে শিশুর পেরিনাটাল অ্যাসফিক্সিয়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য সিজার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে করে শিশুর পেরিনাটাল অ্যাসফিক্সিয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
রেফা: মেডিকেল অফিসার, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

৮ আমল গুনাহ মাফের

 মহান আল্লাহ বিভিন্ন অছিলায় তাঁর বান্দাকে ক্ষমা করতে চান। তিনি ক্ষমা করতেই ভালোবাসেন। বান্দাকে শুধু সেই ক্ষমা পাওয়ার জন্য কোরআন-হাদিসের নির্দেশিত পথে নিজেকে পরিচালিত করতে হবে। নবীজি (সা.) বিভিন্ন সময় সাহাবায়ে কেরামকে এমন কিছু আমল শিক্ষা দিয়েছেন, যেগুলো করলে গোটা জীবনের গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার সুসংবাদ রয়েছে।

তবে কেউ কেউ এসব হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এই হাদিসগুলোতে সগিরা গুনাহের কথা বলা হয়েছে। কবিরা গুনাহ মাফ হওয়ার জন্য বিশুদ্ধভাবে তাওবা করা জরুরি। নিম্নে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো—
উত্তমরূপে অজু করে নামাজ পড়া : উত্তররূপে অজু করে একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায় করলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়া যায়। হুমরান (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ওসমান (রা.)-কে অজু করতে দেখেছি। তিনি তিনবার হাতের ওপর পানি ঢাললেন। এরপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন। অতঃপর তিনবার চেহারা (মুখমণ্ডল) ধুলেন। এরপর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন এবং বাঁ হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। এরপর তিনি মাথা মাসেহ করলেন। অতঃপর ডান পা তিনবার ধুলেন, অতঃপর বাঁ পা তিনবার ধুলেন। এরপর বললেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে অজু করতে দেখেছি আমার এ অজুর মতোই। এরপর তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ অজুর মতো অজু করে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং এতে মনে মনে কোনো কিছুর চিন্তা-ভাবনায় লিপ্ত হবে না, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ১৯৩৪)
খাওয়ার পর দোয়া : সাহল ইবনে মুআজ ইবনে আনাস (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি খাওয়ার পরে দোয়া পাঠ করবে, তার আগে-পরের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০২৩, দারেমি)
পবিত্র হজ পালন : হজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম আমল। কেউ যদি হজের পরিপূর্ণ আদব রক্ষা করে হজ পালন করতে পারে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি হজ করে এবং তাতে কোনো রকম অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ না করে তাহলে তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮১১)
রমজানের রোজা : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রমজানের সিয়ামব্রত পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৮)
শবেকদরের আমল : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকির আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগবে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫)
রমজানের কিয়ামুল লাইল : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সঙ্গে ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে রাতের নামাজ পড়ে তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৬৬৪)
জামাতের সহিত নামাজ পড়া : আমাদের সবাই নামাজে সুরা ফাতেহার পর আমিন বলে, তবে আমিন আস্তে বলবে নাকি জোরে বলবে তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। যেভাবেই বলুক, যদি কারো আমিন ফেরেশতাদের আমিনের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে বলে হাদিসে পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইমাম যখন ‘আমিন’ বলে, তোমরাও তখন ‘আমিন’ বলো। কেননা যার ‘আমিন’ বলা ফেরেশতাদের আমিনের সঙ্গে মিলে যাবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (নাসায়ি, হাদিস : ৯২৬)
মুসলিম শরিফের একটি বর্ণনায় রুকু থেকে উঠে ‘আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’ বলার ফজিলতও একই বলা হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস : ৭৯৯)
এই দুটি আমলই জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রেই সম্ভব।
সুরা ইয়াসিন পড়া : মাকাল ইবনে ইয়াসার আল মুজানি (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে সুরা ইয়াসিন পড়বে, তার আগের গুনাহ (সগিরা) মাফ করে দেওয়া হবে। তাই তোমরা তোমাদের মৃত্যু (আসন্ন) ব্যক্তিদের কাছে এ সুরা পড়বে।’ (বায়হাকি)
মহান আল্লাহ আমাদের সবার জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করুন। আমিন।
সূত্রঃ মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

জোরাম ভ্যান ক্লাভারেনের ইসলাম বিদ্বেষের যাত্রা

'কুরআন একটি বিষাক্ত গ্রন্থ'—এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল জোরাম ভ্যান ক্লাভারেনের ইসলাম বিদ্বেষের যাত্রা। ইউরোপের অভিজাত দেশ নেদারল্যান্ডসের সাবেক সংসদ সদস্য তিনি। দেশ থেকে ইসলাম নামক একটি ভয়ংকর(!) ধর্মকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যেই যোগ দিয়েছিলেন রাজনীতিতে। তাঁর রাজনৈতিক দলের নাম ফ্রিডম পার্টি। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই দলের টিকেটে ফ্লেভোল্যান্ড প্রদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন ক্লাভেরেন।

কিন্তু ইসলামকে কেবল রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করাই যথেষ্ট মনে হলো না তাঁর কাছে। ভয়ংকর(!) এই ধর্মটির মুখোশ খুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি একটি বই লেখারও সিদ্ধান্ত নিলেন। ক্লাভেরেন জানলেন না—এই বই লেখার সিদ্ধান্তই ঘুরিয়ে দেবে তাঁর জীবনের মোড়। তিনি ছিলেন মূলত ধর্মতত্ত্বের একজন ছাত্র। ইসলামের বিরুদ্ধে বই লিখতে গিয়ে ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মের মধ্যকার পার্থক্যগুলো গভীরভাবে অধ্যয়নের সুযোগ পেলেন তিনি। এসময় এমন কিছু তথ্য জানলেন, যা আগে জানতে পারেননি।
প্রথমেই দুই ধর্মের মধ্যকার স্রষ্টার ধারণার পার্থক্যটি চমকিত করল তাঁকে। খ্রিষ্ট ধর্মগ্রন্থ বাইবেল স্রষ্টার ত্রিত্ববাদের (Trinity) কথা বলে। কিন্তু তিনি ওল্ড টেস্টামেন্ট এবং নিউ টেস্টামেন্ট ঘেঁটে কেবল একজন স্রষ্টার ধারণাই পেলেন, যা ইসলামি ধারণার সঙ্গে মিলে যায়। নিউ টেস্টামেন্টের এক জায়গায় বলা হচ্ছে—যিশুর কাছে একজন লোক এসে স্বর্গে যাওয়ার উপায় জানতে চাইল। তিনি এক স্রষ্টায় বিশ্বাস এবং প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচারণের কথা বললেন, যা ইসলামের বক্তব্যের সঙ্গেই সাযুজ্যপূর্ণ।
ক্লাভেরেনের আরেকটি বড়ো আপত্তির জায়গা ছিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবি বলে স্বীকৃতি দেওয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন ঘৃণিত(!) ব্যক্তি হিসেবে জানতেন, কারণ তিনি বহুবিবাহ করেছেন। ক্লাভেরেন তাঁর ধর্মগ্রন্থগুলো ঘেঁটে দেখলেন—আব্রাহাম, সলোমনসহ আরও অনেক প্রোফেট বিভিন্ন প্রয়োজনে বহুবিবাহ করেছেন। এমনকি ইতিহাসের অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তিও ছিলেন বহুবিবাহকারী পুরুষ। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহুবিবাহের কারণগুলো ভ্যালিড মনে হয়েছে তাঁর কাছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের যে দিকটি বিস্মিত করল ক্লাভেরেনকে, তা হলো তাঁর ক্ষমা করবার প্রবণতা। উহুদ যুদ্ধে আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা নবিজির প্রিয়তম চাচা হামজা রাদিআল্লাহু আনহুকে হত্যা করে কলিজা চিবিয়েছিল। এমনকি অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে নাক-কান কেটে শরীর বিকৃত করে দিয়েছিল তাঁর। এটি ছিল নবিজির জন্য একটি নিদারুণ বেদনাদায়ক সংবাদ। কিন্তু মক্কা বিজয়ের পর যখন তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেন, তখন হিন্দাকে ক্ষমা করে দিলেন। ক্লাভেরেনের মতে, কোনো সাধারণ লোকের পক্ষে এটি সম্ভব নয়৷
ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা নিয়ে বেড়ে ওঠার পেছনে খ্রিস্টানদের বর্ণনাগুলোকে দায়ী মনে করেন ক্লাভেরেন। কারণ তাদের সকল ইন্টেলিজেন্স ইসলামকে ভুলভাবে ইন্টারপ্রেট করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এসময় বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার অধ্যাপক আবদুল হাকীম মুরাদের সাহায্য নিয়েছিলেন তিনি। অধ্যাপক মুরাদ তাঁকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, 'খ্রিষ্টান ধর্ম সম্পর্কে জানতে আপনি কি কেবল নাস্তিকদের লেখা বইপত্রের ওপর নির্ভর করবেন? তেমনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে হলে ইসলামিক ভিউ থেকেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হবে আপনাকে।'
পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর সময়গুলোর একটি দিনের ঘটনা বিস্ময়কর। ততদিনে ইসলামের প্রতি মন ঝুঁকে পড়লেও কিছুটা সংশয় থেকেই গিয়েছিল। দ্বিধান্বিত ছিলেন তিনি। একটি বই অধ্যয়ন শেষে তাকে রাখতে গিয়ে সেখান থেকে কিছু বই নিচে পড়ে যায়, যেখানে পবিত্র কুরআনেরও একটি কপি ছিল। খুলে যাওয়া কুরআনের একটি আয়াতের ওপর নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলকে আবিষ্কার করলেন তিনি। আয়াতটি ছিল, 'For indeed, it is not eyes that are blinded, but blinded are the hearts which are within the breasts. অর্থাৎ, ‘তোমাদের চোখ তো অন্ধ হয়নি, বরং তোমাদের বক্ষে থাকা অন্তর অন্ধ হয়ে পড়েছে।’ [সূরা হাজ্জ্ব : ৪৬]
স্পাইনাল কর্ড দিয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল জোরাম ভ্যান ক্লাভেরেনের। মূলত এটিই তো তার সমস্যা! কেননা তখন সত্য তাঁর কাছে স্পষ্ট। জ্ঞান বা দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তবু মন ও আবেগ তা মানতে পারছিল না। অতঃপর তিনি সৃষ্টার কাছে পথনির্দেশ প্রার্থনা করলেন। পরদিন ঘুম থেকে ওঠার পর সব ঘৃণা-বিদ্বেষ পুরোপুরি দূর হয়ে গেল তাঁর। অন্তরে প্রবল শক্তি ও আনন্দ অনুভব করলেন। তখনই ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। যিনি ইসলামকে নেদারল্যান্ডসের বুক থেকে মুছে দেওয়ার শপথ নিয়ে এমপি হয়েছিলেন, তিনিই স্বয়ং ইসলামের সৌন্দর্যে অবগাহন করলেন।
২০১৯ সালের ঘটনা এটি। ইসলাম গ্রহণের পর প্রথম মা ও স্ত্রীকে জানালেন। মা হতভম্ব হয়ে কাঁদতে শুরু করলেও স্ত্রী স্বাগত জানালেন তাঁকে। কিন্তু বদলে গেল তাঁর চারপাশের পরিবেশ। যারা একসময় তাঁর পক্ষে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করেছিল, তারা পর্যন্ত হত্যার হুমকি দিতে শুরু করল। ইতিমধ্যে ২ হাজারের বেশি হত্যার হুমকি পেয়েছেন তিনি। সন্তানদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে স্ত্রীকে। কিন্তু এসবে বিচলিত নন ক্লাভেরেন। এগুলোকে তিনি তাঁর সারাজীবনে ইসলামের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিদ্বেষের প্রায়শ্চিত্ত বলে মনে করেন। তিনি আশা করেন, আল্লাহ তাঁকে নিষ্কলুষ করছেন এসবের মাধ্যমে।
'কুরআন সাধকদের গল্প-৩'/ লাবিব আহসান
তথ্যসূত্র :
1. While Writing Anti-Islam He Became Muslim : The story of Jarom Van Klaveren. (Towards Eternity Youtube)
2. DW Bangla- 5 February 2019.
3. Dutch far-right leader Geert Wilders' ex-ally converts to Islam, Aljazeera.

ঘুমের জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর অবস্থান (sleeping position) কোনটি

(১) ঘুমের জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর: ব্যাক পজিশন (পিঠের ওপর ঘুমানো)

ভাল দিক: গলা এবং পিঠ ব্যথা প্রতিরোধ, অ্যাসিডিটির রিফ্লাক্স হ্রাস করা, বলিরেখা কমানো, মহিলাদের স্তনের আকার বজায় রাখা।
খারাপ দিক: নাসিকাগর্জন ।
আরও কিছু: আপনার পিঠের ও সোজা হয়ে ঘুমানো আপনার মাথা, ঘাড় এবং মেরুদণ্ডের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা সহজ করে তোলে। নিউইয়র্ক সিটির একজন চিকিতসক স্টিভেন ডায়ামান্ট (Steven Diamant) বলেছেন, "এতে করে আপনি আপনার পিঠের ওপর কোনও অতিরিক্ত ভার চাপিয়ে দিচ্ছেন না"। রচেস্টারের মেয়ো ক্লিনিকের এক ঘুমের ঔষধ বিশেষজ্ঞ এরিস ওলসন (Eric Olson) বলেছেন, "এটি অ্যাসিডিটির রিফ্লক্সের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পক্ষেও আদর্শ। মাথা যদি সোজা হয়ে থাকে তবে আপনার পাকস্থলী আপনার খাদ্যনালীর নিচে থাকবে যাতে অ্যাসিড বা খাদ্য পুনরায় সেই পথে ফিরে না আসতে পারে। তবে সাধারণত এই অবস্থায় ঘুম হলে নাক ডাকা অত্যন্ত ঘন ঘন এবং বিকট আওয়াজের মাধ্যমে হয়।
আদর্শ বালিশ: ব্যাক স্লিপারদের জন্য সেরা বালিশ নরম বা তুলতুলে হওয়া চাই। এসব বালিশের উদ্দেশ্যই হল আপনার মাথা ও ঘাড়কে ঠেস দিয়ে রাখা, যাতে গোটা শরীরের ভার না পড়ে।
(২) পরবর্তী সেরা: সাইড পজিশন (পাশ ফিরে ঘুমানো)
ভাল দিক: গলা এবং পিঠে ব্যথা প্রতিরোধ করা, অ্যাসিডিটির রিফ্লাক্স হ্রাস করা, কম নাক ডাকা, গর্ভাবস্থায় ঘুমানোর জন্য আদর্শ।
খারাপ দিক: আপনার ত্বক এবং আপনার স্তনের জন্য।
আরও কিছু: সামগ্রিক স্বাস্থের জন্য সাইড-পজিশনটি দুর্দান্ত — এটি নাকডাকা কমায় এবং আপনার মেরুদণ্ডকে সোজা ও টানটান করে রাখে। আপনি এসিড রিফ্লাক্স জনীত সমস্যা থেকে মুক্তি চান, এই ধরনের ঘুম আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করবে।
নেতিবাচক দিক: "পাশ ফিরে ঘুমানোর ফলে আপনার বলিরেখা বেড়ে যেতে পারে", বলেছেন ড. গ্লেজার (Dr. Glaser), "এই অবস্থায় আপনার মুখের ওপর চাপ বেশি পরায় বলিরেখা সৃষ্টি হতে পারে।" স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিভাগের মেডিকেল এডিটর রোশিণী রাজাপাক্সা (Roshini Rajapaksa) বলেছেন, "বালিশে দেহ একপাশে কাত হয়ে থাকার কারণে মহিলাদের স্তনের আকার সম্পূর্ণ হয় না।"
(৩) আদর্শ নয়: গর্ভস্থ অবস্থান (যেভাবে মাতৃগর্ভে শিশু থাকে)
ভাল দিক: মহিলাদের গর্ভাবস্থায় ঘুমানোর জন্য, নাক ডাকা কমানোর জন্য।
খারাপ দিক: ঘাড় এবং পিঠে ব্যথা হতে পারে, বলিরেখা বাড়িয়ে দেয়, স্তনের আকার নিয়ন্ত্রনে রাখে না।
আরও কিছু: "যখন আপনি আপনার হাঁটু ভাঁজ করে থুতনির কাছে নিয়ে এসে ঘুমোন আপনার joint pain এবং আর্থ্রারাইটিস এর ঝুঁকি বেড়ে যায়", ডঃ ওলসন (Dr. Olson) বলছেন, "এই বাঁকা অবস্থানটি ডায়াফ্র্যাগমেটিক শ্বাসকেও সীমিত করে দেয়", বলেন ইরিভিংটন, এনওয়াইএর একজন আকুপাংকচারিস্ট ডডি চ্যাং (Doddy Chang)। যদি আপনি এটি আপনার রাতের ঘুমানোর অভ্যাস এ পরিণত করেন, তবে আপনার মুখের বলিরেখা বয়সের আগেই চলে আসতে পারে এবং স্তনের বিকার ঘটতে পারে।
(৪) সবচেয়ে খারাপ: পেটের অবস্থান (পাকস্থলীর ওপর চাপ দিয়ে উল্টো হয়ে শোওয়া)
ভাল দিক: সহজ নাক ডাকা
খারাপ দিক: ঘাড় এবং পিঠে ব্যথা হতে পারে, মুখে অজস্র বলিরেখা দেখা যায়, বেহায়া স্তনের আশঙ্কা।
আরও কিছু: "পেটে ভর দিয়ে ঘুম আপনার মেরুদণ্ডের একটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা কঠিন করে তোলে," শ্যানন (Shannon) ব্যাখ্যা করে। এটি অস্থিসন্ধি ও পেশীর উপর চাপ সৃষ্টি করে, যা স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে — ব্যথা, numbness এবং tingling হতে পারে। ড. ডায়ান্ট (Dr. Diant) ব্যাখ্যা করেন, "দিনে 15 মিনিটের জন্য যদি আপনি আপনার ঘাড় একপাশে পরিণত হয়ে থাকেন তবে আপনি কীরকম ব্যথা অনুভব করতে পারেন তা একবার ভেবে দেখুন। এই রকম sleeping position অবস্থায় আপনি এক ঘন্টার জন্য হলেও এক দিকে আপনার মাথা রেখে ঘুমোন। এর প্রভাব হয়ত পরের দিন মনে হবে না, কিন্তু খুব শীঘ্রই আপনার ঘাড়ে ব্যথা শুরু হতে পারে।
রেফা: ১. https://bn.quora.com/
২. Michael Clarke

পুরুষদের মধ্যে থেকে Y ক্রোমোজোম ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে , মহানবী সা. এঁর হাদীসের কথাগুলো স্পস্টতর হচ্ছে

 বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেন যে, পুরুষদের মধ্যে থেকে Y ক্রোমোজোম ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। তবে আশার কথা হলো, বিজ্ঞানীরা একটি নতুন যৌন জিন সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন যা মানব জাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে পারে।

মানুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম রয়েছে, যার মধ্যে এক জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম। মেয়েদের ক্ষেত্রে জিনোটাইপ XX, পুরুষদের ক্ষেত্রে XY। Y ক্রোমোজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন হলো SRY, যা SOX9 নামক জিন থেকে শুরু করে অন্যান্য বিভিন্ন জিনকে ট্রিগার করে, যা সমস্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে পুরুষ নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, স্পাইনি ইঁদুরের উপর জরিপ চালিয়ে তাদের দুটি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যারা তাদের Y ক্রোমোজোম হারিয়েছে, সাথে SRY জিনও বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু প্রজাতিগুলো এখনও টিকে রয়েছে।
এই প্রজাতিগুলোর মধ্যে গবেষণা করে দেখা যায়, পুরুষ ইঁদুরের ক্রোমোজোম ৩-এর মূল সেক্স জিন SOX9 এর কাছে ডিএনএ-র একটি ছোট অনুলিপি রয়েছে, যা শুধুমাত্র পুরুষদের জিনের মধ্যেই উপস্থিত। এই অনুলিপিটি SOX9 এর কার্যকলাপকে বাড়িয়ে তোলে, ফলে বিলুপ্ত হওয়া SRY এর কাজ প্রতিস্থাপন হয়ে যায় এর মাধ্যমে।
এই ফলাফলগুলো থেকে অনুমান করা যাচ্ছে যে, মানুষ সম্ভাব্যভাবে একটি নতুন লিঙ্গ নির্ধারণকারী জিন তৈরি করতে পারবে, যা Y ক্রোমোজোমকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে এবং মানবপ্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করবে।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেন যে, পুরুষদের মধ্যে থেকে Y ক্রোমোজোম ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। তবে আশার কথা হলো, বিজ্ঞানীরা একটি নতুন যৌন জিন সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন যা মানব জাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে পারে।
মানুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম রয়েছে, যার মধ্যে এক জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম। মেয়েদের ক্ষেত্রে জিনোটাইপ XX, পুরুষদের ক্ষেত্রে XY। Y ক্রোমোজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন হলো SRY, যা SOX9 নামক জিন থেকে শুরু করে অন্যান্য বিভিন্ন জিনকে ট্রিগার করে, যা সমস্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে পুরুষ নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, স্পাইনি ইঁদুরের উপর জরিপ চালিয়ে তাদের দুটি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যারা তাদের Y ক্রোমোজোম হারিয়েছে, সাথে SRY জিনও বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু প্রজাতিগুলো এখনও টিকে রয়েছে।
এই প্রজাতিগুলোর মধ্যে গবেষণা করে দেখা যায়, পুরুষ ইঁদুরের ক্রোমোজোম ৩-এর মূল সেক্স জিন SOX9 এর কাছে ডিএনএ-র একটি ছোট অনুলিপি রয়েছে, যা শুধুমাত্র পুরুষদের জিনের মধ্যেই উপস্থিত। এই অনুলিপিটি SOX9 এর কার্যকলাপকে বাড়িয়ে তোলে, ফলে বিলুপ্ত হওয়া SRY এর কাজ প্রতিস্থাপন হয়ে যায় এর মাধ্যমে।
এই ফলাফলগুলো থেকে অনুমান করা যাচ্ছে যে, মানুষ সম্ভাব্যভাবে একটি নতুন লিঙ্গ নির্ধারণকারী জিন তৈরি করতে পারবে, যা Y ক্রোমোজোমকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে এবং মানবপ্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করবে।
Ref: Abdul Aziz, Team Science Bee, #science #bee #facts #baby