‘সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাজি খালাকাহু, ওয়া শাক্কা সাম‘আহু, ওয়া বাসারাহু বিহাওলিহি ওয়া কুওয়াতিহি।
Thursday, April 4, 2024
আল কুরআনে তিলাওয়াতে সিজদা চেনা
পবিত্র কোরআনের যেসব আয়াতে সিজদার বিধান রয়েছে, সেসব আয়াতের ওপরে লম্বা দাগ টেনে চিহ্ন দেওয়া আছে। এ রকম সিজদার আয়াত চৌদ্দটি। এ চৌদ্দটি সিজদার পারা, সুরা, আয়াত নম্বর এবং বাংলা উচ্চারণ আলোচনা করা হলো।
সিজদা ১:
সিজদা ২:
পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সিজদা রয়েছে ১৩ পারায় সুরা রাদের ১৫ নম্বর আয়াতে। আয়াতের বাংলা উচ্চারণ, ‘ওয়া লিল্লাহি ইয়াসজুদু মাং ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি তও আউ ওয়া কারহাও ওয়া জিলালুহুম বিলগুদুওয়ি ওয়াল আ-ছা-ল।’
সিজদা ৩:
১৪ পারায় সুরা নাহলের ৫০ নম্বর আয়াতে তৃতীয় সিজদাটি রয়েছে। উক্ত আয়াতের বাংলা উচ্চারণ, ‘ইয়াখা-ফুনা রাব্বাহুম্ মিন ফাওক্বিহিম্ ওয়া ইয়াফ'আল্না মা- ইউ'মারুন
সিজদা ৪:
কোরআনের চতুর্থ সিজদাটি ১৫ নম্বর পারায় সুরা বনি ইসরাইলের ১০৭-১০৯ আয়াতসমূহে বিদ্যমান। বাংলা উচ্চারণ, ‘কুল আ-মিনুবিহী আও লা তু’মিনু। ইন্নাল্লাজিনা উ-তুল ইলমা মিং ক্বাবলিহী ইযা ইয়ুতলা আলাইহিম ইয়াখিররুনা লিলআযক্বানি স্জ্জুাদা। ওয়াকুলুনা সুবহানা রাব্বিনা ইং কানা ওয়াদু রাব্বিনা লামাফউলা। ওয়া ইয়াখিররুনা লিল আযক্বানি ইয়াবকুনা ওয়া ইয়জিদুহুম খুশুআ।’
সিজদা ৫:
পঞ্চম সিজদাটি ১৭ নম্বর পারায় সুরা মারইয়ামের ৫৮ নম্বর আয়াতে রয়েছে। এর বাংলা উচ্চারণ, ‘উলাইকাল্লাজিনা আনআমাল্লাহ আলাইহিম মিনান নাবিয়্যিনা মিন জুররিইইয়াতি আ-দামা ওয়া মিম্মান হামালনা মাআ নুহ। ওয়া মিন জুররিয়্যাতি ইবরাহিমা ও ইসরাইলা। ওয়া মিম্মান হাদাইনা ওয়াজতাবাইনা। ইজা তুতলা আলাইহিম আ-ইয়া-তুররহমানি খাররু সুজ্জাদাওয়্যা বুকিইয়্যা।’
সিজদা ৬:
পবিত্র কোরআনের ৬ নম্বর তিলাওয়াতে সিজদাটি রয়েছে ১৭ নম্বর পারার সুরা হজের ১৮ নম্বর আয়াতে। এর বাংলা উচ্চারণ, ‘আলামতারা আন্নাল্লাহা ইয়াসজুদ লাহু মান ফিসসামাউয়াতি ওয়া মান ফিল আরদ্বি ওয়াশ্শামসু ওয়াল কামারু ওয়ান্নুজুমু ওয়াল জিবালু ওয়াশ্শাজারু ওয়াদ্দাওয়া-ব্বু ওয়া কাছিরুম মিনান্নাসি। ওয়া কাছিরুন হাক্কা আলাইহিল আজাব। ওয়া মাইয়্যুহিনিল্লাহু ফামা লাহু মিম্মুকরিমিন। ইন্নল্লাহা ইয়াফআলু মা ইয়াশাউ।’
সিজদা ৭:
১৯ নাম্বার পারায় সুরা ফুরকানের ৬০ নম্বর আয়াতে রয়েছে সপ্তম সিজদাটি। উক্ত আয়াতের বাংলা উচ্চারণ, ‘ওয়া ইজা কিলা লাহুমুসজুদু লিররামানি কালু ওয়া মাররাহমানু। আনাসজুদু লিমা তা’মুরুনা ওয়া জা দাহুম নুফুরা।’
সিজদা ৮:
৮ নম্বার তিলাওয়াতে সিজদাটি ১৯ নম্বর পারায় সুরা নামলের ২৫-২৬ আয়াতে রয়েছে। আয়াত দুটির বাংলা উচ্চারণ, ‘আল্লা ইসজুদু লিল্লাহিল্লাজি ইয়ুখরিজুল খাবআ ফিসসামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ওয়া ইয়া’লামু মা তুখফুনা ওয়া মা তু’লিনুন। আল্লাহু লা-ইলাহ ইল্লা হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।’
সিজদা ৯:
নবম সিজদাটি ২১ পারায় সুরা সিজদার ১৫ নম্বর আয়াতে। উক্ত আয়াতের বাংলা উচ্চারণ, ‘ইন্নামা ইউ’মিনু বিআ-য়া-তিনাল্লাজিনা ইযা যুক্কিরু বিহা খাররু সুজ্জাদাওয়া সাব্বাহু বিহামদি রাব্বিহিম ওয়া হুম লা ইয়াসতাকবিরুন।’
সিজদা ১০:
১০ নম্বর তিলাওয়াতে সিজদাটি ২৩ পারায় সুরা সোয়াদের ২৪ নম্বর আয়াতে রয়েছে। উক্ত আয়াতের বাংলা উচ্চারণ, ‘ক্বালা লাকাদ জালামাকা বসুআলি না’জাতিকা ইলা নি’জিহি। ওয়া ইন্না কাছিরাম মিনাল খুলাতা-ই লায়াবগি বা’দুহুম আলা বা’দিন ইল্লাল্লাজিনা আ-মানু ওয়া আমিলুসসালিহাতি ওয়া ক্বালিলুম্মা হুম। ওয়া জন্না দা-উদু আন্নামা ফাতান্নাহু ফাসতাগফারা রাব্বাহু ওয়া খাররা রাকিআওয়া আনাবা।’
সিজদা ১১:
পবিত্র কোরআনের ১১ নম্বর সিজদাটি ২৪ পারায় সুরা হা-মিম সিজদার ৩৭-৩৮ নম্বর আয়াতসমূহে আছে। আয়াত দুটির বাংলা উচ্চারণ, ‘ওয়ামিন আয়াতিহিল লাইলু ওয়ান্নাহারু ওয়াশশামসু ওয়াল কামারু। লা তাসজুদু লিশশামসি ওয়া লা লিলকামারি ওয়াসজুদু লিল্লাহিল্লাজি খালাকাহুন্না ইনকুনতুম ইয়্যাহু তা’বুদুন। ফা ইনিসতাকবারু ফাল্লাজিনা ইনদা রাব্বিকা ইয়ু সাব্বিহুনা লাহু বিললাইলি ওয়ান্নাহারি ওয়াহুম লা ইয়াসমাউন।’
সিজদা ১২:
১২ নম্বার তিলাওয়াতে সিজদাটি ২৭ পারায় সুরা নাজমের ৬২ নম্বর আয়াতে রয়েছে। আয়াতটির বাংলা উচ্চারণ, ‘ফাসজুদু’ লিল্লাহি ওয়া’বুদু।’
সিজদা ১৩:
৩০ পারায় সুরা ইনশিকাকের ২১ নম্বর আয়াতে রয়েছে ১৩ নম্বর সিজদাটি। আয়াতটির বাংলা উচ্চারণ: ওয়া ইজা কুরিআ আলাইহিমুল কুরআনু লা ইয়াসজুদুন।
সিজদা ১৪:
পবিত্র কোরআনের সর্বশেষ সিজদাটিও ৩০ পারায় সুরা আলাকের ১৯ নম্বর আয়াতে রয়েছে। আয়াতের বাংলা উচ্চারণ ‘কাল্লা, লা তুতি’হু ওয়াসজুদ ওয়াকতারিব।’
এই চৌদ্দটি আয়াত যখন তিলাওয়াত করা হবে, তখন তিলাওয়াতকারীর ওপর সিজদা ওয়াজিব হবে। তিলাওয়াতকারীর ওপর যেমন সিজদা করা ওয়াজিব হবে, তেমনি আয়াতগুলো অন্য কেউ শুনলে তাঁর জন্যও সিজদা করা ওয়াজিব হয়ে যাবে। এ জন্যই সিজদার আয়াত চুপি চুপি তিলাওয়াত করা উত্তম। যাতে অপর কোনো ব্যক্তিকে অসুবিধায় পড়তে না হয়।
তিলাওয়াতে সিজদা আদায়ের নিয়ম
তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করা খুবই সহজ। সোজা দাঁড়ানো থেকে হাত না উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় চলে যেতে হবে। তারপর সিজদার তাসবিহ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ তিনবার পড়তে হবে। আবার আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়িয়ে গিয়ে শুধু একটি সিজদা দিতে হবে। নামাজের মতো দুটি সিজদা দিতে হবে না। নামাজের মতো সিজদা থেকে বসতেও হবে না। তাশাহুদ, দরুদ শরিফ কিছু পড়তে হবে না। এমনকি তিলাওয়াতে সিজদায় সালামও ফেরাতে হয় না।
সোর্স: আমিনুল ইসলাম হুসাইনী
All reactions:
1‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া’ কেন পড়ব?
رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً وَّ فِی الۡاٰخِرَۃِ حَسَنَۃً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّارِ
হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন।
খবর পেয়ে রাসুল (সা.) তাঁকে দেখতে এলেন। রাসুলও তাঁকে দেখে অবাক। জানতে চাইলেন, তোমার তো এমন হওয়ার কথা নয়। কী করে এ অবস্থা হলো? তুমি কি আল্লাহর কাছে বিশেষ কোনো দোয়া করেছ?
যুবক বলল, আপনি ঠিকই ধরেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি, হে আল্লাহ! আমার আখিরাতের প্রাপ্য সব শাস্তি দুনিয়াতে যেন পাই। আখিরাতে যেন কোনো কষ্ট না পাই।’
রাসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি এ কেমন ধরনের দোয়া করেছ? তোমার এই দোয়া করা ঠিক হয়নি। কারণ, আখিরাতের শাস্তি দুনিয়ায় ভোগ করার সাধ্য কোনো মানুষের নেই। তুমি কেন সহজ দোয়া করছ না?’
এই বলে রাসুল (সা.) দোয়া তাঁকে শিখিয়ে দিলেন, ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাওঁ, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাওঁ, ওয়াকিনা আজাবান্নার।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২০১) এর অর্থ: ‘আর তাদের মধ্যে অনেকে বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ দাও ও পরকালেও কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে অগ্নিযন্ত্রণা থেকে রক্ষা করো।’
আরেকটি ঘটনা। সাহাবি আনাস ইবনে মালিক (রা.) তখন বৃদ্ধ, চলতে-ফিরতে অক্ষম। তাঁর কাছে বসরা থেকে একদল লোক এসে বলল, ‘হে আনাস (রা.), আপনি রাসুল (সা.)–কে দেখেছেন। আপনার মতো সৌভাগ্যবান মানুষের কাছ থেকে শুধু দোয়া নিতে আমরা বসরা থেকে এসেছি। আমাদের জন্য দোয়া করুন।’ তখন আনাস (রা.) তাঁদের নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া’ পড়ে দোয়া করলেন।
বসরার লোকেরা বলল, আরও কিছু দোয়া করুন। আনাস (রা.) আবারও এই দোয়া করলেন। আনাস (রা.) কয়েকবার এ দোয়াই করলেন।
আনাস (রা.) তাঁদের বললেন, ‘আমি শ্রেষ্ঠতম দোয়াটিই করেছি। যদি এই একটি দোয়া কবুল হয়, তবে তোমাদের অন্য যা কিছু প্রয়োজন, সবই এর বরকতে পূরণ হয়ে যাবে।’
এই দোয়া শুরু হয়েছে রাব্বানা দিয়ে। দোয়ায় তিনটি অংশ আছে—১. দুনিয়ার কল্যাণ ২. আখিরাতের কল্যাণ এবং ৩. জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি।
মহান আল্লাহর থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় থাকতে হবে, আবার তিনি আমাদের চাওয়াগুলো কবুল করবেন, এই আশাবাদ থাকতে হবে। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করতে হবে, জান্নাত পাওয়ার আশা করতে হবে, ঠিক তেমনি জাহান্নামের আগুনের ভয়েও সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়গুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই দোয়ায় আছে। তাই এ দোয়া এত সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রগুলো:
ফেরদৌস ফয়সাল
ctions:
1Wednesday, April 3, 2024
Subscribe to:
Posts (Atom)






