Wednesday, June 24, 2020

কখনো হতাশ হয় না যারা ঈমানদার

মহাবিশ্বের তুলনায় মানুষ এক নগণ্য প্রাণী। নগণ্য বললেও অনেক বেশি বলা হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অনুযায়ী, যেখানে পৃথিবীটাই খুঁজে পাওয়া যায় না, সেখানে মানুষ কোন ছার।
বিবেচক ও বুদ্ধিমান এ প্রাণীটি কত যে দুর্বল ও ক্ষুদ্র তা পবিত্র কোরআন তুলে ধরেছে। বলা হয়েছে, ‘মানুষের জীবনে কি এমন একটি সময় ছিল না? যখন সে উল্লেখ করার মতো কোনো বস্তু হিসেবে পরিগণিত হতো না’ (আল কোরআন ৭৬ : আয়াত ২)। অনত্র আল্লাহ বলেন, ‘আর মানুষ সৃষ্টিগত ভাবেই দুর্বল’ (আল কোরআন ৪ : আয়াত ২৮)।
মানুষের মৃত্যুর চেয়ে তার বেঁচে থাকাটাই বরং বেশি বিস্ময়কর। মানুষের হায়াত যেমন সীমিত, তার কর্মশক্তি যেমন সীমিত ঠিক তেমনি সীমিত তার শ্রবণ, দৃষ্টি ও অনুভূতিশক্তি। বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, মানুষ তার চর্মচোখে যা কিছু দেখে তা তার চারপাশের প্রকৃতি ও জগতের তিন ভাগ। ৯৭ ভাগই সে খালি চোখে দেখে না। নানা যন্ত্র ও আলোকসম্পাতে আরো এক-আধ ভাগ সে দেখতে পারে বটে, তবে ৯৫ ভাগ সৃষ্টি দুর্বল মানুষেরা কোনোদিনই দেখে না।
মানুষের বোধ ও কল্পনা শক্তিও উপরোল্লিখিত শক্তিগুলোর চেয়ে কিছু বেশি হলেও মহাসৃষ্টির বিশালত্বের তুলনায় খুবই নগণ্য। যে জন্য আল্লাহর রাস‚ল সা. সৃষ্টিজগতের সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী বা প্রজ্ঞাবান হওয়া সত্তে¡ও বলেছেন, ‘অতি সামান্য জ্ঞানই আমাকে দেয়া হয়েছে’। অর্থাৎ সর্বজ্ঞ ও পরম জ্ঞানী মহান আল্লাহর সামনে সৃষ্টিজগতের সকলের সব জ্ঞান মহাসিন্ধুর তুলনায় সূচাগ্র বারি বিন্দুও নয়।
পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘বিচারের মাধ্যমে অপরাধীকে হত্যা, খুনের বদলা খুন, আঘাতের সমপরিমাণ প্রত্যাঘাত ও সন্ত্রাসের সম প্রতি বিধান (কিসাস), এর ভেতর রয়েছে তোমাদের জন্য বাঁচার বার্তা।’ অর্থাৎ কিছু মৃত্যু এমন আছে যার মাঝে লুক্কায়িত আছে বহুপ্রাণ। চিন্তাশীলরা এ আয়াত থেকে শিক্ষাগ্রহণ করো।
অন্য জায়গায় বলেন, জুলুমের প্রতিকার সশস্ত্র লড়াই। এতে ঈমানদাররা যেমন জীবন দেবে, জালিমদের জীবন নেবে। এ কাজটি মানবতার স্বার্থেই আল্লাহর বিধানের অন্তর্ভুক্ত। যার কোরআনী পরিভাষা হচ্ছে ‘কিতাল ও জিহাদ’। অবশ্য জিহাদের অর্থ আরো ব্যাপক। আল্লাহ তায়ালা এই কষ্টকর জিহাদের বা সশস্ত্র যুদ্ধের হুকুম দেয়ার পর বলেন, ‘এমন হতে পারে যে, একটি জিনিস তোমরা অপছন্দ করো অথচ সেটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর, আর এমনো হতে পারে যে, তোমরা একটি জিনিস পছন্দ করো, অথচ এটি তোমাদের জন্য মন্দ। (আর এর কারণ এই যে) আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না’ (আল কোরআন ২ : আয়াত ২১৬)।
এ আয়াতের সাধারণ ব্যবহার মুফাসসিরগণ করেছেন, জিহাদের ক্ষেত্রে তো এটি আছেই দার্শনিক অর্থে জীবনের প্রতিটি পছন্দ-অপছন্দের ক্ষেত্রেও দুর্বল ও স্বল্পজ্ঞানী মানুষ জানে না কিসে তার মঙ্গল। ভাগ্য তাকে সামান্য কষ্ট দিয়ে বড় যে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে এ কথাটি ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত, (ওয়াল ক্বাদরি খাইরিহি ওয়া শাররিহি মিনাল্লাহি তায়ালা) মানে ঈমানদারের একথা বিশ্বাস করতেই হবে যে, ভাগ্যের কাছ থেকে পাওয়া ভালো ও মন্দ দু’টোই আল্লাহ তায়ালার দেয়া।
পাশাপাশি এ বিশ্বাসও ঈামাদারের জন্য অপরিহার্য যে, আল্লাহ তার ঈমানদার বান্দার কোনো অমঙ্গল কখনোই করেন না। বান্দার দৃষ্টিতে যেটি অমঙ্গল আল্লাহর ফায়সালায় সেটিই মহা কল্যাণের দ্বারোদঘাটন। আল্লাহর তরফ থেকে দেয়া ছোট্ট একটি ‘না পাওয়া’ বিশ্বাসী বান্দার জন্য জীবনের সেরা প্রাপ্তির মহা উদ্বোধন। এ জন্য নিজের মনের বিরুদ্ধে, স্বপ্ন ও কল্পনার বিরুদ্ধে, আশা ও অঙ্কের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া কোনো ‘কেয়ামত’কেও নিরেট মন্দ বলে ধারণা করা মুমিনের কাজ নয়। বিশ্বাসের আলোকে ভাবতে গেলে, এতেই নিহিত রয়েছে অনেক বড় কোনো বৈপ্লবিক বিজয়ের অঙ্কুর।
আল্লাহর প্রতি আস্থাবান ও নিজেকে অক্ষম ও দুর্বল বান্দা হিসেবে যারা ভাবতে পারেন তারা ধ্বংসের মাঝখানে বিধ্বস্ত অস্তিত্ব নিয়েও সাফল্য ও শক্তিমান উত্থানের স্বপ্ন দেখেন। কারণ, তারা মহানবী সা. এ হাদিসের আলোকে চলেন, যেখানে নবী করিম সা. বলেছেন, ‘হতাশা এক ধরনের কুফরি’।
তারা ঈমানের জোরে হতাশা নামক কুফরিকে দূরে সরিয়ে রাখেন। তারা আঘাতে বিচূর্ণ হন, ঘাতকের হাতে নিহত হন, সামগ্রিক লড়াইয়ে ধ্বংস হয়ে যান কিন্তু পরাজিত ও হতাশ হন না। তার বিশ্বাস ভাঙে না। তার সাহসে আঁচ লাগে না। তার লক্ষ্যে বাঁক আসে না। ঈমান ও তাওয়াক্কুল তাকে সটান, সুদৃঢ়, অমর, অক্ষর, অজেয় করে রাখে। ঈমানী হিরোরা ধ্বংস হন কিন্তু পরাজিত হন না। আল্লাহর পথে নিবেদিতরা মরে গেলেও মৃত্যুবরণ করেন না।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ যে কথাটি এভাবে বলেছেন, ‘যারা আল্লাহর পথে জীবন দেয়, তাদের তোমরা অবশ্যই মৃত গণ্য করবে না। তারা জীবিত এবং নিজের রবের নিকট থেকে রিজিক পেতে থাকে’ (আল কোরআন ৩ : আয়াত ১৬৯)। অন্য জায়গায় আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর রাহে জীবন দেয়, তোমরা তাদের মৃত বলো না, তারা জীবিত কিন্তু তোমরা তা বোঝ না’ (আল কোরআন ২: আয়াত ১৫৪)। সুতরাং একথা বিশ্বাস করতেই হবে যে, বান্দা জানে না কিসে তার মঙ্গল।

ধৈর্যের চেয়ে কল্যাণকর কিছু নেই

দুঃসময়ে মুমিনদের কর্তব্য হবে আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে ধৈর্য ধারণ করা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া। কোরআনের এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৩)
মানবজীবনে ছোট-বড় অনেক বিপদাপদ ও সংকট দিয়ে আল্লাহ তাআলা বান্দার পরীক্ষা করবেন, এটা কোরআনের কথা। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়ভীতি, ক্ষুধা, জীবন-সম্পদ ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা, আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৫)। বিপদাপদ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পরীক্ষাস্বরূপ। এ কথাটি হাদিস শরিফের বিভিন্ন ভাষ্য দ্বারা স্পষ্ট হয়। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদে আক্রান্ত করেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪৫)
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন তাঁর বান্দার কল্যাণ চান তখন দুনিয়াতে তার শাস্তি ত্বরান্বিত করেন, আর যখন কোনো বান্দার অকল্যাণ চান তখন তার পাপগুলো রেখে দিয়ে কিয়ামতের দিন তার প্রাপ্য পূর্ণ করে দেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৯৬)
তবে কঠিন বিপদেও যারা সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করবে তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পুরস্কারের ঘোষণা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলো! হে মুমিন বান্দা, যারা ঈমান এনেছ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। যারা এ দুনিয়ায় ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। আর আল্লাহর জমিন প্রশস্ত, শুধু ধৈর্যশীলদেরই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেওয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ১০)
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি (আল্লাহ) যখন আমার মুমিন বান্দার কোনো আপনজনকে মৃত্যু দিই, আর সে সবর করে, তখন আমার কাছে তার একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪২৪)
এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফোটে, এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪১)
ধৈর্যশীলতা মুমিন বান্দার কল্যাণকর একটি গুণ। এই গুণ অর্জনে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। একবার রাসুল (সা.) আনসার সাহাবিদের কিছু লোককে বলেন, ‘যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরে, তিনি (আল্লাহ) তাকে ধৈর্যশীলই রাখেন। আর যে অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। ধৈর্যের চেয়ে বেশি প্রশস্ত ও কল্যাণকর কিছু কখনো তোমাদের দান করা হবে না। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭০)

কস্তুরী ও আমার মানব-হিতৈষী দাদার চিকিতসাঃ আব্বার কাছে শোনাঃ বিরল স্মৃতিচারণ

আমার শ্রদ্ধেয় দাদা মরহুম ছমির উদ্দিন প্রামাণিক। উনি চিকিতসা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে নয় বরং একজন গ্রামের একজন অ্যাপোথিকারীর (Apothecary: a person who prepared and sold medicines and drugs) অ্যাসিস্ট্যান্ট তথা কম্পাউন্ডার থেকে। ৪০-৫০এর দশকে বাংলার গ্রামে চিকিতসকের মহা সংকট ছিল বিষয়টি আমার বয়সী যারা তারা সবাই জানেন। অ্যাপোথিকারীকে অনেকেই বৃটিশ বা পাকিস্তানী আমলে কবিরাজ বা নগ্নপদী ডাক্তার বা Bare-foot Doctor বলতো। অনেকে এদেরকে কোয়াক(Quack doctor) বা হাতুড়ে বা নাড়ীটেপা ডাক্তার বলতো। এরা ছিল Rural Healthcare Provider. এদের কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ছিলনা চিকিতসা পেশার।
ধীরে ধীরে আমার দাদার ডাক্তারীর যশ গ্রামান্তরে ছড়াতে থাকে। দাদাকে অনেকেই “পন্ডিত” বলে ডাকতো। কারণ দাদা স্কুল ঘর তৈরী করে গ্রামের মানুষকে অক্ষর জ্ঞান শিক্ষা দিতেন আর সেই সুবাদে আমাদের পাড়াটি ছিল “পন্ডিত পাড়া।” এখনো আমাদের পাড়ার সেই সুনাম অক্ষুন্ন। পন্ডিত পাড়ার লোক হিসেবে আমাদের বা আমাদের প্রজন্মের সুনাম এখনো প্রচুর। আমাদের পাড়াটি এখনো একটি বাতিঘর। দাদার আধ্যাত্মিক বুতপত্তি ছিল যেটা আব্বার মুখেই শোনা। দাদা যে দহলিজে বা বৈঠকখানায় বসে চিকিতসা দিতেন সেখানে বাংলা, আসাম তথা ভারতের বাংলা-আরবী-ফার্সীভাষী বহু বিশিষ্টজনের আনাগোনা ছিল আর সেটাও ছিল আমাদের গ্রামের খন্দকার পাড়ার মাদ্রাসা দার-উল-ঊলুমের কারণে। মাদ্রাসা এলাকায় বাস করতেন দাদার বন্ধু হাবিবুর রহমান খন্দকার -যার আধ্যাত্মিক বুতপত্তি ছিল সে সময় সর্বজনবিদিত। দাদার দহলিজে বহু বিশিষ্টজনের সাথে আমারও সাক্ষাত হয়েছে ছোট বেলায় যারা আমাকে কোলে নিতেন, আদর করতেন- এটা স্পষ্ট করেই মনে আছে এখনো। আমার আব্বাও ৫টি ভাষা জানতেন। তিনিও ছিলেন বগুড়ার বৃটিশ মেডিক্যাল স্কুল থেকে পাশ করা ডাক্তার। দাদার অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিল আমার মা। মায়ের কাছে শুনেছি দাদা মা’কে বলতো, “ছোট বৌ, আমি বেঁচে থাকতে তুই পারলে কিছু শিখে রাখ আমার কাছ থেকে।” মায়ের কাছে গল্প শুনেছি দাদা বিষাক্ত সাপ ধরে এনে সেটাকে তেলে জ্বাল দিয়ে বাতের ব্যথার ওষুধ তৈরী করতো। দাদা মারা যাবার পরও সে ধরনের অনেক তেল বা আরো কিছু ওষুধ আমার মায়ের কাছে ছিল। মায়ের থেকে আমার বড় ভাই ও আমি চিকিতসার জন্য অনেক ওষুধ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।
ডাক্তারীর যশ নিয়ে দাদা গ্রাম গ্রামান্তরে হেঁটেই যেতেন সে সময় বাহন স্বল্পতার কারণে। তখনকার দিনে একমাত্র দ্রুতগামী বাহন ছিল টাট্টু ঘোড়া। তবে দাদাকে ঘোড়ায় চড়তে দেখিনি আমি। দাদা অ্যালোপ্যাথি ওষুধের পাশাপাশি শল্য-চিকিতসা, ঝাড়-ফুঁক, তুক-তাক, ইউনানী বা হোমিওপ্যাথীর চিকিতসাও দিতেন। তার বিশেষ গুণ ছিল যে তিনি অসুখের ডায়গনোসিস (Diagnosis) আর প্রোগনোসিস (Prognosis) দুটোই নিখুঁতভাবে বুঝতেন। এ কারণে তিনি গ্রাম বা গ্রামান্তরের মানুষের অগাধ বিশ্বাস তিনি অর্জন করতে পেরেছিলেন। লোকে বলতো পন্ডিত ভাই ছাড়া রোগী ভাল হবে না। তাই তাকেই ডাকা হোক।
একবার আমাদের গ্রামের এক লোক অনেকদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর বিছানা নিলে তাকে আর ফেরানো গেলো না। এর আগে দাদা তার চিকিতসা করেছিলেন, ওষুধ-পথ্যও দিয়েছিলেন। কিন্তু তার অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। হঠাত সেই লোকটির বাড়ী থেকে কান্নার রোল উঠলে দাদাকে অনেক পরে খবর দেয়া হলো তার জানাযা পড়ানোর জন্য। দাদা সে বাড়ীতে গেলেন। মৃত লোকটির পাশে জলচৌকীর ওপর বসলো। দাদা তার নিকটজনদের বল্লো মুখ থেকে কাফনের কাপড় সরাতে। তারা তাই করলো। দাদা পকেট থেকে কস্তুরীর ঢেলা বের করে মৃত লোকটির নাকে ধরলো। কারণ, দাদার সন্দেহ ছিল লোকটি মারা যায়নি বরং কোমায় ছিল। কোমা হলো অচেতনতার একটি গভীর অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তিকে জাগ্রত করা সম্ভব নয় (দেখুনঃ NDE- near-death experience), এবং তিনি ব্যাথা সৃষ্টিকারী কোনো উদ্দীপনা, আলো, বা শব্দের প্রেক্ষিতে কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে পারেন না। কোমায় থাকার অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো স্বাভাবিকভাবে ঘুম থেকে ওঠার চক্র অনুপস্থিত থাকে এবং তিনি স্বেচ্ছামূলক কোনো প্রকার কার্য সম্পাদন করতে পারেন না। কোমায় থাকা রোগীদের মধ্যে সচেতন অবস্থায় থাকার সকল প্রকার লক্ষণ সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত থাকে এবং তারা সচেতনভাবে কোনো কিছু অনুভব করতে, কথা বলতে, বা নড়াচড়া করতে পারেন না। কোমা প্রাকৃতিক কারণে বা চিকিতসার অংশ হিসেবে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি হতে পারে।
আব্বার বর্ণনা অনুসারেঃ বিশেষভাবে অভিজ্ঞ আমার দাদা লোকটির নাকে প্রায় বেশ কিছু সময় নিয়ে কস্তুরীর ঢেলা ধরে রাখার পর লোকটি একটু নড়ে ওঠে। এর পর তার নিকটজনদের বলা হলো কাফনের কাপড় সরিয়ে ফেলতে। কস্তুরীর অ্যকশান লোকটির শরীরে ভালভাবে শুরু হলে লোকটি মৃত শয্যা থেকে একেবারে উঠে বসে পড়ে ও দাদাকে সালাম দেয়। কথাও বলে দাদার সাথে। বলে, “পন্ডিত ভাই, কখন এসেছেন।”
গ্রামের লোকদের কাছে এ ছিল এক অভুতপূর্ব কারিশম্যাটিক ব্যাপার। হৈ চৈ পড়ে যায় চারদিকে। এমন ঘটনার পরে তাদের প্রিয় পন্ডিত ভাইয়ের যশ আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম-গ্রামান্তরে।
এ ঘটনার পরে লোকটি অনেক বছর বেঁচে ছিলো।
এ সবই ছিল আল্লাহ পাকের বিচিত্র খেলা।
People take musk for stroke, coma, nerve problems, seizures (convulsions), heart pains, and sores. (https://www.rxlist.com/musk/supplements.htm)
কস্তুরীঃ
কস্তুরী মূলত সুগন্ধী গ্রন্থি বা Scent Gland. পুরুষ হরিণের পেটে অবস্থিত সুগন্ধী গ্রন্থি নিঃসৃত একটি সুগন্ধী। মিলন ঋতুতে পুরুষ হরিণের পেটের কাছের গ্রন্থি থেকে সুগন্ধ বের হয়, যা স্ত্রী হরিণকে আকৃষ্ট করে৷ মিলন ঋতুর শেষে গ্রন্থিটি হরিণের দেহ থেকে খসে পড়ে যায়৷ সেটা সংগ্রহ করে রোদ শুকিয়ে কস্তুরী তৈরি করা হয৷ হরিণের দশ বছর বয়সে নাভির এ গ্রন্থি পরিপক্ব বা ম্যাচিউর হয়। এ সময় হরিণটিকে হত্যা করে নাভি থেকে পুরো গ্রন্থিটি বের করে নেওয়া হয়। তারপর রোদে শুকানো হয়। একটা পূর্ণাঙ্গ কস্তুরী গ্রন্থির ওজন প্রায় ৬০-৬৫ গ্রাম।
এটি বিশেষ ধরনের প্রাণিজ সুগন্ধি। হরিণের নাভি থেকে পাওয়া যায় এই কস্তুরী, যা মহামূল্যবান সুগন্ধি হিসেবে পরিচিত।
সুগন্ধি বহু গুণসম্পন্ন এবং বহু নামসম্পন্ন। এর ঘ্রাণ প্রকৃত যোজনগন্ধা বললে কম বলা হয়। কথিত আছে কস্তুরীর এক তিল পরিমাণ কোন বাড়িতে ফেললে বহু বছর সেখানে এর ঘ্রাণ থাকে। তিন হাজার ভাগ নির্গন্ধ পদার্থের সঙ্গে এর এক ভাগ মেশালে সমস্ত পদার্থই সুবাসিত হয় কস্তুরীর ঘ্রাণে।
কস্তুরী সংগ্রহকারীরা এই সুগন্ধিকে প্রায় প্রকৃত অবস্থায় রাখেন না; সচরাচর অন্য পদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করেন। অন্য পদার্থের মধ্যে রক্ত বিশেষ একটি উপাদান। শুকিয়ে যাওয়া রক্তের সঙ্গে কস্তুরীর বিশেষ সাদৃশ্য আছে। কস্তুরীর সুবাসেও আছে বৈচিত্র্য এবং এটি ভিন্ন ভিন্ন নামেও।
সুগন্ধি ফুলের মতোই যুগ যুগ ধরে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে কস্তুরী মৃগ। এই মৃগ অর্থাত হরিণ এক প্রজাতির পুরুষ হরিণ। ইংরেজি নাম ‘মাস্ক ডিয়ার’। এরা খুব লাজুক স্বভাবের। তাই নিরিবিলি বাস করে। বিচরণ করে একান্ত নির্জনে।
হিমালয় পর্বতমালার উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে উতকৃষ্ট কস্তুরীমৃগ পাওয়া যায়। ওই অঞ্চলে একপ্রকার ছোট আকারের হরিণ আছে, তারা ছাগলের চেয়ে বড় নয় কিন্তু দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। এদের পা অতি সরু, মাথা সুন্দর এবং চোখ চমতকার উজ্জ্বল। এই হরিণ অন্য হরিণ থেকে আলাদা নয়। অত্যন্ত শীতল পার্বত্য পরিবেশে বাস করায় এদের লোম সরু না হয়ে অত্যন্ত মোটা ও পালকের মতো হয়। এ ছাড়া পামির মালভূমির গ্রন্থি পর্বতমালায় তৃণভূমি সমৃদ্ধ উপত্যকায় এই হরিণ পাওয়া যায়।
কস্তুরী মৃগের ওপরের মাড়ি থেকে গজদন্তের মতো দুটি দাঁত ছোট আকারে বের হয়। এ ধরনের দাঁত সব প্রজাতির হরিণের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এই দেখেই কস্তুরী মৃগ সনাক্ত করা হয়।
এই প্রজাতির হরিণ আত্মরক্ষায় পটু। কিন্তু তারা নিজেদের লুকিয়ে রাখতে পারে না, কারণ এদের দেহের তীব্র ঘ্রাণ। এই ঘ্রাণ অনুসরণ করে শিকারি ঠিকই এদের সন্ধান পেয়ে যায়। এই হরিণের নাভি থেকেই মূলতঃ এই সুগন্ধি দ্রব্য সংগ্রহ করা হয়।
পুরুষ হরিণের নাভি মুখের গ্রন্থিতে এক বিশেষ ধরনের কোষের জন্ম হয়। এই কোষ যখন পূর্ণতা লাভ করে তখন এ থেকেই সুঘ্রাণ বের হতে থাকে। হরিণের ১০ বছর বয়সে সুগন্ধি কোষ পূর্ণতা লাভ করে। তবে মজার ব্যাপার হলো, যে হরিণটির নাভিতে এই কোষের জন্ম, সে নিজে কিছুই বুঝতে পারে না। তার নাকে যখন এই সুগন্ধ এসে লাগে তখন সে পাগলের মতো ছুটতে থাকে এই সুঘ্রাণের উতসের সন্ধানে। অথচ সে বুঝতে পারে না যে, সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে তার নিজের দেহ থেকেই।
কস্তুরী যখন সংগ্রহ করা হয় তখন এর গন্ধ এতটা উগ্র থাকে যে হরিণের নাভিকোষ কেটে নেওয়ার সময় শিকারীরা মোটা কাপড় দিয়ে নিজেদের নাক বেঁধে নেয়। অনেক সময় এ গন্ধ সহ্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কারো কারো চোখ, নাক থেকে জল ও মুখ থেকে লালা ঝরা শুরু হয়। এমনকি জীবনহানিও ঘটে।
Don't confuse musk with musk root (Ferula sumbul). It has a musky odor and a bitter aromatic taste. (https://en.wikipedia.org/wiki/Muskroot)
বর্ণনাঃ নিজের
কস্তুরী ও মাস্ক-ডিয়ার: উইকিপিডিয়া

অহং কি নেতিবাচক?

Banish Ego

অহং বা Ego হলো Anti-আমি। এন্টি-আমি কি? যা আমির বিকাশ, প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করে, তা-ই Anti-আমি। আমি’র বিপরীত।

এন্টি আমি, আমি’র মতোই; কিন্তু আমি না-নকল আমি, ছায়া আমি, ক্ষুদ্র আমি, সংকীর্ণ আমি।

হাজার হাজার বছরের মগজ ধোলাইয়ে গড়ে উঠেছে এন্টি-আমি। তাই এখন এন্টি-আমিকেই ‘আমি’ মনে হয়। মানুষের সব সমস্যার মূলে রয়েছে তারই এন্টি-আমি, অহং। মানবজাতির অসুস্থতা, বিশৃঙ্খলা, যুদ্ধ, ক্ষুধা এবং মৃত্যুর জন্য দায়ী হলো প্রায় প্রত্যেকের মধ্যে সক্রিয় এন্টি-আমি। এন্টি-আমির লক্ষ্য-অর্থ-সম্পদ, নাম, কাম, দেহবল-লোকবল, প্রভাব-প্রতিপত্তি।

আমি’র লক্ষ্য- প্রেম, জ্ঞান, শ্রদ্ধা, ভক্তি, শান্তি, আনন্দ, একত্ব। আমি সহযোগিতা করতে চায়। Anti-আমি চায় প্রতিযোগিতা।

শুরুটা কোত্থেকে?

শিশু যখন ব্যক্ত করতে শুরু করে ‘এটি আমার খেলনা’, ‘এটি আমার কলম’, ‘এটি আমার বই’ তখন থেকেই এন্টি-আমি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আমার দেহ, আমার মন, আমার চিন্তা, আমার স্মৃতি, আমার আবেগ, আমার বাড়ি এভাবে ‘আমার আমার’ করতে করতে এন্টি-আমি বলবান হতে থাকে। এন্টি-আমি বা অহং থেকে উতপন্ন হয় তুমি-আমি পার্থক্যবোধ। পার্থক্যবোধ থেকে হিংসা। হিংসা থেকে সংঘর্ষ। অহংয়ের সীমানা ভেঙে গেলে প্রত্যেকেই অসীম।

অহং ছাড়া প্রত্যেকেই এক মহাবিশ্বের সঙ্গে এক, পরমপ্রকৃতির সঙ্গে এক।

Ego is not just having a big head. Ego is present every time you feel any kind of fear, or hear yourself saying “That’s mine”.

The truth tells us that nothing is ‘mine’ or ‘yours’, we are all trustees, and fear is only present where there is the voice of attachment.

Detach from everything, and you will banish ego, fear will be no more, and only then can true love return.

প্রথম মানবের প্রথম হাঁচি বিজ্ঞানময় ইসলাম

আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন আদমের মধ্যে রুহ সঞ্চার করেন, অতঃপর রুহ যখন তাঁর মাথায় পৌঁছে তিনি হাঁচি দেন, তারপর বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন।’ আল্লাহ তাঁকে বলেন, ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৬১৬৫)

কেউ হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য) বলে মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করলে অবশ্যই তার হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন) বলতে হয়। এটি মুমিনের জন্য ওয়াজিব হয়ে যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা হাঁচি দেওয়া পছন্দ করেন, আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। যদি তোমাদের কেউ হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে তবে প্রত্যেক মুসলিম শ্রোতার তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস : ৬২২৬)

প্রশ্ন জাগতেই পারে, হাঁচির মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদের শরীর থেকে জীবাণু বের করে দেন তাই হাঁচিদাতা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। কিন্তু অন্যদের তার হাঁচির জবাব দিতে হয় কেন? এই প্রশ্নের জবাব খোদ রাসুল (সা.) দিয়েছেনঃ

আমাদের শরীরের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি অংশ হাঁচি দেওয়া। যখন ব্যাকটেরিয়া বা অন্য ক্ষতিকর জীবাণু (অ্যান্টিজেন) শরীরে প্রবেশ করে বা প্রবেশ করার পরে বেরোবার চেষ্টা করে তখন ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে এদের শরীর থেকে বের করে দেয় হাঁচি। এভাবেই হাঁচি আমাদের গুরুতর কোনো সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। তবে হাঁচি দেওয়ার সময় অবশ্যই হাঁচির শিষ্টাচার মেনে হাঁচি দিতে হবে। যাতে হাঁচির সঙ্গে বের হওয়া জীবাণুগুলো অন্যদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে। পাশাপাশি হাঁচির মাধ্যমে মহান আল্লাহ যেহেতু আমাদের শরীর থেকে বিভিন্ন জীবাণু বের করে দেন, তাই আমাদের উচিত হাঁচি এলে অবশ্যই মহান আল্লাহর শুকরিয়া করা, তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করা।

আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, একবার রাসুল (সা.)-এর সামনে দুই ব্যক্তি হাঁচি দিলেন। তিনি (সা.) একজনের হাঁচির জবাব দিলেন এবং অন্যজনের জবাব দিলেন না। অন্য লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তার হাঁচির জবাব দিলেন, কিন্তু আমার হাঁচির জবাব দিলেন না। তিনি (সা.) বলেন, সে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেছে, কিন্তু তুমি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলোনি। (বুখারি, হাদিস : ৬২২৫)

অর্থাৎ হাঁচিদাতা হাঁচি দেওয়ার পর আল্লাহর প্রশংসা করলেই তার হাঁচির জবাব দেওয়া ওয়াজিব হয়। ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলে তার জন্য দোয়া করা ওয়াজিব। কিন্তু কেউ যদি তা না করে, তাহলে তার হাঁচির জবাব দেওয়া আবশ্যক নয়। অসুস্থতাজনিত কারণে কেউ বারবার হাঁচি দিলেও তার জবাব দেওয়া আবশ্যক নয়। (মুসলিম, হাদিস : ৭৩৭৯)

কেউ যখন হাঁচিদাতার জন্য দোয়া করবে, তখন হাঁচিদাতাও তার জন্য ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’ (আল্লাহ তোমাকে সৎপথে চালিত করুন এবং তোমাকে স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করুন) বলবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭৪১)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রাসুল (সা.)-এর সুন্নাতগুলো পালন করার তাওফিক দান করুন।
A single sneeze can produce up to 40,000 droplets
Your eyes will close automatically when you sneeze
Trying to hold in a sneeze can hurt
You can't sneeze when you're asleep
There is a reason you sneeze multiple times in a row
The color of your mucus while sneezing means something
Sneezing is a workout
The spray from your sneeze can travel five feet or more
Your heart does not stop when you sneeze
Sneezing is our body rebooting

-সায়েন্স অ্যান্ড ইসলাম
-কালের কন্ঠ
https://www.thehealthy.com/

সততা, মাত্র ১০ লাইনে

০১. সততাই সর্বোতকৃষ্ট পথ। নিজের প্রতি বিশ্বাসভাজন থাকুন। অবস্থা যাই হোক না কেন -জীবনে সততা থেকে সরে যাবেন না।
০২ সততা মানসিক শান্তি আনে। মানসিক শান্তি মানেই পরিতৃপ্তি। মানসিক শান্তি মানেই শরীর, মন আর আত্মার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা।
০৩. একজন সত মানুষ সূখী ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করেন কেননা তার কোন দোষ নেই।
০৪. একজন মানুষ সত থাকলে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে সহজেই। কারণ, তার দায়িত্বশীলতা অন্যকে আশ্বস্ত করে।
০৫. জীবনে সফলতার জন্য সততা একটি অস্ত্র। শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সততা কোন ব্যক্তির মেরুদন্ড হিসেবে কাজ করে। আর সততা ছাড়া কোন সম্পর্ক তৈরী হতে পারে না।
০৬. সততা মানুষের চরিত্রকে সুদৃঢ় করে। মানুষকে আস্থাভাজন করে তোলে।
০৭. সততা এক ধরনের সম্পদ। এই সততা ব্যক্তির জীবনে আস্থা ও সম্মান এনে দেয়।
০৮. সততা মানেই কারো সুনির্মল চরিত্র। ব্যক্তির আচরনেই এই সুনির্মল চরিত্র প্রতিভাত হয়।
০৯. অসাধু হওয়া খুবই সহজ একটি কাজ। মিথ্যা বলা কোন মানুষকে হয়তো তাতক্ষণিক শান্তি এনে দিতে পারে। কিন্তু পরবর্তিতে এই মিথ্যা ব্যক্তি জীবনে এমন এক সমস্যা তৈরী করে যার ভার বহন করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।
১০. জীবনের কিছু ভাল বা খারাপ অভিজ্ঞতা মানুষকে সততার শিক্ষা দেয়। তাই সবারই উচিত জীবনে সত থাকা ও মানুষের আস্থাভাজন থাকা।

ইতিবাচক মানসিকতায় (Positive state of mind)থাকুন ও পাঁচ পাঁচটি উপকার পেতে থাকুন

Mens sana in corpore sano -Latin form
"A healthy mind in a healthy body"-English form

১. হৃদযন্ত্রের দেখভাল করে আশাবাদ: আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে থাকাই আশাবাদ নয়। জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে বড় বড় সমস্যা মোকাবিলায় উদ্বুদ্ধ করে আশাবাদ। ২০১২ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, আশাবাদী মানুষের মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার জটিলতা কম দেখা যায়। এটি মানুষকে জয়ী হওয়া, শক্তিশালী বোধ করা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের মানসিকতা দেয়। এটি নিঃসন্দেহে মানুষের হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং আয়ু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

২. বিপাকক্রিয়ার জটিলতা হ্রাস করে শ্রদ্ধাবোধ: প্রকৃতির মধ্যে ঘুরে বেড়ানো, ধ্রুপদী সংগীত উপভোগ করা এবং ধর্মীয় ও আধ্যাত্মবাদে মন দেওয়ার মাধ্যমে জীবন আনন্দময় হয়ে ওঠে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণায় উঠে এসেছে, শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয় বা বিস্ময় শুধু উপভোগ্যই নয়, বরং তা দেহ-মনের স্বাস্থ্যের পরিচর্যা করে। এই অনুভূতি যাদের মধ্যে কাজ করে, তাদের দেহে প্রদাহজনিত সমস্যা ছাড়াও বিপাকক্রিয়ার নানা অসুবিধা দূরীভূত হয়েছে। পাশাপাশি হৃদরোগ, আলঝেইমার ও বিষণ্নতা থেকেও বের করে আনতে ভূমিকা রাখে এই অনুভূতি।

৩. স্নায়বিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু করে সহানুভূতি: এর মাধ্যমে আমরা অন্যের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতা অনুভব করি। ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বারবারা ফ্রেডরিকসন তাঁর গবেষণায় জানান, মস্তিষ্ক থেকে একটা স্নায়বিক ব্যবস্থা হৃদযন্ত্রসহ কয়েকটি প্রত্যঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। এই ব্যবস্থার গোটা প্রক্রিয়াটিকে সুস্থতা দেয় সহানুভূতির মতো আবেগীয় অনুভূতি।

৪. হৃদযন্ত্র ও বিপাকক্রিয়াকে উন্নত করে কৃতজ্ঞতাবোধ: আশাবাদের মতো কৃতজ্ঞতা প্রকাশও জীবনে তৃপ্তি আনে। এর মাধ্যমে বিপাকক্রিয়া সুষ্ঠু হয়। এই অনুভূতি গভীর ঘুম আনতে সহায়তা করে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি মানুষের ক্রনিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

৫. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে আগ্রহী করে আত্মসচেতনতা: ২০১৩ সালে 'পারসোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি বুলেটিন'-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়, অসুস্থ হয়ে পড়লে এই অনুভূতি মানুষের মন থেকে ভয় দূর করে। এর ফলে মানুষ অস্বাস্থ্যকর কার্যকলাপ সম্পর্কে আরো বেশি সচেতন হয়ে ওঠে। তাঁরা দ্রুত রোগের লক্ষণ বুঝতে পারেন এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেন। কগনিটিভ সায়েন্টিস্ট ড. আর্ট মার্কম্যান বলেন, নেতিবাচক বিষয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারে আত্মসচেতনতার অনুভূতি। এর মাধ্যমে দৈহিক ও মানসিক বাধাকে অতিক্রম করার মানসিকতা জন্ম নেয়।

-হাফিংটন পোস্ট