Monday, October 5, 2020

অভিযোগমুক্ত থাকুন, জীবনটাকে করুন অন্যরকম উপভোগ্য

 

Be an Action Taker

“তুমি যে নিঃশ্বাস এখনই নিলে তার জন্য অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকো। ভেবে দেখো আরেক জনের বেলায় সেই নিঃশ্বাসই শেষ নিঃশ্বাস হয়েছে আর সে এখন মৃত। তাই তুমি অভিযোগবিহীনভাবে বেঁচে থাকো। তোমার এর চেয়ে পরম পাওয়া আর কী হতে পারে?”- অজ্ঞাত


কেনো অভিযোগ করবো?

ভাগ্য কখনো আমার সহায় নয়, আমার কোনো বন্ধু নেই, কেউ আমাকে ভালোবাসে না, অফিসে কর্তাব্যক্তি সব সময় আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, আমার স্ত্রী আর ছেলে মেয়েরা শুধু আমাকেই সারাক্ষণ দোষারোপ করে—আমাদের এ ধরনের অভিযোগের যেন কোনো শেষ নেই। কারণ, সমাধান খুঁজে বের করার চেয়ে অভিযোগ করাটা অনেক বেশি সহজ। আসলে, আমরা এভাবে নিজেদের ধারণার ওপর ভিত্তি করে একধরনের ‘বাস্তবতা’ তৈরি করছি। এসব প্রবণতা খুবই নেতিবাচক। অভিযোগ করার প্রবণতা থেকে ২৪ ঘণ্টা নিজেকে দূরে রাখার কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এতে আপনি পেতে পারেন অনেক প্রশান্তি।

অভিযোগ নিয়ে যত কথা জীবনে চলতে-ফিরতে নানা বিষয় নিয়ে আমরা অভিযোগ করে থাকি। কখনো কখনো মনে হয়, এসব অভিযোগ খুবই যৌক্তিক। কিন্তু কেন? অসন্তোষ থেকেই আসে অভিযোগ। কোনো কাজের লক্ষ্যমাত্রা, সময়সীমা, প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া ইত্যাদি বিষয় রয়েছে অভিযোগ করার মতো। আগামী দিনেও অসংখ্য অসন্তোষ ও অভিযোগ থাকবে, তা ধরে নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। কেন আমরা অভিযোগ করি?

প্রথমত, অনেকেই বুঝতে পারে না যে তারা কত বেশি অভিযোগ করে। কারণ, ব্যাপারটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। অনেক বাজে অভ্যাসের মতো এটি নিজে টের পাওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত, অধিকাংশ মানুষের ধারণা, অভিযোগ দিয়ে শুরু করলে কথাবার্তা জমে ভালো। আর নিজের বিশ্বাসের পক্ষে অন্যের সমর্থন পাওয়ার জন্যও কেউ কেউ অভিযোগ করেন।

অভিযোগ করলে কী হয়?

এটা মানুষকে কাজ বা সক্রিয়তা থেকে বিরত রাখে। অজুহাত দেখিয়ে ঢিমেতালে কাজ করার প্রবণতার সঙ্গে আমরা বেশ পরিচিত। এভাবে অনেক দায়িত্ব এড়ানো যায়। মনে হয় যেন অভিযোগ না থাকলে আলাপের প্রসঙ্গই ফুরিয়ে যাবে। কারণ, আমাদের সব কথাবার্তায়ই কিছু দ্বন্দ্ব, কিছু অসন্তোষ এবং কিছু বিরক্তির প্রকাশ ঘটে।

অভিযোগবিহীন থাকা সম্ভব?

অভিযোগ একেবারে বর্জন করে থাকাটা তাই বেশ কঠিন। কিন্তু অসম্ভব তো নয় নিশ্চয়ই। চেষ্টা করেই দেখুন। বদলে ফেলুন দৃষ্টিভঙ্গি। ব্যাপারটা বেশ উত্তেজনা এনে দেবে আপনার জীবনে। অভিযোগ করার প্রবণতা বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো নিজের মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ তৈরি করা। এর মানে শুধু ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা নয়, বরং নিজের জীবনের প্রাচুর্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া।

কীভাবে বর্জন করবেন অভিযোগ

কী কী নেই খোঁজার চেষ্টা না করে খুঁজে দেখুন কত কিছু আছে আপনার জীবনে-পরিবার, বন্ধুবান্ধব, চাকরি, একদল সহকর্মী, কাপড়চোপড়, জুতা-স্যান্ডেল, বইপত্র ইত্যাদি। তাই কেন বা কোন যুক্তিতে আপনার এত অভিযোগ বহাল থাকবে? আপনি তো আর আলাস্কায় থাকেন না, যেখানে সূর্যের আলোর ক্ষতিকর রশ্মি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে হয়। এই তো শেষ নয়। আপনি নিয়মিত খেতে পাচ্ছেন, ঘুমাতে পারছেন, মাথার ওপর ছাদ পাচ্ছেন—তাহলে কী নিয়ে অভিযোগ করবেন? আপনার চেয়ে অনেক প্রতিকূল অবস্থায়, অনেক বেশি সমস্যা নিয়ে কত মানুষ বেঁচে আছে, তাদের দিকে একবার খেয়াল করে দেখুন। মনে হবে, আপনার অভিযোগগুলে কত নাজুক ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অফিসের চা-টা ভালো নয় বলে অভিযোগ করছেন? অন্যভাবে ভেবে দেখুন, একজন চাওয়ালা তো অন্তত আছে আপনার কর্মস্থলে।

অন্য রকম একটা দিন

গুরুত্বপূর্ণব্যাপার হলো, নিজের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে আপনাকে সচেতন হতে হবে। দিন কেটে যাচ্ছে আর প্রতিদিনই আপনি কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে ঘ্যানঘ্যান করছেন। নিজেই ভাবছেন, এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু পারছেন না। অভিযোগ বর্জন করার মধ্যে যে আনন্দ পাওয়া যায়, তা সংক্রামক। এটা আপনার সুখের শক্তি, প্রতিরোধহীনতা এবং উৎসাহের প্রতিফলন ঘটায়। তাই একটানা ২৪ ঘণ্টা অভিযোগমুক্ত থেকে দেখুন, ভালো লাগবে। প্রশান্তি অর্জনের জন্য নিজেকেই নিজে ধন্যবাদ দেবেন।

কোটেশনগুলো মনযোগে পড়ুন। কার কোটেশন এগুলো তার নাম জানা যায় নি। তবে লেখাগুলো খুবই সুন্দর।

১. অভিযোগ কোন কর্মকৌশল হতেই পারে না।

২. অভিযোগ হলো প্রগতির অন্তরায়।

৩. ২৪ ঘণ্টা অভিযোগমুক্ত থেকে দেখুন, ভালো লাগবে। প্রশান্তি অর্জনের জন্য নিজেকেই নিজে ধন্যবাদ দেবেন।

৪. কৃতজ্ঞ থাকো সেইটাই অনেক কল্যাণকর আর কোন অভিযোগ করোনা।।

৫. সূখী সে ই মানুষ যে তার প্রতিটি ক্ষণ গুণে গুণে চলে আর কোন অভিযোগ করেনা আর বলে “আমি যা পেয়েছি সেইটুকুতেই খুশী আমার মন।”

৬. আমাদের এই দুনিয়াটা আরো অনেক সুন্দর হতো যদি মানুষেরা তাদের কাজগুলোকে ভালবেসে ব্যস্ত থাকতো আর যা তারা ভালবাসেনা তা নিয়ে অভিযোগ করা বন্ধ করে দিতো।

৭. কঠোর প্রশিক্ষণ নাও আর অভিযোগ বা অযুহাত বা ছল ছুঁতো দেখানো বন্ধ করে দাও চিরতরে। দেখবে জীবনটা আসলেই সুন্দর।

৮. তুমি যে নিঃশ্বাস এখনই নিলে তার জন্য অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকো। ভেবে দেখো আরেক জনের বেলায় সেই নিঃশ্বাসই শেষ নিঃশ্বাস হয়েছে আর সে এখন মৃত। তাই তুমি অভিযোগবিহীনভাবে বেঁচে থাকো। এর চেয়ে পরম পাওয়া আর কী হতে পারে?

৯. যদি তুমি অভিযোগ করতে মাত্র ৫ মিনিট সময় ব্যয় করো তাহলে মনে রাখো ওই ৫ মিনিটিই তুমি বৃথা ব্যয় করলে।

১০. সময়গুলো কাজের ভেতর দিয়েই কাটাও আর অভিযোগ করে সময়গুলো হেলায় হেলায় নষ্ট করোনা। সময় খুবই রূঢ়।

সূত্রঃ আজকের বিচিন্তা ও ডিএনএ

মানসিক চাপ কমানোর খাদ্য

 সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলায়। কিন্তু কিছু সমস্যার যেন কোনো সমাধান নেই! কখনোই পিছু ছাড়ে না! ভুলে থাকার চেষ্টা করেও আমরা ভুলতে পারি না। সমস্যার সমাধান না করা গেলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মানসিক চাপ থেকে মুক্তির পথই বা কী? বিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরের ওপর ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে মনকেও অনেকটাই বশ মানানো যায়। আর এ ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ কিছু খাবারের বিশেষ পুষ্টি উপাদানগুলো আমাদের স্নায়ুকে শীতল রাখতে সহায়তা করে, সাময়িকভাবে হলেও তা কিছুটা মানসিক চাপ কমায়। হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এমন পাঁচটি খাবারের কথা জানিয়েছে।

কাজুবাদাম
কাজুবাদাম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান দস্তার একটা ভালো উৎস। দুশ্চিন্তা আর বিষাদগ্রস্ততা দূর করতে খুবই কার্যকর এই দস্তা। শরীরে দস্তার চাহিদা পূরণ করতে পারলে, নিয়মিত এই দস্তার জোগান দিতে পারলে স্নায়ুতন্ত্রকে ঠান্ডা রাখার কাজটা অনেক সহজ হয়। আজকাল বাজারের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার দোকানেও প্যাকেটজাত কাজুবাদাম পাওয়া যায়। নিয়মিত কাজুবাদাম খাওয়ার অভ্যাস করুন, মানসিক চাপ মোকাবিলায় নিজেকে প্রস্তুত করুন।

ওট
ওট বা জইয়ের দানা খুবই স্বাস্থ্যকর খাবার। প্রচুর আঁশযুক্ত এই খাবার শরীরের নানা চাহিদা মেটায়। বিশেষত মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ নামের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তৈরিতে খুবই সহায়ক ওট। সেরোটোনিন এমন এক রাসায়নিক যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ভালো লাগার’ রাসায়নিক হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। সকালের নাশতায় কিংবা রাতেও নিয়ম করে ওট খেতে পারেন। দুধে ভিজিয়ে হোক বা কেবল পানিতে ভিজিয়ে হলেও ওট খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে অনেক উপকার পাবেন। বড় বিপণিবিতানসহ নানা চেইন শপে টিনজাত ওট পাওয়া যায়।

আখরোট
আখরোটের নানা পুষ্টি উপাদানের মধ্যে আছে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডসহ অন্যান্য পলিফেনোল। এসব উপাদান মস্তিষ্কের চিন্তা ক্ষমতাকে বাড়ায়, প্রখর করে। ফলে নিয়মিত কিছুটা আখরোট খেতে পারলে আপনার চিন্তা ক্ষমতা বাড়বে আর তা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। বড় বাজারগুলোতে শুকনো খাবারের দোকানে খোলা আখরোটের পাশাপাশি প্যাকেটজাত আখরোটও পাওয়া যায়। কিনে এনে বাড়িতে রেখে দিন, মাঝেমধ্যে খেতে থাকুন। এভাবে শুকনো খাবারের অভ্যাস করাটা খাদ্যাভ্যাসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

রসুন
রসুনের অনেক গুণ। রসুনের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুবই সহায়ক। মানসিক চাপে ভুগলে আমরা নানা অনিয়ম করি আর এতে শরীর ভেঙে পড়ে। এই দুর্বলতার সুযোগে শরীরে বাসা বাঁধে নানা অসুখ-বিসুখ। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে রসুন খান। এটা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। নিয়মিত রসুন খেলে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি মানসিক চাপে থাকা মানুষদের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক। তাই খাবারদাবারে নিয়মিত কিছুটা রসুন খান, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকুন।

 

কমলা লেবু

ভিটামিন-সিসমৃদ্ধ কমলা লেবুর অনেক উপকারের কথা তো আমরা জানিই। মন বিষণ্ন থাকলে, শরীর অবসাদগ্রস্ত হলে খানিকটা কমলা লেবুর রস মুহূর্তেই চাঙা করে দিতে পারে। হাতের কাছের এই ফল কেবল সাময়িক প্রশান্তিই দেয় না, নিয়মিত অল্পস্বল্প কমলা লেবু খান শরীর মন দুই চাঙা থাকবে। শরীরে কোলেস্টরলের মাত্রা কমানো, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো এবং কিডনি ভালো রাখতেও কমলা লেবু খেতে পারেন। শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও সহজ।

-Source: P.A

Jagonews


বাপের মায়ের মুখে মুখে প্রি-টিনএজারদের তর্ক

 সন্তানের স্বাস্থ্য ও লেখাপড়া

তেরো বছরের চারু এখন মায়ের মুখে মুখে বেশ তর্ক করে। তাকে পড়তে বসলে বলে, ‘‘এখন পড়ব না। ভাল লাগছে না।’’ কোনও কাজ করতে বারণ করলে আরও চেঁচামেচি করে, ‘‘কেন করব না?’’ একে তো কথা শুনছে না মেয়ে, তারপর মায়ের সঙ্গে মুখে-মুখে তর্ক করছে। চারুকে সামলাতে নাজেহাল তার মা-বাবা। এক দিকে তাঁরা বিরক্ত হচ্ছেন আবার বুঝতে পারছেন, মেয়ের আলাদা মত তৈরি হচ্ছে। কিন্তু কী করলে বা বললে যে মেয়ে সংযত হবে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।

এই সমস্যাটি নতুন নয়। ন’-দশ বছর বয়স অর্থাৎ প্রি-টিনএজ থেকে এ ধরনের সমস্যা শুরু হয়। ছেলেমেয়েদের একটা মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে শুরু করে এ সময়ে। তাই মা-বাবাকে অনেক ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে হবে। রেগে গিয়ে চেঁচামেচি করলে আর যাই হোক, সমাধান হবে না। একে একে বুঝতে হবে সমস্যার জায়গা। তবেই সমাধান হবে সহজ।

প্যারেন্টিং কনসালট্যান্টরা বলেন, ‘‘এই সময়ে শিশুদের ব্রেন রিমডেলিং(Remodeling- change the structure or form ) হয়। ব্রেনের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স(Prefrontal Cortex (PFC) is the cerebral cortex covering the front part of the frontal lobe) আমাদের বোধবুদ্ধি, চিন্তাভাবনা নিয়ন্ত্রণ করে অর্থাৎ লজিকাল থিঙ্কিংয়ে সাহায্য করে। এই অংশের ডেভেলপমেন্ট একটু দেরিতে হয়। আর আছে অ্যামিগডালা (Amygdala is a collection of cells near the base of the brain. মানবমস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ন এক অংশ হল অ্যামিগডালা। বাদামের মতো আকৃতির এই জিনিসটিই আমাদের ভয় এবং প্যানিকের জন্য দায়ী। যাঁদের অ্যামিগডালা ক্ষতিগ্রস্ত তাঁরা হন অকুতোভয় স্বভাবের। যত রকমের অনুভূতি রয়েছে আমাদের, তার সব কিছুরই ‘স্টোরেজ’ (জমা থাকে) হয় অ্যামিগডালায়)। এই অংশ আগে ডেভেলপ করে যায়, ফলে এর প্রভাবেই শিশুরা একটা কথার হুট করে জবাব দিয়ে দেয়। অনেক বেশি আবেগে চলে। লজিকাল থিঙ্কিং(Logical thinkers observe and analyze phenomena, reactions, and feedback and then draw conclusions based on that input) সেখানে কম। তখন তাদের ব্যবহারে কোনও বাঁধন থাকে না। ফলে সীমাহীন হয়ে যায় বহিঃপ্রকাশ। চট করে রেগে যায়, চিৎকার করে ওঠে, কিছু ক্ষেত্রে জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলেও দিতে পারে। ক্রমশ তেরো, চোদ্দো বছর হলে তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।’’ কিন্তু এই বয়সে যদি তাকে ঠিক মতো সামলানো না যায়, তা হলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মা-বাবার থেকে দূরত্ব অবধি তৈরি হতে পারে।

সামলাবেন কী ভাবে?

১. মনে রাখতে হবে, এই বয়সের সন্তানের বুদ্ধি পরিণত নয়। কিন্তু মা-বাবা পরিণত। সুতরাং ছেলেমেয়ে চেঁচামেচি করলেও ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলানোর জন্য তাঁদের প্রস্তুত থাকতে হবে। সন্তান যতই চেঁচামেচি করুক, মা-বাবাকে শান্ত থাকতে হবে। সন্তান চেঁচিয়ে কথা বললেও আপনি শান্ত গলায় উত্তর দিন। ওরা কিন্তু দেখে শেখে। আগে ওকে চিৎকার করা বন্ধ করতে বলুন। তার পর ধীরে, ঠান্ডা গলায় তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে, সে কী চায়। সে যদি পড়তে না চায়, তাকে কিছুটা সময় ছাড় দিন। দেখুন সে নিজে থেকে পড়া শুরু করে কি না। যদি না করে তখন তাকে ডেকে জানতে চান, সে কেন পড়তে চায় না।

ছেলে বা মেয়ে কোনও বিষয়ে উত্তর দিলে বা উল্টে প্রশ্ন করলে, গোড়াতেই তাকে থামিয়ে দেবেন না। অনেক মা-বাবাই মনে করেন, তাঁদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সন্তান কোনও মতামত দিলে তাকে চুপ করিয়ে দেন। এই মনোভাব বদলানো জরুরি। সন্তান কেন প্রশ্ন করছে, তর্ক কেন করছে সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। হতে পারে সে যুক্তিযুক্ত কথা বলছে না। কিন্তু সেটা শুনুন। তাকেই জিজ্ঞেস করুন সে কেন এমনটা বলছে? ওকে যুক্তি দিয়ে ওর কথা বা মত বোঝাতে বলুন। তার পর আপনার যুক্তি দিয়ে যদি তার যুক্তি খণ্ডন করতে পারেন, তা হলেই সমস্যা মিটে যাবে। এতে তার যুক্তিবোধও তৈরি হবে। সে বুঝবে নিজের কোনও মতামত মা-বাবাকে বোঝাতে গেলে তা যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। 

২. অনেক মা-বাবা সন্তানের গায়ে হাত তোলেন। কেউ তিন বছর বয়স থেকে, কেউ পাঁচ বছর বয়স থেকে। কিন্তু ন’-দশ বছর বয়সেও সেই অভ্যেস জারি থাকলে, তা সন্তানের আত্মসম্মানে আঘাত করতে পারে। সে কিন্তু তখন আরওই কথা শুনবে না। বরং তার মনে হবে যে, বড়জোর সে মার খাবে। সে আরও জেদি হয়ে যাবে তার জায়গায়। মা-বাবার কোনও বোঝানোই তখন কাজ করবে না। তাই গায়ে হাত তোলাটা সমাধান নয়।

৩. মনে রাখবেন, এ বয়সে ও যে তর্ক বা ব্যবহার করছে, তা আবেগের বশবর্তী হয়ে করছে। তাই সেটাকেই অস্ত্র করতে হবে। সন্তান খুব খারাপ ভাবে কথা বললে উত্তর দেবেন না। বরং চুপ করে সেখান থেকে চলে যান। তার সঙ্গে কথা বন্ধ রাখুন। ওকে বোঝান যে, ওর ব্যবহারে আপনি দুঃখ পেয়েছেন। এই বয়সের শিশুদের অবলম্বন কিন্তু মা-বাবাই। তাই ওরা মা-বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে ফেললেও সেখানেই আশ্রয় খোঁজে। দেখবেন, সে নিজেই হয়তো আপনার পাশে এসে বসবে, কথা বলতে চাইবে। তখন ওকে বলুন, আপনি কতটা কষ্ট পেয়েছেন ওর ব্যবহারে। দেখবেন, ও বুঝবে। ওর মনে থাকবে যে, মা কথা বন্ধ করে দিতে পারে। ওষুধের মতো কাজ করবে এই নীরবতা।

৪. অনেক সময়ে হাজার বুঝিয়েও কাজ হয় না। তখন জোর করলে চলবে না। বরং ওর কথা মেনে নিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে। পায়েল ঘোষের কথায়, ‘‘হয়তো কোনও পরীক্ষার আগে সন্তান পড়তেই চাইল না, ছেড়ে দিন। সেই পরীক্ষায় খারাপ রেজ়াল্ট করলে সে নিজেই বুঝে যাবে। তখন আপনি বলুন সে কোন জায়গায় ভুলটা করেছে। ওর ভুল থেকেই ওকে শিখতে দিন।’’

টিনএজ বা বয়ঃসন্ধির মতোই প্রি-টিনএজও খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে মন ও শরীর প্রস্তুত হয় পরিবর্তনের জন্য। এখন বহির্জগতের প্রভাবও অনেকটাই ওদের জীবনে। সুতরাং নিজস্ব মতামত যে ছোট থেকে তৈরি হবে, তা আশ্চর্যের নয়। কিন্তু সেই মত যেন ঠিক হয়, তা দেখা মা-বাবার দায়িত্ব। 

-সূত্রঃ আনন্দবাজার

দৈনিক একই সময়ে খাও। শরীরটাকে ঠিক রাখো

 

মনে করুন সেই দিনগুলোর কথা, যখন আপনি দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন। নাস্তা কথাও ভুলে যান। দিন শুরুই করেন দুপুরের খাবার দিয়ে। একটু ঠাণ্ডা মাথায় ভাবলেই বুঝবেন এই দিনগুলো আপনার একরকম থাকে না। আসলে আপনার শরীর সঠিক পুষ্টি না পাওয়ায় ওই দিনগুলোতে আপনার কার্ডিয়াক রিদম নষ্ট হয়। বিপাকের ছন্দ কাটে। চিকিৎসকরা বলছেন ওবেসিটি তথা ওজনবৃদ্ধির মূল কারণ এটাই। সঙ্গে এই অভ্যাস তরান্বিত করে হৃদরোগ।

দেখা যাচ্ছে, প্রাচীন চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি ও আয়ুর্বেদে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে রুটিনে। স্পষ্টই বলা হয়েছে, রুটিনে বাঁধা জীবনই সুস্থ জীবন।একটি ছন্দ বজায় রাখার কথা বারববার বলা হয়েছে সেখানে। সুস্থ থাকার মূল দাওয়াই হল, খাওয়া, ঘুম, স্বাস্থ্যচর্চা জীবনের সব কিছুতেই একটা রুটিন রাখা।

এখানেই জানতে হবে ক্রোনো নিউট্রিশনের গুরুত্ব (Chrono-nutrition involves synchronizing your eating patterns with your biological clock. It has its roots in Ayurveda and ancient Chinese medicine.)। ফরাসি নিউট্রিশনিস্ট জ্য রবার্ট রাপিন এই ডায়েটের বিষয়ে প্রথম সরব হন। এই ডায়েটটি তৈরিই হয়েছে চীনা এবং আয়ুর্বেদিক মতামত সংক্রান্ত বোঝাপড়াকে কেন্দ্র করে।

বলা হচ্ছে, আপনি যদি দিনের প্রতিটি খাবার ঘড়ি ধরে খেতে পারেন, অনিয়ম ছাড়াই চালিয়ে যেতে পারেন তবে আপনার বিপাক ঠিক থাকবে। সমস্ত হরমোন সঠিকভাবে ক্ষরিত হবে। মন-শরীর দুটোই তরতাজা থাকবে। ওবেসিটি, ক্যান্সারের মতো রোগগুলোও দূরে থাকবে।

ক্রোনো ডায়েটে খাবারের সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গুণগত মানেও নজর দিতে হয়। এক সময়ে এক পরিমাণ ও এক মানের খাবার খাওয়াই ক্রোনো ডায়েটের লক্ষ্য। এক্ষেত্রে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত বাড়ে। রক্ষা পাওয়া যায় কার্ডিওভাসকুলার রোগ থেকেও।

bda.uk.com

যৌবনের ইবাদত

 

আল্লাহ তাআলার দরবারে যুবক বয়সের ইবাদত-বন্দেগির মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ যৌবনের টগবগে সময়ে একজন তরুণের মাঝে এক ধরনের কামনা, বাসনা, উত্তেজনা আবার চরম হতাশা কাজ করে। আর তাতে সে ইবাদত-বন্দেগি তথা আল্লাহর ভয় থেকে গাফেল হয়ে যায়।

যারা বয়ঃসন্ধিক্ষণে যৌবনের উম্মাদনা থেকে নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তারাই সফলকাম। এ কারণেই যৌবনে নিজেকে নির্মল, সৎ ও চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলতে কুরআন ও হাদিসে জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘তিনি (মুসা আলাইহিস সালাম) যখন পূর্ণ যৌবনে পৌছিলেন, তখন তাকে প্রজ্ঞা ও বুৎপত্তি দান করলাম।’ (সুরা কাসাস: আয়াত ১৪)

আসহাবে কাহাফের ৭ ব্যক্তিও ছিল যুবক। যারা এক আল্লাহর ইবাদতে বিশ্বাসী ছিলেন। যাদেরকে শত্রুর হাত থেকে আল্লাহ তা‘আলা রক্ষা করেছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যখন যুবকেরা পাহাড়ে আশ্রয় গ্রহণ করে তখন দোয়া করে- হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে (তোমার) নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করুন।’ (সুরা কাহাফ: আয়াত ১০)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘(হে রাসুল!) আপনার কাছে তাদের ইতিবৃত্তি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক। তারা তাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আমি তাদের সৎ পথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।’ (সুরা কাহাফ: আয়াত ১৩)

একান্তই যারা যৌবনে ইবাদত-বন্দেগি ত্যাগ করে বিপথে জড়িয়ে গেছে, তাদের জন্যও আল্লাহ তাআলার রহমতের দরজা খোলা। তাদেরকে নিরাশ না হতে কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

‘(হে রাসূল!) আপনি বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা যুমার: আয়াত ৫৩)

যুবক বয়সের অধিকাংশ নারী-পুরুষই দুনিয়া অর্জন তথা ধন-সম্পদ, বাড়ী-গাড়ী ও চাকচিক্যময় জীবন-যাপন নিয়েই ব্যস্ত থাকে। পরকালে কথা বেমালুম ভুলে থাকে। আল্লাহর বিধান ও পরকালের সীমাহীন জীবনের সুখ-শান্তির কথা মনে থাকে না।

মানুষের প্রকাশ্য দুশমন বিতাড়িত শয়তান দুনিয়াতে তরুণ-তরুণীকে পরস্পরের সামনে সুমিষ্ট ও সুশোভিত করে তুলে। আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি ও বিধানের ব্যাপারে এ ভাবে অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয় যে, আল্লাহর বিধান যৌবনে পালনের জন্য নয়; তা পালন করবে বৃদ্ধাবস্থায়।

শয়তান মানুষের সামনে দুনিয়ার চাকচিক্য প্রকাশের মাধ্যমে এ চিন্তা-চেতনা থেকে দূরে রাখতে যাবতীয় কৌশল অবলম্বন করে।

মানুষ যেন কোনোভাবেই পথভ্রষ্ট না হয়, সে কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। প্রিয়নিব হাদিসে যৌবন বয়সের ইবাদতের গুরুত্ব বারংবার তুলে ধরেছেন।

ইসলামে যৌবনকালের ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব সীমাহীন। এ সময়ের ইবাদত যে আল্লাহ তাআলার কাছে খুবই প্রিয়, তা ওঠে এসেছে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বর্ণনায়-

‘সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাঁর (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। এর মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ হলো সে সব যুবক-যুবতি; যারা তার রবের ইবাদতের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে।’ (বুখারি)

যুবকদের উদ্দেশ্যে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নসিহত হলো- ‘একজন বৃদ্ধের ইবাদতের চেয়ে আল্লাহ বেশি খুশি হন যেসব তরুণ-তরুণী যৌবন বয়সে আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত থাকে।’

প্রিয়নবি আরো বলেন, ‘কেয়ামতের দিন ৫টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া ব্যতীত মানুষকে এক কদম নড়তে দেয়া হবে না; তার মধ্যে একটি হলো- ‘সে তার যৌবনকাল কোন পথে ব্যয় করেছে।’

অন্য হাদিসে তিনি ৫টি অবস্থার পূর্বে ৫টি অবস্থাকে মর্যাদা দেয়ার কথা বলেছেন, তন্মধ্যে একটি হলো- ‘তোমরা বার্ধক্যের আগে যৌবনকে মর্যাদা দাও।’

হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহ আনহু বলেন, ‘যৌবনের ইবাদত বৃদ্ধ বয়সের ইবাদতের চেয়ে অনেক বেশি দামী। আবার বৃদ্ধ বয়সের পাপ যৌবনের পাপের চেয়ে অনেক বেশি জঘন্য।’

হজরত শেখ সাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, ‘দুনিয়া ও পরকালের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা এ যৌবন কালেই সংগ্রহ কর।’

আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে নবুয়ত ও রেসালাতের দায়িত্ব দিয়ে নবি ও রাসুলদেরকে টগবগে যুবক বয়সেই দুনিয়াতে প্রেরণ করছেন।

এ কারণেই হজরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা যুবক ছাড়া যেমন কোনো নবি পাঠাননি তেমনি যুবক ছাড়া কাউকে ইলমও দান করেননি।’

বর্তমান সময়ে যুবসমাজের সার্বিক অবক্ষয়ের বড় কারণ হলো সন্তানদের প্রতি পরিবারের দায়িত্বশীলদের যথাযথ তদারকির অভাব। সমাজের অনেক পিতা-মাতা, নিজ সন্তানের চলাফেরা ও গতিবিধির প্রতি লক্ষ্যই রাখেন না।

তাছাড়া ছোটবেলা থেকে নৈতিক শিক্ষা, নামাজ-রোজা ও কুরআন সুন্নাহর বিধিবিধানের প্রতি বেখায়াল থাকা; যা তার সন্তানকে যুবক বয়সেও আল্লাহর ইবাদত বন্দেগিতে গাফেল রাখে।

সবশেষে:
কুরআন এবং সুন্নাহ মনীষীদের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, যৌবনকাল মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। উজ্জ্বল ভবিষ্যত ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের উপযুক্ত সময়ও এটি। এ বয়সের ইবাদত-বন্দেগির মর্যাদাও বেশি।

তাই যুবক-যুবতী যৌবনের উচ্ছ্বলতায় বিবেক, বুদ্ধি হারিয়ে ভুল পথে যাতে পা না বাড়ায়; সেদিকে আগে থেকেই দায়িত্বশীল অভিভাবকদের যেমন সতর্ক থাকা জরুরি। তেমনি যুবক-যুবতীর উচিত কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহ সব যুবক-যুবতীকে কুরআন সুন্নাহর বিধান মেনে তার ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

-jagonews and Others