Thursday, November 5, 2020

সতকর্মশীলরা খুবই দামী জিনিস

 জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চিত চাবি কোনটি?

আমরা কি কখনো গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখছি, কার্যত ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একদম ভুল ব্যাখ্যা সাধারণ জনমনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। প্রচলিত ধারণা সৃষ্টি হয়েছে, পাঁচটি কাজ বা দায়িত্ব পালনের নাম ইসলাম। আসলে হাদিসে উপমাটি দিয়ে ইসলামকে একটি বাড়ির সাথে তুলনা করে ধারণা দেয়া হয়েছে : স্তম্ভ ছাড়া যেমন কোনো বাড়ির কল্পনাও সম্ভব নয়, তেমনি ইসলাম পাঁচ (ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত) স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
প্রশ্ন আসে : শুধু স্তম্ভ থাকলেই কি বাড়ির অস্তিত্ব বাস্তবে কখনো কল্পনা করা সম্ভব? বাড়ির পরিপূর্ণতার জন্য দরকার ছাদ, দেয়াল, জানালা-দরজা, আসবাবপত্র, রান্নাঘর, শোবার ঘর আরো কত কী? এ সব কিছু মিলেই না হয় একটা বাড়ি! তবে সব কিছুর আগে দরকার স্তম্ভ, যার ওপর গড়ে উঠবে বাড়িটি। ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত সামগ্রিক ইসলামের বুনিয়াদ বা ভিত। কুরআনে একটি আয়াতও পাওয়া যাবে না যেখানে বলা হয়েছে, এই পাঁচটি কাজের মাধ্যমে জান্নাত পাওয়া যাবে?
কুরআন পাকে জান্নাতে যাওয়ার শর্ত হিসেবে যত আয়াত দেখা যায়, সেগুলোতে বলা হয়েছে মূলত দুটি গুণের অধিকারী হতেই হবে জান্নাতের জন্য। না হলে জান্নাত কারো কপালে কখনো জুটবেই না। জান্নাত লাভের জন্য তাকে অবশ্যই ঈমানের সাথে সাথে সতকর্মশীল হতেই হবে। মূলত নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সতকর্মশীল হিসেবে তৈরি করা। জান্নাত লাভের শর্ত হিসেবে বিশ্বাসের সাথে সর্বত্র সতকর্মের কথা জুড়ে দেয়া হয়েছে। জান্নাত লাভের সব আয়াতেই বিশ্বাসের সাথে সতকর্মশীল হওয়াটা একান্ত আবশ্যকীয় ধরা হয়েছে। এটা ছাড়া কোনো অবস্থাতেই আর কোনোভাবে ফাঁকি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়নি।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বা বিষয় হচ্ছে সতকর্মশীল ব্যক্তিকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে এবং কাজে সত হতে হবে। সতকর্মশীলতার প্রতিযোগিতা সারাজীবন করে যেতে হবে। দিনের আংশিক কিছু সময় সত থেকে অন্য সময় অসত থাকলে সতকর্মশীল হিসেবে পরিচয় দেয়ার সুযোগ নেই। দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই সত হতে হবে। সতকর্মশীল মানুষ সারাজীবন সতকর্মের ওপর অবিচল থাকবে। শেষ বিচারের দিন সব ফাঁস হয়ে পড়বে।
মসজিদের দেশ যার প্রতিটি জায়গায় আজানের ধ্বনি শোনা যায়, সে দেশ যদি কখনো দুর্নীতিতে বিশ্ব শিরোপা লাভের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে, তার অর্থ দাঁড়ায় বিশ্বের সব দেশ থেকে বেশি অসতকর্মশীল মানুষ এ দেশে। অবাক কাণ্ড : মসজিদের দেশ কী করে দুর্নীতিবাজদের ঘাঁটি হয়? জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে সতকর্ম। আর সব গুণ থাকলেও অসতকর্মশীল ব্যক্তি জান্নাতের সীমানার ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারবে না। নামাজি, দ্বীনদার হওয়ার মূল কথা হচ্ছে সতকর্মশীল হওয়া। বাহ্যিকভাবে যত বড় বুজুর্গ, পীর, মস্তবড় দ্বীনদার হোক না কেন একমাত্র ঈমানদার ও সতকর্মশীলরাই জান্নাতে জায়গা পাবে।
জান্নাতে যাওয়ার শর্ত হচ্ছে সারাজীবন সতকর্মশীল হতে হবে। কারণ প্রতিটি কাজের, মুহূর্তের এবং নিয়তের ওপরই নির্ভর করবে সে কোন ধরনের সতকর্মশীল। সুবিধাবাদী সতকর্মশীল না মন-মানসিকতা আর কাজে ও কর্মে প্রকৃত অর্থে জীবনের সব সময়ে ও ততপরতায় সার্বক্ষণিকভাবে সতকর্মশীল : শেষ বিচার দিবসে এ সবই পরখ করে দেখা হবে।
অসত ব্যক্তির ইবাদত মূল্যহীন আর জান্নাত লাভের জন্য ঈমানের সাথে সতকাজ করার দৃঢ় মানসিকতা অবশ্য থাকতেই হবে যেটা কুরআন পাকে বিভিন্ন আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। প্রশ্ন আসে বিশ্বের অন্যান্য জাতির চেয়ে মুসলমানরা কী করে ক্ষেত্র বিশেষে অধিকতর অসত ও দুর্নীতিপরায়ণ হতে পারে? এর একটি সহজ ব্যাখ্যা হতে পারে : সাধারণ মুসলমানরা কুরআন আবৃত্তি করে কিন্তু বুঝে পড়ার সংস্কৃতি সমাজে গড়ে ওঠেনি। ইমাম হাসান আল বসরী (৬৪২-৭২৮ খ্রি:) বলেন : ‘কুরআনকে নাজিল করা হয়েছে এর নির্দেশনাবলির ভিত্তিতে কাজ করার জন্য কিন্তু তা না করে তারা এর আবৃত্তিকে কাজ হিসেবে ধরে নিয়েছে।’ দুনিয়ার বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, তুলনামূলকভাবে পশ্চিমা বিশ্বের লোকদের মুসলিম সমাজের চেয়ে অধিক সামাজিক এবং সতকর্মশীল হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে।
যারা ইউরোপ, আমেরিকা গিয়েছেন বা থাকেন, তাদের ধারণাও নিঃসন্দেহে এমনটিই হয়ে থাকার কথা। প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক, আমাদের চলমান ধর্ম বিশ্বাস ও সংস্কৃতি কেন আমাদেরও সেভাবে তৈরি করতে আপাত ব্যর্থ প্রমাণিত হচ্ছে, কোনোভাবেই কেন যেন পাশ্চাত্যের সাথে প্রতিযোগিতায় পারছি না। গভীর বিশ্লেষণে দেখা যাবে মূল কারণ কিন্তু অতি সূক্ষ্ম এক স্থানে : বেহেশত লাভের ত্রুটিপূর্ণ গতানুগতিক ভুল ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, শিক্ষা, প্রথা ও নির্দেশনা।
ফলে প্রচলিত সংস্কৃতির ঘূর্ণিপাকে যেন হাবুডুবু খাচ্ছে সমাজের সবাই। অসত কর্মশীল হয়ে জান্নাত লাভের কোনো রকম সুযোগ ইসলামে না থাকার পরেও কেন যেন এক শ্রেণীর মুসলিমদের ভেতরে চলে আসছে দাড়ি, টুপি, নামাজি, হাজি সেজে অঘোষিত এই দুর্নীতির প্রতিযোগিতায় নামতে। জীবনে একবার হজ করলেই যেন কেল্লাহ ফতেহ। আসমান উঁচু পরিমাণ নেকি অর্জন করেও সঠিক কথা হচ্ছে, সারা জীবন যাদের হক নষ্ট করা হয়েছে নিজের অর্জিত মূলধন নেকি দিয়ে তাদের সাথে বিনিময় করতে হবে। আর এভাবে পরিশোধ করতে করতে আগেই নেকি সব শেষ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে প্রাপকের গুনাহ নিজের কাঁধে নিয়ে দোজখে যেতে হবে। প্রথমে দেখা যাক কুরআনের আলোকে সতকাজের ব্যাখ্যা।
পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারা আয়াত ১৭৭ তে বলা হয়েছে : ‘সতকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ করবে, বরং বড় সতকাজ হলো এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর ওপর, কিয়ামত দিবসের ওপর, ফেরেশতাদের ওপর এবং সব নবী-রসূলের ওপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্মীয়স্বজন, এতিম-মিসকিন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্য। আর যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণকারী তারাই হলো সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেজগার।’
এখন আমরা স্পষ্ট ধারণা লাভের জন্য বিশ্লেষণ করতে পারি, আমাদের কি বার্তা পরিবেশন করছে জান্নাত লাভের আয়াতসমূহ? সব আয়াতেই কিন্তু পরিষ্কারভাবে নির্দেশনা রয়েছে : ঈমানদার সতকর্মশীলদের জন্যই শুধু জান্নাত। ঈমানের সাথে সতকর্মশীল না হলে আর সব গুণ থাকলেও কিন্তু কারো কপালে কস্মিনকালেও জান্নাত জুটবে না।
-অন্যএকদিগন্ত

রাতে মাছ খাবেন না

 হাইলাইটস

মাছ আর মাংস প্রোটিনে ভরপুর থাকলেও তা হজম করতে বেশ সময় লাগে।
বিশেষত তা যদি হয় বড় মাছ। কারণ মাছ মশলা ছাড়া একদম রান্না করাই যায় না।
আর মশলা বলতে থাকে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, টমেটো। যা রাতে হজম করা কঠিন।
সারাদিন তেল-মশলাদার খাবার যতই খাওয়া হোক না কেন রাতের খাবার সবসময় হালকা খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আর সেই সঙ্গে ৮টার মধ্যেই রাতের খাবার সেরে ফেলতে পরামর্শ দিয়েছেন সেই সঙ্গে রাতের মেনুতে মাছ-মাংস বাদ রাখার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। মাছ আর মাংস প্রোটিনে ভরপুর থাকলেও তা হজম করতে বেশ সময় লাগে। বিশেষত তা যদি হয় বড় মাছ। কারণ মাছ মশলা ছাড়া একদম রান্না করাই যায় না। আর মশলা বলতে থাকে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, টমেটো। রাতে এই কোনও উপকরণই হজম হতে চায় না। এছাড়াও মাছের মধ্যে থাকা তেলও হজম হতে বেশ খানিকক্ষণ সময় লাগে। যে কারণে মাছ খেলে অনেকবার ঢেকুর দেয়, অস্বস্তি হয়। কিছুতেই হজম হতে চায় না। আর হজম না হলে যে শরীরকে বেশ বেগ পেতে হয় একথা কে আর না জানে!
কিন্তু দুপুরে আবার মাছ-ভাত খুব ভালো হজম হয়। তাই বয়স্ক হোক বা শিশু রাতে মাছ এড়িয়ে চলাই ভালো। যে কারণে ফিশ কাটলেট, ফিশ ফিঙ্গার এই সব স্ন্যাকস হিসেবেই খাওয়া হয়। কথায় বলে মাছ-ভাতে বাঙালি। কিন্তু সব খাবারেরই নির্দিষ্ট কিছু সময় রয়েছে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে। সসুস্থ থাকতে ফিল্মস্টার থেকে খেলোয়াড় সকলেই কিন্তু নিরামিষ আহার পছন্দ করেন। এমনকী অনেকে দুধ, পনিরও খাদ্য তালিকা থেকে বাদ রাখেন। বিজ্ঞান বলে মাছ, মাংস কিংবা ডিম বাদে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা মিটবে না এই ধারণা এবার ভাঙার সময় এসেছে। পেটের রোগ এড়াতে, দীর্ঘদিন নীরোগ থাকতে হলে অবশ্যই নিয়ম মেনে খান।
আর দেখা গিয়েছে, যাঁরা নিরামিশাষী তাঁদের গড় আয়ু কিন্তু মাংশাসীদের দেখে ১০ বছর বেশি। বাঙালির যাবতীয় অসুস্থতা তাদের খাদ্যাভাসকে ঘিরেই। আর তাই চিংড়ি, মাটন থেকে লোলুপ দৃষ্টি সরালে অনেকটাই ভালো থাকা যায়। এবার অনেকেই হয়তো ভাববেন একরকম খাবারে অভ্যস্ত আপনার শরীর। হঠাত করে শরীরে যদি প্রোটিনের ঘাটতি হয় তাহলে নানা সমস্যা আসতে পারে। বিষয়টি কিন্তু সেরকম নয়। বরং দিনে-রাতে মাছ-মাংস খেলে আপনি অনেক বেশি করেই শারীরির সমস্যাকে আহ্বান জানাচ্ছেন। এতে শরীরের অন্য অঙ্গ প্রতঙ্গে অনেক বেশি ক্ষতিকর প্রভাবও পড়ে। আর বয়স ৩৫ পেরোলেই এই অভ্যাসে আনুন বদল।
কারণ, ৩৫ বছরের পর থেকে শরীর নানা দিক থেকে দুর্বল হতে থাকে। পুরুষদের ক্ষেত্রে হার্টের অসুখ ও ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা বাড়তে থাকে। মেয়েদের ক্ষেত্রে সন্তানধারণের পর বা ৩০-৩৫ বছর বয়সের পর ওজন প্রায় ১০-১৫ কেজি বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে প্রেগন্যান্সির পর শরীর সম্পর্কে খুবই সচেতন হওয়া জরুরি। আর এই সময় সন্তানের প্রতি বেশি নজর থাকায় নিজের শরীর সম্পর্কে খুব কম মহিলাই সচেতন হতে পারে। তাই সবচেয়ে সহজ উপায় খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে শরীর ঠিক রাখা। এছাড়া কর্মরত পুরুষ-মহিলা সকলেরই শরীরচর্চার সময় আজ প্রায় নেই বললেই চলে, তার উপর খাওয়ার ব্যাপারে কোনও রাশ নেই। তাই এই বয়সে যদি কেউ ভেজ ডায়েটে চলে আসেন সেক্ষেত্রে সুস্থ থাকা যায় অনেক বেশি। এতে মহিলাদের মেনোপজ শুরুর সময় অনেকদিন পর্যন্ত আটকে রাখা সম্ভব। ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা ও নানান অপ্রত্যাশিত অসুখের প্রকোপ দূর করা সম্ভব। এছাড়া ফল, সবজি বেশি করে খেলে তা ক্যানসারের মতো মারণরোগ অনেক অংশেই রোধ করে।
মাছের মধ্যে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। যা হার্টের জন্য ভালো। মাছ না খেলে রাতে এক কাপ দুধের সঙ্গে দুটি আমন্ড খান। আর দুধ না খেলে একসঙ্গে চারটে আমন্ড ও দুটো আখরোট খেয়ে ঘুমোতে যান।

খাই খাই ভাব? সারাক্ষণ?

 হাইলাইটস

খাবারে দরকার পর্যাপ্ত প্রোটিন
খাবার থেকে প্রসেসড ফুড হটানো
ঘুমোনোর চেষ্টা
সাবস্টিটিউট খাবার
খাবার সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান
খাওয়াদাওয়ায় খুব বেশি মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ না থাকলে মুশকিল আছে। কিন্তু যাদের খাই খাই ভাব বেশি, তারা তা করে উঠতে পারেন না।
কোভিডের মৌসুমে গৃহবন্দি থাকার ফলে একঘেয়েমি থেকেও খাওয়া বেড়ে গিয়েছে। ফাস্ট ফুড- জাঙ্ক ফুড হাবিজাবি খেয়ে ওজন বাড়িয়ে ফেলেন। কমে যায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা। বিপদ বাড়ে।
কী ভাবে এই বিপদ কাটানো যায়, সে পথ দেখিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওবেসিটি জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রবন্ধ থেকে জানা গিয়েছে খাবারের মোট ক্যালোরির ২৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এলে ভুলভাল খাবার খাওয়ার প্রবণতা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যায়। কাজেই দিনের প্রতিটি খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন যেন থাকে, এটি খেয়াল রাখতে হবে।
হরমোন বিশেষজ্ঞদের কথায়, ‘‘খুব খিদে পেলে ভাজা বা প্রসেসড ফুডের আসক্তি বেড়ে যায়। কাজেই খিদে চেপে রাখবেন না। অল্প খিদে পেলেই স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে নেবেন কিছুটা।’’
খাবারে আসক্তি কাটানোর উপায় কী
• চিউয়িং গাম মুখে রাখলে মিষ্টি এবং নোনতা খাবারের আসক্তি কিছুটা কমে বলছে গবেষণা। তবে চিউয়িং গাম যেন সুগার–ফ্রি হয়। না হলে ক্যালোরি বেড়ে গিয়ে সমস্যা আসবে। শরীরে জলের ঘাটতি না হলে খাই খাই ভাব একটু কমই হয়। কাজেই দিনে কম করে আড়াই–তিন লিটার জল খান। অল্প করে, বারে বারে।
• ঘুম কম হলে ভাজা বা মিষ্টি খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়তে পারে। কাজেই ভাল করে ঘুমোনোর চেষ্টা করুন। কখনও যদি কম ঘুমের ক্লান্তি গ্রাস করে চিনি ছাড়া কালো চা বা কফি খান দু–এক কাপ।
• মানসিক চাপ বাড়লে গ্লুকোজসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয়। তবে তার স্থায়িত্ব থাকে ৩–৫ মিনিট। সে সময় আড্ডায়-কাজে কাটিয়ে দিতে পারলে বিপদ কমে যায়।
পুষ্টিবিদদের মত, “বিপদ বাড়ে ঘরে হাই-ক্যালোরি খাবার মজুত করে রাখলে। তীব্র খিদের মুহূর্তে হাতের কাছে খাবার পেলে সামলানো যায় না। কাজেই ওরকম করবেন না। তার চেয়ে বরং কোন খাবারের বদলে কোনটা খেলে খাওয়ার ইচ্ছে কমে অথচ ক্ষতি হয় না, সেটা বুঝে সেই ধরনের খাবার রাখুন ঘরে।”
কোনটার বদলে কোনটা
হরমোন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন খাবারের বদলে কোনটা খাবেন তা জানা খুব জরুরি। যেমন ধরুন, চিনির বদলে সুগার সাবস্টিটিউট খেয়ে ভাবলেন হাই ক্যালোরির ধাক্কা সামলেছেন, আসলে হল ঠিক এর উল্টো। চিনির গ্লুকোজ মস্তিষ্কের উদ্দীপনা নিয়ে আসে বলেই মিষ্টি খেয়ে তৃপ্তি হয়। কিন্তু সুগার সাবস্টিটিউটে তো গ্লুকোজ নেই, ফলে তা খাওয়ার পরও অতৃপ্ত থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা।
মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে সারাদিন ধরে তাড়া করল। সেই তাড়নায় উল্টো-পাল্টা ক্যালোরি শরীরে ঢুকল অনেক। সে জন্যই যারা চিনি ছাড়া চা–কফি খেতে পারেন না, তাঁদের আমরা সুগার সাবস্টিটিউটের বদলে অল্প করে চিনি দিয়ে খেতে হরমোন বিশেষজ্ঞরা। খুব মোটা মানুষ বা ডায়াবেটিকদেরও। এতে দিনভর মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে কম থাকে।
এমনভাবে চলতে হয় যাতে খাওয়ার ইচ্ছে মেটে, ক্ষতিও হয় না শরীরের। যেমন–
• চিপ্সের বদলে খান স্বাস্থ্যকর কাজু, চিনাবাদাম বা আখরোট। তাতে মন না ভরলে অল্প করে পপকর্ন খেতে পারেন।
• চকোলেট আসক্তি মাত্রা ছাড়ালে ম্যাগনেসিয়াম-সমৃদ্ধ অ্যামন্ড খেয়ে দেখুন। কাজ না হলে মিল্ক চকোলেটের বদলে খান ৭০ শতাংশ কোকাসমৃদ্ধ ডার্ক চকলেট।
• ক্যান্ডি বা পেস্ট্রির বদলে খান ফল। কিসমিস বা খেজুর খেলেও কাজ হবে।
হরমোন বিশেষজ্ঞরা বলেন, “ঠান্ডা পানীয়ের তেষ্টা মেটাতে তার সঙ্গে জিরো ক্যালোরি অর্ধেক অর্ধেক মিশিয়ে খান। ক্যালোরি কিছুটা কম ঢুকবে, মস্তিষ্কও তৃপ্ত থাকবে। ফলের রস মিশিয়ে স্পার্কলিং ওয়াটার খাওয়া যেতে পারে।”

একাকীত্ব? তাহলে বন্ধু বেছে নাও

 The language of friendship is not words but meanings.

A real friend is one who walks in when the rest of the world walks out.
Man’s best support is a very dear friend.
শিশুদের মধ্যে নতুন বন্ধু তৈরির একটা প্রাকৃতিক দক্ষতা থাকে। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় যেটা হয়ে পড়ে দুরূহ। কারণ আপনি চাইলেই কাউকে বলতে পারবেন না, "আপনি আমার বন্ধু হবেন?" বিষয়টা এতোটা সহজ না বলেই হয়তো বিশ্বে প্রাপ্তবয়স্কদের একাকীত্বের সমস্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের তথ্যানুযায়ী, দেশটির ২৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তীব্র একাকীত্ব সমস্যায় ভুগছে।
আপনিও যদি এমন একাকীত্বে ভোগেন তাহলে নিচের ১০টি টিপসের মাধ্যমে জেনে নিতে পারেন কীভাবে আপনিও সহজে বন্ধু বানাতে পারেন।
১. ক্লাব বা সংগঠনে যোগ দিন :
কোনো একটি দল, সংগঠন, বা পছন্দের কোনো বিষয়ের ওপর ক্লাস-ভিত্তিক কোর্সে যোগদানের মাধ্যমে নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সেখান থেকেই হয়তো পেয়ে যেতে পারেন আপনার প্রিয় বন্ধুকে।
একসাথে থাকার কারণে আপনার সহকর্মী বা সহপাঠীরা জানতে পারবেন আপনার কিসের প্রতি উতসাহ রয়েছে।
আপনার এমন কয়েকটি বিষয় যখন আরেকজনের আগ্রহের সঙ্গে মিলে যাবে তখনই বন্ধুত্বের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
যদি কোনো মিল নাও থাকে, তাহলে নতুন কিছু চেষ্টা করতেও তো দোষ নেই। তা সে তাইকন্দো হোক বা পেইন্টিং।
এর মাধ্যমে আপনি যেমন আপনার নিজের দক্ষতার দিকগুলো যাচাই করতে পারবেন। তেমনি জানতে পারবেন কে হতে পারেন আপনার কাছের একজন বন্ধু।
২. স্বেচ্ছাসেবক :
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা মানে, মানুষের প্রতি আপনার মমত্ববোধ আছে। এখন এই সেবা আপনার স্থানীয় কমিউনিটির প্রতি হোক বা আরো বড় পরিসরে সেটা বিষয় না।
বিষয় হলো, এই কাজের মাধ্যমে আপনার নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হবে। এবং এই মানুষগুলো তারাই হবে যাদের মন উদার। একজন বন্ধুর ভেতরে এই গুনটাই সবচেয়ে বেশি থাকা চাই।
৩. যোগাযোগ তৈরি করুন :
কোনো বিয়ের পার্টিতে বা জিমে অথবা খেলতে গিয়ে যদি নতুন কারো সাথে আপনার পরিচয় হয় যার সঙ্গে কিনা আপনি মিল পাচ্ছেন তাহলে তার ফোন নম্বর বা ইমেইল ঠিকানাটি চেয়ে নিন। কারণ তার সাথে আপনার আবার দেখা হবে কিনা সেটার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এজন্য তার সাথে যোগাযোগের একটা মাধ্যম বের করা জরুরি।
আপনি তার সাথে দেখা হওয়ার পরের দিন একটি লাইন লিখে জানান যে তার সঙ্গে সময় কাটানোটা আপনি কতো উপভোগ করেছেন।
এরপর তাকে কোথাও খেতে যাওয়ার জন্য অথবা কোথাও ঘুরতে বা হাটতে যাওয়ার জন্য ডাকতে পারেন।
নিজ থেকে এই একটা পদক্ষেপের কারণেই হয়তো আপনি পেয়ে যেতে পারেন প্রাণ প্রিয় বন্ধুকে।
৪. 'হ্যাঁ' বলতে শিখুন :
যদি নতুন পরিচিত কেউ আপনাকে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানান বা আপনাকে থিয়েটার টিকিট অফার করে তাহলে 'হ্যাঁ' বলুন।
এতে আপনি সাময়িক স্নায়ুচাপের মুখে পড়তে পারেন। মনে হতে পারে যে আপনি আপনার গণ্ডির বাইরে গিয়ে কিছু করছেন। কিন্তু জেনে রাখবেন, সাহস না রাখলে, কিছুই অর্জন করা যায় না।
যদি আপনি সত্যিকার অর্থে সেই সাহস যোগাতে না পারেন, অথবা সে আপনাকে যেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছে সেটা আপনার ঠিক পছন্দ না, তাহলে আপনি তাকে ভদ্রভাবে 'না' বলুন। তবে সেই 'না' বলার মধ্যে এটাও পরিষ্কারভাবে বলুন যে ভবিষ্যতে সে যদি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান তাহলে আপনি সেটা সাদরে গ্রহণ করবেন।
৫. প্রত্যাখ্যানের ভয় কাটিয়ে উঠুন :
সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনার প্রতিটি প্রচেষ্টা যে কাজে লাগবে, এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু আপনি যদি প্রতিনিয়ত প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে থাকেন তাহলে আপনার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব হবে না।
সাহসী হন এবং নিজের প্রতি আস্থার জায়গাটা একটু মজবুত করুন।
আপনি যদি নতুন কারো সাথে পরিচয়ের পর তার সঙ্গে আবারো দেখা করার প্রস্তাব দেন এবং তাদের উত্তর যদি "না" সূচক হয়, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। কেননা এটাই পৃথিবীর শেষ নয়।
সম্ভবত সেই ব্যক্তি আপনার জন্য ছিল না। আপনার বন্ধু হওয়ার জন্য হয়তো আরো ভাল কোনো মানুষ অপেক্ষা করছে।
৬. সহকর্মীদের বন্ধু বানান :
বর্তমান ব্যস্ত সমাজে পরিবারের চাইতে আমাদের বেশি সময় কাটানো হয় কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে। তাই এই সহকর্মীদের বন্ধু বানানোর চেষ্টা করা যৌক্তিক।
এটা ঠিক যে অফিসের অনেক কথায় আপনি হয়তো কষ্ট পেতে পারেন।
এক্ষেত্রে আপনি বিশ্বস্ত কোন সহকর্মীর কাছে নিজেকে একটু প্রকাশ করতে পারেন। হয়তো সেও আপনাকে এর প্রতিদানে হয়তো ভাল কিছু দেবে।
কাজের পর কোথাও খেতে যাওয়ার পরিকল্পনাগুলোয় যোগ দিন। এমনকি আপনি ক্লান্ত হলেও 'হ্যাঁ' বলুন।
অথবা লাঞ্চ বিরতিতে আপনি কলিগদের কাউকে নিয়ে স্থানীয় স্যান্ডউইচ দোকানে যেতে পারেন।
অফিস ডেস্কের থেকে দূরে কোথাও গেলে সহকর্মীর সাথে কাজের বাইরে আরো নানা বিষয়ে কথা বলা সহজ হবে।
এতে সহকর্মীদের, প্রকৃত বন্ধুতায় বদলে ফেলাও হয়ে যাবে অনেক সহজ।
৭. কৌতূহলী হন :
আপনি যদি লাজুক স্বভাবের হন বা কিছু বলতে গিয়ে আটকে যান, তাহলে সেই জড়তা কাটিয়ে ওঠার সহজ উপায় হলো অপর পাশের মানুষের বিষয়ে জানতে চাওয়া।
কেননা অধিকাংশ মানুষই নিজের বিষয়ে কথা বলাটা উপভোগ করে। আপনি যদি ভাল শ্রোতা হন এবং ভবিষ্যতে তার সেই বিষয়গুলো টেনে আনেন। তাহলে বুঝে নিন যে আপনি খুব দ্রুত বন্ধু পেতে যাচ্ছেন।
৮. প্রয়োজনের সময় এগিয়ে আসুন :
জন্ম তারিখ মনে রাখা বা তার প্রয়োজনীয় কোনো কিছু কিনে দেয়ার মতো ছোট ছোট বিষয়গুলো মনে রাখা, বন্ধুত্ব গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
একইসাথে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করার মোক্ষম সুযোগ পাওয়া যায় খারাপ সময়গুলোতে।
যদি আপনার পছন্দের মানুষটি কঠিন সময় মধ্যে দিয়ে যান তাহলে তার সাহায্যে এগিয়ে আসুন।
সে অসুস্থ থাকলে তার প্রিয় কোনো খাবার নিজ হাতে তৈরি করে পাঠিয়ে দিতে পারেন। অথবা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলতে পারেন - এই ছোট্ট বিষয়গুলোর মাধ্যমে আপনি বোঝাতে পারবেন, আপনি বন্ধু হিসেবে কতোটা দারুণ।
৯. খোলা মনের মানুষ হন :
একজন নতুন বন্ধুর প্রকৃতি বিভিন্ন রকম হতে পারে। যে ১৭ বছরের হতে পারে আবার সত্তরও হতে পারে, তার বিড়াল পছন্দ হতে পারে আবার শুধু কুকুর পছন্দ হতে পারে। তার পছন্দের গান হতে পারে মেটাল বা ক্লাসিক্যাল।
মনে রাখবেন যে, ভিন্ন ব্যক্তিত্ব আমাদের আকর্ষণ করে বেশি। তাই প্রথম দেখাতেই কাউকে বিচার করা ঠিক হবে না - প্রত্যেকেই একটা সুযোগ দিন।
সেইসব মানুষদের কথা ভাবুন যাদের আপনি প্রথম দেখায় ভীষণ বিরক্তিকর ভেবেছিলেন, অথচ যারা এখন কিনা আপনার ভীষণ প্রিয়।
১০. পর্যাপ্ত সময় দিন :
রাতারাতি কারো বন্ধু হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুব কমই থাকে।
বন্ধুত্বকে লালন করতে হয়। এজন্য নতুন কারো সাথে বন্ধুতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে, সেটাকে বাড়িয় তুলতে এর পেছনে আপনার সময় আর যত্ন বিনিয়োগ করতে হবে।
কেননা বিশ্বাস ও ভরসার ভিত্তি সময়ের সাথে সাথে মজবুত হয়ে ওঠে।
নতুন বন্ধু তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হোন আপনি তাকে যা দিতে পারবেন, সেটার প্রতি বিশ্বাস রাখা।
ইতিবাচকভাবে ভাবার চেষ্টা করুন। নিজের প্রতিও যত্ন নিন।
সূত্র: বিবিসি

জীবনের জন্য ২৮

২৮. কৃতজ্ঞ থাকো। এটা মঙ্গলময়

Be thankful that you’re alive
২৭. তোমার দৃষ্টি থাকুক সে দিকে যা তুমি চাও সে দিকে নয় যা তুমি চাও না
A positive approach helps in two ways – it aids with your happiness and helps you solve problems faster than a negative one.
২৬. দুঃশ্চিন্তা তোমাকে যেনো অসুস্থ করে না ফেলে
Worrying doesn’t solve problems, but it definitely can create new ones.
২৫. তোমার কাজের দায়িত্ব নিতে শেখো, এড়িয়ে যাবেনা
The only person you can control in this world is you.
২৪. সহজ পছন্দটাই সবচেয়ে ভাল
Nothing worthwhile is ever easy, and the easy way out often leaves you feeling empty. Dare. Take risks. A truly extraordinary life is never an easy one.
২৩. আশা আর বাস্তবতা আলাদা করো না
Sometimes things fall apart, and that’s okay. Sometimes you feel weak, and that’s also okay.
২২. উতকর্ষতা বা এক্সিলেন্স প্রায় অসম্ভব
No one and nothing is perfect, and perfectionists are often the most frustrated people in the world.
২১. ছোট ছোট সময় মনে রাখো। মূহুর্ত নিমেষ কাল তুচ্ছ পরিমাণ গড়ে তোলে যুগযুগান্তর অনন্ত মহান
A shooting star, a moment of joy, the last rays of a sunset – these are the fillings of life’s cake, and it’s the best part.
২০. এক অবস্থায় কাজ না হলে বিকল্প খুঁজে দেখো
Albert Einstein once said that the definition of insanity is “doing the same thing over and over again and expecting different results.”
১৯. নিজেকে প্রমাণ করতে গিয়ে সময় নষ্ট করো না। পরে সামাল দেয়া কষ্টকর হবে
Your friends don’t require explanations, and enemies won’t care. As long as you know in your heart that you are right, stop apologizing.
১৮. অন্য মানুষেরা যেন তোমাকে তাদের পর্যায়ে নিতে না পারে, খেয়াল রেখো
“Refuse to lower your standards to accommodate those who refuse to raise theirs.”
১৭. কষ্ট চেপে রাখলে ভীষন বিপদ হবে স্বাস্থ্যের
Holding on to anger and hate will push people away, and end up hurting you and your loved ones.
১৬. তোমার কষ্টগুলো বা অভিযোগগুলো তোমাকে ভালো কোন স্থানে নিতে পারবে না
Wallowing in your own misery and constantly complaining doesn’t solve your problems, and also tends to push people away.
১৫. জীবন কিন্তু প্রতিযোগিতা নয়। তাই অন্যের সাথে নিজের তূলনা করা বন্ধ করো
Stop comparing yourself to other people. There will always be someone who seems better looking, smarter, richer, or more talented.
১৪. তোমার অতীত সম্পর্ক যেনো নোতুন সম্পর্ককে আহত না করে, এটা ভাল করে মনে রাখবে
Even if your last relationship (or relationships) ended in heartbreak, don’t let it prevent you from entering a new one.
১৩. তুমি তৈরী হওনি, তাই বলে বসে থেকো না। শুরুটা করা চাই
Life will always find ways to surprise you. Opportunities arise when you least expect them.
১২. তুমি একলা রয়েছো সে কারণেই কারো সাথে সম্পর্ক গড়ো না। বরং একলা থাকাটাকে উপভোগ করতে শেখো
A relationship requires two people who are both ready and willing to be in a relationship. Loneliness may be a terrible feeling, but being with the wrong person ends up feeling even worse. You’ll find the right person as long as you’re true to yourself.
১১. যে পাথর নিয়ত গড়িয়ে চলে তার গায়ে শ্যাওলা জমতে পারে না। চলমান থাকো
Problems and fears can paralyze you and get you stuck. You may need to stop over-thinking and try a different approach, but always take decisive action once you do. Sure, you’ll make mistakes, but at least you won’t be stuck anymore.
১০. সূখ তোমার ভেতরেই আছে-সেটা খুঁজে নাও। অন্যের সাথে তূলনা করলে সুখ আসবে না
Other people are looking for happiness just like you, they may like to join you for the ride, but the only person responsible for your happiness - is you.
৯. মনে করোনা যে টাকা তোমাকে সুখ এনে দেবে। টাকা কেবল টাকাই আনে
Follow your passions and enjoy life – that will make you truly happy.
৮. যা চলে গেছে তার পেছনে ছুটো না।। গতস্য শোচনা নাস্তি
You’re wasting your time and energy. Past mistakes are done and gone - you can learn from them, make amends, and move on.
৭. মেনে নাও যে তুমি ভুল করতেই পারো। কেউই ভুলে উর্দ্ধে নয়
“To err is human, to forgive is divine” – we all make mistakes, and no one is perfect.
৬. সামনে যখন যাবি ও, থাকনা পেছন পিছে পড়ে; মিছে তারে বইতে গেলে একলা পড়ে রইবি কূলে
It cannot be changed, so learn from it and get on with it.
৫. নিজের মধ্যেই থাকতে হবে।
Trying to be someone you’re not is hard work, and ultimately, you’ll always be afraid others will find out.
৪. নিজের প্রয়োজন যেন উপেক্ষিত না হয়।
If you suppress your needs, you’ll become tired, because fighting a need is tiresome, and you’ll end up unhappy at best and severely depressed at worst.
৩. নিজের ওপর নিজে মিথ্যাচার করা যাবে না। কারণ সততাই উতকৃষ্ট পথ
Honesty is the best policy, and being honest with yourself is the most important part of this policy.
২. নিজের সমস্যাগুলোকে কখনোই দূরে রাখা যাবেনা। এর সমাধান করতে হবে।
You probably won’t solve your problems instantly, but the process is what counts – learn from your mistakes, adapt and grow. Eventually, it’ll make you a better, stronger person.
১. খারাপ সঙ্গ ছাড়তে হবে।
True friends will make time for you and stick with you through thick and thin.

Sunday, October 25, 2020

ওভারিতে সিস্ট

 

HIGHLIGHTS...
নারীর ডিম্বাশয়ে সিস্ট পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম(পিসিওিএস)নামে পরিচিত...
এই রোগের কয়েকটি উপসর্গ রয়েছে...
প্রথম দিকে বোঝা যায় না কখন এই রোগ জাঁকিয়ে বসেছে...
জেনে নিয়ে সতর্ক থাকুন ...
PCOS-
এর কিছু প্রাথমিক লক্ষণই কিন্তু আপনার জন্য রেড অ্যালার্ট।

লিসিস্টিক ওভারি ডিজিজ (PCOD) হল এমন একটি সাধারণ হরমোনের অসামঞ্জস্য যা ভারতে প্রতি দশ জন মহিলার মধ্যে একজনের হয়ে থাকে। একজন মহিলা যখন জননক্ষম হন তখন এটি দেখা যায় এবং এটি হলে ওভারি বা ডিম্বাশয়ে একাধিক ছোট ছোট সিস্ট দেখা যায়। এর ফলে ডিম্বাশয় ফুলে যায় এবং এক ধরনের তরলের থলি বা ফলিকলস ডিম্বাণুকে ঘিরে থাকে।

ভারতের বিড়লা হাসপাতালের ডাঃ অঞ্জলি কুমার, MBBS, MD (Obstetrics & Gynecology), FICMCH, FMAS) জানান, পিসিওএস হলে অনিয়মিত ঋতু, হাইপারটেনশন, শরীর বা মুখে বাড়তি রোম, অ্যাকনে এবং চুল পড়া- এই লক্ষণগুলি দেখা যায়। সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ফলে এই রোগ দেখা যায়। সুতরাং একে একটি লাইফস্টাইল ডিজিজ বা জীবনযাত্রাজনিত রোগ বলা যেতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা হলে, ধূমপান করলে, মানসিক চাপ বা পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এটি দেখা যায়।

পিসিওএস (Polycystic Ovary Syndrome)-এর কিছু প্রাথমিক লক্ষণই কিন্তু আপনার জন্য রেড অ্যালার্ট। অর্থাৎ আপনাকে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সেগুলো কী?

১. অনিয়মিত ঋতুস্রাব, ঋতুচক্র দেরিতে শুরু হওয়া, খুব পরিমিত স্রাব হওয়া ইত্যাদি। যদি ঋতুস্রাব প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ২১ দিনের আগে বা ৩৫ দিন পরে শুরু হয় এবং কিশোরীদের মধ্যে যদি তা ৪৫ দিনে গিয়ে দাঁড়ায় তা হলে অবশ্যই সেটা দুশ্চিন্তার বিষয়।

২. দেখা গিয়েছে ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ মহিলারা পিসিওএস-এ ভোগেন অতিরিক্ত ওজনের জন্য। স্থূলতা এর একটি অন্যতম কারণ। ওজন এ ক্ষেত্রে কিছুতেই কমতে চায় না।

৩. গর্ভধারণে অসুবিধা।

৪. অতিরিক্ত মাত্রায় পুরুষ হরমোন নিঃসরণের ফলে অ্যাকনে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ বিশেষ করে মুখ রোমশ হয়ে যাওয়া।

৫. চুল পড়া ও স্কাল্পে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া।

৬. টাইপ ২ ডায়াবেটিস, স্বাভাবিকের চেয়ে শরীরে বেশি মাত্রায় চিনির প্রকোপ।

৭. উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের আধিক্য।

৮. ঘন ঘন মুড পরিবর্তন, মানসিক অবসাদ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, অস্থিরতা

পিসিওএস নির্ণয়:

কোন পরীক্ষার মাধ্যমে আলাদা করে পিসিওএস নির্ণয় করা যায় না। স্ত্রীরোগ-বিশেষজ্ঞরা এই রোগ নির্ণয় করতে কয়েকটি পন্থা অবলম্বন করে থাকেন। সেগুলি হল:

১.ক্লিনিকাল ইতিহাস ও পরীক্ষা ২. রক্ত পরীক্ষা ৩. আলট্রা সাউন্ড

পিসিওএস নিয়ন্ত্রণের উপায়:

১. পিসিওএস নিয়ন্ত্রণের সেরা উপায় হল স্বাস্থ্যকর ও সুষম জীবনযাপন। আপনি যদি স্বাস্থ্যকর খাবার খান, নিয়মিত ব্যায়াম করেন, প্রসেসড খাবার এড়িয়ে চলেন, নিজের খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণে রাখেন, তা হলে অবশ্যই এটি কমে যাবে।

২. প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করার চেয়ে ভাল পন্থা আর হয় না। ব্যায়াম করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। শারীরিক কসরত করলে আপনাকে আর ইনসুলিন নিতে হবে না এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৩. অন্ততপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম। পর্যাপ্ত ঘুম অনেক ক্ষেত্রেই পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৪. বর্তমান পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে। কিন্তু আপনাকে পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে মানসিক চাপ কমাতে হবে। কিছু ভাল লাগার বা ভালবাসার জিনিসের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখুন। দেখবেন চাপ অনেক কমে গিয়েছে।

news18

তুলে ফেলো স্বভাব থেকে সকল বদ-অভ্যাস

 Defeating Bad Habits

বাস্তবদীরা বলেন, “অভ্যাস ভয়ানক জিনিস। এক হঠাত স্বভাব থেকে তুলে ফেলা খুবই কঠিন।”

কিছু বদ-অভ্যাস আছে যেগুলোকে সন্ত্রাসী বললে কম বলা হয়। এরা মানুষের মন, মগজ ভরে রাখে সব সময় যেকোন অবস্থার পেক্ষিতে। এরা মানুষকে করতে সচল করতে প্রয়াস পায় এবং মানুষও সচল হয়েও যায়। বদ-অভ্যাসগুলো তখন হয়ে যায় স্বর্গরাজ্যের অধিকারী। বদ-অভ্যাস অর্বাচীন মানুষকে নাচায় সব সময় যেমন দক্ষ বাজীকর পুতুল নাচায়।

বদ-অভ্যাসকে স্বভাব থেকে তুলতে হলে অন্ত-দর্শনের নীরবতা silence of introspection খুবই দরকারী এক জিনিস। নিজের ভেতরে ডুব দিয়ে নীরবতার অন্ত-দর্শন একবার জানতে পারলে তা মানুষকে দয়ার্দ্র শক্তির অফুরন্ত উতসের দিকে নিয়ে যাবে। আর এতেই বদ-অভ্যাস নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ ভাগ।

‘মানুষ অভ্যাসের দাস’। একথা আমরা প্রায়ই বলি। কিন্তু অভ্যাস কি মানুষের দাস হতে পারে না? এ প্রশ্নে তর্কে জড়িয়ে পড়লেও সবকিছুর পরও আমরা এটা মানি আমাদের মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে, আমরা চাইলে অনেক অসাধ্যকে আয়ত্তে আনতে পারি, তাহলে কেন অভ্যাসকে আমাদের দাসে পরিণত করতে পারব না? কোনটা ভালো আর কোনোটা খারাপ সেটা বুঝে উঠতে পারলে ভালোর চর্চা এবং খারাপের বর্জন এমন কোনো কঠিন কাজ হতে পারে না যাকে অসম্ভব শব্দটি দিয়ে আখ্যায়িত করতে হবে।

যে অভ্যাসগুলো এখনই বাদ দেবেন

১. ঘুমানোর আগে ফোন, কম্পিউটার বা ট্যাব ব্যবহার -ঘুমের সঙ্গে সৃজনশীলতা,স্মৃতিশক্তি এবং কর্মশক্তির সম্পর্ক আছে।

২. একটানা ইন্টারনেট ব্যবহার- একটানা ইন্টারনেট ব্যবহারে আমাদের মনোযোগ কমে আসে।

৩. কথা বলার সময় মুঠোফোনে চোখ রাখা-এমন বদভ্যাস আসলে যার সঙ্গে কথা বলছেন তাকে বিব্রত করে।

৪. যখন না বলার কথা তখন হ্যাঁ বলা -না বলতে পারাটা কিন্তু আসলে ইতিবাচক মানসিক দক্ষতা। যখন আপনি কোনো কাজ করার সময় অন্য কারও অনুরোধ বা আবদার রক্ষার্থে অনিচ্ছায় হ্যাঁ বলেন তখন আসলে আপনি নিজের ক্ষতি করেন।

৫. নেতিবাচক মানুষদের নিয়ে ভাবনা-নেতিবাচক মানুষ আপনার মধ্যকার ইতিবাচক শক্তিকে শুষে নেবে!

৬. নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা- এ অভ্যাস আসলে আপনার মনকে ছোট করে ফেলে।

৭. পরচর্চা করা, সমালোচনা করা- গালগল্পে সাময়িক আনন্দ পাওয়া যায়, কিন্তু হিতে বিপরীতে কখন নিজের ক্ষতি করে ফেলছেন তা আপনি কখনোই জানবেন না।

৮. অহেতুক ভয় পাওয়ার প্রবনতা -ভয় সত্যিই এক শক্তিশালী ক্ষমতা , মানুষ জীবনে যা পেতে চায় ভয় তা পাওয়ার পথে নানা ভাবে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় । ভয় থেকে আসে নিরাপত্তার অভাব । ভয় আমাদের সম্ভাবনা ও ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয় ।

৯. দোষারোপ করা- অন্যের প্রতি দোষারোপের মাধ্যমে আমরা আসলে আমাদের জীবনের দায়িত্ব কর্তব্যের প্রতি অবহেলা প্রকাশ করি ।

১০. হীনমন্যতা- নেতিবাচক আবেগকে প্রশ্রয় দিতে দিতে এই হীনমন্যতা বোধ করার অভ্যাস দিনদিন বাড়তেই থাকে ।

১১. অতীত বা ভবিষ্যতে বাস করা -আপনার যদি বর্তমান সময়টা দারুণ হয় তাহলে আপনার অতীতটাও রঙিন হবে আর ভবিষ্যৎ হবে আশাবাদী।

১২. অজুহাত -বাঙালীর তিন হাতঃ ডানহাত বামহাত আর অজুহাত।

১৩. অভিযোগ করা-অভিযোগকারীর সঙ্গে বেশিক্ষণ থাকতে কেউই পছন্দ করে না।

১৪. নিজেকে জাহির করা- কারণে অকারণে সুযোগ পেলেই আমরা নিজের কৃতিত্ব অন্যের সামনে তুলে ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

বদ-অভ্যাস নিয়ে কিছু ভাল ভাল কথাঃ

“আমরা আমাদের চিন্তা করি এবং কাজ অনুযায়ী আমাদের অভ্যাস তৈরি হয়ে যায় । অভ্যাস আমাদের চরিত্র গঠন করে আর চরিত্র আমাদের ভাগ্য গঠন করে ।”

“You are a masterpiece unrepeatable, in comparable utterly unique, respect your uniqueness and drop compression relax into your being.”-– Osho

“The cave you fear to enter holds the treasure you seek."-– Joseph Campbell

“Any fool can criticize complain and condemn most fools do. But it takes character and self-control to be understanding and forgiving.”-– Dale Carnegie

“চিন্তা করাটা কঠিন আর তাই বেশিরভাগ মানুষই নিজের ধারণা দিয়ে অন্যেকে বিচার করে বসে।”-সুইস মনোবিদ কার্ল ইয়ুং

“অন্যের সমালোচনার মাধ্যমে আসলে আমরা আমাদের স্বভাকেই তুলে ধরি ।”

“Inferiority complex is a gold – plated highway to the throne of depression.”--Ikechukwo Izuokor

“We have more ability than will power, and it is often an excuse to ourselves that we imagine that things are impossible” -François De La Rochefoucauld

“এই পৃথিবীতে যারা সফলকাম হয়েছেন তাঁরা কোন একদিন উঠে দাঁড়িয়ে তাঁদেরই দাবী মতো তাঁদেরই প্রতি অনুসন্ধান করেছিলেন এবং যখনই না পেয়েছেন তখনই সেটি তৈরি করে নিয়েছিলেন।”-জে.বি শ’

“When you complain, you make yourself a victim. Leave the situation, change the situation or accept it. All else is madness. “

-Eckhart Tolle

সূত্রঃ আজকের বিচিন্তা  ও ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স