Thursday, August 26, 2021

এসো আল্লাহর সাথে সখ্যতা স্থাপন করি। GET CONNECTED WITH ALLAH

 

GET CONNECTED WITH ALLAH

এসো আল্লাহর সাথে সখ্যতা স্থাপন করি।

6 STEPS

কিভাবে: ৬ স্টেপ

1. DUA OR SUPPLICATION

দোয়ার মাধ্যমে

REMEMBER ALLAH, ASK FROM ALLAH, BECOME A FRIEND OF ALLAH

আল্লাহকে স্মরণ করা, আল্লাহ কাছে চাওয়া, আল্লাহর ওলী (বন্ধু) হওয়া 

2. STAY AWAY FROM POISONS

বিষ থেকে বিষময় পরিবেশ থেকে দূরে থাকা

POISONS ARE EVERYTHING THAT DISPLEASES ALLAH, STAY AWAY FROM SUCH ACTIONS, GAIN ALLAH’S HAPPINESS

বিষ হলো সেগুলো যেগুলো আল্লাহকে অখুশী করে। এসব কাজ থেকে সরে আসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা

3. 99 NAMES OF ALLAH

LEARN UNDERTAND AND RAISE THE QUALITY AND CHARACTERISTIS OF ALLAH

আল্লাহর ৯৯ নাম অর্থসহ জানা। একেবারে মুখস্ত করে ফেলা। আল্লাহর নামের গুনবাচক দিক জানা ও আল্লাহর বৈশিষ্টগুলো জানা  

4. REMEMBER ALLAH

ENGAGE IN ZIKR (DHIKR) AND PRAISES OF ALLAH, SAY ASTAGFIRULLAH A LOT TO REASE YOUR SINS, SAY ALHAMDULILLAH SO THAT ALLAH WILL GIVE YOU MORE REWARDS

আল্লাহকে স্মরণ করা

জিকরের মাধ্যমে আল্লাহর বড়ত্ব জাহির করা। পাপ মোচনের জন্য অধিক “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়া। সাওয়াবের পত্যাশায় বেশী বেশী “আলহামদুলিল্লাহ”, সুরা ফাতিহা পড়া  

5. FOLLOW THE SUNNAH

FOLLOW THE SUNNAH AND AND BE AT THE PROXIMITY OF ALLAH

সুন্নাত পালনের দিকে ঝুঁকে থাকা। এতে আল্লাহ সান্নিধ্য পাওয়া যায় ও রাসুলের অনুসরণ করা সহজ হয়  

6. STAY CONNECTED WITH AL QURAN

RECITE, UNDERSTAND AND MOST IMPORTANTLY ACT IN ACCORDANCE WITH THE QURAN

আল কুরআনের সাথে কানেকশন রাখা। আল কুরআন বুঝে পড়া, আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা জানা, আল কুরআন মানা ও সে অনুসারে আল কুরআনকে ব্যবহারিক জীবনে, বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো।

FINALLY:

SEEK KNOWLEDGE, REMEMBER ALLAH, TURN TO ALLAH, REMAIN IN ALLAH’S OBEDIENCE, UNDERSTAND WHO ALLAH IS, PRAISE ALLAH, UNDERSTAND THE QURAN.

সবশেষেঃ জ্ঞান অন্বেষণ করা, আল্লাহকে স্মরণে রাখা, আল্লাহর দিকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখা, আল্লাহ যা যা চান তা পরিপালন করা, আল্লাহর অস্তিত্ব বিষয়ে জানা, আল্লাহর প্রশংসা করা, আল কুরআনকে ধারন করা।  

INSHA ALLAH YOU WILL BE AT THE PROXIMITY 0F ALLAH.

এ কাজগুলো সঠিকভাবে করা হলে বা করা গেলে ইন শা আল্লাহ, আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া সহজতর হবে।

সূত্র: https://www.pinterest.com/pin/15762667416866620: https://productivemuslim.com/

Monday, August 9, 2021

হিসাব-নিকাশ

 হিসাব-নিকাশ

Accountability and Clearance
কেমন করে হিসাব দেবো
নিকাশ যদি চায়!
দিন ফুরায়ে যায়রে আমার
দিন ফুরায়ে যায়!!
পাপ করেই চলেছি অথচ শিউরে উঠিনা,
আমি কি পাষান?
আশা ও নিরাশার দোলাচলে মানুষ
কুরআনের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক ও হতাশাব্যঞ্জক আয়াত- শিউরে ওঠার মত।
আমিরুল মুমীনিন, খলিফাতুল মুসলীমিন, চিরধারী সম্রাট হজরত উমার ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু, এই উমরের কতটুকু জানি আমরা, অনেক কিছুই জানি না।
হজর‍ত উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু অন্ধকারে একদিকে যাচ্ছিলেন। পিছনে কিছু লোক ছিল। হঠাত করে তিনি প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা- তোমাদের মধ্যে কেউ কি বলতে পারো?-কুরানে কারীমের মধ্যে সব থেকে হতাশা ব্যঞ্জক আয়াত কোনটি?
অন্ধকারের ভিতরে একজন জবাব দিলেন, (ফা মাই ইয়ামাল মিস কালা জাররাতিন খইরাই ইয়ারাহ, ওয়ামাই ইয়ামাল মিস কালা জাররাতিন শাররাই ইয়ারাহ)
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ
وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
Famaiy ya'mal mithqala zarratin khai raiy-yarah
Wa maiy-y'amal mithqala zarratin sharraiy-yarah
সুরা যিলযাল,আয়াত-৭,৮)
এর অর্থ হল-যদি কেউ জাররাহ (সরিষা) পরিমান ভালো কাজ করে কিয়ামতে সে তা দেখতে পাবে, আর যদি সামান্য সরিষা পরিমান গুনাহর কাজ করে, সে তা দেখতে পাবে।
এই আয়াতটি যখন নাযিল হয়, হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাযিয়াল্লাহু আনহু তিনি আল্লাহর রসুলকে প্রশ্ন করলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ, আল্লাহ যে আয়াত নাযিল করলেন, কিয়ামতের দিন আমি কি আমার ছোট্ট পাপ কি দেখতে পাবো? আল্লাহর নবী বললেন, আল্লাহ বলেছেন অবশ্যই তা দেখতে পাবে। হজরত আবু সাইদ খুদরি রাযিয়াল্লাহু আনহু চিতকার করে কেঁদে উঠলেন আর বললেন তাহলে তো আমি মরেই যাবো, (আমার ছোট্ট পাপ তাও যদি আমি দেখি কিয়ামতে তাহলে আমি তো মরে যাবো)
হজরত উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু অন্ধকারের ভিতরে হাঁটছেন, আর কাঁদছেন, কিছু দূর অগ্রসর হয়ে তিনি আবার প্রশ্ন করলেন?
আচ্ছা কেউ কি বলতে পারো, কুরানে কারীমের মধ্যে আশাব্যঞ্জক আয়াত কোনটি?
পিছন থেকে অন্ধকারের ভিতর থেকে আওয়াজ এল -قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّ ( 'কুল ইয়া ‘ইবাদিয়াল লাজিনা আসরাফু আলা আনফুছিকুম, লা-তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ। Qul yaa'ibaadiyal lazeena asrafoo 'alaaa anfusihim laa taqnatoo mirrahmatil laah)
এর অর্থ হল- বলে দিন ওহে আমার বান্দারা তোমরা যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ তারা আল্লাহর রহমত প্রাপ্তি থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করবেন, তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু [সূরা আল-যুমার ৫৩]
হজরত উমার কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আছে না কি?
হজর‍ত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বললেন, আমি তো বললাম, আমি তো জবাব দিলাম।
--------------------------------------------------------------------------রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জনৈক লোক যে জীবনে কক্ষনো কোন প্রকার সাওয়াবের কাজ করেনি, যখন সে মারা যাবে তার পরিবার পরিজনকে ডেকে বলল, মৃত্যুর পর তোমরা তাকে পুড়ে ফেলবে সেটার অর্ধেক স্থলভাগে বাতাসে উড়িয়ে দিবে এবং অর্ধেক পানিতে নিক্ষেপ করবে। কারণ আল্লাহর কসম! আমাকে যদি আল্লাহ পুনঃ একত্রিত করতে পারেন তাহলে তিনি আমাকে অবশ্যই এমন ‘আযাব দিবেন, যা পৃথিবীর অন্য কাউকে কখনো দেননি।
তারপর লোকটি যখন ইন্তিকাল করল তখন তার পরিবারের লোকেরা তার নির্দেশ অনুযায়ী তদ্রূপ করল। তখন আল্লাহ তা‘আলা স্থলভাগকে আদেশ দিলেন সে তার মধ্যস্থিত যা কিছু আছে (ছাই) একত্রিত করলো। এরপর পানিতে মিশ্রিত ভাগকে নির্দেশ দিলেন। সেও তার মধ্যস্থিত সব কিছু একত্রিত করে দিল। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি এমনটি কেন করলে? সে বলল, হে আমার রব! আপনার ভয়ে। আপনি তো সর্বজ্ঞ। তখন আল্লাহ তা‘আলা সদয় হয়ে তাকে মাফ করে দিলেন। (সহিহ মুসলিম, ই.ফা. ৬৭২৭, ই.সে. ৬৭৮২)
আসুন ক্ষমা চাই তাঁর কাছেই। তিনি দুয়ার খুলে রয়েছেন সব সময়। সে দুয়ার ককখোনো বন্ধ হয় না।

Monday, July 12, 2021

রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর মুবারক চেহারা

 যে ছবি আঁকা যায়না

হালকা গড়ন, চওড়া কাঁধ, প্রশস্ত বক্ষ, সবল মেরুদন্ড ও সুদৃঢ় পেশী, স্বাস্থ্যবান, শক্তিশালী, সুঠাম ও সুন্দর দেহ। মাঝারি উচ্চতা, ঈষত
কোঁকড়ানো ঘন কালো চুল গুচ্ছাকারে প্রায় কাঁধ পর্যন্ত ছুঁয়ে থাকতো। পরিণত বয়সেও মাত্র গোটা বিশেক পাকা চুল দেখা গেছে। মুখমন্ডল ছিল ডিম্বাকার। প্রশস্ত ও উঁচু কপালের নীচে সুন্দর, সুদীর্ঘ বাঁকানো ভ্রুযুগল। গভীর কালো চোখ দুটো টানা দীপ্তিময়। নাক বড় আকারের ঈগল পাখীর ঠোঁটের মত। তাঁর বাঁকানো দাঁত ছিল সুগঠিত আর ঝকঝকে সাদা। মুখ ভর্তি পৌরুষদীপ্ত শ্মশ্রু। গায়ের ত্বক ছিল স্বচ্ছ ও কোমল; রঙ উজ্বল রক্তিমাভ গোলাপী। ঘাম দেখা দিলে তা মুক্তোর মত আভা ছড়াতো। হাত দুটো ছিল রেশম কোমল। মোলায়েম। পদক্ষেপ ছিল দৃঢ় ও স্প্রিংয়ের মত স্থিতিস্থাপক। যখন হাঁটতেন তখন মনে হতো তিনি কোন উঁচু জায়গা থেকে নীচে নামছেন। মুখ ঘুরাবার সময় গোটা শরীর ঘুরাতেন। তাঁকে দেখে মনে হতো চিন্তাশীল, ধ্যানমগ্ন এবং গম্ভীর; একই সঙ্গে সদা সচেতন। তিনি হাসতেন কিন্তু সেই হাসি কখনো মুচকি হাসির সীমা ছাড়িয়ে যেত না।
সূত্রঃ
-দ্য বেনিফ্যাক্টর থেকেঃ লেখকঃ সৈয়দ ওয়াহিদ উদ্দিন,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রিয় নবী (সা.)-এর দৈহিক গঠন, হাদিসের আলোকে
চেহারা
প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর মানুষ। যাঁর সৌন্দর্যের কাছে আকাশের চাঁদও হার মানত। আবদুল্লাহ ইবনে কাআব (রহ.) বলেন, ‘আমি আমার পিতা কাআব ইবনে মালিক (রা.)-কে তাঁর তাবুক যুদ্ধে না যাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে সালাম করলাম, খুশি ও আনন্দে তাঁর চেহারা ঝলমল করে উঠল। তাঁর চেহারা আনন্দে এমনই উদ্বেল থাকতো, মনে হতো যেন চাঁদের একটি টুকরো। তাঁর মুখমণ্ডলের এ অবস্থা থেকে আমরা তা বুঝতে পারতাম।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫৫৬)। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর দুই পা ছিল মাংসপূর্ণ। চেহারা ছিল সুন্দর। আমি তাঁর পরে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯০৯)
যে নবীর সঙ্গে রাসুল (সা.)-এর চেহারায় মিল ছিল
রাসুল (সা.)-এর চেহারা মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে মিল ছিল।
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেছেন, মিরাজের রাতে আমার সম্মুখে নবীদের হাজির করা হয়। সে সময় মুসা (আ.)-কে আমি দেখলাম, তিনি যেন শানুআহ গোত্রের একজন পুরুষ। আমি ঈসা ইবনে মারিয়াম (আ.)-কেও লক্ষ্য করেছি, আমার দেখা লোকদের মাঝে তিনি উরওয়াহ ইবনে মাসউদের মতো।
আমি ইবরাহিম (আ.)-কেও লক্ষ্য করেছি, আমার দেখা লোকদের মাঝে তিনি তোমাদের বন্ধুর মতো, অর্থাত আমার মতো। জিবরাঈল (আ.)-কেও আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি আমার দেখা লোকদের মাঝে দিহয়া ইবনে খলিফা আল ক্বালবির মতো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৪৯)
উচ্চতা
উচ্চতার দিক থেকে তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের। বেশি লম্বাও না, আবার একদম খাটো না। যে উচ্চতা ও শারীরিক গঠন একজন মানুষকে আকর্ষণীয় করে তোলে, তিনি ছিলেন ঠিক সেই গঠনেরই। বারাআ ইবনে আজিব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ছিলেন মাঝারি গড়নের। (বুখারি, হাদিস : ৩৫৫১)
চোখ
তাঁর চোখ দুটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর। একজন বীরপুরুষের চোখ যেমন হওয়া প্রয়োজন ঠিক তেমনই। তাঁর চোখের শুভ্রাংশের রক্তিমতা তাঁর চোখের সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল।
জাবির ইবনে সামুরাহ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর মুখ ছিল বেশ দীর্ঘ (প্রশস্ত), চোখ দুটি ছিল লাল (শুভ্রাংশে রক্তিমতা ছিল) এবং পায়ের জঙ্ঘা ছিল শীর্ণকায়। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৪৬)
দাড়ি
জাবির ইবনে সামুরাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল এবং দাড়ির সামনের অংশ সাদা হয়ে গিয়েছিল। তিনি যখন তেল দিতেন (সাদা) চুল তখন দেখা যেত না, আর যখন চুল অগোছালো হতো তখন দেখা যেত। তাঁর দাড়ি প্রচুর ঘন ছিল। জনৈক লোক বলল, তাঁর চেহারা ছিল তরবারির মতো। জাবির (রা.) বলেন, না, তাঁর চেহারা ছিল সূর্য ও চন্দ্রের মতো (উজ্জ্বল) গোলাকার। আমি তাঁর পিঠের উপরিভাগে কবুতরের ডিমসদৃশ নবুয়তের মোহর দেখেছি। এটির রং ছিল তাঁর গায়ের রঙের মতো। (মুসলিম, হাদিস : ৫৯৭৮)
হাত
তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর দেহের অধিকারী। তাঁর হাতগুলো ছিল গোশতে ভরপুর। সুঠাম বাহু ও হাত পাওয়ার জন্য মানুষকে যেমন বছরের পর বছর জিম করতে হয়, নবী (সা.) সৃষ্টিগতভাবেই ছিলেন এর চেয়ে বেশি সুন্দর দেহের অধিকারী। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর হাত গোশতে পূর্ণ ছিল। তাঁর পরে আমি কোনো লোককে এমন দেখিনি। আর রাসুল (সা.)-এর চুল ছিল মাঝারি ধরনের, অধিক কোঁকড়ানোও না, অধিক সোজাও না। (বুখারি, হাদিস : ৫৯০৬)
তাঁর হাতের পেশিগুলো দেখে শক্তপোক্ত মনে হলেও সেগুলো ছিল অত্যন্ত নরম। নবীজির সেবক আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ছিলেন শুভ্র উজ্জ্বল বর্ণের। তাঁর ঘাম যেন মুক্তার মতো। তিনি চলার সময় সম্মুখপানে ঝুঁকে চলতেন। আমি নরম কাপড় বা রেশমকেও তাঁর হাতের তালুর মতো নরম পাইনি এবং মিশক ও আম্বরের মধ্যেও রাসুল (সা.)-এর শরীরের চেয়ে অধিক সুগন্ধ পাইনি। (মুসলিম, হাদিস : ৫৯৪৮)
পা
হাতের মতো তাঁর পাও ছিল সুন্দর। তাঁর মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো দেহই যেমনটা মানানসই হওয়া প্রয়োজন, ঠিক তেমনই ছিল। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর মাথা ও দুই পা ছিল মাংসপূর্ণ। তাঁর আগে ও তাঁর পরে আমি তাঁর মতো অন্য (কাউকে অধিক সুন্দর) দেখিনি। তাঁর হাতের তালু ছিল চওড়া। (বুখারি, হাদিস : ৫৯০৭)
-সূত্র: মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

Sunday, July 4, 2021

ভালো ভালো কথাগুলো কারো কারো উপকারে আসতে পারে

 ১. ত্রুটি খোঁজা

যা তুমি বোঝোনা
তার ভেতরে দোষ খুঁজবেনা।
-ফরাসী প্রবাদ
২. যুক্তি তক্ক আলোচনা
যুক্তি তক্ক বা আলোচনা যেনো সবসময়্ হয়
উন্নয়নের জন্য
জেতার জন্য যেনো না হয় কখনো।
-হেটেরোডক্সাসকোটস
৩. পরিপক্কতা
পরিপক্কতা হলো সেই মানুষ, সেই অবস্থা থেকে সরে যাওয়া যা তোমার
মনের শান্তি,
তোমার আত্ম-মর্যাদা,
মূল্যবোধ,
নৈতিকতা
হুমকীর মুখে ঠেলে দেয়।
৪. কথা বলা
কাউকে কোন কথা বলবার আগে
অবশ্যই চিন্তা করে নেবে
ঠিক ওই কথাটি যদি আমাকে বলা হতো
তা হলে আমার কি মনে হতো।
৫. ভাল কথাগুলোঃ
সুখ তোমাকে সুমিষ্ট রাখবে
পরীক্ষা তোমাকে শক্ত করবে
দুঃখ তোমাকে মানবিক করবে
ব্যর্থতা তোমাকে বিনয়ী করবে
সাহস তোমাকে চলমান রাখবে।
-অ্যাবাউট মি অ্যান্ড হোয়াই কোটস
৬.
Words to Live By
জ্ঞান হলো কি বলতে হবে সেটা ভাল করে জানা
প্রজ্ঞা হলো কি বলতে হবে বা বলতে হবে না
সেটা বুঝতে পারা।
৭. The Power of Self Talk
প্রত্যেক ইতিবাচক চিন্তা
এক একটি নীরব প্রার্থনা
যা মানুষের যাপিত-জীবন বদলে দিতে সক্ষম।
৮. অ্যামেজিংমুভমেন্ট
আমি যদি নিজের কাছেই ভাল না হই
তাহলে অন্য মানুষ আমার কাছে ভাল হবে-
এটা কিভাবে আশা করতে পারি?
৯. Leadership Masterclass
ভেঙ্গে পড়ার পর যে নারী
নিজেকে সামলে নিয়েছে
সে নারী বিলক্ষণ শক্তিশালী।

Monday, June 28, 2021

বিশ্বস্ততা চাষ করা যায় Confidence can be Cultivated

 ১. শুরুটা করা চাই

শুরু করার জন্য তোমাকে মহান কোন মানুষ হতে হবে না।
কিন্তু মহান হতে চাইলে তোমাকে শুরুটা করতেই হবে!

২. খেয়াল করেছো কি?
সবচেয়ে শক্ত গাছটা ঝড়ে ভেঙে পড়ে সহজেই।
কিন্তু বাঁশ, নল-খাগড়া এরা বাতাসের অনুকূলে বেঁকে যায়।
তাই আমি বলবো, “নমনীয় থাকো, সেটা খুবই মঙ্গলের।”

৩. পজিটিভ
দিনের শুরুটা কষ্টের মনে হলেও তুমি পজিটিভ থাকো। পজিটিভ হওয়া থেকে সরে এসো না। কারণ বদলের ১ম অংশটা খুবই বাজে আর শক্ত কাজ
২য় অংশটা এলোমেলো
আর শেষের অংশটা গর্জিয়াস।

৪. ব্যর্থতা
ব্যর্থতা মানুষের জীবনের যত স্বপ্ন নষ্ট করে দেয়
তার চেয়ে বেশী নষ্ট করে দেয় সন্দেহ।

৫. পতন
পড়ে যাওয়াটা একা দুর্ঘটনা বৈ নয়। কিন্তু পড়ে গিয়ে সেখানে বসে থাকাটা বোকামী।

৬. বেদনা-হলুদ-বৃন্ত কামনা আমার
শেফালির মত শুভ্র সুরভি-বিথার
বিকশি’ উঠিতে চাহে-

বেড়ার ওপারের সকল ঘাস কিন্তু সবুজ নয়
শুধু সে ঘাষগুলোই সবুজ যেগুলোতে তুমি জল সিঞ্চন করো, নিয়মিত জল দাও।

৭. তুমিও যদি চাও
আজ আমাকে ছেড়ে যেতে পারো।
আমি চাই যে একেলা হতে আরো

একাকীত্বটা এনজয় করতে পারা একটা সাধনা।

৮. শুরুর পর বদলে যাওয়া সম্ভব

শুরুর পর আর শুরুর জায়গাতে ফিরতে পারবেনা।
যেখানে থেমে আছো সেখান থেকে আবারো শুরু করতে পারবে-
আর এতেই শেষটা বদলে যাবে।

৯. ভেঙেছো দুয়ার

তুমি যদ্দুর এসেছো- আসতে পেরেছো
তার জন্য নিজেকে ধন্যবাদ দাও।
জেনে রেখো এটা সহজ কোন কাজ নয়!

১০. অভ্যাস ভয়ানক জিনিস
একে হঠাত স্বভাব থেকে তুলে ফেলা কঠিন

তোমার অভ্যাসগুলো সবচে খারাপ গুরু কিংবা সবচে ভালো চাকর হতে পারে যা তোমাকে তাড়িয়ে ফিরবে।

১১. ভাবনা হোক যথাযথ
জিমে যাও, জল খাও দেদার, ভিটামিন নাও, শরীরটাকে তাগড়া করো কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু তোমার হৃদয়ে আর মগজে যে সব ভালো ভালো জিনিস রয়েছে সেগুলোর চর্চা না থাকলে- তুমি চিরকাল আনহেলদি-unhealthy হয়েই বাঁচবে।

১২. দাও, নাও কম
হৃদয় আমার চায় যে দিতে, কেবল নিতে নয়,
বয়ে বয়ে বেড়ায় সে তার যা-কিছু সঞ্চয়।
হাতখানি ওই বাড়িয়ে আনো, দাও গো আমার হাতে--
ধরব তারে, ভরব তারে, রাখব তারে সাথে,
একলা পথের চলা আমার করব রমণীয় ॥
মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিয়ো ॥

১৩. চাঁদের অনুপস্থিতিতে রাতের আকাশের কালো বেনারসীতে জড়োয়া তারার কাজ দেখলে মনটা হারিয়ে যেতেই চাইবে, নিঃসীম শূন্যে মিলিয়ে যেতে চাইবে মনটা। ঠিক তখন যেনো মনে হয়- মানুষকে আমার আরো দেয়ার আছে।

১৪. স্ট্রাগল
কষ্টে আছো, কষ্ট করছো-তার মানে এই নয় যে তুমি ব্যর্থ
Just because you are struggling does not men you are failing.

১৫. নেগেটিভ জার্নি ফর লাইফটাইম
নেগেটিভ থাকলে সারা জীবনব্যাপী তোমার জার্নিটা ডিফিকাল্ট হয়ে উঠবে। তুমি কি দেখেছো কেউ কাঁটাযুক্ত ডালে বসতে পারে? নেগেটিভটা ঠিক কাঁটাযুক্ত একটি ডাল।
Being negative makes a journey more difficult. You may given a cactus, but you don’t have to sit on it.

Source: বিভিন্ন + নিজ ঘিলু

Wednesday, June 2, 2021

চোখের জল নিয়ে চোখ খুলে যাওয়ার মতো কথাগুলো

 

১. চোখের জল। কেউ বলে অশ্রু। কেউ বলে নয়ন বারি। যে যাই বলুক এর ইংরেজী নামটা টিয়ার-Tear. এর লাতিন সংষ্করণ ল্যাকরাইমা/ল্যাক্রিমা-lacrima. ল্যাকরাইমা/ল্যাক্রিমা মানে হলো চোখের জল। চোখের জল তৈরী হয় ল্যাকরাইমাল গ্ল্যান্ড/ ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড lacrimal gland থেকে যার অবস্থান দু চোখের ভ্রুর ঠিক নীচেই।

২. মানুষের চোখ থেকে ৩ ধরনের চোখের জল বের হয়

ক. বেজাল টিয়ার Basal tear মৌলিক চোখের জল

খ. রিফ্লেক্স টিয়ার Reflex tear প্রতিবর্তি চোখের জল

গ. ইমৌশনাল টিয়ার Emotional tear আবেগিক চোখের জল

২. বেজাল টিয়ার Basal tear মৌলিক চোখের জল আমাদের চোখ জোড়াকে মসৃন বা পিছলে রাখে।

রিফ্লেক্স টিয়ার Reflex tear প্রতিবর্তি চোখের জল বের হয় চোখ কোন কিছুর সংস্পর্শে এলে যেমন, ধোঁয়া, বালু, ধুলো।

ইমৌশনাল টিয়ার Emotional tear আবেগিক চোখের জল বের হয় আমরা যখন কষ্টে থাকি বা অত্যানন্দে থাকি।

৩. সব ধরনের চোখের জলে আছে জল, নুন, তেল, অ্যান্টিবডি আর এনজাইম। কিন্তু সব চোখের জলে আছে ভিন্ন ভিন্ন রাসায়নিক অনু বা chemical molecules. উদাহরন দেয়া যেতে পারে- ইমৌশনাল টিয়ার Emotional tear আবেগিক চোখের জলে আছে প্রোটিন থেকে তৈরী কিছু হরমোন যার মধ্যে লিউসিন-এনকেফালিন-এর নাম করা যায় যা প্রাকৃতিক ব্যথা নাশক হিসেবে কাজ করে যখন মানুষ মানসিকভাবে অবসাদে বা অস্বস্তিতে থাকে – Body under stress.

৪. পিয়াঁজ কাটতে গেল কান্না পায় এটা বোধ করি কাউকেই বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। কারণ পিয়াঁজ থেকে যে রাসায়নিক বের হয় তার নাম ল্যাকরিম্যাটরী ফ্যাক্টর সিন্থেজ-Lachrymatory factor synthase. এই ল্যাকরিম্যাটরী ফ্যাক্টর সিন্থেজ থেকে যদি রেহাই পেতে চান তা হলে পিয়াঁজ স্লাইস করার আগে ফ্রিজে রাখুন অর কাটার সময় অবশ্যই ধারালো ছুরি ব্যবহার করবেন। এতে কাজ হবে। ভোঁতা অস্ত্রে কাজ হবে না।

৫. চার্ল্স ডারউইন তার বই The Expression of the emotions in man and Animals বলেছেন কষ্টের বা দুঃখের সময় মানুষেরা বা বানর জাতীয় প্রাণীরা চোখের জল ঝরালে অনেকটা স্বস্তিতে থাকে। 

৬. শিশুরা বেশীই কাঁদে। এরা তাদের বয়স ৭-৮ মাস না হলে চোখের জল ফেলতে পারে না। কারণ এর আগে ওদের চোখের জল আল্লাহ তৈরী করেন না। মেয়েরা অনেক বেশী কাঁদে-চুন থেকে পা খসলেই। পুরুষেরা অতোটা আবেগিক নয় যে তার ভ্যা ভ্যা করে কাঁদবে।

৭. এর আগে শতাব্দীব্যাপী ধারনা ছিল যে চোখের জল তৈরী হয় হৃদয়ে। ওল্ড টেষ্টামেন্টে বলা আছে হৃদপিন্ডের কোন অংশ দুর্বল হয়ে গেলে সেখান থেকে চোখে জল চলে আসে। মধ্য যুগে চোখের জল ফেলাকে বলা হতো পুরুষোচিত গুনসম্পন্ন-manly. অ্যাংলো-স্যাক্সন কবিতায় Beowulfকে যখন ড্রাগন মেরে ফেলে তখন তার সহযোদ্ধারা শান্তনা পাবার জন্য কেঁদেকেটে অস্থির হয়েছিল তাদের প্রভুর আত্মার শান্তির কারণে। জানা গেছে যে কিং আর্থারও কাঁদতে পারতেন। হবু চন্দ্র রাজার মতো তিনি কান্না ভোলেননি।

৮. কান্না কখনো কখনো ভাল হতে পারে। সমীক্ষা জানিয়েছে যে কান্না পেলে শরীরে অক্সিটোসিন-Oxytocin ও এন্ডোরফিন-Endorphin নামের ২টি রাসায়নিকের নিঃসরণ ঘটে। এতে মানুষের মন শান্ত হয়।

৯. merriam-webster অভিধানে ১৯১২সালে টিয়ারজার্কার-tearjerker শব্দটির ডেব্যু হয়েছে। এর মানে হলো কোন নভেল, নাটক সিনেমা দেখে কান্না করা। (সূত্রঃ Entertainment weekly, Hollywood, Reader’s Digest May 2021)

১০. চোখের ভেতরের - (excess tear produced by the lacrimal gland) ও নাকের রাস্তার মধ্যে যোগ আছে। চোখের অতিরিক্ত জল উপচে পড়ে নাকের ফুটো দিয়ে বেরিয়ে আসে বলেই কান্নার সময় বার বার নাক ঝাড়তে হয়।

১১. 1993র-কেমিক্যাল ওয়েপন্স কনভেনশন অনুসারে Tear Gas বা কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এর আগেই ১৯৮০র ইরাক যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে কাঁদানে গ্যাস ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

১২. আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথেই বেজাল টিয়ার বা মৌলিক চোখের জল তৈরী কমতে থাকে। এর কারণে আমাদের চোখ শুকনো হয়ে যেতে থাকে। মেয়েদের বেলায় গর্ভধারন করলে বা তাদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে বেজাল টিয়ার বা মৌলিক চোখের জল তৈরী কমতে থাকে। এ অবস্থা নিরসনে এখন কৃত্রিম আই ড্রপ পাওয়া যাচ্ছে যাকে Lubricating OTC Eye Drop বলা হয়। এ ছাড়া চোখে গরম স্যাঁক -Hot Compress দিলেও চোখের জল ঝরানো যায়।

১৩. কম আলোতে পড়লে চোখের ক্ষতি হয় কি?

সব মা বাবার এই একই প্রশ্ন তাদের ছেলে মেয়েদের কাছে। কিন্তু বিজ্ঞান বলে যে কম আলোতে পড়লে চোখের ক্ষতি হয় এমন কোন প্রমাণ নেই। Reading in poor light makes people blink less which can lead to the eyes becoming dry again adding to belief that they have been damaged. কম আলোতে পড়লে চোখের পাতা পড়ার হার কম হয় আর তাতে চোখ শুকনো বোধ হয় যা স্বাভাবিক আলোতে পড়লে হয় না। কম আলোতে পড়লে চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে কিন্তু চোখের স্থায়ী কোন ক্ষতি হয় না।

আবার বেশী বা উপযুক্ত আলোতে পড়লেই যে চোখের জ্যোতি বাড়বে  বা চোখ ঠিক থাকবে, এমন কোন প্রমাণ নেই। While good light will improve your ability to see clearly, it’s not essential to protecting eye health.

সূত্র: রিডার্স ডাইজেষ্ট, হেনরী গ্রে’জ অ্যানাটমী, সায়েন্টিফিক আমেরিকান এবং সুস্নাতক ক্লাশে নিজ পাঠ