Tuesday, November 16, 2021

VERNIX

আল্লাহ তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সৃষ্টি মানুষকে কতটা ভালবাসেন “ভারনিক্স”-এর সাথে পরিচিত হলে বুঝতে পারবেন!

"ভারনিক্স" নামক শব্দটির সঙ্গে আমরা কতটা পরিচিত?
বাচ্চা জন্ম নেওয়ার পরে প্রায় সকল বাচ্চার শরীরে যে সাদা ময়লার মত পদার্থ দেখা যায় সেটাকে "ভারনিক্স "বলে। "ভারনিক্স" নামের পদার্থটি প্রায় সকল বাচ্চার শরীরেই দেখা যায়। কোন কোন বাচ্চা শরীরে অনেক বেশী ভারনিক্স নিয়ে জন্মগ্রহণ করে আবার কোন কোন বাচ্চা একেবারে পরিষ্কার থাকে।
এই ভারনিক্সটা সম্পর্কে অনেকে অবগত নয়, বাচ্চাকে মুছে যখন অভিভাবকদের কাছে দেওয়া হয় তখন শরীরে ভারনিক্স থাকলে তারা ভাবেন বাচ্চাকে ভালভাবে ক্লিন করা হয়নি বা নিজেরাই মুছতে বসে যান।
সৃষ্টির সবকিছুর পিছনেই গভীর রহস্য লুকায়িত আছে, তাঁর অসীম জ্ঞান বুঝবার ক্ষমতা আমাদের কারো নেই!
সদ্যজাত শিশুর শরীরে ভারনিক্স নামের এক ধরণের তেল জাতীয় পদার্থ থাকে যা মায়ের গর্ভে থাকাকালীন তরল পদার্থ থেকে শিশুর ত্বককে রক্ষা করে। এটি অ্যান্টিবডির মত শিশুর রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
জন্মের পর পরই শিশুকে পরিষ্কার বা মোছার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন ভারনিক্স উঠে না যায়। (WHO) এর মতে শিশুর শরীরে ভারনিক্স কমপক্ষে ৬ ঘন্টা রাখা এবং সবচেয়ে ভালো হয় ২৪ ঘন্টা রাখলে।
‘Vernix’ = to varnish. ‘caseous’ = cheesy nature.
Vernix caseosa is a naturally occurring, complex, lipid-rich substance covering the skin surface of the fetus in the last trimester of pregnancy, produced in part by fetal sebaceous glands.
The term ‘Vernix caseosa’ first appeared in 1846 in the Dunglison dictionary of Medical Sciences. Ever since, it has been a fascinating topic of study among the research fraternity and clinicians alike.
Vernix consists of water (81%), lipid (9%), and proteins (10%).
What are the benefits of the vernix caseosa?
It has antimicrobial properties
ভারনিক্সের আছে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণাগুন
Lubrication through the birth canal
ভারনিক্স মায়ের জনন নারীর জন্য একটি পিচ্ছিলক বা লুব্রিক্যান্ট যাতে সন্তান সহজেই প্রসব হতে পারে মায়ের তেমন কোন কষ্ট ব্যতিরেকে
Helps regulate a baby’s body temperature
ভারনিক্স বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে
Moisturizes your baby’s skin
ভারনিক্স বাচ্চার ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার।
Should you delay your baby’s first bath?
Once you understand the role of the vernix caseosa, you can choose to delay your baby’s first bath to maximize the health benefits. The length of time you choose to delay the bath is up to you.
Some mothers don’t give babies their first bath for several days or up to a week after birth. But you don’t have to wait this long. Even if you only delay the first bath for 24 to 48 hours, your newborn benefits.
এসব কথাগুলো বিবেচনা করেই বিজ্ঞানীরা বলেন বাচ্চাদের ১ম গোসল যেনো ৬ ঘন্টা থেকে ২৪ কিংবা ৪৮ ঘন্ট পরে যেনো হয়।

Saturday, October 30, 2021

সতর্কতা হোক সর্বোচ্চ

 কোন মানুষকে কুকুর, গাধা, ছাগল বলে গালি দেওয়া যাবেনা!!

রাগান্বিত হলে বিভিন্ন পশু-পাখির নামে গালি দেওয়া মানুষের অভ্যাস। আবার কেউ কেউ বন্ধুদের মজা করে কুত্তা, গাধা ইত্যাদি বলে থাকে। এভাবে গালি দেওয়া মানবীয় মর্যাদার অবমাননা। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়েব (রহ.) ও ইবরাহিম নাখয়ি (রহ.) বলেন, তুমি তোমার সঙ্গীকে বোলো না, ওহে গাধা, এই কুকুর, হে শূকর! তাহলে কিয়ামতে আল্লাহ তোমাকে বলবে, তুমি কি আমাকে দেখেছ যে আমি তাকে কুকুর বানিয়েছি, গাধা বানিয়েছি কিংবা শূকর বানিয়েছি! (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ : ২৮২-২৮৩/৫ )
কাউকে ‘হে কুকুর’ বলে সম্মোধন কিংবা ‘হে গাধা’ বলে সম্মোধন করা বৈধ নয়। কেননা মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানবজাতির এই সম্মান ও মর্যাদা সর্বজনীন। প্রতিটি মানুষ সে বিশ্বাসী হোক বা অবিশ্বাসী, মৌলিক সম্মান ও অধিকারের ক্ষেত্রে সমান। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা থেকেও ‘সাধারণ সম্মান সব মানুষের জন্য’ প্রমাণিত হয়। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানবজাতিকে সম্মানিত করেছি, তাকে কর্তৃত্ব দিয়েছি স্থলে ও জলে, তাদের দিয়েছি উত্তম জীবিকা এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি আমার সৃষ্টিজগতের অনেকের ওপর।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭০)
রাসুল (সা.)-ও ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে মানুষকে সম্মান দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল (সা.)-এর পাশ দিয়ে একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। তাঁকে বলা হলো, লাশটি একজন ইহুদির। রাসুল (সা.) বলেন, সে কি মানুষ নয়?’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৯৬১)
মানুষের মতো মানব-ভ্রূণও ইসলামের দৃষ্টিতে সম্মানিত। ইসলাম শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া মানব-ভ্রূণ হত্যাকে নিষিদ্ধ করেছে। কেননা তা প্রকারান্তে মানব হত্যার শামিল এবং মানবসত্তার প্রতি অসম্মান। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা অভাব-অনটনের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা কোরো না।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১৫১)
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ সাধারণভাবে ক্ষমাপ্রাপ্ত। ক্ষমা প্রদানের মাধ্যমে আল্লাহ মানবজাতিকে সম্মানিত করেছেন। তাই নিছক ধারণার বশে কাউকে অভিযুক্ত করা বা শাস্তি দেওয়া যাবে না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের সবাই ক্ষমাপ্রাপ্ত। কিন্তু অপরাধ প্রকাশকারীরা ছাড়া...।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৬৯)
শুধু পশুর নামে নয়, যেকোনো ব্যঙ্গাত্মক নামে কাউকে ডাকা নিষিদ্ধ। ইসলামী শরিয়ত এভাবে মানুষের নাম নিয়ে ব্যঙ্গ করাকে মারাত্মক গুনাহ ও গর্হিত কাজ বলে ঘোষণা করেছে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘হে ঈমানদাররা, কোনো মুমিন সম্প্রদায় যেন অপর কোনো মুমিন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। কেননা যাদের উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীরা যেন অন্য নারীদের উপহাস না করে। কেননা যাদের উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। আর তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ কোরো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ নামে ডেকো না; ঈমানের পর মন্দ নাম অতি নিকৃষ্ট। আর যারা তাওবা করে না তারাই তো জালিম।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১১)
তাই আমাদের উচিত এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা।
-কালের কন্ঠ সূত্র

কচুর লতি

 Health benefits of arum Stolon

বাঙালির কাছে বহু দিন ধরেই কচুর লতি অতি পরিচিত একটি উপাদান। কিন্তু অনেকেরই কচুর লতি খেলে গলা চুলকায়। কিন্তু সেই সমস্যা বাদ দিলে কচুর লতির অনেক গুণ।
কচুর লতি কী কী উপকার করে?
• গরমকালে ঘাম হয়ে শরীর শুকিয়ে যায়। শীতকালে আবার জল কম খাওয়া হয়। তাতেও শরীর শুকিয়ে যায়। নিয়মিত কুচির লতির তরকারি খেলে শরীরে জল ধরা থাকে। শরীর শুকিয়ে যায় না।
• এতে প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন আর ভিটামিন বি রয়েছে। মস্তিষ্কের পুষ্টিতে এটি সাহায্য করে।
• কোলেস্টেরলের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা নিয়মিত খেতে পারেন কচুর লতির তরকারি। এটি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
• অনেকের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। রাতে চোখে ভাল দেখতে পান না অনেকেই। কচুর লতি নিয়মিত খেলে এই সমস্যাও কমে যায়।
এই গুণগুলি থাকলেও গলা চুলকানোর ভয়ে যাঁরা কচুর লতি এড়িয়ে চলেন, তাঁদের হাতেও এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার রাস্তা আছে। কচুর লতিতে থাকা অক্সালেটের কারণেই গলায় সমস্যা হয়। কচুর লতির তরকারিতে অল্প লেবুর রস মিশিয়ে নিলে এই সমস্যা একেবারে কেটে যায়

জান্নাতে যেতে কী পরিমাণ আমল লাগবে?

 মুসলমান হয়ে ইবাদত করে ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করলে জান্নাতবাসী হওয়া যাবে। এটি জান্নাতে যাওয়ার সহজ ও সাধারণ সূত্র। তবে যেকোনো আমল ইখলাসের সঙ্গে করা জান্নাত লাভের অপরিহার্য শর্ত।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের শরীর ও অবয়বের দিকে তাকান না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে লক্ষ্য করেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘তোমার ঈমানকে খাঁটি করো, অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট।’ (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান, হাদিস : ৬৪৪৩)
আমল সব সময় জান্নাতে যাওয়ার মানদণ্ড নয়। অন্যের অধিকার হরণ করে অনেক ইবাদত করেও জান্নাতে যাওয়া যাবে না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা কি জানো, প্রকৃত নিঃস্ব বা হতদরিদ্র কে? তারা বলেন, আমাদের মধ্যে নিঃস্ব ওই ব্যক্তি, যার কাছে কোনো অর্থকড়ি এবং কোনো আসবাব নেই। তিনি বলেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত নিঃস্ব ওই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন সালাত, সাওম ও জাকাত (নেকি) নিয়ে হাজির হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি সে এ অবস্থায় আসবে যে সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে, কারো সম্পদ (অবৈধভাবে) ভক্ষণ করেছে, কারো রক্তপাত করেছে এবং কাউকে মেরেছে। অতঃপর তাকে (অত্যাচারিত) তার নেকি দেওয়া হবে। পরিশেষে যদি তার নেকি অন্যদের দাবি পূরণ করার আগেই শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাদের পাপ নিয়ে তার ওপর নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৮১০)
তবে বিশেষ কিছু কাজ গুরুত্বের সঙ্গে করলে জান্নাতে যাওয়া যাবে। যেমন—মুখ ও গোপনাঙ্গের হেফাজত করা। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি উভয় ঠোঁটের মধ্যভাগ (জিহ্বা) ও দুই রানের মধ্যভাগ (লজ্জাস্থান) হেফাজতের দায়িত্ব গ্রহণ করে আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করি।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৪)
ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ। কবুলকৃত হজের প্রতিদান একমাত্র জান্নাত। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি হজ করে, কোনো অশ্লীল কথা বলে না এবং পাপকাজে লিপ্ত হয় না, সে মায়ের পেট থেকে জন্ম নেওয়ার দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে। আর কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।’ (বুখারি, হাদিস: ১৫২১)
যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের জন্য জান্নাত। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই খোদাভীরুরা থাকবে ছায়ায় ও প্রস্রবণসমূহে এবং তাদের বাঞ্ছিত ফলমূলের মধ্যে। বলা হবে, তোমরা যা করতে তার বিনিময় তৃপ্তির সঙ্গে পানাহার করো। এভাবেই আমি সত্কর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।’ (সুরা : মুরসালাত, আয়াত : ৪১-৪৪)
যারা দুনিয়ার জীবনে উদ্ধত হয় না, ফিতনা-ফ্যাসাদে লিপ্ত হয় না, তারাই জান্নাতে যাবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘এটা পরকালের সেই আবাস, যা আমি (আল্লাহ) নির্ধারণ করি তাদের জন্য, যারা এই পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৮৩)
কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করলে জান্নাতে যাওয়া যাবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘পক্ষান্তরে যে তার রবের সামনে (কিয়ামতের দিন) উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে, জান্নাতই হবে তার আবাস।’ (সুরা নাজিআত, আয়াত : ৪০-৪১)
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা ছোট আমলও কখনো জান্নাতে যাওয়ার কারণ হতে পারে। যেমন হাদিসে আছে, কুকুরকে পানি খাওয়ানোর বিনিময়েও মহান আল্লাহ এক ব্যভিচারী নারীকে জান্নাত দেবেন। আসলে কারো কারো জন্য জান্নাতে যাওয়া খুব সহজ হবে। কারো কারো জন্য তা হবে অনেক কঠিন। জান্নাতে যাওয়া কত সহজ—তার উদাহরণ হিসেবে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো—
আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে বসেছিলাম। এ সময় তিনি বলেন, এখন তোমাদের সামনে একজন জান্নাতি মানুষের আগমন ঘটবে। কিছুক্ষণ পর এক আনসারি ব্যক্তি উপস্থিত হলেন, যাঁর দাড়ি থেকে অজুর পানি টপকে পড়ছিল। পরের দিনও নবী (সা.) একই কথা বলেন। সেদিনও ওই আনসারি উপস্থিত হলেন, যিনি আগের দিন এসেছিলেন। তৃতীয় দিন নবী (সা.) বলেন, এখন তোমাদের সামনে এক জান্নাতি ব্যক্তি আসবে। কথা শেষে সেই আনসারি উপস্থিত হলেন এবং তাঁর অবস্থাও আগের দুই দিনের মতো ছিল। অর্থাৎ তাঁর দাড়ি দিয়ে পানি টপকাচ্ছিল আর তিনি নিজের জুতাজোড়া বাম হাতে ধরে রেখেছিলেন। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) চলে যাওয়ার পর আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) ওই আনসারি সাহাবির পিছু নেন। তিন দিন ওই সাহাবির বাড়িতে অবস্থান নেন।
তিন দিন অতিক্রমের পর আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) তাঁর আমল খুব নগণ্য মনে করেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তাঁর আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি, যে আমলের কারণে রাসুল (সা.) তাঁকে জান্নাতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আমাকে ডেকে বলেন, আমল তা-ই, যা আপনি দেখেছেন। তবে আমি কখনো কোনো মুসলমানকে ধোঁকা দেওয়ার কথা চিন্তা করি না এবং আমি কোনো ব্যক্তির কোনো কল্যাণে হিংসা করি না, যা তাকে আল্লাহ দান করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) এ কথা শুনে বলেন, এটাই সেই গুণ, যা আপনাকে সেই মর্যাদায় (জান্নাতি হওয়া) পৌঁছিয়েছে। আর এ গুণ অর্জন করার সামর্থ্য আমাদের নেই। [মুসনাদ আহমাদ : ২০/১২৪, হাদিস : ১২৬৯৭ (হাদিস সহিহ)]
মহান আল্লাহ আমাদের জান্নাতে যাওয়ার তাওফিক দান করুন।
মূল: মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
-কালের কন্ঠ

পটল

 কতটুক জানি?

পটলের সঙ্গে তার বীজগুলিও খেয়ে নিও
Health benefits eating of pointed gourd seeds
বাঙালির রান্নাঘরে পটলের নিত্য যাতায়াত। পটল দিয়ে রাঁধাও যায় বহু ধরনের তরকারি। পটল রাঁধার সময়ে অনেকে তার বীজগুলি ফেলে দেন। কেউ কেউ পটলের বীজ সমেতই রান্না করেন। বিশেষ করে পটল ভাজার ক্ষেত্রে অনেকেই রেখে দেন বীজগুলি। কিন্তু এই পটলের বীজ শরীরের উপর ঠিক কেমন প্রভাব ফেলে?
পটলের বীজ খেলে কী হয়? জেনে নেওয়া যাক।
• পটল কোলেস্টেরল এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। সেই একই কাজ করে পটলের বীজও। তবে আরও একটু বেশি মাত্রায়। পটলের বীজ শরীরে গেলে কোলেস্টেরল এবং রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
• পটল রান্নার সময়ে তার বীজগুলি ফেলে না দিয়ে, আরও একটি কারণে সেগুলি খাওয়া উচিত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পটলের বীজের কয়েকটি উপাদান রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে জ্বর-সর্দি-কাশিও কমে।
• পটল হজমের সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে। বীজ সমেত পটল অল্প করে থেঁতো করে নিন। তার সঙ্গে ধনে পাতা মিশিয়ে নিন। এ বার এটি অল্প জলে ভিজিয়ে রাখুন। দিনের মাথায় তিন-চার বার এই পানীয় পান করুন। হজমের সমস্যা কমবে।
• পটলের বীজের কয়েকটি উপাদান রক্ত পরিশুদ্ধ করতেও সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে। শরীরের দূষিত পদার্থ বার করে দিতেও সাহায্য করে এটি।
• যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা যদি নিয়মিত বীজ সমেত পটল খান, তা হলে এই সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, পটলের বীজের নানা রকম গুণ থাকলেও, এর আস্তরণটি রীতিমতো শক্তপোক্ত হয়। ফলে সেই আস্তরণটি ভাল করে হজম হয় না। খুব বিরল কিছু ক্ষেত্রে এর ফলে পেটে ব্যথা হতে পারে। তবে তার জন্য এর গুণের কথা ভুলে গেলে চলবে না।
-আনন্দবাজার থেকে

কাঁঠালঃ শূন্য কোলেস্টেরলের ফল

 কাঁঠাল শুধু সাইজেই বড় নয়, এর পুষ্টিগুণও অনেক ৷ এটাকে অনেকভাবেই খাওয়া যেতে পারে ৷ কাঁঠালের আচার, পকোড়া যেমন হয়, তেমনি রান্নাতে সবজি বানানোর সময়েও দেওয়া যায় কাঁঠাল ৷ পাকা কাঁঠাল আবার ফল হিসেবেও খান অনেকে (Health benefits of Jackfruit) ৷

কাঁঠালের আরও অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে ৷ কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, আয়রন এবং আরও অনেক কিছু ৷ এ ছাড়া এতে ফাইবারও রয়েছে ৷ ফলে অনেক রোগ থেকেই বাঁচায় এই ফল ৷ অনেক রোগের ক্ষেত্রেই ওষুধের মতো কাজ করে কাঁঠাল ৷
যাঁরা নিরামিষ খান তাঁদের পক্ষে মাছ-মাংস থেকে প্রোটিন পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাঁদের জন্য কাঁঠালের বীজ খুবই উপকারি। কারণ এতে থাকা প্রোটিন শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে।
কাঁঠালের বীজ রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে সেটি নিয়মিত খেলে শরীরে গ্যাস-অম্বল এবং বদহজমের মতো সমস্যাগুলি থেকে চিরতরে পাবেন মুক্তি। এর পাশাপাশি এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
কাঁঠালকে বলা হয় শূন্য কোলেস্টেরলের ফল, যা দেহের জন্য উপকারী। এছাড়াও কাঁঠাল ত্বকের জন্য ভালো। ত্বক উজ্জ্বল হয়। কাঁঠালে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকায় হাড়ের ক্ষয় ঠেকাতে পারে। এতে চর্বির পরিমাণ কম তাই বেশি খেলেও ওজন বাড়ে না।
কাঁঠালের বীজে রয়েছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি প্রখর করার পাশাপাশি চোখ সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যাকে দূরে রাখে।
যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের কাঁঠাল খাওয়ায় কিছুটা বিধিনিষেধ আছে। কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তাদের কাঁঠাল না খাওয়াই ভালো।
-নিউজ১৮

স্নান বা গোসল করা

 গোসল শব্দটি কোথা থেকে এলো?

উইকিপিডিয়া বলছে, 'গুসল' একটি আরবি শব্দ।
আপনি কি সকালে স্নান করার একেবারেই সময় পান না? দিনের শেষে বাড়ি ফিরে স্নান করাই আপনার অভ্যাস, নাকি সকালে স্নান না করে বাড়ি থেকে বেরনোর কথা ভাবতেই পারেন না?
আবার হয়তো যতোই সকালে স্নান করুন না কেন রাতে বাড়ি ফিরে ভালো করে স্নান না করলে আপনার ঘুমই আসে না। অভ্যাস অনুযায়ী আমরা একেক জন দিনের একেক সময় স্নান করতে পছন্দ করেন। জানেন কি সকালে, রাতে যে কোনও সময়ই স্নানের কিছু উপকারিতা রয়েছে? নিজের কাজ ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী আপনি ঠিক করুন কখন স্নান করবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাস্থ্যের জন্য দিনের কোন সময় স্নান করা বেশি উপযুক্ত?
কোন সময় স্নান করা বেশি উপকারী
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্নান করার জন্য কোনও ধরাবাঁধা সময় নেই। নিজের পছন্দমতো যে কোনও সময়ই স্নান করা যেতে পারে। সে সকাল হোক বা বিকেল। সকালে বা রাতে স্নান করার মধ্যে বিশাল কোনও পার্থক্য নেই। দুটি স্নানেরই নিজস্ব উপকারিতা রয়েছে। কাদের কোন সময় স্নান করা উচিত, তা জেনে নিন এখানে।
আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত ত্বক হয়, তাহলে ঘুম থেকে ওঠার পরই স্নান করে নেওয়া ভালো। ডার্মাটোলজিস্টদের মতে রাতে ঘুমনোর সময় আমাদের ত্বকের ওপরের স্তরে অতিরিক্ত তেল জমা হয়। সকালে উঠে স্নান করে না নিলে অ্যাকনে এবং ওপেন পোরসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আপনার যদি সকালে সহজে চোখ থেকে ঘুম না ছাড়ে, তাহলে স্নান করে নেওয়া ভালো। কারণ ঘুম তাড়াতে এক কাপ কফির থেকেও উপযোগী ভালো করে স্নান করে নেওয়া। সকালে স্নান করলে মেটাবলিজম রেট বাড়ে এবং নিজেকে ফ্রেশ লাগে।
সকালে যাঁদের ওয়ার্ক আউট করার অভ্যেস, তাঁরা ব্যায়াম করার পরই স্নান করে নিন। না হলে ওয়ার্ক আউটের পরের ঘাম শরীরে বসে যাবে। এই ঘাম থেকে ব্যাকটিরিয়ার জন্ম নিতে পারে।
যদি ক্রিয়েটিভ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাহলে মনকে তরতাজা করার জন্য সকাল সকাল স্নান করে নেওয়া খুবই ভালো।
যদি আপনার ঘুমের সমস্যা থাকে, তাহলে রাতে ঘুমনোর আগে স্নান করা প্রয়োজন। ভালো করে স্নান করে ঘুমোতে গেলে ঘুম ভালো হয় বলে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে।
আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয়, তাহলে সকালে নয়, রাতে স্নান করুন। সারাদিনের পর কাজের পর বাড়ি ফিরে স্নান করলে আপনার ত্বক ভালো থাকবে। সকালে স্নান করলে আপনার ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
আপনি যদি নিয়মিত বিছানার চাদর পরিষ্কার করতে না পারেন, তাহলে রাতে শোওয়ার আগে স্নান করে নিন। এতে আপনার বিছানা সহজে নোংরা হবে না।
আপনি যদি হাসপাতাল, নার্সিংহোম, ডায়াগনস্টিক ল্যাবে কাজ করেন বা সারাদিন বাইরে ঘুরে কাজ করতে হয়, তাহলে রাতে বাড়ি ফিরে স্নান করে নিন। কারণ সারাদিনে বহু মানুষ এবং নানা ধরনের জীবাণুর মধ্যে কাটাতে হয় আপনাকে। তাই বাড়ি ফিরে ভালো করে স্নান করে নেওয়া আপনার জন্য খুবই গুরুত্পূর্ণ।
আপনার যদি বিকেলে ওয়ার্ক আউট করার অভ্যেস থাকে, তাহলে রাতে স্নান করে নিন। না হলে ওয়ার্ক আউটের ঘাম শরীরে বসে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। ব্যায়াম করে স্নান সেরে ঘুমোতে গেলে ঘুম ভালো হবে।
-এইসময়
কতদিন পরপর গোসল করা উচিত?
২০১৯ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল প্রকাশিত এক জার্নালে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই তৃতীয়াংশ নাগরিক প্রতিদিন গোসল করেন।
অস্ট্রেলিয়ার ৮০ শতাংশ বাসিন্দা প্রতিদিন গোসল করেন, কিন্তু চীনের অর্ধেক জনগোষ্ঠী সপ্তাহে মাত্র দুইবার গোসল করেন।
কিন্তু মানুষ গোসল কেন করে?
এই প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তরে হয়ত বেশিরভাগ মানুষ বলবেন, এটি স্বাস্থ্যকর এবং আরামদায়ক বলে তারা বিশ্বাস করেন।
তবে সেই সঙ্গে শরীরের ময়লা, ও দুর্গন্ধ দূর করা, সবগুলো স্নায়ু একসঙ্গে সজাগ হয়ে ওঠাসহ নানা করণ এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, কেবল মানুষ নয়, পৃথিবীর প্রায় সকল প্রাণী গোসল করে।
ডার্মাটোলজিস্ট ডা. নাহিদ সুলতানা বলেছেন, গোসল সপ্তাহে কতদিন করতে হবে তার নির্দিষ্ট কোন হিসাব নেই।
এটি নির্ধারিত হতে হবে একজন মানুষের শারীরিক গঠন, বয়স, পরিবেশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী।
ডা. সুলতানা বলেন, "স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর ত্বকে সাধারণত নির্দিষ্ট স্তরের তেল, ভালো ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য মাইক্রো-অরগার্নিজমের একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান থাকা জরুরী।
ভালো ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রোটিন উৎপাদনে সাহায্য করে।"
তিনি বলেছেন, "কিন্তু বেশি গোসল করলে সেটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যে কারণে বেশিরভাগ মানুষের জন্যই সপ্তাহে কয়েকবার গোসল যথেষ্ট। সবচেয়ে ভালো হয় একদিন পর একদিন গোসল করতে পারলে।"
বেশি গরম পানিতে গোসল করলে, বেশি ক্ষারজাতীয় সাবানের অতিরিক্ত ব্যবহারে শরীরে তেল ও ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আবার সংক্ষিপ্ত গোসল হতে পারে। সেক্ষেত্রে বগল এবং কুচকি পরিষ্কার করে অল্প পানিতে অল্প সময় গোসল যথেষ্ট হবে।
পানি ছাড়া কি গোসল করা যায়?
উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ যায়। কিন্তু সাধারণত গোসলের কথা ভাবলে জলে ভেজা কোন ছবিই চোখের সামনে ভেসে উঠবে।
কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশে যেখানে আবহাওয়া ঠাণ্ডা, অথবা পানির সংকট আছে, সেখানে মানুষ যতটা সম্ভব কম পানি ব্যবহার করে গোসল করে।
কখনো কখনো পানি ছাড়া গোসলের নানা পদ্ধতির কথাও শোনা যায়।
যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সামরিক বাহিনীর সদস্য কিংবা নভোচারীদের মধ্যে পানি ছাড়া গোসলের নানা পদ্ধতির কথা শোনা যায়।
-বিবিসি সূত্র