Friday, December 31, 2021

যার মাঝে ৬টা গুণ আছে সে জাহান্নাম থেকে দূরে গিয়েছে

 ১) যে আল্লাহকে চেনে এবং তাঁর আনুগত্য করে।

২) যে শয়তানকে চেনে এবং তার অবাধ্যতা করে।
৩) যে সত্যকে জানে এবং তার অনুসরণ করে।
৪) যে মিথ্যাকে চেনে এবং তা থেকে দূরে থাকে।
৫) যে দুনিয়ার জীবনকে চেনে ও একে এড়িয়ে চলে।
৬) যে আখিরাতকে চেনে এবং তা অন্বেষণ করে।
আমাদের এই গুণগুলো অর্জন করতে হবে।
আসুন সচেষ্ট হই।

টমেটোর বদ-গুণগুলো

 টমেটোর বদ-গুণগুলো

মজাদার কোনো ফ্রাই খাচ্ছেন? সঙ্গে এক চামচ টমেটো সস বা টাটকা টমেটোর খানিকটা সালাদ? তোফা! স্বাদটা তখন বেড়ে যায় বহুগুণ। একই সঙ্গে শরীরে কিছু ভিটামিন আর পুষ্টিও যোগ হয়। সবজি বা ঝালঝোলেও মুখরোচক সবজি টমেটোর কদর কম নয়। কিন্তু টমেটো খেতে হবে পরিমাণমতো। এর অন্যথা হলেই শরীর-স্বাস্থ্য একটু গড়বড় হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা তা-ই বলছেন।
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর টমেটোর আছে নানা গুণ। টমেটো হচ্ছে একমাত্র সবজি, যাতে চার রকমের ক্যারোটিনয়েড বা ভিটামিন ‘এ’ আছে বিপুল পরিমাণে। এই ক্যারোটিনয়েড বা ভিটামিন ‘এ’ ত্বক ও চোখের সুস্থতা এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটিকে ফল হিসেবেও বিবেচনা করা যায়। বিশ্বজুড়ে টমেটোর নানা রকম ব্যবহার রয়েছে। এটি ত্বকের যত্নেও ব্যবহার হতে দেখা যায়। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে এটি মানুষকে রক্ষা করে বলে ধারণা করা হয়। খাবারে স্বাদ আনতেও অনেকে টমেটো ব্যবহার করেন। কিন্তু জানেন কি, টমেটোর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, যা এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
অতিরিক্ত টমেটো খেলে হজমে গন্ডগোল থেকে শুরু করে কিডনির সমস্যা, চুলকানির মতো শরীরে নানা সমস্যা হতে পারে। বেশি টমেটো খাওয়ার কয়েকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিন:
অম্লের প্রবাহ Acid Flow: টমেটোতে ম্যালিক অ্যাসিড ও সাইট্রিক অ্যাসিড আছে, যা পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড বা অম্লের প্রবাহ তৈরি করতে পারে। তাই বেশি টমেটো খেলে বুক জ্বালা করতে পারে। এমনকি পেটে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড বেশি হয়ে হজমে গন্ডগোল হয়। যাঁরা প্রায়ই পেটের সমস্যায় ভোগেন বা যাঁদের গ্যাস্ট্রোওফাজাল রিপ্লেক্স রোগ (জিইআরডি) আছে, তাঁদের অতিরিক্ত টমেটো খাওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত।
অ্যালার্জি Allergy: টমেটোতে হিস্টামিন নামের একধরনের যৌগ আছে, যা থেকে ত্বকে ছোপ ছোপ দাগ বা র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া নানা রকম অ্যালার্জি হতে পারে। যাঁদের টমেটো খেলে অ্যালার্জি হয়, তাঁরা টমেটোর ধারেকাছেও যাবেন না। কারণ, টমেটো মুখে দিলেই মুখের ভেতর চুলকানি, জিব ও গাল ফুলে যাওয়া, সর্দি ও গলা চুলকানোর মতো মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
কিডনিতে পাথর Kidney Stones: শুনতে আশ্চর্য লাগলেও অতিরিক্ত টমেটো খেলে কিডনিতে পাথর দেখা দিতে পারে। কারণ, টমেটোতে আছে ক্যালসিয়াম ও অক্সালেট। শরীরে এর মাত্রা বেড়ে গেলে তা শরীর থেকে সহজে দূর হয় না। এ উপাদান শরীরে জমে কিডনির পাথর তৈরি করতে শুরু করে।
গিঁটে বাত Gout: অতিরিক্ত টমেটো খেলে গিঁটে বাত দেখা দিতে পারে। এমনকি অস্থিসন্ধিগুলো ফুলে উঠতে পারে। কারণ, এতে সোলানিন নামে বিশেষ অ্যালকালয়েড থাকে। এ যৌগ বিভিন্ন কোষে ক্যালসিয়াম তৈরির জন্য দায়ী। এ যৌগের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা প্রদাহ তৈরি শুরু করে।
লাইকোপিনোডার্মিয়া Lycopenodermia: টমেটোতে লাইকোপেন আছে, এটা সবার জানা। টমেটোর লাইকোপেন প্রোস্টেট ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার রোধে সাহায্য করে। এটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৩১ শতাংশ কমাতে পারে। তবে অতিরিক্ত লাইকোপেন থেকে লাইকোপিনোডার্মিয়া নামের একধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। রক্তে লাইকোপেন বেড়ে গেলে ত্বকের রং বদলাতে শুরু করে। চিকিৎসকেরা বলেন, শরীরের জন্য লাইকোপেন ভালো হলেও দৈনিক ৭৫ মিলিগ্রামের বেশি গ্রহণ করা হলে তা লাইকোপিনোডার্মিয়ার দিকে চলে যেতে পারে।
ডায়রিয়া: টমেটোতে সালমোনেলা নামের একধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এটি ডায়রিয়ার জন্য দায়ী। তবে যাঁরা টমেটো সহ্য করতে পারেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে ছাড়া টমেটো খেলে ডায়রিয়া কম দেখা যায়।
পরামর্শ: স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর হলেও টমেটো পরিমিত খান। এতেই মঙ্গল।
সূত্র: এন.ডিটিভি/প্রথম আলো

টমেটো: কিছু গুণ

 টমেটো: কিছু গুণ

শীতকালীন সবজির মধ্যে টমেটো সবার কাছে অতি পরিচিত ও জনপ্রিয়। খাদ্যগুণে ভরপুর ও পুষ্টিকর। বাংলাদেশে শীতকালে ব্যাপকভাবে চাষ হয় এবং বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
টমেটোর বৈজ্ঞানিক নাম সোলানাম লাইকোপারসিকাম Solanum lycopersicum.
টমেটোতে আছে লাইকোপেন-Lycopene is the most powerful antioxidant. এই লাইকোপন উন্নতমানের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। তরমুজ, লাল আঙ্গুর এবং পেয়ারাতেও Lycopene আছে।
টমেটো হার্টের জন্য ভালো reduce risks of cardiovascular disease। কোলেস্টেরলের মাত্রা ও রক্তচাপ কমাতে সহায়ক এটি। তাই নিয়মিত টমেটো খেলে, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে আসবে।
ডায়াবেটিসের জন্য টমেটো বেশ উপকারী। এ সবজি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
টমেটোতে রয়েছে ভিটামিন এ যা দৃষ্টিশক্তিকে আরও উন্নত করে।
অর্জুন গাছের রসের সঙ্গে টমেটোর রস মিশিয়ে জেলি করে প্রতিদিন খেলে হার্ট ও বুকের ব্যথা কমে যায়।
টমেটোতে বিদ্যমান ভিটামিন-কে মজবুত হাড় গঠনে সহায়তা করে।
ধূমপান ছাড়তে সহায়ক ভূমিকা পালনের সঙ্গে সঙ্গে ধূমপানের কারণে শরীরে সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও কার্যকরী এ সবজি।
টমেটো শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সরবরাহ করে যা শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে করে।
চুল ও দাঁতের জন্য উপকারী এ সবজি।
কিডনিকে সুস্থ-সবল রাখতে ভূমিকা পালন করে টমেটো।
ত্বকের জন্য বিশেষভাবে উপকারী টমেটো। সৌন্দর্য সচেতন নারীরা অনেক সময় টমেটোকে ব্যবহার করেন দামী প্রসাধনীর বিকল্প হিসেবে।
মাথার খুশকি দূর করতে টমেটোর রসের সঙ্গে ১.৪ ভাগ পানি মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
বিশেষ কয়েক ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে পাকস্থলী, কোলোরেক্টাল ও প্রোস্টেট ক্যান্সার অন্যতম।
শারীরিক পরিশ্রমের পর টমেটোর রস যেকোনো কোমল পানীয়ের চেয়ে বেশি উপকারী। গবেষকরা বলেন, ব্যায়াম বা অন্য যেকোনো শারীরিক পরিশ্রমের পর টমেটোর রস পেশি পুনরুদ্ধারে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
টমেটো ন্যাচারাল অ্যান্টিসেপ্টিক। তাই ইনফেকশন রোধ করে।
যাদের বারবার পিপাসা লাগে বা গলা শুকিয়ে যায় তারা টমেটোর রস লবঙ্গ চূর্ণ (লং)-এর সাথে চিনিমিশিয়ে খান উপকার পাবেন।
ছোট বাচ্চাদের দিনে তিনবার অল্প করে টমেটোর রস খাওয়ালে বাচ্চা নিরোগ ও সবল দেহ নিয়ে গড়ে ওঠে।
টমেটোর লাইকোপেন পুরুষের শুক্রানু বৃদ্ধি ও শক্তিশালী করে। ফলে বাবা হওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

গ্যাস্ট্রোপেরেসিস

 Gastroparesis is a long-term (chronic) condition where the stomach cannot empty in the normal way. Food passes through the stomach slower than usual. It's thought to be the result of a problem with the nerves and muscles that control how the stomach empties.

গ্যাস্ট্রোপেরেসিস মানে হলো পাকস্থলীর প্যারালাইসিস বা স্থবির হওয়ার মতো একটি অবস্থা। সহজ ভাষায় বলতে গেলে গ্যাস্ট্রোপেরেসিস হলে পাকস্থলীর খাবার হজমের পরবর্তী প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যায়। কারণ, পাকস্থলী তার মধ্যকার খাবার সময়মতো পরিপাকতন্ত্রের পরবর্তী অংশ ডিউডেনামে ঠেলে দিতে পারে না।
আমাদের শরীরের স্নায়ুতন্ত্রে ভেগাস নার্ভ নামে একটি স্নায়ু আছে, যেটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এমনটি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিসের কারণে অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হয়ে ভেগাস নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তা ছাড়া পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রের কোনো অপারেশনের সময়ও ভেগাস নার্ভের ক্ষতি হতে পারে। কিছু রোগের কারণেও গ্যাস্ট্রোপেরেসিস হতে পারে। কিছু কিছু ওষুধ এর জন্য দায়ী হয়ে থাকে।
কীভাবে বুঝবেন
ক্ষুধামান্দ্য, বমি বমি ভাব, বমি, পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা, অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স, স্বাস্থ্যহানি, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে এর কারণে। সামান্য কিছু খেলেই পেট ভরা লাগে, সহজে আর খেতে ইচ্ছা করে না।
চিকিৎসা কী
● একবারে বেশি খাওয়া যাবে না। সারা দিনে ভাগ করে কম কম করে খেতে হবে। খাবার সময় নিয়ে ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে।
● অ্যালকোহল ও ধূমপান বর্জন করুন। পানি বেশি করে পান করতে হবে।
● কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হয়, কখনো কখনো শল্যচিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে।
জটিলতা
গ্যাস্ট্রোপেরেসিসের কারণে পানিশূন্যতা, অপুষ্টি, অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়াল ওভার গ্রোথ ইত্যাদি হতে পারে। তা ছাড়া কিছু নির্দিষ্ট খাবার দীর্ঘদিন জমতে জমতে শক্ত চাকা হয়ে যেতে পারে, যেটাকে মেডিকেলের ভাষায় বিজোয়ার বলা হয়ে থাকে। এটি বের করতে অনেক সময় সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

দুধ কলা একসঙ্গে খাওয়া যাবে?

 ১। দুধ ও কলা আলাদা দুই ধরনের দুটি খাবার। দুধে প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২ এবং রিবোফ্লেভিন ও ক্যালসিয়ামের মত খনিজ পদার্থ আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম দুধে রয়েছে ৪২ ক্যালরি। যদিও ‘সুষম খাদ্য দুধ’ কথাটি এখন যথার্থ মনে হয় না কারণ দুধে ভিটামিন সি, হজম আঁশ নেই। সেই সঙ্গে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও কম।

২। অন্যদিকে, কলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৬, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি, পাচক আঁশ, পটাশিয়াম এবং বায়োটিন আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম কলায় ৮৯ ক্যালরি থাকে। কলা আমাদের পাকস্থলিকে ভারী করে রাখে এবং আমাদেরকে অনেকক্ষণ ‘পেট ভরা’ অনুভূতি দেয়।
৩। অনেকেই মনে করেন কলা ও দুধ একসঙ্গে খাওয়া ভাল। কিন্তু গবেষণা বলছে এমনটা ঠিক না। গবেষকদের মতে, দুধ ও কলা একসঙ্গে খেলে তা যে শুধু আমাদের হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা করে তাই নয়। তা আমাদের সাইনাসের শোষনকেও ব্যাহত করে। এটা আমাদের সাইনাসের সমস্যা সৃষ্টি করে এবং অ্যালার্জির কারণও হতে পারে। তাই
৪। অনেকে দুধ ও কলা একসঙ্গে খাওয়া অনেকেই সমর্থন করলেও দুধ-কলা একসঙ্গে খেলে আমাদের বমি বমি ভাব আনতে পারে।
৫। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রেও দুধ ও কলা একত্রে খাওয়ার নেতিবাচক প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। দুধ ও কলা একঙ্গে খেলে আমাদের দেহে টক্সিফিকেশন হতে পারে যা দেশের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয়। সেই সঙ্গে দুধ ও কলা একসঙ্গে খেলে তা আমাদের মধ্যে গুরুতর হতাশা তৈরি করতে পারে এবং আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
তাই গবেষকরা বলছেন দুধ ও কলা একসঙ্গে খাওয়া যাবে না। যদি আপনি কোনো শারীরিক অনুশীলনের আগে বা পরে দুধ-কলা খেতে চান তাহলে দুধ খাবার অন্তত ২০ মিনিট পর কলা খেতে পারেন। আর যদি দুগ্ধজাত কোনও খাবারের সঙ্গে কলা খেতে চান তবে দই এর সঙ্গে খেতে পারেন।
যদিও আয়ুর্বেদ অনুসারে কলা এবং দুধকে বেমানান বলে মনে করা হয়, তবে তারা আপনার স্বাস্থ্য বা হজমের ক্ষতি করে এমন দাবিকে সমর্থন করার জন্য কোন গবেষণা নেই।
-www-healthline-com

বাধা-বিঘ্ন

Obstacles and Difficulties

দৈন্য অসে আসুক লজ্জা কি বা তাহে
দৈন্য যদি আসে আসুক, লজ্জা কিবা তাহে?
মাথা উঁচু রাখিস।
সুখের সাথী মুখের পানে যদি না চাহে
ধৈর্য ধরে থাকিস।
রুদ্ররূপে তীব্র দুঃখ যদি আসে নেমে,
বুক ফুলিয়ে দাঁড়াস।
আকাশ যদি বজ্র নিয়ে মাথায় পড়ে ভেঙে
র্ঊর্ধ্বে দু’হাত বাড়াস।
জীবনের চলার পথে দুঃখ, দারিদ্র্যের মতো নানা প্রতিবন্ধকতা এসে জীবনকে রুদ্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু তাতে ভয় পেয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলা উচিত নয়। বরং সকল প্রতিকূল অবস্থাকে মোকাবেলা করার সাহস হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।
Life will bring obstacles and difficulties. They do not come to stop you. They come to strengthen you and help you progress with more experience.
Keep advancing. One day is not the same as another.
Sometimes you do not have to find a solution, it is enough to keep moving forward, leaving the obstacle behind.
-thoughtfortoday

ধৈর্য

 মানবজীবন পরীক্ষাস্বরূপ। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত কোরআন মাজিদে বলেন, ‘মহামহিমান্বিত তিনি সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর করায়ত্ত; তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদিগকে পরীক্ষা করার জন্য—কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল। (সুরা-৬৭ মুলক, আয়াত: ১-২)। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তোমাদিগকে অবশ্যই পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধনসম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। তুমি শুভ সংবাদ দাও ধৈর্যশীলগণকে—যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে, “আমরা তো আল্লাহরই এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী”।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৫-১৫৭)।

বিপদাপদ ও বালা-মুসিবত থেকে পরিত্রাণের পথ সবর ও সালাত তথা নামাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সহিত আছেন।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৩)। তাই আমরা বিপদ-আপদে পড়ি, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ (নিশ্চয় আমরা তো আল্লাহরই এবং নিশ্চিতভাবে আমরা তাঁর নিকটেই প্রত্যাবর্তনকারী)।
ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক হজরত আইয়ুব (আ.) আঠারো বছর পর্যন্ত সহিষ্ণুতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে পরম সাফল্য লাভ করেছিলেন। নবী হজরত ইউনুস (আ.)-কে সামান্য অধৈর্য হওয়ার কারণে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রাতের আঁধারে উত্তাল সমুদ্রবক্ষে হিংস্র মতস্যের উদরে যেতে হয়েছিল। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে উদ্দেশ করে কোরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব, তুমি ধৈর্য ধারণ করো তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষায়, তুমি মতস্য-সহচর (ইউনুস আ.)-এর ন্যায় অধৈর্য হয়ো না, সে বিষাদাচ্ছন্ন অবস্থায় কাতর প্রার্থনা করেছিল—আপনি ব্যতীত কোনো মাবুদ নাই, আপনি পবিত্র; নিশ্চয় আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত। তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাকে দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত করলাম। এভাবেই আমি সতকর্মশীলদের মুক্তি দিয়ে থাকি।’ (সুরা-৬৮ কলম, আয়াত: ৪৮-৫০)।
পবিত্র কোরআনে স্থানে স্থানে মহান আল্লাহ নিজেকে ধৈর্যশীল ও পরম সহিষ্ণু হিসেবে পরিচয় প্রদান করেছেন। ধৈর্যের আরবি হলো সবর। সহিষ্ণুতার আরবি হলো হিলম। সবর ও হিলম শব্দদ্বয়ের মধ্যে কিঞ্চিত তাত্ত্বিক পার্থক্য রয়েছে। সবর তথা ধৈর্য হলো অপারগতার কারণে বা অসমর্থ ও অসহায় হয়ে প্রতিকারের চেষ্টা বা প্রতিরোধ না করা। হিলম, অর্থাত সহিষ্ণুতা মানে হলো শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ গ্রহণ না করা। এ অর্থে সবর বা ধৈর্য অপেক্ষা হিলম তথা সহিষ্ণুতা উন্নততর অবস্থা। তবে এ উভয় শব্দ কখনো কখনো অভিন্ন অর্থে তথা উভয় অর্থে ও একে অন্যের স্থানে ব্যবহৃত হয়। হিলম তথা সহিষ্ণুতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ তো সম্যক প্রজ্ঞাময়, পরম সহনশীল।’ (সুরা-২২ হজ, আয়াত; ৫৯)। সবর, অর্থাত ধৈর্যের ব্যাপারে হজরত আইয়ুব (আ.) সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তো তাকে পেলাম ধৈর্যশীল। সে কত উত্তম বান্দা! সে ছিল আমার অভিমুখী।’ (সুরা-৩৮ ছদ, আয়াত: ৪৪)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতা করো এবং সুসম্পর্ক স্থাপনে আত্মনিয়ন্ত্রণের সংগ্রামে অবিচল থাকো, আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত: ২০০)। আল্লাহ তাআলা ধৈর্যধারণকারীর সঙ্গে থাকেন; আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যার সঙ্গে থাকবেন, তার সফলতা অবধারিত ও সুনিশ্চিত।
সবর তিন প্রকার। যথাঃ
১. ‘সবর আনিল মাসিয়াত’, অর্থাত অন্যায়-অপরাধ হতে বিরত থাকা।
২. ‘সবর আলাত তআত’, অর্থাত ইবাদত আল্লাহর আনুগত্য ও সতকর্মে কষ্ট স্বীকার করা।
৩. ‘সবর আলাল মুসিবাত’, অর্থাত বিপদে অধীর না হওয়া। (তাফসিরে বায়জাবি)। কোনো ব্যক্তি যদি উক্ত অর্থে ধৈর্য অবলম্বন করেন; তাঁর জীবনে পূর্ণতা ও সফলতা অবশ্যম্ভাবী।
প্রথমত, অন্যায়-অপরাধ তথা পাপকার্য থেকে বিরত থাকা সব ধরনের অকল্যাণ ও গ্লানি থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়।
দ্বিতীয়ত, ইবাদত ও সতকর্ম সম্পাদন করা সফলতার একমাত্র সোপান।
তৃতীয়ত, প্রতিকূলতায় দৃঢ়পদ থাকা লক্ষ্যে পৌঁছার একমাত্র মাধ্যম। সুতরাং ‘সবর কামিল’ বা পরিপূর্ণ ধৈর্যই মানবজীবনকে পূর্ণতা দিতে পারে।
আমাদের উচিত সব অনভিপ্রেত অবস্থায়, যেকোনো অযাচিত পরিবেশ ও অনাহুত পরিস্থিতিতে নিজেকে সংযত রেখে দৃঢ়তার সঙ্গে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাওয়া। তবেই আল্লাহর সাহায্য আমাদের সাথি হবে, আল্লাহ আমাদের সঙ্গী হবেন।
মানুষ সামাজিক জীব, কখনো বিচ্ছিন্নভাবে একা বসবাস করতে পারে না। সমাজবদ্ধভাবে থাকতে গেলে ক্ষমা, দয়ামায়া ও ভালোবাসা থাকতে হবে। শান্তির সমাজ, স্থিতিশীলতা ও সহাবস্থানের জন্য সহনশীলতা অপরিহার্য।
Patience teaches us to sow the seed in the form of right actions and to allow the fruits of those actions to ripen in their own time.
I don’t need to think about the future benefits of what I do now, because I know I will receive what I need when the time is right.
If I let go of expectations and allow things to develop in their own time, I will be able to enjoy what I am doing in the present, and the future will automatically become good.
রেফারেন্সগুলোঃ
১. থ্যট ফর টুডে
২. প্রথম আলো