Thursday, September 29, 2022

ওজন কমাতে সকালে বেশি খান

 একটা প্রবাদ আছে, সকালে খাও রাজার মতো, দুপুরে প্রজার মতো আর রাতে ভিখারির মতো। এটাই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিনের সাম্প্রতিকতম গবেষণার ফলাফলে আবারও প্রমাণিত হলো প্রবাদটির সঠিকতা। গবেষণায় বলা হচ্ছে, সকালে যত বেশি আর স্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন, সারাদিনে আপনার খিদে লাগার প্রবণতা ততই কম থাকবে। শরীরের মেটাবলিজম সিস্টেমও ঠিক থাকবে। এর সঙ্গে রাতে অল্প খেলে সেটা হতে পারে আপনার ওজন কমানোর সবচেয়ে সহায়ক শক্তি।

সকালের ভারি নাশতায় সম্ভাব্য কী কী থাকতে পারে, পুষ্টিবিদদের পরামর্শে তারও একটা তালিকা দেওয়া হয়েছে। ওটমিল, প্যানকেক, স্যান্ডউইচ, আটার রুটি, খিচুড়ি, পাউরুটি, স্মুদি, দই, ডিম, সসেজ, মাশরুম, ফল, গ্রিন টি। এই গবেষণায় অন্যতম গবেষক অধ্যাপক জসস্টোন বলেন, ব্যস্ততম জীবনে মানুষ সর্বোচ্চ সময় ঘুমাতে চান। আর এ কারণে তাঁরা প্রায়ই সকালের নাশতা না খেয়েই বেরিয়ে পড়েন। রাতে ভারি খাবার খান। এটা একদম ভুল।
সকালের নাশতা না খেয়েই বেরিয়ে পড়া দিনের সবচেয়ে বড় ভুল
-প্রথম আলো

১০(দশ) প্রকার লোকের দেহ পচবে না!

 জানি ও জানাই

ভালো করে পড়ি।
হাদিসে আছে ৩ প্রকার লোকের দেহ পচবে না। সেখানে কুরআনে হাফেজ এবং আলেম-এর কথা উল্লেখ করা আছে। তাদের দেহ না পচার ব্যাখ্যা কী?
সম্মানিত দ্বীনি ভাই, আপনি যে হাদিসটির থেকে উল্লেখিত তিন প্রকার লোকের দেহ না পচার উদ্ধৃতি দিলেন, সে হাদিসটি লিপিবদ্ধ আছে লেখক মৌলভী শামসুল হুদা রচিত "নেয়ামুল কোরআন" নামক গ্রন্থের ২৪৫ নং পৃষ্ঠায়। সেখানে উল্লেখ আছেঃ
১০(দশ) প্রকার লোকের দেহ পচবে না!
“হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, নিম্নলিখিত দশ প্রকার লোকের দেহ কবরে পঁচবে না:
১) পয়গম্বর,
২) শহীদ,
৩) আলেম,
৪) গাজী,
৫) কুরআনের হাফেয,
৬) মোয়াযযিন,
৭) সুবিচারক বাদশাহ বা সরদার,
৮) সূতিকা রোগে মৃত রমণী,
৯) বিনা অপরাধে নিহত ব্যাক্তি,
১০) শুক্রবারে যার মৃত্যু হয়"।
মূলত "নেয়ামুল কোরআন" নামক গ্রন্থে উল্লেখিত এ হাদিসটিকে বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব জনাব ড.খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রঃ) তার রচিত "হাদিসের নামে জালিয়াতি" নামক গ্রন্থে জাল হাদিস বলে চিহ্নিত করে তিনি লিখেছেন।
"উল্লেখিত ব্যক্তিদের অনেককেই হাদীসে শহীদ বলা হয়েছে। তবে একমাত্র নবীগণ বা পয়গম্বরগণের দেহ মাটিতে পচবে না বলে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। অন্য নয় প্রকারের মৃতগণের মৃতদেহ না পচার বিষয়ে কোনো হাদীস আছে বলে আমি সাধ্যমত চেষ্টা করেও তা জানতে পারি নি । আল্লাহই ভাল জানেন"।
(সুত্রঃ হাদিসের নামে জালিয়াতি, পৃষ্ঠা নং ৬০৫)
সুতরাং আমরা বিজ্ঞ আলেমের (ইসলাম ধর্ম নিয়ে পি,এইচ,ডি) [1] উপরোক্ত আলোচনার আলোকে জানতে পারলাম "নেয়ামুল কোরআন" নামক গ্রন্থে উল্লেখিত হাদিসটি জাল বা ভিত্তিহীন।
এখানে আরো একটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় যে, পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন শহীদদের মর্যাদা নিয়ে কথা বলেছেন। তাদের মর্যাদা বর্ণনা করে আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেনঃ-
"যারা আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করে, তাদেরকে মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত; কিন্তু তা তোমরা উপলব্ধি করতে পার না"।
(সূরা বাকারাহ, আয়াতঃ- ১৫৪)

চাপ, কষ্ট, আঁধার কি ইতিবাচক হতে পারে?

 আমি বলবো ইতিবাচক হতে পারে।

কিভাবে?
মনে রাখিঃ
প্রবল চাপে না থাকলে কয়লা থেকে হীরা তৈরী হয় না
জলপাই বা অলিভকে প্রচন্ড চাপ দিলে অলিভ অয়েল পাওয়া যায়
বীজ আঁধারে না রইলে চারা গজায় না
দ্রাক্ষা বা আঙ্গুরকে না পিষলে সুরা তৈরী হয় না
এ সবই বিশেষ ধরনের উদাহরণ।
তাই তুমি যখন প্রবল কষ্টে চূর্ণ বিচূর্ণ হতে থাকো, প্রবল চাপে থাকো, আঁধারে হাবুডুবু খাও-
বুঝে নিও যে তুমি ভালোর দিকে পরিবর্তিত হওয়ার জন্য এক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছো।

ইসলামে স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের তাগিদ

 পবিত্র হাদিস শরিফে স্ত্রীকে স্বামীর চারিত্রিক সনদদাতা আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ঈমানে পরিপূর্ণ মুসলমান হচ্ছে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি। যেসব লোক নিজেদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম তারাই তোমাদের মধ্যে অতি উত্তম। (তিরমিজি, হাদিস : ১১৬২)
স্ত্রীর কাছে চারিত্রিক সনদ পেতে হলে তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। নিম্নে কোরআন-হাদিসের আলোকে স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কিছু পদ্ধতি তুলে ধরা হলো—
স্ত্রীর মোহর আদায়ে যত্নবান হওয়া : নারীদের তাদের মোহর স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে দেবে, অতঃপর তারা যদি সন্তোষের সঙ্গে তা থেকে তোমাদের জন্য কিছু ছেড়ে দেয়, তবে তা তৃপ্তির সঙ্গে ভোগ করো। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪)
স্ত্রীকে সদুপদেশ দেওয়া : স্ত্রী কখনো কোনো ভুল করে ফেলে তাকে শারীরিক বা মানসিক অত্যাচার না করে সুন্দর নসিহতের মাধ্যমে বোঝানো। রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা নারীদের উত্তম নসিহত প্রদান করবে। কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে ওপরের হাড়টি বেশি বাঁকা। তুমি যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে তা ভেঙে যাবে আর যদি ছেড়ে দাও, তাহলে সব সময় তা বাঁকাই থাকবে। কাজেই নারীদের নসিহত করতে থাকো। (বুখারি, হাদিস : ৩৩৩১)
সামর্থ্য অনুযায়ী ভরণ-পোষণ দেওয়া : মুআবিয়াহ আল-কুশাইরি (রা.) বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললাম, আমাদের স্ত্রীদের (হক) সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বলেন, তোমরা যা খাবে তাদেরকেও তা-ই খাওয়াবে এবং তোমরা যা পরবে, তাদেরকেও তা পরিধান করাবে। তাদেরকে প্রহার করবে না এবং গালিগালাজ করবে না। (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৪৪)
স্ত্রীর সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা : রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহারের উপদেশ শুনে নাও... সাবধান! তোমাদের ওপর তাদের অধিকার এই যে, তাদের ভরণ-পোষণ, পোশাক-পরিচ্ছদ ও সজ্জার ব্যাপারে তোমরা তাদের প্রতি শোভনীয় আচরণ করবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৮৫১)
স্ত্রীর কোনো জায়েজ কাজকে ঘৃণা না করা : একেক মানুষের চিন্তা-চেতনা একেক রকম, তাই জায়েজ কোনো বিষয়ে স্ত্রীর কোনো অভ্যাস পছন্দ না হলেও তাকে ঘৃণা না করা। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো মুমিন পুরুষ কোনো মুমিন নারীর প্রতি বিদ্বেষ-ঘৃণা পোষণ করবে না; (কেননা) তার কোনো (জায়েজ) অভ্যাসকে অপছন্দ করলে তার অন্য কোনো অভ্যাস সে পছন্দ করবে। (মুসলিম, হাদিস : ৩৫৪০)
স্ত্রীর সুবিধা-অসুবিধা লক্ষ করা : আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মু সুলায়ম (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রীদের সঙ্গে ছিলেন এবং একজন উটচালক তাঁদের উট হাঁকাচ্ছিল। রাসুল (সা.) বলেন, হে আনজাশাহ! কাচপাত্র নিয়ে আস্তে চলো। (মুসলিম, হাদিস : ৫৯৩৩)
স্ত্রীদের প্রতি যত্নশীল হওয়া : মহানবী (সা.) তাঁর স্ত্রীদের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তিনি প্রতিদিন সব স্ত্রীর খোঁজ নিতেন এবং সবার সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটাতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ফজরের নামাজের পর নবী (সা.) নামাজের স্থানে বসে থাকতেন। সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত লোকেরাও তাঁর চারপাশে বসে থাকত। অতঃপর তিনি তাঁর প্রত্যেক স্ত্রীর কাছে যেতেন, তাদের সালাম দিতেন, তাদের জন্য দোয়া করতেন আর যার দিন থাকত তার কাছে গিয়ে বসতেন। (তিবরানি, হাদিস : ৮৭৬৪)
এ ছাড়া রাসুল (সা.) প্রতি রাতে সব স্ত্রীদের একত্র করে তাঁদের খোঁজ নিতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, খুব কম দিনই হতো যে রাসুল (সা.) তাঁর সব স্ত্রীর কাছে যেতেন না এবং তাদের সঙ্গে সহবাস ছাড়া ঘনিষ্ঠ (আলিঙ্গন ও চুম্বন) হতেন না। (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৩৭)
চিত্তবিনোদন ও মানসিক প্রশান্তির ব্যবস্থা করা : স্ত্রীদের মানসিক প্রশান্তির জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের সঙ্গে ক্রীড়া-কৌতুকও করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক সফরে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন, তখন তিনি কিশোরী। রাসুল (সা.) সঙ্গীদের বললেন, তোমরা এগিয়ে যাও। অতঃপর আয়েশা (রা.)-কে বলেন, এসো দৌড় প্রতিযোগিতা করি। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম এবং দৌড়ে এগিয়ে গেলাম। (আস-সুনানুল কুবরা লিন-নাসায়ি, হাদিস : ৮৯৪৫)
সাংসারিক কাজে সহযোগিতা করা : মহানবী (সা.) সাংসারিক কাজে স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সা.) জুতা ঠিক করতেন, কাপড় সেলাই করতেন এবং তোমরা যেমন ঘরে কাজ করো তেমনি কাজ করতেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৫৩৮০)
মান-অভিমানে সহানুভূতিশীল হওয়া : স্ত্রীরা কখনো অভিমান করলে বা মন খারাপ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতেন। এক সফরে রাসুলুল্লাহ (সা.) এগিয়ে যান এবং সাফিয়া (রা.) পিছিয়ে পড়েন। এতে তিনি কেঁদে ফেলেন। মহানবী (সা.) তখন নিজ হাতে তাঁর চোখ মুছে দেন এবং কাঁদতে নিষেধ করেন। (সুনানে কুবরা লিন-নাসায়ি, হাদিস : ৯১৬২)
স্ত্রীদের সঙ্গে খুনসুটি করা : মহানবী (সা.) তাঁর আচার-আচরণে স্ত্রীদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতেন এবং নানা খুনসুটি করতেন তাঁদের সঙ্গে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি ও রাসুলুল্লাহ (সা.) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম, যা আমাদের মধ্যে থাকত। তিনি আমার চেয়ে অগ্রগামী হলে আমি বলতাম, আমার জন্য রাখুন! আমার জন্য রাখুন!! (মুসলিম, হাদিস : ৩২১)
স্ত্রীদের অবদান স্বীকার করা : খাদিজা (রা.) সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মানুষ যখন আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তখন সে আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে, মানুষ যখন আমাকে বঞ্চিত করেছে তখন সে তার সম্পদ দ্বারা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে, আল্লাহ আমাকে তার গর্ভ থেকে সন্তান দিয়েছেন যখন তিনি অন্য স্ত্রীদের সন্তান থেকে আমাকে বঞ্চিত করেছেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৪৮৬৪)
-কালের কন্ঠ

কুরআন যাদেরকে ‘পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট’ বলেছে

 মানুষ ‘সৃষ্টির সেরা জীব’ হলেও কিছু মানুষকে আল্লাহ তাআলা চতুষ্পদ প্রাণীর চেয়েও নিকৃষ্ট বলেছেন। ‘..তারা (মানুষ হয়েও) পশুর মতো, বরং পশুর চেয়েও বেশি নিকৃষ্ট’ ulaaa'ika kal an'aami bal hum adall (সুরা আরাফ: ১৭৯)। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, ব্যাপকভাবে মানুষ বলতেই সৃষ্টির সেরা নয়; বরং কোনো ক্ষেত্রে মানুষ পশু থেকেও নিকৃষ্ট হয়ে থাকে।

এছাড়াও সুষ্ঠু বিবেক ও সঠিক জ্ঞান দেওয়া হয়েছে মানুষকে। দেওয়া হয়েছে অন্তর, স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের অন্তর রয়েছে অথচ তারা তা দ্বারা উপলব্ধি করে না’ lahum quloobul laa yafqahoona bihaa wa lahum a'yunul laa yubisiroona bihaa wa lahum aazaanul laa yasma'oona bihaa (সুরা আরাফ: ১৭৯)। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘তারা কি কোরআন সম্পর্কে মনোযোগসহ চিন্তাভাবনা করে না, নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ!’ Afalaa yatadabbaroonal Qur-aana am 'alaa quloobin aqfaaluhaa (সুরা মুহাম্মদ: ২৪)
আল্লাহকে চিনতে না পারাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি? তবে তারা জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিশক্তিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতো’ Afalam yaseeroo fil ardi fatakoona lahum quloobuny ya'qiloona bihaaa aw aazaanuny yasma'oona bihaa fa innahaa laa ta'mal absaaru wa laakin ta'mal quloobul latee fissudoor(সুরা হজ: ৪৬)।
সৃষ্টিকুলের সবকিছুকে তিনি মানুষের অনুগত করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মহান আল্লাহ সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সব কিছু সৃষ্টি করেছেন’ Huwal lazee khalaqa lakum maa fil ardi jamee'an (সুরা বাকারা: ২৯)। সুতরাং আল্লাহ প্রদত্ত এই অধিকার যথাযথভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে পৃথিবীর সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা, একইসঙ্গে নিজের স্রষ্টার আদেশ-নিষেধকে মেনে নিয়ে তাঁরই বিধান গ্রহণ করা মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের বৈশিষ্ট্য।
কিন্তু যারা মহান স্রষ্টার অবাধ্যতা করে, তাদের বিবেক, জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি অর্থহীন হয়ে গেল। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যারা পৃথিবীর সুন্দর পরিবেশ কলুষিত করে, তারা মানবতার শত্রু। তাই মানুষ হয়েও তারা চতুষ্পদ প্রাণী বা তার চেয়েও নিকৃষ্ট।
আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আমি অবশ্যই বহু মানুষ ও জিনকে দোজখের জন্যে নির্ধারিত করেছি; কারণ তাদের অন্তর আছে, কিন্তু তারা সত্যকে উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ থাকলেও তা দিয়ে তারা সত্যকে দেখে না, তাদের কান আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা সত্যবাণী শোনে না। ওরা পশুর মতো; বরং তার চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট; নিশ্চয়ই তারা উদাসীন।’ (সুরা আরাফ: ১৭৯)
আয়াতের অর্থ এই নয় যে, আমি বিনা কারণে তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার জন্যই সৃষ্টি করেছিলাম, বরং এর সঠিক অর্থ হচ্ছে, আমি তো তাদেরকে হৃদয়, মস্তিষ্ক, কান, চোখ সবকিছুসহ সৃষ্টি করেছিলাম। কিন্তু এরা এগুলোকে যথাযথভাবে ব্যবহার করেনি এবং নিজেদের অসৎ কাজের বদৌলতে শেষ পর্যন্ত তারা জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হয়েছে। সুতরাং তাদের আমলই তাদেরকে জাহান্নামের উপযুক্ত করেছে। তাদের জাহান্নাম দেওয়া আল্লাহর ইনসাফের চাহিদা। সে হিসেবে তিনি যেহেতু আগে থেকেই জানেন যে, তারা জাহান্নামে যাবে, সুতরাং তাদেরকে যেন তিনি জাহান্নামের আগুনে শাস্তি দেয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। (ফাতহুল কাদির)
আয়াতের পরের অংশে বলা হয়েছে, এরা কিছুই বোঝে না, কোনো কিছু দেখেও না এবং শুনেও না। অথচ বাস্তবে এরা পাগল বা উম্মাদ নয় যে, কিছুই বুঝতে পারে না। অন্ধও নয় যে, কোন কিছু দেখবে না, কিংবা বধিরও নয় যে, কোন কিছু শুনবে না; বরং প্রকৃতপক্ষে এরা পার্থিব বিষয়ে অধিকাংশ লোকের তুলনায় অধিক সতর্ক ও চতুর। উদ্দেশ্য এই যে, তাদের যা উপলব্ধি করা উচিত ছিল তারা তা করেনি, যা দেখা উচিত ছিল তা তারা দেখেনি, যা কিছু তাদের শোনা উচিত ছিল তা তারা শোনেনি। আর যা কিছু বুঝেছে, দেখেছে এবং শুনেছে, তা সবই ছিল সাধারণ জীবজন্তুর পর্যায়ের, যাতে গাধা-ঘোড়া, গরু-ছাগল সবই সমান।
তাছাড়া, জীব-জন্তু নিজের প্রভু ও মালিকের সেবা যথার্থই সম্পাদন করে। পক্ষান্তরে অকৃতজ্ঞ মানুষ স্বীয় মালিক, পালনকর্তার আনুগত্যে ত্রুটি করতে থাকে। সেকারণে তারা চতুস্পদ জন্তু অপেক্ষা বেশি নির্বোধ ও গাফেল। কাজেই বলা হয়েছে “এরাই হলো প্রকৃত গাফেল।” (তাবারি; ইবনে কাসির)
এ আয়াতের দুটি শিক্ষা
১) সবাই ঈমান আনবে বা সব মানুষই সংশোধিত হবে এমন আশা করা উচিত নয়। কারণ, মহান আল্লাহ মানুষকে পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়ায় অনেক মানুষ ভুল পথ নির্বাচন করবে এবং দোজখে যাবে এটাই স্বাভাবিক।
২) মানুষের মনুষ্যত্বের মানদণ্ড হলো- তারা সত্যকে উপলব্ধি করবে। এ মানদণ্ড না থাকলে তাকে পশুর সমান, বরং পশুর চেয়েও অধম বলা যায়।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির মর্যাদা রক্ষার তাওফিক দান করুন। তাঁর রাগ ও শাস্তি থেকে হেফাজত করুন। প্রকৃত বান্দা হিসেবে ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
-ঢাকামেইল.কম
-নিজ পাঠ
-ইসলাম.নেট

দীর্ঘায়ু ডায়েটের খোঁজ খবরঃ

 

জেনে রাখলে উপকার মিলবে
বিজ্ঞানীরা স্বল্পায়ু প্রজাতির পুষ্টি ও বিলম্বিত বার্ধক্য, পুষ্টি-প্রতিক্রিয়া পথ, ক্যালোরির চোখ রাঙানি, উপবাস এবং কিটো ডায়েট-সহ বিভিন্ন ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট ও নানা গঠনমাত্রার ডায়েট বিশ্লেষণ করেছেন। এমনকী শতবর্ষজীবী মানুষদের জীবনধারা সামনে রেখে কোষীয় স্তর ও প্রাণী অধ্যয়ন থেকে শুরু করে ক্লিনিকাল ও মহামারী সংক্রান্ত বহু গবেষণার পর চূড়ান্ত পর্যায়ে বিজ্ঞানীরা যে দীর্ঘায়ু ডায়েটের খোঁজ পেয়েছেন, তা হলো-
• শুঁটি ও গোটা দানাশস্য জাতীয় নিরামিষ
• বাদাম ও অলিভ অয়েলের মতো উদ্ভিজ্জ ফ্যাট থেকে ৩০% ক্যালোরি
• ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত কম কিন্তু পর্যাপ্ত প্রোটিন ডায়েট ও তার পরে মাঝারি মাত্রার প্রোটিন
• কম পরিমাণ চিনি ও পরিশোধিত শর্করা
• লাল (রেড) বা প্রক্রিয়াজাত মাংস নৈব নৈব চ/কিছুতেই নয়
• সীমিত মাত্রার সাদা মাংস
• প্রতিদিন ১২ ঘন্টা খাওয়া ও ১২ ঘন্টা উপবাস
-কৌশিক রায়/কোরা.কম

ক্যান্সার কী? ক্যান্সার কীভাবে হয়?

 ক্যান্সার-The Outlaw Cells শারীরিক নিয়ম না মানা কোষগুলো

মানুষের শরীর বিভিন্ন কোষ বা সেল দিয়ে তৈরি। এ-সব সেল একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বাড়ে। তবে সেই বৃদ্ধি কোনও কারণে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে বাঁধনছেড়া হলে শরীরে নানারকম পরিবর্তন ঘটে। অস্বাভাবিক আকৃতির এই বৃদ্ধি টিউমার নামে পরিচিত। টিউমার দু’ধরনের। এক ধরনের টিউমার যেখানে সৃষ্টি হয় সেখানেই অবস্থান করে, স্থান পরিবর্তন না করে আজীবন একই জায়গায় থেকে যায়। যেমন, আব বা আঁচিল। অন্য দিকে কিছু টিউমার, যারা শরীরের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে তারাই ক্যান্সার। সুতরাং, সেল-এর অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন, সেখান থেকে টিউমার/আলসার হওয়া এবং তার দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়াকেই ক্যান্সার বলে।
ক্যান্সার কীভাবে হয় তার সঠিক কারণ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে কয়েকটি কারণ আছে যেগুলিকে হাই রিস্ক ফ্যাক্টর বলে। এই রিস্ক ফ্যাক্টরগুলি দু’ভাবে বিভক্ত। বংশগত বা জেনেটিক ফ্যাক্টর এবং পরিবেশগত বা এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাক্টর। প্রথম ফ্যাক্টর নিয়ে কিছু করার না থাকলেও দ্বিতীয় ফ্যাক্টরগুলি একজন মানুষের লাইফস্টাইল বা জীবনধারার সঙ্গে যুক্ত।
জেনেটিক ফ্যাক্টর: পরিবারে কারও ক্যান্সার হলে অন্য সদস্যদের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটাই জেনেটিক ফ্যাক্টর। তার মানে এই নয় যে, বাবার ক্যান্সার হলে ছেলেরও ক্যান্সার হবে। বরং এভাবে বলা যায়, যে পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস নেই, সে পরিবারের তুলনায় ক্যান্সার আক্রান্ত পরিবারের রক্ত সম্পর্কিত সদস্যদের এ রোগের ঝুঁকি কিছুটা বেশি। সুতরাং, বিষয়টি নিয়ে তাঁদের সচেতন থাকা দরকার। তবে এটা এখন প্রায় স্বীকৃত যে, ক্যান্সার একটি বংশগত রোগ।
পরিবেশগত ফ্যাক্টর: জিন ছাড়াও ক্যান্সার হওয়ার পেছনে পরিবেশগত ফ্যাক্টরের বড় ভূমিকা আছে। সেরকম কিছু কারণ জানানো হল-
তামাক বা টোব্যাকো- পরিবেশগত কারণের মধ্যে সবচেয়ে বড় হল তামাক। সিগারেট, খৈনি বা গুটখা, নস্যি ইত্যাদি নানা ধরনের তামাক জাতীয় নেশা থেকে ক্যান্সার হতে পারে।
অ্যালকোহল বা মদ্যপান- ক্যান্সারের দ্বিতীয় বৃহত্তর পরিবেশগত কারণ মদ্যপান। অনেকের লিভার ক্যান্সার বা প্যানক্রিয়াস ক্যান্সারের পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের মদ্যাভ্যাস। তবে তামাক ও মদ একসঙ্গে সেবন করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি ২ গুণ না হয়ে ১০ গুণ বেশি হয়ে যায়।
স্থুলতা বা ওবেসিটি- স্থুলতা বা ওবেসিটি ক্যান্সারের ক্ষেত্রে একটি বড় রিস্ক ফ্যাক্টর। মেয়েদের ব্রেস্ট, ইউটেরাইন এবং ছেলেদের প্রস্টেট ক্যান্সারের সঙ্গে ওবেসিটির যোগাযোগ খুঁজে পাওয়া গেছে।
খাদ্য- খাদ্যের সঙ্গে ক্যান্সারের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। যাঁরা নিয়মিত ফাস্ট ফুড বা ফ্যাট জাতীয় খাদ্য বেশি খান, তাঁদের ওজন বেড়ে গিয়ে স্থুল হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ে।
পরিশ্রমবিমুখতা- পরিশ্রমবিমুখতা ক্যান্সারের অন্যতম বড় কারণ। এক্ষেত্রেও ওজন বেড়ে গিয়ে ওবেসিটি ফ্যাক্টর প্রাধান্য পায়।
সংক্রমণ- ক্যান্সার সংক্রামক নয় কিন্তু কিছু কিছু ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ থেকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। যেমন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচ পি ভি) থেকে মেয়েদের সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার এবং ছেলে ও মেয়েদের ওরাল বা ওরোফ্যারেঞ্জিয়াল ক্যান্সার হওয়ার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়াও হেপাটাইটিস ‘বি’ ও হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস লিভার ক্যান্সার ঘটাতে পারে। হার্পিস গ্রুপের কয়েকটি বিরল ভাইরাসও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকেও ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। যেমন, এইচ পাইলোরি সংক্রমণ থেকে স্টমাক ক্যান্সার হতে পারে। তা ছাড়া ব্লাডার ক্যান্সারের সঙ্গেও ব্যাকটেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার যোগাযোগ আবিষ্কৃত হয়েছে।
রোদ- নিয়মিত রোদের সংস্পর্শে স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। তবে পাশ্চাত্যের তুলনায় এদেশে স্কিন ক্যান্সার ততটা প্রবল নয়।
শিল্প- কিছু কিছু শিল্প বা ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। যেমন, অ্যাসবেস্টস শিল্পে সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বেশি লাঙ ক্যান্সার হয়। অ্যানিলিন ডাই-এর সঙ্গেও ব্লাডার ক্যান্সারের সম্পর্ক রয়েছে।
দূষণ বা পলিউশন- দূষণ থেকেও এ রোগ হতে পারে। যাঁরা নিয়মিত দূষিত এলাকায় থাকেন, তাঁদের লাঙ ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।
-Own study
-International Review on Cytology, Japan
-NASA Excerpts