Monday, September 25, 2023

সুরা হুজুরাত নাজিল হওয়ার পর অনেক সাহাবি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন

সুরা হুজুরাত নাজিল হওয়ার পর সাহাবিরা ভীত হয়ে পড়েছিলেন। প্রথম দুটি আয়াতে আল্লাহ সাহাবিদের উপদেশ দিচ্ছেন। আল্লাহ সাহাবিদের উপদেশ দিয়েছেন রাসুল (সা.)–এর সামনে তাঁদের গলার স্বর নিচু করার জন্য। হজরত উমর (রা.) ছিলেন উচ্চ কণ্ঠস্বরের অধিকারী। এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর তিনি আস্তে কথা বলতে শুরু করেন।

সুরা হুজুরাত নাজিল হওয়ার পর অনেক সাহাবি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। কারণ এই সুরায় আল্লাহ বললেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপরে নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না। আর নিজেদের মধ্যে যেভাবে উঁচু গলায় কথা বল, তার সঙ্গে সেভাবে উঁচু গলায় কথা বলো না। কারণ, এতে তোমাদের ভালো কাজ বরবাদ হয়ে যাবে আর তোমরা তা টেরও পাবে না।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ২)
আয়াতটি নাজিল হওয়ার পর ভীত হয়েছিলেন সাহাবি সাবিত ইবনে কায়েস (রা.)–ও। তিনি মদিনাবাসীর প্রতিনিধিত্ব করতেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল সবচেয়ে উঁচু। যুদ্ধ ও সমাবেশে তিনি ছিলেন খতিব (খুতবা পাঠকারী)। উঁচু স্বরে রাসুল (সা.)–কে ডাকতেন। সুরা হুজুরাতের দ্বিতীয় আয়াত নাজিল হওয়ার পর সাবিত (রা.)–কে কিছুদিন দেখা গেল না। রাসুল (সা.) সাবিত (রা.)–কে আশপাশে দেখতে না পেয়ে সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.)–কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সাবিতের কী হয়েছে? সে কোথায়? সে কি অসুস্থ? তাকে যে কিছুদিন ধরে দেখছি না, আমাদের উচিত তাকে দেখতে যাওয়া?’
সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.) বললেন, ‘সাবিত (রা.) আমার প্রতিবেশী, তিনি অসুস্থ হলে জানতাম। আমার মনে হয় না তিনি অসুস্থ। তারপরও আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
সাদ (রা.) তাঁর প্রতিবেশীর খোঁজ নিতে গেলেন। সাবিত (রা.) দরজায় এসে দাঁড়ালে সাদ (রা.) দেখতে পেলেন, অশ্রু বিসর্জনের কারণে তাঁর দুই চোখ লাল হয়ে আছে। সাদ (রা.) কারণ জানতে চাইলেন।
সাবিত (রা.) বললেন, ‘এই যে সুরা হুজুরাতের এই আয়াত নাজিল হয়েছে, আপনারা জানেন আমার কণ্ঠস্বর উঁচু। রাসুল (সা.)–এর কণ্ঠের চেয়ে আমি আমার কণ্ঠকে উঁচু করেছি। কাজেই এই আয়াতের উদ্দেশ্য আমি। নিশ্চয়ই আমি জাহান্নামের একজন। আল্লাহ আমাকে তিরস্কার করে কোরআনের একটি আয়াত নাজিল করেছেন। তাই জাহান্নামে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।’
সাদ (রা.) রাসুল (সা.)–এর কাছে ফিরে এসে পুরো ঘটনা বললেন। রাসুল (সা.) সব শুনে বললেন, সে বরং জান্নাতবাসী!
রাসুল (সা.)–এর কাছ থেকে জান্নাতের কথা শুনে সাবিত (রা.) উচ্চস্বরে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবির দিতে শুরু করলেন। এর পর রাসুল (সা.)–এর কাছে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন।
সুরা হুজুরাত পবিত্র কোরআনের ৪৯তম সুরা। সুরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়। নেতার সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে এবং রাসুল অন্দরমহলে থাকলে কেমন ব্যবহার করতে হবে, এতে তার উল্লেখ রয়েছে।এই সুরাকে সুরাতুল আদব বা আদবের সুরা বলা হয়। সুরাটি আদব শেখায়। সুরায় আরও বলা হয়েছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশের প্রতীক্ষা না করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না। মুসলমানরা পরস্পরের ভাই। তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করতে হবে। গুজবের সত্যতা যাচাই করতে হবে। বিদ্রূপ বা রটনা পরিত্যাগ করতে হবে। মানুষের মর্যাদা বংশ বা জাতির ওপর নির্ভর করে না।
সূত্র: ফেরদৌস ফয়সাল

চোরে চোরে মাসতুতো ভাই কথাটা এল কি করে?

‘চোরে চোরে মাসতুত ভাই’ এই প্রবাদটা আমারা হরহামেশাই ব্যাবহার করি। বিশেষ করে, যখন দুইজন অসত লোক অবিকল একই রকম আচরণ করে। কিন্তু দুইজনের একজনের কাজও আমাদের পছন্দ হয় না, উল্টো মনে হয় দুইজন বেশ নিজেদের মধ্যে প্ল্যান করে রেখেছে যে আমাদের ভোগাবেই।

আভিধানিক অর্থে একজনের অন্যায় কাজে আরেকজন সহযোগিতা করলে বা সায় দিলে তাদের একজনকে আরেকজনের সহযোগী বুঝাতে ‘চোরে চোরে মাসতুত’ ভাই প্রবাদটি ব্যাবহার করা হয়। ভাষাবিদরা যখন প্রবাদ প্রবচনের সংজ্ঞা দিয়েছিলেন, তখন বলেছিলেন, ‘প্রবাদ একটি জাতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি।’ এই অভিব্যক্তি বা প্রকাশ হতে পারে দেশের কোনো ইতিহাস অথবা হতে পারে এমনিই কোনো লোককথা।
সুবলচন্দ্র মিত্র রচিত ‘সরল বাঙ্গালা অভিধান’-এ এই প্রবাদটির উতস একটি লোকগল্প বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গল্পটাও বেশ মজার। একবার এক দল চোর বেশ কিছু জিনিস চুরি করলো। কিন্তু চুরি করতে করতে তাদের বেশ দেরি হয়ে গিয়েছিলো। এদিকে ভোরের আলোও ফুটে উঠতে শুরু করেছে। এখন আলোতে তো চোরাই জিনিস নিয়ে বের হলে তারা ধরা পরে যাবে। এক চোর বুদ্ধি করে পাশের আস্তাবলে সঙ্গীদের নিয়ে লুকিয়ে গেল। সেখানে গিয়ে সহিসের ঘুমানোর জন্য রাখা একটা খাটিয়াও তারা পেয়ে গেল। চোররা সবাই মিলে এক বুদ্ধি বের করল। এখন যদি এই খাটিয়ায় করে চোরাই মাল নিয়ে ওরা বের হয় আর ‘হরিবোল’ বলতে বলতে যায়, তবে মানুষ ভাববে যে ওরা সত্যি কোনো মৃত ব্যক্তিকে শ্মশানে নিয়ে যাচ্ছে সতকার করার জন্য।
বুদ্ধিটা সবার বেশ মনে ধরে। পরিকল্পনা মতো সব ঠিকঠাক আগাচ্ছিলো, হঠাত চোরদের সামনে একটি লোক এসে দাঁড়ালো। সেই লোক চোরদের ইঙ্গিত করে কিছু বুঝাচ্ছিলো। লোকটিও যে বেশি সুবিধার কেউ নয় তা বুঝতে চোরদের মোটেই সময় লাগল না। এই লোকও আরেকজন চোর এবং সে চোরের দলকে ইশারায় সাবধান করছিলো যে, চাদরের আড়াল থেকে বাসন-কোসন দেখা যাচ্ছে। চোরেরা দেখলো ঘটনা মোটেই মিথ্যা নয়। এই লোক সাবধান না করলে তারা তখনই ধরা পরে রামধোলাই খেত।
চোরদের সর্দার লোকটির উপর খুব খুশি হলো। সে তাড়াতাড়ি মাল ঢেকে ফেলে লোকটিকে চোরাই মালের ভাগ সাধলো। চোর তো মহা খুশি সেও খাটিয়া বহনে হাত লাগালো। আবার সবাই ‘হরিবোল’ ধ্বনি তুলে এগিয়ে যেতে লাগলো।
সবার সামনে তো আর বলা যায় না যে তারা ভাগাভাগি করে চোরাই মাল সরাচ্ছে তাই লোকটি খাটিয়ায় কাঁধ দিয়েই বুঝিয়ে দিলো সে সাথেই আছে। সে যে চোরদের ইঙ্গিত বুঝেছে এটা বুঝানোর জন্য আবার চোরদের জিজ্ঞেস করল, “মেসো কখন মরেছে?”
তোমরা তো জানোই মেসো মানে হচ্ছে মাসি বা খালার স্বামী আর যারা সেই ‘মেসো’র মরা বহন করছে তারা সবাই এই লোকের মাসতুত ভাই। এভাবেই ভাগাভাগি করে চোরাই মাল সরিয়ে দুই চোর একে অপরের সঙ্গে মাসতুতো ভাইয়ের সম্পর্ক পাতিয়ে ফেলল।
এ লোকগল্পটি এতই জনপ্রিয়তা পায় যে এটি পরবর্তীতে আমাদের ভাষায় প্রবাদ হিসাবে থেকে যায়। এখনও কোনো অবৈধ কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করলে সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে চট করে বলে দেওয়া হয় “চোরে চোরে মাসতুত ভাই”
বিডিটোয়েন্টিফোরডটকম থেকে
No photo description available.
l reactions:

গাড়িতে চলাচলের সময় এই ১০ বিষয় মনে রাখুন

 হেল্থ টিপস

গাড়িতে চলাচলের সময় এই ১০ বিষয় মনে রাখুন

গণপরিবহন বা ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচলের সময় কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত
১. আপনার পিঠ সিটের সঙ্গে এমনভাবে লাগিয়ে দেবেন, যেন মেরুদণ্ড সোজা থাকে। এতে হাঁটু রাখার জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাবে।
২. পায়ের পাতা সমতল জায়গায় রাখার চেষ্টা করুন, এটি মেরুদণ্ড সোজা রাখতে সাহায্য করবে। এতে পিঠ বা কোমরের ব্যথা হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
৩. কোনোভাবেই সামনের দিকে ঝুঁকে বসা যাবে না।
৪. পাশের জানালা পুরোপুরি কখনোই খুলে রাখা যাবে না। আর গাড়িতে এসি থাকলে যে জানালা বন্ধ রাখতে হবে, সেটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
৫. বাসে বা ট্রেনে এমনভাবে বসতে হবে, যাতে পাশের যাত্রী যথেষ্ট জায়গা পান। সহযাত্রী নারী হলে বিষয়টির প্রতি আরও ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
৬. দীর্ঘ যাত্রায় একটু আরামদায়ক সিট নির্বাচন করা ভালো, এগুলোয় বসার যেমন ভালো জায়গা পাওয়া যায়, তেমনি পা রাখার জন্যও ভালো একটু জায়গা পাওয়া যায়। দুই ঘণ্টা পরপর একটু উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন, কোমরে চাপ কম পড়বে, ভ্রমণ–পরবর্তী পিঠ বা কোমরের ব্যথা হওয়ার আশঙ্কাও কমবে। ব্যবহার করতে পারেন ছোট ট্রাভেল পিলো, যা আপনার ঘাড়কেও খানিকটা আরাম দেবে।
৭. যাঁদের আগে থেকেই কোমরে সমস্যা আছে, চলাচলের সময় অবশ্যই তাঁদের কোমরের বেল্ট ব্যবহার করতে হবে।
৮. গণপরিবহনে দাঁড়িয়ে থাকলে দুই পায়ের ওপরেই সমান ভর দিয়ে দাঁড়াতে হবে।
৯. বাসে বা ট্রেনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই সামনের সিটের দিকে ঝুঁকে থাকা যাবে না, এতে নিজের যেমন ক্ষতি হবে, তেমনি যাঁর ওপর ঝুঁকে রয়েছেন, তিনিও বিরক্ত হবেন।
১০. বাসে বা ট্রেনে নারী, প্রতিবন্ধী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে অবশ্যই বসা ঠিক নয়, খালি থাকলেও না। এটা আপনার পারিবারিক সুশিক্ষার একধরনের নির্ণায়ক।
সূত্র: ডা. হিমেল বিশ্বাস

যার আক্কেল দাঁত ওঠেনি, সে কিন্তু বে-আক্কেল নয়!

      কী কেন কীভাবে

আক্কেলদাঁত কেন ওঠে? এই দাঁত কি ফেলে দেওয়া ভালো?
আপনার বয়স কি ১৭ বছর বা তার বেশি? তাহলে হয়তো আপনার এখনো আক্কেলদাঁত ওঠেনি। তবে শুনেছেন নিশ্চয়ই, আক্কেলদাঁত উঠলে প্রচণ্ড ব্যথা হয় অনেকের। কিন্তু কেন ওঠে আক্কেলদাঁত? এ দাঁত কি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? নাকি আক্কেলদাঁত উঠলে ফেলে দেওয়াই ভালো?
প্রথমেই বলে রাখি, আক্কেলদাঁতের সঙ্গে আক্কেল বা জ্ঞানবুদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই। অবশ্য কেউ কেউ মজা করে বলেন, আক্কেলদাঁত ওঠার সময় ভালোই ‘আক্কেল’ হয়! হ্যাঁ, মজা করে বললেও নামটি এসেছে আরবি ‘আকল’ শব্দ থেকে। ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘উইজডম টুথ’। নামটি কীভাবে, কোত্থেকে এসেছে, কে এই নাম দিয়েছেন, তা জানা যায় না।
আক্কেলদাঁত কী
আমাদের দাঁতের দুই পাটিতে মোট ৩২টি দাঁত থাকার কথা। তবে মানুষভেদে কমবেশি হতে পারে। মুখের ভেতরের দিকে দাঁতের পাটির একদম শেষ দিকের দাঁতগুলো মাড়ির দাঁত নামে পরিচিত। ওপরে-নিচে মাড়ির দাঁতের একদম শেষ চারটি দাঁতকে বলা হয় আক্কেলদাঁত। তৃতীয় মোলার দাঁত নামেও পরিচিত এগুলো। ৩২টি দাঁতের মধ্যে এগুলোই সবচেয়ে বড় হয়। সাধারণত ১৭ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে এ দাঁতগুলো মাড়িতে জায়গা করে নেয়।
মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এ দাঁতগুলো কেন ওঠে? ১৭ বছর এই দাঁত ছাড়া কাটিয়ে দিতে পারলে এরপর আর এ দাঁতের দরকার কী? সত্যি বলতে, এ দাঁত চারটি আমাদের তেমন দরকার না হলেও আমাদের পূর্বপূরুষদের জন্য খুব কাজের ছিল।
আদিম যুগে কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল
আদিম যুগে মানুষ ছিল গুহাবাসী, তখনো আগুন জ্বালাতে শেখেনি। রান্না ছাড়াই মাংস খেত। আবার খাবার কাটার জন্যও কোনো ছুরি বা এ-জাতীয় কিছু ছিল না। ফলে এসব খাবার অনেক বেশি চিবাতে হতো। আর এ জন্য তাঁদের প্রয়োজন ছিল শক্ত চোয়াল ও দাঁত। আমাদের চেয়ে তাদের চোয়াল ছিল অনেক প্রশস্ত। ফলে আক্কেলদাঁত উঠতে কোনো সমস্যা হতো না। আবার দিনের পর দিন এ ধরনের শক্ত খাবার খেয়ে তাঁদের কিছু দাঁত এমনিতেই দ্রুত পড়ে যেত। ফলে মাড়ির শেষ প্রান্তে ফাঁকা থাকত অনেকখানি। সেখানে আক্কেলদাঁত উঠতে কোনো সমস্যাই হতো না।
কিন্তু এখন আমাদের খাদ্যাভ্যাস বদলে গেছে। তা ছাড়া আমরা বেশির ভাগ খাবারই খাই রান্না করে। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চোয়ালের হাড়গুলো আগের তুলনায় ছোট হয়ে গেছে। ফলে পাটিতে ৩২টি দাঁতের জায়গা হয় না ঠিকভাবে। তাই আক্কেলদাঁত ওঠার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পায় না। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্কেলদাঁত ঠেলে ওপরে আসতে চায়। তখন অন্য দাঁতগুলো জায়গা ছেড়ে দেয়। পর্যাপ্ত জায়গা না পেলে বাঁকাভাবে হলেও উঠে যায় এসব দাঁত। চোয়ালে যথেষ্ট জায়গা না থাকলে প্রচণ্ড ব্যথা লাগে। অনেক সময় মুখ ফুলে উঠতে পারে। এতে খাবার খেতেও সমস্যা হয়।
সবারই কি আক্কেলদাঁত ওঠে
সবার কিন্তু আক্কেলদাঁত ওঠে না। তবে বেশির ভাগ মানুষেরই ওঠে এ নচ্ছার দাঁত। যাঁদের চোয়াল তুলনামূলকভাবে বড়, তাঁরা আবার আক্কেলদাঁত উঠলে টের পান না।
আক্কেলদাঁত কি ফেলে দেওয়া উচিত
এটুকু পড়ে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, আমাদের জীবনে আক্কেলদাঁতের তেমন গুরুত্ব নেই। তাহলে কি আক্কেলদাঁত ফেলে দেওয়াই উচিত? আক্কেলদাঁতের কারণে আপনার কোনো সমস্যা না হলে রেখে দিতে পারেন। তবে বর্তমানে বেশির ভাগ মানুষই আক্কেলদাঁত ফেলে দেন। এটা কিন্তু ব্যথার জন্য। মূলত আক্কেলদাঁত ওঠার সময় এককালীন ব্যথা হয়। সারা জীবন সে ব্যথা বয়ে বেড়াতে হয় না। তবে সমস্যা অন্য জায়গায়।
দাঁত ব্রাশ করার সময় আক্কেলদাঁত পর্যন্ত সাধারণত ব্রাশ পৌঁছায় না। এতে অনেকের দাঁতে জমতে পারে ক্যাভিটি। অর্থাত পাথরের মতো আবরণ। খাদ্যকণা জমে জমে এ আবরণ পড়ে। এর ফলে অনেক সময় ইনফেকশনও দেখা দেয়। আবার এ দাঁতের কারণে অনেকের মুখে ঘষা লাগে। ফলে মুখ খুলতে বা খাবার খেতে সমস্যা হয়। এ দাঁতের কারণে মুখের ভেতরে আলসার বা ওই দাঁতসংলগ্ন টিস্যুতে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আক্কেলদাঁত ফেলে দেওয়া যেতেই পারে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স ও পপুলার সায়েন্স
prothomalo
All reactions:


Fig benefits of anjeer

 ডুমুর বা আনজিরের বেনিফিটগুলো

1. Rich in Fiber
Figs are high in dietary fiber, which aids digestion and helps prevent constipation.
2. Nutrient-Rich
They contain essential vitamins and minerals, including vitamin A, vitamin K, potassium, magnesium, and calcium.
3. Antioxidants
Figs are packed with antioxidants, which can help combat oxidative stress and reduce the risk of chronic diseases.
4. Heart Health
The potassium in figs can help regulate blood pressure, reducing the risk of heart disease.
5. Weight Management
Figs are relatively low in calories and high in fiber, making them a satisfying and healthy snack for weight management.
6. Bone Health
Calcium and vitamin K in figs contribute to bone health and may help prevent osteoporosis.
7. Blood Sugar Control
Figs have a low glycemic index and can help regulate blood sugar levels, making them a suitable option for those with diabetes.
8. Digestive Health
Figs contain enzymes that aid in digestion and can alleviate digestive issues.
9. Skin Health
The antioxidants in figs may promote healthy skin by reducing the signs of aging.
10. Cancer Prevention
Some studies suggest that the antioxidants in figs may have a protective effect against certain types of cancer.
May be an image of baguette and fig
ll reactions:

অসাধারন রেলকর্মী বাঁদর

     অনুপ্রেরণামূলক লেখা

১৮৮১সালে দক্ষিণ আফ্রিকার রেলকর্মী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিল এক বাঁদর।
হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন।
শুনুন তবে বাঁদরের বাঁদরামি।
দক্ষিণ আফ্রিকার একজন রেলকর্মী ছিল জাম্পার ওয়াইড। সে শারীরিকভাবে ছিল পঙ্গু। এক দূর্ঘটনায় সে তার দুটি পা হারায়।
একদিন স্থানীয় বাজার থেকে প্রয়োজনের কিছু জিনিস আনতে গিয়ে সে এক বাঁদরকে গোরুর গাড়ি চালাতে দেখে। তা দেখে সে মনে মনে বানরের বুদ্ধির বেশ তারিফ করে ও অবাক হয়।
শারীরিক অক্ষমতার জন্য সে একটি সাহায্যকারীর খোঁজে থাকায় সে বাঁদরটির মালিকের কাছে বাঁদরটিকে কিনে নেওয়ার আর্জি জানায়।
প্রথমে রাজি না হলেও পরে দরাদরি করে জাম্পার বাঁদরটিকে কিনে নিতে সক্ষম হয়।
বাঁদরটি কিনে নেওয়ার পর সে জানতে পারে বাঁদরটি এক নম্বরের মাতাল। মদ ছাড়া তাকে দিয়ে কোনো কাজই করানো যায়না।
এই বাঁদরটির নাম ছিল জ্যাক। জাম্পার জ্যাককে সিগনালের ব্যবহার ও লিভার টেনে ট্রেনের পথ নির্দেশ করার সব রকম কায়দা শেখায়। আশ্চর্যভাবে জ্যাক খুব কম সময়ের মধ্যেই এই সকল কায়দা রপ্ত করে ফেলে ও এতোটাই সুষ্ঠুভাবে সব কাজ করতে থাকে যে জাম্পারকে আর কিছু করতেই হতো না।
ভালোই কাটছিলো দিন। একটা সময়ে রেলের বড়ো কর্তাদের কানে জাম্পার ও জ্যাক এর এই কথা পৌঁছায়। তারা ঠিক করেন জাম্পারকে তারা কাজ থেকে বরখাস্ত করবেন।
ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছালে তারা জ্যাককে দূর থেকে তার কাজ করতে লক্ষ্য করেন। তার বুদ্ধি ও কাজে তারা এতোটাই মুগ্ধ ও অবাক হন যে জাম্পারকে বরখাস্ত করা তো দূরের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জ্যাককে জাম্পারের সহায়ক হিসেবে নিযুক্ত করেন। সেই থেকে জ্যাক টানা ৯বছর দক্ষিণ আফ্রিকার রেলকর্মী পদে নিযুক্ত হয়ে নিজের কাজ করে গেছে। এই ক্ষেত্রে এটিও উল্লেখ্য যে এই দীর্ঘ ৯বছরে একটি দিনও তার কাজে কোনো ভুল সে করেনি।
১৮৯০ সালে জ্যাক টিউবারকিউলোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। জ্যাকের খুলিটি এখনও গ্রাহামস্টাউনের অ্যালবামি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত।
May be an image of 1 person


Monday, September 11, 2023

মুসলিম নারী মোগল শাহজাদি জেবুন্নিসা

 ৭ বছর বয়সে কুরআন হিফজ করেছিলেন

মোগল রাজকন্যা জেবুন্নিসা বেগম ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেব আলমগিরের বড় সন্তান, যিনি একই সঙ্গে কবি, সাহিত্যিক, সুফি ও কোরআনের হাফেজা ছিলেন। ‘দিওয়ানে মাকফি’ তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। রাজকন্যা হয়েও তিনি সাধকের মতো জীবন কাটাতেন। শাহজাদি জেবুন্নিসা ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতের মহারাষ্ট্রের দৌলতাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রিয় কন্যার জন্য সম্রাট জেবুন্নিসার শিক্ষিকা হিসেবে হাফেজা মারিয়ামকে নিযুক্ত করেন। জেবুন্নিসা উত্তরাধিকার সূত্রে পিতার মেধা, বুদ্ধি ও সাহিত্য রুচি লাভ করেছিলেন। তিনি সাত বছর বয়সে কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। হিফজ শেষ করতে তাঁর সময় লেগেছিল মাত্র তিন বছর।
কন্যা কোরআন হিফজ করায় সম্রাট আওরঙ্গজেব মহাউতসবের আয়োজন করেন এবং রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করেন। জেবুন্নিসা ও তাঁর শিক্ষিকাকে ৩০ হাজার করে স্বর্ণ মুদ্রা উপহার দেন।
জেবুন্নিসা সাইয়েদ আশরাফ মাজান্দারানির কাছে দর্শন, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, সাহিত্যসহ সমকালীন বিজ্ঞানের পাঠ গ্রহণ করেন। আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষায় দক্ষ ছিলেন শাহজাদি জেবুন্নিসা।
তিনি একজন লিপিকার ও ক্যালিগ্রাফ শিল্পীও ছিলেন। বইপ্রেমী শাহজাদি জেবুন্নিসা বই লেখা ও মূল্যবান বইয়ের অনুলিপি তৈরি করতে একাধিক আলেম ও পণ্ডিত ব্যক্তিকে নিযুক্ত করেছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত পাঠাগারটি ছিল খুবই সমৃদ্ধ। শাহজাদি জেবুন্নিসা ছিলেন একজন দানশীল নারী। তিনি দরিদ্র, অসহায়, বিধবা ও এতিমদের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতেন।
প্রতিবছর তিনি বহুসংখ্যক মানুষকে হজে পাঠাতেন। সংগীতের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি নিজেও মর্মী গান গাইতেন। সমকালীন নারীদের ভেতর তাঁকে শ্রেষ্ঠ গায়িকা মনে করা হয়। আওরঙ্গজেব যখন সম্রাট হন, তখন জেবুন্নিসার বয়স ২১ বছর। তিনি তাঁর মেয়ের মেধা ও বিচক্ষণতা সম্পর্কে জানতেন। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করতেন এবং মতামত নিতেন।
দেখতে অনিন্দ্য সুন্দরী হলেও জীবনযাপনে ছিলেন সাদাসিধে। একটি মুক্তার গলার হার ছাড়া তিনি কোনো অলংকার ব্যবহা করতেন না। সব সময় সাদা পোশাক পরিধান করতেন। তিনি ‘আঙ্গিয়া কুর্তি’ নামে মেয়েদের একটি বিশেষ পোশাক উদ্ভাবন করেন। বাগান স্থাপন ও বৃক্ষরোপণ ছিল তাঁর প্রিয় একটি কাজ। লাহোরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত চৌবুর্জি বাগানের অস্তিত্ব এখনো টিকে আছে।
একাধিক বিষয়ে দক্ষতা থাকলেও জেবুন্নিসা মূলত একজন কবি হিসেবেই পরিচিত। তাঁর ভারতীয় ধারার ফার্সি কবিতার অন্যতম প্রধান কবি মনে করা হয়। সাহিত্যে তিনি হাফেজ সিরাজি দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। কবিতা রচনার পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু মর্মী গানও রচনা করেছেন। তিনি ‘মাখফি’ নামে কবিতা লিখতেন। ‘দিওয়ানে মাখফি’ তাঁর কাব্যসংকলন, যাতে পাঁচ হাজার পঙিক্ত রয়েছে। অবশ্য ‘মাখজানুল গায়েব গ্রন্থকারের দাবি, জেবুন্নেসার মোট পঙিক্তর সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার।
কুরআনচর্চায় জেবুন্নেসা বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। কুরআনের হাফেজা এ মোগল শাহজাদি ‘জিবুত তাফাসির’ নামে একটি তাফসির গ্রন্থ রচনা করেন, যা নারীদের রচিত প্রথম তাফসির গ্রন্থ। অবশ্য সাইয়েদ আবদুল হাই হাসানি (রহ.) ‘নুজহাতুল খাওয়াতির’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘জিবুত তাফসির মূলত ইমাম রাজি (রহ.)-এর তাফসিরে কবিরের ফার্সি অনুবাদ। যা শায়খ শফিউদ্দিন কাজভিনি (রহ.) জেবুন্নিসার নির্দেশে রচনা করেন। ফলে তাঁর নামে নাম রাখা হয়।’
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই রাজকন্যা জীবনের শেষ ২০ বছর সালিমগড় দুর্গে বন্দিজীবন কাটান। কিন্তু তাঁকে কেন বন্দি করা হয়েছিল তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না। সম্রাট তাঁর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন, বার্ষিক লাখো-রুপি পেনশন বাতিল এবং আমৃত্যু বন্দিত্বের নির্দেশ দেন। জেলজীবনে ইবাদত, জ্ঞান ও কবিতা চর্চাই ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী।
দীর্ঘ বন্দিজীবন কাটানোর পর জেবুন্নিসা ১৭০১ বা ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে ‘তিঁস হাজারি’ (৩০ হাজার গাছবিশিষ্ট) বাগানে সমাহিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে কবিতা সংকলন দিওয়ানে মাখফি প্রকাশ পায়। যাতে ৪৩১টি গজল ও চতুর্দশপদী কবিতা স্থান পায়। ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে এর সঙ্গে অন্যান্য কবিতা যুক্ত হয়। এ বইয়ের পাণ্ডুলিপি এশিয়া-ইউরোপের একাধিক পাঠাগারে সংরক্ষিত আছে।
ব্যক্তিগত জীবনে জেবুন্নেসা অবিবাহিত ছিলেন। ঐতিহাসিকরা বলেন, চাচাতো ভাই যুবরাজ সুলাইমান শিকোর সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক করেছিলেন দাদা শাহজাহান। আওরঙ্গজেবের অনিচ্ছায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশ্য তাঁর কবিতাগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তিনি স্বেচ্ছায় সন্ন্যাসব্রত ও সাধক জীবন বেছে নিয়েছিলেন। যেমন তিনি বলতেন, আমি শাহজাদি কিন্তু ভোগ-বিলাসের জীবন প্রত্যাখ্যান করেছি। এটা আমার গর্ব। যেমন আমার নাম জেবুন্নিসার অর্থ নারীজাতির অলংকার ও গর্ব।
সূত্র: অ্যারিকপোস্ট ডট লাইভ, রাসিফ টোয়েন্টিটুডটনেট ও উইকিপিডিয়া
May be an image of flower
All reactions:
Abdus Sabur Dhms