Friday, December 22, 2023

বুড়ো হয়ে গেছি, আর কত!

 Don’t regret growing older. It’s a privilege denied to many.

বুড়ো হয়েছো বলে আক্ষেপ কোরোনা। মনো করো এ বয়সটা একটা আশীর্বাদ। অনেকেই বুড়ো বয়সের স্বাদ নিতে ভাল রকমের ব্যর্থ। বুড়ো বয়সটা জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস।
শেখ সা’দী তাঁর এক কবিতায় বলেছেন,
“বার্ধক্যের সাড়া পেয়ে বসেছে আমার শিরে
শুভ্র তূষারের মেলা-
তথাপি অজর মম প্রকৃতি মাঝার-
যৌবনের বীর্য করে খেলা।”
সব বয়সেই জীবনে একটা ছন্দ থাকা দরকার। মনে রাখবেন, আপনি সব সময়ই অপরিহার্য। তাই ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন, জীবনটা চুটিয়ে উপভোগ করুন। বয়স বাড়ে বাড়ুক, জীবনের তাল কাটতে দেবেন না।
বয়স্কদের যে সম্মান দিয়েছে ইসলাম
জন্ম, শৈশব, কৈশোর, যৌবন, বার্ধক্য, ধাপে ধাপে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে জীবনের স্বাদ ভোগ করান। তবে সবার জীবন এমন স্বাভাবিক নিয়মে কাটে না, অনেকেই জীবনের সর্বশেষ স্তরে পৌঁছার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চিরস্থায়ী ঠিকানায় চলে যান।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের দুর্বলরূপে সৃষ্টি করেন, অতঃপর দুর্বলতার পর তিনি শক্তি দান করেন, শক্তির পর আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ -(সুরা রুম, আয়াত: ৫৪)
দীর্ঘ জীবন এবং সুন্দর আমল যে কল্যাণ বয়ে আনে
পৃথিবীতে দীর্ঘ অথবা স্বল্প আয়ু যাই হোক কেউ যদি আল্লাহর প্রতি ঈমান, ইখলাস ও নববী আদর্শের আলোকে পরিচালিত হয় তখন চিরস্থায়ী কল্যাণের ক্ষেত্রে বয়সের স্বল্প-দৈর্ঘ্যের পার্থক্য থাকে না। বরং সতকর্মের সঙ্গে বয়সের দৈর্ঘ্য ব্যক্তির উভয় জগতের কল্যাণ ও সৌভাগ্যের আলোকবর্তিকা হয়ে ধরা দেয়।
এ বিষয়ে এক হাদিসে সাহাবি হজরত আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত, কোনো এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! উত্তম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, ‘যে দীর্ঘ জীবন পেয়েছে এবং তার আমল সুন্দর হয়েছে।’ সে আবার প্রশ্ন করল, মানুষের মধ্যে কে নিকৃষ্ট? তিনি বললেন, ‘যে দীর্ঘ জীবন পেয়েছে এবং তার আমল খারাপ হয়েছে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৩৩০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে মুমিনের বয়স বৃদ্ধি তার প্রভূত কল্যাণই বয়ে আনে।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৬৮২)
অপর এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার পথে যে লোক তার চুল সাদা করেছে, অর্থাত বুড়ো হয়েছে, তার জন্য কেয়ামতের দিন একটি আলোকবর্তিকা থাকবে।’ -(তিরমিজি, হাদিস: ১৬৩৫)
ইসলামে প্রবীণদের সম্মান
বয়স্ক-প্রবীণ ব্যক্তিদের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে ইসলাম, প্রবীণদের সম্মানের মাধ্যমে বরকত লাভ হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘বয়স্কদের সঙ্গেই তোমাদের কল্যাণ ও বরকত রয়েছে।’ (ইবনে হিববান : ৫৫৯) তাই বয়স্ক লোকদেরকে শ্রদ্ধা করা। যথাসম্ভব তাদের খেদমত করা। রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘নিশ্চয় শুভ্র চুলবিশিষ্ট মুসলিমকে সম্মান করা আল্লাহকে সম্মান করার শামিল।’ -(আবু দাউদ: ৪৮৪৩)
হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল (সা.) সাদা চুল ওঠাতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা মুমিনের নূর। তিনি আরও বলেন, ইসলামে যদি কেউ সাদা চুল বিশিষ্ট হয় আল্লাহ তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন, একটি পাপ মোচন করে দেন এবং একটি পুণ্য লিখে দেন।’ (আবু দাউদ: ৪২০২; ইবনে মাজা: ৩৭২১)
প্রবীণদের অসম্মানে কঠোর হুঁশিয়ারি
প্রবীণ ও মুরব্বিদেরকে সম্মান প্রদর্শন না করলে রাসুল (সা.) কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন। হজরত জারবি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত আনাস বিন মালিককে (রা.) আমি বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘একজন বয়স্ক লোক রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে দেখা করতে আসল। লোকেরা তার জন্য পথ ছাড়তে বিলম্ব করে। তা দেখে রাসুল (সা.) বললেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে না, সে আমাদের উম্মত নয়।’ (তিরমিজি: ১৯১৯)।
বড়দেরকে দেখলেই আগে সালাম দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘ছোটরা বড়দের, চলমান ব্যক্তি বসা ব্যক্তিকে এবং কম সংখ্যক বেশি সংখ্যককে সালাম প্রদান করবে।’ (বুখারি : ৬২৩১)
একবার তিন সাহাবি—আব্দুর রহমান বিন সাহাল, মুহাইয়্যাসাহ এবং খুয়াইসা ইবনে মাসুদ নবীজির দরবারে গেলেন। আব্দুর রহমান বিন সাহাল প্রথমে কথা বলতে শুরু করলেন। নবীজি তাঁকে থামিয়ে বললেন—বড়কে আগে কথা বলতে দাও। (কারণ তিনি সবার ছোট ছিলেন) তিনি তখন চুপ হয়ে গেলেন। বাকি দুজন কথা বলা শুরু করলেন। (বুখারি, হাদিস: ৩১৭৩)
All reactions:

Wednesday, December 20, 2023

সকালে না খেয়ে থাকলে কী কী সমস্যা হয়?

 আমি আমার সব পেশেন্টকে সকালের নাশতা বাদ না দেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি :দিনের পর দিন সকালের নাস্তা না করলে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষ সকালে নাস্তা এড়িয়ে যান তাদের মধ্যে ২৭ শতাংশের বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। স্বাস্থ্যকর নাস্তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি :যারা সকালের নাস্তা করেন না, তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি থাকে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণা পরিচালিত হয় প্রায় ৬ বছর ধরে। মোট ৪৬ হাজার ২৮৯ জন নারীর ওপর গবেষণা করে দেখা গেছে, যেসব নারীরা সকালে নাস্তা বাদ দিয়েছেন তাদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি।
ক্ষুধা বাড়ে : যদি ওজন কমাতে চান তাহলে ভুলেও সকালের নাস্তা এড়াবেন না। কারণ সকালের নাস্তা এড়ালে ক্ষুধা বাড়বে। তখন সামনে যা পাবেন তাই খেতে ইচ্ছে করবে।
ক্লান্তিবোধ : সকালের নাস্তা না করলে মুড সুইং ও শক্তির ঘাটতি দুটিতেই প্রভাব পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালের নাস্তা করেন না তারা সবচেয়ে বেশি ক্লান্তিবোধ করেন ও সবকিছু ভুলে যান বেশি।
চুল পড়া শুরু হয় : সকালের নাস্তা এড়িয়ে গেলে প্রোটিনের মাত্রা ভয়ংকরভাবে কমে যায় শরীরে, যা কেরাটিনের মাত্রায় প্রভাব ফেলে। কেরাটিন কমে গেলে চুলের বৃদ্ধি কমে যায়। ফলে চুল পড়তে শুরু করে।
পেটের সমস্যা তৈরি করে : রাতে ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমানোর কারণে পেট খালি হয়ে যায়, তার ওপরে যদি সকালে না খাওয়া হয় তাহলে বিপাকক্রিয়াও কমতে শুরু করে। যা পেটের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২০১১ সালে জাপানিজ জার্নাল অব হিউম্যান সায়েন্সেস অব হেলথ-সোশ্যাল সার্ভিসেস এ প্রকাশিত ফলাফলে জানা গেছে এই তথ্য। এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল জীবনযাত্রার অভ্যাস ও ডিমেনশিয়ার মধ্যকার যোগসূত্রতা বোঝা।
Self Study
May be an image of fruit
All reactions:

Monday, December 18, 2023

প্রশংসা করা প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) যা বলেছেনঃ

 মানুষ প্রশংসা পেতে পছন্দ করে। কখনো বা অন্যের প্রশংশা করে প্রশান্তি কুড়িয়ে নেয়। ইসলামে ব্যক্তি প্রশংসা বৈধ। তবে মানুষের কল্যাণার্থে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তি প্রশংসা নিষিদ্ধ করেছে ইসলাম।

নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলো :
আত্মপ্রশংসা : আত্মপ্রশংসা অহংকারের কারণ হয়। অহংকার ধ্বংস ডেকে আনে। তাই ইসলাম আত্মপ্রশংসা নিষিদ্ধ করেছে। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা কোরো না, তিনিই ভালো জানেন কে আল্লাহভীরু।
’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩২)
অতি প্রশংসা : বাড়াবাড়ি সব ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর। প্রশংসার ক্ষেত্রেও তাই। অতি প্রশংসায় মিথ্যার মিশ্রণ লুকায়িত থাকে। স্বয়ং নবীজি (সা.) নিজের ক্ষেত্রেও অতি প্রশংসা পছন্দ করতেন না।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আমাকে যে মর্যাদা দান করেছেন, তোমরা তার চেয়ে উঁচু মর্যাদা আমাকে দাও, তা আমি পছন্দ করি না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১২১৪১)
সম্মুখে প্রশংসা : সামনাসামনি প্রশংসা দ্বারা অহমিকা সৃষ্টি হয়। এমন প্রশংসাকে হাদিসে ধ্বংসের কারণ আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবু মুসা আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তির প্রশংসা করতে শুনে বলেন, ‘তোমরা তাকে ধ্বংস করে দিলে বা তোমরা তার মেরুদণ্ড ভেঙে ফেললে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৬৬৩)
প্রশংসাপ্রত্যাশীদের প্রশংসা : সব নেক কাজ আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য হওয়া উচিত।
মানুষের সস্তা প্রশংসা প্রত্যাশা করা অনুচিত। প্রশংসাপ্রত্যাশীদের আল্লাহ তাআলা কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা নিজেদের কৃতকর্মে আনন্দ প্রকাশ করে এবং নিজেরা যা করেনি তার জন্য প্রশংসিত হতে ভালোবাসে, তারা শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে আপনি কখনো এমন মনে করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৮)
পাপিষ্ঠ ব্যক্তির প্রশংসা : প্রকাশ্যে পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তির প্রশংসা করা নিষিদ্ধ। এমন ব্যক্তির প্রশংসা দ্বারা আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা মুনাফিককে আমাদের নেতা বলে সম্বোধন কোরো না। যদি তা করো , তবে তোমরা তোমাদের মহান রবকে অসন্তুষ্ট করলে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৭৭)
তোষামোদ ও চাটুকারিতা : তোষামোদী ও চাটুকারিতায় অবৈধ স্বার্থ নিহিত থাকে। হাদিসে চাটুকারিতাকে হত্যাতুল্য সাব্যস্ত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা পরস্পর অতি প্রশংসা তথা তোষামোদী ও চাটুকারিতা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা তা হত্যাতুল্য।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৭৪৩)


জীবনে কঠিন মুহূর্ত এসে পড়লে

 মাঝেমধ্যে আমাদের জীবনে খুবই কঠিন সময় আসে। কিছু ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কঠিন অবস্থায় ফেলেন, যাতে সে ফিরে আসে। অনেক মানুষ এই সময়টা কাজে লাগাতে জানে না। জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলো আল্লাহর দিকে ফেরার আদর্শ সময়।

আজকের ঘটনা একজন তাবেয়িকে নিয়ে। তাঁর নাম ওয়াহাব ইবনে মুহাব্বিহ (রহ.)। তিনি ছিলেন বিখ্যাত সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.)–এর একজন ছাত্র।
ওয়াহাব (রহ.)–কে জীবনে বহুবার খুবই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল। শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁকে একাধিকবার জেলে ঢুকতে হয়েছিল।
একবার তাঁকে আরবের একটি জেলখানায় বন্দী করা হলো। জেলখানার বাসিন্দাদের হাতে স্বাভাবিকভাবেই অফুরন্ত সময় থাকে। কয়েদিরা নানা ধরনের কাজ করে এই সময় পার করে দিতে চায়। ওয়াহাব (রহ.)–এর সঙ্গে থাকা এক কয়েদি বলল, ‘হুজুর, আপনার কি গান পছন্দ? অথবা আমি কবিতাও আবৃতি করতে জানি। চলুন, একসঙ্গে আনন্দ করি, সময় কেটে যাবে।’
ওয়াহাব ইবনে মুহাব্বির (রহ.) ঠান্ডা মাথায় জবাব দিলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা কঠিন অবস্থায় আছি। হতে পারে আল্লাহ তাআলা কোনো কারণে আমাদের শাস্তি দিচ্ছেন। এখন আনন্দ করা উচিত হবে না।’ এই বলে তিনি সুরা মুমিনের ৭৬ নম্বর আয়াত পাঠ করতে লাগলেন, ‘আমি তাদের শাস্তি দিয়ে পাকড়াও করেছিলাম, কিন্তু তারা তাদের পালনকর্তার সামনে নত হলো না এবং মিনতিও করল না।’
ওয়াহাব (রহ.) এরপর জেলখানার ভেতর রোজা রাখতে শুরু করলেন। তিনি টানা তিন দিন রোজা রাখতেন। নিজে থেকে বেশি বেশি ইবাদত করতেন।
কয়েদিরা বলত, ‘আপনি এমনিতেই কঠিন পরিবেশে আছেন, এখন আবার রোজা রাখার দরকার কী?’
ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ (রহ.) বললেন, ‘আল্লাহ আমাদের কঠিন পরিবেশে রেখে যেমনটা চেয়েছিলেন আমরা তেমনটাই থাকছি। পাশাপাশি তাঁর ইবাদত করা বাড়িয়ে দিয়েছি।’
আমাদের জীবনে যখন কঠিন সময় আসে, তখন হাল ছেড়ে দিই। অনেকে আল্লাহর কাছে না এসে বরং আরও দূরে সরে যায়। অথচ আমাদের ধর্মীয় পূর্বপুরুষেরা কঠিন সময়ে আরও বেশি আল্লাহর ইবাদত করতেন। আল্লাহকে মনের কথাগুলো বলতেন। তাঁরা ঠিকই জানতেন, সহজ সময়ের ইবাদতের চেয়ে আল্লাহর কাছে কঠিন সময়ের ইবাদতের মূল্য বেশি।
নবীদের জীবনেও একই ধরনের চিত্র দেখা যায়। আমাদের পিতা আদম (আ.) বেহেশত থেকে দুনিয়ায় এসে আল্লাহর ইবাদত কমিয়ে দেননি। হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেটে থেকে আল্লাহর ইবাদত করেছিলেন। হজরত ইউসুফ (আ.) বিনা অপরাধে জেলখানায় গিয়েও দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রেখেছিলেন। তিনি কয়েদিদের কাছে আল্লাহর প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘আমাদের জন্য শোভনীয় নয় আল্লাহর সঙ্গে ইবাদতের ক্ষেত্রে কাউকে শরিক করা। এটা মানবজাতির জন্য একটি বড় রহমত। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।’
জীবনের কঠিন সময়গুলো একেকটা সুবর্ণ সুযোগ, যেটা সবাই গ্রহণ করতে জানে না। কঠিন সময়ের ইবাদতগুলো মানুষকে আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যায়।
সূত্র: ড. ওমর সুলাইমান


Friday, December 15, 2023

নতুন কাপড় না ধুয়ে পরলে নামাজ হবে কি?

 পোশাক মানুষের সৌন্দর্য বাড়ায়, ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলে। সৌন্দর্য ছাড়াও পোশাকে শরীর ঢাকা মানুষের স্বভাবজাত একটি বিষয়। হজরত আদম আলাইহিস সাল্লাম ও হাওয়া আলাইহাস সাল্লামের শরীর থেকে জান্নাতের পোশাক খুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা গাছের পাতা দিয়ে শরীর ঢেকে ফেলেছিলেন। স্বভাবজাত প্রয়োজনের তাগিদেই মানুষ পোশাক পরে।

কাপড় পুরাতন হলে নতুন কাপড়ের কেনে মানুষ। এছাড়াও ঈদ-আনন্দ-উৎসবে নতুন কাপড় কেনা ও পরার ধূম পড়ে সবার মাঝে। নতুন কাপড় মনে আনন্দ বয়ে যায়। মুমিন ব্যক্তি মাত্রই আনন্দের মুহুর্তে আল্লাহকে স্মরণ করেন, তার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে এ বিষয়ে ইসলামী বিধি-বিধান জানতে আগ্রহী হন। হালাল-হারাম, বৈধতা-অবৈধতা যাচাই করতে চান।
নতুন পোশাকের বিষয়ে অনেকে প্রশ্ন করেন, আমরা অনেক সময় বাজার থেকে নতুন কাপড় কিনে এনে না ধুয়ে পরিধান করি এবং তা পরে নামাজও পড়ি। কিন্তু মনে খটকা লাগে, এই নতুন কাপড় সুতা থেকে শুরু করে পূর্ণ কাপড় হওয়া পর্যন্ত অনেক পর্যায় অতিক্রম করতে হয়। সেখানে হয়তোবা পবিত্রতা-অপবিত্রতার প্রতি খেয়াল রাখা হয় না। এতে সন্দেহ হয় এই কাপড় পবিত্র নাকি অপবিত্র। তাই জানার বিষয় হলো, নতুন কাপড় না ধুয়ে তা পরিধান করে নামাজ পড়া সহিহ হবে কি?
এ বিষয়ে ইসলামী আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদদের মতামত হলো, এ ধরনের পরিধেয় বস্ত্র নতুন হলেও নাপাক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত না হলে তা পবিত্র হিসেবে ধরা হবে। শুধুমাত্র সন্দেহ বা মনের ধারণার ভিত্তিতে তা নাপাক বলা যাবে না।
নতুন কাপড়ে যেহেতু নাপাক লাগার কোনো আলামত পাওয়া যায় না, তাই মূলত তা পবিত্র। হ্যাঁ, তবে কোনো কাপড়ে নাপাকি লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হলে কিংবা প্রবল ধারণা হলে তা অপবিত্র বলে ধরা হবে।
আলেমরা বলেন, ইলমে ফিকহের একটি প্রসিদ্ধ মূলনীতি হলো-
‘বস্তুর মূল হলো- পবিত্র হওয়া।’ এ দৃষ্টিকোন থেকে নতুন কাপড়কে পবিত্র হিসাবেই ধরা হবে এবং তা পরে নামাজ আদায় করা যাবে। শুধু নাপাকি থাকা না থাকার সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে নতুন কাপড়কে নাপাক ধরা হবে না।
অতএব, ফুকাহায়ে কেরামের মতে, নতুন কাপড় না ধুয়ে পরিধান করা ও তা গায়ে দিয়ে নামাজ পড়া জায়েজ। তবে মনের খটকা দূর করতে নতুন কাপড় ধুয়ে পরাই ভালো। -(মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা : ৪/৩৬২)


All reactions:

হাঁসের মাংস নিয়মিত খেলে দ্রুত ওজন বাড়ে হাঁসের মাংস খেলে শরীর গরম বোধ হয়!

 হাঁসের মাংসে প্রোটিন, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পাশাপাশি সেলেনিয়াম, আয়রন, নিয়াসিনসহ আরও অনেক খনিজ পদার্থ আছে। চামড়াসহ হাঁসের মাংসে অধিক মাত্রায় ফ্যাট ও কোলেস্টেরল থাকে। গরুর মাংসের চেয়ে হাঁসের মাংসে চর্বির পরিমাণ বেশি। এই চর্বির মধ্যে সম্পৃক্ত চর্বির পাশাপাশি অসম্পৃক্ত চর্বিও আছে। সম্পৃক্ত চর্বিতে আছে কোলেস্টেরল। খনিজ উপাদানের মধ্যে আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, সোডিয়াম, জিংক, কপার, ম্যাগনেশিয়াম ও সেলেনিয়াম। হাঁসের মাংসে ফ্যাটি অ্যাসিডও থাকে যথেষ্ট পরিমাণে। তাই হাঁসের মাংস নিয়মিত খেলে স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত ওজন বাড়ে। তা ছাড়া শরীরও উষ্ণ করে এই ফ্যাটি অ্যাসিড। অর্থাৎ এ কারণেই গরম লাগে।

হাঁসের ডিমেও পুষ্টিগুণ অনেক। অনেক ধরনের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা পাওয়া যায়। হাঁসের মাংসে মাংসপেশির কর্মক্ষমতা ঠিক রাখে, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে, ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে, স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে, দেহে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করে। আর এই ডিমও শরীর গরম করে। এ ছাড়া আছে নানা উপকার।
হাঁসের চর্বি লিনোলিক অ্যাসিডের একটি দারুণ উত্স, তবে এতে ক্যালরি আর সম্পৃক্ত চর্বি দুটোই বেশি। আপনি যদি একসঙ্গে পরিমাণে বেশি হাঁসের মাংস খেয়ে ফেলেন তবে সেটা নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। হাঁসের মাংস যেহেতু সম্পৃক্ত চর্বিসমৃদ্ধ খাবার, তাই এটি আপনার মোট কোলেস্টেরলের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। যে কারণে আপনার হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতএব হাঁসের মাংস বা চর্বি পরিমিত পরিমাণে খেতে বলা হয়। রান্নার জন্য হাঁসের চর্বি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর উচ্চ ক্যালরির কথা মনে রাখুন। এক টেবিল চামচ হাঁসের চর্বিতে থাকে ১১৩ কিলো ক্যালরি। তাই অতিরিক্ত হাঁসের মাংস বা চর্বিযুক্ত হাঁসের মাংস খেলে ওজন বাড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
Source: নাহিদা আহমেদ
No photo description available.
All reactions:

শরীরের জন্য প্রোটিন কেন এত দরকারি

 শরীরে আমিষের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দেহের টিস্যু ও অঙ্গের গঠন কার্যকারিতা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আমিষ খুবই প্রয়োজন। প্রকৃতিতে ২০টি অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা আমাদের দেহে বিভিন্ন ধরনের আমিষ গ্রহণে সাহায্য করে। আমিষ আমাদের দেহে পেশি গঠনের পাশাপাশি এনজাইম, নিউরোট্রান্সমিটার ও হরমোন তৈরি করতে অ্যামাইনো অ্যাসিড ব্যবহার করে। প্রাণিজ আমিষ মানবদেহে সহজে শোষিত হয়, তাই এটি সম্পূর্ণ আমিষ। অন্যদিকে উদ্ভিজ্জ আমিষকে অসম্পূর্ণ আমিষ হিসেবে ধরা হয়।

যেসব খাবারে পর্যাপ্ত আমিষ নেই, সেসব খাওয়ার পর আমাদের দ্রুত খিদে পায় ও ক্লান্তি লাগে। এ ছাড়া দেহে পর্যাপ্ত আমিষের চাহিদা পূরণ না হলে ঠিকমতো বেড়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। চুলপড়ার সমস্যা, গায়ের রং ফ্যাকাশে, মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, পায়ের গোড়ালিতে পানি জমে ফুলতে থাকার মতো নানা অসুবিধা দেখা দেয়। কমে যায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা। আমিষযুক্ত খাবার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থির রাখতে, হরমোনের ভারসাম্য আর ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে থাকে।
দৈনিক কতটা আমিষ
আমরা কতটা আমিষ গ্রহণ করব, তা নির্ভর করবে বয়স, লিঙ্গ ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর। সাধারণত শরীরের ওজনের প্রতি কিলোগ্রামে ন্যূনতম ০.৮-১ গ্রাম আমিষযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত। যাঁরা ভারী ব্যায়াম করেন, তাঁদের ওজনের ভিত্তিতে দেড় থেকে দুই গ্রাম পরিমাণ আমিষ দরকার। মানে কারও ওজন যদি ৬০ কেজি হয় আর তিনি ভারী শরীরচর্চা করেন, তাহলে ওই ব্যক্তিকে ১১০ থেকে ১২০ গ্রাম আমিষ খেতে হবে। কারণ, ব্যায়ামের পর শরীরে পেশি সুস্থ করে তুলতে আমিষ খাওয়া আবশ্যক।
উচ্চ আমিষ যাঁদের দরকার
১. যাঁরা পেশি ভর হারাতে চান না।
২. বয়স্ক লোকদের পেশি ভর ধরে রাখতে চাইলে।
৩. শিশু ও কিশোরদের।
৪. দীর্ঘস্থায়ীভাবে অসুস্থ থাকার পর পেশি ও টিস্যু মেরামতের জন্য।
৫. যাঁরা ওজন কমাতে চান।
৬. অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারীদের।
৭. যাঁরা নিরামিষাশী।
৮. যাঁরা ক্রীড়াবিদ বা পেশি তৈরি করতে চান।
কোন খাবারে কতটা আমিষ
অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটের মতো অতিরিক্ত আমিষও চর্বিতে রূপান্তরিত হতে পারে। তাই অতিরিক্ত আমিষ খাবেন না। যাঁদের কিডনির রোগ আছে, তাঁরা আমিষ কম খাবেন। পাশাপাশি রাতের খাবারে বেশি আমিষ গ্রহণ করলে অনেকের হজম করা কঠিন হতে পারে। যেমন আইবিএস বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সজনিত সমস্যা যাঁদের আছে।
আমাদের প্রতিটি খাবারে ২০ থেকে ৪০ গ্রাম আমিষ গ্রহণ করা উচিত। কোন খাবারে কতটুকু আমিষ আছে, তার একটি ধারণা রাখুন এবারে—
ডিমে আছে (কুসুমসহ) ৬ গ্রাম আমিষ।
মাঝারি আকারের মুরগির টুকরায় (৩০ থেকে ৪০ গ্রাম) ৭ থেকে ৮ গ্রাম আমিষ আছে।
মাছ বড় এক টুকরায় (৭০ থেকে ৮০ গ্রাম) ১২ থেকে ১৫ গ্রাম আমিষ থাকে।
এক মুঠো চিনাবাদামে ৪.৫ থেকে ৫ গ্রাম আমিষ আছে।
এক গ্লাস দুধে আছে (২৫০ মিলি) ৮ গ্রাম আমিষ।
১০০ গ্রাম ডালে ৭ থেকে ৮ গ্রাম আমিষ পাওয়া যায়।
যাঁরা নিরামিষাশী, তাঁরা আমিষের জন্য ছোলা, রাজমা, ডাল, মটরশুঁটি, সয়াবিন, বাদাম, তিসি ইত্যাদি খেতে পারেন।
খাবারে আমিষ কীভাবে বাড়াবেন
১. কুমড়ার বীজ শুকিয়ে সেটি তরকারিতে ব্যবহার করতে পারেন।
২. বাদাম গুঁড়া করে যেকোনো মিল্কশেক বা দুগ্ধজাত যেকোনো খাবারে, যেমন সেমাই, সুজি, পায়েসে দিয়ে খেতে পারেন।
৩. ডাল গুঁড়া করে রাখলে তার সঙ্গে বাদাম মিশিয়ে বড়া বানিয়ে খেতে পারেন।
৪. ডালের গুঁড়া বা বেসন দিয়ে মাছের বড়া তৈরি করে খাওয়া যায়।
৫. ডিম-দুধ দিয়ে পুডিং তৈরি করে খেতে পারেন।
৬. সয়াবিনের দুধ বা বাদামের দুধ দিয়ে যেকোনো স্মুদি বানিয়ে খেলেও আমিষ পাওয়া যায়।
সূত্র: লিনা আকতার, পুষ্টিবিদ
May be an image of scorpion grass
All reactions: