Saturday, November 30, 2024

ইসলামী পরিবার

 ইসলামী পরিবার হলো এমন একটি পরিবার, যা ইসলামের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় এবং এর সদস্যরা ইসলামের নীতিমালা অনুসরণ করে জীবনযাপন করে। ইসলামী পরিবারে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ, আদর্শ মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ধরনের পরিবারে পিতা-মাতা, সন্তান এবং অন্য সদস্যরা কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা মেনে চলতে চেষ্টা করে। ইসলামে পারিবারিক সম্প্রীতির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

ইসলামের মূল শিক্ষা হলো মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করা।
পারিবারিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নীতি রয়েছে, যা পারিবারিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন—
পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসা : ইসলামে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমাদের স্ত্রীর মধ্যে তিনি ভালোবাসা এবং দয়া সৃষ্টি করেছেন। ’ (সুরা : রুম, আয়াত : ২১)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, পারিবারিক জীবনকে সুখী ও শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য প্রেম ও সহানুভূতি অপরিহার্য।
শান্তি ও ক্ষমার শিক্ষা : পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তি শান্তি ও ক্ষমার ওপর গড়ে ওঠে। পারিবারিক জীবনে যে ভুলত্রুটি বা মতপার্থক্য দেখা দেয়, সেগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার শিক্ষা দেয় ইসলাম। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ক্ষমা করো এবং সহনশীল হও, আল্লাহ ক্ষমাশীলদের ভালোবাসেন। ’ (সুরা : নূর, আয়াত : ২২)
পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতা : পারিবারিক জীবনে সহযোগিতা ও সাহায্যের গুরুত্ব অপরিসীম। মহানবী (সা.) নিজে পারিবারিক কাজে সাহায্য করতেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া ও দায়িত্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে সৌহার্দ্য বজায় থাকে।
সংযম ও ধৈর্য : ইসলামে পরিবারে সংযম ও ধৈর্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পারিবারিক জীবনে যেকোনো সমস্যায় শান্ত ও ধৈর্যশীল মনোভাব প্রদর্শন করার শিক্ষাই ইসলাম প্রদান করে। ধৈর্যের মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্কগুলো আরো মজবুত হয় এবং অসন্তোষ বা বিভেদ দূর করা সম্ভব।
দায়িত্বশীলতা ও পারিবারিক কর্তব্য : ইসলামে প্রতিটি পরিবারের সদস্যের জন্য নির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারিত হয়েছে। পিতামাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য, সন্তানের প্রতি মাতা-পিতার দায়িত্ব এবং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্বগুলো পালন করাই পারিবারিক সম্প্রীতির ভিত্তি গড়ে তোলে।
নরম স্বভাব ও স্নেহপ্রবণ আচরণ : নরম স্বভাব ও স্নেহপ্রবণ আচরণ পারিবারিক সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের প্রতি উত্তম।’ (তিরমিজি) এই শিক্ষা অনুযায়ী পরিবারের প্রতি নরম মনের এবং স্নেহশীল মনোভাব প্রদর্শন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের শিক্ষা : পারিবারিক সম্প্রীতির জন্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নৈতিকতা, শিষ্টাচার, এবং আন্তরিকতার শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ইসলামে এই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেন প্রত্যেক সদস্য অন্য সদস্যদের প্রতি সদয়, ভদ্র ও শালীন আচরণ করে। এটি পারিবারিক সম্পর্ককে আরো মজবুত ও স্থায়ী করে তোলে।
বিবাদ এড়িয়ে চলা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি : পারিবারিক জীবনে ছোটখাটো বিরোধ এড়িয়ে চলা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দেয় ইসলাম। কোরআন ও হাদিসে বারবার শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার এবং বিবাদ বা কলহ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় সহায়ক।
পরিবারে প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ : ইসলামে পারিবারিক সম্পর্কগুলোতে পারস্পরিক পরামর্শের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবারের প্রধান সিদ্ধান্তগুলোতে সদস্যদের মতামত নেওয়া তাদের মধ্যে সম্মান ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের পরামর্শ করো এবং তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)
পরিবারের সদস্যদের সময় দেওয়া ও মানসিক সমর্থন প্রদান : ইসলামে পারিবারিক জীবনে সদস্যদের সময় দেওয়ার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। প্রিয় নবী (সা.) নিজেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলতেন। মানসিক সমর্থন দিয়ে একজন আরেকজনকে সাহায্য করার মাধ্যমে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয় এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পায়।
অর্থনৈতিক সহায়তা ও প্রয়োজন মেটানো : ইসলামে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের অর্থনৈতিক চাহিদা মেটানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বামী হিসেবে একজন পুরুষকে তার স্ত্রীর ও সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে বলা হয়েছে। আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, ‘পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৪)
প্রয়োজন পূরণ করলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নির্ভরশীলতা ও প্রশান্তি আসে, যা পারিবারিক সৌহার্দ্যকে আরো বাড়িয়ে তোলে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা : ইসলামে একটি শান্তিপূর্ণ এবং সংগঠিত পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পারিবারিক জীবনে শান্তি ও সংগঠনের অভাব হলে ছোটখাটো সমস্যাগুলো বড় আকার ধারণ করতে পারে। ইসলাম শেখায়, পারিবারিক জীবনে রাগ ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা।
সতর্কভাবে শব্দ ব্যবহার করা : ইসলামে কথোপকথনের সময় কোমল ও শালীন ভাষা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পারিবারিক জীবনে শব্দ ব্যবহারে সতর্কতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কঠোর কথা সম্পর্কের মধ্যে কষ্ট ও দুঃখ সৃষ্টি করতে পারে। আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, ‘মানুষের সঙ্গে সুন্দর কথা বলো..।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত ৮৩)
পরস্পরের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা করা : ইসলামে কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ নয়।’ (তিরমিজি)
পরিবারের সদস্যদের পরস্পরের ভালো কাজের জন্য প্রশংসা করা হলে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয় এবং তাদের মধ্যে সম্মানবোধ বৃদ্ধি পায়।
আদব বা শিষ্টাচার শেখানো ও পালন করা : ইসলাম শিক্ষা দেয় যে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে আদব বা শিষ্টাচার শেখাতে হবে। এটি পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিকে মজবুত করে এবং সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমার পরিবারকে সুন্দর চরিত্র শেখাও।’ (বুখারি)
পরিবারের আনন্দ ও দুঃখ ভাগাভাগি করা : ইসলামে পারিবারিক সম্পর্কের জন্য আনন্দ ও দুঃখ ভাগাভাগি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবারের একজন সদস্যের সুখ-দুঃখে অন্যরা সমানভাবে অংশ নিলে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং সম্পর্ক দৃঢ় হয়। মহানবী (সা.) তাঁর সাহাবিদের দুঃখ-কষ্টে সমব্যথী হতেন এবং তাঁদের সুখে আনন্দ প্রকাশ করতেন।
সূত্র: মাহবুবুর রহমান
May be an image of 3 people, bird and fog
n Rahman

নারীদের শরীরচর্চাঃ ইসলাম কি বলে?

 ইসলাম নারীর অন্য সব অধিকারের মতো আত্মরক্ষার অধিকারও নিশ্চিত করেছে। ইসলাম শর্ত সাপেক্ষে নারীকে আত্মরক্ষামূলক শরীরচর্চা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। আত্মরক্ষার প্রশ্নে ইসলাম নারী-পুরুষে পার্থক্য করেনি; বরং ক্ষেত্রবিশেষে নারীকে প্রাধান্য দিয়েছে।

আত্মরক্ষামূলক শরীরচর্চা কাকে বলে
আত্মরক্ষামূলক শরীরচর্চা বলতে এমন কিছু শারীরিক কর্মকাণ্ড, যা মানুষের পেশিগুলো সুস্থ রাখতে ও সুসংহত করতে করা হয়।
কেননা মানুষের পেশিগুলো সুস্থ ও সবল হলে তা আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধে সহায়ক হয়। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে পেশি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। ফলে মানুষের শরীরিক শক্তি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
নারীদের শরীরচর্চার বিধান
ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে নারীদের শরীরচর্চা করা বৈধ।
চাই তা সুস্থতার জন্য হোক বা আত্মরক্ষার জন্য হোক। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে নারীরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন। কখনো কখনো সম্মুখ সমরেও অংশ নিয়েছেন। যা থেকে প্রমাণিত হয়, তাদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ ছিল।
এ ছাড়া আল্লাহ নারী ও পুরুষ উভয়কে আত্মরক্ষার অধিকার দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘সুতরাং যে তোমাদের ওপর আক্রমণ করেছে, তোমরা তার ওপর আক্রমণ করো, যেরূপ সে তোমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। আর আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৯৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে দুর্বল ঈমানদারের চেয়ে শক্তিশালী ঈমানদার বেশি পছন্দনীয়। যদিও উভয় প্রকার ঈমানদারের মধ্যেই কল্যাণ আছে।
তুমি তোমার কল্যাণকর বিষয়াদির প্রতি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর সাহায্য চাও, অক্ষম হয়ো না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৬৪)
যেসব শর্তে শরীরচর্চা জায়েজ
নারীদের শরীরচর্চা বৈধ হওয়ার জন্য নিম্নোক্ত শর্তগুলো পাওয়া আবশ্যক।
১. স্থান সংরক্ষিত হওয়া : মুসলিম নারীরা এমন সংরক্ষিত স্থানে শরীরচর্চা করবেন, যেখানে কোনো পুরুষের প্রবেশাধিকার থাকবে না। কেননা ইসলামী শরিয়তে নারীর জন্য গাইরে মাহরাম (বিয়ে বৈধ এমন) পুরুষ থেকে নিজের শরীর ও শারীরিক অবয়ব আড়াল করা আবশ্যক। সংরক্ষিত স্থান এ জন্যও প্রয়োজন যে সাধারণত শরীরচর্চার ফলে ঘাম হয়। এতে দেহের সঙ্গে কাপড় লেপ্টে যায় এবং শরীরিক কাঠামো স্পষ্ট হয়ে যায়। যা কোনো আত্মসম্মানের অধিকারী লজ্জাশীল নারীর জন্য বিব্রতকর।
এ ছাড়া শরীরচর্চার সময় কখনো কখনো বুক, পেট, পাসহ বিভিন্ন অঙ্গের কাপড় সড়ে যায়। এসব অঙ্গ মাহরাম পুরুষের সামনেও উন্মুক্ত করা নিষিদ্ধ। সেখানে গাইরে মাহরামের সামনে প্রকাশ করা আরো বেশি নিষিদ্ধ হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশ থাকে তা ছাড়া তাদের আভরণ প্রদর্শন না করে, তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)
২. সতর ঢেকে রাখা : যেসব অঙ্গ নারীর সতরের অন্তর্ভুক্ত সেগুলো ঢেকে রাখা। নারীদের সামনে নারীদের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। কারো কারো মতে, বুক-পিঠও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। এ ক্ষেত্রে আলেমদের পরামর্শ হলো শরীরচর্চার সময় এমন পোশাক পরবে, যেন কসরতের সময় শরীরের কোনো অঙ্গ প্রকাশ না পায়। সেখানে শুধু নারীরা থাকলেও। শরীরচর্চার উপযোগী এমন পোশাক বাজারে সহজলভ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো পুরুষ অপর পুরুষের এবং কোনো নারী অপর নারীর সতর দেখবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৮৮)
ইমাম নববী (রহ.) হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, হাদিস থেকে জানা যায়, পুরুষের জন্য অন্য পুরুষের এবং নারীর জন্য অন্য নারীর সতর দেখা হারাম। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভিন্নতা নেই। (শরহু মুসলিম)
৩. ক্ষতি না হওয়া : নারী ও পুরুষ কারো জন্য এমন কোনো শরীরচর্চা করা বৈধ নয়, যা তার শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হয়। যেমন- এমন শরীরচর্চা ও প্রশিক্ষণ, যার ফলে নারীর নারীসুলভ আচরণে পরিবর্তন আসে, তার গর্ভধারণের যোগ্যতা হ্রাস পায়, হরমোনগত পরিবর্তন আসা, ঋতুচক্র অনিয়মিত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিজের ক্ষতি কোরো না, অন্যের ক্ষতি কোরো না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৩৪১)
৪. দ্বিন পালনে প্রতিবন্ধক না হওয়া : পুরুষ বা নারীরা শরীরচর্চায় এতটা মগ্ন হবে না, যা তার দ্বিন পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়। যেমন যথাসময়ে নামাজ আদায়, মা-বাবার খেদমত, স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ইত্যাদি আদায় করতে সক্ষম না হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সেসব লোক, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামাজ আদায় ও জাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেই দিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩৭)
মোটকথা, ইসলামী শরিয়তের বিধান ও শিক্ষার পরিপন্থী না হলে এবং সংরক্ষিত ও নিরাপদ পরিবেশের শর্ত পেলে নারীদের যেকোনো শরীরচর্চা বৈধ।
নারীর নিরাপত্তায় বিশেষ বিবেচনা
ইসলাম নারীর নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ জন্য কোনো নারী তাঁর জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষার জন্য কারো ওপর আক্রমণ করলে সে দায়মুক্ত থাকবে। উবাইদ ইবনে উমায়ের (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তির ঘরে একজন মেহমান এলো। ফলে তারা জনৈক বাঁদীকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে পাঠাল। বাঁদীকে মেহমানের পছন্দ হলে তার পেছনে লাগল এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে চাইল। বাঁদী তাকে বাধা দিল। সে তার সঙ্গে কিছুক্ষণ মোকাবেলা করল। অতঃপর বাঁদী দৌড়ে পালাল এবং পাথর ছুড়ে মারল। এতে তার কলিজা বিদীর্ণ হলো। ঘরে এসে সবাইকে ঘটনা জানাল। তারা ওমর (রা.)-এর কাছে ঘটনার বৃত্তান্ত জানাল। ওমর (রা.) সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে ফায়সালা দিলেন, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিহত হয়েছে, তার কোনো রক্তপণ দেওয়া লাগবে না।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ১৭৯১৯, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ২৭৭৯৪)
আল্লাহ সবাইকে যথাযথভাবে দ্বিন মেনে চলার তাওফিক দিন। আমিন
সূত্র: আতাউর রহমান খসরু
May be an image of text
All reactions:
Abdus Sabur Dhms

Vit D & Cancer

 Vitamin D & Cancer

All reactions:
Abdus Sabur Dhms

চিয়া সিড কখন খাবেন?

 ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের চমৎকার উৎস চিয়া সিডকে বলা হয় সুপার ফুড। ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, জিঙ্ক এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ মেলে ছোট্ট এই বীজ থেকে। ওজন কমাতে ও সুস্থ থাকতে চিয়া সিড নিয়মিত খেতে পারেন। কখন এবং কী পরিমাণে খাবেন উপকারী এই বীজ? জেনে নিন সেটাই।

সকালে খালি পেটে চিয়া বীজ ভেজানো পানি খেতে পারেন। এতে মেটাবোলিজম বাড়বে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকবে।
ব্যায়াম করার ৩০ মিনিট আগে চিয়া সিড খান, এনার্জি থাকবে অনেকক্ষণ।
সারারাত চিয়া সিড ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে স্মুদিতে মিশিয়ে খেতে পারেন। শরীর ডিহাইড্রেটেড হবে না।
সকালের নাস্তায় ওটস, দই ও বিভিন্ন ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন চিয়া সিড। ফাইবার সমৃদ্ধ এই বীজ অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখবে।
সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের মাঝে চিয়া সিডের তৈরি খাবার খেতে পারেন। এতে দুপুরের খাবার অতিরিক্ত খাওয়া হবে না।
দুপুর কিংবা রাতের খাবার খাওয়ার ২০ মিনিট আগে চিয়া বীজ খান। এতে অতিরিক্ত ক্ষুধা কমবে এবং পরিমাণ মেনে খাওয়া সম্ভব হবে।
সালাদের ড্রেসিং হিসেবে চিয়া সিড ব্যবহার করতে পারেন। লো ক্যালোরি মিলের সঙ্গে দারুণ জমবে এই সালাদ।
রাতের খাবার শেষে চিয়া সিড খেলে হজমের সমস্যা দূর হয়। অ্যাসিডিটিও নিয়ন্ত্রণ করে এটি।
হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের একটি রিপোর্ট বলছে, প্রতিদিন ২৮ গ্রাম অথবা ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ চিয়া সিড খাওয়া যেতে পারে। ইউএসডিএ ন্যাশনাল নিউট্রিয়েন্ট ডাটাবেজ অনুসারে, এক আউন্স (প্রায় দুই টেবিল চামচ) চিয়া বীজে রয়েছে ১০ গ্রাম ফাইবার, ৪ গ্রাম প্রোটিন, ৯ গ্রাম স্বাস্থ্যকর চর্বি, দৈনন্দিন চাহিদার ১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম, ৩০ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম ও ২৭ শতাংশ ফসফরাস।
চিয়া সিড খাওয়ার ব্যাপারে কিছু সাবধানতাও মেনে চলতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণে চিয়া সিড খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। চিয়া বীজ তাদের ওজনের ১২ গুণ পানি শোষণ করতে পারে। ফলে এগুলো পেটে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়। এটি প্রচুর পরিমাণে খাওয়া হলে পেট ফাঁপতে পারে বা পেটে ব্যথা হতে পারে।
তথ্যসূত্র: ইকোনোমিক টাইম
May be an image of body of water
 Dhms

মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া আর গীবত করা সমান

 আল্লাহ তা’আলা গীবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করে এ কাজের চরম ঘৃণিত হওয়ার ধারণা দিয়েছেন। মৃতের গোশত খাওয়া এমনিতেই ঘৃণা ব্যাপার। সে গোশতও যখন অন্য কোন জন্তুর না হয়ে মানুষের হয়, আর সে মানুষটিও নিজের আপন ভাই হয় তাহলে তো কোন কথাই নেই। তারপর এ উপমাকে প্রশ্নের আকারে পেশ করে আরো অধিক কার্যকর বানিয়ে দেয়া হয়েছে যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে নিজেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে যে, সে কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে প্রস্তুত আছে? সে যদি তা খেতে রাজি না হয় এবং তার প্রবৃত্তি এতে ঘৃণাবোধ করে তাহলে সে কিভাবে এ কাজ পছন্দ করতে পারে যে, সে তার কোন মু’মিন ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার মান মর্যাদার ওপর হামলা চালাবে যেখানে সে তা প্রতিরোধ করতে পারে না, এমনকি সে জানেও না যে, তাকে বেইজ্জতি করা হচ্ছে। এ আয়াতাংশ থেকে একথাও জানা গেল যে, গীবত হারাম হওয়ার মূল কারণ যার গীবত করা হয়েছে তার মনোকষ্ট নয়। বরং কোন ব্যক্তির অসাক্ষাতে তার নিন্দাবাদ করা আদতেই হারাম, চাই সে এ সম্পর্কে অবহিত হোক বা না হোক কিংবা এ কাজ দ্বারা সে কষ্ট পেয়ে থাক বা না থাক। সবারই জানা কথা, মৃত ব্যক্তির গোশত খাওয়া এজন্য হারাম নয় যে, তাতে মৃত ব্যক্তির কষ্ট হয়। মৃত্যুর পর কে তার লাশ ছিঁড়ে খাবলে খাচ্ছে তা মৃতের জানার কথা নয়। কিন্তু সেটা আদতেই অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। অনুরূপ, যার গীবত করা হয়েছে, কোনভাবে যদি তার কাছে খবর না পৌঁছে তাহলে কোথায় কোন ব্যক্তি কখন কাদের সামনে তার মান-ইজ্জতের ওপর হামলা করেছিল এবং তার ফলস্বরূপ কার কার দৃষ্টিতে সে নীচ ও হীন সাব্যস্ত হয়েছিল, তা সে সারা জীবনেও জানতে পারবে না। না জানার কারণে এ গীবত দ্বারা সে আদৌ কোন কষ্ট পাবে না। কিন্তু এতে অবশ্যই তার মর্যাদাহানি হবে। তাই ধরণ ও প্রকৃতির দিক থেকে কাজটি মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া থেকে ভিন্ন কিছু নয়।

Dhms

অন্যের দোষ গোপন রাখোঃ

 “কেউ যদি কারো গোপন দোষ-ত্রুটি দেখে ফেলে এবং তা গোপন রাখে তাহলে সে যেন একজন জীবন্ত পূঁতে ফেলা মেয়ে সন্তানকে জীবন দান করলো।” (আল জাস্সাস)

May be an image of 2 people, wrist watch and text
Dhms

অতীতকে ঘৃণা নয়

 মানুষের অতীত তার পরিবর্তনের অংশ

May be an image of text that says "The butterfly does not look back at the caterpillar in shame, just as as you should not look back at your past in shame. Your past was part of your own transformation. Anthony Gucclardl የጅ"
Dhms