Saturday, December 27, 2025

চাহিদা কবর অব্দি বজায় থাকে

 কথাটা একদম সত্যি। মানুষের চাওয়ার কোনো শেষ নেই; একটা পূরণ হলে অন্য একটা সামনে এসে দাঁড়ায়। এই চিরন্তন অতৃপ্তি নিয়েই মানুষ আমৃত্যু ছুটে চলে।

বিখ্যাত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, "আদম সন্তানের যদি স্বর্ণভর্তি দুটি উপত্যকা থাকে, তবে সে তৃতীয় আরেকটি উপত্যকা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে। আর মানুষের পেট মাটি (কবর) ছাড়া আর কিছুতেই ভরে না।" সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৬৪৩৯
জীবনবোধ যখন এতোটা গভীর হয়, তখন চারপাশের ইঁদুর দৌড় দেখে হয়তো মাঝে মাঝে ক্লান্তি আসে। আসলে আমরা জীবনের অনেকটা সময় এমন সব জিনিসের পেছনে ছুটি, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে যায় না।
তবে এই অতৃপ্ত চাহিদাই কিন্তু মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়, আবার এই চাহিদাই কখনো কখনো তাকে অশান্ত করে তোলে। দর্শন বলে, যারা নিজের যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে শেখে (কানাআত), তারাই শেষ পর্যন্ত মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পায়।
চাহিদা পুরোপুরি মুছে ফেলা অসম্ভব, কারণ এটি মানুষের টিকে থাকার প্রেরণা। তবে একে নিয়ন্ত্রণ বা পরিমার্জিত করা অবশ্যই সম্ভব। জীবনদর্শনে এর তিনটি প্রধান পথ রয়েছে:
১. প্রয়োজন বনাম বিলাসিতার পার্থক্য: চাহিদা যখন স্রেফ 'প্রয়োজন' (Needs) এর মধ্যে থাকে, তখন তা নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু যখন তা 'খামখেয়ালি' (Wants) বা অন্যের সাথে প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়, তখনই তা লাগামহীন হয়ে পড়ে।
২. তুষ্টি বা আল-কানাআত: ইসলামের দর্শনে আল-কানাআত (অল্পে তুষ্টি) একটি বড় গুণ। নিজের যা আছে তার ওপর সন্তুষ্ট থাকার মানসিক অভ্যাস গড়ে তুললে চাহিদার তীব্রতা কমে আসে।
৩. দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: পৃথিবীর মোহে না পড়ে চিরস্থায়ী কল্যাণের দিকে নজর দিলে জাগতিক বস্তুর প্রতি আসক্তি এমনিতেই শিথিল হয়ে যায়।
সহজ কথায়, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটা ঘোড়াকে বশ করার মতো—একেবারে থামিয়ে দেয়া যায় না, কিন্তু লাগাম টেনে সঠিক পথে রাখা যায়।
আধুনিক ভোগবাদী সমাজে এই "লাগাম" ধরে রাখা অবশ্যই অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এর কিছু বাস্তব কারণ এবং সমাধানের পথ নিচে দেওয়া হলো:
কঠিন হওয়ার মূল কারণগুলো:
অ্যালগরিদমিক টার্গেটিং: এখনকার সামাজিক মাধ্যমগুলো এমনভাবে তৈরি যে আপনার অবচেতন মনের ইচ্ছাকেও তারা বিজ্ঞাপন হিসেবে সামনে নিয়ে আসে। এই নিরন্তর "প্রলোভন" চাহিদাকে উসকে দেয়।
FOMO (হারানোর ভয়): অন্যের চাকচিক্যময় জীবন দেখে নিজের মনে এক ধরণের অতৃপ্তি তৈরি হয়, যা নতুন কিছু কেনার বা পাওয়ার তাড়না বাড়িয়ে দেয়।
সহজলভ্যতা: ডিজিটাল পেমেন্ট ও ওয়ান-ক্লিক শপিংয়ের ফলে কোনো কিছু কেনার আগে ভাবার সময়টুকুও কমে গেছে, ফলে চাহিদার লাগাম আলগা হয়ে পড়ছে।
"লাগাম" ধরে রাখার কৌশল:
তবে বর্তমান সময়ে মানুষ সচেতন হচ্ছে এবং এর থেকে উত্তরণের পথও খুঁজছে:
১. ডিজিটাল ডিটক্স: সপ্তাহে অন্তত একদিন বা দিনে নির্দিষ্ট সময়ে ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকা চাহিদার তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে ।
২. আন্ডার-কনজাম্পশন ট্রেন্ড: বর্তমানে অনেক তরুণ "Underconsumption core" বা "প্রয়োজনের অতিরিক্ত না কেনা"র ট্রেন্ড অনুসরণ করছে, যা অপ্রয়োজনীয় চাহিদা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
৩. উদ্দেশ্যমূলক মিতব্যয়িতা (Minimalism): নিজের জীবনের মূল লক্ষ্য ঠিক করে কেবল প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর মনোনিবেশ করা। ২০২৫ সালে প্রায় ৭১% তরুণ এই জীবনধারাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
৪. কৃতজ্ঞতা বোধ: নিজের যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকার মানসিকতা (Gratitude) জাগতিক চাহিদার তীব্রতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, বর্তমান যুগ আমাদের সারাক্ষণ 'চাই চাই' করতে শেখায়, কিন্তু সুস্থ মানসিক প্রশান্তির জন্য আমাদের শিখতে হচ্ছে কোথায় 'না' বলতে হবে।
আত-তাকাসুর এই সূরায় সরাসরি বলা হয়েছে যে, প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা মানুষকে মোহগ্রস্ত করে রাখে যতক্ষণ না সে কবরে পৌঁছায়।
আল্লাহ মানুষের সব কিছু জানেন যা মানুষ জানে না।


খাঁটি মন সব শেষে বিজয়ী হয়!

 ঠিক কথা!

সত্য আর সততার পথ শুরুতে কঠিন মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে খাঁটি মনের জয় সুনিশ্চিত। কারণ:
মানসিক শান্তি: খাঁটি মানুষ দিনশেষে নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকে, যা সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।
স্থায়ী সম্মান: লোকদেখানো আচরণ সাময়িক বাহবা দিলেও, মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেয় খাঁটি ব্যক্তিত্ব।
সৃষ্টিকর্তার সাহায্য: বিশ্বাস করা হয় যে, যার নিয়ত পরিষ্কার থাকে, কঠিন সময়েও তার জন্য কোনো না কোনো পথ খুলে যায়।
কথায় আছে, "সত্য কখনো চাপা থাকে না।" তাই একটু দেরি হলেও ন্যায়ের জয় হবেই। আপনার এই ইতিবাচক চিন্তা সত্যিই প্রশংসনীয়!
জীবনকে নতুন করে দেখার জন্য এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তিতে ভরপুর কিছু চিরন্তন উক্তিঃ
১. হুমায়ূন আহমেদ: "মানুষের কষ্ট দেখাও কষ্টের কাজ। আবার মানুষের আনন্দ দেখাও আনন্দের কাজ।" (ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি জীবনকে সহজ করে)।
২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: "ভুল করার অধিকার হারিয়ে ফেলার চেয়ে বড় পরাধীনতা আর নেই।" (ভুল থেকেই মানুষ সবচেয়ে বড় শিক্ষা পায়)।
৩. এ পি জে আব্দুল কালাম: "স্বপ্ন সেটা নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে দেখো, স্বপ্ন সেটাই যেটা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না।"
৪. স্বামী বিবেকানন্দ: "জেগে ওঠো, সচেতন হও এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।"
৫. ডেল কার্নেগি: "দুশ্চিন্তা দূর করার সেরা উপায় হলো নিজেকে কোনো কাজে ব্যস্ত রাখা।"
৬. সংগৃহীত: "অন্ধকারকে ভয় পেও না, মনে রেখো তারারাই কেবল অন্ধকারের মাঝে জ্বলে ওঠে।"
৭. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বলেন,
“তপনের ছটা না ফুরাতো যদি
ফুরালে দিনের নাট-
তবে কি প্রদোষে ফুটিয়া উঠিত
ফুল্ল তারা হাট?”
ধৈর্যহীনতা আসলে জেতার আগেই হেরে যাওয়ার সমান।
কেন ধৈর্যই বিজয়ী হওয়ার চাবিকাঠি:
সঠিক সময়ের অপেক্ষা: বড় কিছু হুট করে হয় না। একটি বীজ থেকে গাছ হয়ে ফল দিতেও যেমন সময়ের প্রয়োজন, জীবনের সাফল্যের জন্যও তেমনই ধৈর্য লাগে।
কঠিন সময়ে স্থির থাকা: প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যারা ধৈর্য হারায় না, তারাই ঠান্ডা মাথায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
দক্ষতা অর্জন: যেকোনো কাজে দক্ষ হতে হলে দিনের পর দিন ধৈর্য ধরে অনুশীলন করতে হয়।
ধৈর্য ধরা অনেকটা অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে হাঁটার মতো, যেখানে আলোর দেখা পেতে সময় লাগে।
ধৈর্য ধরার জন্য নিচের এই অনুপ্রেরণাগুলো আপনাকে শক্তি দেবে:
১. কুরআনের বাণী (২:১৫৩): "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" এটি যেকোনো কঠিন সময়ে মানসিক প্রশান্তি দেয়।
২. হুমায়ূন আহমেদ-এর একটি কথা: "মানুষের কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা অসীম। ঈশ্বর মানুষকে এই ক্ষমতা দিয়েই পাঠিয়েছেন।" আপনার ভেতরের সেই ক্ষমতাকে বিশ্বাস করুন।
৩. প্রকৃতির শিক্ষা: একটি চারাগাছ রোপণ করলেই পরদিন ফল দেয় না। তাকে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে বড় হতে হয়। জীবনও ঠিক তেমন; আপনার পরিশ্রমের ফল পেতে সঠিক সময়ের প্রয়োজন।
৪. এ পি জে আব্দুল কালাম: "যদি তুমি সূর্যের মতো উজ্জ্বল হতে চাও, তবে আগে সূর্যের মতো পুড়তে শেখো।" এই পুড়ে যাওয়াই হলো ধৈর্যের পরীক্ষা।
৫. নিজের প্রগতি দেখুন: আপনি আজ যেখানে আছেন, এক বছর আগে হয়তো এখানে ছিলেন না। ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো খেয়াল করুন, দেখবেন ধৈর্য ধরা সহজ হবে।
"সময় সব ক্ষত সারিয়ে দেয় এবং সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয়।" শুধু নিজেকে একটু সময় দিও।

মেয়েরা হলো বীজের মতো (গবেষণাধর্মী কথা)

 এটি একটি গভীর ভাবার্থবাহী কথা। এর মাধ্যমে সাধারণত বোঝানো হয়-

১. সহনশীলতা ও শক্তি: বীজ যেমন মাটির নিচে অন্ধকার আর চাপ সহ্য করে অঙ্কুরিত হয়, মেয়েরাও প্রতিকূলতা জয় করে বিকশিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে।
২. বিকাশ ও সম্ভাবনা: একটি ছোট্ট বীজের ভেতর যেমন বিশাল একটি মহীরুহ বা গাছের সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে, তেমনি একজন মেয়ের সুপ্ত প্রতিভা ও শক্তির সঠিক বিকাশ ঘটলে সে সমাজ ও পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে।
৩. সৃষ্টির আধার: বীজ থেকে যেমন নতুন প্রাণের জন্ম হয়, তেমনি মেয়েরাই নতুন প্রজন্ম এবং সুন্দর আগামীর কারিগর।
বীজের বিস্তারন কিভাবে ঘটবে তা আল্লাহ তা‘য়ালা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। বীজের বিস্তারনের মাধ্যম আছে। সেগুলো হলোঃ
১. পতঙ্গপ্রেমী উদ্ভিদ-Entomophillus Plant
এদের ফুল সাধারণত উজ্জ্বল, রঙিন ও সুগন্ধযুক্ত হয়। এই আঙ্গিকে মেয়েদের কথা ভাবুন।
২. বায়ুপ্রেমী উদ্ভিদ- Anemophillus plant
এদের পরাগরেণু অত্যন্ত হালকা, শুষ্ক যা দীর্ঘ দূরত্বে বাতাসে ভর করে ভেসে যেতে সাহায্য করে। এই আঙ্গিকে মেয়েদের কথা ভাবুন।
৩. জলপ্রেমী উদ্ভিদ-Hydrophillus Plant
এদের অনেকেই পানির ওপর ভেসে থাকে, কিছু নিমজ্জিত থাকে এবং কিছু আংশিক পানিতে জন্মায়। এই উদ্ভিদগুলো জলাশয়ের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। এই আঙ্গিকে মেয়েদের কথা ভাবুন।
৪. প্রাণীপ্রেমী উদ্ভিদ-Zoophillus Plant
প্রাণীদের আকৃষ্ট করে, তাদের আশ্রয় দেয় বা পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে উপকৃত হয়। কিছু গাছ সরাসরি কোনো প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এই সম্পর্কগুলো প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আঙ্গিকে মেয়েদের কথা ভাবুন।
মেয়েরা হলো বীজের মতো এ কথাগুলো জবাব অবশ্যই পাবেন যদি বীজের বিস্তারনের কথা গভীরভাবে চিন্তা করেন।
সহজ কথায়, সঠিক মাধ্যম, সঠিক যত্ন, সঠিক ভালোবাসা আর সঠিক শিক্ষার সুযোগ পেলে একটি বীজ যেমন ফুলে-ফলে ভরে ওঠে, একজন মেয়েও তেমনি তার পরিবার ও সমাজের জন্য আশির্বাদ হয়ে ওঠে। এর কোনই ব্যত্যয় ঘটে না।
নীচের কথাগুলো নিরেট সত্যঃ
আমরাই মেয়েদেরকে উলঙ্গ থাকার জন্য Pay করি
আবার আবৃত থাকার জন্য মেয়েদেরকে জরিমানও করি।
সমাজটা বড়ই নোংরা হয়ে গেছে।

অকৃতজ্ঞতা

 "অকৃতজ্ঞতা" বা নিমকহারামি মানুষের একটি নেতিবাচক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। যারা উপকারীর উপকার স্বীকার করে না বা উপকারের বিনিময়ে ক্ষতি করে, তাদেরই অকৃতজ্ঞ বলা হয়।

অকৃতজ্ঞতা নিয়ে কিছু প্রচলিত কথা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিচে দেওয়া হলো:
বিখ্যাত উক্তি: শেক্সপিয়রের মতে, "শীতকালের কনকনে বাতাসও মানুষের অকৃতজ্ঞতার মতো নিষ্ঠুর নয়।"
ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি: সব ধর্মেই অকৃতজ্ঞতাকে পাপ বা বর্জনীয় কাজ হিসেবে দেখা হয়। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আশীর্বাদ বা নেয়ামত বৃদ্ধি পায়, আর অকৃতজ্ঞতা তা কেড়ে নেয়।
সামাজিক প্রভাব: অকৃতজ্ঞ আচরণের ফলে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও পরোপকারের মানসিকতা কমে যায়।
বিষধর ও পথিক
এক প্রচণ্ড শীতের সকালে এক পথিক বনের পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথের ধারে তিনি একটি সাপকে আধমরা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখলেন। শীতে জমে গিয়ে সাপটি নড়াচড়া করার শক্তি হারিয়েছিল। পথিকের মায়া হলো। তিনি সাপটিকে তুলে নিজের চাদরের নিচে উষ্ণতায় রাখলেন।
কিছুক্ষণ পর শরীরের ওমে সাপটি প্রাণ ফিরে পেল। যেই সাপটি সুস্থ হলো, সে তার স্বভাবমতো পথিককে ছোবল মারার জন্য ফণা তুলল। পথিক অবাক হয়ে বললেন, "আমি তোমার প্রাণ বাঁচালাম, আর তুমি আমাকেই দংশন করতে চাইছ?"
সাপটি উত্তর দিল, "উপকার করা তোমার স্বভাব হতে পারে, কিন্তু দংশন করা আমার ধর্ম। কৃতজ্ঞতা দিয়ে আমি কী করব?"
শিক্ষা: কিছু মানুষের স্বভাব সাপের মতোই। আপনি তাদের যতই উপকার করেন না কেন, সুযোগ পেলেই তারা তাদের আসল রূপ দেখাবে।
কবিতা: অকৃতজ্ঞতার ছায়া
হাতের পাতায় আগলে যারে
রাখলে দিয়ে বুক,
সে-ই একদিন ফিরিয়ে নিয়ে
চুপসে দিল মুখ।
আলোর খোঁজে যে জন এলো
তোমার ঘরের দ্বারে,
সেই জ্বালালো আগুন শেষে
তোমার আপন ঘরে।
উপকারিতা ধুলোয় মিশে
বিঁধলো বিষের বাণ,
অকৃতজ্ঞের দুনিয়াতে
নেই তো দয়ার মান।
মানুষ চেনা দায় রে বড়
চেনা বড় দায়,
বুকের ওপর পাথর রেখে
সে যে ভুলে যায়।

Friday, December 26, 2025

যে মানুষের শত্রু নেই, সে মানুষের গুণ নেই

কথাটি বেশ গভীর। এর মূল অর্থ হলো—যে ব্যক্তি ন্যায় বা সত্যের পথে চলে, তার কোনো না কোনো প্রতিবাদী বা শত্রু তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। যার কোনো শত্রু নেই, ধরে নেওয়া হয় সে হয়তো অন্যায় দেখেও চুপ থাকে বা সবার সাথে গা বাঁচিয়ে চলে, যা ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তার অভাব নির্দেশ করে।

বিখ্যাত কিছু উক্তি এই ধারণাকে সমর্থন করে:
উইনস্টন চার্চিল: "তোমার কি শত্রু আছে? ভালো, তার মানে জীবনের কোনো না কোনো সময়ে তুমি কোনো কিছুর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলে।"
হুমায়ূন আহমেদ: "মানুষের কষ্ট দেখাও কষ্টের কাজ। আবার মানুষের আনন্দ দেখাও আনন্দের কাজ। যার শত্রু নেই সে মানুষ হিসেবে পূর্ণ নয়।"
ভিক্টর হুগো: তাঁর মতে, শত্রু থাকা মানে হলো আপনি সমাজের কোনো জড়তা বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন।
পল নিউম্যান: "শত্রুহীন মানুষ আসলে ব্যক্তিত্বহীন মানুষ"
"যে মানুষের শত্রু নেই, সে মানুষের গুণ নেই" এর পেছনে থাকা মূল দর্শন ও যুক্তিগুলোঃ
১. ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তার প্রমাণ
একজন নীতিবান মানুষ যখন কোনো সত্য বা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান, তখন যারা সেই আদর্শের বিরোধী, তারা স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। যার কোনো শত্রু নেই, মনে করা হয় তিনি হয়তো কখনোই কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নেননি বা কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করেননি।
২. সুবিধাবাদ বনাম আদর্শবাদ
সবাইকে খুশি করে চলা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যদি না তিনি নিজের আদর্শের সাথে আপস করেন। তাই কোনো শত্রু না থাকা অনেক সময় নির্দেশ করে যে ব্যক্তিটি হয়তো "গা বাঁচিয়ে চলা" বা "সুবিধাবাদী" প্রকৃতির।
অন্যদিকে, গুণী মানুষের সুনির্দিষ্ট জীবনদর্শন থাকে, যা স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে আঘাত হানে এবং শত্রু তৈরি করে।
৩. সাফল্যের পথে অন্তরায়
সাফল্য অর্জন করলে ঈর্ষান্বিত মানুষের সংখ্যা বাড়ে। আপনি যদি জীবনে উল্লেখযোগ্য কিছু করেন, তবে সেই পথে আপনার সমালোচক বা প্রতিপক্ষ তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই শত্রু থাকা অনেক সময় ব্যক্তির কর্মক্ষমতা ও সাফল্যেরই পরিচয় দেয় ।
সংক্ষেপে, এই প্রবাদটি আমাদের শেখায় যে—নিন্দুক বা শত্রুর ভয়ে নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়। বরং ন্যায়ের পথে চলতে গিয়ে যদি শত্রু তৈরি হয়, তবে সেটি আপনার চারিত্রিক সততারই অলংকার।
তবে আধুনিক প্রেক্ষাপটে এর অর্থ এই নয় যে আপনাকে ঝগড়াটে হতে হবে। বরং এর মানে হলো, নিজের আদর্শ ও সততায় অটল থাকলে স্বার্থান্বেষী মহল স্বাভাবিকভাবেই আপনার বিপক্ষে যাবে। তাই শত্রু থাকা অনেক সময় আপনার চারিত্রিক দৃঢ়তারই প্রমাণ দেয়।
নিন্দুকঃ
নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো,
যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।
সবাই মোরে ছাড়তে পারে বন্ধু যারা আছে,
নিন্দুক সে ছায়ার মতো থাকবে পাছে পাছে।
বিশ্বজনে নিঃস্ব করে পবিত্রতা আনে।
সাধকজনে বিস্তারিতে তার মতো কে জানে?
বিনামূল্যে কয়লা ধুয়ে করে পরিষ্কার।
বিশ্বমাঝে এমন দয়াল মিলবে কোথা আর?
নিন্দুক সে বেঁচে থাকুক বিশ্বহিতের তরে,
আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপা ভরে।
নিন্দুককে সবাই অপছন্দ করলেও সমাজে নিন্দুকের ভূমিকা একেবারে উপেক্ষার নয়। নিন্দুকের নিন্দার ভয়ে মানুষের ও সমাজের অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি দূর হয়। সে হিসেবে নিন্দুকের মতো উপকারী বন্ধু সমাজে বিরল।
"Criticism is the way to correctness"
এটি মূলত বোঝায় যে, গঠনমূলক সমালোচনা কোনো বাধা নয় বরং উন্নতির একটি অপরিহার্য ধাপ।
এই দর্শনের মূল দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
ভুল সংশোধনের আয়না: আমরা নিজের কাজে সবসময় নিখুঁত হতে পারি না। সমালোচকরা আমাদের সেই "ব্লাইন্ড স্পট" বা ভুলগুলো ধরিয়ে দেন যা আমরা নিজেরা দেখতে পাই না।
উইনস্টন চার্চিলের দর্শন: তিনি সমালোচনাকে শরীরের বেদনার সাথে তুলনা করেছেন। যেমন ব্যথা আমাদের বলে দেয় শরীরে কোথাও সমস্যা আছে, সমালোচনাও তেমনি আমাদের কাজের ত্রুটি নির্দেশ করে যেন আমরা তা ঠিক করে নিতে পারি
অ্যারিস্টটলের চিরন্তন সত্য: তিনি বলেছিলেন, সমালোচনা এড়ানোর মাত্র একটি উপায় আছে— "কিছুই করবেন না, কিছুই বলবেন না এবং আপনি নিজেও কিছুই হবেন না"। অর্থাৎ, আপনি যদি বড় কিছু করতে চান, সমালোচনা আসা অনিবার্য এবং এটিই আপনাকে সঠিক পথে নিয়ে যাবে।
সাফল্যের জ্বালানি: বিখ্যাত মনীষী ও সফল ব্যক্তিরা সমালোচনাকে ভয় না পেয়ে বরং একে উন্নতির সিঁড়ি হিসেবে দেখেন। সমালোচনাহীন জীবন স্থবিরতার লক্ষণ।
মনে রাখবেন: যারা আপনাকে সমালোচনা করে, তারা আসলে আপনার কাজকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই সমালোচনাগুলো গ্রহণ করে নিজেকে পরিমার্জন করাই হলো শ্রেষ্ঠত্ব বা "correctness" অর্জনের গোপন রহস্য।

Thursday, December 25, 2025

Originator

 [He is] Originator of the heavens and the earth. How could He have a son when He does not have a companion and He created all things? And He is, of all things, Knowing.

Tafsir of Ibn Kathir...
Meaning of Badi`
﴿بَدِيعُ السَّمَـوَتِ وَالاٌّرْضِ﴾
(He is the Badi` of the heavens and the earth) Meaning He originated, created, invented and brought them into existence without precedence, as Mujahid and As-Suddi said. This is why the word for innovation – Bid`ah – comes from it, because it is something that did not have a precedence.
﴿أَنَّى يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُنْ لَّهُ صَـحِبَةٌ﴾
(How can He have children when He has no wife) for the child is the offspring of two compatible spouses. Allah does not have an equal, none of His creatures are similar to Him, for He alone created the entire creation. Allah said;
﴿وَقَالُواْ اتَّخَذَ الرَّحْمَـنُ وَلَداً – لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئاً إِدّاً ﴾
(And they say: “The Most Beneficent (Allah) has begotten a son.” Indeed you have brought forth (said) a terrible evil thing.) ﴿19:88-89﴾, until,
﴿وَكُلُّهُمْ ءَاتِيهِ يَوْمَ الْقِيَـمَةِ فَرْداً ﴾
(And everyone of them will come to Him alone on the Day of Resurrection.)﴿19:95﴾.
﴿وَخَلَقَ كُلَّ شَىْءٍ وهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ﴾
(He created all things and He is the All-Knower of everything.) He has created everything and He is All-Knower of all things. How can He have a wife from His creation who is suitable for His majesty, when there is none like Him How can He have a child then Verily, Allah is Glorified above having a son.


পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা

 এটি "সবুজ" বা যৌবনের উদ্যম ও উচ্ছ্বাসকে নির্দেশ করে।

এটি মূলত বাঁধা ধরা নিয়ম, তর্ক এবং জড়তাকে হেলাফেলা করে, নির্ভয়ে ও অবাধ্যভাবে নিজের সত্তাকে প্রকাশ করার আহ্বান জানায়
মূল ভাব ও তাৎপর্য:
বন্ধনমুক্তি: "পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা" হলো সব রকমের সামাজিক জড়তা, ভয় ও শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার একটি রূপক ।
উদ্যম: এটি যৌবনের অদম্য শক্তি ও সাহসকে ফুটিয়ে তোলে।
নির্ভীকতা: সমস্ত তর্ক ও সমালোচনাকে তোয়াক্কা না করে সাহসের সাথে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর---বলাকা
ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।
রক্ত আলোর মদে মাতাল ভোরে
আজকে যে যা বলে বলুক তোরে,
সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ ক'রে
পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা।
আয় দুরন্ত, আয় রে আমার কাঁচা।
খাঁচাখানা দুলছে মৃদু হাওয়ায়;
আর তো কিছুই নড়ে না রে
ওদের ঘরে, ওদের ঘরের দাওয়ায়।
ওই যে প্রবীণ, ওই যে পরম পাকা,
চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা,
ঝিমায় যেন চিত্রপটে আঁকা
অন্ধকারে বন্ধ করা খাঁচায়।
আয় জীবন্ত, আয় রে আমার কাঁচা।
বাহিরপানে তাকায় না যে কেউ,
দেখে না যে বাণ ডেকেছে
জোয়ার-জলে উঠছে প্রবল ঢেউ।
চলতে ওরা চায় না মাটির ছেলে
মাটির 'পরে চরণ ফেলে ফেলে,
আছে অচল আসনখানা মেলে
যে যার আপন উচ্চ বাঁশের মাচায়,
আয় অশান্ত, আয় রে আমার কাঁচা।
তোরে হেথায় করবে সবাই মানা।
হঠাৎ আলো দেখবে যখন
ভাববে এ কী বিষম কাণ্ডখানা।
সংঘাতে তোর উঠবে ওরা রেগে,
শয়ন ছেড়ে আসবে ছুটে বেগে,
সেই সুযোগে ঘুমের থেকে জেগে
লাগবে লড়াই মিথ্যা এবং সাঁচায়।
আয় প্রচণ্ড, আয় রে আমার কাঁচা।
শিকল-দেবীর ওই যে পূজাবেদী
চিরকাল কি রইবে খাড়া।
পাগলামি তুই আয় রে দুয়ার ভেদি।
ঝড়ের মাতন, বিজয়-কেতন নেড়ে
অট্টহাস্যে আকাশখানা ফেড়ে,
ভোলানাথের ঝোলাঝুলি ঝেড়ে
ভুলগুলো সব আন্‌ রে বাছা-বাছা।
আয় প্রমত্ত, আয় রে আমার কাঁচা।
আন্‌ রে টেনে বাঁধা-পথের শেষে।
বিবাগী কর্‌ অবাধপানে,
পথ কেটে যাই অজানাদের দেশে।
আপদ আছে, জানি অঘাত আছে,
তাই জেনে তো বক্ষে পরান নাচে,
ঘুচিয়ে দে ভাই পুঁথি-পোড়োর কাছে
পথে চলার বিধিবিধান যাচা।
আয় প্রমুক্ত, আয় রে আমার কাঁচা।
চিরযুবা তুই যে চিরজীবী,
জীর্ণ জরা ঝরিয়ে দিয়ে
প্রাণ অফুরান ছড়িয়ে দেদার দিবি।
সবুজ নেশায় ভোর করেছি ধরা,
ঝড়ের মেঘে তোরি তড়িৎ ভরা,
বসন্তেরে পরাস আকুল-করা
আপন গলার বকুল-মাল্যগাছা,
আয় রে অমর, আয় রে আমার কাঁচা।

মহৎ হৃদয়ে কতজ্ঞতার মাঝে বিষ্ময় হারিয়ে যায়ঃ

 সত্যিই খুব গভীর এবং সুন্দর একটি উপলব্ধি। এই কথাটি মূলত কৃতজ্ঞতার অসীম শক্তিকে প্রকাশ করে।

​যখন আমাদের হৃদয় মহত্ত্ব এবং কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে, তখন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। এর পেছনের মূল ভাবগুলো এমন হতে পারে:
​বিস্ময়ের রূপান্তর: সাধারণত আমরা কোনো কিছু দেখে অবাক বা বিস্মিত হই যখন সেটি আমাদের কাছে নতুন বা অভাবনীয় মনে হয়। কিন্তু কৃতজ্ঞতা যখন প্রবল হয়, তখন সেই বিস্ময় আর কেবল 'অবাক হওয়া'র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; সেটি পরম শ্রদ্ধা ও শান্তিতে রূপ নেয়।
​অহংবোধের বিনাশ: মহৎ হৃদয়ের মানুষ যখন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তখন সেখানে নিজের ‘আমি’ হারিয়ে যায়। প্রাপ্তির আনন্দ তখন বিস্ময়কে ছাপিয়ে এক ধরণের পূর্ণতা নিয়ে আসে।
​সন্তুষ্টির জয়: বিস্ময় অনেক সময় কৌতূহল বা প্রশ্নের জন্ম দেয়, কিন্তু কৃতজ্ঞতা হৃদয়কে শান্ত করে। কৃতজ্ঞ মানুষ প্রাপ্তির পেছনের কারণ নিয়ে বিস্মিত হওয়ার চেয়ে প্রাপ্তির আনন্দে নিজেকে সঁপে দিতে বেশি পছন্দ করেন।
​সহজ কথায়, কৃতজ্ঞতা হলো হৃদয়ের সেই আলো যা বিস্ময়কে শ্রদ্ধায় রূপান্তর করে।
কৃতজ্ঞতার জয়গান
​মাথা নত করি শ্রদ্ধায় আজ, নেই কোনো অভিযোগ,
প্রাপ্তির মাঝে খুঁজে পাই আমি পরম যোগাযোগ।
যা পাইনি তার হিসেব ছেড়ে যা পেয়েছি তাই দামি,
কৃতজ্ঞতার শীতল ছায়ায় শান্তি খুঁজেছি আমি।
​বিস্ময় জাগে চোখের পলকে, মনে জাগে জিজ্ঞাসা,
কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ হৃদয়, অমর ভালোবাসা।
চাওয়ার শেষে পাওয়ার তৃপ্তি— এক মহৎ অনুভব,
কৃতজ্ঞ হওয়াই শ্রেষ্ঠ সম্পদ, জীবনের গৌরব।
​দিয়েছ যা মোরে অকাতর মনে, নেই তার কোনো শেষ,
কৃতজ্ঞতায় ভরে থাক মন, ঘুচে যাক সব দ্বেষ।
মহৎ হৃদয়ে বিস্ময় হারায়, শ্রদ্ধা জাগে প্রাণে,
জীবন ধন্য হয় জানি আজ, কৃতজ্ঞতার গানে।
কৃতজ্ঞতা — হৃদয়ের এক প্রশান্ত আলো
​কৃতজ্ঞতা কেবল একটি শব্দ নয়, বরং এটি আত্মার এক গভীর অনুভূতি। যখন আমরা আমাদের জীবনের ছোট-বড় প্রাপ্তিগুলোকে স্বীকার করি, তখন আমাদের সংকীর্ণতা দূর হয়ে হৃদয়ে মহত্ত্বের জন্ম হয়। কৃতজ্ঞ মানুষ কখনো নিঃস্ব হয় না; কারণ সে জানে অভাবের ভিড়েও তার কাছে যা আছে, তা-ই এক বিশাল আশীর্বাদ। এই বোধ আমাদের ভেতর থেকে হিংসা ও অতৃপ্তিকে মুছে ফেলে এক অনাবিল শান্তি এনে দেয়। প্রকৃতপক্ষে, যে হৃদয় কৃতজ্ঞ থাকতে জানে, সেই হৃদয়েই আল্লাহ বা প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ দানগুলো প্রস্ফুটিত হয়। কৃতজ্ঞতা হলো সেই চাবিকাঠি যা জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোকে অসাধারণ করে তোলে।


রাগ অন্ধকারের বহিঃপ্রকাশ

 এই কথাটি মনস্তাত্ত্বিক এবং আধ্যাত্মিক—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত সত্য। রাগ মূলত মানুষের ভেতরের অস্থিরতা, অসহায়ত্ব এবং স্বচ্ছ চিন্তার অভাব থেকেই জন্ম নেয়।

​এই ভাবনার আলোকে একটি অনুচ্ছেদ এবং কিছু পঙ্ক্তি নিচে দেওয়া হলো:
​অনুচ্ছেদ: রাগের অন্ধকার ও হৃদয়ের আলো
​রাগ যখন মানুষকে গ্রাস করে, তখন তার বিবেক ও বিচারবুদ্ধি আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আলোর অভাবে যেমন পথ দেখা যায় না, তেমনি রাগের অন্ধকারে মানুষ সঠিক আর ভুলের পার্থক্য হারিয়ে ফেলে। রাগ আসলে মনের সেই শূন্যস্থান, যেখানে ধৈর্য এবং ক্ষমার আলো পৌঁছাতে পারেনি। কিন্তু আপনার আগের ভাবনা অনুযায়ী, যদি সেই হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা ও মহত্ত্ব থাকে, তবে সেই আলোয় রাগের অন্ধকার দূর হতে বাধ্য। মহৎ মানুষ রাগকে দমানোর চেয়ে ক্ষমা আর ত্যাগের আলো দিয়ে তাকে জয় করতেই বেশি ভালোবাসেন।
আলোর মিছিলে
​রাগ সে তো এক অন্ধ আঁধার, ঝড়ের মতন আসে,
বিবেক হারায় দিকবিদিক, হাহাকার শুধু হাসে।
দৃষ্টি ঘোলাটে, হৃদয় পাষাণ, বাড়ে শুধু ব্যবধান,
আঁধারে হারায় মানুষের রূপ, হারায় শ্রেষ্ঠ মান।
​কিন্তু যেখানে মহত্ত্ব জাগে, কৃতজ্ঞতার টানে,
সেখানে আঁধার বিদায় নেয় রে, মুক্তির গানে গানে।
ক্ষমার প্রদীপে জ্বলে ওঠে আলো, শান্ত হয় সব রোষ,
ভালোবাসা দিয়ে মুছে যায় যত তিল তিল করে দোষ।
​রাগের আঁধার সরিয়ে চলো, আনো হৃদয়ে আলো,
মানুষের মাঝে মানুষ হয়ে, বাসতে শেখো ভালো।
জীবনবোধের গভীরতায় কৃতজ্ঞতা এবং রাগ হলো আলোকবর্তিকা আর অন্ধকারের চিরন্তন লড়াই। এই দুটি মানবিক অনুভূতির বৈপরীত্য আমাদের ব্যক্তিত্ব ও ভাগ্যের গতিপথ নির্ধারণ করে।
আলো ও ছায়ার জীবনবোধ: কৃতজ্ঞতা বনাম রাগ
​জীবন এক অদ্ভুত রঙ্গমঞ্চ, যেখানে প্রতিদিন আমাদের হৃদয়ে দুটি শক্তি যুদ্ধ করে। একদিকে আছে রাগের অন্ধকার, যা মানুষকে অন্ধ করে দেয়; অন্যদিকে আছে কৃতজ্ঞতার মহত্ত্ব, যা মানুষের আত্মাকে আলোকিত করে।
​১. রাগের অন্ধকার: বিবেকের বিনাশ
​রাগ হলো সেই আগ্নেয়গিরি যা বাইরের চেয়ে ভেতরের মানুষকে বেশি পুড়িয়ে ছারখার করে। যখন রাগ আমাদের গ্রাস করে, তখন মনের সব জানালা বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে কোনো যুক্তি, মমতা বা সুন্দরের প্রবেশাধিকার থাকে না। রাগী মানুষ নিজেকে শক্তিশালী মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে সে তার নিজের আবেগের কাছে পরাজিত এক দাস। এই অন্ধকার কেবল সম্পর্ক নষ্ট করে না, বরং মানুষের ভেতরের ‘মানুষ’ সত্তাটিকে ছোট করে ফেলে।
​২. কৃতজ্ঞতার মহত্ত্ব: আত্মার প্রসন্নতা
​বিপরীত দিকে, কৃতজ্ঞতা হলো ভোরের সেই স্নিগ্ধ আলো যা সব কুয়াশা দূর করে দেয়। কৃতজ্ঞ মানুষ প্রাপ্তির ভিড়ে অহংকারী হয় না, বরং বিনয়ী হয়। যখন হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা জাগে, তখন ক্ষুদ্র প্রাপ্তিও মহৎ মনে হয়। কৃতজ্ঞতা মানুষকে শেখায় যে, পৃথিবীতে আমরা একা নই; আমাদের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে কারো না কারো ত্যাগ বা প্রকৃতির অবদান জড়িয়ে আছে। এই বোধটিই মানুষকে মহৎ করে তোলে।
​৩. অন্ধকারের অবসান ঘটে আলোর স্পর্শে
​রাগের অন্ধকারকে রাগ দিয়ে দূর করা অসম্ভব। ঠিক যেমন আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না। আপনার সেই আগের কথার রেশ ধরে বলা যায়—মহৎ হৃদয়ে কৃতজ্ঞতার মাঝে যেমন বিস্ময় হারিয়ে যায়, তেমনি কৃতজ্ঞতার আলোয় রাগের অন্ধকারও বিলীন হয়ে যায়। যে মানুষটি কৃতজ্ঞ থাকতে জানে, সে জীবনের প্রতিকূলতাকেও শিক্ষার সুযোগ হিসেবে দেখে। ফলে তার মনে রাগের বদলে জন্ম নেয় ধৈর্য। সে বুঝতে পারে, রাগ হলো অন্ধকারের বহিঃপ্রকাশ, আর ক্ষমা ও কৃতজ্ঞতা হলো আত্মার পরম আলোকচ্ছটা।
আমাদের জীবনের সার্থকতা রাগের আস্ফালনে নয়, বরং কৃতজ্ঞতার শান্ত প্রকাশে। রাগ আমাদের বিচ্ছিন্ন করে, আর কৃতজ্ঞতা আমাদের জুড়ে দেয়। তাই হৃদয়ে মহত্ত্ব লালন করতে হলে আগে কৃতজ্ঞ হতে শিখতে হয়। কারণ, কৃতজ্ঞ হৃদয় কখনোই অন্ধকারের কাছে পরাজিত হয় না।


If evil be done unto you Do best in return This the golden rule!

 This is a powerful, proactive twist on the traditional "Golden Rule." While the standard version usually focuses on reciprocity. This version shifts toward transformation. It suggests that the best way to break a cycle of negativity is to meet it with an unexpected level of excellence or kindness.

​Why This Approach Works?
​De-escalation: Responding to "evil" with more of the same only fuels the fire. Responding with "best" often disarms the other person.
​Personal Integrity: It keeps your character independent of someone else's bad behavior. You aren't letting an adversary dictate how you act.
​Psychological Strength: It takes immense self-control to offer your best when you’ve been wronged. It positions you as the leader of the interaction rather than the victim.
Famous Echoes of This Philosophy
​Many of history's most influential thinkers shared this sentiment:
​Martin Luther King Jr.: "Darkness cannot drive out darkness; only light can do that."
​Marcus Aurelius: "The best revenge is to be unlike him who performed the injury."
​The Dhammapada: "Hatred is never appeased by hatred in this world. By non-hatred alone is hatred appeased."
​It’s a high standard to live by, but it certainly changes the energy of a room.
Prophet Muhammad’s teachings on the Golden Rule go beyond simple reciprocity. While the classic "do unto others" is central to his message, he often emphasized that the pinnacle of faith is responding to mistreatment with active goodness.
​Here are the primary ways the Golden Rule is expressed in his sayings (Hadith):
​1. The Core Golden Rule
​The most famous articulation of this principle is recorded in Sahih Bukhari and Sahih Muslim:
​"None of you [truly] believes until he loves for his brother what he loves for himself."
​This is often interpreted as a universal command. Scholars note that "brother" here refers to humanity at large—meaning a believer should want peace, dignity, and guidance for everyone, just as they want it for themselves.
​2. Excellence in the Face of Evil
​You mentioned doing "best in return" for evil. This aligns perfectly with a higher station of character in Islam known as Ihsan (excellence). The Prophet Muhammad said:
​"The best of virtues is that you maintain relations with one who cuts you off, that you give to one who deprives you, and that you forgive one who insults you." (Musnad Ahmad)
​This takes the Golden Rule a step further: it isn't just about treating people how you want to be treated, but treating them better than they deserve based on their actions.
​3. Justice and Equity
​The Prophet also taught that the Golden Rule applies even when you are in a position of power or when dealing with an enemy. He echoed the Quranic principle found in Chapter 41, Verse 34:
​"Repel (Evil) with what is better: Then will he between whom and you was hatred become as it were your friend and intimate."
​4. Practical Daily Ethics
​He applied this rule to specific social situations to make it tangible:
​On Neighbors: "He will not enter Paradise whose neighbor is not secure from his wrongful conduct."
​On Business: He encouraged people to "give full measure" and be just in trade, just as they would want to receive a fair deal themselves.
​On Leadership: He taught that a leader should treat their subjects as they would want their own family to be treated.
​The Prophet’s life provided many examples of this, such as his return to Mecca, where he forgave those who had persecuted him for years. He essentially lived by the mantra that true strength is not in hitting back, but in controlling oneself when angry.


মানুষ একই সাথে প্রেমিক ও চালাক হতে পারেনা

 খুব গভীর একটি কথা।

এটি একটি প্রচলিত ধারণা যে, "প্রেম এবং চতুরতা (চালাকি) কখনো এক পাত্রে থাকে না।"
​সহজ কথায় বলতে গেলে, ভালোবাসা হলো হৃদয়ের ব্যাপার, যেখানে মানুষ নিজেকে উজাড় করে দেয়। আর চালাকি হলো মস্তিষ্কের কাজ, যেখানে মানুষ নিজের লাভ-ক্ষতি বা হিসেব কষে।
​কেন এই দুটো একসাথে চলে না, তার পেছনে কিছু চমৎকার কারণ আছে:
​১. স্বচ্ছতা বনাম পর্দা
​প্রেমের দাবি হলো স্বচ্ছতা এবং সরলতা। একজন প্রেমিক তার সবটুকু দুর্বলতা এবং আবেগ নিয়ে প্রিয়জনের সামনে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, একজন চালাক মানুষ সবসময় নিজের মনের আসল ভাব গোপন রাখে এবং নিজের কোনো না কোনো উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। যখনই কেউ প্রেমের মধ্যে 'চাল' চালতে শুরু করে, তখন সেখানে আর ভালোবাসা থাকে না, তা কেবলই একটি 'গেম' বা খেলায় পরিণত হয়।
​২. হিসেব বনাম বেহিসেবি
​হযরত আলীর (রা.) একটি কথা আছে, "যে ভালোবাসে সে হিসেব করে না।" চালাক মানুষ সবসময় যোগ-বিয়োগ করে—আমি কতটুকু দিলাম আর বিনিময়ে কী পেলাম? কিন্তু প্রকৃত প্রেম বা ইশক হলো বেহিসেবি। যেখানে নিজের ক্ষতি হলেও প্রেমিকের মনে শান্তি থাকে।
​৩. বিশ্বাস এবং সন্দেহ
​চালাকি সবসময় সন্দেহের জন্ম দেয়। আপনি যখন জানবেন আপনার সঙ্গী খুব চালাক, তখন আপনি অজান্তেই তার প্রতি সতর্কতা অবলম্বন করবেন। আর যেখানে সতর্কতা থাকে, সেখানে কখনো পূর্ণ আত্মসমর্পণ বা "নিঃশর্ত ভালোবাসা" সম্ভব নয়।
​৪. সুফি দর্শনে এই ধারণা
​সুফি এবং আধ্যাত্মিক সাধকদের মতে, সৃষ্টিকর্তার প্রেমে মগ্ন হতে হলে দুনিয়াবি "চালাকি" ত্যাগ করে "দিওয়ানা" বা পাগল হতে হয়। বুদ্ধি দিয়ে লাভ-লোকসান বোঝা যায়, কিন্তু ভালোবাসা বুঝতে হলে বুদ্ধিকে হার মানতে হয়।
​সারকথা হলো: চালাক মানুষ হয়তো মানুষের মন জয় করার কৌশল জানে, কিন্তু হৃদয় জয় করার জন্য যে সরলতা লাগে, তা কেবল একজন অকৃত্রিম প্রেমিকেরই থাকে।
প্রেম এবং চালাকি—এই দুটি বিপরীতমুখী স্রোত।
প্রেমের পথে চাতুরী নেই
​হিসেব কষে হয় না প্রণয়, হয় না কোনো লেনদেন,
চালাক লোকে প্রেমের গলি না পা বাড়ানোই শ্রেয়।
মস্তিষ্কে যার কূটকৌশল, বুদ্ধির জাল বোনা,
তার কপালে নেই তো ওগো খাঁটি সোনার সোনা।
​প্রেমিক সে তো বড্ড বোকা, আত্মদানেই সুখ,
বিনিময়ের ফন্দি আঁটলে মলিন হবে মুখ।
একই সাথে চতুর হওয়া আর হওয়া কি যায় প্রেমিক?
নদীর ধারা আর মরীচিকা—দুটো তো আলাদা দিক।
​যে জন জানে হারতে খুশি, সেই তো আসল রাজা,
চালবাজিতে হৃদয় ভেঙে সইতে হয় যে সাজা।
সরল প্রাণের আর্জি শোনো, শুদ্ধ হও আজ ভোরে,
চালাকি সব যাক নিভে যাক, প্রেম আসুক বুক ভরে।
প্রেম ও চালাকী নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা কাজী নজরুল ইসলামের কিছু চিন্তার মিল পাওয়া যায়। যেমন:
​রবীন্দ্রনাথের সুর: "হৃদয় আমার বিলিয়ে দিতে এসেছি, নিতে আসিনি।" (এখানে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যে কোনো চালাকি নেই, আছে শুধু চরম সরলতা)।
​সুফি চিন্তা: "প্রেমের বাজারে বুদ্ধিমানেরা দেউলিয়া।" কারণ তারা হারতে ভয় পায়, আর প্রেমিক হারার মধ্যেই নিজেকে খুঁজে পায়।