এটি একটি গভীর ভাবার্থবাহী কথা। এর মাধ্যমে সাধারণত বোঝানো হয়-
১. সহনশীলতা ও শক্তি: বীজ যেমন মাটির নিচে অন্ধকার আর চাপ সহ্য করে অঙ্কুরিত হয়, মেয়েরাও প্রতিকূলতা জয় করে বিকশিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে।
২. বিকাশ ও সম্ভাবনা: একটি ছোট্ট বীজের ভেতর যেমন বিশাল একটি মহীরুহ বা গাছের সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে, তেমনি একজন মেয়ের সুপ্ত প্রতিভা ও শক্তির সঠিক বিকাশ ঘটলে সে সমাজ ও পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে।
৩. সৃষ্টির আধার: বীজ থেকে যেমন নতুন প্রাণের জন্ম হয়, তেমনি মেয়েরাই নতুন প্রজন্ম এবং সুন্দর আগামীর কারিগর।
বীজের বিস্তারন কিভাবে ঘটবে তা আল্লাহ তা‘য়ালা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। বীজের বিস্তারনের মাধ্যম আছে। সেগুলো হলোঃ
১. পতঙ্গপ্রেমী উদ্ভিদ-Entomophillus Plant
এদের ফুল সাধারণত উজ্জ্বল, রঙিন ও সুগন্ধযুক্ত হয়। এই আঙ্গিকে মেয়েদের কথা ভাবুন।
২. বায়ুপ্রেমী উদ্ভিদ- Anemophillus plant
এদের পরাগরেণু অত্যন্ত হালকা, শুষ্ক যা দীর্ঘ দূরত্বে বাতাসে ভর করে ভেসে যেতে সাহায্য করে। এই আঙ্গিকে মেয়েদের কথা ভাবুন।
৩. জলপ্রেমী উদ্ভিদ-Hydrophillus Plant
এদের অনেকেই পানির ওপর ভেসে থাকে, কিছু নিমজ্জিত থাকে এবং কিছু আংশিক পানিতে জন্মায়। এই উদ্ভিদগুলো জলাশয়ের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। এই আঙ্গিকে মেয়েদের কথা ভাবুন।
৪. প্রাণীপ্রেমী উদ্ভিদ-Zoophillus Plant
প্রাণীদের আকৃষ্ট করে, তাদের আশ্রয় দেয় বা পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে উপকৃত হয়। কিছু গাছ সরাসরি কোনো প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এই সম্পর্কগুলো প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আঙ্গিকে মেয়েদের কথা ভাবুন।
মেয়েরা হলো বীজের মতো এ কথাগুলো জবাব অবশ্যই পাবেন যদি বীজের বিস্তারনের কথা গভীরভাবে চিন্তা করেন।
সহজ কথায়, সঠিক মাধ্যম, সঠিক যত্ন, সঠিক ভালোবাসা আর সঠিক শিক্ষার সুযোগ পেলে একটি বীজ যেমন ফুলে-ফলে ভরে ওঠে, একজন মেয়েও তেমনি তার পরিবার ও সমাজের জন্য আশির্বাদ হয়ে ওঠে। এর কোনই ব্যত্যয় ঘটে না।
No comments:
Post a Comment