শুধুমাত্র খাওয়া ছাড়াও যে মায়ের বুকের দুধ কতভাবে ব্যবহার করা যায় তা জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন! ব্রেস্টমিল্কে রয়েছে–
খাওয়া ছাড়াও বুকের দুধ যেভাবে ব্যবহার করতে পারেন:
জন্মের প্রথম ৩ মাস শিশুর ত্বকে কোনো ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়। তখন এই বুকের দুধ টাই শিশুর ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। শিশুর গোসলের পানিতে ১/২ আউন্স ব্রেস্টমিল্ক মিশিয়ে নিলেই হয়ে গেল। তাছাড়া গোসলের পরও শিশুর ফেসে মাখিয়ে নেয়া যায়।
ব্রেস্টমিল্কে থাকা ল্যাক্টোফেরিন, লাইসোজাইম এবং ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের প্রদাহ কমাতে কাজ করে। একটি ক্লিনিকাল স্টাডিতে দেখা গেছে, শিশুর একজিমায় ব্রেস্টমিল্ক ব্যবহারের ফলাফল ১% হাইড্রোকরটিসন ক্রিমের সমতুল্য হতে পারে।
অল্প দুধ নিয়ে সরাসরি শিশুর ত্বকে লাগিয়ে দিলেই উপকার পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।
বুকের দুধে থাকা ফ্যাট ও ইমিউন ফ্যাক্টর নিপল টিস্যুকে নরম করে এবং ইনফেকশন রোধ করে। ফিডিং শেষে কিছু দুধ নিপলে লাগালে দ্রুত সেরে ওঠে।
নবজাতকের নাভি শুকাতে বুকের দুধ অত্যন্ত কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, বুকের দুধ দিলে নাভির গোড়া গড়ে ১-২ দিন দ্রুত শুকায়।
বুকের দুধে থাকে IgA অ্যান্টিবডি, যা ব্যাকটেরিয়া আটকে রাখে ও বৃদ্ধি রোধ করে। তাই সামান্য স্টিকি আইস বা চোখে পানি পড়লে পরিষ্কার হাত দিয়ে ১-২ ফোঁটা বুকের দুধ চোখে দিতে পারেন। গবেষণা বলছে, বুকের দুধ ব্যবহার করলে হালকা কনজাঙ্কটিভাইটিস দ্রুত সেরে যায়।
বুকের দুধ নাকে কয়েক ফোঁটা দিলে শ্লেষ্মা নরম করে এবং অ্যান্টিবডি ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। এমন ধারণা চিকিৎসাবিজ্ঞানও সমর্থন করে।
ব্রেস্টমিল্কে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান ব্যথা কমাতে এবং ক্ষত দ্রুত শুকাতে সাহায্য করতে পারে। হালকা কামড় বা র্যাশে অনেক মা এটি সেফ ন্যাচারাল রেমেডি হিসেবে ব্যবহার করেন।
প্রথম কয়েক মাসে মায়ের দুধের ফ্লো বেশ থাকে। প্রচুর পরিমাণে মিল্ক এমনিতেই পড়ে নষ্ট হয়। এই ব্যবহারগুলো জানা থাকলে বেবিকে খাওয়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য কাজেও এই ‘লিকুইড গোল্ড’ ব্যবহার করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।
লেখার সোর্সঃ
____________________
|| লিকুইড গোল্ড ||
রেজওয়ানা রাজ্জাক
সার্টিফাইড চাইল্ডবার্থ এডুকেটর এন্ড দৌলা
No comments:
Post a Comment