গল্পটি সত্য এবং সংগ্রহ থেকে শেয়ার করলাম
আমেরিকার কেন্টাকির ফ্রাঙ্কফোর্ট রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারের সেই রাতটা ছিল সাধারণ অন্য সব রাতের চেয়ে আলাদা। হাসপাতালের করিডোর জুড়ে কেবল অ্যান্টিসেপটিকের কড়া গন্ধ আর মৃদু আলোর খেলা। চারিদিকে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল, যা আসন্ন কোনো বড় ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছিল যেন। হাসপাতালের একটি কেবিনে শুয়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সী চিকিৎসক আমান্ডা হেস। তবে আজ তিনি কোনো সাদা অ্যাপ্রন পরা ডাক্তার নন, বরং তিনি একজন গর্ভবতী রোগী।
তার নিজের প্রসবের সময় ঘনিয়ে এসেছিল এবং চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। যন্ত্রণার ঢেউগুলো যখন তার শরীরে আছড়ে পড়ছিল, তখন তিনি কেবল নিজের অনাগত সন্তানের কথা ভাবছিলেন। কিন্তু নিয়তি তার জন্য অন্য এক চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিল সেই রাতে। হঠাৎ নিস্তব্ধতা চিরে পাশের একটি ঘর থেকে ভেসে এল এক নারী কন্ঠের আর্তনাদ। সেই চিৎকার কেবল প্রসব যন্ত্রণার ছিল না, তাতে মেশানো ছিল এক চরম আতঙ্ক।
আমান্ডা বিছানায় শুয়েই লক্ষ্য করলেন হাসপাতালের মনিটর স্ক্রিনটি যা প্রতিটি রোগীর অবস্থা দেখাচ্ছিল। তিনি দেখলেন পাশের ঘরের রোগী লিয়া হ্যালিডে জনসনের গর্ভস্থ শিশুর হৃদস্পন্দন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। শিশুর গলায় নাড়ি পেঁচিয়ে যাওয়ার কারণে সে অক্সিজেন পাচ্ছিল না এবং প্রতি মুহূর্ত ছিল মূল্যবান। ওই মুহূর্তের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল এবং যে চিকিৎসক অন-কল ছিলেন, তিনি তখন হাসপাতালের বাইরে। কোনো সিনিয়র চিকিৎসকের অভাবে লিয়া এবং তার অনাগত শিশু নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
নিজের শরীর যখন যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই আমান্ডার ভেতরের চিকিৎসক সত্তা জেগে উঠল। তিনি এক মুহূর্ত ভাবলেন না যে তিনি নিজেও তখন প্রসব বেদনায় ছটফট করছেন। হাসপাতাল থেকে দেওয়া পাতলা গাউনটি পরেই তিনি বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালেন। তার পিঠের দিক উন্মুক্ত থাকায় দ্রুত অন্য একটি গাউন দিয়ে নিজেকে কোনোমতে ঢেকে নিলেন তিনি। ফ্লিপ-ফ্লপ চটির ওপর গলিয়ে নিলেন প্লাস্টিকের ওয়াটারপ্রুফ সার্জিক্যাল বুট যাতে কোনো সংক্রমণ না ঘটে।
তিনি যখন টলমল পায়ে লিয়ার ঘরের দিকে হাঁটছিলেন, তখন হাসপাতালের নার্সরা স্তম্ভিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে ছিল। লিয়া তখন ব্যথায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম, তার শরীর ঘামে ভিজে একাকার হয়ে গিয়েছিল। আমান্ডা ঘরে ঢুকে গম্ভীর গলায় বললেন যে তিনিই এই ডেলিভারি করাবেন কারণ আর এক মিনিট দেরি হলে শিশুটি মারা যাবে। লিয়া হ্যালিডেকে তিনি এক সপ্তাহ আগেই ক্লিনিকে দেখেছিলেন এবং সেই চেনা মুখটি আজ মৃত্যুর সাথে লড়ছিল। আমান্ডা নিজের শারীরিক যন্ত্রণা ভুলে গিয়ে পুরোপুরি পেশাদার চিকিৎসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন।
ঘরের ভেতরের আবহাওয়া তখন থমথমে, কেবল মনিটরের বীপিং শব্দ আর লিয়ার ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আমান্ডা স্থির হাতে কাজ শুরু করলেন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শিশুর গলার ফাঁস আলগা করলেন। যন্ত্রণায় আমান্ডার কপালেও ঘামের বিন্দু জমেছিল, কিন্তু তার হাত একবারের জন্যও কাঁপেনি। অবশেষে ঘর জুড়ে শোনা গেল এক নবজাতকের কান্না, যা ওই জমাট বাঁধা আতঙ্ককে এক নিমেষে কাটিয়ে দিল। লিয়ার কোল আলো করে এল এক সুস্থ কন্যাসন্তান, যার প্রাণ বেঁচেছে আমান্ডার নিঃস্বার্থ সাহসিকতায়।
শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরেই যখন অন-কল চিকিৎসক ঘরে প্রবেশ করলেন, আমান্ডা তখন নিঃশব্দে সেখান থেকে সরে এলেন। তিনি নিজের কেবিনে ফিরে যাওয়ার পরপরই তার শরীরের ব্যথা বহুগুণ বেড়ে গেল। হয়তো এই অতিরিক্ত পরিশ্রমই তার নিজের প্রসব প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে দিয়েছিল। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এবার তিনি নিজের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন। সেই রাতে মাত্র এগারো ঘণ্টা পর আমান্ডা হেস জন্ম দিলেন তার নিজের কন্যাসন্তান এলেন জয়েসের।
একই তলায়, কয়েকটা ঘর পরেই তখন দুই মা তাদের সন্তানদের নিয়ে শুয়েছিলেন। লিয়া হ্যালিডে যখন জানতে পারলেন যে তার শিশুকে বাঁচানো ডাক্তারটি নিজেও প্রসব বেদনায় ছিলেন, তখন তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি। আমান্ডার এই কাহিনী দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং গোটা বিশ্ব কুর্নিশ জানাল তাকে। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে একজন প্রকৃত হিরো কেবল যুদ্ধের ময়দানে থাকে না। তারা হাসপাতালের করিডোরে, সাধারণ মানুষের মাঝে এবং সেবার ব্রতে লুকিয়ে থাকে।
মানুষ যখন অন্যের জীবনের কথা ভেবে নিজের কষ্টকে বিসর্জন দেয়, তখনই জন্ম নেয় এমন অমর কাহিনী। আমান্ডা হেসের এই অসীম বীরত্ব এবং কর্তব্যনিষ্ঠা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ডাক্তাররা যে ভগবানের রূপ, কেন্টাকির এই ঘটনা পুনরায় তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়। মাতৃত্ব এবং পেশা যখন মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল, আমান্ডা জয়ী করেছিলেন মানবতাকে। আজ লিয়া এবং আমান্ডা কেবল রোগী আর ডাক্তার নন, তারা জীবনের এক অটুট বন্ধনে আবদ্ধ।
এই ঘটনার সত্যতা নীচের সোর্স থেকে যাচাই করুন। শেয়ার করলাম কারন কোরা নলেজ শেয়ারিং এর মঞ্চ।
SOURCES:
১. Indianapolis Local News: Weather, Traffic, Sports and more : "Pregnant doctor pauses her delivery to help deliver another patient's baby in distress"
২. PEOPLE : "Pregnant Doctor Delivers Baby of Patient in Distress, Then Gives Birth to Her Own Baby: 'It Was Urgent'"
৩. SELF : "This Ob/Gyn Went Viral for Delivering a Baby Right Before She Gave Birth"
৪. Daily Mail : "Kentucky doctor, 38, delivers a patient's baby moments before giving birth to her own daughter"
৫. The Cut : "This Doctor Was About to Give Birth When She Helped Deliver Another Woman’s Baby"
No comments:
Post a Comment