ঐতিহাসিক তথ্য
গরু তো আগেই বাদ। আজকে ভারতীয় মুসলমানরা অনেক জায়গায় ছাগলও কুরবানী দিতে পারেনি।
ঈদের নামাজ পড়তে পারেনি অনেকেই।
এই ঘটনা দেখে মনে পড়লো-
ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত জিন্নাহ তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে অনুরোধ করেছিলেন, তার ক্যান্সারের তথ্য গোপন রাখতে।
কারণ জিন্নাহর আশংকা ছিল- বৃটিশরা জিন্নাহর অসুস্থতার কথা জেনে গেলে দেশভাগ পিছিয়ে দেবে। মুসলমানদের জন্য আলাদা দেশ আর হবে না।
লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন পরে বলেছিলেন- যদি তিনি আগে জানতেন জিন্নাহ ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং বেশীদিন বাঁচবেন না, তাহলে পার্টিশন প্ল্যান পিছিয়ে দিতেন।
মাউন্টব্যাটেন মনে করতেন, জিন্নাহ মারা গেলে দেশভাগ এড়ানো যেত।
দেশভাগের এক বছর পরই জিন্নাহ ক্যান্সারে মারা যান।
ভারতে আজকে অনেক রাজ্যে মুসলমানরা ঈদের নামাজ পড়তে পারেনি। অনেকে প্রাণের ভয়ে ঘর থেকে বের হয়নি।
গরু কুরবানী দেয়া আইন করে তো নিষিদ্ধ করেছেই, গরু খাওয়ার অভিযোগেও পিটিয়ে হ ত্যা করা নিয়মিত ঘটনা।
এইবার ছাগলও কুরবানী দিতে পারেনি বহু জায়গায়।
কুরবানীর জন্য নির্দিষ্ট করা স্থানে হিন্দুত্ববাদীরা শুকর জবাই দিতে এনেছে।
গরু খাওয়া নিষিদ্ধ, গরু কুরবানী নিষিদ্ধ।
অথচ ভারত পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ গরুর মাংস রফতানীকারক দেশ।
শুধু ভারতীয় মুসলমানরা গরু খেতে পারবে না, কুরবানী দিতে পারবে না।
কারণ হিসেবে দেখায়, গরু ওদের মা।
যদিও এক্সপোর্ট করতে কোনো সমস্যা নেই।
গরু নাহয় পবিত্র প্রাণী। ছাগল?
এবার ছাগলও কুরবানী দিতে পারেনি মুসলমানরা। সেখানেও বাধা দিয়েছে।
নরেন্দ্র মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাটের বিভিন্ন জায়গায় গরীব মুসলমানরা মুরগীর মাংস রান্না করলেও বিপদে পড়তে হয়।
মুরগীর মাংস রান্নার গন্ধ পেয়ে ঘরবাড়ী ভেঙে দেয়ার ঘটনা আছে গুজরাটে।
আস্তে আস্তে সেটা পুরা দেশেও ছড়িয়ে পড়বে হয়তো।
গরু থেকে ছাগলে এসেছে, ছাগল থেকে মুরগীতে আসতেও বেশী সময় লাগবে না।
সমস্যা গরু ছাগল কিংবা মুরগীতে নয়, সমস্যা হলো 'মুসলমানে।'
ভারতীয় শাসক গোষ্ঠী চরম মাত্রার মুসলমান বিদ্বেষী। তারা ইজ্রাইল মডেল মুসলমান ক্লিন করতে চায়।
শুধু সক্ষমতার অভাবে সেটা পারেনা।
আজকে পশু কিনেও ভারতীয় মুসলমানরা কুরবানী করতে পারেনি।
মনে করতে না চাইলেও তাই জিন্নাহকে মনে পড়ে।
মুসলমানদের একটি নিরাপদ রাষ্ট্র দিতে নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন তিনি।
তার কারণে নিরাপদ হওয়া অঞ্চলে গরু মাংস চিবুতে চিবুতে জিন্নাহকে গালি দেয়া যায়।
অথচ ঐপারে থাকা মুসলমানরা জয় হিন্দ বললেও নিজের পশু কুরবানী দিতে পারেন না।
আপনি জিন্নাহকে গালি দিতে পারেন, কিন্তু জিন্নাহর অবদান অস্বীকার করতে পারবেন না।
প্রতি বছর কুরবানী আসলে আপনাকে স্মরণ করতে হবে জিন্নাহকে।
No comments:
Post a Comment